Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
মার্চ, ১৯৯৭
কিউবার হাভানায় ছয় মাস পড়াশোনা শেষ করে অবশেষে বাড়ি ফিরলাম।
অবশেষে নিজের শহরে ফিরলাম।
দেখলাম, ইন্দোনেশিয়া এখনো আগের মতোই আছে।
তবে মন্দও লাগছে না।
হ্যাঁ, সত্যি বলতে, বান্দুংকে খুব মিস করেছি।
আমার শহর।
আমার হৃদয়ের স্মৃতিসৌধ।
আর অবশ্যই চিকা।
এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
গাড়িটা খুব ধীরে চলছে।
মনে হয় ওরা প্রেম করছে।
জুলাই, ১৯৯৬
চলো ঘুরতে যাই, জান!
আমার তো মনে হয়েছিল ITB দারুণ।
কী বলতে চাস?
দেখলাম, UNPAD-ই ওদের নাচাচ্ছে।
- কী করাচ্ছে? - আমাকে আনা-নেওয়া করাচ্ছে।
তোমার রেক্টর এটা শুনলে নিশ্চয়ই আবেগে আপ্লুত হবেন।
যা, নিজেই জিজ্ঞেস করে আয়।
তাকে জিজ্ঞেস করার মতো ঘনিষ্ঠতা এখনো হয়নি।
হয়ে গেছে।
আমরাই একমাত্র মানুষ, যারা প্রশ্ন পড়ার আগেই
উত্তর লিখে ফেলি।
সমস্যা কী? পাজলটা আমরা কিনেছি। যেভাবে খুশি সেভাবেই সমাধান করব।
- প্রশ্নগুলো দেখি। - কোনটা?
৪২ নম্বর আড়াআড়ি।
"বিউটি পার্লার।"
৪২ নম্বরটা কোথায়?
চুয়াল্লিশ... ওটা! "পুলিশ।"
- দাঁড়া, আবার টি-শার্ট ডিজাইন করছিস? - হ্যাঁ।
এত কাজের দায়িত্ব নিস না।
কিন্তু কলেজে পড়ার আসল উদ্দেশ্যই তো এটা।
তাড়াতাড়ি পড়াশোনা শেষ করলেই ভালো।
তোর সময় প্রায় শেষ।
তাড়াতাড়ি গ্র্যাজুয়েট হয়ে লাভ কী?
নিজের কথাই বলছিস দেখছি।
এভাবে গড়িমসি করে কীসের অপেক্ষা করছিস?
তোর।
তোদের পড়াশোনা করার কথা, এখানে বসে ফুর্তি করছিস কেন?
ক্রসওয়ার্ড কীভাবে সৃজনশীলভাবে সমাধান করা যায়, সেটাই পড়ছি।
- কোথায় ছিলে? - স্কুলে।
- কলেজে পড়ার উদ্দেশ্য কী? - টিউশন ফি দেওয়া।
যাও তো। আমাদের বিরক্ত করো না।
চালিয়ে যাও, বাচ্চারা।
টিউশন ফি দেওয়া?
এবার ৪৩।
৪৩ নম্বর আড়াআড়িটা কোথায়?
ঘটনাটা ছয় মাস আগের, ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরের।
ছয় মাসের ভিজিটিং স্টুডেন্ট প্রোগ্রামে যোগ দিতে,
আমি কিউবার হাভানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম।
সব গুছিয়ে ফেলেছি।
তুই?
আমিও যাব?
স্যুটকেসে ঢুকে পড়।
ভয় পাস না।
"দূরত্ব" বলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
ওটা তো একটা গাছের নাম।
জারাক গাছ বলছিস?
- সাবধানে! - স্যরি।
নির্বাচন তো প্রায় চলেই এলো।
হ্যাঁ, একজনের বিপক্ষে দুজন।
বাকি দুজন তো শুধু সাজসজ্জা।
গণতন্ত্রের ভানটা বজায় রাখতে।
গণতন্ত্র না ছাই! মানুষের পেটে ভাত জোটে না।
"গণতন্ত্র" না, "গণতাজি"!
Dilan ITB 1997
- অনুবাদ ও সম্পাদনায় - F L A M Y T U H I N
বাকিটা রাখুন। জনগণের টাকা বলে কথা।
এটাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
জনগণ জিন্দাবাদ!
এই যে, কিউবার লোক!
ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
দিলান! ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকিস না!
মা, মুখে কোনো কথা আসছে না।
ভেতরে আয়।
- আমার সালাম কোথায়? - ভুলে গেছি।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
ছেলে আমার অবশেষে বাড়ি ফিরেছে।
কিউবায় ছয় মাস থেকে সালাম দেওয়াটাও ভুলে গেছিস?
কিউবায় এসব নেই।
- ওখানে কী আছে? - বিপ্লব!
- আবার দাঙ্গা বাধাস না যেন। - না।
কিউবা থেকে ফিরে মালয়েশিয়ার টি-শার্ট পরেছিস?
ওখানে মালয়েশিয়ার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল।
ও আমাকে এটা দিয়েছে।
- অথচ সে ইন্দোনেশিয়ার টি-শার্ট পরেছে। - অদ্ভুত তো।
কিউবা থেকে মালয়েশিয়ার টি-শার্ট পরে এসেছিস,
আর সাদা কুকুরের নাম রেখেছিস "ব্ল্যাকি"।
দিসা!
ভাইয়া!
- এভাবে জড়িয়ে ধরেছিস কেন? - আমি ক্লিওপেট্রা।
- আমাকে মিস করেছিস? - একটু-আধটু।
এটা আমি নিই।
- অনেক ভারী। - হায় আল্লাহ!
সাবধানে, নইলে আরও ছোট হয়ে যাবি।
বল তো, কে এটা?
ওই বদমাশটা?
আমি এসে গেছি।
ওয়েলকাম টু ইন্দোনেশিয়া।
তুমি না থাকলে ইন্দোনেশিয়ার কোনো মজাই নেই।
তুই কখন এলি?
এই তো এলাম। বসার সুযোগও পাইনি এখনো।
আজ রাতে,
তোমার বাসায় আসব।
রাতে কী খাবে?
ঘাস-পুস যা দাও তাই খাব।
সেটার জন্য তো নিজের উঠানেই হামাগুড়ি দিলেই হবে।
- তুমি এসেছ, খুব ভালো লাগছে। - আমারও।
ঠিক আছে। রাতে দেখা হবে।
দেখা হবে।
দিলান, তুমি কিউবায় থাকার সময় লিয়া কয়েকবার ফোন করে তোমাকে খুঁজেছিল।
- সত্যি? - হ্যাঁ।
কী বলেছিল?
কেমন আছ, জানতে চেয়েছিল। আমি বলেছি তুমি কিউবায়।
আচ্ছা।
দিলান।
আর বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে আসবে।
তোমার দেশ বিশাল বিস্তৃত
তবু তার কোনো মূল্য নেই
তোমার সাগর নীল আর বিস্তৃত
তবু তার কোনো মূল্য নেই
- মা, আমাকে দাও। - থাক, ঠিক আছে।
মা, একটা নাও।
মা, দাঁড়াও।
এখনো আমার বাড়ি মনে আছে?
আমার বাইক ঠিকই মনে রেখেছে।
ভেতরে এসো। মা অপেক্ষা করছে।
খালা।
কেমন আছ?
ভালো আছি।
- বাবা! - সোনা!
বেনি! আনোয়ার!
দিলান এসেছে!
এই! কেমন আছিস?
আমাকে মিস করেছিস? দেখ!
দারুণ!
বেনি!
কেমন আছিস?
- দিলান! কেমন আছ? - এই তো!
- ভালো আছি। - আলহামদুলিল্লাহ।
চল, খাওয়া যাক।
নিশ্চয়ই সাম্বাল খুব মিস করেছিস।
না, মা।
ও চিকা'কে মিস করেছে।
আহ, বেনি!
কিউবার খাবার কেমন ছিল? ভালো?
ভালোই ছিল।
তবে সবচেয়ে ভালো খাবার হলো যেটা বিনা পয়সায় পাওয়া যায়।
আহা, তুমি না!
দিলান, কিউবার সিগার কি সত্যিই এত ভালো?
ভালোই।
- এনেছিস? - না।
জানিস, কিউবার সিগারের শুরু কীভাবে?
কীভাবে?
চে গুয়েভারার এক বন্ধু ছিল, একজন তরুণ ডাক্তার।
সে চেকে বেশি ধূমপান করতে নিষেধ করে, দিনে মাত্র একটা খেতে বলেছিল।
তারপর?
পরদিন সত্যিই সে মাত্র একটা সিগারেট খেল।
তবে বিশাল একটা।
ওটা তো সিগার।
তাই তো একে সিগার বলে।
কিউবা তো কমিউনিস্ট দেশ, তাই না?
মূলত মার্ক্সবাদ আর লেনিনবাদে চলে।
সাবধান, আবার প্রভাবিত হয়ে যাস না।
হব না।
দিলান আগে বেশ বাইকার ছিল।
আগে বাইকার গ্যাংয়ে ছিল, এখন ঘুমকাতুরে গ্যাংয়ে আছে।
শুধু সাবধানে থাকিস।
নির্বাচনও তো সামনে।
সমালোচনা করতেই পারিস, তবে নিজের সীমা জানা চাই।
সীমা, বাবা।
সেটাই তো বললাম।
বাবা!
নিজের সীমা জানা চাই।
- সত্যি? সবকিছু? - হ্যাঁ...
এই নাও।
বেশ তো।
- চিকা। - হ্যাঁ?
চল, ঘুরে আসি।
- কোথায়? - একটু ঘুরব।
দেখি তো, ইন্দোনেশিয়া বদলেছে কি না।
আচ্ছা, কাপড় বদলে আসছি।
আনোয়ার, তুই যাবি?
সবাই যাব? আমি বসব কোথায়? গাড়ির ফেন্ডারে?
তুই আমাদের তৃতীয় চাকা হবি।
মানে আমি শয়তান, তাই তো?
আমিন।
কিউবার লোকজন জানে, আমি তোমার প্রেমিকা?
বলতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু নিজের ঢাক নিজে পেটাতে চাইনি।
- ভাবলে ব্যাপারটা বেশ মজার। - কী মজার?
আমি ITB-কে টাকা দিই, আর UNPAD আমাকে প্রেমিকা দিয়েছে।
বাহ, বেশ দয়ালু তো।
ITB-ও আমাকে প্রেমিক দিয়েছে।
তাহলে সবাই-ই দয়ালু।
UNPAD আর ITB-এর এই দয়া যেন বিফলে না যায়।
ঐক্যেই উন্নতি।
বুঝতেই পারছিস কী বলতে চাই।
ITB আর UNPAD বিয়ে করলে, ওদের বাচ্চার নাম কী হবে?
UI।
UI কেন?
ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়া।
UI হলো UNPAD আর ITB-এর মিলন।
আচেহ মুক্ত হোক!
ভাবছি, ওই মিনিবাসের হেলপারদের কথা। পুলিশ ওদের ধরছে না কেন?
ওদের ধরবে কেন?
ওরা তো সবসময় চিৎকার করে, "আচেহ মুক্ত হোক!"
ওরা রাস্তার নাম ডাকছে!
আচেহ স্ট্রিট আর মারদেকা স্ট্রিট!
নিশ্চিত তো?
এই! রাস্তা থেকে সরে, কুত্তা!
এই! সরে যা!
ওকে আমার কাছে দে, বোকা!
এত জড়িয়ে ধরেও তোকে বিয়ে করবে না!
ভয় পেয়েছ?
একটু।
তুমি কি আগে এমনই ছিলে?
অনেকটা।
ওরা তোমাকে "কুত্তা" বলায় রাগ হয়নি?
লোকজন আমাকে কুত্তা বললে আমি কামড়ে দিতাম।
নামের সার্থকতা রাখতে হতো, বুঝলে?
শুনেছ তো, ওরা বলল আমি তোমাকে বিয়ে করব না?
শুনেছি।
আমাকে বিয়ে করবে?
আমরা এখনো কলেজে পড়ি।
বিয়ে করতে তো কলেজের ডিগ্রি লাগে না।
ঠিক বলেছ।
বিয়ে করে প্রেমিক-প্রেমিকার মতো থাকা ভালো, বিয়ের মতো প্রেম করার চেয়ে।
তাহলে আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলো।
বলব।
কী বলবে?
"খালা, আপনি কি আমার শাশুড়ি হবেন?"
যদি রাজি না হন?
তাহলে আমি তার জামাই হব।
তবুও যদি রাজি না হন?
তাকে রাজি হতেই হবে।
এমন বাড়ি তোমার পছন্দ?
বেশ সুন্দর।
আমরা এটা কিনব!
আমিন!
যাই হোক, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আমার ক্যাম্পাসে।
আচ্ছা।
- স্যার! - দিলান।
আমাদের কাছে
ITB-এর দুটো মানে আছে।
কী কী?
প্রথমটা হলো বান্দুং ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।
এইটা।
আর দ্বিতীয়টা,
চিড়িয়াখানা ইনস্টিটিউট।
কারণ চিড়িয়াখানার পাশেই তো।
তুমি কোনটা?
আমি...
ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬
চিকা।
এখন যেহেতু আমরা প্রেম করছি,
আমি কথা দিচ্ছি...
যতদিন আমাদের সম্পর্ক থাকবে,
আমি তোমাকে চুমু দেব না।
আমি যদি তোমাকে চুমু দিই,
তাহলে আমি একটা বদমাশ।
আচ্ছা।
ধন্যবাদ।
তবে,
এখন...
এখন কী?
আমি বদমাশ হতে চাই।
পারব?
আমি আমার ঘরে যাচ্ছি।
বদমাশ ইনস্টিটিউট।
ধুর, তুই ফিরে এসেছিস?
দিলান ফিরে এসেছে!
কেমন আছিস?
ভালো?
১৯৯৭ চলে এলো, তবু এখানেই রাত কাটাচ্ছিস?
এই, ওঠ!
আমি ফিরে এসেছি!
দিলান, বন্ধু!
- একই রয়ে গেছে। - কফি খাবি?
হ্যাঁ, দে।
কিউবার শিল্পকলা কেমন?
শিল্প কী, সেটা আমি জানি।
কী?
দেখলাম...
পেছন দিয়ে বের হলে শিল্পও "ফার্ট" হয়ে যায়।
- ধুর! - একদমই মজার না, দিলান।
শিল্প।
তুই শিল্পী নাকি?
পাগল!
আমার বন্ধুরা চিকার সঙ্গে বেশ মিশে গেছে, কারণ আমি ওকে প্রায়ই এখানে নিয়ে আসতাম।
ও-ই হয়ে উঠেছিল আমার আসল স্বদেশ।
তারপর থেকে ও ছিল UNPAD-এর মেয়ে, কিন্তু মনটা ছিল ITB-এর।
একটু দাঁড়াও।
বাবা। আসসালামু আলাইকুম।
ওয়ালাইকুম সালাম। এইমাত্র ফিরলে?
- হ্যাঁ। - আচ্ছা।
- আগে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। - আচ্ছা।
আমি ভেতরে যাই।
ওই তো এসেছে।
ঠিক আছে। দরজাটা বন্ধ করে দিচ্ছি।
- দিলান, তোর ফোন এসেছিল। - কে ফোন করেছিল?
লিয়া।
বেশ কয়েকজন ছাত্র আন্দোলনকর্মী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে
অভিযোগ রয়েছে, তাদের অপহরণ করা হয়েছে
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে।
একের পর এক এমন ঘটনায় সবার মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে...
এদিকে, আমি নিজের ঝামেলাতেই ব্যস্ত ছিলাম।
এর মধ্যে ছিল কিউবার সব নম্বর ITB-তে ট্রান্সফার করানোও।
দিলান, কিউবায় কী শিখলে?
ধৈর্য ধরতে শিখেছি অনেক।
- ধৈর্য? - হ্যাঁ।
সেটা শেখার জন্য ইন্দোনেশিয়াই তোমার জন্য বেশি উপযুক্ত।
দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে ধৈর্য ধরা।
দারিদ্র্য আসলে আমাদের মানুষের জন্য তেমন সমস্যা নয়।
যতক্ষণ সরকারও দারিদ্র্যের মধ্যে থাকে।
দারুণ বলেছ।
সমতা আর ভারসাম্য।
মানে?
মানে সবার সমান অধিকার আর সমান সুযোগ।
- পারস্পরিক সহযোগিতা। - ঠিক তাই।
চল রেকর্ডিং স্টুডিওতে যাই। একটু বাইরে বেরোই।
সারাদিন ছবি এঁকেছি।
ধুর! আমিও রাজি।
রেকর্ডিংটা মিস করছি।
কখন? আজ রাতে?
চল তাহলে।
এখনো বুকিং দিইনি।
- স্টুডিওতে ফোন দে। - চিন্তা করিস না।
নাওয়ি, ইরওয়ান আর আমি মিলে ছোট একটা ব্যান্ড চালাই।
অদ্ভুতভাবে, ITB-এর মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশে আমাদের প্রায়ই ডাকে।
অবশ্য বিনা পারিশ্রমিকে।
সংস্কার সম্পন্ন করো।
ন্যায়বিচারই আমাদের পথ দেখাক...
আমাদের কাজ ও আচরণে।
নাওয়ি, ওটা কী?
ওটা গামাইস।
ওটা কী?
ইসলামিক স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
বেশ মজার।
দাঁড়া। কী করতে যাচ্ছিস?
আমার বাইকটা দেখিস।
আবেগভরা এক প্রার্থনা,
অনুতাপে ঝরা অশ্রুধারা...
ক্যাম্পাস জীবনটা আমার দারুণ লাগে।
বেশ রোমাঞ্চকর।
...গভীর বিষণ্ণতায় মিশে যায়।
হয়তো কারণ আমরা এখনো তরুণ, আর সামনে কিছুই নিশ্চিত নয়।
নিজেদের খুঁজে বেড়াচ্ছি এখনো।
আজ রাতে বৃষ্টি হচ্ছে।
ধন্যবাদ।
কী সুন্দর!
মন ছুঁয়ে যাওয়া কবিতা।
এবার কে কবিতা পড়তে চাও?
আমি পড়ব।
গামাইস থেকে কেউ?
কেউ নেই?
ঠিক আছে। শুরু করো।
মঞ্চ তোমার।
ও কে?
আল্লাহ ছাড়া...
হায় আল্লাহ!
...কোনো উপাস্য নেই।
আলহামদুলিল্লাহ।
কবিতাটার নাম দেওয়া যায়
আল্লাহর একত্ব।
ধন্যবাদ।
- ওর জন্য হাততালি হোক। - ধন্যবাদ।
প্রত্যেকের পথচলা আলাদা।
কেউ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ সংগঠনের কাজে জড়িত,
আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে,
অথবা গোপনে বসছে রাজনৈতিক বৈঠকে।
তখন মনে হতো, নিরাপদে থাকতে চাইলে
জীবন আর আত্মা—দুটোই হারাতে হবে।
এই নিন আপনার অর্ডার।
এই ভাজা ভাতের তেল আপনার গলা আরও মিষ্টি করে দেবে।
মিথ্যুক।
এই নাও।
দিলান, তুমি ফিরে এসেছ!
আনচিকার সঙ্গে পরিচয়ের আগেই হানাকে চিনতাম।
সে একটা ইন্ডি ব্যান্ডের ভোকালিস্ট আর আমার একই স্টুডিওতে রেকর্ড করে।
এক্সকিউজ মি।
হানার মতো কেউ থাকতে পারে, কখনো ভাবিনি।
ও এমনভাবে চলে, যেন সবসময় ক্যামেরা চলছে।
যেন ওর কাছে জীবনটা একটা মঞ্চ ছাড়া কিছুই নয়,
আর তারকা সে নিজেই।
কিউবা কেমন ছিল?
- রোমাঞ্চকর ছিল? - একটু।
আমাকে মিস করেছ?
খিদে পেয়েছে?
আমারটা খেতে পারো। আমি আরেকটা অর্ডার দিচ্ছি।
না, ধন্যবাদ।
ডায়েট করছি।
বুঝলাম।
আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেকআপ হয়ে গেছে।
কারণ ও খুব পজেসিভ।
- তাই না, দেউই? - কী? হ্যাঁ।
আমিই ওর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছি।
ও রেগে গিয়ে আমাকে হুমকি দিতে শুরু করেছে।
এটার দাম কত?
এখনো আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই, দিলান!
আমরা এখন রেকর্ড করতে যাচ্ছি।
- ৮,০০০। - ৮,০০০?
পরে কথা বলব তাহলে।
দেখা যাক।
তিনটার বিল আমি দিচ্ছি।
পেট ভরে গেছে, এবার একটু গান বাজাই।
ওপিক কোথায়?
এই, ওপিক।
হানা কি বাইরে?
হ্যাঁ, আছে।
যন্ত্রণার আরেক নাম!
ধন্যবাদ, ওপিক।
নাওয়ি, দরজাটা বন্ধ করো।
হানা, তুমি এখনও এখানে?
তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
সোজা বাড়ি যাবে?
হ্যাঁ।
ভাবলাম, আমাদের কথা হবে।
দিলান, আমরা তাহলে যাই।
- আচ্ছা, সাবধানে যাস। - দেখা হবে।
তোমাকে বাড়ি যেতে হবে কেন?
কারণ এটা আমার বাড়ি নয়।
দিলান!
আমাকে একটু বাড়ি পৌঁছে দেবে?
মিনিবাস পাওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে।
এখন বাড়ি ফিরব কীভাবে?
আচ্ছা।
তোমার বাড়ি কোথায়?
দিপাতিউকুরে। একটা বোর্ডিং হাউসে থাকি।
- তুমি আমাকে পৌঁছে দেবে? - হ্যাঁ, পৌঁছে দেব।
ওঠো।
বসেছ তো?
স্যরি, তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি।
মদ খেয়েছ?
একটু।
শরীরটা গরম রাখার জন্য।
আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
কোনো ব্যাপার না।
শুভরাত্রি, বান্দুং!
এখানেই?
ভেতরে আসবে না?
না।
একটু এসো না।
অনেক রাত হয়েছে।
আচ্ছা।
- ধন্যবাদ। - আচ্ছা।
আমাকে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে নিয়ে যাবে?
কখন?
আজ রাতে, সূর্য ডোবার পর।
আচ্ছা, নিয়ে যাব।
বাহ, বেশ দায়িত্ববান প্রেমিক!
মানে?
তুমি সবসময় আমার জন্য তৈরি থাকো।
তাহলে আমি প্রস্তুত প্রেমিক।
ঠিক আছে।
- এখানেই অপেক্ষা করছি। - আচ্ছা, আমি আসছি।
দেয়া কোথায়?
দেয়া!
- শুভ জন্মদিন! - সিকা, আসার জন্য ধন্যবাদ।
সরি, এটুকুই দিতে পারলাম।
আরে ঠিক আছে। যাও, কিছু খেয়ে নাও।
- এখনই? - হ্যাঁ।
- এই তো এলাম। - অনেক কেক আছে।
ধন্যবাদ।
- এটা তোমার জন্য। - ভেবেছিলাম তুমি ক্ষুধার্ত।
তুমিই তো বলেছিলে ক্ষুধা লেগেছে।
- আমি বলিনি। - তুমি তো রাতের খাবারও খাওনি।
- কেকগুলো বেশ ভালো দেখাচ্ছে। - দিলান?
হোয়াট অ্যা সারপ্রাইজ!
আমার কাজিনের জন্মদিন।
সেদিন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমার কাজিন আমাকে পারফর্ম করতে বলেছে।
- তুমিও? - না।
একা এসেছ?
আমার প্রেমিকার সঙ্গে এসেছি।
হাই, আমি হানা।
আচ্ছা, আমি ভেতরে যাই।
- চলো। - বাই।
ও কে ছিল?
রেকর্ডিংয়ের জায়গায় পরিচয়, কানা স্টুডিওতে।
তুমি সত্যিই ওকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলে?
হ্যাঁ। ও জোর করেছিল।
জোর করেছিল কি না, সেটা জিজ্ঞেস করিনি।
শুধু জিজ্ঞেস করেছি, সত্যিই ওকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলে কি না।
হ্যাঁ।
আমাকেও পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমি গেলাম।
সিকা!
সিকা, আমি সব বুঝিয়ে বলছি। কোথায় যাচ্ছ?
- আমার বাইক ওখানে। - দরকার নেই।
- হানাকে নিয়ে যাও। - মিনিবাস পাওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে।
সিকা।
কে আমার পিছু নিয়েছে, জানি না।
অনেক আগেই সেসব পেছনে ফেলে এসেছি।
আইটিবিতে ভর্তি হওয়ার দিনই আমার জীবনের সেই অধ্যায় শেষ হয়েছিল।
ওরা যে-ই হোক, আমাকে পালাতেই হবে।
শুধু আশা করি, সিকা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছেছে।
এই।
দিলান।
হাই, না।
- কোথায় ছিলে? - এই আশেপাশেই ছিলাম।
- ভালো আছিস? - আলহামদুলিল্লাহ।
ওর জন্য জায়গা করে দে।
কী করছিস, কংগ্রেস?
সারারাত আড্ডা দেব।
বসো।
আহা, এই ছেলেটা! ধন্যবাদ।
এই যে ভুট্টা!
দিলান।
এটা কী?
সেই চিরচেনা জিনিস।
নাও।
খেয়ে নাও।
ভুট্টা?
নাও।
শোনো।
অকারণে রাত জেগে থেকো না।
এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না।
আসলে সব বুঝিয়ে বলার জন্য সিকার বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু আমি নিশ্চিত, যারা আমার পিছু নিয়েছে তারা কোথাও না কোথাও অপেক্ষা করছে।
সবাই, চলো।
চলো!
সেদিন রাতে ওরা আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল।
আগে হলে হয়তো ওদের পিছু নিয়ে তাদের সঙ্গে লড়াই করতাম।
কিন্তু এখন আর সেটা করার মতো শক্তি নেই।
আমি আর আগের সেই দিলান নই।
- রেডি? - চলো।
খালা, সিকা বাড়িতে আছে?
কী হয়েছে?
একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
সিকা।
আন্সিকা।
- কী চাও? - তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই।
- কী নিয়ে? - সবকিছু বোঝাতে চাই।
কী বোঝাবে?
আমার আর হানার মধ্যে কিছুই নেই।
শুধু...
শুধু কী?
শুধু...
ভদ্রতা।
কয়েকজন লোক আমার পিছু নিচ্ছে।
আমি জানি না তারা কারা।
তাই মায়ের গাড়ি নিয়ে এখানে এসেছি,
বাইক নিয়ে আসিনি।
যাতে তারা আমাকে চিনতে না পারে।
কিছু খাও।
ধন্যবাদ, খালা।
কলা ভাজাও বানিয়েছি।
পরিস্থিতিটা একটু হালকা করার জন্য।
রাগ করো না।
ভালোভাবে বিষয়টা মিটিয়ে নাও।
আবেগের বশে কিছু কোরো না।
- আসলে আমি-- - ব্যস!
সব শেষ। এটা নিয়ে আর কথা বলো না।
আজ কোথায় যেতে চাও?
একটা বই কিনতে চাই।
আমি নিয়ে যাব।
কোথা থেকে কিনবে?
আমরা যদি যাই...
চিকাপুন্দুং?
ঐতো, মুখ ফুলিয়ে আছো।
ঠিক আছে। চিকাপুন্দুং যাই।
পালাসারি।
দাদুকে নিয়ে যাই।
মাঝে মাঝে ওনাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত।
সবসময় আলমারির মতো বাড়িতে পড়ে থাকেন।
উনি বই পছন্দ করেন।
ঠিক আছে, যা খুশি কর।
চলো তাহলে দাদুর বাড়ি!
আসসালামু আলাইকুম, দাদু!
দাদি!
ওয়ালাইকুম সালাম।
আমার মিষ্টি নাতনি।
সোনা।
ভেতরে এসো।
দাদি।
- কোথা থেকে আসছ? - সিকার বাড়ি থেকে।
- আমরা বাইরে যাচ্ছি। - কোথায় যাচ্ছ?
এই রাগী মেয়েটাকে ঘুরাতে নিয়ে যাচ্ছি।
বসো।
বসো।
কে রাগী?
কে মুখ ফুলিয়ে আছে?
দেখো, কী মুখ ফুলিয়ে আছে।
- আমাদের সঙ্গে চলো, দাদি। - কোথায়?
আমাকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে পরিকল্পনাটা আগে শুনতে হবে।
চলো না। আপনিও আসুন, দাদু।
কোথায়?
বই শিকার করতে যাচ্ছি।
বই শিকার।
আমি আসছি!
দাদু, আপনি সামনে বসবেন না?
আমি এখানেই থাকব। পেছন থেকে উৎসাহ দেব।
কথায় আছে, "পেছন থেকে উৎসাহ জোগাতে হয়।"
দাদি, আগে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই।
চলো তাই করি।
তুমি উত্তর দিচ্ছ কেন?
আমি তো ওনার স্ত্রী।
স্বামীকেই নেতৃত্ব দিতে হয়।
প্রবাদে আছে, "সবার আগে নেতাকেই উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয়।"
তোমার জন্য সেরা বইগুলো বেছে রেখেছি।
এগুলো কী ধরনের খাবার?
জাপানি খাবার।
যারা আমাদের উপনিবেশ বানিয়েছিল?
দাদু, আস্তে কথা বলুন। লজ্জা লাগছে।
সোনা, এগুলো সুন্দানিজ খাবার।
এই তাজা সবজিগুলো দেখো।
এখন জাপানের জন্য কাজ করাটাই নাকি বেশ আধুনিক ব্যাপার।
- তাই নাকি? - আগে এটাকে কী বলতাম যেন?
রোমুশা?
- রোমুশা, দাদু। - হ্যাঁ।
- ধন্যবাদ। - খাবার উপভোগ করুন।
সিকা, চর্বিটা দাও তো।
ধন্যবাদ।
দাদু, দেখুন।
এখন মাংস আর লেগে থাকবে না।
এবার শিকগুলো গ্রিল করতে পারব।
সিকা, এটা আমি তোমার জন্য গ্রিল করে দিই।
দরকার নেই।
১৯৪৫ সালে জাপান আত্মসমর্পণ করেছিল,
কিন্তু ১৯৯৭ সালেও দিলানের যুদ্ধ চলছে।
জাপান আত্মসমর্পণ করতে পারে, কিন্তু আমি না।
আমি এখনও লড়ছি।
সেটাই যেন হয়।
আমি তোমার স্বাধীনতার পক্ষে!
এটা শুধু একটা। একটু অপেক্ষা করো।
সিকা এখনও রাগ করে আছে।
দুরিয়ান খেতে কেমন হয়?
- ভালোই হবে। - চলো তাহলে।
তুমি?
ওর হয়ে আমি হ্যাঁ বলছি।
ঠিক আছে তাহলে।
দুরিয়ানের গন্ধ এত বাজে কেন?
কারণ দুরিয়ান খাওয়ার জন্য, শোঁকার জন্য নয়।
তাহলে এটা উপভোগই করি।
দাদি, জানেন দুরিয়ানে কাঁটা থাকে কেন?
কেন?
ভেতরের সুস্বাদু শাঁস রক্ষা করার জন্য।
সত্যি?
আমি তো জানতামই না।
আমি একটু চেষ্টা করি।
এখানে ইউ-টার্ন নেওয়া যায় না।
ওহ না। এবার জরিমানা হবে।
বলেছিলাম না।
- লাইসেন্স আছে? - আছে।
জরিমানা হবে?
হ্যাঁ। আমার ইউ-টার্ন নেওয়া উচিত হয়নি।
হ্যালো।
হ্যালো, স্যার।
বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। লাইসেন্স আর গাড়ির কাগজপত্র দিন।
এই নিন আমার লাইসেন্স।
- এই নিন জরিমানার কাগজ। - জি, স্যার।
গাড়ির কাগজপত্র দিন। আপনার লাইসেন্সটা আমি রাখছি।
- ধন্যবাদ, স্যার। - যান।
পুলিশ কী বলল?
বলল, "ধৈর্য ধরো।"
"এটা একটা পরীক্ষা।"
সিকা এখনও রাগ করে আছে।
সত্যি? আবার ইউ-টার্ন?
আবার জরিমানা, লান?
হ্যাঁ, দাদু।
জরিমানা খাওয়াই তোমার নতুন শখ নাকি?
তোমার কী হয়েছে?
- হ্যালো। - হ্যালো, স্যার।
- আগেই জরিমানা দিয়েছি, স্যার। - তাহলে আবার এখানে কেন?
ভুলে গিয়েছিলাম।
আর যেন না হয়। যাও।
জি, স্যার। ধন্যবাদ।
তোমার বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন না?
ছিলেন।
কিন্তু মারা গেছেন।
ইন্না-লিল্লাহ।
চলো, মৃতের জন্য দোয়া করি।
আমিন।
কুরনিয়া বই পাওয়া যায়
- কোনটা? - ওইটা।
দারুণ সংগ্রহ।
এগুলো বাচ্চাদের জন্য।
ওগুলো পুরোনো বই।
- বেশ সুন্দর। - হ্যাঁ।
আগে এখানেই বই খুঁজতাম।
স্যরি।
- হাই। - আরে!
- পরিবারের সঙ্গে এসেছ? - হ্যাঁ।
এমন কোনো বই আছে, যেটা না পড়েই গল্পটা জানা যাবে?
তাড়াতাড়ি পড়তে চাইলে বই পুড়িয়ে ছাইটা খেয়ে ফেলো।
পছন্দের বই পেয়েছ?
নরক থেকে বাঁচার ৮০টি বুদ্ধিমান উপায়
ভয়ংকর তো।
- নতুন বই আছে? - এটা দেখো।
দেখি।
এটা ভালো হতে পারে।
এটা চাও?
নরকের যন্ত্রণা
ভয়ংকর।
না, ধন্যবাদ।
আমিও।
চর্চা না করলে পড়ে লাভ কী?
হয়তো তুমি সব চিকিৎসাবিজ্ঞানের বই পড়েছ,
কিন্তু প্রয়োগ না করলে সেগুলো তোমার ক্ষত সারাতে পারবে না।
আমি এখানে বই বিক্রি করতে এসেছি, বোকা।
ওই ছেলেটা কার ছিল?
বোকা কোথাকার।
- আমরা এসে গেছি। - তোমরা দুজন ভেতরে আসবে?
না দাদি, আমরা বাড়ি যাব।
দিলান, আমাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আর জাপানি খাবার খাওয়ানোর জন্যও।
এতে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই।
পরের বার থাই খাবার খেতে যেতে পারি?
অবশ্যই।
আসি, দাদু। আসি, দাদি।
কে তোমাকে ফলো করছে?
কী?
কার কথা বলছ?
যাদের কথা আমার বাড়িতে বলেছিলে।
আমার কোনো ধারণা নেই।
আমার ধারণা, সে হানার প্রেমিক।
ওকে আমার পছন্দ হয় না।
আমারও না।
তাহলে ওকে বাড়ি পৌঁছে দিলে কেন?
বললাম তো, ও জোর করেছিল।
আর অনেক রাতও হয়ে গিয়েছিল।
কোনো মিনিবাসও ছিল না।
আমি শুধু একজন ভালো মানুষের দায়িত্ব পালন করেছি।
ভালো মানুষ?
সহানুভূতি বলতে চেয়েছি, চিকা।
আসলে মায়া থেকেই নিয়ে গিয়েছিলাম।
ভাবলাম, যদি দিসা হতো?
অনেক রাত, কোনো মিনিবাস নেই।
তাই শুধু ওকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি, ব্যস।
কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল না।
আমি ঈর্ষা করছি না।
শুধু তুমি যখন আমার কাছ থেকে কিছু লুকাও, তখন ভালো লাগে না।
আমি জানি। দুঃখিত।
লিয়ার কথা বলার সময় তো আমি ঈর্ষা করিনি, তাই না?
তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে বলেই ওর কথা বলেছি।
কারণ আমি ঈর্ষা করিনি।
তাই তো তোমাকে ওর কথা বলতে বলেছিলাম।
বুঝতে পারছ?
বুঝতে পারছি।
আমার কাছে সব সিদ্ধান্ত তোমার।
তুমি যাকে বেছে নেবে, সেটা তোমার সিদ্ধান্ত।
আমি যদি তোমাকে চাপ দিই,
তাহলে বাধ্য হয়েই তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।
সিদ্ধান্ত তোমার।
যেতে চাইলে চলে যাও।
আমি কাঁদব না।
তুমি চলে গেলেই আকাশ ভেঙে পড়বে না।
যদিও...
তুমি আমার কাছে বিশেষ একজন।
তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকতে চাও,
তাহলে থাকো।
আমি তোমার সঙ্গেই থাকতে চাই।
UNPAD কী বলেছে?
কী?
তোমার জন্মদিন। UNPAD কী বলেছে?
কিছুই না।
তোমার প্রতি তাদের কোনো মনোযোগই নেই।
ঠিক বলেছ। তাহলে কি ITB-তে ট্রান্সফার হব?
ঠিক আছে, তাহলে সেখানে যাই। পথে সাতে খেয়ে নেব।
সুহার্তো, পদত্যাগ করো
সহপাঠীরা, পরিবর্তনের জন্য আমাদের লড়াই চলবেই!
- হ্যাঁ! - আমাদের লড়াই চলবেই...
ITB-তেও উত্তেজনা বাড়ছিল, অন্য ক্যাম্পাসগুলোর মতোই।
এখনই সংস্কার চাই!
তাদের জোরালো কণ্ঠ নীরবতাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।
শিগগিরই বিস্ফোরণ ঘটবে।
আমরা আর দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতাব্যবস্থার নিপীড়ন সহ্য করব না!
দিন দিন দ্রব্যমূল্য বাড়ছিল, সংকটও ঘনীভূত হচ্ছিল।
সরকার আমাদের, গরিবদের, ভুলে গিয়েছিল।
বিক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হচ্ছিল,
আর ছাত্রদের দাবিও জোরালো হচ্ছিল।
সরকারের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।
"ছাত্রদের ওপর পা রাখা নিষেধ"?
"ঘাসের ওপর পা রাখা নিষেধ" না হয়ে এটা কেন? অদ্ভুত তো।
কোনোটাই করা যাবে না।
ঘাসের ওপরও পা রাখা যাবে না, ছাত্রদের ওপরও নয়।
আমাদের মাথার ওপরও নয়।
তোমার মাথায় শুধু উকুনই থাকতে পারবে।
আজ আমার বিভাগে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আছে।
কী ঘোষণা?
নিজেই পড়ে দেখো।
- তুমি এগিয়ে যাও। - কী?
- যাও। - কেন?
যাও তো।
শুভ জন্মদিন আনচিকা। UNPAD দীর্ঘজীবী হোক!
পুরো বিভাগ আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে?
এটা তোমার কাজ।
এটাই তোমার জন্মদিনের উপহার।
"চারুকলা ও নকশা বিভাগ" কেন?
নামটা ধার করেছি।
ওরা অভিযোগ করেনি?
হয়তো করেছে।
তোমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়ে গেলে,
শাস্তির কথা পরে ভাবব।
ধন্যবাদ। আমি খুব খুশি।
এবার আমার পক্ষ থেকে।
শুভ জন্মদিন।
চলো।
ফ্যাকাল্টি কী বলেছে?
জানি না। এখনও ডাকেনি।
এটা কী?
"ফাইনাল প্রজেক্টে কাজ করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈশ্বর আছেন।"
দেখেছ?
শুভ জন্মদিন!
ধন্যবাদ, বন্ধুরা।
জন্মদিনের পক্ষ থেকে সাতে।
ধন্যবাদ!
তোমার হানাকে বলা উচিত ছিল।
লোকটা হয়তো ওর প্রেমিক নয়।
তুমি ঠিক বলেছ।
দিলান, সুন্দানিজ ভাষায় "ধন্যবাদ" কী?
"হাতুর নুহুন।"
হাতুর নুহুন, আনচিকা।
আমার সঙ্গে মানাচ্ছে?
না? তোমাদের বমি পাচ্ছে?
ও কি কোনো কর্মকর্তা?
- রিকশাচালক। - কী?
আর ওইজন?
মিটবল বিক্রেতা।
ওদের কর্মকর্তাদের মতো দেখায় কেন?
সমতা বলে কথা।
এটা আগে দেখিনি।
এটা কি তোমার মা?
হ্যাঁ, এইমাত্র শেষ করেছি।
তিনি কী বললেন?
বললেন, এখানে তাকে কুৎসিত লাগছে।
আমাকে আরও সুন্দর করে দিতে বললেন।
তোমার মা তো সুন্দরই।
তিনি আরও সুন্দর হতে চেয়েছিলেন।
এটাও কি নতুন?
ওটা দিসা।
ওর মুখ ঢেকে রেখেছ কেন?
ওর মুখটা ঠিকমতো আঁকতে পারি না।
এভাবেই সমস্যার সমাধান করো?
অনেকটা তাই।
এটা কি আমি বাড়ি নিয়ে যেতে পারি?
ঠিক আছে। তোমার বাড়িতে দিয়ে আসব।
- হ্যাঁ? - তোমার ফোন।
কে?
লিয়া।
ধরো।
আচ্ছা।
- কোথায় ছিলে, মা? - একটা আড্ডায়।
চিকা কি ওখানে?
কিউবা কেমন ছিল?
ভালো…
আগের মতোই।
কয়েকবার ফোন করেছিলাম, কিন্তু তোমাকে পাইনি।
ব্যস্ত ছিলে?
হ্যাঁ।
কী নিয়ে?
বেকারত্ব নিয়ে।
আমি বান্দুংয়ে আসছি।
কবে?
পরশু, যাওয়া-আসা মিলিয়ে।
অফিসের একটা অনুষ্ঠান, বন্ধুদের সঙ্গে।
আমরা একটা… ক্যাফেটার নামটা ভুলে গেছি।
রুমাহ নেনেক ক্যাফে।
চেনো?
হ্যাঁ, চিনি।
- চাকরি পেয়েছ? - অবশ্যই।
গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে?
না।
এখনও কিছু নিচের স্তরের কোর্স করতে হবে।
পরশু তুমি ফ্রি আছ?
তোমাকে খাওয়াতে চাই।
তবে না পারলে সমস্যা নেই।
কয়টায়?
দুপুর ১টার দিকে বান্দুং পৌঁছাব।
দেরিতে লাঞ্চ করতে পারি।
আসার চেষ্টা করব।
এখন কী করছ?
আনচিকা এখানে।
ওকে আমার সালাম দিও।
হ্যাঁ।
জানিয়ে দেব।
ঠিক আছে তাহলে।
আসসালামু আলাইকুম।
ওয়ালাইকুম সালাম।
এক্সকিউজ মি।
- আসুন। - আপনার কফি, ম্যাডাম।
- এই নিন। - ধন্যবাদ।
লিয়া?
হ্যাঁ।
ও কী বলল?
আচ্ছা…
ও কী বলল?
বলল, কাল বান্দুংয়ে আসছে।
আর?
এই পর্যন্তই।
তুমি ওর সঙ্গে দেখা করবে?
কেন?
আনচিকা অনুমতি দিলে।
যাও, ওর সঙ্গে দেখা করো। হয়তো ওর কিছু দরকার।
তুমি ওকে যেতে দিচ্ছ?
তুমি ঈর্ষান্বিত নও?
দিলান বলেছে, যারা নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী নয়, তারাই ঈর্ষা করে।
চিকা…
তুমি দিলানের সঙ্গে সুখী?
আমারই উচিত দিলানকে সুখী রাখা।
এটা কেন করলে?
তার মানে তুমি স্বার্থপর নও।
"স্বার্থপর" মানে কী?
স্বার্থপর মানুষ হলো এমন একজন,
যে রাজার মতো চারপাশের সবার ভালোবাসা দাবি করে।
অথচ তার উচিত চারপাশের সবাইকে ভালোবাসতে শেখা।
যা-ই হোক।
তোমাকে সহজেই ভালো লেগে যায়।
তুমি সুন্দরী,
দয়ালু, বুদ্ধিমতী।
সুযোগ পেয়েও যে তোমাকে ভালোবাসবে না, সে-ই একমাত্র বোকা।
কিন্তু…
দিলানকে ভালোবাসা
কঠিন।
তুমি দিলানকে ভালোবাসো কেন?
মনে হয় ও আমাকে জাদু করেছে।
এই জায়গায়।
চিকা,
তুমি…
লিয়াকে কী মনে করো?
দিলানের প্রাক্তন প্রেমিকা।
না। মানে…
লিয়াকে তোমার কেমন লাগে?
তার অতীত আছে।
- আমার দিলান আছে। - আরে!
ওরা যদি সত্যিই মানানসই হতো, তাহলে এখনো একসঙ্গে থাকত।
- তাই না? আমি দার্শনিকের মতো বললাম, তাই না? - একদম।
জানো, তখন দিলান আর আমার একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়নি।
যদি দেখা হতো,
আমি নিশ্চিত, ও আমাকে বেছে নিত।
ঠিক বলেছ।
ঠিক বলেছ।
ঠিক আছে। তাহলে ওর সঙ্গে দেখা করে এসো।
তোমরা আবার একসঙ্গে হয়ে গেলে, তাই হবে।
একটু দাঁড়াও।
"তাই হবে" মানে?
কী বলতে চাও?
যা হওয়ার হবে।
ঠিক আছে।
জানো,
প্রথমবার তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকেই,
আমি জানতাম তুমি কে।
কে?
যার দ্রুত বিয়ে হোক, সেটাই যার জন্য প্রার্থনা করি।
- আমার সঙ্গে। - তা তো বটেই।
আমিন।
আমি কলার পিঠা বানাতে যাচ্ছি। খাবে?
- অবশ্যই। - অবশ্যই।
চিকা খুবই সহজ-সরল। সহজে ঈর্ষান্বিত হওয়ার মতো মেয়ে সে নয়।
যদিও কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
জীবনে আমার যা প্রয়োজন, সে আমাকে সবই দেয়।
শুধু তাকে পেয়েই মনে হয়, জীবনে আমি সফল।
তবুও গতকালের লিয়ার ফোনটা আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
শুধু স্মৃতিগুলোই নয়…
এর সঙ্গে আসা অস্বস্তিটাও।
কিন্তু যেমনটা বলেছি,
হয়তো ফোন করার পেছনে তার কোনো কারণ আছে।
ব্যস, এটুকুই।
কেমন আছ?
ভালো।
- তুমি? - ভালো।
আমি জানতাম। জানতাম তুমি আসবে।
এখানেই মিটিং করছ কেন?
ওরা আমার আন্ডারে কাজ করে
তাই মিটিং কোথায় হবে, সেটা আমিই ঠিক করি।
আর ওরা রাজি না হলে?
ওদের কোনো উপায় নেই।
বাহ।
- এখন তুমিই বস। - তুমি তো আমাকে চেনো।
তোমার কী খবর?
এখনো গ্যাংয়ের সঙ্গে আছ?
এখন আমি ভালো ছেলে।
তাই তো।
তোমার প্রেমিকার জন্য, তাই না?
- ওর নামটা কী যেন? - চিকা।
আনচিকা।
- নিশ্চয়ই ভালো মেয়ে। - হ্যাঁ।
ওর অনুমতি নিয়েই তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
আমি শুধু তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম।
ব্যস।
এটা তোমার সেই পুরোনো জ্যাকেট?
নতুন কেনার সামর্থ্য নেই।
আহা।
এখনো কলেজে পড়ছি। চাকরি নেই।
বেচারা। কিউবা পর্যন্ত ঘুরে এলে,
তবুও সেই পুরোনো জ্যাকেটটা এখনো টিকে আছে।
কেঁদো না।
তুমি ঠিকই বলেছিলে।
কী?
কাউকে মিস করা কঠিন।
সত্যি বলতে,
ওর সঙ্গে দেখা করতে অস্বস্তি লাগছিল।
আমাদের অতীতের মধুর স্মৃতি ছিল অনেক বেশি।
এখন আমাদের মধ্যে আর কোনো সম্পর্ক নেই।
ভালোই হতে পারত, কিন্তু…
লিয়া এখন বিবাহিত।
তোমাকে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।
হ্যাঁ।
চিকাকে আমার সালাম দিও।
হ্যাঁ, ওকে জানিয়ে দেব।
- তোমার পুরোনো বাইকটা এখনো আছে? - হ্যাঁ।
- দেখতে পারি? - অবশ্যই।
ওই যে।
বাই।
বাই।
আমার মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাক, হারামজাদা! মরে যা!
মরে যা!
দিলান!
পালাও!
তুমি ঠিক আছ?
আমি ঠিক আছি।
আমি ঠিক আছি।
রক্ত ঝরছে তোমার।
আমি ঠিক আছি।
আমি বাড়ি যাচ্ছি।
তুমি তো বলেছিলে আর গ্যাংয়ের সঙ্গে নেই।
ওরা কারা ছিল, আমি জানি না।
আমি চললাম।
ওটা কে ছিল?
আমার ধারণাই ঠিক ছিল।
যে লোকটা আমাকে অনুসরণ করছিল, সে হানার প্রেমিক।
বর্তমানে অর্থনীতি ভীষণ চাপের মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়ার দর ক্রমেই কমছে।
দিয়াহ।
জীবনযাত্রার খরচ…
আমি দেখছি।
জি, ম্যাডাম।
জ্বালানির দাম সমন্বয়ের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার…
অর্থনৈতিক মন্দার পুরো প্রভাবই সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছে।
অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন বাজারে,
দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তোমার সঙ্গে কথা আছে।
পণ্যের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে
সরবরাহ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে।
রুপিয়ার দরপতন অব্যাহত থাকায় ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করছেন…
তুমি কি মারামারি করেছ?
তোমার ওপর হামলা হয়েছে?
মনে হচ্ছে আবার হাইস্কুলের দিনগুলোতে ফিরে গেছি।
লিয়া ফোন করেছিল।
কাঁদছিল।
হ্যাঁ, মা। এটা শুধু একটা ভুল বোঝাবুঝি।
কীসের ভুল বোঝাবুঝি?
কেউ ভেবেছিল আমি তার প্রেমিকার পেছনে লেগেছি।
প্রেমিকা ছেড়ে দেওয়ায় ছেলেটা রেগে গিয়েছিল।
এই তো?
একটু দাঁড়াও।
ও কে?
শুধু একজন বন্ধু।
ঠিক আছে।
- ব্যথা করছে? - অবশ্যই করছে।
সত্যিই ডাক্তারের কাছে যাবে না?
না। আমার কাছে আরও ভালো ব্যবস্থা আছে।
কী সেটা?
ধাত্রী।
কী জন্য?
পবিত্র হয়ে নতুন করে জন্মাতে চাই।
ওটাকে বাপ্তিস্ম বলে।
গত রাতে লিয়া কেমন ছিল?
আমি ওকে বলেছি, তুমি আমাকে ওর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছ।
তারপর?
সে সালাম জানিয়েছে।
ওকেও আমার সালাম দিও।
ঠিক আছে।
এখানে অপেক্ষা করো।
দিলান।
তোমার সঙ্গে কথা আছে।
- কী নিয়ে? - গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
ঠিক আছে।
ওখানে গিয়ে কথা বলি।
গত রাতে আমার ওপর হামলা হয়েছিল।
সে বলেছে, তোমার কাছ থেকে আমাকে দূরে থাকতে হবে।
নিশ্চয়ই তোমার প্রেমিক ছিল।
এখন তুমি গিয়ে তাকে বলো, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
ঠিক আছে, বলব।
সমস্যাটা তোমার, অথচ মাশুল দিতে হলো অন্য কাউকে।
এখানেই থাকো।
- দিলান। - কী খবর, বোনো?
খবর আছে।
শুনলাম তোমার ওপর হামলা হয়েছে।
কে বলল তোমাদের?
খবরটা বেশ ছড়িয়েছে।
শুনলাম তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেটা সত্যি নয়।
কিন্তু কে করেছে, সেটা আমরা জানি।
চিকা।
সালাম দেবে না?
জি, ম্যাডাম।
আগুনে ঘি ঢেলো না।
সব শেষ। প্রতিশোধ নেওয়ার দরকার নেই।
বুঝেছি। ঠিক আছে তাহলে। আমরা চলি।
- এখান থেকে বের হও। - দেখা হবে, দিলান।
- ধন্যবাদ। - স্বাগতম।
এই বাইকারদের কোনো কাজকর্ম নেই।
থাকলে তো আর বাইকার হতো না।
তাহলে কী হতো?
সরকারি কর্মকর্তা।
আমি করছি।
ঠিক আছে।
দিয়াহ!
দিয়াহ!
মনে হচ্ছে অবশেষে জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছি।
আমি আর বাইকার গ্যাং বা আমার অতীতের কাছে
বন্দী হয়ে থাকতে চাই না।
এখন থেকে এভাবেই ভাবতে শুরু করেছি।
- কোথায় ছিলে? - বন্ধুদের সঙ্গে হোমওয়ার্ক শেষ করছিলাম।
কী করছ?
একটা শার্টের ডিজাইন করছি।
তোমার ফাইনাল পেপারে মন দেওয়া উচিত নয়?
ওটা তো পরের সেমিস্টারে।
অবশ্যই দেব।
শিরোনাম ঠিক করেছ?
এই দেখো।
"কালো রঙের অভিব্যক্তিমূলক অনুসন্ধান।"
"অন্য সব রঙ ফুরিয়ে গেলে চিত্রকলার একটি গবেষণা।"
- শুধু কালো? - হ্যাঁ।
বাজেট কম মনে হচ্ছে।
না। আমি কালো রঙ নিয়ে গবেষণা করছি।
সত্যি বলছ?
তুমিই তো শুরু করেছ।
- সত্যিই সিরিয়াস? - হ্যাঁ।
দিয়াহ।
কী হয়েছে?
তোমার অতিথি এসেছে।
কে এসেছে?
পুলিশ।
পুলিশ?
- তাহলে সেখানেই ওর ওপর হামলা হয়েছিল? - একদম।
- দিলান গুরুতর আহত হয়েছিল? - বেশ ভালোই আহত হয়েছিল।
কী হয়েছে?
রেকর্ডিং স্টুডিওতে হামলার একটা অভিযোগ পেয়েছি।
- হামলার? - জি।
ভুক্তভোগীর দাবি, দিলানের বন্ধুরাই তার ওপর হামলা করেছে।
কারা?
সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে দিলানকে থানায় আসতে বলছি।
পরিস্থিতিটা পরিষ্কার করার জন্য। ব্যস, এটুকুই।
ঠিক আছে।
আমিও সঙ্গে যাব।
- যাও। - ঠিক আছে।
- আমি পোশাক বদলে আসছি। - ঠিক আছে।
নিশ্চয়ই বনো করেছে।
- তাহলে তুমি নির্দেশ দাওনি? - না, স্যার।
প্রতিশোধ নিতে কাউকে সাহায্য করতে বলিনি।
ঠিক আছে তাহলে।
কথা হলো, হামলা কোনো সমাধান নয়।
এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
তুমি দেখছি নিজেকে বদলে ফেলেছ। তোমাকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।
জবানবন্দির জন্য ধন্যবাদ।
বনো আর বাকিদের কী হবে?
ওরা আমাদের হেফাজতে আছে।
এখন তুমি যেতে পারো।
ঠিক আছে।
ধন্যবাদ, স্যার। কিছু দরকার হলে জানাবেন।
- তোমার মাকে আমার সালাম দিও। - জি।
পুলিশ জিন্দাবাদ!
- ধন্যবাদ, স্যার। - ঠিক আছে।
কে এসেছে?
চলো বাইরে যাই।
চলো।
সারাদিন বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কোথায় যাব?
সিনেমা?
কী দেখব?
- নতুন কিছু আছে? - অবশ্যই, গিয়ে দেখি।
চলো, শক্ত করে ধরো।
না, তবে ধন্যবাদ।
- কীসের জন্য? - আমাকে সিনেমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
তুমি তো ঘুমিয়েই পড়েছিলে, ঘুম বাড়িতেও যেতে পারতে।
শেষের দিকটায় একটু ঘুমিয়েছি। শেষটা কীভাবে হলো?
- সে কি মারা গেছে? - নিজেই দেখো।
- আবার দেখো। - তা করতে যাচ্ছি না।
আচ্ছা, শেষটা...
- সে মারা গেছে। - হ্যাঁ।
কিন্তু একটা টুইস্ট আছে।
- টুইস্ট বোঝো? - কী টুইস্ট?
- তুমি জানো না ওটা কী? - মানে, টুইস্টটা কী?
- দেখলে? তুমি জানো না। - জানি...
দিলান!
- কে ও? - লিয়া।
তুমি বান্দুংয়ে?
হ্যাঁ, স্বামীর সঙ্গে শপিং করতে এসেছি।
এ হলো চিকা।
লিয়া।
- দিলান। - হারদি।
- কেমন আছ? - ভালো।
- হাঁটতে বেরিয়েছ? - না, মাত্রই সিনেমা দেখে বের হলাম।
তোমার স্ত্রী?
না, এ হলো চিকা। আমার প্রেমিকা।
হারদি।
আনচিকা।
- আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে? - না, আমাদের যেতে হবে।
ঠিক আছে। লিয়া।
হারদি।
উপরে একটা ঘড়ির দোকান দেখলাম, বেশ ভালো লাগল।
তোমার চাই?
মিস!
উপরে একটা ঘড়ির দোকান দেখলাম। বেশ ভালো। তোমার চাই?
- পরে। তুমি গিয়ে অর্ডার দাও। - মিস!
- আমি চললাম। - সাবধানে যেও।
- আমার সাবধানে যাওয়া উচিত? - অবশ্যই।
মনোবিজ্ঞান অনুষদ
- ডিলান। - কেমন চলছে?
অন্ধকার হয়ে আসছে, স্যার।
UI-এর কর্মীদের অপহরণের কথা শুনেছ?
- শুনেছি তিনজনকে অপহরণ করা হয়েছে। - তিনজন?
সরকার দিন দিন আরও স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে।
তোমার লাল রং
সাহসী ও দুর্ধর্ষ
তবু সবই বৃথা
তোমার সাদা রং
পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ
তবু সবই বৃথা
সুহার্তো আমাদের সংবিধানসম্মত অবস্থান বজায় রাখার কথা মনে করিয়ে দেন,
স্থিতিশীলতা ভঙ্গ ও বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড
কঠিন সময়ে টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে সংকুচিত করে
এবং উন্নয়নের বাস্তবায়ন ব্যাহত করে।
যদি দেখা যায়
তোমার জনগণ
এমনকি তোমার নেতারাও
সবাই বৃথা
সবই বৃথা
সবই বৃথা
সবাই! আবার!
সবই বৃথা
সবই বৃথা
জনতার জয় হোক!
হ্যাঁ!
সংস্কার চাই!
এই তো। আবার?
চালিয়ে যাও।
- কোথায় ছিলে? - C59 এ আমার ডিজাইনটা দিয়ে এলাম।
- হয়ে গেছে? - হ্যাঁ।
মাছ সূর্যমুখীর বীজ খায়?
ওগুলো খুব পছন্দ করে।
তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?
কী?
শুধু হ্যাঁ বা না বলবে।
হ্যাঁ হলে
আমার কাঁধে একবার হাত রাখবে।
না হলে দুবার।
হ্যাঁ।
কী জানতে চাও?
তুমি
আমার সঙ্গে সুখী তো?
এটা তো সহজ।
তুমি কি
আমার সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পছন্দ করো?
আমি বদমাশের মতো আচরণ করলে তোমার ভালো লাগে?
এখন আমাকে বদমাশের মতো আচরণ করতে বলছ?
কেন? লজ্জা লাগছে?
তুমি
চাও আমি তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই?
চিকা...
সত্যিই আমাকে বিয়ে করতে চাও?
কিন্তু আমরা এখনও কলেজে পড়ছি।
আমি তো বলেছি,
বিয়ে করতে কলেজের ডিগ্রি লাগে না।
হ্যাঁ, তাইতো। ভুলেই গিয়েছিলাম।
তাহলে?
ঠিক আছে। আমি ব্যবস্থা করব।
- বিয়ের প্রস্তাব? - হ্যাঁ।
- কবে? - এই শনিবার।
হয়তো।
- এই শনিবার? - হ্যাঁ।
এত তাড়া কিসের?
আর সহ্য করতে পারছ না?
কী সহ্য করতে পারছি না?
এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাও কেন?
- চিকাও তাই ভাবে। - বাজে কথা।
আমি জিজ্ঞেস করার পর তুমি একবার কাঁধে হাত রেখেছিলে।
কাঁধে হাত?
কিছু না। এটা গোপন।
সত্যি বলছি।
এখানে কী হচ্ছে?
ডিলান।
শুনছ?
দিলান।
ও বিয়ের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।
বিয়ের প্রস্তাব? কীসের প্রস্তাব?
চিকা।
চিকা?
- তো? কী মনে হয়? - আসলে...
তোমরা দুজন এখন প্রাপ্তবয়স্ক।
নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারো।
গুরুত্বপূর্ণ হলো, তোমাদের ভালো উদ্দেশ্যের ওপর আমার বিশ্বাস আছে।
তাহলে সবকিছু তোমরাই সামলাও।
আমি একটু বিশ্রাম নিতে যাচ্ছি।
চিকা।
- ও এসেছে। - ও এসেছে।
আসসালামু আলাইকুম।
দাদু এখানে কেন?
পরে বলব।
তোমার মা কোথায়?
মা আসছেন না।
মানে কী?
তার হয়ে দাদু এসেছেন।
তাই সম্ভব হলে আমার সঙ্গে এসো।
তোমার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।
ধন্যবাদ।
তোমার মা আসেননি কেন?
সব ঠিকঠাক হলে, এরপর মায়ের পালা।
- দিলান? - জি।
- আমার এত নার্ভাস লাগছে কেন? - নার্ভাস তো আমার হওয়ার কথা।
ব্যস একটু অবাক হয়েছিলাম।
আমিই বা কেন প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি?
যাই হোক।
যতদূর মনে হয়, দিলান ভালো ছেলে। বুদ্ধিমান, ভদ্র এবং বিচক্ষণ।
আনচিকাও একই রকম। বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ আর ভদ্র।
তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে নেই।
আমি শুধু আমার মতামত জানাচ্ছি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আনচিকার মা-বাবার।
বোধহয় আমার এতটুকুই বলার আছে।
ধন্যবাদ, দাদু।
কী বলব বুঝতে পারছি না।
- আমিও না। - তাই তো?
কারণ এখানে যে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে,
সে আমার নিজের বাবা।
প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে অকৃতজ্ঞ মেয়ে হয়ে যাব।
দিলানের উদ্দেশ্য যদি ভালো হয়,
তাহলে আল্লাহর রহমতে সবই ভালো হবে।
সেদিন তো তোমাকে জাপানি খাবার খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিল।
শুধু এটুকুতেই হবে?
মূল কথা হলো,
আমি রাজি।
আলহামদুলিল্লাহ।
একটু দাঁড়াও।
এই পরিবারের কর্তা আমি।
যদিও আনচিকা
তার মায়ের গর্ভ থেকে এসেছে, তবে আমারও অবদান আছে।
তাই আমাকেও নিজের মত জানাতে হবে।
তাই এই প্রস্তাবে...
আমি রাজি।
- আলহামদুলিল্লাহ। - আলহামদুলিল্লাহ।
আমার একটা প্রশ্ন আছে।
এখানে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?
দয়ালু শ্বশুর-শাশুড়ি পেয়েছি।
না, আমি বলতে চাচ্ছি...
ওর ভরণপোষণের জন্য তুমি কী দিতে পারবে?
চিকাকে যখনবিয়ে করব,
তখন আমিও আপনাদের ছেলে হয়ে যাব।
তাই আমাদের ভরণপোষণ আপনারাই করবেন।
মা, এটা দিয়ে ওকে মারতে পারো।
বলা সহজ।
শুধু একটা কথা মনে রেখো।
এই মুহূর্তে দেশে আর্থিক সংকট চলছে।
তাই ভালো হয় যদি
বিয়েটা যতটা সম্ভব সাদামাটাভাবে করা হয়।
আলহামদুলিল্লাহ।
- দাদু, আপনি এটা বলছেন কেন? - এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয়?
যাই হোক।
তাহলে তোমার মা এখানে কবে আসছেন?
বলেছে, আগামীকাল।
- আলহামদুলিল্লাহ। - আলহামদুলিল্লাহ।
- বাবা, আপনি এটা বলছেন কেন? - এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয়?
তাহলে দরজায় যে ছিল, সে দাদু।
আমি ভেবেছিলাম তুমি আসবে।
হয়তো দাদু আগে থেকে খবর নিতে এসেছিলেন।
- হ্যাঁ। - হ্যাঁ।
আমার একটা প্রশ্ন আছে।
চিকা, তুমি দিলানের সঙ্গে থাকতে চাও কেন?
সত্যিই তো, কেন?
দ্বিধাহীন নও।
এখনো দ্বিধায় আছ।
গতকাল তো তুমি নিশ্চিত ছিলে।
কেন চাই, তার একটা কারণ আমাকে বের করতে হবে।
কেন?
- অনেক লম্বা হবে। - বাবা।
ব্যাপারটা বোঝানো কঠিন।
আমি শুধু চাই।
যাই হোক।
তাহলে বিয়ে কবে?
আপনারাই ঠিক করুন।
সত্যি?
আমার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন?
- হ্যাঁ। - হ্যাঁ।
আমার ওপর হলে আজ রাতেই বিয়ে দিয়ে দিই।
- রাজি? - অবশ্যই।
দাঁড়াও। একটা শুভ দিন-তারিখ তো ঠিক করতে হবে।
প্রতিটা দিন, প্রতিটা তারিখই শুভ।
- কথাটা ঠিকই বলেছ। - হ্যাঁ।
বেশি ভেবো না। আজ রাতেই, ঠিক আছে?
দয়া করে, একটু দাঁড়ান।
একটু নামাজ পড়ে নিই।
ঠিক আছে, নামাজের পর তাহলে।
শোনো।
তুমি তো নামাজ পড়েই ফেলেছ।
- এখনো তো সময় হয়নি। - হায় আল্লাহ।
হ্যাঁ। মনে হয়, আমি নামাজ পড়েই ফেলেছি।
চালিয়ে যাও।
তাহলে? কী বলো? আমার মনে হয়...
- প্রস্তুতির জন্য আমাদের সময় দরকার। - প্রস্তুতি।
হ্যাঁ, কতদিন?
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
ঠিক আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব?
- হ্যাঁ। - হ্যাঁ?
- হ্যাঁ। - ঠিক আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
হোমওয়ার্ক।
"বিক্ষোভে ত্রিশক্তির চার শিক্ষার্থী নিহত।"
এটা পড়ো। পত্রিকায় এসেছে।
সেদিনই আমি দুঃসংবাদটি পেলাম।
"বিক্ষোভে ত্রিসাকতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী নিহত।"
"জাকার্তার ত্রিসাকতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত চার শিক্ষার্থী
কর্তৃপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছে।"
ইন্দোনেশিয়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলো।
এটা ভালো হচ্ছে না।
- কোথায় যাচ্ছ? - বিক্ষোভে গুলি?
সাতে ভবন, বিক্ষোভ হচ্ছে।
- কোথায়? - বিক্ষোভে? দিলান।
সাতে ভবনে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছি। চলো।
আমি কখনো ভাবিনি পুরো জাতি রাস্তায় নেমে আসবে,
উন্নত ভবিষ্যতের আশায় লড়াই করতে।
আমিও সেখানে ছিলাম,
কোনো অস্ত্র হাতে নয়,
শুধু নিজের প্রতিবাদী কণ্ঠ নিয়ে।
সংস্কার চাই!
আবারও আগুনের সাগর
চলো বন্ধুরা, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে নিই!
এক হলে জনতাকে কখনো হারানো যায় না!
এক হলে জনতাকে কখনো হারানো যায় না!
প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট, জ্বালানির দাম কেন বাড়ালে?
জনতা না খেয়ে আছে!
জনতার কণ্ঠস্বর শুনুন!
কিছুই জানি না, কিছুই জানি না, আমি তো শুধু প্রেসিডেন্ট
বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসকে জিজ্ঞেস করো
জনতার জয় হোক!
এখনই সংস্কার চাই!
বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসকে জিজ্ঞেস করো
চলো!
প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট, জ্বালানির দাম কেন বাড়ালে?
জ্বালানি!
কিছুই জানি না, কিছুই জানি না, আমি তো শুধু প্রেসিডেন্ট
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করো!
বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসকে জিজ্ঞেস করো
বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসকে জিজ্ঞেস করো
এখনই সংস্কার চাই!
এক হলে জনতাকে কখনো হারানো যায় না!
এক হলে জনতাকে কখনো হারানো যায় না!
নিচু হও!
সংস্কার চাই
- কোন কলেজে পড়ো? - আইটিবি, স্যার।
- বিষয়? - শিল্প ও নকশা।
জি, স্যার?
দিলান কোনজন?
ওই যে, স্যার।
তুমিই দিলান আমি জানি। তোমার মুখ চিনি।
আবার এসেছ দেখছি।
- বাবার হাতে চড় খেয়েছিলে? - জি, স্যার।
ও কে?
প্রয়াত ইকাল সাহেবের ছেলে। আন সাহেবের ভাগ্নে।
জি, স্যার।
আমার সঙ্গে এসো।
- ইরওয়ানও আসছে। - ঠিক আছে।
আমি চললাম। সব ঠিক আছে।
কথা বলার অধিকার তোমাদের আছে, কিন্তু কখনো উস্কানি বা উস্কানিতে পা দেবে না।
জি, স্যার।
তোমাদের মতো আমিও একই জিনিস চাই।
তোমার বাবা একজন সৈনিক, দেশপ্রেমিক ছিলেন। সেই মর্যাদা তোমাকেও ধরে রাখতে হবে।
- এখন যাও। তোমার বন্ধুদের আমার সালাম দিও। - জি, স্যার। ধন্যবাদ, স্যার।
ঠিক আছে, যাও।
আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
- এখন কোথায় যাচ্ছ? - বাড়ি।
- ক্যাম্পাসে যাবে না? - না।
চিকা নিশ্চয়ই চিন্তায় আছে।
- তাহলে আমি চলি। - হ্যাঁ, সাবধানে যেও।
যার কথা বলছিলাম, সে-ই!
চিকা।
- আমি চলি। - ঠিক আছে।
- ইরওয়ান। - হ্যাঁ।
ডিলান।
- সব ঠিক আছে? - সব ঠিক আছে।
- আলহামদুলিল্লাহ। - তোমার আসার দরকার ছিল না।
- আমি চিন্তায় ছিলাম। - চিন্তায়?
বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের সামলাচ্ছিলাম।
সাবধানে থাকলেই হলো। ফাইনাল পেপারের কথাও ভাবো।
ইন্দোনেশিয়ার জন্য লড়াই করতে যেয়ে, নিজের কথাও ভুলে যেয়ো না।
হ্যাঁ।
চলো, বাড়ি যাই।
- কিন্তু যাব কীভাবে? - আমার বাইকটা নাও।
- আর তুমি? - আমি বাসে যাব।
- সত্যি? - যাও।
- সত্যি বলছ? - সত্যি।
বেশ তো!
- ধন্যবাদ। - ঠিক আছে।
সাবধানে যেও।
বাই।
তুমিও সাবধানে যেও।
নতুন নাকি?
- কী? বাইকটা? - হ্যাঁ।
ধার করা।
বিয়ের আমন্ত্রণ কমিক
কোথায় যাচ্ছ? বিয়ে করতে।
এখনও লাইনগুলো আঁকা হয়নি।
"বিয়ের আমন্ত্রণ কমিক।"
"কোথায় যাচ্ছ?" "বিয়ে করতে।"
"কবে?" "শেষ পাতায় জানাব।"
"দারুণ!" মা!
আমন্ত্রণপত্রের ফটোকপি কেন?
ধন্যবাদ, মা।
ফটোকপি কেন?
মূল কথা হলো বিয়েটা।
শিল্পসম্মত হলেই হলো।
দিলান?
শিল্পের ব্যাপারে কী বলেছিলে যেন?
ভালো না হলে,
না করাই ভালো।
এটা নতুন?
তুমি খুশি থাকলে,
আমিও খুশি।
আরেকবার নিচ্ছি…
দেখেছ? হ্যাঁ, দারুণ হয়েছে।
- এটা গ্যারেজে রাখব? - হ্যাঁ, গ্যারেজে।
এটা বাদ দিই।
ওটা… ওটা…
তবে খারাপ লাগবে।
ঠিক আছে, তাহলে।
- চিকা। - হ্যাঁ?
এটা ধরো তো।
- দিলান, চিকা, খবরটা দেখো। - কী হয়েছে?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি…
- এদিকে আসো! - কী খবর?
…ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আমার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার।
আলহামদুলিল্লাহ!
এই যে, কিবলা তো ওদিকে।
ওদিকে?
- আলহামদুলিল্লাহ! - টিভির দিকে সিজদা করছিল।
দিলান, এটা তোমার বিয়ের উপহার।
তোমার বিয়ে হচ্ছে,
আর সুহার্তোও সরে দাঁড়ালেন, স্বৈরাচারীতা অনেক হয়েছে বলে।
ধন্যবাদ, সুহার্তো।
পদত্যাগ করার জন্য।
মানুষ বিয়ে করলে সবকিছুর প্রস্তুতি নেয়।
নিজেরাই জনুর কুনিং বানায়, আর তুমি এখনো একটা খুঁজছ।
- এটা কোথায় পাব? - সমস্যা নেই!
চলো, একটা খুঁজি।
- ওই যে। - কোথায়? দেখতে পাচ্ছি।
তোমার চোখ তো বেশ ভালো।
মনে হয় উনিই মালিক।
গাড়ি থামাও।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
এক্সকিউজ মি।
আপনাদের বিয়ে হয়ে গেছে?
দুদিন আগে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
তাহলে বিয়ে হয়ে গেছে।
- অভিনন্দন। - ধন্যবাদ।
ভাই, আপনার জনুর কুনিংটা আমরা নিতে পারি?
আমাদের কাল বিয়ে।
সব প্রস্তুত, শুধু জনুর কুনিংটাই বাকি।
আমাদের দুজনের নয়।
একটা বিয়ে হবে।
হ্যাঁ, ও আর ওর হবু বউয়ের।
আমরা এটা নিতে পারি?
- কী বলেন? - অবশ্যই, দান হিসেবেই নিন।
আলহামদুলিল্লাহ।
- যান, খুলে নিন। - ঠিক আছে, ধন্যবাদ।
মেয়েটা এখনো ছোট, ভাই।
আমাদের জন্যও একটু রেখে যাবেন।
- ঠিক আছ? - হ্যাঁ, ঠিক আছি।
- এটা কীভাবে নেব? - এভাবে।
- ঠিক আছ? - হ্যাঁ।
- বিজ্ঞাপনে যেমন বলেছে, তেমনই তো? - হ্যাঁ, দেখে নাও।
বেশ যত্নে রাখা হয়েছে।
ট্যাক্সও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে।
এই বাইকটা আমাকে অনেক সেবা দিয়েছে।
তারিখ, ঠিক আছে।
পুলিশের ধাওয়া, ঠিক আছে।
বাইকটা শুধু আমার বাহন নয়, বরং সৌভাগ্যের তাবিজও।
দেখতে ভালোই।
বিক্রি করছেন কেন?
নতুন অধ্যায় শুরু করতে।
আমি নেব।
রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র।
- একটু দেখি। - দেখুন।
আমার কাছে,
এই বিক্রিটা শুধু সাধারণ কোনো লেনদেন ছিল না।
মনে হচ্ছিল, জীবনের পথচলার একটা অংশকে বিদায় জানাচ্ছি।
আমার অন্তর্দ্বন্দ্ব আর প্রতিটি পদক্ষেপের সাক্ষীকে।
- ওর যত্ন নিও। - অবশ্যই।
বাই।
লিয়ার পাশাপাশি,
আমার বাইকটাও মনে করিয়ে দিয়েছিল…
সবকিছু চিরকাল ধরে রাখতে হয় না।
আনচিকার সঙ্গে,
বাইকটা আমাদের শান্তির মুহূর্তগুলো,
বিশ্বাসের মুহূর্তগুলো,
আর একসঙ্গে করা সব পরিকল্পনার সাক্ষী ছিল।
মনে হয়, সময়ের নিজস্ব কাজ করার ধরন আছে।
কিছু জিনিস আমাদের ভুলে যেতে হয়,
আর কিছু জিনিস ছেড়ে দিতে হয়,
কারণ আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হবে।
হ্যালো।
আসসালামু আলাইকুম।
ওয়ালাইকুম সালাম।
আমি আমার কন্যা আনচিকা মেহরুনিসা রাবুকে,
আরনাদি মাকমুনের কন্যাকে,
ফয়সালের পুত্র দিলানের সঙ্গে,
পূর্ণ পরিশোধিত এক সেট নামাজের পোশাক দেনমোহর হিসেবে বিবাহ দিলাম।
আমি আনচিকা মেহরুনিসা রাবুর সঙ্গে,
আরনাদি মাকমুনের কন্যার সঙ্গে,
পূর্ণ পরিশোধিত এক সেট নামাজের পোশাক দেনমোহর হিসেবে বিবাহ কবুল করলাম।
- সাক্ষী? - সহিহ।
- সাক্ষী? - সহিহ।
আলহামদুলিল্লাহ!
- অনুবাদ ও সম্পাদনায় - F L A M Y T U H I N
আর সেই দিন, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো।
অবশেষে UNPAD আর ITB এক হলো,
একসঙ্গে থাকার মানুষগুলোকে এক করে দিল।
দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতিই অবশেষে পূর্ণ হলো।
দিলান দীর্ঘজীবী হোক!
অনুবাদকের কাজ ভালো লাগলে ডোনেট করতে পারেন। 01828941348 - BKash/Nagad/Rocket
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.