Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
⭕::- আয়না -::⭕
Bangla Subtitle Created By :.:.: AKTAR HOSSAIN :.:.:
এই দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত একটা শট!
আম্মুকে তোমার মা'কে ফোন করতে বলবো?
জানি না, উনি রাজি হবেন কি-না।
আসি তাহলে। খোদা হাফেজ!
আচ্ছা এমনিই বলবো আমি।
মিসেস. সাদেঘি!
মিসেস. সাদেঘি!
তুমি এখনো এখানে?
আমার মা আসেনি এখনো।
কেন?
তোমার জন্য কি সাধারণ প্রতিদিনই আসে?
হ্যাঁ।
- কোন শ্রেণীতে তুমি? - প্রথম।
- মিসেস. মালেহি'র ক্লাসে? - না, মিসেস. হাশেমি'র।
ঐ যে দ্বিতীয় তলার দুই নম্বর শ্রেণীকক্ষ দেখছেন না?
এখানেই থাকো।
তোমার মা যে-কোনোসময় এসে পড়বে।
যদি উনি না আসেন?
আসবে।
আমি বাজারে যাচ্ছি। খোদা হাফেজ।
ক'টা বাজে, আঙ্কেল?
আমার ঘড়ি নষ্ট।
ধন্যবাদ।
ভা
ভাবা
ভাবানু
ভাবানুবা
ভাবানুবাদে
ভাবানুবাদে:
ভাবানুবাদে: আ
ভাবানুবাদে: আক
ভাবানুবাদে: আকতা
ভাবানুবাদে: আকতার
ভাবানুবাদে: আকতার হো
ভাবানুবাদে: আকতার হোসে
ভাবানুবাদে: আকতার হোসেন
দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়ের...
ডান পাশ দিয়ে আবারো শটের চেষ্টা...
ইরানি খেলোয়াড় আলি দাই'য়ের বিরুদ্ধে ফাউল করায়...
রেফারি দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়কে একটা হলুদ কার্ড দেখালো।
খাবারের কুপনগুলো অবশ্যই মেয়াদ শেষ হবার আগেই ব্যবহার করবেন।
জলদি করো, মা। আমার তাড়া আছে।
দক্ষিণ কোরিয়ানরা শুরু থেকেই...
বেশ দৃঢ়ভাবে খেলছে।
গরমা-গরম বিটরুট নিন!
সোজা ওভেন থেকে বের করে আনা!
গরমা-গরম বিটরুট নিন!
গরমা-গরম বিটরুট!
নিন গরমা-গরম বিটরুট!
তাহলে আপনি ওকে নিজ বাসায় নিতে রাজি?
আচ্ছা। সমস্যা নেই।
অসংখ্য ধন্যবাদ।
মিসেস. সাদেঘি!
তুমি এখনো যাওনি?
আমার মা'কে দেখেছেন?
ওর কী সমস্যা?
মা এখনো আসেনি।
আপনার ছেলের জন্য একটা জ্যাকেট রয়েছে।
মানে কী বলতে চাইছো?
আমরা কখনোই ধার করা কাপড় পরিনি।
ধার করা! সবই তো ধার করা।
এমনকি আমার খেতাবও।
সর্বোপরি, আমি আসলে কোনো জেনারেল নই।
এই জ্যাকেটটা দেখুন। কত সুন্দর করে কাটা।
আমি সমিতির দোকানে জিনিসপত্র এনে বসে থেকে সেলাই করিয়েছি।
ও এটা পরে কখনোই বিয়েতে আসবে না।
কিন্তু আমাদের আত্মীয়দের মধ্যে শুধু আপনিই এদিকে থাকেন।
ও আমার একমাত্র মেয়ে।
তাই চাই ওর বিয়েতে আপনারা ভালো কাপড়...
পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত থাকুন।
ভালো কাপড় পরে যেতে বলছো?
তা তো আছেই।
আর ওগুলোতেই আমাদের ভালো মানায়।
যাইহোক, সিদ্ধান্ত আমার ছেলে নেবে।
আমি কি করবো, মিসেস. সাদেঘি?
কোথায় থাকো তুমি?
ওদিকে।
খেলার মাঠে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো।
প্রিয় মিসেস. সাদেঘি!
ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে একদমই চিন্তা করবেন না।
আমি ওর একটা ব্যবস্থা করছি।
কী করবো আমি?
রাস্তায় তো আর থাকতে দিতে পারি না।
ওর কিছু হলে দায়ভার আমার ওপরেই বর্তাবে।
যা বলেছি ভেবে দেখবেন।
এবং অবশ্যই আসবেন, প্লিজ।
আমায় তো আর লোকে এমনি এমনি জেনারেল ডাকে না!
মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেবো আমি।
পৌঁছে গেছে ধরে নিন!
তুমি কোনদিকে যাও, মামনি?
কীভাবে যাও বাসায়?
প্রথমে আমরা ওদিকে, এক বাসস্ট্যান্ডে যাই।
তারপর ওখান থেকে ইয়া বড়ো একটা বাসে উঠি।
ইয়া বড়ো, বুঝেছেন?
আমি তোমায় বাইকে করে...
বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে আসবো।
কেমন?
ও ডাগর একটা মেয়ে।
আর আমার মা আসলে কী হবে?
মিসেস. সাদেঘি বলে দিবে যে...
আমি তোমায় বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গেছি।
ওকে নিয়ে একদমই চিন্তা করবেন না, মিসেস. সাদেঘি।
আমি ওর ব্যবস্থা করবো।
বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেবো ওকে আমি।
তবে অনুরোধ করছি বিয়েতে কিন্তু আপনাকে আসতেই হবে।
কী করবো আমি?
ভদ্রলোকের সাথে যাও।
ও বিশ্বস্ত।
তোমায় বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেবে।
আপনি কি আমার মা'কে জানিয়ে দেবেন?
হ্যাঁ! যাও তুমি।
ভুলবেন না কিন্তু!
আচ্ছা। খোদা হাফেজ।
তোমার ব্যাগটা নিবে না?
এইতো লক্ষ্মী মেয়ে।
যাই হোক, আমার স্ত্রী আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে...
আর বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শুধু চিন্তিত ছিল যেন...
আপনারা মানানসই কাপড় পরে আসেন।
এতক্ষণ আমার ছেলেকে নিয়ে বললে, এখন আমাকেও বলছো?
চাপ দিয়ে কোনো লাভ নেই।
আমরা এমনই।
যা ভালো মনে করেন।
আমি আসি তাহলে।
খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ।
ঠিকভাবে বসেছো?
তুমি স্কুলবাসে যাও না কেন,
এতটা দূরে থাকো যেহেতু?
বলবে না আমায়?
বাবা বলে, ওটাতে খরচ বড্ড বেশি।
তাছাড়াও, আমার মা পাশেই কাজ করে।
তাহলে উনি হয়তো এখনো কাজ করছেন।
না, উনি গত সপ্তাহ থেকে কাজে যান না।
তোমার জন্যই কি মা কাজে যায় না?
না, আমার হাতের জন্য নয়।
উনি আমায় একটা ছোট্ট বাচ্চা দেবেন।
তো মা তোমায় একটা ছোট্ট বোন দেবে?
একদমই না!
আমার একটা ভাই হবে।
উনারা ছবি তুলে বলেছিল ওটা একটা ছেলে।
কী বুদ্ধিমান!
ছবি দেখেই ছেলে বলে দেয়া যায়!
তাহলে একটা ফুটফুটে ছোট্ট ভাই হবে তোমার।
তোমার বাবা কী করে বলেছিলে যেন?
এখানেই তো আশপাশে কোথাও থাকার কথা।
ঐ যে ওটা।
এখানেই অপেক্ষা করো। এক্ষুনি আসছি আমি।
বেশিক্ষণ লাগবে না।
আসছি এক্ষুনি।
ভ্যাকিউম ক্লিনারটা ভুলো না যেন!
না, ভুলবো না।
তো, তোমার বাবা কী করে?
চিকিৎসার কাজ করে।
মানে ঔষধালয়ের কথা বলছো?
জানি না।
তবে উনি হয়তো এটাই বলেন।
আমরা তাহলে একই লাইনের লোক।
দাঁড়ান! থামুন!
কোথায় চললে? এখনো তো আসিনি আমরা।
আমার মা বাসে থাকতে পারে।
ইরানি খেলোয়াড় বাঘেরি...
ডান দিক দিয়ে পেনাল্টি শট নিলো।
- সালাম নাসের! - ব্যস্ত একটা দিন, তাই না?
কী হয়েছে?
যদিওবা দোষটা ওরই ছিল।
দুর্ঘটনার?
আর কী হবে?
খেলা!
সেটার আবার কী?
আমরা হারছি।
- সত্যি? - কোরিয়া দুই গোলে এগিয়ে।
রেডিও শুনছো না তুমি?
আমারটা নষ্ট।
খারাপ খবর।
- সালাম। - খোদা হাফেজ।
মহিলারা পিছনের দিকে।
দরজা খোলো।
গত কয়েক মাস ধরে আপনার জীবনে...
কিছু সমস্যা চলছে।
স্বামীর সাথে ঝগড়া হয় আপনার।
ও বদলে গেছে।
সে আর আগের মতো নম্র নেই।
আপনার হাত দেখে আরেক নারীর আভাস পাচ্ছি।
তাই ওর ওপর নজর রাখবেন।
আমার মতে ওর মনে কিছু চলছে,
কোনো পরিকল্পনা করছে ও।
হয়তো একটা দ্বিতীয় বউ চায়।
ও কি ইদানীং বেশি টাকা কামাচ্ছে?
যতটা পারেন খরচ করুন।
ওকে ধনী হতে দেবেন না, নাহলে আরেকটা বিয়ে করবে।
আপনার হাতের রেখাগুলি জটিল।
দেখতে পাচ্ছি আপনি বোনের মতো...
খুব কাছের একজনকে হারিয়েছেন।
তার খোঁজ জানেন না আপনি।
তবে খুব করে ওকে আবারো দেখতে চান,
কিন্তু সে আপনার থেকে বহুদূরে।
সে'ও আপনাকে দেখতে ভীষণ মরিয়া।
শীঘ্রই তার সাথে কথা হবে আপনার,
আবারো দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার হৃদয়টা জুড়িয়ে যাবে।
থামান! ঐ যে আমার মা!
থামান প্লিজ!
বাস থামাও। ছোট্ট মেয়েটা নামতে চায়।
সে ছেড়ে এসেছে।
বাস থামান।
টিকেট প্লিজ!
আপনার পালা আসতে দিন।
বাসেই ছিলাম আমি।
দাঁড়ান একটু।
আমি আমার স্ত্রী'কে খুঁজছি।
কোথায় সে?
- নাম কি তার? - আজাম।
আমাদের এখানে নামতে হবে।
ঘুমিয়ে পড়েছিলে না-কি তুমি?
কোথায় চললে?
আপনাকে দিয়েছি তো।
নেমেছিলে কেন? ওঠো।
গাড়ি ছাড়ো।
- বাস ভরে গেছে। - দরজা বন্ধ করো!
আপনার মেয়ের হাতটা পড়বো?
ওর ভাগ্য বেশ ভালো।
অনেক কপালে হবে ও।
ওর সফলতা হাতেই দেখতে পাচ্ছি।
বেশ ভালো একটা চাকুরি পাবে।
পরবর্তীতে ওর ওপরেই নির্ভরশীল হতে হবে।
বৃদ্ধ বয়সে আপনার সাহায্য করবে ও।
ছেলের থেকেও বেশি করবে।
একদম নিশ্চিত থাকতে পারেন।
ওর আরো দু'টো বোন হবে।
অনেক দূরে থাকবে ও।
বেশ সফল হবে।
ওঠো, মেয়ে। মহিলাটাকে বসতে দাও।
শুনতে পাচ্ছো না? মহিলাটার কোলে বাচ্চা রয়েছে।
আরে। ওঠো।
অবিশ্বাস্য! আজকালকার ছেলেপেলেগুলোও না!
ওকে দু'বার বললাম আমি।
তারপরও স্বেচ্ছায় উঠলো না।
আরাম করে বসো।
ধন্যবাদ।
আপনার ব্যাগটা রাখছি আমি।
ধন্যবাদ, সমস্যা নেই।
কী একটা জীবন এখন!
প্রতিদিনই জাহান্নামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
আমি আর আমার স্বামী ছেলের সাথে থাকবো বলে,
নিজেদের সবকিছুই বিক্রি করে দিয়েছিলাম।
কয়েক বছর আগে...
স্বামীর সাথে আমারও মরা উচিত ছিল।
এমনটা বলা হয় না।
ওর শোক কাটিয়ে উঠেছি ঠিকই, কিন্তু এটা কোনো জীবন নয়!
এটা অনেক দূরবর্তী বিয়ে ছিল।
হ্যাঁ, ইতোমধ্যেই বলেছেন আমায়।
ওরা অনুষ্ঠানে অনেক খরচা করেছিল...
আর বরের ছবি শো'তেও দেখিয়েছে।
ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে...
আমেরিকায় একটা কোম্পানি চালাচ্ছিল।
তাই বিয়ের এক সপ্তাহ পর...
মেয়েটা ওর কাছে চলে যায়।
গিয়ে যা দেখলো সেটা ভাবলে এখনো আমার চোখে পানি চলে আসে।
ওকে মিথ্যা গেলানো হয়েছিল।
সবকিছুই ছিল তার ধারণাতীত।
পাত্র অনেক বয়স্ক ছিল।
আগে থেকেই দুই বাচ্চার বাবা।
কী জঘন্য!
মেয়েটা সত্যিকারেই এক বড়সড় আঘাত পেয়েছিল।
দূরবর্তী বিয়ে ছিল ওর জন্য একটা বিপর্যয়।
তার ওপর, ওর পাসপোর্টে এখনো তার নাম রয়েছে।
অনুমিতভাবেই, দুই সন্তানই আমার দেখাশোনা করে।
তবে ওরা বলেছে আমায় না-কি বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে।
দেখো একবার!
আমায় দেখে কি ওখানে যাবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়?
বেশ ভদ্র ঘর থেকে এসেছি আমি।
ওসব জায়গায় আমায় কল্পনা করতে পারো?
ব্যাপারটা অমন নয়।
হ্যাঁ, ওরকমই।
আগে ওদের ব্যবহার এমন ছিল না।
বদলে গেছে ওরা।
ওদেরকে তোমার সাথে অমন ব্যবহার করতে দেবে না।
আমাদের কথা শোনেই না ওরা!
ওদের কাজবাজের তরিকাও একদমই পছন্দ নয় আমার।
বিশ্বাস করতে পারো?
বাসে করে কেনাকাটা করাচ্ছে।
খুব-একটা ধনী নয় এমন কারো ক্ষেত্রেও এটা বড্ড বাড়াবাড়ি।
এভাবে তো আর বিয়ের কেনাকাটা হয় না।
এটা সঙ্গীতশিল্পীদের দাও।
আপনাদের জীবন আনন্দ আর সুখে ভরে উঠুক।
খোদা হাফেজ!
তোমার বাচ্চার বয়স কত?
এক বছর।
আমার নাতির বয়স ৬ বছর।
কিন্তু ওর মা-বাবা আমায় দেখতে দেয় না।
বলে আমার জন্য না-কি ওর বাচনভঙ্গি খারাপ হবে!
মানে বুঝেছো?
আমাকে নিয়ে ওরা লজ্জিত।
আপনি কোথাকার?
কারমানশাহ।
আমিও এদিকের নই।
তবে কতজনই বা এখানকার?
হাজারে একজন?
বুঝতে পারছো নাতিকে দেখতে না পেরে আমার কেমন লাগে?
শুধু ওর বাচনভঙ্গি ঠিক থাকবে বলে!
ওরা আমার পোশাক-আশাকও বদলাতে বলে, কিন্তু বদলাবো না।
এই বয়সে এসে তো নয়ই।
আমি ওদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি।
আর এখন আমায় এভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।
ওরা আমাকে প্রতিবেশীদের সাথেও কথা বলতে দেয় না।
যেন আমি খাঁচায় বন্দী পাখি।
বন্ধুরা এলে আমায় পরিচয় করায় না।
এমন ভান করে যেন আমি ওদের প্রতিবেশী।
তাই প্রত্যেক সকালে, জিনিসপত্র গুছিয়ে...
সংসদ চত্বর থেকে আমি আমার...
মেয়ের শহরে যাওয়ার বাসে উঠি।
কিন্তু তারপর ওর স্বামী কথা মনে পড়ে...
সে আবার ভাববে আমি কেন এসেছি।
তাই পুরোটা দিন একটা ব্রেঞ্চে কাটিয়ে...
মাগরিবের পর ছেলের বাড়ি ফিরে যাই।
ধৈর্য ধরুন।
ধৈর্য? এসব আর সহ্য করতে পারছি না।
এভাবে বাঁচা যায় না।
ওরা এখনো তরুণ।
আমি মরলে কি তবে ওরা বুঝবে?
আর কয় বছরই বা বাঁচবো!
শুধু সহ্যই করে গেলাম এতদিন।
এখন আবার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে,
মেয়ের শহরে যাওয়ার বাসে উঠতে হবে।
কার্ড পাঞ্চ করে সাফসাফাই কর।
আমি এক্ষুনি আসছি।
তুমি নামোনি কেন?
নাদের! ছোট্ট মেয়েটা কে?
নাদের! এদিকে আয়।
কী করছো তুমি?
এটা আমার নামার জায়গা নয়।
কোনটা তাহলে?
টার্মিনালে।
এটাই তো টার্মিনাল। দেখছো না?
কিন্তু আমার নামার জায়গা এরকম নয়।
কেমন তাহলে?
ওখানে ধাতব দন্ড দিয়ে তৈরি হৃদপিন্ডের মতো,
আর মাঝে একটা ফোয়ারা রয়েছে।
অনেক গাছ আছে আর কোনো ভাস্কর্য নেই।
তুমি ঠিক বাসে উঠেছো নিশ্চিত তো?
আজ সকালেও মা'র সাথে একই সিটে বসেছিলাম।
আপনি দুর্ঘটনায় পড়তে ধরেছিলেন।
হঠাৎ ব্রেক চাপায় সকলে পড়ে যায়।
তারপর আপনি অন্য ড্রাইভারের ওপর রেগে গিয়েছিলেন।
আমায় কী বলেছিল শোনোনি?
ঐ কারণেই রেগে গিয়েছিলাম!
আচ্ছা কেঁদো না।
একা বাসে উঠেছিলে কেন?
সবসময় মা-ই আমায় নিতে আসে,
কিন্তু আজ আসেনি।
পথটা ঠিকই আছে, তবে ভুলদিকে এসেছো।
এপথে দু'টো বড়ো চত্বর রয়েছে।
তুমি রিপাবলিক চত্বরে যেতে চাও।
আসছি এখনি।
এখন কী করবো আমি?
কী করবো এখন?
ওখান থেকে যেতে পারবে তুমি?
হ্যাঁ, পারবো।
আমি তোমায় একটা কলিগের সাথে পাঠাচ্ছি, সে নামিয়ে দেবে।
তারপর ওখান থেকে বাড়ি যেয়ো।
আপনার সাথে যেতে পারবো না?
দূর্ভাগ্যবশত, সেটা সম্ভব নয়।
মাত্রই আমার শিফট শেষ হলো।
এখন আমার কলিগ যাবে।
এসো!
জলদি করো।
বাসে ওঠো।
আমি গিয়ে কলিগকে বলে দিচ্ছি।
ওখান থেকে যেতে পারবে তো তুমি?
আমি আপনার সাথে থাকতে চাই।
কেঁদো না!
বললাম তো আমার শিফট শেষ।
আমি মি. মর্তুজা'কে বলে দিচ্ছি। খোদা হাফেজ।
বাসে ঐ মেয়েটাকে দেখছো?
ওকে রিপাবলিক চত্বরে নামিয়ে দেবে, কেমন?
তুমি এখানে উঠেছো কেন?
এটা মহিলাদের প্রবেশপথ নয়।
নামো!
কী করছো তুমি?
মি. মর্তুজা অপেক্ষা করছেন।
এভাবে তাকিয়ে না থেকে, এক্ষুনি চলো!
বাসে ওঠো, জলদি!
কোথায় গিয়েছিলে, ছোট্ট মেয়ে?
যাচ্ছিলেটা কোথায়?
বলো কিছু।
আমার কলিগ তোমায় অপেক্ষা করতে বলেনি?
তাহলে নেমেছিলে কেন?
যদি হারিয়ে যেতে?
আমি জানতাম না ওকে মি. নাসের পাঠিয়েছে।
একাই এসেছে ভেবেছিলাম।
কোথায় পেলি ওকে?
হাইওয়ে দিয়ে হাঁটছিল।
তোমার হাতের কী হয়েছে?
ক্যামেরার দিকে দেখো না, মিনা।
আমি আর অভিনয় করবো না!
কাট।
মিনা...
আমি নামতে চাই!
কী হয়েছে?
আর অভিনয় করবো না আমি!
কেউ বিরক্ত করেছে তোমায়?
দরজা খুলুন! নামিয়ে দিন আমায়!
কী করবো আমি?
বাস থামান।
খুলুন!
কী সমস্যা বলো আমায়।
মিনা, বলবে না তুমি?
না, বলবো না।
ওকে নামিয়ে দাও।
কোথায় যাচ্ছো তুমি?
ওর রাগের কারণ জানতে।
গিয়ে কথা বলছি আমি।
যাও।
দাঁড়াও!
ওকে বলো এটাই আজকের শেষ শট।
ওকে কিছু বলেছো না-কি, আলি রেজা?
না তো।
কিচ্ছু না।
মানে কী বলছো?
কোনো সমস্যা নেই।
কোনো সমস্যাই নেই?
তাহলে রেগে আছো কেন?
এমনি।
ওরা কিছু বলেছে?
- বলেছে কিছু? - হ্যাঁ।
কে? কে বলেছে?
সরো!
আমি আর শ্যুট করতে চাই না।
বাসে ওঠো।
নাহলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
আমার জিনিসপত্রগুলো আনুন।
মিনা'র জিনিসপত্রগুলো দাও।
জেদ করে লাভ নেই।
ও আর করবে না।
কিন্তু কেন?
জানি না। বলতে চাইছে না।
আলি রেজা কিছু বলেছে ওকে?
কোন ব্যাপারে?
কী বলেছো ওকে তুমি?
ও কী বললো?
আর শুট করবে না ও।
হয়তো ও-ই কিছু বলেছে তাকে।
কী বলেছো ওকে তুমি?
কিচ্ছু বলিনি ওকে।
কসম।
ওকে কী বলেছো?
ওকে আঘাত করে কিছু বলিনি।
আমি তোমায় ওর সাথে কথা বলতে দেখেছি।
আজ সকালে কী বলছিলে ওকে?
ছোট্ট মেয়ে ও।
ওর সাথে সহনশীল আচরণ করতে হবে তোমায়।
ওকে বলো আমাদের শুধু একটা শটই...
বাকি আছে, তারপরই আজকের মতো শেষ।
নিশ্চই ও ক্লান্ত হয়ে গেছে।
এটা দাও নাহলে ওর ঠান্ডা লেগে যাবে।
বলছিল কার জানি জন্মদিনের দাওয়াত ছিল ওর।
মা না-কি ওকে আজ একটু তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিল।
ও তাড়াতাড়িই যাবে।
গতকাল কিছু হয়েছিল না-কি?
না। সবকিছু তো ঠিকই ছিল।
কোন রিল ছিল এটা?
এই বাস কি ভানাকে যাবে?
না, আমরা চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করছি।
ও আমার কথা শুনছে না।
নিজেই বাড়ি যেতে চায় ও।
রাস্তা চেনে বলছে।
দাঁড়াও...
ও কথা বলছে না?
শুধু বাড়ি যেতে চায়।
তাহলে বসে রয়েছে কেন?
আমাদের মাইক খোলার অপেক্ষায় রয়েছে।
এখনো পরে রয়েছে ওটা?
শেষ শটের জন্য পরিয়েছিলাম, খুলে নিতে ভুলে গেছি।
- রেকর্ড করতে পারবো আমরা? - হ্যাঁ।
- পরিষ্কারভাবে শুনতে পাচ্ছো? - হ্যাঁ।
ওকে কথা বলতে দাও।
ফিরে এসো, জাভাদি!
কথা বলুক ও।
ফলাফল নিয়ে আমি নিশ্চিত নই, তবে...
ক্যামেরাটা কাছে আনো।
- এটা শ্যুট করতে চাও? - হ্যাঁ।
- ফুটপাত বন্ধ করে দেবো? - না।
ও মাইক স্পর্শ করতে পারে।
বাদ দাও।
- শব্দ আসছে? - হ্যাঁ।
শ্যুট করতে প্রস্তুত?
চলো তাহলে।
শব্দ চেক করো। ক্যামেরা প্রস্তুত?
প্রস্তুত।
ক্যামেরা।
এফ-স্টপ সেট করি আমি।
- কাট করবো? - না, চালাতে থাকো।
শ্যুটিং শুরু করো।
আমার ওপর রেগে আছো?
ভুল কিছু করেছি আমি?
তোমায় আঘাত করে কিছু বলেছি?
তুমি যেন দ্রুত হাঁটতে পারো সেজন্যই ব্যাগটা নিয়েছিলাম আমি।
দেখছো না উনারা কীভাবে আমার দিকে দেখছে?
যেন আমিই তোমায় অভিনয় করতে নিষেধ করেছি।
ভুল কিছু বলে থাকলে আমি দুঃখিত।
উনারা আমায় শহরতলি থেকে এনেছে,
চুল কাটিয়ে কাপড় দিয়ে চলচ্চিত্রে...
অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে।
কিন্তু তুমি অভিনয় না করলে উনাদের চলচ্চিত্র বন্ধ হয়ে যাবে।
গিয়ে বলো তুমি আমার জন্য ছাড়ছো না...
নাহলে উনারা আমায় বাদ দিয়ে দেবেন।
তো?
কিচ্ছু না।
ও মুখই খুলছে না।
কাট।
আন্টি বিতা!
আমায় ডাকছে।
দাঁড়াও।
একটা বুদ্ধি এসেছে।
আমরা ওকে অনুসরণ করবো।
কোথায় যাচ্ছো তুমি?
গোটাচ্ছিলাম সবকিছু।
দাঁড়াও। গিয়ে কথা বলো ওর সাথে।
বলো ও একা বাড়ি যেতে পারে, তবে আমরা মাইক খুলবো না।
নীচু হয়ে থাকবে।
ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজলে,
বলবে বাড়ি চলে গেছে।
ওকে একা যেতে দাও, তারপর আমরা অনুসরণ করবো।
মিনিবাসটা লাগবে না-কি?
বাজি হেরে গেছো?
আলি দাই মাত্রই তৃতীয় গোল করলো।
সবাই, জলদি করো। গাড়িটা কোথায়?
জলদি, নাহলে আমরা ওকে হারিয়ে ফেলবো।
এক্সকিউজ মি, স্যার?
চত্বরটা কোনদিকে?
কোন চত্বর?
যেটার মাঝে একটা ফোয়ারা রয়েছে।
তুমি কি হারিয়ে গেছো?
না। শুধু বলুন ওটা কোনদিকে।
ঠিক কী খুঁজছো তুমি?
একটা চত্বর যেখানে ফোয়ারা রয়েছে।
কিন্তু কোন চত্বরের কথা বলছো?
যেখানে একটা ফোয়ারা রয়েছে।
যে চত্বরে ফোয়ারা রয়েছে?
চেনো এমন কিছু?
একটা চত্বর যেখানে ফোয়ারা রয়েছে।
কী রয়েছে?
একটা ফোয়ারা আর ভাস্কর্য।
পার্লামেন্ট চত্বরের কথা বলছো?
হ্যাঁ। ওটা কোনদিকে?
তো তুমি পার্লামেন্ট চত্বরে যেতে চাও?
পায়ে হেঁটে? ওটা ওদিকে।
ধন্যবাদ।
যত চাপবেন, প্রিন্ট তত ভালো হবে।
যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন।
আমি বিশেষ কিছু করবো বলে মনে হয় না।
বোতলগুলো সবই একই।
আমি একটা খুলে দেখাচ্ছি।
প্রতিটার মূল্য ১০০ তোমান।
কাগজে কিছুটা লাগিয়ে নেবেন,
তারপর উপরে আসলটা রেখে...
বোতল দিয়ে জোরে চাপ দেবেন।
ব্যস অনুলিপি তৈরি হয়ে যাবে।
আমরা বোতল বেছে নিতে পারবো?
বিশ্বাস না হলে আপনার ছেলে একটা করে দেখতে পারে।
এখন একটা দিয়েই সবকিছু করা যায়।
আমারটা গতবার কাজ করেনি।
হয়তো অন্যকিছু ব্যবহার করেছেন।
আপনি ফটোকপি মেশিনের জন্য টাকা দিচ্ছেন না!
কাগজটা এভাবে ধরবেন।
বলেছি আপনাদের, এটা কোনো ছবি সম্প্রসারক নয়!
১০০ তোমানে তো আর ছবি সম্প্রসারক হয় না!
তবে এটা অনেক কাজের জিনিস।
অনেকে উপহার হিসেবেও কেনে।
কোথায় যাচ্ছো তুমি?
ঐ যে একটা বড়ো রাস্তা আছে না,
যেখানে আপনারা গাড়ি ঘুরান।
ওখানে নিয়ে যাবেন আমায়?
ওদিকে যাচ্ছি না আমি। তুমি হারিয়ে যাবে।
কেউ আছে তোমার সাথে?
না, আমি একাই।
আমি ওদিকে যাচ্ছি না।
একটু সরে দাঁড়াও।
তোমায় কি আমি রাস্তা পারপারের জায়গায় নামিয়ে দেবো?
আমি ওদিকে যাচ্ছি না।
তাহলে, এগোই আমি...
আমি নিয়ে যাচ্ছি।
শুধু নাম বলুন। হয়তো মনে পড়বে।
তুমি কি হারিয়ে গেছো?
না, তা নয়।
ওদিকে যাবে তুমি?
পার্লামেন্টের পেছনে?
না, ওদিকে, তারপর ঘুরে আবার ওদিকে।
জানি না কোন বড়ো রাস্তার কথা বলছো।
সিরস এভিনিউ না-কি?
পার্লামেন্ট এভিনিউ বা মোস্তফা খোমেনি এভিনিউ?
এখানেই থাকো ট্যাক্সি পাবে।
বিদায়!
তুমি রাস্তা পার হবে না?
না, ধন্যবাদ।
কোথায় চললে?
ট্যাক্সি নেবো আমি।
কোন জায়গার?
ওদিকে গিয়ে তারপর,
ঘুরে আবার ঐ বড়ো রাস্তার দিকে যাবো।
কোথায় যাবে জায়গাটা চেনো?
হ্যাঁ।
আচ্ছা, ওঠো তাহলে।
বড়ো রাস্তাটার নাম বলতে পারবেন না?
তুমি জায়গাটা চেনো বললে তো।
ও কি হারিয়ে গেছে?
নিয়ে যান ভাড়াটা আমি দিচ্ছি।
এখানেই থাকো।
তোমার মা কোথায়?
ও একাই রাস্তা পার হচ্ছিলো।
এমনি কোনো ট্যাক্সিতে উঠো না।
অপহরণ করবে তোমায়।
স্কুলের জন্য বেরিয়েছো না-কি?
আমি বাড়ি যাচ্ছি।
আর বাড়িটা কোথায়?
সাথেই থাকো।
আমি একজন পুলিশ অফিসার'কে ডাকছি।
চিন্তা কোরো না, আমরা তোমায় বাড়ি পৌঁছে দেবো।
সমস্যা নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে।
এই ছোট্ট মেয়েটা হারিয়ে গেছে।
ওর বাড়ির ঠিকানা জানে না।
কোথায় যেতে চাও তুমি?
ওদিকে গিয়ে, তারপর আবার একটা বড়ো রাস্তায়।
কোন বড়ো রাস্তা, মামনি?
সেটার নাম মনে নেই।
দাঁড়াও একটু...
হ্যাঁ, এইচও। আমি পার্লামেন্ট চত্বরে রয়েছি।
কোন বড়ো রাস্তার কথা বলছো?
অনেক লম্বা যেটা?
পথচারী পারাপারের জায়গার ওদিকে একটা বড়ো রাস্তা রয়েছে।
ভিক্টরি এভিনিউ। ওটা না-কি?
ধন্যবাদ।
এটাই তাহলে?
হ্যাঁ।
যেতে পারবে তুমি?
হ্যাঁ।
ঠিক আছে তাহলে। শুভকামনা।
খোদা হাফেজ!
আমি আসবো তোমার সাথে?
না। ধন্যবাদ।
সালাম!
সালাম, এটা তুমি না-কি?
কী করছো এখানে?
আমি আর চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই না।
ওরা সবসময়ই আমায় কাঁদতে বলে।
আমার বন্ধুরা চলচ্চিত্রটা দেখলে, ছিঁচকাঁদুনী ভাববে আমায়!
আর এই নকল প্লাস্টারও লাগিয়েছে আমার হাতে।
যেন আমি উদ্ভট আর কোনোভাবে হাত ভেঙেছি নিজের।
এই স্কার্ফটাও পছন্দ নয় আমার।
আমায় বাচ্চাদের মতো দেখায়!
আমি তো আর ক্লাস ওয়ানে পড়ি না।
সংলাপগুলোও কি ওরাই ঠিক করে দিয়েছিল?
কোন সংলাপ?
শ্যুটিংয়ের ওখানে যেগুলো বলছিলে।
যেন চলচ্চিত্রের জন্যই ছিল!
কিন্তু ওটা আমার আসল জীবন।
বুঝলাম না।
তাহলে তুমি চলচ্চিত্রে কাজ করছো না?
মোটা ভ্রু'র লোকটাকে মনে আছে তোমার?
সকালে আমার সাথে দেখা করে,
বাসে বসে থাকতে বলে,
পরে আবার এখানেই নামিয়ে দিয়ে যায়।
টাকা দিতে চেয়েছিল বটে, তবে ব্যবহার ভালো নয় উনাদের।
এখন কী করবে তুমি?
- জানি না। - আমার বাড়িতে যাবেন?
যখন নিজের সন্তানদের বাড়িতেই...
ঠাঁই হয় না অপরের বাড়িতে কীভাবে যাই?
প্লিজ! আমাদের বাড়িতে চলুন।
না, সোনা। তোমার মা-বাবা চিন্তা করবে।
তাড়াতাড়ি বাড়ি যাওয়া উচিত তোমার।
- খোদা হাফেজ! - খোদা হাফেজ!
রাস্তা পার হবে? দাঁড়াও...
ভিক্টরি এভিনিউটা কোনদিকে?
ওদিকে।
ভিক্টরি এভিনিউ?
হ্যাঁ, ওঠো। ভিক্টরি এভিনিউ, ওঠো।
৬০ তোমান!
মা'র সাথে তো ২০ তোমানে গিয়েছিলাম।
২০ তোমান? নিশ্চই প্রস্তরযুগে হবে সেটা!
এখন ৬০ তোমান।
কোথায় যাবে তুমি?
ভিক্টরি এভিনিউ এ।
কী বললে? ভিক্টরি?
হ্যাঁ।
আর ২০ তোমানে!
সর্বোচ্চ সারচেশমেহ অব্ধি যেতে পারবে, কে রয়েছে তোমার সাথে?
আমার মা।
আচ্ছা, তাহলে উনার জন্য অপেক্ষা করো।
হারিয়ে যাওনি তো তুমি আবার?
না, হারাইনি।
ঠিকানা বললেই, নিয়ে যাবো আমি।
হ্যালো! মা'কে দাও তো।
উনি বাড়িতে নেই?
আমায় এসে নিয়ে যাবে তুমি?
চলচ্চিত্রের লোকেদের সাথে নেই আমি।
আমাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে।
পার্লামেন্ট চত্বরে।
যেখানে অনেকগুলো গাছ আর একটা ফোনের বুথ রয়েছে।
অতো টাকা নেই আমার কাছে।
তোমার বাইকটা নিয়ে আসতে পারবে না?
কসম, মা'কে বলবো না!
হ্যালো!
কোথায় যেতে বললে? হ্যালো!
সারচেশমেহ?
ভিক্টরি এভিনিউ?
সারচেশমেহ?
সারচেশমেহ এভিনিউ?
ভিক্টরি এভিনিউ?
কোথায় যাচ্ছেন?
ভিক্টরি এভিনিউ।
আপনাকে তো সারচেশমেহ বলেছি।
আমি কমপক্ষে ১০ বার বলেছি।
আর আমি সারচেশমেহ বলেছি। নামিয়ে দিন আমায়।
যান।
ভাড়া দিবেন না?
কী? ভাড়া চাইছেন আবার!
কিন্তু আপনারা তো দু'জন!
ভাড়া দিচ্ছি না আমি। আর ও আমার সাথে নয়।
তুমি তাহলে কার সাথে?
আমি একাই।
হেই, আপা! ভাড়া দিবেন না আমার?
আপনি আমায় ভুল রাস্তায় এনেছেন।
কোনোভাবেই ভাড়া দিচ্ছি না আমি।
ভাগ্য ভালো আপনার স্বামী সাথে নেই!
আমার স্বামী সাথে থাকলে আরো মজা বুঝতেন!
তুমি কোথায় চললে?
আমি পৌঁছানোর পর দেবো।
ভাড়াটা আমার ভাইয়ের কাছে।
যাও তাহলে নিয়ে এসো ওকে!
ভিক্টরি এভিনিউ।
ভিক্টরি এভিনিউ।
আমায় ভিক্টরি এভিনিউ নিয়ে যাবেন?
ওখানে ঠিক কোথায় নামবে?
ডাকঘরের পাশে।
আমার ভাই ওখানে অপেক্ষা করতে বলেছে।
কোনটা? ইরান এভিনিউ এর কোণায় যেটা?
জানি না, কিন্তু দেখলে চিনতে পারবো।
আমি শুধু সাড়ে ২৪ তোমান...
দিতে পারবো, নিয়ে যাবেন আমায়?
ঠিক আছে। ওঠো।
মেয়েদের রান্না-বান্নায় জীবন পাড়ি দেয়ার সময় শেষ।
ঠিক বলেছেন,
কিন্তু একজন ভালো পরিচারিকার ঘর সামলানোটা জানা উচিত।
আপনি ঝি'র কথা বলছেন!
নারীরা দাসী নয়!
সেটা মূল কথা নয়।
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেই কি...
মেয়েরা স্বামীর দাসীতে পরিণত হয়?
এই প্রশ্নে সকলেই একমত।
দাসী হতে একমত?
না, কিন্তু কোনো নারী ঘর সামলাতে না চাইলে...
আমি কখনোই এমন কোনো চুক্তি করিনি!
তাহলে কে সামলাবে?
চিন্তা করবেন না, নগর কতৃপক্ষ তো আছেই!
অসম্ভব!
ওদের হয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে সমস্যা নেই,
আর ঘর সামলাতে বললেই যত দোষ!
নারীরা দাসী নয়, তবে তাদের ঘর সামলানো উচিত।
নাহলে পুরুষেরা দাসে পরিণত হবে।
প্রশ্নই আসে না।
এই পারস্পরিক সংহতির ব্যাপার।
মানে আপনি বলছেন পুরুষদের...
বাহিরের পাশাপাশি ঘরের কাজও করা উচিত?
ঘরের কাজ নয়। শুধুই স্ত্রী'দের সাহায্য।
সাহায্য করাটাও কাজ! দু'টো একই জিনিস।
মনে হয় এ ব্যাপারে আমরা ভিন্নমত।
অবশ্যই, কিন্তু আমি শুধুই নিজের মতামতটা জানাচ্ছিলাম।
জানতে চাওয়ায় বললাম আপনাকে।
শুরু থেকেই স্ত্রী'কে সব পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলেছি,
এবং কখনোই ঘরের কোনো কাজে হাত দিতে হয়নি আমায়।
ঠিক কাজই করেছি আমি।
পুরুষেরা বাড়ির বাহিরে কাজের জন্যই তৈরি।
একদম!
পুরুষ যেহেতু টাকা কামায় তাই ঘরের কাজ নারীদেরই করা উচিত।
অবশেষে কেউ আমার কথা বুঝছে!
যেসব নারীরা ঘরের বাহিরেও কাজ করে তাদের ব্যাপারে কী বলবেন?
এটা দু'টো কাজ করা পুরুষদের মতোই।
তবে এক্ষেত্রে নারী স্বেচ্ছায় করে।
একজন সচেতন পুরুষ কখনোই তার স্ত্রী'কে কাজে পাঠাবে না।
স্বামীর অনুমতি নিয়েই তো করে সে।
আর তাতে কত টাকা কামাবে?
কী হলো, বলুন, সর্বোচ্চ কত?
নারীদেরও দিনে ৮ ঘন্টা কাজ করতে হয়।
বেতনও একই হবে তাহলে।
কত পাবে সে?
প্রতিমাসে ২০ থেকে ৪০ হাজারের মধ্যে, তাই না?
এর অর্ধেক তো বাচ্চা দেখভালের জন্য রাখা লোককে দিতেই যাবে।
আর বাকিটা ফুরাবে কাপড় কিনে।
এতে পুরুষেরই ক্ষতি।
গোটা দিন বাহিরে কাজ করে ফিরে আবার যেন ঘরের কাজে হাত না লাগাতে হয়,
সেজন্য একজন চালাক পুরুষ তার স্ত্রী'কে কাজে পাঠায় না।
সে আরামছে অতিরিক্ত ১ ঘন্টা সময় দিলেই সেটা কামাতে পারবে!
একদম ঠিক। আসল পুরুষেরা এটাই করে।
একটু দাঁড়ান।
কোথায় গেল? এটা অদ্ভুত...
বাহিরে ওরা এভাবেই কথা বলে,
তবে বাড়িতে শেষ কথা কিন্তু নারীই বলে।
দেরির জন্য দুঃখিত।
ভাবলাম আপনি...
এমনটা নয় যে আমি অত্যাচারী লোক জন্য...
নারীদের ঘর সামলাতে বলছি!
তার জন্য এটা বড্ড কষ্টের।
আর কোমড় ব্যথা উঠলে...
তার চিকিৎসার খরচটা কিন্তু আমিই দিই।
অন্য রাস্তা নিচ্ছি।
এখানে ট্রাফিক বড্ড ধীরগতির।
কেউ নামবে?
আমায় নামিয়ে দিন।
আপনাকে আরেকটু সামনে নামিয়ে দিচ্ছি।
আমি স্ত্রী'কে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছি।
যেমনটা আপনার মর্জি।
আমিও এখানেই নামবো।
তুমি ডাকঘরের ওখানে নামবে না?
না, এখানেই নামবো।
এখান থেকে বাড়ি যাওয়ার পথ চিনি।
ভাড়া দিতে হবে না।
সমস্যা নেই, রাখুন।
প্লিজ না।
- না, ধন্যবাদ। - খোদা হাফেজ।
লেন পরিবর্তন করিবেন না!
এখন বাঘেরি'কে দাই'য়ের পাস।
সে আবার বলটা আজিজি'কে দিলো।
পেনাল্টি এরিয়ায় আবারো দাই'কে আজিজি'র পাস... গোল!
আচ্ছা, সোনা...
বলছিলে তোমার ভাই না-কি তোমার চেয়ে বড়ো...
হ্যাঁ, বড়ো।
তাহলে তো ওর ভালো করেই জানা উচিত এই জায়গাটা ছোট্ট মেয়েদের জন্য নয়।
ও ক্যাফের সামনে বলেনি।
ডাকঘরের সামনে বলেছে।
এখানে একটা ডাকঘর রয়েছে,
আরেকটা রয়েছে চত্বরে।
ও প্রথমটার কথা বলেছে।
তাহলে ওখানের ওটা।
তুমি হয়তো ভাবছো আমি এখানে কী করছি।
আসলে, আমার কাজ আছে এখানে।
মানুষেরা তাদের বিবাহের অনুষ্ঠানকে...
প্রাণবন্ত করতে সঙ্গীতশিল্পীর খোঁজে...
এখানেই আসে।
আচ্ছা বলো তো, তুমি চলচ্চিত্রের কোনো তারকাকে চেনো?
আব্দলি, হোশিয়ার আর বিদার...
বলতে থাকো।
আরেকজন আছে কিন্তু...
আমায় চিনতে পারছো না?
না।
আমার কন্ঠও শোনোনি কখনো?
তোমার বাবা ভালোভাবেই চিনবে আমায়।
কারণ সে জন ওয়েন'কে চেনে।
আপনি কি বিদেশি?
না, সোনা। বিদেশি নই আমি।
আমি জন ওয়েন-এ কন্ঠ দিতাম।
তুমি যাদের নাম বললে ওদের থেকেও অনেক বিখ্যাত ছিলাম আমি।
এটা সত্য যে আমি এখন আর কন্ঠ দেয়ায় নেই।
তবে অন্তত গান তো করি।
দুই সপ্তাহ আগে স্কুলের সামনের ঐ সিনটা করার...
সময় তোমায় প্রথমবার দেখেছিলাম আমি।
বেশ ভালো ছিল ওটা।
তবে ফার্মেসির সামনে ওই মহিলাটাকে তোমার...
জিনিসপত্রগুলো আনতে বলাটা সেরা ছিল।
দেখছিলাম আমি।
একদম নিখুঁত ছিলে তুমি।
সমস্যা নেই। আমি খুঁজে নেবো।
ঠিক আছে, ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে কিন্তু।
ডাকবাক্সটা দেখছো?
বৃদ্ধা মহিলাটা যেখানে দাঁড়িয়ে...
তোমার ভাই আসা অব্ধি ওখানেই থাকবে।
আবার অন্য কোথাও চলে যেও না।
আচ্ছা।
তোমার বাবা'কে বোলো কোনো অনুষ্ঠান...
থাকলে সে সর্বদাই আমায় ঐ আগের...
ক্যাফের সামনেই পাবে।
উনাকে কী নাম বলবো আপনার?
জন ওয়েন বললেই চিনবে সে।
খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ, মামনি।
মাফ করবেন!
আপনি কি অনেকক্ষন যাবৎ এখানে?
প্রায় আধাঘন্টা হলো।
বাইকে আমার ভাইকে দেখেছেন?
একটু লম্বা সে আমার থেকে।
অনেকক্ষন ধরেই আছি, কিন্তু কোনো ছেলেকে দেখিনি।
সালাম, মা। আপনি অপেক্ষায় ছিলেন?
তোমার জন্য একটা চিঠি রয়েছে।
ডাকবাক্সে রেখে গেলেই পারতেন।
এটা বিদেশে যাবে।
সমস্যা নেই, চিঠিগুলো পরবর্তীতে আলাদা করা হয়।
হ্যালো, স্যার!
আমার বাড়িটা চেনেন আপনি?
তোমার বাড়ি? আমি কীভাবে চিনবো?
আমার বাবা'কে গ্যারেজে যেতে বলেছিলেন আপনি।
একটা রেনল্ট রয়েছে তার।
সাদা রঙের যেটা দিয়ে অনেক ধোঁয়া বেরোয়।
তাহলে এজন্যই ঠিক করাতে বলেছি তাকে!
গাড়িগুলো দেখে, সাবধানে!
তারপর যে আমার বাবা বললো...
এমাসের মধ্যেই তিনি ঠিক করাবেন।
আমরা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী সকল গাড়িকেই ঠিক করাতে পাঠাই!
আসলে, আমার বাবা'কে জরিমানাও করেছিলেন আপনি।
- তা তো বহু করি! - তার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিল।
চাপ খাওয়া জায়গাটায় লাল রঙ করিয়েছেন উনি।
আমি কয়েক ঘন্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে।
সেটা আমার সমস্যা নয়।
বাইকটা তো আর আমার নয়, প্লিজ কাগজগুলো ফিরিয়ে দিন।
কয়েকবার বললাম আপনাকে।
মনে নেই আপনার?
একবার জরিমানাও করেছিলেন যে!
উনার নাম মোহাম্মদ-খানি।
তোমার বাবা-র নাম আমি কীভাবে জানবো?
স্যার!
স্যার!
স্যার! স্যার!
ঐ যে আপনার মা অসুস্থ ছিল,
আর আমার বাবা তাকে কিছু লাল বড়ি দিয়েছিল।
মনে পড়ছে না।
তাহলে মনে নেই আপনার?
কী মনে নেই?
উনার গাড়িটা কোথায়?
কোথায় কী থাকবে?
আপনি হরহামেশাই উনাকে জরিমানা করেন।
হয়তো সে আইন ভঙ্গ করেছিল বলেই!
ধোঁয়ার জন্য জরিমানা করেছিলেন।
তাহলে তার সেটা ঠিক করানো উচিত।
উনাকেও ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন।
তাহলে ঠিক করায়নি কেন?
তারপর আবার একদিন বাবা আপনার মা সুস্থ...
হয়েছিল কি-না জিজ্ঞেস করেছিল।
আপনি সুস্থ হয়েছে বলেছিলেন।
হ্যাঁ হয়েছে, তো কী?
আপনি আমার বাবা'কে ডাক্তার ডেকেছিলেন, আর উনি আপনাকে অফিসার।
এতে তোমার ঠিকানা কীভাবে মিলবে।
সবই মনে পড়ছে, শুধু তাকেই মনে করতে পারছি না!
এখান থেকে আপনি উনাকে গ্যারেজে পাঠিয়েছিলেন।
গিয়েছিল সে?
হ্যাঁ, গিয়েছিল।
তাহলে গিয়ে ওদেরকে জিজ্ঞেস করো।
আমায় নিয়ে যাবেন?
দাঁড়াও একটু।
আজিজি আসলে, ওকে বোলো আমি...
একটা মেয়েকে নিয়ে গ্যারেজে গেছি।
- যদি আপনি... - তোমায় বাঁধা দিতে নিষেধ করেছি।
প্লিজ, অফিসার। আপনি ভালো মানুষ, এমনটা করতে পারেন না!
- সালাম, স্যার! - দেখো তো এই ছোট্ট মেয়েটাকে সাহায্য করতে পারো কি-না।
ওর বাবা এখান থেকে গাড়ি মেরামত করিয়েছিল।
যেমনটা দেখছো, হারিয়ে গেছে ও।
দেখো ওর জন্য কী করতে পারো।
আপনি এসে আমার বাবা-র গাড়ি সারিয়েছিলেন।
একটা রেনল্ট ছিল ওটা।
এক গ্লাস পানিও চেয়েছিলেন আপনি।
আর আমি আপনাকে লেবুর শরবত দিয়েছিলাম।
সেটা কে ছিল? ও না-কি?
জানি না। নীল কাপড় পরা একজন।
আমাদের বাড়িতে ঠিক করতে না পেরে পরে আপনি এখানে নিয়ে এসেছিলেন।
অফিসারও গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়েছিল।
লাল রঙের ছিল না-কি?
না, সাদা রঙের।
তুমি কোন স্কুলে পড়ো?
আছিয়ে স্কুল।
স্কুল বাসে যাও না তুমি?
না, একাই যাই।
ক্লাস ওয়ানে থাকতে মা এসে নিয়ে যেতো আমায়।
তোমার স্কুলেই অপেক্ষা করা উচিত ছিল।
ছোট্ট মেয়েটার সাহস আছে দেখছি!
তোমার স্কুলটা কোথায় জানো?
আমায় রাস্তাটা দেখিয়ে দিলে, একাই যেতে পারবো।
কোন স্কুল?
আছিয়ে স্কুল।
আছিয়ে?
- ওটা প্রাইমারি স্কুল না? - হ্যাঁ।
কোন শ্রেণিতে তুমি?
দ্বিতীয় শ্রেণিতে, আর আমি...
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথ চিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফোন করে ওর স্কুলের ঠিকানাটা বের করো।
ওটা কোন এলাকায়?
জানি না।
কিন্তু পাশেই একটা খেলনার দোকান রয়েছে।
তুমিই ওদের গাড়ি ঠিক করতে গিয়েছিলে না-কি?
কী গাড়ি ছিল?
একটা রেনল্ট।
আমার কাগজগুলো ফিরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকতাম...
শুধু রাস্তাটা বলে দিন, আমি নিজেই চলে যাবো।
কিন্তু এই স্কুলটা কোথায়?
ওর ব্যাগে ঠিকানা থাকতে পারে।
কাগজগুলো ছাড়া যেতে পারছি না, অফিসার।
না বললাম তো!
তোমার ব্যাগে দেখো তো, মামনি।
আমি দেখছি।
ও স্কুল থেকে এসেছে বললো।
কোথা থেকে এলে? সরাসরি স্কুল থেকে?
হ্যাঁ, মানে, না! অন্য কোথাও ছিলাম।
মানে হারিয়ে গেছো? মা'র সাথে ছিলে না তুমি?
না। মা আমায় গত বছর নিয়ে যেতো,
কিন্তু এবছর, আমি... একাই যাই।
কোন স্কুল?
আছিয়ে স্কুল।
আমায় স্কুল পর্যন্ত পৌঁছে দিলে, একাই বাড়ি যেতে পারবো।
আমার ওপর ছেড়ে দাও। নিয়ে যাচ্ছি আমি।
এসো, মামনি। যাওয়া যাক।
না, এখানেই থাকবো আমি।
ওটার বাহিরে কি একটা নীল বোর্ড রয়েছে?
হ্যাঁ।
তুমি চিনে থাকলে, নিয়ে যাও।
পথচারী পারাপারের জায়গার পাশেই,
একটা নীল বোর্ডে বড়ো অক্ষরে আছিয়ে লিখা রয়েছে।
ওটাই।
আমি তোমায় বাইকে করে নামিয়ে দিচ্ছি।
আমার কাগজগুলো ফিরিয়ে দেবেন?
কিন্তু মেয়েদের একটা স্কুল এদিকে আরেকটা ওদিকে।
আমি নিয়ে যাচ্ছি ওকে।
চলো। আমি নামিয়ে দিচ্ছি।
কোথায় বলুন, আমি নিজেই চলে যাবো।
পথচারী পারাপারের জায়গার পাশেই।
অসংখ্য ধন্যবাদ। খোদা হাফেজ।
সালাম, মি. হাবিবি।
সালাম, মিস মিনা।
আমি অভিনয়ে নেই।
কেন?
করতে চাই না আমি।
কারণটা তো বলবে।
শুধুই এমনি চাই না!
কিন্তু আমিই যে তোমার সুপারিশ করেছি।
গোলাপি ফিতে রয়েছে আপনার কাছে?
দেখতে দিন।
আর এই যে মাইক। রাখতে পারবো না আমি।
- নিন এটা। - কিন্তু দোকান বন্ধ করছি যে।
- আমার তাড়া রয়েছে। - খোদা হাফেজ।
দাঁড়াও, মিনা!
এক মিনিট দাঁড়ান।
খোদা হাফেজ!
উনাদের কী বলবো তাহলে?
আমি আপনাকে মাইকটা দিয়েছি বলবেন।
অভিনয় না করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে?
আমি চাই না বলবেন।
টাকা পেতে তুমি।
লাগবে না আমার। খোদা হাফেজ।
আমি গিয়ে তোমার বাবা-র সাথে কথা বলবো।
গোলাপি ফিতে কি দেবেন?
আনছি আমি।
তাড়া রয়েছে আমার।
দাঁড়ান।
আজ আমার বিয়ে।
অভিনন্দন।
শুধুমাত্র কালো ফিতেই রয়েছে আমার কাছে।
কালো? বিয়ের জন্য?
অন্য রঙের জন্য শহীদ চত্বরে খোঁজ করুন।
ধন্যবাদ। আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে আসবেন কিন্তু।
দোয়া দিতে অবশ্যই যাবো।
আবারো অভিনন্দন।
ধন্যবাদ।
ইরানের ফুটবল ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ফলাফল।
আমাদের দল দক্ষিণ কোরিয়াকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে,
আমি সকল দর্শকশ্রোতা এবং ফুটবল প্রেমীদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
- কেমন আছেন? - ভালো। আপনি?
মিনা'কে এই মাইকটা দিয়ে...
এটা ওর কাছেই রাখতে বলবেন?
কী করেছেন যে ওর মন খারাপ?
কিচ্ছু না।
ও আমার কথা শুনবেই না।
কিচ্ছু হয়নি। শুধু মাইকটা দিন ওকে।
আচ্ছা।
ধন্যবাদ।
স্বাগত। খোদা হাফেজ।
এটা কীভাবে কাজ করে?
এক, দুই, তিন।
টেস্টিং। এক, দুই, তিন।
সৌদি আরব চায়নাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে।
আর বুধবারে রয়েছে, ইরান বনাম কুয়েত...
আপনি বন্ধ করেছেন।
করিনি।
এই বাটনটা চাপবেন না। শুনতে পাচ্ছো, নাজাফি?
আমি যাই আগে তারপর কলিংবেল চাপুন।
তোমার এসে চলচ্চিত্রটা শেষ করা উচিত।
করবো না।
আপনিই আমাকে এসবে জড়িয়েছেন।
আপনাকে ছুঁতে নিষেধ করেছিলাম।
ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি।
বন্ধ হওয়ায় দুঃখিত।
বন্ধ, দেখছেন?
চেষ্টা করবো। এটাই তো আর শেষ নয়!
কী বললো সে?
জানি না আপনারা কী করেছেন, তবে ও ভীষণ রেগে আছে।
মানে কী বলছেন?
আমি আপনাদেরকে ওর বয়সী প্রতিভাবান...
অন্য কোনো মেয়ে খুঁজে দেবো।
না, ধন্যবাদ।
আমি আসি তাহলে। খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ।
মুভিটি বাংলা সাবটাইটেলের সহিত উপভোগের জন্য ধন্যবাদ।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.