All language subtitles for The.Coffe.Table.BluRay.Bangla Subtitile.[01.32.05]

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

এটাই হলো সেই বিখ্যাত রেরেট কফি টেবেল।

এটি ব্রোঞ্জ রঙে রং করা হয়েছে, খুবই মজবুত।

দুটি সুন্দর নারীর প্রতিমূর্তি সংবলিত একটি কাঠামো। আইভরি দিয়ে তৈরি উপরে দেওয়া হয়েছে নিখুঁত নকল সোনার আবরণ।

এটি সুইডিশ নকশার একটি অনন্য সৃষ্টি।

এটি আপনার বসার ও শোবার ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা অভিজাত পরিবেশ তৈরি করতে ঘরের যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন।

আর সেই একটা লুক পাবেন।

এটি হবে আপনাদের প্রিয় টেবিল,

যেখানে আপনি প্রিয়জনদের সঙ্গে কফি বা ড্রিংক উপভোগ করতে পারবেন।

আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এই টেবিল, এর নকশা ও মানের কারণে, অনন্য হবে।

আপনাদের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলবে।

এটি আপনাদের ঘরকে সুখে পরিপূর্ণ করে তুলবে।

- এটা একেবারেই বাজে। - সোনা, আমার এটাই দরকার!

যীশু, এটা একেবারেই জঘন্য।

এটা আমাদের বাসার পরিবেশের সাথে যায় না।

ওই নিম্নমানের কাঁচ আর জঘন্য নকল সোনা দিয়ে!

দয়া করে, এটা বাসায় আনবে না।

আমি দ্বিমত পোষণ করছি।

কিন্তু সোনালী কাঠামোটি সম্পূর্ণ চীনা ডিজাইন।

এবং আমি একে মোটেই নিম্নমানের সোনা বলব না।

কাঁচটি কখনোই ভেঙে যাবে না, ফলে আপনার টেবিল চিরকাল থাকবে।

এটাই শেষ পিস,

এবং খুবই সস্তা।

টেবিলটা পছন্দ হয়েছে?

অনেক পছন্দ হয়েছে। এটা আমার দেখা সেরা টেবিল।

এই ব্যবসায় আমি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি, আমি একজন বিশেষজ্ঞ।

তাহলে... বুঝতে পারছি আপনার বাড়িতেও এমন একটি টেবিল আছে।

না...অনেকটা একই রকম।

আহ।

এটা আসলে রোরেট মডেল নয়।

যদি এই টেবিলটি সেরা হয়, তাহলে আপনার বাড়িতে নেই কেন?

আমার এত দামি টেবিল কেনার সামর্থ্য নেই।

আহ... তাহলে, এটা সস্তা নয়। মেনে নিচ্ছেন, এটা বেশ দামি।

এটা সস্তা... দামি, কিন্তু এটা সস্তার মতো।

এবং মনে রাখবেন, এটি ভিনটেজ স্টাইল।

- "ভিনটেজ"! - দাম কোনো ব্যাপার নয়।

তুমি বলেছিলে, আমি কফি টেবিল পছন্দ কর‍তে পারব। আমার এটা লাগবে।

বাসায় এই আবর্জনা চাই না।

দেখো, বাবু। তুমি দেয়ালের রং পছন্দ করেছো,

আমাদের বিবাহের দিন।

যে স্যুট আমি পরবো, মায়ের পোশাক।

আরও কতকিছু... যাহোক।

আরও কতকিছু কী? বলো, আরো কী?

এটাই যে আমি মনে করিনি, এটা সন্তান নেয়ার উপযুক্ত সময়।

এটা সঠিক সময় ছিল না। আমার বয়স ৮০ হলে সঠিক সময় হবে?

এটা আমার জন্য সঠিক সময় ছিল না।

তুমি তোমার ছেলেকে অস্বীকার করছো?

না, অস্বীকার করছি না।

তুমি জানো আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। এমনকি ওর নামও বেছে নিতে পারিনি।

- সে ওকে কায়েতানো নামে ডাকে। - এটা আমার দাদার নাম ছিলো।

এটা খুবই বাজে একটা নাম।

আমার নামও কায়েতানো।

আপনার নামও কায়েতানো?

আমার বাবা, দাদু, তার বাবা এবং আরও অনেক প্রজন্মের নামও এটাই ছিল।

এটা তোমাকে মানায়, আমার ছেলেকে না।

সমস্যা আপনার ছেলের নাম নিয়ে নয়।

এর কোনো সমাধান নেই।

টেবিলের ব্যাপারে কী করবো, আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার জানা দরকার আপনারা এটা চান কি না?

শুনুন, আমাকে অন্য গ্রাহকদেরও দেখভাল করতে হবে।

জানি না আপনি কীভাবে ওদের সঙ্গে কাজ চালাচ্ছেন,

কারণ আপনি খুবই খারাপ এবং ধূর্ত ব্যবসায়ী।

- টেবিলটার মতো! - উনার সাথে এমন ব্যবহার কোরো না।

-কিন্তু সে বলেছে, এই টেবিল আমাদের সুখ এনে দেবে! কী হাস্যকর কথা! -না, এটা হাস্যকর কথা নয়।

ওই টেবিলের জন্য কী আমাদের সুখী দেখাচ্ছে?

সত্যিই মনে করো এটা আমাদের সুখ এনে দিবে।

যদি আপনি টেবিলটা কিনে ভালোভাবে যত্ন নিন,

এটা আপনাকে সুখী করবে।

টেবিলের যত্ন নিতে হবে... তোমার কি এটাকে কুকুর মনে হয়?

জিনিসপত্রকে ভালোবাসার সহিত যত্ন করা উচিত।

তাদেরও ভালোবাসা উচিত।

যীশু, এই লোক নিশ্চয়ই পাগল...

এবং মিথ্যুক।

আপনার সাথে মিথ্যা বলছি না। আমি কখনোই কাস্টমারের সাথে মিথ্যা বলি না।

এই গ্লাস কখনোই ভাঙবে না, এটা কি বুলেটপ্রুফ?

সবকিছুই একদিন ভেঙ্গে যায়।

ফুলদানি ভেঙে যেতে পারে, ফার্নিচারও ভেঙে যেতে পারে,

একটি সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, এমনকি একটি বিয়েও।

কিন্তু, আমি কথা দিচ্ছি...

এই গ্লাস কখনো ভাঙবে না!

আপনি শুধু একজন খারাপ বিক্রেতাই না, আপনি একটা গাধা!

এখান থেকে কীভাবে বের হবো? আহ, পেয়েছি।

তাহলে, আপনি এটা নিবেন?

নিব। এমনকি যদি এটা গর্বের কারণে হয়।

এটাই আমার পছন্দ। আপনি একজন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ।

আচ্ছা... ঠিক আছে। আমি এটা নিব। ওকে?

টেবিলটা সত্যিই পছন্দ হয়েছে?

না।

আসুন কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে।

নির্দেশনা ম্যানুয়াল

THE COFFEE TABLE

অনুবাদক: মোহাম্মদ সায়েম, আতিফ মাহমুদ আরিফী, ওয়াসিফ মামুন শুভ, জাহিদ হাসান।

ওহ, ওহ, ওহ! অভিনন্দন!

আমিই একমাত্র প্রতিবেশী যে বাচ্চাটিকে দেখার সুযোগ পাইনি,

বাচ্চা আর বাড়ি পরিবর্তনের কারণে, আমাদের সময় হয়নি...

দেখো, কী সুন্দর, ছোটো বাবু।

এই, ও ঠিক ওর বাবার মতো!

সে হুবুহু তার কপি!

দেখো, রুথ! দেখো কত সুন্দর, ওকে দেখে যাও।

মা, আমি ওকে আগে দেখেছি।

ওহ, সোনা। তুমি মাঝে মাঝে খুব অমায়িক হয়ে ওঠো।

মনে হচ্ছে, ওর কারও সঙ্গে সম্পর্কে আছে বা কিছু একটা চলছে

আর সেটা ভালো চলছে না, আর সে সারাদিন খারাপ মেজাজে থাকে।

ও বয়ফ্রেন্ড নয়। ব্যাপারটা আলাদা।

কিশোর বয়স মানেই তো প্রেমে পড়া, ছেকা খাওয়া...

ও আমাকে ছেকা দেয়নি। ভালোবাসে, কিন্তু স্বীকার করে না।

কারণ সে একটা ভীতু।

ঠিক আছে, উপভোগ করো।

- উপভোগ করো, কারণ বড়ো হলে ওরা সারাক্ষণ রাগী আর খিটখিটে থাকবে। - নিশ্চয়ই আমরা উপভোগ করব।

- পরে দেখা হবে। - ঠিক আছে।

এটা পথ থেকে সরাও।

অভিনন্দন, বাবা!

এবার দ্বিতীয়জনের পালা! তোমার স্ত্রীর সময় হয়তো শেষ হয়ে আসছে।

একটা সন্তানের তুলনায় দুটি ভালো।

দেখো, ও ঠিক আমার মতোই পাগলাটে।

চলো, রুথ।

- পরামর্শটা মাথায় রাখব। - বাই। ধন্যবাদ।

এখনো তোমার স্ত্রীকে আমাদের ব্যাপারে বলোনি।

রুথ, যথেষ্ট হয়েছে। এটা মজার বিষয় না।

- মনে নেই কী হয়েছে? - কী?

তুমি লিফটে আমাকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছিলে এবং আমি সেটা এড়িয়ে গিয়েছিলাম।

এটাই। তুমি পাগলামি করছিলে।

- পাগলামি করছিলাম? - রুথ।

জানি এই বয়সে সবকিছুই জটিল লাগে।

বুঝতে পারছি। কিন্তু এসব কল্পনা করা বন্ধ করো।

- এটা মজার বিষয় না। - আর আমাদের কথা বলা দিনগুলো?

আর তোমার পাঠানো সুন্দর মেসেজগুলো?

ওগুলো কবিতা ছিল, রুথ। স্কুল প্রজেক্টের জন্য কবিতার বই সাজেস্ট করেছিলাম। তুমিই তো চেয়েছিলে।

- প্রেমের কবিতা। - তুমিই তো বলেছিলে যে প্রজেক্টটা এটা নিয়েই ছিল।

- দেখো বাছা... - রুথ

রুথ, রুথ। যদি তোমার মনে সত্যিই আশা জেগে থাকে, তবে আমি সত্যিই দুঃখিত।

- কিন্তু যথেষ্ট হয়েছে। - যদি বাবা-মাকে এই মেসেজগুলো দেখাই,

- তারা এটাকে ভুল বলে দেখবে না। - কীসের মেসেজ?

- প্রেমের কবিতাগুলো! - ওইগুলো বই থেকে পাঠিয়েছি!

স্কুল প্রজেক্টের জন্য! এগুলো ব্যক্তিগত কিছু ছিল না।

-রুথ, আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছো? -আমি চাই তুমি আমাকে ভালোবাসি বলো।

মারিয়া তোমাকে আকৃষ্ট করে না,

তুমি শুধু আবার নতুন করে শুরু করতে চাও,

আমার সাথে থাকতে চাও, সারাদিন আমার সাথে লুতুপুতু খেলতে চাও। স্বীকার করো।

কী বলছো এসব?

যখন তোমায় বাসা গোছাতে সাহায্য করেছিলাম, তুমি বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিলে।

- এটা একেবারে পরিষ্কার। - কী পরিষ্কার?

তুমি আমার সব ইনস্টাগ্রাম ছবিতে লাইক করো। সবগুলোতে।

রুথ, আমি শুধু কুকুরের একটি ছবিতে লাইক করেছিলাম, এটাই।

কেবল বলো, তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমি শুধু চাই তুমি এটা স্বীকার করো।

দেখো, আমরা এখনও বন্ধু হতে পারি।

আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি, তুমি অনেক ভালো মেয়ে,

কিন্তু তোমার বয়স মাত্র ১৩।

আমার একজন স্ত্রী আছে। একটি বাচ্চা আছে... আমি একজন বাবা।

মারিয়া এবং তোমার ছেলেকে ছেড়ে, চলো আজ রাতে আমরা পালিয়ে যাই।

যেখানে তুমি চাও। আমি যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত।

আমাকে যেতে হবে।

অপূর্ব, অপূর্ব...

বিক্রেতার নামও কায়েতানো, ব্যাপারটা মজার না?

- এতে মজার কী আছে? - জানি না, আমার তো মজার লাগছে।

আমার কাছে লাগছে না।

কীভাবে একই জায়গায় দুজনের একই আজব নাম হয়!

- এটা তোমার ছেলের নাম। - দুর্ভাগ্যবশত।

তুমি কি ওর নামকে অস্বীকার করছো? অস্বীকার করছি না!

আমার নামটা পছন্দ হয়নি। আমি একটা সাধারণ নাম চেয়েছিলাম।

সাধারণ? প্রথম কথা... তুমি তো সন্তানই চাওনি।

যদি তোমার ইচ্ছামতো হতো, তাহলে ও এখানে থাকত না।

টেবিলের কারণে এসব করছো? যথেষ্ট হয়েছে!

ধুর, কাঁচ লাগানোর স্ক্রু একটা নেই!

মাথামোটা তুমি।

ধুর, একটা স্ক্রু নেই।

সুইডিস শালারা টেবিলের একটা স্ক্রু কম দিয়ে রেখেছে!

সুইডিসদের দোষ নেই, সোনা,

দোষ ওই বিক্রেতার যে তোমাকে ঠকিয়েছে!

ওকে কল করছি।

- করো। - এখনই নিয়ে আসতে বলব ওটা।

- কল করো। - তাকে এটা নিয়ে আসতে বলব।

হ্যাঁ, কল করো।

হ্যালো, আমি আজ সকালবেলার সেই গ্রাহক,

ওই যে রেনেট টেবিলটা কিনেছি।

রে রে.. রোরেট।

হ্যাঁ। না, এটা একদম ঠিক আছে।

লাউঞ্জে এটা সুন্দরভাবে মানিয়েছে, লাউঞ্জে এটা খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।

হ্যাঁ। সমস্যা হলো গিয়ে এটার একটা স্ক্রু কম আছে।

যেটা কাঁচটি ধরে রাখে, হ্যাঁ...

যেটা উপরে থাকা কাঠের ব্লকের সাথে যায়...

মনে পড়েছে? হ্যাঁ। এখানে চারটা আছে, কিন্তু পাচঁটা লাগবে।

হ্যাঁ? না, এটা আমার আজই দরকার।

ওকে? এটা আজই দরকার কারণ...

আমি আসব না... না, আসব না।

আমি যাচ্ছি না। টেবিলের জন্য অনেক টাকা খরচ করেছি, আর আমাকে এটা নিতে যেতে হবে?

অন্তত যেটা করতে পারেন, সেটা হলো... ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করুন।

হ্যাঁ? ওকে, ওকে। ঠিক আছে।

কাগজে যেই ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানেই।

হ্যাঁ, আমরা এখানে আছি। ধন্যবাদ, আমরা এখানে অপেক্ষা করব।

হ্যাঁ, আমরা এখানে আছি। ধন্যবাদ, আমরা এখানে অপেক্ষা করব।

এখন আমরা একটা স্ক্রু পেয়ে গেছি।

তুমি কি এটা এখানে রাখবে?

হ্যাঁ, সোনা, এ কারণেই তো আমরা এটা কিনলাম।

বুঝেছি, তুমি আমার মতামতকে পাত্তা দাও না।

সোনা, তুমি বাড়ির সব কিছু নির্বাচন করেছো।

ওকে? একমাত্র যে জিনিসট আমি বেছে নিয়েছি, সেটা হলো এই টেবিল,

আর দেখো, তুমি কেমন আচরণ করছো।

আহ। তাহলে বাকি সবকিছু আমার?

- সন্তানটাও আমার? - ও আমাদের।

তাহলে, একদিন যদি আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়, আমি সব কিছু রেখে দিব।

হ্যাঁ, সব রাখতে পারো। একদম সব। আমি টেবিলটা নিয়ে থাকবো।

একটা ব্রিজের নিচে দুজনই থাকবো। বেশ, ৩ জন মিলে।

৩ জন মিলে। খুশি এখন?

- আমি কেনাকাটা করতে যাচ্ছি। - আচ্ছা।

তোমার কচি মাল পছন্দ করা ভাই আর তার কচি মাল বাড়িতে আসছে।

কী কেনা উচিত?

দেখো, সোনা, ইচ্ছেমতো নিও। আমি তো অনেক নিলাম আজকে।

প্রতি দশকে একটা করে বেছে নিতে পারি আমি।

আর বোলো না! কী কিনব বলো?

জানি না, আসলে...

রুটি, টমেটো, অমলেট খাওয়ার জন্য ডিম।

ও না-কি মাংস বা ডিম খায় না। শুধু নিরামিষ খায় বলেছিল।

ও নিরামিষভোজী হয়ে গেছে নাকি?

যখন থেকে ওর কচি মালটা নিরামিষভোজী।

মালটা নরখাদক হলে, তোমার ভাইও পেছন মারার জন্য তা-ই হতো! পুরুষরা এমনই হয়।

যাহোক, ছাড়ো এসব। দেখি কী কেনা যায়।

আমার ভাই, একজন নিরামিষ।

এটা যার যার পছন্দ। একজন নিরামিষভোজী, আরেকজনের ফালতু টেবিল পছন্দ।

আমি বের হচ্ছি। চাবি রেখে যাচ্ছি।

বাবুকে নিয়ে থাকো।

- বাবুকে নিচ্ছো না? - একা যাওয়া লাগবে।

আচ্ছা, ওয়াইন কিনিও খেতে মন চাচ্ছে।

আমারও মন চাচ্ছে, কিন্তু বাবুর জন্য পারছি না। তুমিও তাই করো।

- আজ একটু মালপানি চাই। - আচ্ছা, যাচ্ছি।

বাবুকে দেখো, আর পারলে ঘুম পাড়াতে পারো কি-না দেখো।

- আচ্ছা। - হ্যাঁ।

- বাই। - বাই।

আরেহ!

চুপচাপ-ই তো ছিলে।

গান শুনতে চাও? গান চালিয়ে দিবো নাকি?

ভালো লাগছে না? ওহ, গান শুনতে ভালো লাগে না।

এই যে, এই যে।

মা কী করেছে? মা কি জাগিয়ে দিয়েছে?

আম্মু ভালো নয়। আমার সোনাটাকে জাগিয়ে দিয়েছে।

সোনা বাবু, সোনা বাবু আমার...

কী হয়েছে? এতো কাঁদছো কেন?

নামটা ভালো না, এজন্য কাঁদছো।

হ্যাঁ? নামের জন্য?

বাবা... ভালো তো।

বাবা ভালো, না? বাবা খুব ভালোবাসে?

আরেহ? খেয়ে ফেলবো তোমাকে! খেয়ে ফেলবো তোমাকে!

খেয়ে ফেলবো তোমাকে। টে... টেবিল।

ছোটো টেবিল পছন্দ করো, সোনা? ছোটো টেবিল পছন্দ করো, সোনা?

বাবার নয়া টেবিলটা? পছন্দ হয়েছে?

টেবিলটা কেমন লেগেছে? তাকাও টেবিলের দিক।

দেখো, নতুন টেবিলের দিকে। পছন্দ হয়েছে?

এত সুন্দর টেবিল কখনো দেখেছ?

এক্সকিউজ মি, একটা ভালো ওয়াইনের নাম বলবেন?

আচ্ছা... ভালো ওয়াইন আপনার রুচির ওপর নির্ভর করে।

এটার দাম কম আর আমার খুব পছন্দ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ?

মারিয়া? মারিয়া!

- হাই! - সোনা, সাবধানে।

- তোর মেয়ে নাকি? - হ্যাঁ!

- দারুণ তো! - আমার বান্ধবী মারিয়াকে মনে আছে? - নেই।

- তোমাকে কয়েকবার কোলে নিয়েছিলাম -হ্যাঁ।

- কেমন আছিস? - ভালো। এখানে তো থাকি না এখন,

ডিভোর্স হয়ে গেছে, জানিস কি না জানি না।

শুনেছি শেষটা ভালো হয়নি।

না। কুত্তাটা সুন্দরী কচি মাল পেয়ে ভেগে গেছে।

- বুঝতেই তো পারছিস। - বাবা কি কুত্তা?

হ্যাঁ, সোনা। তোর বাবা একটা কুত্তা।

- দিন কাল কেমন যাচ্ছে? - ভালো। সবকিছু কাটিয়ে উঠছি।

তাহলে অভিনন্দন!

শুনেছি মা হয়েছিস অবশেষে!

ইয়েস, অবশেষে! সত্যি বলতে, বেশ কষ্ট হয়েছে।

যীশু একদমই চায়নি, জানিস তো...

সিদ্ধান্ত যেহেতু নিয়ে ফেলেছিলাম, আর কোনো উপায় ছিল না...

- বাহ। - হ্যাঁ, ২ বছরেরও বেশি চিকিৎসা নিয়েছি।

কঠিন সময় পার করেছি, অ্যানা। কিন্তু এখন, আমাদের সন্তান হয়েছে।

- আর আমরা খুশি। - ওহ, দারুণ! - হ্যাঁ! - নাম কী রেখেছিস?

কেয়েতানো।

কেয়েতানো?

মা হওয়ার চেয়ে আনন্দের কিছু নেই পৃথিবীতে। কিন্তু হওয়া কঠিন, মিথ্যে বলব না।

আর জানিস-ই তো

মেয়ের দিকে তাকালে, সেই ভালোবাসা তুলনাহীন।

ওর জন্মের পর যখন জড়িয়ে ধরেছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম।

- অসাধারণ। - তোর জামাই কেমন আছে?

অনেকদিন হলো দেখি না। তার সাথে অনেক হাসাহাসি করতাম!

সবসময় মজা করত। বাবা হিসেবে কেমন করছে?

ভালো, অনেক খুশি। খুব নরম মনের মানুষ, জানিস-ই তো।

আমরা ওর দাদির বাড়িতে চলে এসেছি, উনি মারা গেছেন...

- সরি। - ধন্যবাদ। যীশু বাবুর সাথেই আছে।

বাপ-বেটা প্রথমবারের মতো একসাথে আছে।

এভাবে অভ্যস্ত হতে হবে।

একদম। আর আমাকে বেরোতে হয়েছিল...

শান্তিতে কেনাকাটা করার জন্য।

এখন আর শান্তি পাবি না তেমন।

তাই উপভোগ কর। এমনকি রাতে বিছানায় হাগু করলে সেটাও।

এসব মূহুর্তও উপভোগ কর।

হ্যালো?

যীশু, কেউ একজন হ্যালো বলতে চায়।

আরেহ, কুল ড্যাডি যে!

অভিনন্দন! শুনেছি কেয়েতানো এসে পড়েছে! তাই নাকি, যীশু?

হ্যালো, যীশু?

মনে হয়, লাইন কেটে গেছে।

ওহ। হয়তো চার্জ শেষ হয়ে গেছে, নয়তো বাচ্চার সাথে আছে।

আচ্ছা, আরেকদিন ফোন করবো।

ঠিক আছে।

যাহোক, এখন না, বাসাটা একদম অগোছালো।

সব ঠিকঠাক হয়ে গেলে, একদিন কফি খেতে এসো! বাবুকেও সঙ্গে নিয়ে এসো, কায়েতানোর সাথেও দেখা হয়ে যাবে। কেমন?

-হ্যাঁ, যাবো একদিন, ঠিক আছে? -হ্যাঁ।

তাহলে এসো।

-কী হলো? লাইন কেটে গেছে? -হ্যাঁ।

ঠিক আছে... আমি একটু ওয়াইন কিনে আনি।

তোমার ভাই তো মদ ছাড়া টিকতেই পারে না।

আচ্ছা, দুই রকম রিওখা আছে,

আমার প্রেগন্যান্সি সেলিব্রেট করার জন্য যে দামীটা কিনেছিলাম, আর যেই কমদামিটা সবসময় কিনি আমরা।

যেটা আমাদের পছন্দ। কোনটা আনব?

যেটা মন চায় নাও।

-একটু সাহায্য করো! -তোমার ভাইয়ের সাথে তো তুমিই খাবে।

তাহলে কোনটা? দামীটা, না কমদামি?

-হ্যাঁ। -হ্যাঁ মানে?

হ্যাঁ।

ঠিক আছে... তাহলে আগেরটাই কিনছি, কী বলো?

"কার্লোস আসিয়েন্তা, দয়া করে তথ্যকেন্দ্রে আসুন।"

এই… আমার ফোন কেটে দিলে নাকি?

এইভাবে ফোন কেটে দেওয়া যায়?

আমি ওয়াইন কিনলাম, ক্ষমা চাইতে, আর তুমি কি না ফোনই কেটে দিলে?

পাগল নাকি?

হ্যালো?

"জীবনকে হাসিমুখে বরণ করো"

-হাই, রুথ। -তুমি এখানে কেন?

একটা সাহায্য চাই।

-তুমি রং করছো? -হ্যাঁ, একটা ঘর লাল করছি।

-তোমার বউকে আমাদের ব্যাপারে বলেছ? -রুথ, অন্য সময় কথা হবে, ঠিক আছে?

-এখন আমার তোমার সাহায্য দরকার। -কবে বলবে ওকে?

-আমি চাই তুমি এখনই বলো ওকে? -আজ বিকেলে বলবো, ঠিক আছে?

-সত্যি? প্রমিজ করো? -হ্যাঁ, আজ বিকেলে।

-হ্যাঁ। -আমায় চুপ করানোর জন্য বলছো না তো?

যদি না বলো, তাহলে কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে...

আমি নিজেই গিয়ে ওকে বলে দেবো।

-সত্যি বলছি, আর পারছি না। -হ্যালো!

-কী নিয়ে কথা বলছিলে? -আমাদের ব্যাপারে।

-এই দাগগুলো কীসের? -একটা ঘর লাল করছি।

-একটা ক্লিনিং প্রোডাক্ট দরকার। -কী ধরনের?

ডিটারজেন্ট, ব্লিচ, বা দাগ তোলার কিছু?

-কাল কিনে নিয়ে আসবো। -আজ বিকেলেই।

আজ এনে দাও, আমি গিয়ে নিয়ে আসবো।

কাল দিয়ে দেবে। রুথ, যা লাগবে দিয়ে দাও।

-ধন্যবাদ। -বাচ্চার রুমের জন্য?

হ্যাঁ, লাল রঙে।

আমার সবচেয়ে পছন্দের রঙ গোলাপি, আমার পুরো বাড়ি তার শেডে ভর্তি।

বিশেষ করে বেডরুমটা। আর তোমার?

-কী? -তোমার প্রিয় রঙ কী?

-এ… লাল… মনে হয়। -আহ।

-নাও, আমাদের কাছে এটুকুই আছে। -ধন্যবাদ। পরে ফেরত দেব।

নিকোলাসকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসার পর আজ বিকেলে আসব।

-বাই। -বাই। -বাই!

-তুমি এখানে কী করছো? -সামনের দরজা খোলা ছিল।

আমি তোমার স্ক্রুটা নিয়ে এসেছি!

স্ক্রু?

জানি না কী হয়েছে, হয়তো কারখানার ত্রুটি।

তবে আমি একটা নিয়েছি, যেটা স্টোররুমের আরেকটা টেবিলে ছিল।

আমি ম্যানুফ্যাকচারারের সাথে কথা বলি, ওরা যেন আরেকটা পাঠায়।

কাস্টমার খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর যেহেতু তোমারটা জরুরি ছিল...

নাও।

বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। এটা সুইডেনে ডিজাইন করা হলেও,

আসলে এটা মেড ইন চায়না!

অবশ্য, যদিও পুরোপুরি এক নয়, কিন্তু এখন তো সবকিছু চীনেই তৈরি হয়।

হ্যাঁ, সবকিছু। ধন্যবাদ, বাই।

কিছু হয়েছে? তোমাকে স্বাভাবিক লাগছে না।

-হ্যাঁ। -আমি কি সাহায্য করবো...

-স্ক্রু লাগাতে? -না, ধন্যবাদ।

পিসগুলো ভালো করে আঁটাতে হবে।

এই স্ক্রুগুলোই গ্লাস ধরে রাখে। ঠিকমতো আঁটা না হলে সমস্যা হতে পারে।

গ্লাসটা খুব ভারী, ভালোভাবে বসানো না হলে ভেঙে যেতে পারে।

যদিও আমি বলেছিলাম, এটা প্রায় অবিচ্ছেদ্য।

ধন্যবাদ, বাই।

আচ্ছা, একটা কথা বলা হয়নি, আমি তোমার জন্য একটা কুপন এনেছি।

পূরণ করলেই ফ্যান জেতার সুযোগ!

শুধু নিজের তথ্য দিয়ে দাও, তাহলেই লটারি ড্রতে তোমার নাম উঠবে।

-না, ধন্যবাদ। আমি আগ্রহী নই। -যদি এখনই করে দাও...

-আমি নিয়ে গিয়ে ড্রতে রেখে দেব। -না, আমি এসব লটারিতে আগ্রহী নই।

আমি নিজেই এটা আয়োজন করছি, আর একজন কাস্টমার হিসেবে...

এবং স্ক্রুর বিষয়টার ক্ষতিপূরণ হিসেবে...

আমি নিশ্চিত তুমি জিতবে।

নাও, আমার কলমটা নাও। এক মিনিট লাগবে।

দেখো, এটা একটা লাক্সারিয়াস ফ্যান।

অসাধারণ, জাপানে তৈরি।

-রঙ লেগে যাবে। -ফ্ল্যাট রং করছো?

-বাচ্চার জন্য ঘর সাজাচ্ছো? -হ্যাঁ। -চিন্তা কোরো না, আমি লিখে দিচ্ছি।

তোমার তথ্য বলো, আর ঘুরে দাঁড়াও, তোমার পিঠে রেখে লিখে ফেলি!

সম্পূর্ণ নাম?

যীশু কাসাস বোরোবিয়া।

যীশু কাসাস...

বোরোবিয়া "B" না "V"?

-"B" দিয়ে। -প্রথমটা "B"...

-আর দ্বিতীয়টা? -দুটোই "B"। -ঠিক আছে, ফোন নম্বর?

615.3514

শেষ প্রশ্ন, ইমেইল?

dearbabyjesus(jesusitodemivida)76@gmail.com

ডিয়ার বেবি জিসাস... দারুণ! একসাথে লেখা, কোনো হাইফেন নেই?

একসাথেই।

হয়ে গেছে। "ডিয়ার বেবি জিসাস, তুমি আমার মতোই একটা বাচ্চা।"

"এই কারণে আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, আর আমার হৃদয় তোমাকে উৎসর্গ করি।"

"সবাই তোমার জন্য কিছু না কিছু আনে, আমিও তোমার জন্য এক কাপ চর্বি আর এক বাটি মিষ্টি মধু আনব।" দেখেছো, আমার কতো ভালো মনে আছে!

-হ্যাঁ। -এটা খুব সুন্দর প্রার্থনা, সত্যি।

-আমি খুব ধার্মিক। তুমি? -না, তেমন না।

এই... আমরা একদিন ডিনারে যেতে পারি,

নাহয় সিনেমা দেখতে বা স্রেফ কিছু খেতে বাইরে যেতে পারি, তাই না?

আর... উঁহু...

আমি তোমাকে সত্যিই পছন্দ করি। জানি না...

আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে...

কিছু একটা আছে।

সত্যি বলতে, আমার বেশি বন্ধু নেই।

কিন্তু মাঝেমাঝে দেখা হলে মন্দ হয় না, যদি তুমি চাও।

জিতলে, তোমার জন্য ফ্যান নিয়ে আসব আমি।

সেটা কীভাবে কাজ করে, সেটাও বুঝিয়ে দেব।

আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসছি। ইডিয়ট।

হ্যাপি ফাদারস ডে!

যীশু!

যীশু!

দরজা খুলছো না কেন? ফোন রেখে দিলে কেন?

কিছু বলবে?

-বাবুর... -কী হয়েছে? কী হয়েছে ওর?

-ওকে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। -তারপর?

সে জন্যই দরজা খুলি নাই, ওকে ঘুম পাড়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো।

তুমি বেরোনোর পর ও কান্না শুরু করলো।

এখন ঘরে যেও না, ঠিক আছে?

-ও গভীর ঘুমে চলে গেছে। -ঠিক আছে।

-পায়খানা করেছিল? -না, করেনি।

-ঠিকমতো দেখে নিয়েছিলে তো? -হ্যাঁ।

তুমি দরজা খুলছো না দেখে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম!

ধুর! ভাবলাম, কিছু একটা হয়ে গেছে।

আসলেই কিছু একটা হয়েছিলো।

কী হয়েছে?

যীশু, বলো! বোবা হয়ে গেলে?

টেবিলের কাঁচ ভেঙে গেছে।

নতুন টেবিলটার?

যেটা না কি কখনো ভাঙবে না?

এটাই কর্মফল।

বুঝতে পারছো তো?

কর্মফলই শাস্তি দিয়েছে তোমাকে।

এটা কী?

আমার রক্ত। আমার নিজের রক্ত।

কাঁচ ভাঙার সময় আঙুল কেটে গেছে।

-এত রক্ত পড়েছে? -হ্যাঁ।

-তুমি ঠিক আছো তো? মুখটা একদম ফ্যাকাসে লাগছে। -হ্যাঁ, একটু দুর্বল লাগছে।

দাগ যাচ্ছে না। এই দাগ তো উঠছেই না।

গালিচাটা ফেলে দিতে হবে, নতুন কিনতে হবে।

তোমার এই বালের টেবিলের জন্য কত খরচ হচ্ছে!

-কীভাবে ভাঙলো? -জানি না। -জানো না? -না।

ফালতু টেবিল!

ওই সস্তার সেলসম্যান তো বলছিল এই কাঁচ না কি ভাঙবেই না... বাহ!

কী দারুণ পছন্দ, ডার্লিং। অভিনন্দন।

দুর্দান্ত!

ওয়াও!

সরো! লাঞ্চ বানাতে হবে। তোমার ভাই এই এলো বলে!

তুমি সাহায্য করবে, না কি শুধু বোকার মতো তাকিয়ে থাকবে?

অভেদ্য কাঁচ…

এতো হাসির কী আছে?

কাঁচ ভেঙে গেছে! ছি! অভেদ্য কাঁচের পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর!

একদিনও টিকলো না, বুঝলে!

আচ্ছা বলো তো… এটা ভাঙলে কীভাবে?

এত তাড়াতাড়ি কীভাবে ভাঙলে?

ওটা ভাঙার সময় দেখতে পারলে, সেই লাগতো!

তোমার মুখের অভিব্যক্তি দেখতে পারলে বেশ হতো!

সত্যি বলছি, দারুণ লাগতো।

প্লিজ…

দেখো… কতদিন পর এত হেসেছি!

এই বাজে টেবিল কেনাটা শুধু এই মুহূর্তটার জন্যই সার্থক!

ধন্যবাদ!

আচ্ছা…

আমি… বাচ্চাটাকে দেখে আসছি।

আর মনিটরটাও নিয়ে আসবো।

মারিয়া…

আমি দেখছি, ঠিক আছে? তুমি রান্নাটা চালিয়ে যাও।

-আমি খালি একটু দেখবো, অনেকক্ষণ হলো দেখিনি। -ঠিক আছে, ওকে ঘুম পাড়াতে পারিনি।

তুমি নিশ্চিন্তে খাবার তৈরি করো। আমি দেখছি।

-আমাকে তো একটু পর ওকে দুধ খাওয়াতেই হবে। তুমিও কি সেটা করতে পারবে? -শুধু একটু ভাবনা মুক্ত থাকো… দুই ঘণ্টা…

শুধু দুই ঘণ্টা দাও আমাকে।

ঠিক আছে, ঠিক আছে। কিন্তু মনিটরটা নিয়ে এসো, যদি উঠে যায়।

ডার্লিং…

হ্যাঁ?

জানোই কত ভালোবাসি তোমাকে, তাই না?

-এটা আবার কী? -আমি শুধু বলতে চাইলাম।

তোমার গর্ভাবস্থার সময়… আমরা একটু দূরে সরে গেছি।

হুম।

কিন্তু এত নাটকীয় হওয়ার কিছু নেই।

আমি টেবিল নিয়ে তো আর রাগ করছি না।

একটু শান্ত হও… তুমি তো…

আমি শুধু বলতে চাই, যদি কখনো তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকি,

অথবা ভবিষ্যতে দিয়ে ফেলি, তাহলে মাফ করে দিও!

আমি মানুষ, ভুল করতেই পারি, কখনো জীবন কঠিন হয়ে যায়।

শোনো…

সোনা…

চিন্তা কোরো না!

আমিও দুঃখিত। এগুলো তেমন কিছু নয়।

বাবা-মা হওয়ার পর কেমন যেন একটু অদ্ভুত হয়ে গেছি আমরা!

কিন্তু…

আমরা একসঙ্গে আছি, আর একসঙ্গেই সব সামলাবো।

হ্যাঁ।

-ভালোবাসি। -আমিও।

-শুনতে পাচ্ছো না? -কী? -টপটপ শব্দ আসছে, শোনো!

শোবার ঘরে কি কিছু চুঁইয়ে পড়ছে?

-আমি গিয়ে দেখছি। -না, চিন্তা কোরো না। আমি জানি কী হয়েছে।

আমি যাচ্ছি।

-কী হয়েছিলো? -মনিটরটা ঠিকমতো লাগানো ছিল না।

কী হলো? ওটার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

-শুনলে? -কী?

-দরজার শব্দ হলো! -তুমি কি এখন কুকুরের মতো হয়ে গেছো?

মানুষের শব্দ আগেভাগে শুনতে পাও।

তুমি মানুষের শব্দ আগেভাগ শুনতে পাও। আজ খুব অদ্ভুত আচরণ করছো।

ওহ, আমি তো বদলানোরও সময় পেলাম না!

-হাই! বিউটিফুল পিপল! -বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মা কেমন আছেন?

ভালো। ক্লান্ত, কিন্তু অনেক খুশি।

চলো পরিচয় করিয়ে দিই। ক্রিস্টিনা, এ আমার ভাবী।

-হাই! অভিনন্দন! -ধন্যবাদ। দেখা করে ভালো লাগলো। আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই জানতে পারলাম, তোমরা একসাথে আছো।

আমাদের রিলেশনের খুব বেশি দিন হয়নি, পরে সব বলব।

ওহ, অগোছালো অবস্থা দেখে কিছু মনে কোরো না। বাসা বদল আর বাচ্চার কারণে—

সব এলোমেলো হয়ে আছে। এখনও জিনিসপত্র গুছানো, আসবাব রং করা বাকি…

-সমস্যা নেই। আমার ঘর এর চেয়েও খারাপ। -আচ্ছা, কায়েতানিন কোথায়? আমরা ওর জন্য একটা উপহার এনেছি।

কায়েতানিন… ঘুমাচ্ছে।

আর তোমার ভাই লিভিং রুমে বসে ওয়াইন খাচ্ছে।

হাই, দেশের সবচেয়ে ব্যর্থ বাবা কেমন আছো?

-হাই! -ক্রিস্টিনা, এ আমার ভাই, যীশু।

তোমার সঙ্গে দেখা করে ভালো লাগলো! কী হলো? এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন?

ও বিরক্ত আর খানিকটা দুর্বল লাগছে। আজকেই কেনা টেবিলটা ভেঙে ফেলেছে।

গ্লাস ভেঙেছে আর দেখো, হাত কেটেছে।

-এই দেখো, কী তছনছ করেছে! -এত বেশি কেটেছে?

-কিছু না, এটা... -আর বাচ্চা?

-কী হয়েছে ওর? -এসব দেখে নিশ্চয়ই ভয় পেয়েছে।

হ্যাঁ... কিন্তু ও ঠিক আছে। ঘুমাচ্ছে।

এখনো একটু রক্ত লেগে আছে।

হ্যাঁ, চারপাশে ছিটকে গিয়েছে। আমি পরিষ্কার করে ফেলবো, এই তো।

এটুকুই?

দাগ না উঠলে, নতুন কাভার লাগাতে হবে!

-রক্তের দাগ একেবারে বিরক্তিকর। -হুম।

আমি শুনেছি টুথপেস্ট দিয়ে ওঠানো যায়।

একটা ক্রাইম ডকুমেন্টারিতে দেখেছিলাম।

হ্যাঁ, খুনিরা এভাবেই পরিষ্কার করতো।

কাউকে খুন করলে জানা দরকার, তাই না?

তুমি একেবারে পাগল।

আচ্ছা, টেবিলটা কেমন লাগছে?

আমি টেবিলের ব্যাপারে তেমন জানি না।

লজ্জা পেয়ো না, ক্রিস। যা মনে হয়, তাই বলো।

-অতটা সুন্দর না। -দেখলে? আমি বলেছিলাম!

তুমি কল্পনাও করতে পারবে না, এই অভাগা টেবিল নিয়ে কী ভয়ংকর ঝগড়া হয়েছে!

-তাই বলে এখনো মুড অফ? -আরে, একটা টেবিলের জন্য এমন করো না!

আজ তো খুব ন্যাকামো করছে।

সেন্সিটিভ হয়ে গেছে, দুর্বলও লাগছে।

আমরা তো এসেছি মজা করতে, সব খারাপ ব্যাপার ভুলে যাওয়ার জন্য।

আচ্ছা, আমার কায়েতানিন কোথায়?

আমি বাজি ধরে বলতে পারি, ওর প্রিয় চাচাকে দেখার জন্য মুখিয়ে আছে!

-এখন না, ও ঘুমাচ্ছে। -একটুখানি, একটু আদর করব।

-পরে করো। -আমি চাই ক্রিসও ওকে দেখুক।

-আমি নিজেই ঢুকতে পারছি না। -ওকে ঘুম পাড়াতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

ধীরে ঢুকি, কোনো শব্দ করব না, কেমন?

বাচ্চাদের ঘুমানো দেখতে ভালো লাগে! আমরা ওর জন্য একটা উপহারও এনেছি!

আরে, এটার কোনো দরকার ছিল না!

আমাদের সবই আছে।

ওহ, দ্যাখো! কী সুন্দর!

আর সাথে ম্যাচিং টুপিটাও! ভীষণ মিষ্টি!

আমার দাদী বানিয়েছেন, উনি এসব ভালোবাসেন।

চলো, ওকে পরিয়ে দিই। দেখি কেমন লাগে! দেখো!

আর এই টুপিটা! দেখো, টুপিটা দেখো, দেখো!

ধুর, বললাম তো, এখন না, ও ঘুমাচ্ছে!

এই, শান্ত হও, ভাই।

কী হলো? তুমি বিরক্ত হও আর যা-ই হও, কমসে কম ভদ্র হও।

-সরি। -আমি খুব খুশি।

তুমি তোমার মেজাজ দিয়ে সেটা নষ্ট কোরো না।

ক্রিস্টিনা, তুমি কি বাচ্চার রুম দেখতে চাও?

ঠিক আছে, যদি আপত্তি না থাকে... নয়তো অন্য কোনদিন দেখে নেবো।

-ঠিক আছে? -আমরা কি বাচ্চার ঘরে ঢুকতে পারি?

-অবশ্যই। -চলো, যাই।

ঐ একটা রুমই পুরোপুরি গোছানো।

বাকি সব রুমের অবস্থা দেখো তো...

কী হলো? সামান্য একটা টেবিলের জন্য এটা হতে পারে না!

না কি ওই প্রতিবেশীর জন্য? ও এখনো তোমাকে বিরক্ত করছে?

আমি বলেছিলাম রিপোর্ট করো, পাগল মেয়ে একটা!

কীভাবে করবো? ওর বয়স মাত্র ১৩!

-তাতে কী? ও পুরো পাগল! -ভুলে যাবে, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।

কী হয়েছে বলো, জানো তো, তোমার জন্য আমি সব করবো।

কিন্তু আগে বলো কী হয়েছে।

কিছু না। তুমি বেডরুমে যাও।

আমি পরে বলবো।

না, বলতেই হবে। আমি এখান থেকে যাব না যতক্ষণ না বলছ।

তোমার চেহারা দেখেছো?

চলো।

-এটা কী? -মুরগি।

ভীষণ মিষ্টি! কী সুন্দর একটা গান!

-খুব সুন্দর জায়গা, মারিয়া। -হ্যাঁ।

এই খেলনাগুলো সব যীশুর ছোটবেলার, এখনো রেখে দিয়েছে।

অসাধারণ!

এই ছবিটা? তোমাদের তিনজনকে খুব সুন্দর লাগছে।

হ্যাঁ, যখন ক্লিনিক থেকে ফিরেছিলাম।

সেদিন যীশু কেঁদেছিল।

কি দারুণ ছবি!

-চোখগুলো দেখো, টমেটোর মতো লাল! -হ্যাঁ!

দেখো, আমি খুব কমই তোমার ভাইকে কাঁদতে দেখেছি!

ও কার মতো হয়েছে?

-ওর বাবার মতো, তাই না? -সত্যি? জানি না।

-চলো, খেতে বসি? -জান, বাচ্চাটা কার মতো হয়েছে?

ছেলে দেখতে শাহরুখ খান, বাপ কেন জায়েদ খান।

আরে বাল, হাসো তো!

- দুজনের চেহারা এক না? - সেম সেম বাট ডিফারেন্ট।

বাবুটা তোমার মতোই দেখতে, যীশু! বড় হয়ে বাবার মতো ঝাক্কাস হবে!

ধন্যবাদ।

ওইত্তেরি, হি-ম্যান!

হি-ম্যানটা আবার কী জিনিস?

রাফায়েলার মতো লাল চুলওয়ালা পুতুল।

এখনকার হিসেবে সেরা পুতুল বলতে পারো।

আমি বাচ্চাকালে মনস্টার হাই দেখতাম বেশি।

ডায়াপারটা দেখছো?

শুয়োরটা কখনো ধরতে দিতো না আমাকে!

বাচ্চাকালে একবার ওর কঙ্কালের পা ভেঙে ফেলেছিলাম,

শুয়োরটা আমার সাথে ৬ মাস কথা বলেনি। - অবিশ্বাস্য! - আরে সত্যি!

পুতুল পেলে আমাকে চিনতোও না!

দিনগুলো খুবই সুন্দর ছিলো!

- আহ! - কী?

নিনজা কচ্ছপ! উফফ...নস্টালজিয়া!

ঘরটাকে আশির দশকের আদলে সাজিয়েছ। আমার খুব পছন্দ হয়েছে।

সত্যিই আমি যেন বাচ্চাকালে হারিয়ে যাচ্ছি!

সবই আমার চুজ করা, পেইন্টিংটা শুধু যীশু করেছে।

এজন্যই এতটা প্রাণবন্ত লাগছে।

ঘরটা যীশুর খুব পছন্দের।

এজন্য অনেক সময় নিয়ে কাজগুলো করেছে।

খুব এক্সাইটেড ছিলো ও!

- ঠিক কতদিন লেগেছিল শেষ করতে? - গুনিনি। অনেকদিন।

আসলেই। কেবল এই ঘরটাই ক্লিয়ার হয়েছে।

আমাকে কথা দিয়েছিলো, বাবু আসার সাথে সাথে ক্লিয়ার করবে।

করেও দেখিয়েছে।

রঙ, লাইট, খেলনা...

...এককথায় অসাধারণ!

কেয়েতানিন হেসেখেলেই বেড়ে উঠবে এখানে! সত্যিই!

হেই! হেই!

শুয়োর!

এই স্পেসশীপটা তো আমার! চুরি করেছ, হাহ!

জানি না যথেষ্ট হবে কি-না,

তবে 'দুজনে'র কথা ভেবে,

ডেকোরেট করেছি।

-আরে! 'দুজন' মানে? আরেকজনের পরিকল্পনাও শেষ? -কেয়েতানিনকে দেখি কয়েকদিন,

তারপর ভেবে দেখবো।

এখনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

আমার মনে হয় না, সময় ক্ষেপণ করা ঠিক হবে।

বলেছিলাম, বাচ্চা নিস না!

কার্লিস্ট যুদ্ধকালে এক জেনারেল...

নাভারার এক বিধবার ঘরের সামনে এসে নামলেন।

খুব খিদে নিয়ে। কিন্তু সেই বিধবাও ছিল গরীব।

ঘরে খাবার বলতে কেবল ডিম, আলু আর পেঁয়াজ ছিল।

- প্লেটটা এদিকে দাও। - ধন্যবাদ।

- পানি খাবে? - হ্যাঁ। ধন্যবাদ।

বিধবা ভাবলো এগুলো দিয়েই কিছু একটা বানাবে।

ভাগ্যক্রমে সেই জেনারেলেরও এটা পছন্দ হয়ে গেলো।

বানানোর উপকরণ খুবই সহজ হওয়ায়,

জেনারেল পরবর্তীতে সেই রেসিপিটা লক্ষাধিক সেনাদের খাওয়ালো।

সেখান থেকেই মূলত স্প্যানিশ অমলেটের জন্ম।

বেশ নলেজ আছে তোমার।

আরে ধুর, উইকিপিডিয়ায় পড়েছিলাম।

- তবুও! - স্প্যানিশ অমলেট আমার খুব ভাল্লাগে।

খেতে খুবই ভালো। নিবে নাকি একটু?

ধন্যবাদ। কিন্তু আমি খাবো না। ইভেন কার্লোসও না।

ক্রিসের প্রতি ভালোবাসা আমাকে নিরামিষাশী বানিয়েছে।

তবে আমারও স্প্যানিশ অমলেট পছন্দ।

- খাবার কিন্তু মজা হয়েছে, মারিয়া। - রুটির প্লেটটা এদিকে দেবে প্লিজ।

হুমাস আর জলপাইটাও দারুণ!

হেই, তুমি কিছু খাচ্ছো না ক্যান?

বলছও না কিছু। খাবারে আঁকিবুঁকি করছো।

খিদে নেই।

অমলেটটা খাও কমপক্ষে।

মদ খেলে তুমি প্রচুর নাক ডাকো।

তোমার নাক আর বাবুর কান্না, আমার ঘুমের তেরোটা বাজায়।

কার্লোসও সেইম।

শুরু করলে থামার নামই নেয় না।

ভালো না?

খাবার ভালো। শরীরটা খারাপ লাগছে।

- জ্বর হয়েছে? - না। এমনি।

মনে তো তাই হচ্ছে। ঘেমে চিপচিপে হয়ে আছো।

নাকি কাটা হাত ব্যথা করছে? পরিষ্কার করেছ ঠিকমতো?

হ্যাঁ করেছি। পেরেশান হয়ো না।

মদ ছেড়ে খাবার খাও। তোমার লাগবে?

না। না। ধন্যবাদ। আমি মদপান করি না।

বাবা হবার সাথে দায়িত্বও বেড়েছে, তাই বোধহয়।

বাবা-মা হবার পর কেমন লাগে?

মানে কীরকম অনুভূতি?

সত্যিই দারুণ।

আমার এক বান্ধবী বাচ্চা হবার পর বলল,

সে বাচ্চাকে অন্যসবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসে।

স্বামীর থেকেও। ইভেন মা-বাবার থেকেও।

সত্যিই, মুহুর্তের মধ্যে...

একটা বাচ্চাই পারে সব ভালোবাসা নিজের দিকে টেনে নিতে।

- ঠিক না? - আমি জানি...

আমি জানি কেন এমনটা হয়।

তোমার ব্যাপারে বলো।

আমি যীশুকে খুব খুব ভালোবাসি।

কিন্তু আমার ছেলে...

আমার ছেলেই আমার জীবন।

ওকে ছাড়া সবকিছুই এখন অর্থহীন মনে হয়।

ওর অস্তিত্বই যেন আমার অস্তিত্ব।

বুঝতে পারছি না কীভাবে বোঝাবো।

বুঝে নিয়েছি। হাহা।

তুমিও না!

তিতা হলেও সত্যি, মারিয়ার ভালোবাসার লিস্টে...

- তুমি এখন দুই নাম্বারে আছ। - ওহ...

- সত্যিই! - তবে ক্রিসের লিস্টে...

- আমিই এক নাম্বারে অবস্থান করছি। - মারা খাও।

- এহ! - না!

- তাহলে, দুই নাম্বারে? - আমার মা এক নাম্বারে।

- অবশ্যই। অবশ্যই। - তারপর, আমার চার ভাইবোন,

ওদেরকে আমি খুব ভালোবাসি।

তারপর আমার বাবা,

দাদা, দাদি, কারমেন, মন্টসে,

তারপর আমার বাচ্চাকালের এক বন্ধু।

শেষে আমার চাচা।

এরপর তুমি।

কার্লোস, তুমি তেরো নাম্বারে। সেরা দশেও জায়গা হয়নি।

তেরো নাম্বার?

তোমার চাচারও নিচে আমি।

আহ কপাল।

মন খারাপ কোরো না। আমার কথায় উঠলে-বসলে, তোমার প্রোমোশন করিয়ে দেবো।

আমার মরহুম দাদি মার্সিডিজকে,

আমি সেরা পাঁচে রাখবো।

- মার্সিডিজ তোমার দাদি লাগে? - চেনো নাকি?

হ্যাঁ চিনি তো। আচ্ছা, শুয়োর, এবার তুমি বলো।

তোমার সেরা পাঁচজন কারা?

মৃতরা সহ।

আসলে, আমি...

মারিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।

আহ...

বাবুর চেয়ে তুমি আমায় বেশি ভালোবাসো?

দুজনকেই বাসি।

ঠিক আছে, কিন্তু বাবা হিসেবে সন্তানকেই তো বেশি ভালোবাসা দরকার।

ঠিক বলিনি? তোমাদের মতামত কী?

মারিয়া, তার কথা শুনে যেটা বুঝলাম...

সে কিস চাইছে।

কিস! কিস! কিস!

- কিস! - ওহ, রুমে যেয়ে কর না!

এবার চিয়ার্স করা যাক।

ভালোবাসার নামে, তোমাদের বাবুর নামে,

যেটা তোমাদেরই ভালোবাসার ফসল।

দারুণ! দারুণ!

এই হল ফেমাস রেরেট টেবিল,

যা ব্রোঞ্জের রঙে রাঙানো, কখনো টুঁটবার নয়।

হাতির দাঁতের তৈরি দুজন সেক্সি মামণি দুপাশ আগলে রেখেছে।

পারফেক্ট সিটি গোল্ডে টসটসে।

আপনজনদের সাথে বসে,

এক কাপ কফি খেতে খুবই আরামদায়ক।

এই চাকচিক্যময় টেবিলটি আপনাদের জীবন

বদলে দেবে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

আপনাদের সংসারে বয়ে আনবে অনাবিল সুখ আর শান্তি।

অমলেট খাবে না তাহলে?

না করতে খারাপ লাগছে, কিন্তু সত্যিই নিরামিষাশীরা ডিম খায় না।

- আসলে... - ফালতু জোক মারবে না একদম!

হাম আর সসেজ মিস করো না?

শুরুতে প্রচুর মিস করতাম,

এখন সয়ে গেছে।

এটাকে প্রাণীদের পক্ষে প্রতিবাদও বলতে পারো।

সেভ দ্য এনিমেলস!

- তুমি কিন্তু ওর দেখাদেখি নিরামিষাশী বনেছ। - হ্যাঁ। তা ঠিক।

সে বলল আর আমি বনলাম।

এখন সে যদি আমাদের মেরে ফেলতে বলে?

ধরে নাও তোমরা মরে গেছ।

আমি আর আমার নেই।

সে আমাকে ল্যাংটা হয়ে নাঁচতে বললেও আমি নেঁচে বেড়াবো।

চিন্তা নেই, কেয়েতানিনকে কিছু করবো না। শুধু তোমরা দুজন।

- কেয়েতানিনকে আমরা পালবো, তাই না? - হ্যাঁ। হ্যাঁ।

তখন আমরা চারজন হয়ে যাবো।

চারজন?

মুখ তো নয় যেন ঢোল। বলেছিলাম না এখনই কাউকে বলা যাবে না।

- কী? - একদম চুপ!

আসলে তোমাদের দেখাদেখি আমারও শখ জেগেছিল...

বাবা হতে চলেছি আমি!

- দেখো! দেখো! - তোমরা চাচা-চাচি হচ্ছ।

কেয়েতানিন তার কাজিনের সাথে খেলা করতে পারবে।

- মেয়ে! - আজ ডাক্তার দেখিয়েছি।

- বলেছে মেয়ে হবে। - ওহ, অভিনন্দন!

- নাম রাখবো কেয়েতানা। - না, একদমই না।

- একদমই না। - হ্যাঁ।

কী হলো? চুপ হয়ে গেলে যে?

- তেমন কিছু না... - আমার স্বপ্ন ছিল ইয়ং মা হব।

মিথ্যা বলবো না। বাচ্চা নেবার প্লানটা আগ থেকেই করা।

জানোই তো আমি কতটা আনলাকি।

কিন্তু জীবনে প্রথমবার নিজেকে লাকি মনে হচ্ছে।

একই সাথে চাচা এবং বাবা হবার অনুভূতিটা সত্যিই সুন্দর।

কীযে বলে...

সোনা তুমি কিছু বলো, তোমার ভাই বাবা হতে চলেছে।

কিছু বলার নেই।

কী হয়েছে?

বললাম আমি বাবা হতে চলেছি,

আর তোমার কিছুই বলার নেই?

এখনো ওই বালের টেবিল নিয়ে ভাবছ?

আরে কিছু তো বলো!

তোমার আঠারো বছরের গর্ভবতীকে নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।

তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো,

নিজের জীবনকে এভাবে ধ্বংস করা।

আর আমার ব্যাপারে যদি বলি,

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো ওই টেবিলটা কেনা।

তিতা হলেও সত্যি!

ওয়াশরুমে যাচ্ছি।

বলতে পারি না ওর কী হয়েছে! সত্যিই! আইএম সো সরি!

অবাক হলাম।

সত্যিই অবাক হলাম।

- আইএম সরি। - না, সমস্যা নেই।

যাকগে। আমি গিয়ে কথা বলি।

তোমরা থাকো। এক্ষুনি আসছি।

মারিয়ার সাথে গল্প করো।

গল্প করো তোমরা।

সত্যিই আমি সরি!

সোনা, এই ভয়েসটা যখন তুমি শুনছ, তখন আমি দুনিয়াতে নেই।

আমি আমার ছেলের হত্যাকারী!

যেভাবেই ঘটুক, পরিশেষে আমি একজন হত্যাকারীই।

এই দাগ নিয়ে আমি বাঁচতে পারবো।

তোমাকে সরাসরি বলার সাহস আমার নেই।

পাশাপাশি তোমাকে কাঁদতে দেখার মতো...

তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার হোক চাই না।

তোমার সুন্দর জীবনটাকে নরকে পরিণত করার জন্য,

জানি না তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে কিনা।

আই লাভ ইউ।

ভালো থেকো, সোনা।

পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও।

ভয়েসটা কার জন্য?

অতিরিক্ত মদ না খাওয়াটাই বেটার।

এক গ্লাসই। নইলে মাথা ধরে যাবে।

- চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। - অদ্ভুত।

বালের টেবিলটার জন্য দফায় দফায় ঝগড়া,

এখন সেটা ভেঙে যাওয়ায় আবার রাগারাগি। ভাল্লাগে না ধুর।

চিন্তা কোরো না। আশা করি সন্ধ্যার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

দেখো তুমি।

দেখতেই কেন হবে?

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না।

মাথা নেই।

কাঁচে লেগে...

মাথাটা কোথায়?

সোফার নীচে। ধরার সাহস পাইনি।

আমি আত্মহত্যা করতে চাই।

ভাবতে দাও যীশু!

ভাবতে দাও৷ বকবক বন্ধ করো।

এই কষ্ট সহ্য হবার নয়। আমি মরতে চাই।

ভাবতে দাও আমাকে।

ডিস্টার্ব কোরো না।

ভাবতে দাও আমাকে।

আমি।

- বলো। - কিছু হলো?

চিন্তা কোরো না। সব ঠিক আছে। - বাবু এখনো ঘুম? - হ্যাঁ।

- ঠিক আছে। - প্লীজ, ক্রিসকে একা ছেড়ো না।

আমি চাইনা এসবের প্রভাব ওর উপর পড়ুক।

আচ্ছা, দশ মিনিট পরে বাবুকে দুধ খাওয়ানো লাগবে।

ঠিক আছে।

আমরা দশ মিনিটের মধ্যেই ফিরছি।

প্রায় ঠিক করে ফেলেছি সব।

ঠিক আছে। ধন্যবাদ।

শব্দ কোরো না একদম প্লীজ।

- ঠিক আছে। করবো না। - বাই।

আগামী দশমিনিটের মধ্যে মারিয়া সব জানতে পেরে যাবে।

এমন কী করতে পারি, যাতে তার কষ্ট কম হয়?

কিছুই করার নেই।

আমার জায়গায় যদি তুমি থাকতে, তাহলে ক্রিসকে কীভাবে ম্যানেজ করতে?

হুম?

বিপদ কাউকে বলেকয়ে আসে না, যীশু!

জ্ঞান দেয়া বন্ধ করো।

- আমি মরতে চাই। - এসব বোলো না, যীশু।

আমরা এখন টেবিলে যাবো।

তুমি শুধু চুপ থাকবে। বাকিটা আমি সামলাবো।

মারিয়াকে যা বলার আমি বলব।

এটা জানা মারিয়ার অধিকার।

তবে মারিয়াকে মাথাহীন বডি দেখানো যাবে না।

কোনোভাবেই না।

আর তুমিও দয়া করে আজেবাজে বকা বন্ধ করো।

মারিয়ার তোমাকে প্রয়োজন।

মারিয়া আমার মুখটাও দেখতে চাইবে না।

- হাই রুথ। - হাই মারিয়া, যীশু আছে?

আছে তবে একটু ব্যস্ত, মামণি।

তার সাথে কিছু কথা ছিল।

তার সাথে?

- আপনাকে কিছু বলেছে? - কোন ব্যাপারে?

আপনাদের দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলার আছে, আসতে পারি?

কোন ব্যাপারে?

ভেতরে এসে বলতে চাই।

আজ না। কাল এসো।

কথাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।

শোনো রুথ, আজকে না।

কাল এসে তোমার যত গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে সব বোলো।

বোঝাতে পেরেছি? সরে যাও ব্যথা লাগবে।

তোমার স্বামী আমাকে কিস করেছিল।

রুথ এসেছে। বলল...

তুমি নাকি তাকে কিস করেছিলে!

কথাগুলো তুমি বলবে নাকি আমি শুরু করবো?

বলে ফেলো। তোমার মুডের সাথে কানেকশন বোঝাই যাচ্ছে।

বলে ফেলো যীশু!

তুমি বললে বেশি ভালো হবে মনে করি।

যীশু, আমাকে সব বলো।

যীশু, মনমেজাজ এমনিতেই ভালো না।

তুমি আরও খারাপ করে দিও না দয়া করে।

এই বাল! তোর কুকুরের ঘেউঘেউ বন্ধ কর!

কুকুরটাকে ধরো!

কেউ আমাকে বলবে এখানে হচ্ছেটা কী?

হচ্ছেটা কী এখানে!

কুকুরটার মুখে রক্ত কেন?

কী লুকাচ্ছ কার্লোস?

কাটা মাথা!

কাটা মাথা?

ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাও, মারিয়া।

ক্রিস, মারিয়াকে ফ্ল্যাটের বাইরে নিয়ে যাও।

এক্ষুনি। এক্ষুনি।

কেউ তো কিছু বলো?

যীশু?

মারিয়া প্লীজ ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাও।

বলবো। সব বলবো কিন্তু এখন না।

দেখাও আমাকে! দেখাও!

দেখাও!

না, তোমার দেখা ঠিক হবে না।

বেরিয়ে যাও। পরে সব খুলে বলবো।

- বেরিয়ে যাও প্লীজ! - দেখাও আমাকে! কার্লোস দেখাও বলছি!

দেখাও আমাকে! দেখাও!

পরিস্থিতি বলো। মার্ডার নাকি সুইসাইড?

বলতে পারি না। তবে যা ঘটেছে হতাশাজনক।

- পারিবারিক ঝগড়া? - মনে হচ্ছে না।

স্বামী-স্ত্রী বারান্দা থেকে পড়ে মারা গেছে।

সাথে তাদের সদ্যোজাত বাচ্চাও।

- বাচ্চাটির মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল! - বিচ্ছিন্ন?

- মাথাটা মায়ের বাহুতে ছিল! - আরে শালা!

সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়েছ?

১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়েছে।

আর একজন গর্ভবতী নারী শকের কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সে ভিকটিমের ভাই। তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি...

সেও শকে আছে আর বারবার একই বুলি আউড়াচ্ছে।

“কফি টেবিল।”

অনুবাদক: মোহাম্মদ সায়েম, আতিফ মাহমুদ আরিফী, ওয়াসিফ মামুন শুভ, জাহিদ হাসান।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.