All language subtitles for Tholi Prema (1998) Telugu Bsub by Mahir Munim.srt

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

"ব্লকবাস্টার সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারস্‌ বাংলাদেশ গ্রুপ- এ আপনাকে স্বাগতম"

সাবটাইটেলটির অনুবাদক:- Mahir Munim www.facebook-twitter.com/itzmunim এটি আমার তৃতীয় বাংলা সাবটাইটেল।

- আমি খুব অস্বস্তিবোধ করছি - কেনো এমন চিন্তা করছিস?

ডিস্কো মানে কেবলমাত্র যুগলদের জন্য বোঝানো হয়, আমাদের কি ছেলেদের ছাড়া ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেবে?

এটা কোনো সমস্যা না। রিসিপশনে ভাড়া দিয়ে অনেক ছেলেদের পাওয়া যায়।

- আমরা সেখান থেকে যে কোনো ছেলেদের নির্বাচন করে সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারবো। - ওয়াও এটা একটি অদ্ভুত ব্যাপার হবে!

- আপনাদের কতো জন ছেলের প্রয়োজন? - প্রথমে ছেলেদেরকে ডাকুন। আমরা তাদের দেখে তারপর বলবো।

কামলাকেও তো নির্বাচন করা উচিৎ

তোমাকে ডাকা হয়েছে, ভেতরে যাও, যেতে বলছি না...

আমাদের ছেলেরা যতদূর জানি তারা পাগলদের মতো নাচানাচি করে না।

আপনি কাকে নির্বাচন করবেন?

আমাদের বালু? বালু... চলে আয়

বালু, তুই পালিয়ে যাচ্ছিস কেনো?

- বাবা, তুমি কীভাবে এখানে আসলে? - বোকা! এমনকি সকাল ৬ টা অবধি ঘুমাস?

আমি কি ঘুমাচ্ছি? আপনি রাবিশের মতো কথা বলছো কেনো?

বোকা। আমি সাইরেনের মতো চিৎকার করছি। তুই এখনও ঘুমাচ্ছিস?

সকাল ৬ টা বাজে। তোকে জাগানো কি আমার উচিৎ? ওঠ, বলছি

হায় খোদা! আমাদেরকে রক্ষা করো।

এই যে সাধু ভাই! আপনাদের এইসব কাহিনীর মানে কী? আপনারা দুই ভক্তিমণ্ডলীর কাছে আমি হয়ে গেছি বলির পাঁঠা।

নিরাপদে পৌঁছানোর পরে একটি চিটি দিস। আমার প্রভু শিব! আমাদের ত্রাণকর্তা!

''মা তোমায় সালাম''

- আজকে হচ্ছে শিবরাত্রি। নেয় গায়ে মেখে পবিত্র হয়ে যা। - আমি এই সব পছন্দ করি না, তুমি জানো না?

- এটা শুনলে তোর বাবা তোকে ধমকাবেন। - আমিও ধমকাবো

এদিকে তাকাও, তোমার স্বামীকে তুমি ভয় পাও, কিন্তু আমি পাইনা। বুঝেছো ব্যাপারটা?

- কী হয়েছে? - কিছু না বাবা, আজকে হচ্ছে "শিবরাত্রি", তাই না?

আমি মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করছি যে, আমাকে কোন কোন শ্লোক পাঠ করে ঈশ্বরের প্রশংসা করা উচিৎ।

কে এটা কপালে লেপন করবে?

গাধার বাচ্চা গাধা

ভক্তি হৃদয় থেকে আপনাআপনি উদয় হওয়া উচিৎ, এটা কারোর বল প্রয়োগের মাধ্যমে আসে না।

আমি বড় চাচার একজন উত্তরাধিকারী, তুমি জানো না? আমি একজন নাস্তিক। বুঝেছো?

- তোর বড় চাচার? - হ্যাঁ

যা উনাকে গিয়ে দেখ

- হে সিমহাদ্রি আপ্পান্না! - বড় চাচা!

তুমিও বদলে গিয়েছো? আমরা উনার ছেলে হিসাবে উনাকে ভয় করি। তুমি কেনো ভয় করো উনাকে?

তুমি হচ্ছো বাবার বড় ভাই, তাই না? তার উপর, তুমি একজন এক্স-কর্নেল।

এরকম না রে বাবা।

তোর বাবা আমাকে পিতার মতো এবং পরিবারের প্রধান হিসাবে সম্মান করে।

তাই, আমি আমার সমস্ত ইচ্ছাকে সিন্ডিকেট ব্যাংকের একটি লকারে তালাবদ্ধ করেছি।

এটা বাদ দাও তো।

আমি একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি। ছেলেদের জন্য মেয়েরা লাইন ধরেছিলো, চাচা।

- তুই কি পাগল? - আমি যদি পাগল হই তাহলে তুমি হলে একজন দালাল।

তুমি হচ্ছো একজন মেয়েদের জোগানদার।

তাদের মধ্যে একটি সুন্দর মেয়ে আমাকে ছেয়েছিলো, চাচা।

- কী ঘটেছিলো? সে কি তোকে বুকে জড়াইয়া ধরেছিলো? - তা আর হলো কোথায়। মধ্যখানে বাবা এসে ব্যাঘাত ঘটালেন।

- সেখানেও সে? - হ্যাঁ, চাচা। আমি যেখানে যাই, তিনিও সেখানে চলে আসেন।

তোর বাবার মেজাজ গরম দেখেছিস কিন্তু সে তোকে কতো ভালোবাসে, সেটা কি তুই জানিস?

প্রতিদিন এই উপাসনার ব্যাপারে তুই কী জানিস?

তোর জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে একটা নতুন ইয়ামাহা বাইক, তুই কি দেখেছিস?

বাইক!

আমাকে বাইকটি কিনে দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বাবা।

তাই নাকি

তোমার বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং করেছিলো। আমি তার জন্য এমনকি একটি সাইকেল কিনে দেই নি।

দ্বিতীয় ছেলে এমসিএ পড়ছে, আমি তার জন্য এমনকি একটি "TVS 50" কিনে দেই নি।

তুমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে, এখন "বিএ"তে যোগদান করেছো।

শুধুমাত্র ঈশ্বর বোধয় জানেতেন, তুমি "বিএ"তে যোগদানের উপলক্ষে এই বাইকটা পাবে।

আমাকে আন্তরিকভাবে বলো তো,

তোমার কি সত্যি সত্যি একটি বাইকের প্রয়োজন?

বাইকটা তোমার জন্য কেনা হয় নি। এটা পারিবারিক কাজে ব্যবহার করার জন্য কেনা হয়েছে। যাও।

বাইকের চাবিটা দেয় তো।

ভাইয়া

বলছি না, চাবি দিতে।

বালু

দাঁড়া তো

আমি চাই না।

দাঁড়া।

- বলছি না দাঁড়াতে? - না।

দাঁড়া। তুই আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না?

- আমার কথা শুনবি না - না

এদিকে তাকা, কেনো তুই তোর বাবার কথায় মন খারাপ করছিস?

আমি তোর জন্য, আমার প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা তুলে এই বাইকটা কিনেছি। হ্যাঁ।

সত্যি চাচা?

আমি চেয়েছিলাম তোর বাবার হাত দিয়ে তোকে এটি দিতে।

সে এটা দেখে হাসছিলো।

তোমাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ, বড় চাচা।

তুই হচ্ছিস আমার উত্তরাধিকারী।

যদি তুই এটাতে আজেবাজে স্টিকার লাগিয়ে সার্কাস বাইকের মতো করিস...

...তাহলে আমি এটা পুরনো লোহার দোকানে কেজি হিসাব করে বিক্রি করে দেবো।

- আমি যদি তোমাকে ঠকাই তাহলে তুমি আমাকে কী করবে? - আমি জানি তুমি এটা করবে।

সেজন্যই আমি তোমার বোনের কাছেও ভালোবাসার চিঠি লিখেছি

মালা দেওয়া! পূজা করা! আজেবাজে কথাবার্তা!

জোসেফ, কালেকশন কতো হয়েছে?

কালেকশন কিছুই হয় নি, বালু আমার বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে সংগ্রাম করা উচিৎ।

- সুব্বু! আমাদের বন্ধুবান্ধব কেউ আসেনি?

বালু, তাড়াতাড়ি ভেতরে আয়

- কী হয়েছে? - ভেতরে আয়

- আমি তোকে বলছি না, ভেতরে আয় তাড়াতাড়ি - হয়েছে টা কী?'

কাহিনী আছে, ভেতরে আয়

বালু

এদিকে আয়

সে আসছে

তোমরা এখানে কেনো?

কী ঘটেছে, জানিস?

কী?

আমাদের শাকিলাকে তুই চিনিস?

শাকিলা কে?

- এল কোয়ার্টারে ডিএসপির মেয়ে। - হ্যাঁ, শাকিলা। তো কী হয়েছে?

আমাদের বজ্ঞু সুরিয়া রাও, তাকে লাভ লেটার লিখে দিয়েছে।

- ও খোদা! তারপর? - সে হয়তো তার বাবা মাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছে।

তারা আমাদেরকে মারার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছে। সেজন্যই আমরা এখানে লুকিয়ে আছি।

- কোথায় বজ্ঞু হারামজাদা? - দাঁড়া

উঠে আয়, হারামি

তোর কি কোন জ্ঞান-বুদ্ধি নেই? এটা করতে গেলি কেনো?

আমি যখনই তার দিকে তাকাতাম, সে আমার দিকে চেয়ে হাসতো, বালু।

- সে হয়তো তোকে জোকার ভেবে হাসতো। - তুই ভেবেছিস সে তোকে ভালোবাসে।

দাঁড়া, তারা এখন এসে, তোকে মেরে কিমাকিমা বানিয়ে ছাড়বে।

তোর বন্ধুত্ব রাখতে গিয়ে, আমাদেরকে এখন মরার ফাঁদে পড়তে হলো।

এই সালার দিকে তাকা, সে টেনশনের বদলে শরীরচর্চা করছে।

কীসের জন্য?

পালাবার জন্য আরকি।

আমি কিচ্ছু জানি না। যদি তারা আমাদেরকে মারতে আসে, তখন আমিও তাদের সাথে যোগ হয়ে তোকে মারবো।

- এইটা খুব ভালো উপায় বাঁচার। - সেজন্যই তো দিলাম।

দেখছিস বালু, তারা সবাই আমাকে নিয়ে মশকরা করছে।

এই চুপ থাক।

ডিএসপির মেয়েকে তার ভালোবাসা উচিৎ নয়, এমন নিয়ম আছে নাকি এখানে?

এই চিন্তা করিস না। আমি সব কিছু দেখে নেবো।

এই দিকে দেখ, শাকিলা আসছে।

দেখ এসে

- কী? - সে দেখতে খুব সুন্দরী।

দেখ তোর গায়ের রঙ আর তার গায়ের রঙ মিলিয়ে, বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াতে গেলি কেনো?

এটা এমন ভয়ের ব্যাপার না তারপরও তোরা ভয়ে ডুবে আছিস সে একাই আসছে, তুই দেখছিস? - হ্যাঁ

সে একটা পুলিশের মেয়ে। তারা তাকে প্রথমে পাঠিয়েছে যাতে আমরা তাকে ফলো করি, তারপর তারা আমাদেরকে মারবে।

বাইরে যেয় না রে।

চিঠি রে!

সুব্বু, আমার বন্ধুরা যা চায়, তাদের...

প্রথমে চিঠিটা পড়

এইটা হচ্ছে আমার জীবনের প্রথম লাভ লেটার রে বন্ধু।

জীবনে এইগুলো সব স্বাভাবিকভাবেই হয়।

প্রথমে চিঠিটা পড়

চিঠিটা পড়

বজ্ঞু হারামজাদা তো হিরো আলম থেকেও কম না।

তোকে জুতা দিয়ে মারবো!

এই কী হয়েছে তোর?

তুই কি তোর মুখ জীবনে আয়নায় দেখেছিস? এই মহান ইংলিশ লাভ লেটার লেখার কি দরকার?

সব লেখার মাঝে বানানের ভুর আর ভুল? তোকে এই উপদেশ কে দিয়েছিলো?

সে মরার আগে, তাকে প্রথমে মার।

কেনো তুই তাকে মারছিস?

যদি আমি চাইতাম তাহলে আমার বাবাকে বলে তোকে জেলে ঢুকিয়ে দিতাম, কিন্তু আমি এটা করি নি।

কেনো এটা করি নি তুমি জানো?

যদিও তুমি বিচ্ছিরির মতো দেখতে, তুমি তোমার ভালোবাসাটা আন্তরিকভাবে প্রকাশ করে, আমাকে মুগ্ধ করেছো।

আগামীকাল ইন্দিরা পার্কে এসো। তোমার জন্য আমি অপেক্ষায় থাকবো।

আমিও তোমাকে ভালোবাসি।

- চল - চল মানে কী?

আমি তোকে পরে বলবো, আগে বাইকটা চালা।

সিগনাল দেখছিস না

সিগনাল দিয়ে দেবে, বাইক চালা আগে।

যা...

হুট করে এসে বাইকে বসে তুই আমাকে বলছিস বাইক চালু করতে, কী এমন জরুরি?

আমি তোকে বলবো, আগে তাড়াতাড়ি যা...

কী এমন জরুরি?

- আমি খুব ভয়াবহ চিন্তার মাঝে আছি, তাড়াতাড়ি চালা। - এহ, মরার জন্য তাড়াহুড়ো করছিস!

ও খোদা! আমি জানি না সেখানে কী হয়েছে! আরো দ্রুত চালা।

- সিগনালের জন্য থামিস না, ওই দিকে যাও। - ও খোদা!

এখানে, থামা।

প্রিয়া চলে এসেছে।

ঊষা, টিকেট পেয়েছিস?

হ্যাঁ পেয়েছি।

সৌভাগ্য আমার! কতো অস্বস্তিতে ছিলাম আমি টিকেটের জন্য, তোমরা জানো?

বাসও সময় মতো আসে নি।

সময় মতো ওই বোকাটাকেও পেয়ে গেলাম, এখানে নিয়ে আসার জন্য।

তোমরা চেনো তাকে? সে আমার ভাইয়া

ভাইয়া সাবধানে বাড়ি ফিরে যাও। আমি পরে আসবো।

- বাড়িতে আয়, তখন না ট্যার পাবি। - এই যা তো।

হ্যালো, বড় চাচা।

হাই!

হাই চাচী।

কী ব্যাপার?

বড় চাচা ওখানে নীরব বসে আছেন আর তুমিও এখানে নিশ্চুপ।

তোমাদের সমস্যা কী?

আমার সঙ্গে কথা বলিস না।

তাহলে আমি চললাম।

গত সাপ্তাহে প্রতিজ্ঞা করেছিলি আসবি, আসলি না কেনো?

তাহলে এই ব্যাপার?

আমি আরো ভয় পাচ্ছিলাম অন্যকিছু নিয়ে।

দেখো, চাচী আম্মা...

যদি আমাকে প্রায়ই আসতে হয়, তাহলে আমার হোস্টেলে থাকা উচিৎ কেনো? আমি তো এখানেই থাকতে পারি।

জ্বী না, এটার দরকার নেই।

যদি তুই তোর বড় চাচা আর ভাইয়ের সাথে মিশে যাস, তাহলে তোর পড়ালেখার সর্বনাশ হবে।

তার চেয়ে ভালো তোর হোস্টেলেই থাকা।

তাহলে তুমি বোঝতে পেয়েছো?

চাচী আম্মা, এখানে আসো।

কী ব্যাপার?

দুইটা পাকা চুল, কেনো তুমি কালার করো না?

চুপ কর! যা স্নান করে নেয় আমি নাস্তা দিচ্ছি।

দীপাবলির আর দুই দিন বাকি, সকল কাজ পড়ে আছে।

বালু কোথায়?

সে স্টেশনে গিয়েছে, আজকে তোর বাবা মা আসছেন, জানিস না?

নমস্কার চাচা মিয়াঁ

কবিতার কী হয়েছে? আপ্পি, ন্যাকামো করিস না।

নমস্কার, চাচী আম্মা।

- কেমন আছো, দামু? - খুব ভালো।

- তোমার দাঁত গুলো এতো নোংরা কেনো? - না! আমি মেহেদি দিয়েছি দাঁতে, এটা এখনকের ফ্যাশন।

এটা মেহেদির রঙ না, এটা হচ্ছে মানিকচাঁদের গন্ধ।

আচ্ছা যাইহোক, তুমি কী বালুর কাছে এসেছো, কোনো ব্যাপারে?

আমি বালুর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়তে এসেছি।

পড়ালেখার প্রতি তোমার কতো আগ্রহ! বালুকে তুমি জিজ্ঞাসা করো না কেনো তোমার মতো পড়ালেখা করতে?

সে সবসময় তার বাবার কাছে বকা খায় এই ব্যাপারে।

আমি তাকে যে কতোবার বলেছি পড়ালেখার কথা! আমি তাকে সাইকুমারের বজ্র কণ্ঠস্বরেও বলেছিলাম।

কিন্তু সে কানেই নেয় না।

আমি সারাটা সময় পড়ালেখা নিয়ে বসেই থাকি।

যখনই আমি ফ্রি থাকি, তখন আমার বাবাকে একটু সাহায্য করি।

তোমার মতো ছেলে পেয়ে তোমার বাবা মা'রা খুব ভাগ্যবান।

আমি আসলেই সৃষ্টিকর্তার মার্কামারা দান।

তুমি এখানে কেনো এসেছো?

কতোবার তোমাকে বলেছিলাম, আমাদের কলেজ গেইটের আশেপাশে গোর্খার মতো ঘোরাঘুরি না করতে?

সে তোদের কলেজের গেইটের সামনে ঘোরাঘুরি করে? কেনো আবুলতাবুল বকছিস?

হ্যাঁ, চাচী আম্মা! সে এবং তার সঙ্গীদের নিয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে মেয়েদেরকে জ্বালাতন করে।

মন চাইছে ওর মুখে থুথু দিতে, কোনো লজ্জাশরম ছাড়াই সে আবার এগুলো বলছে।

সে ভাইয়ার বন্ধু বলে আমার মান ইজ্জৎ বলতে কিছুই রইলো না

- দামু এসব কী? - সে মজা করছে

কি মজা করছি! শ্রীকাকুলামে মেয়েরা তাদের জুতা দিয়ে তোমাকে মেরেছিলো, এটাও কি মজার করছি?

আরে না, এগুলোর তো সমাধান হয়ে গিয়েছে।

- সমাধান হয়ে গিয়েছে?! - হ্যাঁ।

দেখেছো চাচী আম্মা, সে স্বীকারও করছে।

কীভাবে ভাইয়া তার এই বন্ধুদের সাথে ভালো থাকবে?

দেখো, যদি তুমি আবার এখানে এসেছো তো...

এখানে থামো।

হাই দামু?

- কী হয়েছে তোর? - আমি অশুভ সময়ে চলে এসেছি।

- তারা কে? - চাচী এবং চাচা।

- ও আচ্ছা। নমস্কার - চাচী, সে আমার বন্ধু।

- ভেতরে আয় - বালু, দাঁড়া এক মিনিট!

- তোর বাইক কোথায়? - অনিল এটা নিয়েছে।

- আমাদের শেখর আত্মাহত্যার চেষ্টা করেছে। - ও খোদা!

- চিন্তা করিস না, সে এখন নিরাপদে আছে তার ঘরে। - চল যাই।

- বালু, কোথায় যাচ্ছিস? - চাচী, আমি তাড়াতাড়ি ফিরবো।

- সে ভালোই পড়ালেখা করতো, আমি জানি না তার কী হয়েছিলো। - শান্ত হও।

সে যদি পরীক্ষায় খারাপ করে তাহলে তার কি আত্মাহত্যা করা উচিৎ?

- চিন্তা করবেন না, কী হয়েছিলো? - আমার এখন কী করা উচিৎ?

সে মার্ক লিস্ট নিয়ে তার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।

ও খোদা! যদি কেউ পরীক্ষায় খারাপ করে, তাহলে তার আত্মহত্যার চেষ্টা করা উচিৎ?

চিন্তা করবেন না! সে এখন নিরাপদে আছে, তাই না?'

এই দিনে একটি পড়ালেখা জানরা ছেলে নিয়ে তোমার গর্ব করা উচিৎ।

বালু, একটু নিচে আয়, সে নিচে আছে।

এই সালা

তোর কি কোনো হুশ বুদ্ধি নেই? পরীক্ষায় খারাপ করেছিস বলে আত্মাহত্যা করবি?

যদি তুই মার্চ মাসে ফেইল করিস তাহলে তোর কাছে সেপ্টেম্বর মাস আছে, তাহলে এমন কাহিনী করলি কেনো?

- কী হয়েছিলো? - ভিসালা, আমার সাথে প্রতারণা করেছে।

পরের সাপ্তাহে তার বিয়ে।

তোর মাকে কি কিছু বলেছিস।

যদি তার মা এসব জানতেন, তাহলে তার আত্মহত্যার দরকার হতো না...

তিনি তাকে গলা টিপে মেরেই ফেলতেন।

- আমি তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। - তার কোনো দোষ নেই।

মেয়েটা তার সাথে আসতে প্রস্তুত, কিন্তু সে ভয় পায়!

তুই যদি তাকে কোথাও আসতে বলিস তাহলে সে কি আসবে?

তাহলে এটাই যথেষ্ট।

তোর বিয়ে আগামীকাল ভেনকাটেস্বরের মন্দিরে হবেই।

- তোর প্রেমিকাকে সেখানে আনার দায়িত্ব আমার, ঠিক আছে? - অসংখ্য ধন্যবাদ, বালু।

যদি কেউ পরীক্ষায় খারাপ করে, তাহলে তার আত্মহত্যার চেষ্টা করা উচিৎ?

সে একজন খুব ভালো ছেলে, সে এমন করতে গেলো কেনো?

থু

এখন কোথায় যাচ্ছিস?

এই সময় কোথায় যাচ্ছিস?

আমি কী তোকে কিচ্ছু জিজ্ঞাসা করছি?

সেখর সকালে বিয়ে করবে।

- তাতে কী? - বিয়ের জন্য সেখানে একটি কন্যার দরকার হবে না?

তাহলে তুই মেয়েটাকে অপহরণ করবি? সে কি প্রস্তুত এই বিয়ের জন্য?

ভাইয়া, যাস না প্লিজ, খুব বিপদজনক হবে এটা, ভাইয়া।

যদি তোর কিছু হয়?

- ভেতরে যা তাড়াতাড়ি। - প্লিজ ভাইয়া।

- আমি তোকে বলছি না ভেতরে যেতে। - না ভাইয়া।

বড় চাচা, চলে এসেছেন, আসেন-আসেন।

হ্যাঁ আসছি দাঁড়া,

তুই ধরা খেয়েছিস।

- কোথায় যাচ্ছিস তুই? - চেঁচামেচি করো না, আকন্দো সাহেব উঠে যাবেন।

- কোথায় যাচ্ছিস? - কাছে আসো।

কোথায়?

প্রথমে এই বানরীকে ভেতরে পাঠাও।

ভেতরে যাও বলছি।

- সে কোথায় যাচ্ছে আপনি জানেন বড় চাচা? - ভেতরে যেতে বলেছি না।

- শুনিস নি, ভেতরে যা। - ভেতরে যা তাড়াতাড়ি, যাও ভেতরে।

প্রথমে গেইট টা খোলো।

তুই বলেছিলে, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার কী সেটা?

তুমি কাউকে বলবে না তো।

আমি তোমার ব্যাগ থেকে ২০০০ হাজার টাকা ডাকাতি করেছি।

সে কেনো বোরখা পড়েছে? আমি এই হিন্দু-মুসলিমের বিয়ে পড়াতে পারবো না।

ওহ খোদা! আপনার ভুল হচ্ছে। আমার নাম ঊষা, আমার বাবার নাম শুভ্রামানিয়াম। আমরা হিন্দু

কেউ যাতে আমাকে চিনতে না পারে সেজন্য এইটা পরেছি।

আর কোনো সমস্যা? শুধুমাত্র একটা সমস্যা আছে, সেখর এখনো আসে নি।

কি? সেখর আসে নি?

এই সব কী বালু?

ভয় পেয়ো না, দাঁড়াও।

তোদের কি কোনো হুসবুদ্ধি নেই? আমি রাতে কতো কষ্ট করে তাকে নিয়ে এখানে এনেছি।

- আমি কি তোকে বলেছিলাম না? - সে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে আসবে, আমাকে প্রতিজ্ঞা করেছে।

- তাভু আর বজ্ঞু সুরিয়া কোথায়? - আমাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কাছে পাঠিয়েছিলাম।

সালা বোকারা, ওর বাবা হচ্ছেন একজন এমএলএ।

তোদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য, আমার গালে জুতা মারা উচিৎ।

- ও খোদা! আমার বাবা! - তারা প্রতিনিধি হয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন।

বালু, এই বিয়েটা তারা হতে দেবে না

স্যার, এখানে কোনো হৈচৈ করবেন না।

এসব কী? আমাদের মেয়েকে অপহরণ করেছো, আবার বলছো কোনো হৈচৈ না করতে?

ঊষা, চলো, বাড়ি চল।

- বালু! - আমার কথা শুনুন স্যার।

যদি এটা আপনি মেনে না নেন, তাহলে আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করবে।

আচ্ছা, বিষয়টা এমন নাকি।

- তাহলে বর কোথায়? - ধন্যবাদ, স্যার। একটু অপেক্ষা করুন।

তাহলে বর এখানে নেই, তাই না?

বর আমার সাথে আছে।

তুমি এভাবে তাকাচ্ছো কেনো? যদি সে এই বিয়েতে রাজী থাকে তাহলে আমিও রাজী।

এই সব কী রে?

আমি এইভাবে বিয়েটা পছন্দ করি না, বালু। বাদ দেয়।

তাহলে আত্মহত্যা করার ভয় দেখিয়েছিলি কেনো?

আমি মরতে ভয় পাই না, কিন্তু তারা হুমকি দিয়েছে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।

তারা এটা করবেই।

বালু এখানে আছি না।

স্যার, বর প্রস্তুত।

কে কার বিয়ের আয়োজন করবে? সেটা তোর মতো বাচ্চাছেলে করবে নাকি!

এই সব কী, স্যার? আপনি আমার বন্ধুর শ্বশুর মশাই।

না।

আমরা আগামীকাল থেকে না হয়, একে অন্যের সাথে মুখাবেলা করো।

আমি না বলি নি?

তোরা কে রে ভাই?

আপনি কি বোঝতে পারছেন না? কতোবার আপনাকে আমার বলা উচিৎ?

- আমি আপনাকে আপনার ভাষায় বোঝাবো! তাহলে দেখুন। - ও খোদা!

"সুন্দর এবং নির্ভুল বাংলা বানান করার জন্য চেষ্টা করেছি। যদি কোথাও ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে সুন্দর ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।"

বিয়াদব। তুই কি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলি!

তুই কেনো আমার জীবনে এসেছিস? তাদেরকেও তো আমি জন্ম দিয়েছি, তারা তো কেউ তোর মতো না।

এদিকে দেখ, সে তোর চেয়েও ছোট।

সে তার মেডিক্যালে পড়া শেষ করে ফেলছে আর তুই গণ্ডমূর্খের হয়ে রাস্তায় ঘুরছিস।

শেষ পর্যায়ে একটা ভিক্ষুক হবি। আমি কেনো ভাবছি?

অভাগা কোথাকার।

কেনো দীপাবলির এই উৎসবমুখোর সন্ধ্যায়, তাকে বকছিস?

- প্রতিবেশীরা শুনতেছে। - শুনতে দিন তাদের।

তারপরও দেখি, তার অন্তত কোনো জ্ঞান উদয় হয় কিনা।

বালু, উপরে যা।

যেতে বলছি না।

বিশ্বনাথ, বাদ দাও এটা। কেনো তুমি তাকে বকছো?

তার বন্ধুরা এমনই

সে এখন আপনার লাগামছাড়া আদর পেয়ে এমন করতেছে, আপনি কী এখন তার বয়সে বসবাস করছেন?

আপনি তাকে এমন আশকারা দিয়ে মাথায় তুলেছেন।

যদি তোমার মনে হয় তার এই অবস্থার জন্য আমি দায়ী, তাহলে আমি চলে যাবো।

কেনো আপনি কথা গুলো এমন ভাবে নিচ্ছেন, ভাইয়া?

তাহলে ভেতরে যাও,

বলছি না, ভেতরে যেতে।

তুই খুব সাহসী ভাবে বিয়েটা করালে, কোনো রকম ঝামেলা তৈরি না করে।

বিশ্ব বাবা, তোকে ধমকাচ্ছিলেন, বড় চাচা তোকে সেখানে থেকে রক্ষা করেছেন।

সেই রাতে আমি তোকে বলেছিলাম না, যাস না। আমার কথা শুনেছিলি?

তুই এখনো তোর মেজাজ বদলাস নি?

আয়

- তুই যা, আমি পরে আসবো। - এখন তুই কোথায় যাবি?

- আজকে দীপাবলি, আয় তো। - তোকে যেতে বলছিনা না।

তোর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখ, তুই এতো চিৎকার করছিস কেনো?

তাড়াতাড়ি চলে আসিস।

কেনো তোমরা এটা নিয়ে এতো ভয় পাচ্ছো? আমি কী তোমদের মন ভালো করে দিতে সাহায্য করবো?

সাবটাইটেলটির অনুবাদক:- Mahir Munim www.facebook-twitter.com/itzmunim এটি আমার তৃতীয় বাংলা সাবটাইটেল।

এই বালু, এভাবে বেখাপ্পার মতো তুই রাস্তার মাঝে বসে আছিস কেনো?

ভাইয়া, বম্বে থেকে তুমি কখন ফিরলে?

এইতো একটু আগে এসেছি।

যাইহোক, বাবা তোকে বকেছিলেন?

আমি তোকে সব জায়াগায় তন্নতন্ন করে খুঁজেছি। মা কাঁদতেছেন, তোর জন্য না খেয়ে বসে আছেন।

আয়, বাইকে উঠে বস।

আয় না।

উঠ।

তুই এভাবে উদাসী হয়ে বসে আছিস কেনো? যা গোসল করে তোর বড় চাচার কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়।

এই তো হয়েছে।

ও খোদা!

তাদেরকে ধরো গিয়ে

- তাড়াতাড়ি আয়। - সবাই তাড়াতাড়ি আয়। তুই এভাবে দৌড়াচ্ছিস কেনো?

থাম!

- তারা পাগলের মতো আসছে, আরো তাড়াতাড়ি গাড়ি চালা। - আমি সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যাবো!

- তাড়াতাড়ি চালা। - স্পিড কমাস না গাড়ির। আমি তোকে স্যালুট করবো।

চুও করে বসবি নাকি আমি তোকে খুন করে ফেলবো, অতিরিক্ত অভিনয় করিস না।

তোর কি হয়েছে রে? খেলা শুরু করার আগেই তুই তার মাথায় ফাটিয়ে দিলি।

ওই হারাজাদার সাথে আমাদের আগে থেকেই সমস্যা। এখন কি হবে কে জানে?

আমি ভুল করেছি। আমি সেখানে যাবো ক্ষমা চাইতে।

ক্ষমা চাইতে যাবি? তারা তোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে মুরগীর মাংসের মতো ৬৫ পিস করবে।

চুপ কর! সিভা, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দামু, এখানে থামা!

কেনো?

- কথা বসছিস না কেনো? - তোরা এগিয়ে যা।

- তোর সমস্যা কী? - আচ্ছা।

আমাকে একটু একা ছেড়ে দেয়!

গাড়ি চালা, সম্ভবত তারা আবার আসছে আমাদের মাইর দিতে।

কে তুমি?

কেনো তুমি আমাকে এইভাবে জ্বালাতন করতেছো?

কে তুমি?

স্যার, তেল ছিটানো আছে এখানে, বাইক স্লিপ করবে, একটু সরে যান।

স্যার, তেল ছিটানো আছে এখানে, বাইক স্লিপ করবে, একটু সরে যান।

আমি তো কোনো ভি আই পি না, তাহলে আমার অটোগ্রাফ চাইছেন কেনো?

আপনি উপলব্ধি করেছেন যাতে আপনার মতো আর কেউ বাইক নিয়ে এইভাবে না স্লিপ করে, তাই না?'

আমার হাত নোংরা।

তুমিও এতো দেরি করে আসলে?

- হাই আকাশ! - অনু কোথায় গিয়েছিলে?

তুমি ইন্ডিয়াতে আসলে, মাত্র ৪ দিন হলো, হায়দ্রাবাদের ট্র্যাফিক সম্পর্কে তোমার কি কোনো ধারণা আছে?

বাবা তোমাকে না দেখে খুব চিন্তিত হয়ে আছেন।

তোমার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, জানো না? তাড়াতাড়ি আসো।

নমস্কার

অনু উনার নাম হচ্ছে চন্দ্রমহন।

- সে তোমার বাবার ছোটবেলার বন্ধু। উনি হচ্ছে তার স্ত্রী - নমস্কার

তোমাকে দেখার জন্য তারা অট্টি থেকে এসেছে।

- বাবা প্রায়ই আপনাদের সম্পর্কে বলতেন। - ও আচ্ছা,

তোমার বাবা মা'র মৃত্যুর পর তোমার দাদার কাছে আসাটা ভালোই হয়েছে। কেননা, এটাই তোমার গন্তব্য।

- আজকে পার্টি কে দিচ্ছিস? - আমি!

- আমার ডার্লিং মেডিক্যালে সিট পেয়েছে। - তাই নাকি?

- হ্যাঁ - তাহলে সে আর তোর হবে না।

- তুই বালুকে দেখেছিস? - সে এমনকি আড্ডা দেওয়ার ধারে কাছেও নেই।

সে কয়েকদিন ধরে উদাস হয়ে আছে, তুই কী এটা লক্ষ্য করেছিস?

তাই নাকি? তাকে ডাক তো।

এই বালু এদিকে আয়।

- সে আমার ডাক প্রত্যাখান করে দিয়েছে। - সে আসবে না। চলো আমরা শুরু করি।

হেই আমাদের বালু সেখানে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে, তোমরা এখানে ড্রিংক নিয়ে পার্টি উদযাপন করছো?

- কী আবুলতাবুল বলছিস? - আমাদের বালু সাউথ জোন ক্রিকেট টিমে তালিকা ভুক্ত হয়েছে।

বম্বেতে ফাইনা হবে। যদি সে জয়ী হয়, তাহলে সে যেকোনো লেভেলে উঠতে পারবে।

সে যাবে না। তুই তাকে জিগ্যেস করেছিলি কেনো যাবে না? তোমরা কি বন্ধু? ছিঃ ছিঃ

বালু, সে কি সত্যি বলেছে? তুই বম্বেতে যাবি না কেনো?

কেনো কথা বলছিস না?

কোনোভাবে, আমি আমার মনকে এই লক্ষ্যে নিতে পারছি না।

- তার কী হয়েছে? - তার সাথে কী ঘটেছে?

শুভ্রমানিয়াম, মশা মারার স্প্রে চলে এসেছে।

একটা কাপড় দিয়ে ছমছা এবং বাকি গুলো ঢেকে রাখো, তারা কী খায় আমরা তো জানি না।

বালু এসেছে!

সে এইমাত্র চলে গেলো।

- কী হয়েছে? - আমি যাচ্ছি।

- কোথায়? - কী হয়েছে?

কী হয়েছে তোর?

বল না তোর সমস্যা কী?

এই থামা তো। কেনো তোমরা এতো চেঁচামেচি করছো?

আমি ভেবেছিলাম বালু, আমাদের ব্যাচে তুই একমাত্র নীরব ছেলে।

একটা মেয়ে তোকেও প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে।

বলছি না, চুপ করতে।

তোমরা যা ভাবছো সেটা না, আমি তার সাথে সরাসরি কথা বলতে চাই।

তুই কী জিগ্যেস করবি?

কে তুমি?

তোমার নাম কি? আমাদের সম্পর্কটা কী?

কেনো তুমি আমাকে নির্ঘুমে ভোগাও? আমি এই চারটা প্রশ্ন তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবো।

হুম, ভালো তো বালু।

বালু

কেনো জানি এটা ভালোবাসার মতোই মনে হচ্ছে আমার কাছে!

আরান্নালু, তাকে কিছু জ্ঞান দাও এই ব্যাপারে,

এদিকে তাকা বালু, এই শহরে ছয়টি মহিলা কলেজ আছে।

এখানে সাতটি কো-এডুকেশন কলেজ এবং কুড়িটি জুনিয়র উমেন্স কলেজ আছে।

এখানে ২৪,৬৫৪ টা মেয়ে মধ্যে, "এ" ক্লাস মেয়ে হলো ২,১১২ টি।

তারা দেখতে ঠিক পরীর মতো, স্বর্গ থেকে অভ্যাগত বলা যায় তাদের।

তারা কলেজে আসে এবং রাজকীয় ভাবে চলে যায়।

আর বাকি থাকলো "বি" ক্লাসে ৫,২২৬ টা মেয়ে,

তারা কসমেটিক্সে, ফেয়ার এন্ড লাভলী আর বিউটি পার্লারের প্রতি বিশ্বাসী,

তারা কখনোই মেইকআপ ছাড়া বাইরে আসবে না, তার কারণ, তারা টাকা দিয়ে যন্ত্রণা কিনে, আর সেটা না দেখালে তাদের কী আর হয়!

তারপর বাকি থাকলো "সি" ক্লাসে ১৪,৩২৮ টা মেয়ে,

তাদের শুধু শরীরের ভালো আকৃতি আছে, কিন্তু তাদের মুখের মধ্যে তেমন বিশেষ কোনো আকর্ষণ নেই।

টেড়া চোখ, চাপা নাখ, নারিকেলের মতো...ইত্যাদি ইত্যাদি,

- আমি ভালোবেসেছিলাম এবং তুই আমাদের বিয়ে দিয়েছিলি, তাইনা? - তোর বউয়ের ক্লাস কিরে?

- "সি" ক্লাস - ছিঃ ছিঃ- তার ক্লসা

তার পেছনে ৭ টা ছেলে পড়েছিলো, তিনটা ছেলে তাকে লাভ লেটার লিখেছিলো...

এবং একটি ছেলে তার জন্য নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়েছিলো।

আমি তখন এমন কিছু চেষ্টা করেছিলাম বলে, সবাইকে ওভারটেক করে তাকে বিয়ে করেছি।

এমন কি "সি" ক্লাসে খুব কঠিন প্রতিযোগিতা হতো!

- তোর প্রেমিকার ক্লাস কি রে? - "এ" ক্লাস

ও আমার খোদা গো! "এ" ক্লাস?

"এ" ক্লাস মানে...

"এ" ক্লাস মানে, ''৮:৩, ৩;২, ২x৩, ৩x২..''

তাকে ঘিরে ৩৪ টা এলাকার ছেলেরা বেঁচে আছে, এখন অবধি ১৩৮ টা লাভ লেটার তাকে লিখেই দিয়েছে।

২০ টা ছেলে অবশ্যই তার ওয়েটিং লিস্টে আছে, ৩/৪ টা ছেলে অবশ্যই মরেও গিয়েছে।

- এসব কী আবুলতাবুল বকছিস? - হতে পারে গতদিন তুই তাকে দেখেছিস

আরেকজন তাকে এর আগের দিন দেখেছে, এবং আরেকজন তাকে অবশ্যই এর আগের দিন দেখেছে।

তুমি কি একমাত্র লোক যে, তার নজর তোমার উপর পরবে? আসলে, কীভাবে এতো বড় শহরে ২,১,১২ টা...

..হবে কেনো? এখানে খুব কঠিন প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব্বাই হুন্ডি ফোনের সাথে সিলো কার নিয়ে ভূতের মতো..

..চারিদিকে ঘোরাঘুরি করছে, মরিয়া হয়ে।

এখানে খুব কঠিন প্রতিযোগিতা রে, বালু।

সবাই কেনো? মনমরা করিস না।

ভালো ফিগারের একটা মেয়েকে আমাদের এরিয়া থেকে খুঁজে বের করে ফেল, তারপর একটা কাজ শেষ হবে।

কি বলিস?

এই তুই সর তো, তুই এদিকে আয়

- কী? - ভালো ফিগারের মেয়েরা তার এরিয়াতে আছে।

- এমন ফিগারের কে আছে আমাদের এরিয়াতে, আমি তো জানি না? - তোর বোন।

অজানা কোনো মেয়েকে ভালোবাসিস না, অবশ্যই, সে তোকে ধোঁকা দেবে।

তুই এইসব ফিগারের কাহিনীতে খুব বেশি দুর্বল।

সে "এ" ক্লাসের ফিগার চায়!

এটা কি সম্ভব?

দেখা যাক কি হয়!

- আয় না। - না।

তুই এমন বিষণ্ণ হয়ে আছিস কেনো?

এমনি।

- আচ্ছা, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কর তোকে যেন জ্ঞান দেন। - তাহলে, আমি কি জ্ঞানী না?

এটাই তোর সমস্যা এই দেবতা খুব শক্তিশালী, সমস্ত ইচ্ছা পরিপূর্ণ হবে।

তাই নাকি?

তুমি কী আমার কপালে তিনটা লাইন দেওয়ার জন্য এসব বলছো, না, যাও

যাও তো আম্মা

আরে যাও। তুমি তোমার পাপের সঙ্গী করে আমাকে হয়রানি করো না।

অনু কোথায়?

- বালু - হুম

- আপনি কি বালু? - হ্যাঁ

কে যেন আপনাকে ডাকছেন

- বালু - আম্মা

তুই এখানে? আমি কতোখানে তোকে খুঁজতেছি?

আমি কীভাবে পূজার ব্যবস্থা করবো, যদি তুই পুজার নিয়ম না মানিস?

- আরে! - আম্মা, তোমার ঈশ্বর সত্যিই খুব শক্তিশালী।

কিছু সময় অপেক্ষা করো, আমি ক্লিন শেভ করে আসছি।

তুমি কোথায় গিয়েছিলে? দাদা তোমাকে খুঁজতেছেন।

চলো।

- তুই কোথায় যাচ্ছিস? - ও খোদা! আমাকে ছাড়ুন। আমি এই সময়কে ছাড়তে চাই না।

তুই কি মন্দিরে এসেও তোর শয়তানী বন্ধ করবি না?

- এইসব কি হচ্ছে? - তুমি চুপ করো

আমি মন্দির থেকে চলে যাচ্ছি তা না হলে, তোকে আমি...

ঈশ্বরকে নমস্কার কর, সোনা বাবা আমার

এই সব কী? শান্ত হও

- আমাকে আবিদস্‌ এ নিয়ে দিয়ে আয় না। খুব জরুরি একটা ইন্টার্ভিউ আছে। - আমাকে বিরক্ত করিস না।

- প্লিজ এটা খুব জরুরি। - আমি কি তোর ড্রাইভার? পারবো না।

সময়টা চলে গেছে, দেয় না আমাকে সেখানে পৌঁছে।

তোর আবিদস্‌ এ যাওয়া খুব প্রয়োজন, তাই না?

দেখ, একটা নিষ্পাপ বন্ধু আসছে! দাঁড়া...

কী ব্যাপার, বালু? এখানে সবাই তোকে নিয়ে কি যেন বলাবলি করছে!

- কী? - তুই কি কোনো মেয়েকে খুঁজতেছিস? তাকে খুঁজে পেয়েছিস?

না

আমি একটা কথা বলি, আমাকে ভুল বুঝিস না।

- তুই কি স্বপ্না কমপ্লেক্সে গিয়ে ছিলি? - এটা আবার কোথায়?

- এটা আবিদস্‌ এ - হ্যাঁ

আজকে শনিবার, সেখানে কোনো মেয়ে যাওয়া মিস করে না।

সেখানে যা, ভাগ্য ভালো হলে, সেখানে সে আসবেই।

দাঁড়া, সেও আবিদে যাবে, তাকে সেখানে নামিয়ে দিস।

এক নাম্বার বোকা!

বালু, ইন্টার্ভিউ এই তলায়, আমি আধা ঘণ্টার ভেতরে চলে আসবো।

তারপর আমরা স্বপ্না কমপ্লেক্সে যাবো, সেই মেয়েকে খুঁজার জন্য।

- এদিকে আয় - কী, বালু?

আমি কি তোকে নিয়ে আসতাম না এখানে, তোর ইন্টার্ভিউ এর জন্য?

ছিঃ

কেনো তুই আমাদের বন্ধুত্বকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছিস?

- তোমরা সবাই আমাকে জ্বালাচ্ছিস? - না বালু।

আর একটাও কথা বলিস না।

আমি এখানে আমার জন্য আসি নি, আমি এখানে তোর জন্যই এসেছি।

যদি সে উপরে চলে আসে কোনো ভাবে?

তুই এখানে কখন এসেছিস, ভাইয়া? যদি তুই কল করতি আমিই চলে আসতাম।

কী হয়েছে? এমন নীরস দেখাচ্ছে কেনো?

বিষু চাচা কী আবার বকেছেন?

আমি খুব মর্মাহত!

- তুই মর্মাহত? - হ্যাঁ

তাহলে তাকে দেখার পরে, তোমার মনে শূন্যতা বিরাজ করছে।

আমি খুব আশ্চর্য হচ্ছি! লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট! কীভাবে হয়?

- বেশ সিনেমিটিক ব্যাপার। - কী?

আমি কি তোকে এটা বলেছি?

তোর মন এখন শুধুমাত্র আকর্ষণটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

কীভাবে তোর কল্পনাতে আসে এগুলো?

আকর্ষণ! কেবলই আকর্ষণ!

আমার?

- আয় চল যাই। - ভাইয়া! কোথায়? বস তো।

যখনই আমি তাকে দেখি, তখনই আমি জানি না আমার সাথে কি হচ্ছে বা আমি কি সব করছি।

আমার তখন মনে হয়, আমার হৃদয়ের কম্পনটা বন্ধ হয়ে আসছে।

তুই বলছিস এটা তার প্রতি আমার আকর্ষণ, আর বন্ধুরা বলছে এটা হচ্ছে ভালোবাসা।

আমার মনে হচ্ছে, আমি যেন তার ভালোবাসায় ভিজে একাকার হয়ে আছি।

সব সময় মনে হয়, আমি তার জন্য বেঁচে থেকেও বারবার মরছি, বুজ্জি!

ভাইয়া!

আমার উপলব্ধি গুলো সবার আগেই তোকে বলছি, তুই ছাড়া আমার জন্য আর কে আছে, বুজ্জি?

ভাইয়া, এদিকে তাকা।

তুই আমাকে বলেছিস, তাই না?

চিন্তা করিস না। ওর নাম কি?

সে সুন্দরী মেয়েটি আমাদের ভাবী হচ্ছে, ওকে?

ভাইয়া, এর চেয়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে,

তাকে নিয়ে তোর প্রত্যেকটা বর্ণনা অনুযায়ী আমার মনে হচ্ছে, সম্ভবত সে তোর পেছনের সিটে বসে আছে!

আচমকা ভাবে তাকাস না, ধীরে ধীরে তার দিকে তাকা।

হ্যালো বেবি

হ্যালো। আমি আপনাকে ডাকছি।

ও খোদা! হ্যালো বেবি

আমাকে তার একটা অটোগ্রাফ নেওয়া উচিৎ।

হ্যালো আম্মা, আমি হায়দ্রাবাদ থেকে প্রিয়া বলছি।

ভালো।

বালু ভাইয়া, অট্টিতে আসছে।

হ্যাঁ। আজ রাতেই।

পড়ার জন্য।

হ্যাঁ, আচ্ছা, আমি কল কাটছি।

বুজ্জি, আসলেই কী আমার অট্টিতে যাওয়া উচিৎ?

হ্যাঁ। তুই অবশ্যই যাবি।

এই সময়ে তোর বাকি দুই সাবজেক্ট শেষ করা উচিৎ তাই না?

যদি তুই এখানে থাকিস তাহলে পড়ালেখা করবি না, তাই, তোর অবশ্যই অট্টিতে যাওয়াই উচিৎ।

আমি জানি, তুই ওই মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করতেছিস তাই না?

আগে তোর পরিক্ষা শেষ কর। তারপরে আমরা সেই মেয়েকে খুঁজে বের করবো।

তা নয়, আমার বন্ধুরা বলেছে সে "এ" ক্লাসে বসবাস করে।

এই শহরে শুধুমাত্র ১-২-১২ টা মেয়ে এখানে আছে।

এখানে খুব কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে, এই রকম মেয়েকে খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টকর।

সবাই এই ভয় দেখাচ্ছে আমাকে, ইতিমধ্যে কেউ একজন তাকে ভালোবেসেও ফেলেছে।

তোর বন্ধুদের হুসবুদ্ধি আছে নাকি? উদাহরণ হিসাবে, আমি কি কাউকে ভালোবেসেছি?

আরে না না, তারা সুন্দরী মেয়েদের সম্পর্কে বলেছে এই কথা গুলো।

তোমার কি অট্টিতে যাওয়া খুব বেশি দরকার, অনু? তাও আবার এই সেকেন্ড ক্লাসে বসে যাচ্ছো!

চন্দ্রমোহন চাচা, বাবার খুব কাছের বন্ধু।

এটা হয়তো খুব দূরে, তাই বলে কি আমার উনাকে দেখতে যাওয়া উচিৎ নয়, আকাশ?

তাহলে, তুমি একাই যাচ্ছো? আমার কি তোমার সাথে আসা উচিৎ?

তোমার পরিক্ষা আছে এই ১০ দিনের ভেতরে।

তুমি কি জানো না, যারা পড়ালেখায় বেখেয়ালি তাদেরকে আমি পছন্দ করি না।

কেনো? এটা হচ্ছে s4 আমাদের টা হচ্ছে S2, আসো

দাদাও তোমার মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন।

হ্যালো

এটা এখানে, আসো

অটোগ্রাফ পার্টি তাই না?

আমাদের ভালো জিনিসগুলি মানুষদের উৎসাহিত করা উচিৎ।

তিনি আছেন আরকি, এখনো অবধি হাসপাতালে। আপনি বাসায় যাবেন।

আমি হাসপাতালে এসে আপনাকে নিয়ে যাবো।

এই যে বেহুস! তুমি আমাকে এভাবে মারছো কেনো? আমি বাসে যেতে পারতাম।

তাহলে তাড়াতাড়ি এটা করেন।

তুমি এই অরণ্যের মাঝে আমাকে এনে থামিয়েছো, এখন কীভাবে আমি যেতে পারি?

উপলব্ধি করতে পেরেছেন ব্যাপারটা? তাইলে অপেক্ষা করেন।

একটা কার আসছে,

আমি লিফট এর জন্য তাদের রিকোয়েস্ট করবো, তুমি এখানে মরো।

তুমি কি লিফট এর জন্য রিকোয়েস্ট করবে?

এখানে কেউ থামাবে না, এটা হচ্ছে কুখ্যাত ডাকাতদের জায়গা।

ভাই, তুমি কি আমার সাথে কোনোভাবে প্রতারণা করছো।

অট্টি! অট্টী আমাকে মেরেই ফেলবে।

এই কার কেনো উল্টো আসছে?

কারে কোনো সমস্যা হয়েছে?

অট্টি! আমার অট্টিতে যাবো।

- উনাকে সাহায্য করুন - জ্বী আচ্ছা

আমরা যাই। চলেন।

আমি আপনাকে আগে থেকেই চিনি, আপনি আমাকে চেনেন?

ওহ একদিন মন্দিরে যে দেখা হয়েছিলো।

না। ওই দিন, আবিদস এ, একটা ছোট বাচ্চা।

আমার মনে হয়েছিলো আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ সেই দিন, তাই আমি আপনাকে ফলো করেছিলাম।

বালু, আপনি এখানে কেনো এসেছেন?

আমি পড়ার জন্য আমার চাচীর বাসায় যাচ্ছি।

বালু, উঠে আসেন, বালু। ছাড়বেন না, আমার হাত ধরেন।

সাবটাইটেলটির অনুবাদক:- Mahir Munim

কতোবার বলেছি আমি তোমাকে অনুকে একা কোথাও পাঠিয়ো না?

- অনু কেমন আছে? - চিন্তার কিছু নেই। সে শুধু ভয় পেয়েছে। আসুন।

- তুই এতো দেরি করলি কেনো? - কি?

আপনি কি মনে করেন চন্দনের কাঠ আনা, একটি দাঁতের টুকরো আনার মতোন?

প্রত্যেকটা চেক পোস্ট ক্রসিং যেন মরার ফাঁদের মতো মনে হয়েছিলো। ভেতরে আসেন।

- সে কে? - যখন তারা আমার কাছে চন্দনের কাঠ গুলো হ্যান্ডিং করছিলো...

..তখন তাকে পাই। আমার মনে হয়েছিলো এটা আত্মহত্যার কেস। সে বেঁচে আছে। তাই আমি তাকে নিয়ে এনেছি।

চলেন, রাস্তায় কোনো হাসপাতাল পেলে তাকে সেখানে ভর্তি করে দেবো। তাড়াতাড়ি ভেতরে আসেন।

আমরা সব জায়গায় খুঁজেছি, কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি!

তুমি বলেছো তার নাম বালু ছাড়া আর কোনো কিছুই জানো না।

আমরা আর কি করতে পারি?

যখন সে তার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো, শুধু আমিই তাকে আমার সাথে নিয়েছিলাম।

সে কে, তার বাবা মা কোথায়, যখন আমি তার অবস্থা চিন্তা করি...

আমার খুব ভয় লাগে, দাদা!

পা সোজা কর।

তুই এমন কি ড্রেসিংও জানিস না। তুই আবার একজন ডাক্তার।

তুই কি আমাকে বকছিস?

খবিশ

- আমরা তাকে খুঁজে পেয়েছি - কে সে?

আমার খোদা! তোমার ভাইয়ের চোখ সাধারণ মানুষের মতো না,

তুমি কী জানো সে কে?

সেই মেয়েটি হচ্ছে মহান রাজাবাহাদুরের নাতনী।

তার নাম হচ্ছে অনু, সে অ্যামেরিকা থেকে এসেছে।

- তুমি কি তাকে দেখেছো? - না।

কিন্তু যখন আমরা তার সম্পর্কে খুঁজাখুঁজি করলাম,

..তখন আমরা সন্দেহভাজন আসামী হয়ে গেলাম।

যদি কিছু আবুলতাবুল বলি..

... আমরা ধরা পড়ে যাবো, তাই, আমারা তোকে এটা বলতে এসেছি।

কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছে, সেও কোনো হাপাতালে ভর্তি আছে।

- তুই কোথায় যাবি? - বুজ্জি, তুই দিবি না?

- তুই কোথাও যেতে পারবি না, ডাক্তার বলে নি তোকে? - আমাকে দেয়, আমাকে যেতে দেয়।

অপকর্মার দলরা!

বালু, সে..

বুজ্জি

ভাইয়া আমি এটা এলাও করবো না, তোর ভাঙা পা নিয়ে যেতে পারবি?

আমি যদি মরেও যাই তাতে কিচ্ছু যায় আসে না আমার, কিন্তু তার সাথে কোনো খারাপ কিছু হওয়া উচিৎ না।

আমার অনুকে অবশ্যই দেখা উচিৎ, প্লিজ।

কি হয়েছে?

অনু

- কি? - অনু

আসলে, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমাদের ছেলে তোমার সম্পর্কে কিছুই বলে নি...

সে হলো বুজ্জি, আমার চাচা তো বোন।

- সে এই অবধি আমাদেরকে কিছুই বলে নি। - বসো

এখনকের দিনে, ছেলেমেয়েরা কোনো কিছুই গভীরভাবে নেয় না।

আমাদের পরিবারটা অনেক বিষণ্নতা মধ্যে আছে।

চার বছর আগে, অনুর বাবা মা একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যায়।

যদি বালু তাকে না বাঁচাতো তাহলে, আমার নাতনীকে হয়তো আর পেতাম না।

আমরা তোমার কাছে ঋণী। তুমি ভালো হয়ে গেলে আমাদের একটা ফোন দিও।

চলো

- দেখা হবে আবার - ওকে

সবাইকে নমস্কার

বালু, তুই যে মেয়েকে এতো খুঁজেছিস, শেষমেশ সেই তোর বাড়িতে চলে আসলো।

ভাগ্য তোর সহায় ছিলো!

বালু, আর দেরী কেনো? যা এখন বলে দেয়, আই লাভ ইউ।

কী! তোমাদের আসল পরিকল্পনা কী? ভাইয়া, বাবা চলে এসেছেন।

তোর আকন্দো চলে এসেছে। আমরা সুধার বাড়িতে অপেক্ষা করবো কথা বলার জন্য।

সন্ধ্যার সময় তৈরি থাকিস, আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে।

কীসের জন্য? নার্সদের জ্বালাতন করার জন্য? আমি তাকে দেখবো, তোমরা যাও।

আচ্ছা, তুমি পারলে তোমার ভাইয়াকে, তোমার হ্যান্ড ব্যাগে ঢুকিয়ে বাঁচাইয়া রাখো।

ভাইয়া,

অনু তো আমাদের বাসাতেই চলে আসলো, তারপরে কী?

আমি অনুকে আমার ভালোবাসার কথা বলবো।

বালু, তুমি কি কোনো কিছু বলতে চাইছো?

তুমি কিছু বলতে চাইছো, তাই না?

আমি জানি না তোমাকে কীভাবে বলবো!

বালু, বলো তুমি কী বলতে চাও?

যদি আমি সেটা করতে পারি তাহলে আমি অবশ্যই এটা করবো। কোনো সমস্যা নেই, বলো আমাকে

আমি তোমাকে ভালবাসি

তুমি আমাকে সেই এক্সিডেন্টে দেখেছো, কিন্তু আমি তোমাকে ভালবাসি এই ঘটানার আগে থেকেই।

আমি সব সময় তোমার পরেই থাকি।

প্লিজ, আমার ভালোবাসা বোঝার চেষ্টা করো, দয়া করে সেটা প্রত্যাখ্যান করো না।

আমি জানি না তোমাকে কীভাবে সাড়া দেবো, বালু! তুমি হচ্ছো আমার জীবন বাঁচানোর কারণ...

কিন্তু যতদূর আমার মনে হয়, এটার মানে এই না যে তুমি আমাকে ভালোবাসো?

যদি তোমার কল্পনার কারণ আমি হই, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।

যদি সে তোকে এমনই কিছু বলে তাহলে তুই কি করবি? যদি তুই অনুকে আই লাভ ইউ বলিস.. ''

..যদি ঠিক এমনি কিছু ঘটে। - তাহলে আমি কী করবো, বুজ্জি?

ভাইয়া হয়তো তুই তাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসেই ফেলেছিস।

তাকে দেখার পর হয়তো তোর হৃদয়ের কম্পন বৃদ্ধি পেতে পারে।

যতদূর সে এখন খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, এইসব কিছুই না।

সে বিদেশে বড়ো হয়েছে, সে আমাদের উভয়ের চেয়ে আর বেশি পরিপক্ব।

- তাহলে, অনু আমার হবে না? - কেনো সে তোর হতে পারে না?

আমার ভাই কি এতোই খারাপ?

ভালোবাসা হৃদয় থেকে উদয় হয়।

যদি সে তোর হৃদয়কে বোঝতে পারে, তাহলে সে তোকে ভালোবাসবে।

যদি তোর সম্পর্কে তাকে জানাতে চাস, প্রথমে তার সাথে বন্ধুত্ব তৈরি কর।

এটা ঘটার জন্য অনেক সময় লাগতে পারে।

ভালোবাসার প্রয়োজনে শুধু ঝুঁকির নিলে হবে না, তবে তার সাথে ধৈর্যশীলও হতে হবে।

জগতে ভালোবাসার জন্য বেশি ধৈর্য লাগে এবং ক্ষমা করাও শিখতে হয়

জগৎ, ক্ষমা, ধৈর্য, আবুলতাবুল আরো কতো কী!

তোর বোন একজন ভাববাদী, তাই না? তার কথা তুই শুনলে বাস খাবি।

প্রিয়া একটি খুব ভালো মেয়ে। একজন জ্ঞানী ছাত্রী এবং একজন সুন্দরী মেয়ে।

- এসব কী? বিয়ার নিয়ে রেস্টুরেন্টে কেনো? - নাইর, ব্যাপারটা খুব গম্ভীর, যা এখন।

চালিয়ে যা মামা।

জীবন ভালোবাসার জন্যে হওয়া উচিৎ। তুই অবশ্য এটা দিয়ে দিয়েছিস।

তুই প্রথমে তার বন্ধু হওয়া উচিৎ, তারপরে তুই তার প্রেমিক হওয়া উচিৎ।

পরবর্তীতে, যদি এটা বলে সে প্রতারণা করে, যে, আমি তোমার বন্ধু হতে পারি কিন্তু প্রেমিকা হয়ে নই...

- তারপর, তখন আমরা কী করবো? - এটা লেটেস্ট ফ্যাশন, তাই না?

তারপর সে প্রতি বছর তার স্মৃতির কারণে ব্যর্থ হবে নিশ্চিত।

- অন্যতায়, সে তার জীবনে কখনোই ফেইল করে নি, - চুপ করো।

প্রিয়া সঠিক বলেছে, প্রথমে তার বন্ধু হবার চেষ্টা করতে হবে।

- কীভাবে বন্ধু হবো? - এটা কিন্তু ভালো হবে না, যদি এখন বন্ধু করার জন্য চিন্তা করিস।

যদি সে তোর সাথে বন্ধু হিসাবে আচরণ করে, সে তোর বাড়িতে আসবে।

- যদি সে না আসে? - সে তোর কোনোদিনই হবে না।

- সাবধানে যা, আমি কি আসবো? - না সমস্যা হবে না।

- রাতে তুই কোথায় ছিলি? - সুধার বাড়িতে।

সেখানেই থাকলে না কেনো? স্বাধীন ইচ্ছাতে আসেন আবার স্বাধীন ইচ্ছাতে যান..

...এটা বাড়ি নাকি লোজ? তোমার পা ভাঙার পরেও তুমি এটা উপলব্ধি করতে পারো না। যাও

- যাইহোক, গতকালকে অনু এসেছিলো তোমার জন্য। - কখন? আসলে কখন?

তুই পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য, টিউশন ফি দিতে চেয়েছিলি, সেটা কি জমা দিয়েছিস?

- না। আমি জমা দেই নি। - এটা আগে করো। যাও।

- কী? - অনু এসেছিলো এখানে?

- কে? - অনু, আম্মা

আমি জানি না, আমি মন্দিরে গিয়েছিলাম।

তোমার সব সময় মন্দিরে যেতেই হবে কেনো? তোমার আর অন্য কোনো কাজ নেই?

হায় সিভা! আমি তোর সুস্থতা কামনা করার জন্য মন্দিরে গিয়েছিলাম।

কেনো তুমি ঘরে বসার পরিবর্তে মন্দিরের চারপাশে ঘুরে বেড়াও?

না আম্মা, অনু এসেছিলো। এটাই তো, যখন তিনি বাড়িতে ছিলেন।

এখন আমি উনাকে কীভাবে জিজ্ঞাসা করবো, সে কেনো এসেছিলো, সে কী বলে গিয়েছে?

এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে তুই কেনো এতো উত্তেজিত হচ্ছিস?

তোর চাচা ঘরে ছিলেন সেই দিন, যা উনাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর।

ধীরে ধীরে,

সাবধানে হয়ে যা।

- চাচা - কী ব্যাপার?

অনু এখানে এসেছিলো? বাবা আমাকে বলেছেন।

যতদূর মনে হচ্ছে, তুই তোর বাবাকে বোঝতেই পারিস না।

সে অনুর নাম শুনিয়েছে তোকে তার কারণ,

তোর মুখ দেখে তোর মনের কথা জানতে,

বুঝেছিস।

- তুমি এটা বিশ্বাস করো? - তাহলে অনু আসে নি?

অনু এসেছিলো, সে এখানে অনেক সময় ধরে ছিলো, সে তোর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো।

তুই কোথায় চলে গিয়েছিলি?

বুজ্জি, তুই এখন কী বলবি?

তুই প্রথম পরিক্ষায় পাশ করেছিস।

অনু, ঘুম বাদ দিয়ে কী করছো?

আমি আমার ফ্রেন্ডকে একটা ইমেল পাঠাচ্ছি, দাদা।

ফ্রেন্ড মানে, বয়ফ্রেন্ড নাকি?

মার্গারেট

প্রকৃতপক্ষে, এই সময় এই বয়সের মেয়েরা ইমেল পাঠানো মানে,

.. এটা অবশ্যই ভালোবাসার ব্যাপারে হবে।

আমি এইসব প্রেম ভালোবাসা থেকে অনেক দূরে, দাদা।

যতদূর এখন আমি খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তবে যৌবনকাল মানে শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্য নয়।

ভবিষ্যতের জন্য কী অর্জন করছি সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, এটা একটা অদ্ভুত সময়।

তাই নাকি? তুমি কী অর্জন করতে চাও?

আমি হয়তো কোনো একদিন, আইনস্টাইনের মতো মহান একজন হবো।

আমি হয়তো খুব বড় একটি গবেষণা করবো।

আমি হয়তো নোবেল প্রাইজ বিজয়ী হবো।

তার কারণ, মানুষগণ শ্লোগান দেবে, বিজ্ঞানী অনু হচ্ছে আপনার নাতনী।

দাদা, কি হয়েছে?

কিছু না। আমি তোমাকে নিয়ে গর্ব করি।

কীভাবে তুমি এই বয়সে এই জেদটা অর্জন করলে?

তোমার স্বপ্ন সত্যি হয়ে আসবে

ধন্যবাদ আপনাকে, দাদা

সে হচ্ছে আমাদের ছোট ভাইয়া।

ভাইয়া, আমার হোস্টেলের বন্ধুরা এসেছে।

এখন আপনি ক্রিকেট মাঠে খেলতে আসেন না কেনো?

ভাইয়া, এই ড্রেস তাড়াতাড়ি বদলে ফেলো, আমার বন্ধুরা অন্য কিছু ভাবতে পারে।

এটাই যথেষ্ট তাদের জন্য, চিন্তা করিস না।

প্রিয়া, তুই ছোটবেলায় খুব সুন্দর ছিলি।

আমি সব সময় সুন্দর, তাইনা ভাইয়া?

- এখানে আরো দুইটা অ্যালবাম আছে, তোমরা কী দেখতে চাও? - দেয় আমাদেরকে।

তুমি কি নিজেকে নিয়ে অহংকার করছো? আমি তোমাকে মজা দেখাচ্ছি দাঁড়া।

- এই ছবিটা দেখো। - খুব সুন্দর।

সে দেখতে খুব মায়াবী, তাইনা?

- এই যে এটা... - সে শুধু এই ছবি গুলো দেখাচ্ছে, তাই না?

- সে কি তোমাদেরকে তার একটা ছবি দেখিয়েছে যেটাতে, তিরুপাতিতে সে মার খেয়ে কাঁদছিলো? - প্লিজ এটা দিন

আজ দেখো, বুজ্জিকে মার খেয়ে কান্নার কাহিনী!

হয়তো এই সুযোগ আর আসবে না, দেখে নাও

তোকে কে জিজ্ঞাসা করেছিলো এই ছবি দেখাতে?

- দেখো, চাচী আম্মা - দেখো, চাচী আম্মা

সে তিরুপাতিতে আমার কান্নার একটা ছবি, আমার সকল বন্ধুদের দেখিয়েছে।

তারা এখন আমাকে জ্বালাতন করবে।

তোর দুষ্টামি নিয়ে জাহান্নামে যেতে পারিস না।

তোর কি তার সাথে দুষ্টামি না করতে পারলে ঘুম আসে না? সব সময় তুই তাকে জ্বালাতন করিস কেনো?

- বানর, আমি তোকে একটা উচিৎ শিক্ষা দেবো। - প্রিয়া, সাবধানে। পা পিছলে পড়ে যাবি।

এই সব কী, বালু?

কিছুই না, এমনই মজা করছিলাম।

এটা কীসের শব্দ?

তোমরা কী আমাদের একটু শান্তিতে ঘুমাতে দেবে না?

নমস্কার, আংকেল

কে? অনু!

কেমন আছো?

তোমার দাদা কেমন আছেন? আমার ভাগ্য!

একটা মেয়ে বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে এবং বড়ও হয়েছে! কি সম্মান দেখাচ্ছে?!

এই, তোমরা দুইটা কোনোদিন এইভাবে সম্মান দেখিয়েছো?

বুড়ো মানুষ গুলো পাগলের মতো রেগে যায় কেনো?

সে চলে যাক, তারপর তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।

আসো

অনু আসো

নমস্কার, আম্মা

এই ছেলেটা কে? খুব কিউট!

- আমি বলবো - এইটা আমাদের বড় ভাইয়ের ছবি। উনি এখন মুম্বাইতে আছেন।

আমিও এমন ছিলাম ছোটবেলায়।

হ্যাঁ। সে ওইটার মতো ছিলো

- কি ব্যাপার? - দেখো তো আম্মা

সে বলতেছে ছোটবেলায় নাকি আমার ছবি এইভাবে তুলেছো?

- আমরা আগামীকাল তোর এমন একটা ছবি তুলবো। - কী?

এই খবিশ, মুখ ধুয়ে আয়।

তুই কী আর আমাকে জ্বালাতন করবি? এখন মজা দেখ।

ভাইয়া,

সাবান দিয়ে তোমার মুখ ধৌত করো না।

অনু এসেছে, পরে তুই লজ্জিত হবি।

তুমি ধরা খেয়েছো।

সাবানটা কি রকম?

তুমি কী জানোনা কি সাবান?

আসো।

এখানে বসো।

আসলে, সবান বক্সের ব্যাপারটা হচ্ছে ...

ছিঃ! এসব কী ফাউল সব কথাবার্তা? অভদ্র কোথাকার! আমাকেও সম্মান দেখাচ্ছে না, আমার বয়সটা দেখেও।

কেনো এতো দেরী করছো। বলো আমাকে

কয়েক বছর আগে, আমরা তিরুপাতিতে গিয়েছিলাম...

তারপরে...

প্রিয়া, অনুর জন্য কফি নিয়ে আয়।

বালু, প্রথমে তোমার মুখ ধুয়ে আসো।

- না - যাও না, বালু

- যাও না, বালু

একদিন ভাইয়া, গোসলের জন্য বার্থরুমে গিয়েছিলো

কাপড়চোপড় খোলার পরে,

সে শেলফ থেকে সাবানের বক্স নিয়েছিলো।

ওই সাবানের বক্সে স্লিপ খেয়ে, বার্থরুমের বাইরে চলে এসেছিলো।

- প্রিয়া - বালু

যদি বাবা এইটা জানেন তাহলে তাকে বকা দেবেন বলে, সেই ভয়ে...

..সে ভুলেই গিয়েছিলো যে তার পরনে কাপড় নেই।

সে সাবান খোঁজার জন্য বাইরে চলে আসছিলো।

- তখন তো সে ছোট ছিলো? - না, অনু।

তখন ভাইয়া দশম শ্রেণীতে পড়তো।

এসব কী, বালু?

তোমার পরিবারের সাথে আনন্দ উপভোগ করার সময় নেই, বালু?

আমার মা এবং বাবা তারা তাদের ডাক্তারি নিয়ে ব্যস্ত ছিলো।

হঠাৎ করে তাদের মৃত্যু,

যখন আমি একাকীত্ব অনুভব করছিলাম,

তখন দাদা চলে আসলেন।

যাইহোক, প্রিয়া হোস্টেলে একা থেকে পড়াশোনা করছে কেনো?

আমরা সবাই একই পরিবারের। আমাদের কোনো বোন নেই।

তাই, মা চাচাদের বাড়ি থেকে প্রিয়াকে নিয়ে আসেন।

আমরা তাকে খুব ভালোবাসি।

মেডিক্যালে সিট পাওয়ার পরে, বাবা তাকে হোস্টেলে দিয়ে দেন, যাতে আমাদের সাথে থেকে তার পড়াশোনা নষ্ট না হয়।

বাবা হচ্ছেন পরিবারের এইসব বিয়ের জন্য প্রধান। বড় চাচা এবং ছোট চাচা তারা হলেন মূর্তির মতো, সব কিছুতেই আগ্রহ কম।

বাড়িতে সবাই আমার কাছ থেকে ভালো পড়াশোনা আশা করে।

তো?!

আমার পড়ালেখার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই।

তাই, আমাকে প্রতিদিন বাবার কাছে বকাঝকা খেতে হয়।

পড়ালেখার পরে কী, বালু?

প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি বিশেষ প্রতিভা আছে।

যদি এটা আমরা শনাক্ত করতে পারি,

তাহলে আমরা আমাদের জীবনের লক্ষ্য গুলো প্রায়ই অর্জন হয়ে যায়।

এই চুপ কর।

তোর এই তার ছেঁড়া কণ্ঠস্বর দিয়ে, গান গেয়ে তুই কী আমাদের মেরে ফেলতে চাস?

দেখ, আমাদের বালু কতো ভাগ্যবান!

- এইদিকে ঘুরে তাকা - কেনো?

যদি সে তার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় তাহলে আমাদের সময়টা, ধ্বংস করে দেবে। ওই দিকে ঘুর

সে কোথায়?

তারা কে?

এভাবে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে কেনো?

ভবঘুরের দলরা আর অকেজো বস্তু ওরা।

বাপের খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই তো তাদের। তবে, তাদের একটাই কাজ খুব ভালো করে জানা...

সেটা হলো মেয়েদের জ্বালাতন করা।

তোমার কি কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে এই এরিয়াতে?

হ্যাঁ আছে তো!

শ্রীরাম নামে আমার একটা ফ্রেন্ড আছে।

সে আমার সহপাঠী।

সে আমার সাথে পড়ালেখা শেষ করেছে।

তাই, আমি তাকে খুব পছন্দ করি।

সে আমার একাকীত্বের বন্ধু।

আমরা হলাম বালুর

বন্ধু

তারা কি তোমার বন্ধু?

আসলে, এমবিএ তার পদবি নাম।

সে টেন্ডুল্কার মতো হতে চায়,

সে ১৫০ ম্যাচে শুধু বল কুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সে শেষের ৫ টি ম্যাচ খেলেছিলো, পাচ বারই সে ডক আউট হয়েছে।

তিনি হচ্ছেন আর্নাল্ড

- সে? - তুমি কী বস্মিত হয়েছো? দেখো

তার জন্ম হয়েছে আমাদেরকে খুন করার জন্য।

তার বাবা যেটা চান তাকে দিয়ে করাতে সেটা সে করতে পারে না, কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদেরকে ভাবনায় রাখে,

এই জন্যই সে আমাদের খুন করবে।

কয়লা

কয়লা?

কয়লার রঙ কী?

কালো।

সে কী দেখতে জর্জ বুশের মতো সাদা?

কিন্তু একটা ব্যাপার আছে। এটা ভেবো না যে- আমি একজন সাধারণ মানুষ, একটা চমৎকার ফিগারের মেয়ে আমাকে ভালোবাসে।

তোমাদের সবার একেকটা পদবি নাম আছে।

কিন্তু বালুর কোনো পদবি নাম নেই কেনো?

সে এখনো অবধি এমন কোনো ব্যাপারে জড়ায় নাই, সে জন্য?

তাহলে, তোমরা সাবান বক্সের ব্যাপারে কিছুই জানো না?

আচ্ছা...! প্রিয়া তাকে প্রায়ই ভয় দেখায়, এইটা নাকি?

প্লিজ ম্যাডাম আমাদেরকে বলো

বালু, বলবো তাদেরকে?

অনু, আমরা কী যাবো?

ওকে, বালু। আবার দেখা হবে, বাই

আমি তোমাদেরকে সাবান বক্স এর ব্যাপারে পরে বলবো।

প্লিজ আমাদেরকে বলো। ভুলে যেও না শুধু।

তোর সাহস হলো কীভাবে...

আমাদেরকে ভবঘুরে এবং অকেজো লোক বলার?

ছাড় ওকে। যদি সে এমন ভাবে তাহলে আমরা তাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

আবুলতাবুল কথাবার্তা বলিস না।

যদি সে আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে,

তখন আমি তোদের সাথে পরিচয় করাতাম।

আমি এখন তার বন্ধু হয়েছি মাত্র।

যদি আমি তোদের সাথে এখন পরিচয় করাতাম,

তোমরাও তার বন্ধু হয়ে যাবে।

তাহলে তোদের আর আমার মধ্যে পার্থক্য থাকলো কোথায়?

তাই আমি তাকে এগুলো বলেছি।

বালু, আমার বন্ধু

তুই আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিস।

আপনি কি উঠবেন? এটা মহিলাদের বসার জায়গা।

কে বলেছে আমরা পুরুষ?

ও খোদা!

আমরা কি দেবো?

- হ্যাঁ - আচ্ছা

আমরা জুয়ান মেয়ে থাকায় তারা সিট ছেড়ে দিয়েছে, বৃদ্ধ কোনো মহিলা হবে তারা এমন করতো?

আমাদের কাছে তোমাদের আচরণ বৃদ্ধ মহিলার মতো লাগছিলো, তোমরা তো ডাইনি বুড়ি।

এই মহিলাকে বের করো, কীভাবে সাহস হয় পুরুষদেরকে মারার?

এই মহিলারা হচ্ছে পুলিশ, তারা সিভিল ড্রেসে আছে এখন। তারা দুর্বৃত্তদের ধরছে।

বোন!

কে তোর বোন? খবিশ, তুই বাসের ভেতরে মেয়েদের জ্বালাতন করিস?

বোন

ইন্সপেক্টর ছেড়ে দেন তাদের

পরের স্টপে আরো অনেক অভিযোগ আছে। চলুন, আমরা যাই।

তোদের সময় ভালো, তাই তোমরা বেঁচে গেলে আজ।

যদি আমি তোমাদের আবার বাসের ভেতরে পাই, তাহলে আর তোমরা বেঁচে থাকবে না।

আমাদেরকে ফতুর করে দিলো রে

চালিয়ে যাও, বোন। আমরা পরের সাপ্তাহে একটা বেঞ্জ কার কিনবো।

চুপ কর।

আমাদের ভুল কোথায়? অনেক মানুষ আছে আরো গুরুতর ভুল করে

আমরা ছোটখাটো দুষ্টামি করছিলাম এটার জন্য তাদের কী আমাদেরকে মারা উচিৎ?

আমি এই মেয়েকে ছাড়বো না।

বোন

আরে না, বোন

এই সাদা আর কালোর হাতে মার খেয়ে তুই নির্লজ্জর মতো হাসছিস কীভাবে?

আমরা ছাড়া পেয়েছি।

পরের স্টপে তারা ধরা খাবে।

আমাদের আর্নল্ড, বজ্ঞু এবং সুধা তারা পরের স্টপে আছে।

তখন তাদের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে আমি ভাবছি...

কতোদিন থেকে এরকম দুষ্টামি করছিস তোরা?

তোর মুখেও ভাসছে এই সকল ফালতু কুকাজ গুলো!

তোর নাম কী?

এভাবে তোতলাচ্ছিস কেনো?

আমি বোবা, বোন

তুই বোবা হলে কীভাবে কথা বলতেছিস?

সরি, বোন

সরি কেনো বলছিস?

এগুলো তোদের জন্য প্রয়োজন ছিলো কী?

তাড়াতাড়ি এটা নিয়ে আয়

- কি প্রিয়া? - ভাইয়া

- তুই কী বাইকে করে আমাকে হোস্টেলে নিয়ে যাবি? - অটো নিয়ে চলে যা।

- অন্যকেউ কী আমাকে নিয়ে দিয়ে আসবে? - আমি আসছি। চলো

তুই বস

তুই রেগে আছিস কেনো? তুই কী অটো দিয়ে যেতে পারবি না?

আমি রাস্তায় চলাফেরা করতে পারছি না,

জিবা গ্যাং এর ছেলেরা আমাকে জ্বালাতন করে, ভাইয়া।

ভাইয়া প্লিজ আমার কথা শোন,

- ভাইয়া - কথা বলিস না

আমাকে শুধু হোস্টেলে নিয়ে দিয়ে আয়, ভাইয়া।

না ভাইয়া আমার ভয় লাগছে, ভাইয়া।

যদি বিষু চাচা এগুলো জানেন, তাহলে আমার পড়াশোনা বন্ধ করে দেবেন ভাইয়া।

না ভাইয়া, প্লিজ

বাদ দাও

এই হিজড়াদের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?

এই বেকুবের বাচ্চা?

হিজরা কে? তোর সাহস হলো কী করে আমার ভাইকে হিজড়া বলতে?

যদি তুই প্রতিশোধ নিতে চাস, আমাকে শাস্তি দেয়।

ভাইয়া!

চল

- থাম - আমি থামিয়েছি। কি ব্যাপার?

আয়

থাম

আমি থামিয়েছি। কি ব্যাপার?

এইটা অনুর বাড়ি

হায়রে দুর্ভাগ্য

কত বার তুই আমাদের জোর করে, তার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়াবি?

তুই আমাদেরকে মেরেই ফেলবি?

তোর কী ভেতরে যাওয়ার সাহস আছে?

যদি তাকে তুই চিনতি না, তাহলে ঠিক আছে।

সে তোর বাড়িতে দুইবার এসেছিলো। ও খোদা!

আমি কিছুটা ভয় পাই।

- তাই নাকি? - হ্যাঁ

আমি তোকে এমনি জিজ্ঞাসা করছি, তুই কি তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অপহরণ করছিস?

আমার মনে হয় তুই এটা করতে পারবি না। তাহলে তোর সাহস দেখা,

তাহলে তোর সাহস দেখা,

..আমি খুব উদ্বিগ্ন। আমি বলছি তুই ভেতরে যা, যা ভেতরে

আরে যা

যা বেটা

তোর হাত পা ভেঙে তারপর আসবি রে মামা

"ইংলিশ সাবে অনেক মিসিং ছিলো, তাই সেই মিসিং সাব গুলো ডায়লগের সাথে মিল রেখে পরিপূরণ করে দিলাম"

অনু এই মাত্র বেরিয়ে গেলো

তুমি কি তাকে চেনো?

সে হলো বালু.

সমস্যা নেই

সে হচ্ছে মি. শ্রীরাম।

আমার নাতনী জামাই।

শ্রীরাম নামে আমার একটা ফ্রেন্ড আছে। সে আমার সহপাঠী।

সে আমার সাথে পড়ালেখা শেষ করেছে। তাই, আমি তাকে খুব পছন্দ করি।

- আমাদের বিয়ের দিন আবার সাক্ষাৎ হবে। - ওকে। - বাই।

ঈশ্বরের রহমতে, সবকিছুই ঠিকঠাক ভাবেই হয়েছে।

- ওকে - বাই

- নমস্কার - নমস্কার

- বাই - আবার আসবেন

- তুই কোথায় গিয়েছিলি? - কেনো?

তারা কারা?

তারা হচ্ছে বরের পক্ষ, যার সাথে প্রিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে।

তাদের মধ্যে বর কে?

ওই যে...

যদি আমি বিয়ে করি, সেই মানুষটা কেনম হবে জানো?

আমার বর সবকিছুর ব্যাপারে নাম্বার ওয়ান হতেই হবে।

তার চেহারা অবশ্যই আব্বাসের মতো হতে হবে। জকি জন এর মতো তার মাঝে বিশেষ কিছু থাকতে হবে।

তার বডি অবশ্যই র‍্যাম্বোর মতো হতে হবে। চোখ গুলো শাহ্‌রুখ খানের মতো হতে হবে।

এই চুপ করবি।

তোর বর শুধু কম্পিউটার তৈরি করতে পারবে।

ভাইয়া

তুই কি তোর বোনের জন্য এতোটুকু করতে পারবি না?

রুমগুলো তুই সুন্দর করে গুছিয়ে নেয়।

চাচী, তোমাদের হয়েছেটা কী?

কীভাবে তোমরা একটা টাকলার সাথে তার বিয়ে ঠিক করে ফেললে?

সে তোর মতো অকর্মা নয়।

সে একজন ডাক্তার।

এবং ভালো উপার্জন করে।

আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি না, আপনি কথা বলবেন না। তোমরা সত্যি সত্যি ওর জন্য বর খুঁজেছো?

সে হয়তো তোমাদের কাছে নিরুপায় হয়ে, হতে পারে সে মাথা নাড়িয়েছে।

আর তোমরা যা ইচ্ছা তাই করবে?

কি আজেবাজে কথা বলছিস?

কি আজেবাজে কথা বলছি?

ভাইয়া, আমার কথা শোন

তিনি এতো খুঁজে একটা ভালো বরও পান নি।

ভাইয়া, কেনো তুই এতো উত্তেজিত হচ্ছিস?

আমি এই বিয়ে মেনে নেবো না।

তুই কী পাগল হয়ে গিয়েছিস?

আমি এটা কীভাবে মেনে নিতে পারি রে?

তোর পছন্দের কথা আমাকে জানিয়েছিলি।

আর তার তোকে নিয়ে মজা করছে।

ভাইয়া, আমি থাকে ইনভাইট করেছি।

আমিই তাদেরকে আসতে বলেছি, ভাইয়া।

সে আমার সিনিয়র।

সে আমাকে গত তিন বছর ধরে ভালোবাসে, আমি তা জানতাম না।

সে তার দ্বিধা ছেড়ে সদ্য আমাকে জানিয়েছিলো।

তাই আমি তাকে বলেছি আসতে।

সে বলেছে বলে তোকেও সম্মতি দিতে হবে?

তুই তাকে বলতে পারিস নি অন্য কাউকে খুঁজে নিতে?

যদি অনু তোকে আগামীকাল এই একই কথা বলে তখন তুমি কি করবে?

এটা খুব ভয়জনিত ব্যাপার তাই না?

আমি এটা ভেবেছিলাম, ভাইয়া

যদি অনু তোকে কোনো কারণে প্রত্যাখান করে,

..আমি জানি তুই এটা সহ্য করতে পারবে না।

কিন্তু আমি তোকে দেখে বুঝতে পেরেছি, ভালোবাসা আসলে কী!

আমি বুঝতে পারতাম তার নিদারুণ যন্ত্রনা।

তাই, আমি এই বিয়ের জন্য রাজী হয়েছি, ভাইয়া

তোর কী আজ চলে যাওয়া উচিৎ?

বাচ্চারা তার সাথে দুষ্টামি করবে, চাচী

আমি অবশ্যই প্রিয়ার বিয়েতে উপস্থিত হবো যতো সমস্যা থাকুক না কেনো।

এগুলো কী আমরা সেখানে পাব না?

- এগুলো কেনো, আম্মা? - ভাইয়া

তুমি শান্ত থাকো

আমি তোমার সাথে একা মুম্বাইয়ে আসবো

তুই কী এখানে যত্নহীন আছিস?

না

আমি চলে যাবো

এতো ভালো সিদ্ধান্ত নিতে এতো দেরী করলে কেনো? রামু, তাকে তোর সাথে নিয়ে যা।

এটা কী মজা হচ্ছে?

আমাদের পরিবারে সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন।

অন্তত, তুই ডিগ্রিটা শেষ করতে পারিস না?

তোর পরিকল্পনা কী?

যদি সে এইভাবে চলে যেতে চায় তাহলে তো ভালোই, তা না হলে তার আর বিশ বছর পরেও বি এ শেষ হবে না।

তা মন বদলাবার আগেই তাকে নিয়ে চলে যা।

মনে হয়ে আজকেই তুমি মুম্বাইর জন্য এ শহর ছেড়ে যাবে,

প্রিয়া টেলিফোন করে বলেছিলো।

হঠাৎ করে এসব কেনো?

আর কতো বাবার কাছে বকা খাবো?

আমি সেখানে যাচ্ছি চাকরি একটা জন্য।

যাইহোক, কোনো বিয়ে নাকি?

তুমি মনে হয় আমাদের বাড়িতে এসেছিলে? দাদা আমাকে বলেছিলেন।

শ্রীরাম কে তুমি দেখেছো? তোমার কী তাকে পছন্দ হয়েছে?

সে দেখতে খুব সুদর্শন।

এটার সম্পর্কে আমি কী বলতে পারি?

যখন শ্রীরাম শেষবার ইন্ডিয়াতে আসলো, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম দাদার সাথে দেখা করার জন্য।

সে দেখা করেছিলো।

তাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।

প্রথমে দাদা এটা মেনে নেন নি।

তারপর আমি দাদাকে অনেক কষ্ট করে রাজী করালাম।

চারু খুব ভাগ্যবান, তাই না?

- চারু! - হ্যাঁ

শ্রীরাম তাকেই বিয়ে করছে, বলেন নি?

চারু!

তুমি চারুকে চেনো না?

ট্রেন ধরার সময় হয়ে গিয়েছে।

অনু আরেকটা মিনিট অপেক্ষা করো, আসছি।

আমি মুম্বাইয়ে যাচ্ছি না।

কেনো?

আমার পড়াশোনা সাথে সম্পর্কে কি?

তোমরা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন, আমারও কি তোমাদের মতো নষ্ট হওয়া উচিৎ?

তুই আমাকে একটা ভালো শিক্ষা দিলি।

তোকে বিশ্বাস করে তোর জন্য টিকেট কিনেছিলাম,

..আমার জুতা দিয়ে আমাকে মারা উচিৎ।

ও কি অনু?

তোমার আদরের বোন আমাকে সব কিছুই বলেছে।

আমাদের ভাগ্য সবসময় মাঝাখানে এসে আটকে যায়,

তাই সাবধান হয়ে থাকিস।

ভাইয়া

কী?

বল না

বল

আমার পকেটে কোনো টাকা নাই। মায়ের কাছে ২০০০ টাকা দিয়ে দিও।

উনি কি তোমার বড় ভাই?

হ্যাঁ

- মুম্বাইয়ে গিয়ে আমাকে টেলিফোন করো। - আমি মুম্বাইয়ে যাচ্ছি না তো।

কেনো?

ভাইয়া মন খারাপ করবে।

সে বলেছে, এখন মুম্বাইয়ে সবাই কেনো যাবো?

প্রথমে লেখাপড়া শেষ করতে।

তারপরে ব্যাপারটা দেখা যাবে। সে খুব জেদি।

তুমি কী বললে?

ভাইয়ার কথা তো ফেলে দেওয়া ঠিক হবে না, তাই না?

আমি ওকে বলেছি।

বালু এটা কী ঠিক হলো?

তুমি মিনিটে মিনিটে তোমার মন বদলে ফেলো

যাইহোক, তোমরা বন্ধুরা কোথায়? কাউকে দেখছি না যে?

আজকে শনিবার না?

হয়তো সবাই ডিস্কতে চলে গেছে।

তাহলে তুমি যাও নি কেনো?

তুমি কি জানো না?

মেয়েদের নিয়ে ডিস্কতে যাওয়া বাধ্য, আমার এমন কেউ নেই।

কিন্তু আমি ডিস্কোতে যেতে খুব পছন্দ করি।

যখন আমি একবার গিয়েছিলাম, তারা আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দিয়েছিলো।

আমি কি না দেখে চলে আসবো?

আমি কাঁচের গ্লাসের দিকে উকি মেরে তাকিয়ে দেখেছিলাম।

এটা একটা বেশ মজার অভিজ্ঞতা, সর্বোত্‌কর্ষ ভাবে বন্ধুদের সাথে নাচানাচি করা।

এইগুলো উপর মহলের লোকের জন্য।

বালু, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমাদের বাসায় এসো।

- বালু - সে এখানে নেই

- বালু এখানে নেই?

আমি কি তোমাকে মিথ্যা বলছি যে বালু এখানে নেই?

তাই নাকি?

সে আসার পরেই এটা তার কাছে দিও। সাবধানে ধরো এটা।

এটা কী?

কিছুই না, চাচা। শুধু একটা পোস্ট কার্ড।

শুধু একটা পোস্ট কার্ড!

তোর বাবা ১০ টা পোস্ট কার্ড চেয়েছিলো।

- না - তাহলে আমাকে বল এটা কী?

চাচা, আগামীকাল অনুর জন্মদিন।

এই উপহার দিয়ে

অনুকে আমার ভালোবাসার কথা জানাতে চাই।

কিন্তু আমি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করবো না।

সে নিজেই থেকে আমার ভালোবাসা বুঝে নিবে।

তাই, অনুকে আমি এই ১০০০ পোস্ট পাঠাচ্ছি।

কাকে দিয়ে পাঠাবি?

চাচা, তুমি কি এখানে আমার ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছো?

কে এটার পরিকল্বনা করেছে?

আমার বন্ধুরা

তারা বানিয়েছে

তোকে অবশ্যই তোর হৃদয়ের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে হবে। তাকে উপহার দিয়ে এটা প্রকাশ করা উচিৎ না।

সে তোর জীবন, এটা তাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে। কথা গুলো ভেবে দেখিস।

সে হাসছে কেনো? আমাকে কি হাসির মতো কিছু লাগছে?

যাইহোক, এসব কী?

কেনো তুমি সুট আর এইগুলো নিয়ে এসেছো?

- আজকে তোমার জন্মদিন, তাই না? - হ্যাঁ

এটা কি? তুমি কী খুব ধনী?

আমি উপলব্ধি করলাম তোমার জন্মদিন হিসাবে মুভিতে যেমন দেখি, অতিতিগণরা সুট পরে দলবদ্ধ হয়ে নাচানাচি করে,

তাই, আমি এই এরকম হয়ে এসেছি।

কিন্তু, আমি এখানে এসে কাউকে দেখছি না।

আমি আমার জন্মদিন এভাবে উদযাপন করতে পছন্দ করি না।

তুমি এটা খুব সহজ ভাবে নিলে।

তুমি জানো, আমি কতো সংগ্রাম করে এই ড্রেস্টা নিয়ে হাবভাব নিয়েছি?

তুমি কী আমার জন্মদিনকে উদ্দেশ্য করে, এই ড্রেস কিনেছো?

হ্যাঁ

এটা কি? আজকে তো শুধু আমি তোমাকে দেবো, তাই না?

আমি হয়তো কোনো একদিন এটা অবশ্যই তোমাকে দিতাম।

কিন্তু আমি ভাবলাম এটা আজকে তোমাকে দেই।

তোমার বাসাতে গিয়ে এটা খুলবে।

খুব খেয়াল করে দেখো, তুমি বুঝতে পারবে।

- তুমি কী এটা তোমার রক্ত দিয়ে লিখেছো? - হ্যাঁ।

তুমি এটা কেনো করলে, বালু?

আমি এইরকম কিছু তোমার কাছ থেকে আশা করি নি।

তুমি বোকার মতো এটা কেনো করলে?

তুমি কী আজকে আমার মন খারাপ করার জন্য এসেছো?

বালু, তুমি কখন আসলে?

এই তো এখন আসলাম

দাদা তোমার জন্য কী উপহার এনেছেন তুমি কি তা জানো?

একটা কার

এসব কেনো, দাদা?

আজকে আমার নাতনীর জন্মদিন বলে কথা

আমি শহরের সকলকে নিমন্ত্রণ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি তার প্রত্যাখান করলে।

এটা তোমার দাদা পক্ষ্য থেকে, আসো।

তোর কী কোনো হুসবুদ্ধি নেই?

আমরা তোকে কতো আইডিয়া দিয়েছিলাম?

তাহলে এটা করলে কেনো?

তারপর আবার, তুই রক্ত দিয়ে লিখেছিস।

আমরা নিচু শ্রেণীতে বসবাস করি এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু তুই আজ সেটা আরো খারাপ ভাবে প্রমাণ করে দিলি।

এইসব পুরনো স্টাইল রে

তারপর, সে অ্যামেরিকা থেকে এসেছে।

আমাদের উচিৎ সেটার জন্য সঠিক পথে যাওয়া।

সময়টা ভালো, শুধু হ্যাপি বার্থডে লিখাতেই এত কিছু ঘটেছে।

যদি তুই আই লাভ ইউ লিখতি তাহলে কী হতো?

চুপ কর

এতো সবের পরে সে তোকে ঘর থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেয় নি।

আমি কি সত্যি বলছি? এগুলো আর মনে রাখিস না। মুছে ফেল।

সে কি বলেছিলো?

সে বলেছিলো না, "এ" ক্লাস মেয়েদের পাওয়া খুব কষ্টকর ব্যাপার?

কি নিষ্পাপ ভাগ্য তার!

এটা কী?

অনু এটা দিয়েছে

এটা খুলে দেখ

কি এটা?

আমি জানি না

এটার ভিতরে কিছু চিঠি আছে রে, বালু

বালু! আমার জীবনে এই নামটা কোনোদিনও ভুলতে পারবো না।

তার কারণ, প্রত্যেকটা মুহূর্ত কিন্তু তার আশীর্বাদ ছাড়া আমার বেঁচে থাকাটা কিছুই না।

আমার খুব খারাপ লাগে, সবার জন্য তুমি খেয়াল নাও, কিন্তু তোমার খেয়াল করার জন্য এমন কেউ নেই।

আমি জানতে পারলাম, তুমি একজন খুব ভালো ক্রিকেটার।

এটা এখন মনে হয় যে, তুমি এটি উপর মনোনিবেশ করতে অক্ষম।

তোমার আবার উচিৎ এটার উপর ভালো মনোনিবেশ করারা, তাহলে তুমি একজন ভালো খেলোয়াড় হবে।

সব মানুষের হয়তো জীবনে একটা লক্ষ্য থাকে।

যদি তুমি তোমার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারো তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি হবো আমি।

আমার এই "আদর্শ নীতিবাণী" উপহারটা তোমকে সর্বদাই মনে করিয়ে দেবে, জীবনে চলার ধরনধারণ।

এই এই কাহিনীটাই যথেষ্ট, তোর ভালোবাসা সফল।

এখন আমি বুঝতে পারছি সে কেনো তোকে বকেছে।

- তোর আচার আচরণ নিচু শ্রেণীর মতো। - হ্যাঁ।

যখন সে তোর এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপার নিয়ে আগ্রহী প্রকাশ করছে,

এটা পরিস্কার যে, তুই তার হৃদয়ের ভেতরে বসবাস করছিস।

তোর ভালোবাসা প্রকাশ কর, কোনো রকম দ্বিধা ছাড়া। প্লিজ যা।

- যা, তাড়াতাড়ি যা, যা বালু - গিয়ে আমাদেরকে বলিস এর ফলাফল কি হলো

- তুই কেনো দ্বিধা করছিস? - যা তো, এগিয়ে যা

থামো বাবা

তেল খননকারীরা তাদের জায়গায় বোমা স্থাপন করছে, কিছু সময় থেমে তারপর যাও।

কি দেখছিস?

এভাবে তাকাচ্ছিস কেনো?

বোমগুলো ওখানে ফাটবে না, এখানে ফাটবে

সেদিন তুই কী বলেছিলি?

তার দিকে তাকা।

চাচা আবার ক্রিকেট খেলে এসেছেন।

কী? এটা কি টেন্ডুলকারের গিফটে দেওয়া ব্যাট?

- অনু এটা তাকে গিফট দিয়েছে। - ব্যাট টা দেয়।

ব্যাট টা দিবি কি না?

অনু?!

তাহলে আমি তোমাকে একটা চুমা দেবো।

এটার জন্য মারলি!

তোর সামনে আমি এই ব্যাটটা ভেঙে টুকরো টুকরো করবো।

দেখ কি করি

ভালো করে দেখ...

আম্মা, এই নিন ফ্যাক্স ম্যাসেজ।

কি হয়েছে, অনু?

দাঁড়াও আমি দাদাকে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি

চারু, দাদাকে ফোন করো, দাদাকে এটা আমি জানাবো।

বালু, এটা চমৎকার ব্যাপার।

তুমি এসেছো যখন, আমার একটা দারুণ খুশির খবর আছে!

তুমি জানো, আমি হারভার্ড এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছি?

আমার কতো স্বপ্ন ঘিরে ছিলো এটাকে নিয়ে, জানো তুমি?

আমার সারারাত জেগে অনেক পরিশ্রম করে পড়ালেখা করার ফসল এটা।

আমার এখন কোনো চিন্তা নেই।

আজকে আমি খুব খুশী।

যাইহোক, তোমাকে দেখতে এমন মনমরা লাগছে কেনো? কি হয়েছে তোমার?

ছোট একটা দূর্ঘটনা ঘটে ছিলো।

সকালে তোমাকে আমার এভাবে বকা উচিৎ হয় নি।

কিন্তু তুমি এটা ভুল করেছিলে, তাই না?

কখনো এরকম বোকামি করো না।

মনে থাকবে?

দাদা

কিরে?

আমি হারভার্ডে ভর্তির জন্য সুযোগ পেয়েছি, দাদা।

আমি তিনদিনের ভেতরে অ্যামেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবো।

তোমার আশীর্বাদ সত্যি হয়েছে, দাদা।

- ভাইয়া, - কি

আপু তোমাকে ডাকছে

সে কোথায়?

ওখানে

ভাইয়া এদিকে আয়।

- বুজ্জি, তুই এখানে কেনো? - আমাকে কেনো ডেকেছিস?

এদিকে আয়, ভাইয়া

অনু অ্যামেরিকাতে চলে যাবে।

তুই এরজন্য আমাকে ডেকেছিলি? আয়

তুই এটা সহজভাবে নিচ্ছিস কেনো, ভাইয়া?

এই আয়

অনু তোর ভালোবাসা প্রত্যাখান করেছে?

না

তুই অনুকে বলিস নি?

আমি অনুর সাথে কথা বলবো।

বুজ্জি তুই কি আমাকে বলেছিলি,

যে প্রথমে বন্ধু বানাতে তারপরে ভালোবাসা প্রকাশ করতে?

কিন্তু তার সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পরে আমি বুঝতে পারলাম,

আমার এইসব ফাউল চিন্তা ভাবনা।

আমি তার জন্য আমার হৃদয়ে বিশাল ভালোবাসার পরিপূর্ণ রেখেছি।

কিন্তু তার চোখে, আমি একজন তার বন্ধু।

একজন খুব ভালো বন্ধু।

এইটুকুই মাত্র।

যখন সে খুশী মনে বিদেশে যেতে চায়,'

..আমি চাই না আমার ভালোবাসার কথা তাকে বলে, তার মন খারাপ করতে।

হ্যাঁ।

তাকে অন্যকেউ পছন্দ করে অনেক সুখী রাখবে, আমার ভালোবাসার চেয়েও।

তুই তার জন্য এতো পাগল হয়েছিলি,

শুধু এই কথা গুলো বলার জন্যে?

তুই জানিস সত্যিকারের ভালোবাসা মানে কী?

ভালোবাসার মানুষটাকে সবসময় হাসি খুশি রাখা।

এটাই আমার সত্যিকারের ভালোবাসা।

সে কখনই জানবে না আমার ভালোবাসা সম্পর্কে।

আমি চাই না অন্যকেউ এটা প্রকাশ করুক।

আমি জানি তুই এটা প্রকাশ করবি না।

ভাইয়ের সাথে কথা বলার এটাই কি সময়?

জামাই বাবা সেখানে একা বসে আছে, আয়

- আচ্ছা - তাড়াতাড়ি করো

- আচ্ছা - তাড়াতাড়ি করো

- নববধূ এবং জামাইকে নিয়ে আসো তাড়াতাড়ি - আচ্ছা

- সময় প্রায় শেষ

- আমি ট্রাকের সাথে যাবো - আচ্ছা

- আমি ট্রাকের সাথে যাবো - আচ্ছা

- যাও - আচ্ছা, ভাইয়া

- সব কিছু তুলেছিস? - সব কিছু ঠিকঠাক আছে

তাড়াতাড়ি

ভাইয়া, সময় শেষ। তাদেরকে ছেড়ে দাও তাড়াতাড়ি।

সময় শেষ তাড়াতাড়ি করো।

ধীরে ধীরে যেও। নুতন বন্ধন এটা।

- বিদায়, চাচা - বিদায়, মা

চাচী আম্মা, তুমি কি আমাদের বাড়িতে আসবে?

আমি আমার কাজ শেষ করে আসবো।

- বালু ভাইয়া কোথায়? - সে হয়তো কোথাও ঘুরে বেড়াছে। তার জন্য অপেক্ষা করিস না।

সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে প্রিয়া।

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া, এখানে তুই কী করছিস?

আমি চলে যাচ্ছি।

বুজ্জি, তুইও আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিস?

ভাইয়া

এসব কি ভাইয়া?

তোর মতো এতো ভালো হৃদয় কি কারো আছে?

যদি তুই আমাকে প্রতিজ্ঞা না করাতে,

তাহলে আমি তোর ভালবাসার কথা বলেই দিতাম।

তোর ভালোবাসার জন্য, আমি আমার জীবন দিয়েই দিতাম ভাইয়া।

এখানে তোর কোনো ভুল নেই রে।

শান্ত হো।

কাঁদিস না।

আয় না, সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে।

আমি খুব দুঃখিত প্রিয়া, আমি দেরী করে ফেলেছি।

- ওগো আমার মেয়ে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। - জানকী আসো।

ভেতরে আসো অনু।

বালু, আমি তোমাকে ঈর্ষান্বিত করি।

কেনো?

আমি তোমার পরিবারের মতো পরিবার আর কোথাও দেখি নি।

ভেতরে আসো।

না, বালু।

আমার ফ্লাইট আগামীকাল সকাল ১০ টায়।

আমি এখানে এসেছি তোমার বাবা মা'র আশীর্বাদ নিতে।

কিন্তু বর্তমানে তাদের মনের অবস্থা...

ধুরো, এধরনের কিছুই নয়।

তাদের আরো বেশি মন খারাপ হবে যদি তুমি তাদের না জানিয়ে যাও।

ভেতরে আসো।

- আমি আমার মেয়েকে না দেখে বাঁচতে পারবো না। - জানকী।

ভেতরে আসো অনু।

আম্মা

আম্মা, অনু এসেছে তোমাদের কাছে আশীর্বাদ নিয়ে বিদায় জানাতে।

সে আগামীকাল অ্যামেরিকাতে চলে যাবে।

আশীর্বাদ করি সবসময় ভালো থাকো, মা।

আংকেল কোথায়?

বড় চাচা এবং ভাইয়া প্রিয়াকে পৌঁছে দিতে গিইয়েছেন।

তারা আগামীকাল আসবে।

সমস্যা নেই, আমি তাদেরকে বলবো।

আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।

আমি তাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।

বালু, ভুলো না আবার, আগামীকাল সকাল ১০ টায় আমার ফ্লাইট।

হুম

বাবা

শান্ত হও।

অনু কি হয়েছে।

তুমি কি দাদার খেয়াল রাখবে?

অবশ্যই।

অনু, আমাকে এয়ারপোর্টে আসতে না করছো কেনো?

সেখানে আপনি সাহসীভাবে আমার বিদায় দিতে পারবেন না।

আপনি এয়ারপোর্টে মন খারাপ করে ফেলবেন।

আপনি আপনার মন খারাপ দেখে যেতে পারবো না, দাদা।

আচ্ছা, আসো।

বিদায়, দাদা।

তুমি একটা বিষয় নিয়ে আমাকে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, মনে আছে তোমার?

তোমার শিক্ষা এবং প্রজ্ঞা অবশ্যই হতে হবে, এই দেশের উন্নয়নের জন্য।

সে জন্যই আমি আমার প্রিয় মানুষটাকে একা পাঠাচ্ছি।

সে জন্যই আমি আমার প্রিয় মানুষটাকে একা পাঠাচ্ছি।

বিদায় দাদা

অনু

কেনো তুমি এখানে এসেছিলে?

কেনো তুমি আমাদেরকে এভাবে কষ্ট দিয়ে চলে যাচ্ছো?

বালু

বালু

তুমি কোথায়? কাউকে দেখছি না?

ছেলেটির বাড়ি কেমন?

খুব সুন্দর।

আমি অন্য কিছু ভাবছি, তাদের আচারা আচরণ খুব ভালো।

প্রিয়া খুব ভাগ্যবতী।

কিন্তু

যখন তাকে রেখে আসবো, তখন সে খুব বেশি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলো আমি কি করতে পারি?

আমি সবাইকে সান্ত্বনা দিলাম...

- যাইহোক, বালু কোথায়? - সে এয়ারপোর্টে গিয়েছে?

- এয়ারপোর্টে কেনো?

সে তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে নি?

সে কি মহান আত্মত্যাগী কেউ নাকি?

তুমি হচ্ছো তা মা, তুমি কি জানো না তোমার ছেলের মন?

- আমি কি করতে পারি?

- সে আমাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। - আমার মুখ তো কেউ বন্ধ করে নি।

দেখো, আমি আমার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে পারিনি বলে, আমি আজ অবধি ব্যাচেলার।

সে সত্যিই আমার উত্তরাধিকারী বলে মনে হয়, কেবল এর কারণ আমি তাকেও আমার উত্তরাধিকারী বলি।

আমি তাকে ছাড়বো না।

আমি ওই মেয়েকে ছাড়বো না সে যেখানেই যাক না কেনো।

কি ব্যাপার, অনু?

কিছু না।

আমার কাজিন, দাদা তাদেরকে কেনো এয়ারপোর্টে নিয়ে আসলাম না।

আমি শুধু তোমাকেই বলেছি আসতে

আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবছি সেটা কেনো?

আমি কি তোমাকে বলবো?

দাদা এবং বাকি সবাই তোমার হৃদয়ের কাছাকাছি।

তাদের ছেড়ে চলে যাওয়া বেশ বেদনাদায়ক।

আমি এমন কোন দৃশ্য নেই তোমার

আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া এটা তেমন একটা বেদনাদায়ক নয়।

আমি আসলেই ওই ধরণের মানুষ, ঠিক না?

তুমি অনেক বেশি কথা বলতে শিখে গিয়েছো!

তুমি,

তোমার আম্মা, আব্বা,..

চাচা

প্রিয়া

বন্ধুরা

আচ্ছা, আমি যে চাচার সাথে না দেখা করেই চলে আসলাম।

দাঁড়ান,

কোথায় যাচ্ছেন আপনি?

ভেতরে।

আমি তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে টাকা ফেলে এসেছে।

খুব জরুরি ব্যাপার আছে।

যান এখান থেকে।

তুমি আমাকে না চেনে কথা বলছো। আমি একজন এক্স কর্নেল।

তো আমি কি করবো?

পুলিশ।

আপনার সাহস হলো কি করে আমাকে থাপ্পড় মারার?

- আমাকে অবশ্যই ভেতরে যেতে হবে। - খুব অহংকারী!

ছাড়ো আমাকে।

- বালু - কি হয়েছে?

আর্নল্ড সেখানে কাঁদছে। একবার আয় তো।

অনু, আসছি।

ছেড়ে দেয় আমাকে।

এসব কী?

সে চায় তোর ভালোবাসার কথা অনুকে জানাতে।

আমি তোদের অনেকবার বলেছি তোমার আমার এই ব্যাপারে, কোনো কথা বলবে না।

তুই এতো কিছু কেনো করলি? তোরা তাকে চিনিস না।

অনু চলে যাওয়ার পরে সে তার জন্য নীরবে বসে চোখের পানিই মুছবে।

তোর যা মন চায় আমাকে করিস, আমি তাকে গিয়ে বলবো। সব কিছু।

যদি তুই অনুকে গিয়ে বলিস তাহলে তুই আমার মরা দেহ দেখতে পাবি।

বাদ দেয়।

না। দয়া করে এটা বাদ দেয়।

অনু আসছে। তোর চোখের পানি মুছ।

কি হয়েছে, বালু?

তুমি চলে যাচ্ছো তাই আর্নল্ডের মন খুব খারাপ লাগছে।

এসব কী আর্নল্ড?

আমি তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই, তুমি কী মন খারাপ করবে?

বলো.

তুমি চলে যাওয়ার পরে আমাদের ভুলে যাবে না, তাই না?

তোমাদেকে কি আমি ভুলতে পারি?

তুমি তো বালুর বন্ধু, তাই না?

সত্যিই আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

- কী হয়েছে? - তোর অটোগ্রাফ দেওয়া উচিৎ নয়।

কেনো?

বালু, তুমি কেনো দাও নি?

বালু

অনু

অনু, কি হয়েছে?

আমি

কি যেন একটা মিস করে ফেলতেছি, এমন মনে হচ্ছে এখন।

তুমিও?

আমি এখন এটা উপলব্ধি করছি...

যখন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি।

তোমাকে ছেড়া চলে যাওয়া,

সেটা আমার জন্য অসাধ্য ব্যাপার।

আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারবো না।

আমি পারবো না।

তুমি অবশ্যই যাবে।

তোমাকে অবশ্যই যেতে হবে।

তোমার স্বপ্ন পূরন করার জন্য।

তোমাকে অবশ্যই যেতে হবে।

তুমি ওখানে পড়ালেখার করার জন্য কতো কষ্ট করেছো?

একটি পবিত্র ভালোবাসা এবং সব কিছু জন্য, আমাদের এটা মেনে নেওয়া উচিৎ।

আমরা কিছু দিন পর দুজন এক হয়ে যেতে পারবো।

কিন্তু তুমি কি এই সুযোগ আর পাবে?

তুমি কি এটা বলেছিলে না যে,

ছেলেদের অবশ্যই একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত?

তোমারও একটি লক্ষ্য আছে।

আমার কাছেও এখন একটা লক্ষ্য আছে, তুমিই সেটা আমার মাঝে গড়ে দিয়েছো।

শুধু মাস কিংবা বছরের জন্য নয়,

আমি তোমাকে নিয়ে একসাথে বেঁচে থাকার জন্য, মৃত্যুর আগ অবধি পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।

দয়া করে তুমি যাও অনু।

ভালোবাসাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য গুলোকে অর্জন করবেই।

সাবটাইটেলটির অনুবাদক:- Mahir Munim www.facebook-twitter.com/itzmunim ধন্যবাদ আপনাকে বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে সুন্দর একটি তেলুগু মুভি উপভোগ করার জন্য। সাবটাইটেলে যদি কোথাও ভুলত্রুটি মনে হয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি ভুলত্রুটি গুলো আপনি সুন্দর ক্ষমার দৃষ্টিতে নিবেন। ভালো থাকুন আপনার অভ্যাসের ভেতর বাহির জুড়ে :) ধন্যবাদ।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.