All language subtitles for The Ugly 2025 WEB-DL Bsb By Tafhim

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French Download
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German Download
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian Download
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

:.:.: Translated and Edited By :.:.: T A F H I M R A H M A N

এটা আসলে ভুল ধারণা।

"যে অন্ধ মানুষরা সৌন্দর্যের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না।"

না।

আমার মতো অন্ধ মানুষরা,

মানুষের তথাকথিত সেই সৌন্দর্য নিয়ে...

অনেক ভাবে।

আমি বছরের পর বছর সেই সৌন্দর্যের সন্ধানে কাটিয়েছি,

সারা দেশ ঘুরে সমাধিফলক আর স্মৃতিস্তম্ভ দেখেছি,

আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া সৌন্দর্যকে স্পর্শ করেছি আর চিনেছি।

জীবনে নিশ্চয়ই অনেক অভিজ্ঞতা হয়ে আপনার।

অবশ্যই, অবশ্যই।

- কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব কৌতূহলী। - হ্যাঁ।

আপনার হাতদুটো খুবই কোমল।

- আমার হাত? - হ্যাঁ।

আমি ভেবেছিলাম যারা খোদাইয়ের কাজ করে,

তাদের হাত খসখসে হয়, কিন্তু আপনার হাত অনেক মসৃণ,

আপনি কি হাতে কিছু মাখেন?

আমি আমার হাতের খুব যত্ন নেই।

এই হাত...

আমার কাছে চোখের মতো,

বুঝলেন?

এই হাত দিয়েই আমি দেখি, অনুভব করি।

এই ক্ষতের দাগটা কীসের?

ওহ, এটা?

ছোটবেলায় ব্যথা পেয়েছিলাম,

আমাদের কাছে যেকোনো কাজ শেখা অনেক কঠিন হতো।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষরা কখনো কল্পনাও করতে পারব না,

আপনাদের জীবন কতোটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছে...

চলুন, অন্য ব্যাপারে কথা বলা যাক।

আপনি একজন সিল খোদাই শিল্পী,

সাথে নিজের ছেলেকেও একাই বড়ো করেছেন।

আর আপনার ছেলেই এখন 'চিওং-পুং খোদাই-ঘর' পরিচালনা করে।

- হুম? - হ্যাঁ।

আমার ধারণা দর্শকরা আপনার জীবনের এই অংশটা জানার জন্য অনেক আগ্রহী।

এটা জানার জন্য আগ্রহী হওয়ার কী আছে?

নিজের সন্তানকে একা বড়ো করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার,

তার ওপর আপনি আবার...

চোখে দেখতে পান না।

যতো সমস্যাই থাকুক, সবাই তার সন্তানকে বড়ো করার চেষ্টা করে,

তবে তাদের নিজের মতো ছেড়ে দিলে,

তারা আরো দ্রুত বেড়ে উঠে।

বাচ্চারা নিজে থেকে বেড়ে উঠে না,

পরিবারই তাদের বড়ো করে!

আমরা এই ব্যাপারটাই জানতে চাই,

আপনার সংগ্রাম,

আপনার ভাবনা...

সবকিছু খুব কঠিন ছিল।

হ্যাঁ।

কষ্টের কথা বারবার বলে কী লাভ?

সময় নিয়ে বলুন।

এখন সময় বিকেল ৩টা ৪ মিনিট।

ডং-হুয়ান, আমাকে কিছুক্ষণ সময় দে।

বাবা,

উনারা ব্যস্ত মানুষ।

আমি খুবই দুঃখিত, একটু আসছি।

- খুবই দুঃখিত। - আরেকটু কথা বলা উচিৎ ছিল...

দুঃখিত, বুঝতেই পারিনি কখন এতো সময় চলে গেল।

- কথা বলে খুবই ভালো লাগল। - আবারও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

এখন একটা বিরতি নেওয়া যাক,

আমি দুঃখিত।

- যান, সিগারেট খেয়ে আসেন একটা। - সবাই ৫ মিনিট বিরতি নেও!

এই তো দরজা।

প্রশংসাপত্র

ডং-হুয়ান, আপনার বাবা সত্যিই অসাধারণ।

আমি যতটুকু পাওয়ার যোগ্য, তার চেয়েও অনেক বেশি উনি।

দেখুন একবার!

"ইম ইয়ং-গিউ প্রমাণ করেছে যে, বাস্তবেও অলৌকিকতা সম্ভব।"

কী দারুণ শিরোনাম!

এটা কী?

ওহ, এটা?

একটি পুরনো ছবি, উনার প্রথম খোদাইয়ের দোকান খোলার সময় তোলা হয়েছিল।

আমাদের কাছে এই একটা ছবিই আছে।

আপনি তো দেখতে একদম তার মতোই হয়েছেন।

আসলে,

আমারও তাই মনে হয়,

তো অনেকদিন আগে বলেছিলাম তাকে, আমি দেখতে অনেকটা তার মতোই হয়েছি।

এটা বলার পর...

কী বলেছিল সে? খুশি হয়েছিল?

চুপচাপ দাঁড়িয়ে ভাবছিল।

হয়তো...

উনি চেহারার মিলের ধারণাটা নিয়ে ভাবছিলেন,

যেহেতু উনি জন্ম থেকেই চোখে দেখেন না।

তাই তো।

সে তো নিজের চেহারাটাই কখনো দেখেনি,

এভাবে কখনো ভাবিনি।

অ্যাশট্রেটা কোথায় রে?

আমার কাছে দেও।

এখন ভালো লাগছে, স্যার?

ওহ, হ্যাঁ হ্যাঁ।

এখন কথা বলতে পারি?

অবশ্যই।

ভিডিও করো!

- ক্যামেরা। - এই তো আসছি।

দুঃখিত।

কোনো ব্যাপার না।

হাতের ক্লোজ আপ শট নিবে।

হয়ে গেছে।

আরাম করে বসুন।

দ্য আগলি

বাবা।

নেও।

- চা খাওয়ার সময় হয়ে গেছে? - হ্যাঁ।

গরম কিন্তু।

ধরেছি।

ইন্টারভিউগুলো দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে?

ওরা কয়েকদিন ধরে আমাকে খুব জ্বালাচ্ছে,

ভাবছে এগুলো বিশাল কোনো ব্যাপার।

আগের নিউজের অংশটা শুট করতে তো অর্ধেক দিন লেগে গেছিল।

আর কয়েকটা দিন সহ্য করো, কেমন?

এটা স্টুডিওর প্রচারের জন্য খুব ভালো হবে,

টিভিতে সুযোগ পাওয়া তো এত সহজ নয়।

- তাই না? - জানি,

- তোর জন্য ভালো হলে, আমার কোনো সমস্যা নেই। - আরে!

কিন্তু ওই অল্পবয়সী প্রোডিউসারটা খুব জ্বালাতন করে।

বাচ্চাদের মতো আচরণ করে আমার সাথে!

সবসময় হুকুম দিবে, "এটা করুন" "ওটা করুন!"

সব প্রোডিউসাররাই একই রকম,

এতো ভাববেন না।

ঠিক বলেছিস।

এই বয়সে এসেও রুজি-রোজগার করছি।

স্বীকৃতি পাচ্ছি এটাই অনেক।

গিউ-চিল আমাকে কতো হিংসা করে জানিস?

পকেটে নেই এক টাকা,

অথচ দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কী? সে কি এখনও...

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ফিরেনি?

না।

এটা একদমই ঠিক করেনি সে।

তোমাকে সাথে নিতে পারত, একা গেল কেন?

কী দরকার? আমি তো কিছু দেখতেও পারব না।

তোমরা তো বহু বছরের বন্ধু,

একসাথে ঘুরাঘুরি করলে নিশ্চয়ই ভালো লাগত তোমার।

সে আমার বন্ধু না।

অহেতুক কথা বলো না তো।

আচ্ছা, একটা কল এসেছে,

- আসছি। - আচ্ছা।

হ্যালো?

মিস্টার ইম ডং-হুয়ান বলছেন?

জি, আপনি?

নাম-ইল পুলিশ স্টেশন থেকে বলছি।

পুলিশ স্টেশন?

আমরা জুং ইয়ং-হি এর ব্যাপারে কল করেছি।

কে এটা?

আপনি জুং ইয়ং-হি কে চিনেন না?

উনি আপনার মা।

কী?

আপনারা বলছেন উনি আমার মা ছিল?

আমরা তেমনটাই ধারণা করছি।

কঙ্কালটির সাথে একটা পরিচয়পত্র পেয়েছি।

একটি নির্মাণ কাজের জন্য...

পাহাড় খুঁড়তে গিয়ে লাশটা পাওয়া গেছে,

কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পেয়েছি সেখানে।

কঙ্কালের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে,

৪০ বছর আগে মারা গেছিল।

মরদেহের এই অবস্থার কারণে

মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

শুধু জানি যে তিনি ৪০ বছর আগে মারা গেছেন,

এবং তাকে পাহাড়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

কোনো দুর্ঘটনার কারণে মারা গেছিল কিনা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে লাশটা যেভাবে পুঁতে রাখা হয়েছিল,

এটা কোনো অপরাধ বা হত্যাকাণ্ডও হতে পারে।

যদিও, আইনি কাজ-কর্ম করার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র: জুং ইয়ং-হি

শোকসভা

এতো কষ্ট করতে হবে না, এমনিতেও কেউ আসবে না।

এসেছিস?

হ্যাঁ।

আচ্ছা।

অ্যাসোসিয়েশনের কেউ কি এসেছে?

এখনো আসেনি,

তবে শোক-বার্তা পাঠিয়েছে।

- বাবা। - হ্যাঁ?

মা তো...

আমাদের রেখে পালিয়ে গেছিল না?

আমিও তো তাই ভেবেছিলাম।

কাজ শেষে বাড়ি ফিরেছিলাম সেদিন,

এসে দেখি বাসায় শুধু তুই একা,

সে নেই।

আর... এই তো।

কেউ কখনো তার খোঁজে আসেনি?

কোনদিনও না।

আমাদের দুজনের বলার মতো কোনো আত্মীয়ই ছিল না।

তার তো কোনো শত্রু থাকতে পারে না, তাই না?

অবশ্যই না।

তোর মা ছিল খুবই দয়ালু একটা মানুষ।

আচ্ছা...

এসব বলছিস কেন?

এমনি।

হুম?

আরে, ভাবছিলাম...

৪০ বছর পর হঠাৎ শুনি সে মারা গেছে,

কৌতূহল থেকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

শুনছেন।

মেহমান এসেছে,

বাবা, প্রোডিউসার এসেছে।

- প্লীজ আসুন। - হ্যাঁ।

আগেই গুছিয়ে রাখা উচিৎ ছিল।

শুটিং চলার মাঝখানে এমনটা হয়ে গেল,

জানি না কী বলব।

আমি খুবই দুঃখিত।

মনে হচ্ছে আপনাদের ব্রডকাস্ট বন্ধ হয়ে যাবে,

কোনো সমস্যা নেই তো?

ব্রডকাস্ট তো করতেই হবে।

আমরা শেষ পর্যন্ত আছি আপনার সাথে।

মানে?

আগেও তো বলেছিলাম,

দিন তারিখ সব ঠিক হয়ে গেছে, এখন চাইলেও পিছিয়ে দেওয়া যাবে না।

তাছাড়া, এই মুহূর্তটা দর্শকদের...

আরো স্পর্শকাতর করবে।

বেশ, কিন্তু...

মানে, এটা একটু...

চিন্তা করবেন না।

আমরা সব সামলে নিবো।

তা বুঝলাম, কিন্তু...

বাবার পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতে পারে।

এর জন্য আমরা আপনার উপর ভরসা করছি।

এই জায়গাটাই হবে হয়তো।

প্লীজ, আপনারা নিয়ে খান।

আমি এক্ষণই আসছি।

হ্যালো।

কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

এটা নিশ্চয়ই ওর ছেলে হবে।

আমরা তোমার খালা, ইয়ং-হি এর বোন।

পুলিশের কল পেয়ে,

ভাবলাম এখানে এসে একবার দেখা করা উচিৎ।

যতোই হোক, উনি আমার খালা ছিল।

আচ্ছা।

আমি আমার সম্মান জানাতে চাই।

আসার জন্য ধন্যবাদ।

তাছাড়া,

আমরা একটা বিষয় পরিষ্কার করতে এসেছি।

আপনার মা ও আমার মায়ের জন্য...

নানা কিছু সম্পত্তি রেখে গেছিলেন,

কিন্তু আমরা আপনাদের সেটা দিতে চাচ্ছি না।

কী বললেন?

আমার মা বলেছে,

আপনার মা খুব ছোটো বেলায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল,

তাই আমাদের সাথে উনার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

বুঝেছি, বুঝেছি।

শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম, কিন্তু কোনো টাকা-পয়সার দরকার নেই আমাদের।

হঠাৎ করেই সব হয়ে গেল...

তাছাড়া, এরকম একটা মুহূর্তে টাকা নিয়ে কথা বলাটা ঠিক হচ্ছে না।

- ঠিক আছে তো, বাবা? - হ্যাঁ।

আচ্ছা।

- বেশ। - হ্যাঁ।

যাক, কিছু মনে করবেন না।

আমিও ভেবেছিলাম আপনি রাজী হবেন।

তাহলে, আমাদের কথোপকথনটুকু রেকর্ড করলে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্লীজ!

পরে,

আমি একটা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি লিখে,

সেটা সত্যায়ন করে

কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিবো।

চলবে না?

অবশ্যই।

আবারও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমি কোনো সম্পত্তি চাই না,

কিন্তু উনার কোনো ছবি ছাড়া শোকসভা আয়োজন করতে

খারাপ লাগছে।

তাই, যদি একটা উপকার করতেন।

যদি উনার কোনো ছবি থাকে,

তাহলে প্লীজ দিতে পারবেন?

ওর তো কোনো ছবি নেই।

ছবি নেই।

কী?

ওর কোনো ছবি নেই।

সে ছবি তুলতে পছন্দ করত না।

তার চেহারাটা

অনেক কুৎসিত ছিল...

তুমি হয়তো জানতে না।

ইয়ং-হি

ছবি তুলতে পছন্দ করত না,

কারণ সে দেখতে খুবই বাজে ছিল।

প্রথম ইন্টারভিউ

কুৎসিত?

এসব কী বলছেন?

উনি কি বিকলাঙ্গ ছিল?

তার কিছু অসুবিধা ছিল,

কিন্তু বিকলাঙ্গ ছিল না।

সে কেবল দেখতে খুবই জঘন্য ছিল, এইটুকুই।

বারবার একই কথা বলছেন কেন?

এই সময়ে কেউ এসব বলে!

আপনারাই তো বলছিলেন ছোটবেলায় সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল।

হ্যাঁ।

এমনি এমনি চলে গেছিল?

হ্যাঁ, কিছু না বলেই চলে গেছিল।

আপনারা বললেই বিশ্বাস করতে হবে?

একটা বাচ্চা মেয়ে, এমনি এমনি চলে যাবে?

আর আপনরাও কিছু সন্দেহ করেননি?

সে তো কিডন্যাপও হয়ে যেতে পারত।

কোন পাগলে এতো বিশ্রী দেখতে একটা মেয়েকে

কিডন্যাপ করবে?

সে এমনি চলেই গেছিল!

ইয়ং-হি, সে...

প্রতিবেশীদের অদ্ভুত গল্প শোনাতো।

কেমন গল্প?

সে নাকি...

তার বাবার রিয়েল এস্টেট অফিসে, তার বাবাকে অন্য মহিলার সাথে

বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখেছে।

তাই মা রেগে গিয়ে...

তাকে প্রচণ্ড মার-ধর করে।

এর পর, সে কয়েকদিন অসুস্থ ছিল,

তারপর বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল।

শুধু চলেই যায়নি,

যাওয়ার সময় মায়ের সমস্ত গয়না ঘাঁটি টাকা পয়সা চুরি করে নিয়ে গেছিল।

মা তো তাকে শুধু মেয়ে না, একটা চোর মনে করত।

এটা ঠিক না।

তার স্বামী পরকীয়া করলে,

সম্পূর্ণ দোষ তো তার স্বামীর।

সত্য বলায় নিজের মেয়েকে মেরেছে?

এটা মায়ের দোষ না?

আমার পরিবারটা সুখেই ছিল,

কিন্তু এই পাগল মেয়েটা গুজব ছড়িয়ে সব ধ্বংস করে দিয়েছিল,

বেশ হয়েছে, তাকে মেরে আধ মরা করে দিয়েছিল!

এভাবে বলবেন না!

যাই হোক,

ইয়ং-হি এর ব্যাপারে আমরা এইটুকুই জানি।

তারপর,

ওর সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি আমাদের।

সে যতো গহনা চুরি করেছে,

তাতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য অংশের চেয়ে সে অনেক বেশিই পেয়ে গেছে।

সে শুধু নামেই পরিবারের সদস্য ছিল।

এখানে এসে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে গেলাম,

তাই না?

ঠিক বলেছেন আন্টি।

এবার যাওয়া উচিৎ না?

হ্যাঁ, চলো।

হ্যাঁ, বস।

স্যার, এই ব্যাপারে আপনার আমাকে বিশ্বাস করতেই হবে।

আমার ধারণা তার স্ত্রীর জীবনের গল্প,

তার জীবনের গল্পের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস

এই গল্পটা বাজিমাত করবেই।

একদম নিশ্চিত।

গল্পটা খুবই চমকপ্রদ হবে।

উপভোগ্য হবে কি না?

অবশ্যই হবে!

হ্যাঁ।

তাহলে আমি কাজে নেমে পড়ি।

আচ্ছা,

ধন্যবাদ, রাখলাম।

এখানে দাঁড়ান।

আসলে...

আমি এবারই প্রথম কোনো কঙ্কালকে কাফন পরালাম।

কিন্তু যতটুকু পেরেছি, হাড়গুলো একসাথে করে রেখেছি।

আপনাদের শেষ কোনো কথা থাকলে, প্লীজ এখনই বলে দিন।

তেমন কোনো কথা নেই,

ইয়ং-হি, ওপাড়ে শান্তিতে থাকিস।

তোমাদের দুজনের কিছু বলার থাকলে, শেষ করো।

যাতে তাড়াতাড়ি বের হতে পারি।

বিশ্রী গন্ধে পেট খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমার।

কিছু বলার না থাকলে চলে আসো।

বমি বমি লাগছে আমার।

আরে এসব কী!

সবগুলোকে একসাথে করতে কতো কষ্ট হয়েছিল জানেন?

তাতে কী হয়েছে!?

শেষে তো পুড়িয়েই ফেলবেন।

তাও ক্ষমা চাচ্ছি।

ছি! আর নিতে পারছি না আমি।

হায় ঈশ্বর...

বাবা, চিন্তা করবেন না, কিছু হয়নি।

ঠিক আছেন?

একটু দাঁড়ান।

বাবা, কলটা ধরতে হবে।

হ্যালো, প্রোডিউসার কিম।

হ্যালো? তো...

সেই কমার্শিয়াল বিল্ডিংটা কোথায় জানেন? যেখানে আপনার বাবা-মায়ের প্রথম দেখা হয়েছিল??

কী?

ছবির সেই বিল্ডিংটা, স্ট্যাম্পের দোকানের ঠিক সামনে।

হ্যাঁ, তো কী হয়েছে?

আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি

সে এই বিল্ডিঙের একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ করত

নাম চিওং-পুং গার্মেন্টস।

চিওং-পুং গার্মেন্টস?

হ্যাঁ, হ্যাঁ।

চিওং-পুং খোদাই-ঘর, চিওং-পুং গার্মেন্টস।

মিলে গেল না?

হ্যাঁ, তাই তো মনে হয়...

সেই সময়ের...

ফ্যাক্টরি কয়েকজন শ্রমিকের সাথে যোগাযোগ করেছি আমি।

বলল, তারা আপনার মাকে চিনে।

তাই,

কাল আপনি ফ্রী থাকলে, গিয়ে তাদের সাথে কথা বললে কেমন হয়?

ঠিক আছে?

এভাবে?

দেখি তো।

গাড়িতে উঠে বসো।

দেখা হয়ে ভালো লাগল।

মিস কিম,

আপনার উদ্বেগ দেখে ভালো লাগছে, কিন্তু...

আরে এটা কোনো বিষয়ই না!

না, এই কারণে বলছি না।

আপনার এতদূর যেতে হবে না।

না, না।

আমার আবার সাংবাদিকতা হওয়ার ইচ্ছা আছে,

গল্পের গভীরে যেতে মজাই লাগে আমার।

ভিতরে চলুন, উনারা অপেক্ষা করছে।

কেমন? চলুন।

দ্বিতীয় ইন্টারভিউ

শুভ অপরাহ্ণ।

হাই।

বসুন।

আপনাদের দুজনকে কী দিবো?

কিছু একটা দিলেই হবে।

জুস দিলে ভালো হয়।

আচ্ছা।

আমি কিম সু-জিন,

আমিই সেই প্রোডিউসার যে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করেছিল।

নিন।

আর উনি কে?

উনি...

আমি লেখক।

- লেখক? - তাই?

হ্যাঁ, আমাদের লেখক।

তো, আপনি একজন টিভি প্রোডিউসার?

এসব কি খবরের জন্য?

হ্যাঁ, এরকমই কিছু।

আমরা, মিস জুং ইয়ং-হি এর জীবনের গল্প নিয়ে অনুসন্ধান করছি।

যে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আপনারা কাজ করতেন,

সেখানেই তার কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ৪০ বছর আগে মারা গেছিল সে।

আহারে...

আপনি যখন কল দিলেন,

ভেবেছিলাম সে দূরে কোথাও মারা গেছিল।

আগে সে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যেত, তাই ভেবেছিলাম পালিয়ে গেছে।

ভেবেছিলাম, খুব খারাপ কিছু হয়েছে তার সাথে।

হায়রে।

সে হঠাৎ একদিন থেকে ফ্যাক্টরিতে আসা বন্ধ করে দিলো?

হ্যাঁ, এই কারণেই ভেবেছিলাম পালিয়ে গেছে।

ফ্যাক্টরিতে

কারো সাথে উনার...

ঘনিষ্ঠতা ছিল?

আসলে,

গোবর-পেত্নীর একমাত্র ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিল,

সেই অন্ধ লোকটা, যে তাকে বিয়ে করেছিল।

"গোবর-পেত্নী"?

এটা...

আমরা তাকে "গোবর-পেত্নী"-ই ডাকতাম।

তার বিশ্রী চেহারার কারণে।

আরে এসব থাক।

আসলে কারো চেহারাই দেখতে গোবরের মতো হয় না,

কিন্তু এই নাম দেওয়ার পিছনে একটা কারণ আছে।

কারণটা কী?

বলতে পারব না...

আরে, আমাকে বললে কিচ্ছু হবে না।

এখন তো সবই অতীত।

তখন,

সবকিছু খুব ব্যস্তময় ছিল।

সেটা ছিল উন্নতির চরম সময়।

আমরাও সারাদিন প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতাম।

দেশ তখন সত্যি সত্যিই মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল।

চিওং-পুং গার্মেন্টস

ইয়ং-হি! এতো দেরী হচ্ছে কেন?!

তাড়াতাড়ি সুতোগুলো নিয়ে আসো!

সরে যাও এখান থেকে!

হেই,

এগুলো নিয়ে যেতে বলেছিলাম তোকে।

সারাদিনে একটা কাজও ঠিক মতো করতে পারিস না!

শুনছেন, বস...

দুঃখিত, কিন্তু...

আমি কি একটু বাথরুমে যেতে পারি...?

অনেক কাজ পড়ে আছে, একদমই সময় নেই!

খুবই দুঃখিত...

বড্ড চেপেছে...

যাহ, এক মিনিটের মধ্যে আসবি।

ধন্যবাদ।

টয়লেট

সে কথাটা সত্যিই ধরে নিয়েছিল,

আর পায়খানা করারও সময় পায়নি।

সে বোকার মতো নিজের প্যান্টেই করে দিয়েছিল।

যা পরিষ্কার করে আয়!

খুবই অসহায় লাগছিল তাকে।

তার চেহারা তো এমনিতেই জঘন্য,

তার উপর আবার এমন নোংরা কাজ...

তারপর থেকেই সবাই তাকে "গোবর-পেত্নী" ডাকা শুরু করল।

আচ্ছা, তার চেহারাটা আসলে কেমন ছিল?

যে সবাই তার চেহারা নিয়ে কথা বলত?

উনার কি কোনো জন্মগত খুঁত বা ওইরকম কিছু ছিল?

আসলে তার চেহারাটার ব্যাপারে সহজে বলে বুঝানো যাবে না...

যাই হোক, সুন্দর ছিল না, কুৎসিত ছিল দেখতে।

আচ্ছা, আপনারা জানেন কিনা।

কোথাও উনার কোনো ছবি আছে?

- ছবি? - ছবি...

আসলে...

তখন তো ছবি তোলার এতো চল ছিল না।

তবে আমাদের কাজে নেওয়ার আগে ছবি তুলে রাখা হতো।

এখনও আছে ওগুলো?

এ তো অনেক আগের কথা,

হয়তো এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এমন কেউ ছিল...

যে উনার উপর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারে?

সে নোংরা ছিল বলে সবাই তাকে ঘৃণা কর‍ত,

আর দেখতেও দানবের মতো ছিল,

কিন্তু মানুষ হিসাবে ভালো ছিল সে, তার কোনো শত্রু থাকতে পারে না।

তা ঠিক।

এত কিছুর পরেও, সে অন্ধ লোকটাকে বিয়ে করেছিল।

জীবনটা নিশ্চয়ই সুখেই কাটছিল তার।

না,

আমার মনে হয় সে একটা ঝামেলার সাথে জড়িয়ে পড়েছিল...

আমাদের বসের সাথে।

আচ্ছা, এই ব্যাপার।

ঠিক কী হয়েছিল তার বসের সাথে?

এই ব্যাপারে কিছু বলার দরকার নেই।

সে ভালো মানুষ ছিল,

সে গোবর-পেত্নীর সাথে কিছু করতেই পারে না।

তখন তো তার টাকা দিয়েই আমাদের পেট চলেছে, ভুলে গেছেন?

বলুন না, প্লীজ?

কিচ্ছু হবে না।

এই ব্যাপারে জিন-সুক এর সাথে কথা বলতে পারেন...

দুঃখিত? কে?

হেই,

একটা ব্যাপারে খবর নিতে হবে।

দ্রুত কিছু তথ্য লাগবে।

১৯৭০-এর দশকের একজন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বসকে খুঁজে বের করতে হবে।

আচ্ছা, তাহলে আমাকে ফোন নাম্বারটা পাঠিয়ে দেও।

হ্যাঁ, মেসেজে দিলেই হবে।

ধন্যবাদ, বাই।

সে খুব দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করতে পারে।

আমরা শীঘ্রই কিছু একটা পেয়ে যাবো।

মিস কিম, এসব বন্ধ করা যাক।

বাকিটা আমি দেখব, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়।

না, একদমই না।

আমার একদমই অসুবিধা হচ্ছে না।

গেলাম।

কাল কল করব।

সাবধানে থাকবেন।

সাবধানে থাকবেন।

ধন্যবাদ।

- নিজের খেয়াল রাখবেন! - সাবধানে যাবেন।

চলুন।

ইম ইয়ং-গিউ

কোরিয়ার জীবন্ত বিস্ময়: ইম ইয়ং-গিউ

দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী খোদাইকার ইম ইয়ং-গিউ-এর প্রদর্শনী।

আমরা কাল লি জিন-সুক এর বাড়িতে উনার সাথে দেখা করব।

ফ্যাক্টরির বসের ঠিকানাও বের করে ফেলেছি, কাল দেখা হচ্ছে!

তৃতীয় ইন্টারভিউ

প্রোডিউসার কিম সু-জিন

তো?

কী জানতে চান আপনারা?

আমরা মিস জুং ইয়ং-হি এর শেষ দিনগুলোর ব্যাপারে জানতে চাই।

দাঁড়ান...

আপনাদের এই জুং ইয়ং-হি মহিলার সাথে আমার মায়ের সম্পর্ক কী?

যে কষ্ট করে এতদূর এলেন?

- আসলে... - ও আমার সেলাই সহকারী ছিল।

আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়ো ছিল সে।

সারাক্ষণ তাকে দিয়ে কাজ করাতাম আমি।

তার যদি আসলেই মৃত্যু হয়...

তাহলে এর জন্য কিছুটা আমি দায়ী।

খুবই খারাপ ব্যবহার করেছি তার সাথে।

কক্ষনো কোনো অভিযোগ করেনি,

চুপচাপ কাজ করে যেতো।

মিস লি...

তুই এখনও যাসনি?

আপনি কাঁদছেন কেন?

ইয়ং-হি...

আমি জানি না কী করব।

তখন ইয়ং-হি কে দেখে

আমার মন খুলে সব বলতে ইচ্ছে করছিল।

সেই জানোয়ার বস...

সে...

আমাকে ধর্ষণ করেছিল।

কী?

আর কাকে বলতাম আমি?

সে আমাদের সময় মতো টাকা দিতো,

এমন কি বোনাসও দিতো।

সবাই তাকে পীর সাহেবের মতো মান্য করত।

হ্যালো।

- এই যে, তোমরা দুজন! - হ্যালো।

ওখানে দাঁড়াও।

ছবি তুলব তোমাদের।

সোজা হয়ে দাঁড়াও।

এই তো।

১, ২, ৩।

খুব সুন্দর!

আরেকটা তুলি, অন্য ভাবে দাঁড়াও।

মিস কোরিয়ার মতো।

দারুণ।

১, ২, ৩।

খুব সুন্দর হয়েছে।

ধন্যবাদ।

বাই।

লজ্জা লাগছে আমার!

তোমাদের জন্য ছবিগুলো বাঁধাই করে দিবো, কেমন মেয়েরা?

আমি খুবই দুঃখিত...

এমনিতেই তো খোদাই কাজ করা অনেক কষ্টের,

তার উপর আবার ডং-হুয়ানকেও দেখে রাখতে হয়।

কী যে বলো!

সন্তানের খেয়াল রাখা তো...

আমারও দায়িত্ব।

আমি খুব দ্রুত কিছু টাকা জমাবো,

যেন তুমি চাকরিটা ছেড়ে দিতে পারো,

তখন শুধু ডং-হুয়ান এর খেয়াল রাখবে।

কিছু হয়েছে?

না, কিছু না...

কিন্তু সোনা,

যদি কোনো খারাপ লোক ভালো সাজার নাটক করে,

তাহলে সে কি খারাপ মানুষ হলো নাকি ভালো মানুষ?

কী বলছ এসব?

কিছু না।

শুভ সকাল।

হ্যাঁ।

তোর দর্জি আজকেও কাজে আসেনি।

বসকে বলে তার জায়গা অন্য কাউকে কাজ দিতে হবে।

এতো ব্যস্ততার মাঝেও কাজ ফাঁকি দেয়, অবিশ্বাস্য!

কী?

তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন তো?

সে হয়তো অসুস্থ।

নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া...

এই গোবর-পেত্নী।

বিয়ে হয়েছে বলে এখন

মতামত দেওয়া শুরু করেছিস?

কানা-চোদাটা নিশ্চয়ই তোকে লাই দিয়ে সাহস বাড়িয়েছে।

এই ব্যাপারে কোন সাহসে কথা বলিস, হ্যাঁ?

বাদ দে।

সবাই শুনে রাখো।

কাল থেকে নতুন দর্জি কাজে আসবে।

গোবর-পেত্নী, তুই তাকে সহযোগিতা করবি।

কী? তাহলে মিস লি এর কী হবে?

সে দুই দিন কাজে আসেনি,

এরকম করলে তো আমরা সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারব না।

বস তাকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, আর কিছু জানতে হবে না তোর।

বস বলেছে এই কথা?

যা কাজে যা।

হেই।

হেই, হেই!

কোথায় যাচ্ছিস তুই?!

বাল।

ওরে বাপরে! কে?

কী?

বস।

আপনি কি সত্যিই মিস লি জিন-সুককে বরখাস্ত করে দিয়েছেন?

কী?

আপনি এটা করতে পারেন না।

এ কী জ্বালা...

কী বলছিস এসব...

আমি তো সবাইকে নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করছি, যা এখান থেকে।

কিন্তু...

মিস লি জিন-সুক...

আপনি তো ভালো করেই জানেন, উনি কেন কাজে আসছেন না।

তুই কি এই ফালতু কথা বলেই যাবি?

কিন্তু আপনি

তার সাথে খারাপ কিছু করেছেন,

এই কারণেই সে কাজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

খানকি মাগী!

আমার সাথে একদম ফালতু কথা বলবি না!

বেরিয়ে যা।

যা!

ওখানেই থেমে যাওয়া উচিৎ ছিল তার,

এটা তার কোনো ব্যাপারই ছিল না।

বোকা মেয়েটা...

সোনা।

কী কাজ করছ তুমি?

উহু, কিছু না।

আরে তোমরা দুজন!

- চলো ছবি তুলে দেই তোমাদের। - চলে আয়!

কোথায় যাচ্ছ?

মেয়েগুলো এতো লজ্জা পায়!

চিওং-পুং গার্মেন্টসের সিইও ব্যেক জু-সাং

একজন লম্পট, সে মেয়েদেরকে যৌন নির্যাতন করে।

"...যৌন নির্যাতন করে।"

হায়রে!

হারামজাদা।

জানোয়ার,

তুই থাকতে মাগীগুলো,

এই কাজ কীভাবে করল?

অকর্মা কোথাকার!

সব মাগীগুলোকে লাথি মেরে বের করে দে।

কী?

সব খানকিগুলোকে বের করে দে!

জি, স্যার।

গোবর-পেত্নী!

এতো বড় কাণ্ড ঘটিয়ে,

এখনও এখানে কাজ করছিস?

"কাণ্ড ঘটিয়েছি"?

কী ভুল করেছি আমি?

দেখ কতো বড়ো সাহস!

আমাদের বসকে অপমান করে, তার কাছ থেকেই বেতন নিতে চাইছিস?!

বেরিয়ে যা, মাগী কোথাকার।

বেশ, কিন্তু মিস লি এর কী হবে?

তাকেও বের করে দিবেন?

হ্যাঁ-রে, গোবর-পেত্নী!

তোরা এই ফ্যাক্টরির আশেপাশেও কাজ করতে পারবি না, তাই বেরিয়ে যা এক্ষণই।

দাঁড়ান, ভুলটা তো তার,

সেই এসব করতে বলেছে আপনাকে?

সেটা তুই জেনে কী করবি?!

আমি বসের সাথে কথা বলব।

তুই গেলে কিন্তু...

মিস লি...

অনেক হয়েছে, শয়তান।

নিজেকে কী মনে করিস?

বাল...

ইয়ং-হি জানত না।

তখন এরকম কোনো খবর ছড়িয়ে দিলে,

মানুষ অপরাধীর ব্যাপারে নয়

বরং কে যৌন নির্যাতিত হয়েছে, সেটা নিয়ে কৌতূহলী হয় বেশি।

জানাজানি হওয়ার ভয়ে খুবই লজ্জিত ছিলাম আমি।

ইয়ং-হি...

কেবল আমাকে সাহায্য করতে চেয়েছিল।

সেই জানোয়ারের জীবনে হয়তো কোনো প্রভাবই পড়েনি।

কারণ আমার লজ্জাই ওর জন্য ক্ষমা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

যদি ইয়ং-হি তার হাতেই খুন হয়ে থাকে,

তাহলে ভুলটা আমারই,

আমার কারণেই তো এতো কিছু ঘটেছিল।

চলুন।

সেই জানোয়ার ব্যেকের সাথে দেখা করে আসা যাক।

একটা নিষ্পাপ নারীর সাথে, কীভাবে এরকম একটা কাজ করতে পারে সে...

মায়া লাগছে না আপনার মায়ের জন্য?

তাকে জিজ্ঞাসা করতেই হবে কেন সে এই কাজটা করল।

জানতে চান না আপনি?

পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে তাকে।

চতুর্থ ইন্টারভিউ

কেউ আছে বাড়িতে?

হ্যালো, স্যার।

আমরা টিভি স্টেশন থেকে এসেছি।

টিভি স্টেশন থেকে এখানে এসেছেন কেন?

কিছু কথা বলার ছিল।

আপনার নাম ব্যেক জু-সাং, তাই না?

বেরিয়ে যা, শুয়োরের বাচ্চারা...

স্যার, আপনার কি কোনো ভাবে...

জুং ইয়ং-হি এর কথা মনে আছে?

কে?

সে আপনার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে

কাজ করত।

মাঝে মাঝে তাকে "গোবর-পেত্নী" বলে ডাকা হতো।

ওহ... সেই জঘন্য মাগীটা।

ওহ, মনে আছে তার কথা?

অবশ্যই, ভুলি কী করে?

নোংরা মাগীটা বড়ো বাড় বেড়েছিল।

তারমানে, মনে আছে আপনার।

আমরা এখানে

জুং ইয়ং-হি এর শেষ দিনগুলোর ব্যাপারে জানতে এসেছি।

স্যার।

কিছু জেনে থাকলে, প্লীজ সত্যিটা বলুন।

তাছাড়া, মামলার সময়সীমা তো অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

এটা একদমই ঠিক হয়নি!

হারামিটাকে ধরতে পারেনি তারা?

কোন "হারামি"?

সেই কানা চোদা তো নিজের হাতে তার স্ত্রীকে খুন করেছে।

হায়রে, ওরা এখনও প্রমাণ করতে পারেনি?

কঠিন চালাক হারামিটা।

শালা...

আরে, নিজের চোখেই দেখে নিও, বুঝলে?

হেই।

বস।

সে এসেছে, এসেছে!

শুভ সন্ধ্যা।

- আয়, মাঝখানে বস। - হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।

এই তো সে!

এখানে আসুন।

- এইটা ছেড়ে দিন। - আচ্ছা...

ছাড়ুন।

- হ্যাঁ... - এখানে বসুন।

- আসুন। - হাত ধর।

আয়, আয়।

- এটাই সেই লোক? - হ্যাঁ।

অন্ধ হয়েও...

যে স্ট্যাম্প খোদাই করেন?

অবশ্যই!

চোখে না দেখেও ভালো স্ট্যাম্প বানায়?

- একদম ঠিক বলেছেন! - খুবই অসাধারণ ব্যাপার।

ও আমার ফ্যাক্টরির সামনের গলিতে স্ট্যাম্প খোদাই করে,

আর তার সমস্ত কাজ একদম সেরা মানের হয়।

ওয়াও।

বানিয়ে দেখাতে পারবেন?

হ্যাঁ, ইয়ং-গিউ,

তোর হাতের জাদুটা দেখিয়ে দে,

এখানে কীভাবে করি?

দেখান!

আমার দোকানে এলে,

কম দামে বানিয়ে দিবো।

ইয়ং-গিউ।

এখানেই দেখা রে।

দারুণ!

আচ্ছা, তাহলে স্ট্যাম্প লাগবে কার?

আমার! আমার!

বেশ, জাং ম্যাডামের জন্য একটা খোদাই করে দে।

"জাং মি-সুক," প্লীজ।

- আচ্ছা, আচ্ছা। - জাং মি-সুক।

দেখুন, যন্ত্রপাতি বের করছে।

তো, এগুলো সবসময় সাথেই থাকে?

দেখুন।

অনেকটা হয়ে গেছে, এবার দেখলেই বুঝবেন।

হয়ে গেছে।

ভালো!

দেখা যাক।

জাং মি-সুক

সে কি আসলেই অন্ধ?

কীরে চোখে দেখিস?

এ তো অসাধারণ মানুষ!

না দেখে কীভাবে অক্ষরগুলো এতো সুন্দর করে খোদাই করল?

চমৎকার।

উপহার হিসাবে দিয়ে দিচ্ছে।

আমার, আমার।

সে অন্ধ হওয়ার ভান করছে না তো?

একদমই না।

না দেখে কীভাবে বুঝল,

যে তার খোদাই করা অক্ষরগুলো সুন্দর হয়েছে কিনা?

এই কারণেই তো সে অসাধারণ, ভাই!

তবে এই স্ট্যাম্পগুলোর চমৎকার ব্যাপার হলো,

দিন দেখাচ্ছি।

কোনো চুক্তিতে এটা ব্যবহার করলে,

কখনো কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না।

এটা এতোই নিখুঁত!

- হ্যাঁ? - অবশ্যই।

এটা সাধারণ কোনো স্ট্যাম্প না।

এতে আছে জাদুকরী শক্তি আছে।

দুষ্টুমি করছেন...

কারো স্ট্যাম্প লাগলে, সবসময় ইয়ং-গিউ এর কাছ থেকে কিনবেন!

ধন্যবাদ।

ইয়ং-গিউ! বিয়ার খা ভাই।

দাঁড়া, গ্লাসটা খালি করে দিচ্ছি।

ঠাণ্ডা দেখে ঢেলে দিচ্ছি।

দেখি।

আমি নিজে তোকে ঢেলে দিচ্ছি,

কারণ তুই মেধাবী আর চমৎকার একটা মানুষ।

নে এবার, সবটা খা!

ভালো।

খা।

ভালো...

দারুণ।

ভালোই তো খেতে পারে।

জোর করে খেতে হবে না, গলায় আঁটকে যাবে!

- স্ন্যাকসও দিন কিছু। - এই যে, হা করুন।

হা কর!

মিস্টার, ব্যেক, তার স্ট্যাম্পের কারণেই হয়তো,

আপনার ব্যবসায় এতো সফলতা এসেছে।

বললাম তো, তার স্ট্যাম্পে জাদু আছে!

ইয়ং-গিউ।

জি, স্যার?

আমাকে সবসময় তোর বড় শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করবি, বুঝলি?

অবশ্যই, আমি তাই মনে করি।

বাল...

শুয়োরের বাচ্চারা...

বস।

হ্যাঁ?

সব ঠিক আছে?

আমি সবসময় আপনার জন্য মন থেকে কৃতজ্ঞ, স্যার।

শোন।

তোর বউ যে কয়েকদিন ধরে আমাকে জ্বালাচ্ছে, জানিস?

কী বললেন?

তুই তাকে আমার পিছনে লাগিয়েছিস?

না!

একদমই না স্যার! এই কাজ আমি কখনোই করব না, স্যার।

স্যার,

আমি তাকে থেমে যেতে বলব, কেমন?

দয়া করে রাগ করবেন না।

নর্দমার কীট...

প্যান্ট খুলে প্রস্রাব করার চেয়েও...

তোদের মেরে ফেলাটা আমার কাছে সহজ কাজ, বুঝলি?

জি, অবশ্যই।

অকৃতজ্ঞের দল...

- শোন। - জি?

খা।

সোনা।

কী কাজ করছ তুমি?

উহু, কিছু না।

তুই থাকতে মাগীগুলো,

এই কাজ কীভাবে করল?

সব মাগীগুলোকে লাথি মেরে বের করে দে।

কী?

সব খানকিগুলোকে বের করে দে!

জি, স্যার।

বাল, একটাও কাজের না...

সীমা ছাড়িয়ে গেছে মাগীগুলো।

চিওং-পুং থেকে ব্যেক বলছি।

একটা ঝামেলা হয়ে গেছে এখানে।

কতো জন লোক জোগাড় করতে পারবি?

কে ওখানে?

কে?

কারা আপনারা?

কারা?

আপনাদের কি...

মিস্টার ব্যেক পাঠিয়েছে?

কী হয়েছে?

সোনা!

এরকম করবেন না!

প্লীজ থামুন।

প্লীজ এরকম করবেন না, যেতে দিন আমাদের।

ছেঁড়ে দিন ওকে!

স্যার, আমি মাফ চাচ্ছি! দয়া করুন!

আর এরকম হবে না।

ক্ষমা করুন, যেতে দিন আমাদের!

স্যার!

হয়েছে।

দয়া করে যেতে দিন...

তোদের খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই, চল কিছু খেয়ে আসা যাক।

সোনা...

সোনা?

দয়া করে কেউ সাহায্য করুন।

কেউ আছেন?!

বাঁচান!

বাঁচান আমাদের...

আরে এ কী করছিস পাগলা!

আমার ভুলটা কী ছিল? বল!

বাপরে!

- বল কী ভুল করেছি আমি?! - বাহিরে কেউ আছে?!

এটাকে নিয়ে যা!

বাল...

পাগল হয়ে গেছে মাগীটা।

অপদার্থগুলো কাজটা ঠিক মতো করতে পারেনি,

তাই আমি আবার ওদের পাঠিয়েছিলাম।

এমন ভাবে মারতে বলেছিলাম, যেন কয়েকদিন বিছানা থেকে উঠতে না পারে।

ওরা বলল, সেই কানা নাকি বেরিয়ে এসেছিল।

অদ্ভুত না?

তাকে হত্যা করার কোনো দরকার ছিল না।

কেউ কিছু দেখেনি! কেউ কিছু দেখেনি...

শান্ত থাক...

সেই কানা লোকটা...

তার লাশটাকেও ঠিক ভাবে রাখেনি,

তাই আমার ছেলেরা সেটার ব্যবস্থা করেছে,

এমন কি শ্রাদ্ধেরও ব্যবস্থা করেছে।

আমার ধারণা, তাদের উপর যেন কোনো দোষ না যায়, তাই তারা এরকম করেছে।

তারা হয়তো লাশটা এতো গভীরে পুঁতেছিল,

যে কানা লোকটা কখনও খুনের দায়ে গ্রেফতার না হয়।

তার আমাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ।

কক্ষনো না।

মিথ্যা বলবি না...

আমার সাথে মিথ্যা বলবি না।

ডং-হুয়ান, থামুন, প্লীজ, এরকম করবেন না!

সত্যিটা বল, তুই মেরেছিস তাকে, তাই না?

এরকম করবেন না!

লম্পট, বেজন্মা কোথাকার!

থামুন!

তুই মেরেছিস তাকে।

তুই মেরেছিস, তুই!

এভাবে কিছু সমাধান করা যাবে না!

কী সমস্যা?

পঞ্চম ইন্টারভিউ

জানতাম না তুই বাসায় চলে এসেছিস, চুপচাপ বসে আছিস।

কী করে বেড়াচ্ছিস আজকাল?

যা শুয়ে পর।

বাবা।

হ্যাঁ?

ব্যেক জু-সাং নামের একটা লোকের সাথে দেখা করেছিলাম আজ।

কে?

খুবই অদ্ভুত কথা বলল সে...

মাকে তুমি খুন করেছ?

কিন্তু, বাবা...

কেন করলে কাজটা?

কেন?

তখন, জীবন খুবই কষ্টের ছিল।

ছোটবেলা থেকে,

সবসময় অপমান আর মার সহ্য করে এসেছি।

কারণ আমি দেখতে পারতাম না...

যখন স্ট্যাম্পে খোদাই করার কাজ শিখতে গেলাম,

তখন বিনা কারণে মার-ধর করা হলো আমাকে।

নরক ছিল আমার জীবনটা।

কিন্তু না খেয়ে, কষ্ট করে টাকা জমিয়ে,

ছোট্ট একটা...

দোকান খুলতে পেরেছিলাম তখন।

স্ট্যাম্প খোদাই-ঘর

ভেবেছিলাম,

আগের চেয়ে দশ গুণ বেশি কষ্টও আমি সহ্য করতে পারব।

আরে দেখি!

বড়ো করে একটা হাসি দে!

অন্ধ লোকের ছবি তুলে কী লাভ?

হাসলে অনেক ভালো দেখায় তোকে।

বড়ো করে হাসি দে!

- এক। - এভাবে?

হ্যাঁ, ঠিক আছে।

আচ্ছা, এক...

তিন!

সুন্দর হয়েছে।

আসলেই,

খুবই দারুণ ব্যাপার যে, চোখে না দেখেও খোদাই এর কাজ করছিস।

হেই।

যখন তোদের মতো কাউকে কষ্ট করে, কর্ম করে খেতে দেখি,

তখন খুবই ভালো লাগে, মন থেকে সম্মান চলে আসে তোদের জন্য।

শুন, উপহার হিসাবে, তোকে এই ছবিটা

বাধাই করে দিবো।

দোকানটা বড়ো করলে,

সবার সামনে টানিয়ে রাখবি, বুঝেছিস?

- স্যার? - হ্যাঁ?

আমি...

অসংখ্য ধন্যবাদ।

- আমি অনেক পরিশ্রম করব। - ভালো।

ভালো।

- হ্যাঁ, মন দিয়ে কাজ কর! - জি, স্যার!

- বড়ো কিছু হবি তুই। - ধন্যবাদ!

- ভালো, যেতে হবে আমাকে। - জি, স্যার!

- সাবধানে থাকবেন, বস। - বাই।

ওহ ভাই...

কিন্তু সবকিছু আমার মনের মতো হলো না।

একজন অন্ধ লোকের স্ট্যাম্পের খোদাই-ঘরে কেউ আসল না।

সবাই শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত,

আর আমি কাজটা পারি কি না, সেটা দেখার জন্য অকারণে ঝামেলা করত।

তারপর একদিন তোর মায়ের সাথে দেখা হলো।

অক্ষরগুলো...

খুবই সুন্দর হয়েছে।

সুন্দর হয়েছে?

তাহলে আপনাকে একটা স্ট্যাম্প বানিয়ে দেই?

না...

হলে ভালো হতো...

কিন্তু আমার এখন স্ট্যাম্পের কোনো প্রয়োজন নেই।

হয়তো... হয়তো অন্য কোনদিন বানিয়ে নিবো।

না, সমস্যা নেই।

এটা করলে কেমন হয়?

এই দোকান খোলার পর,

আপনিই আমার প্রথম কাস্টমার,

আপনাকে একটা ফ্রীতে বানিয়ে দিলে কেমন হয়?

সত্যিই দিবেন?

অবশ্যই।

দেখা যাক।

নাম বলুন আপনার।

আমার নাম ইয়ং-হি।

ইয়ং-হি।

জুং ইয়ং-হি।

সেদিনই প্রথম তার নামটা জানতে পারি।

জুং ইয়ং-হি।

কতো সুন্দর নাম!

আপনার নামটা খুবই সুন্দর।

যেহেতু আপনি আমার প্রথম কাস্টমার,

তাই খুব সুন্দর করে বানাবো আপনারটা।

আচ্ছা।

আপনি কি এই কাছের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন?

হ্যাঁ।

দেখা যাক।

এবার নিজের হাতে চাপ দেন।

এখানে।

কালিতে লাগিয়ে চেপে ধরুন।

এভাবে ধরে,

তারপর চাপ দিন।

হয়ে গেছে।

জুং ইয়ং-হি।

কেমন হয়েছে?

খুবই সুন্দর হয়েছে।

সত্যি?

কাগজটাও রাখুন।

অন্যদের জানাতে ভুলবেন না যেন।

হ্যাঁ

সেদিনের পর থেকে,

সে এসে আমার সাথে কথা বলে,

রাইস বল আর খাবার দিয়ে যায়।

এখনও খাননি তাই না?

আমি বাড়তি বানিয়েছিলাম...

কী এটা?

অল্প কিছু রাইস বল।

আরে এসবের কোনো দরকার নেই...

আমার জীবনে এই প্রথমবার,

কেউ আমাকে নিয়ে আগ্রহ দেখালো।

ইয়ং-হি কণ্ঠ শুনলেই,

আমার ভিতরে ভালো লাগা কাজ করত।

খুব ভালো লাগত।

- ধন্যবাদ। - অবশ্যই।

- আবারও ধন্যবাদ! - আচ্ছা...

আমার তো হিংসা হচ্ছে রে, ইয়ং-গিউ।

এমন একটা সুন্দর মেয়ে তোকে পটাতে চাইছে।

তাই না?

এতো সুন্দর মেয়েটাকে চোখে দেখতে না পেরে,

নিশ্চয়ই খুব যন্ত্রণা হচ্ছে তোর।

কেউ তাকে ভাগিয়ে নেওয়ার আগে,

তোর কিছু বলা উচিৎ।

বিয়ে করে তোর সাথে থাকার প্রস্তাব দে তাকে!

চলে গেলে কিন্তু আফসোস করবি।

কী ভাগ্য!

গন্ধটা কীসের?

এসব শুনে অস্থির হয়ে গেলাম,

ভয় পেয়ে গেলাম আমি।

কোনো ভাবে সাহস জুগিয়ে...

তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে বসি।

তার দেখভাল করার প্রতিশ্রুতি দেই।

আর তোর মা-ও রাজী হয়।

নিজের ভাগ্যকে নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না।

সবাই হাত তালি দেও ওদের জন্য!

সংসার জীবনের আসল সার্থকতা কোথায়?

এক ঝাঁক বাচ্চা-কাচ্চা জন্ম দেওয়া, তাই না?

দেখো কেমন হাসছে!

বাচ্চা হওয়ার কাজটা কখন হয় শুনি?

- রাতে! - রাতে, রাতে।

হেই, ইয়ং-গিউ, তোর ভাগ্য আসলেই অনেক ভালো।

তোর জন্য তো সারাক্ষণই রাত!

চল, তোর বিয়ে উপলক্ষে,

একটা ছবি তুলে ফেলি।

- সোজা হয়ে দাঁড়া। - এইতো এভাবেই।

- তৈরি তো। - কোথায় তাকাবো?

ইয়ং-গিউ, এদিকে তাকা।

এই তো হয়েছে, এক...

তখনই জীবনে প্রথম স্বপ্ন বুনা শুরু করি।

ইয়ং-হি কে যেন কখনও অসম্মানিত হতে না হয়,

ও যেন সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।

কাঁদে না...

খিদে পেয়েছে?

মা তো এখনও আসেনি।

চলে এসেছি।

ডং-হুয়ান-এর নিশ্চয়ই অনেক খিদে পেয়েছে।

এই তো।

তোর জন্মের পর,

দুজন মিলে কর্ম করার পরেও,

বেশি টাকা কামাতে পারতাম না।

তবুও চলে যেত,

কোনরকম চলে যেত আরকি।

তারপর এক রাতে,

গিউ-চিল কাজের জন্য এলাকায় এসে আমার বাড়িতেও এসেছিল।

- ধন্যবাদ, ম্যাম। - অবশ্যই।

নে, খা।

আচ্ছা।

সে মানুষ হিসাবে ভালো তো?

হ্যাঁ অবশ্যই।

আমার মতো একটা অন্ধ মানুষের সাথে, ওর মতো একটা ভালো মানুষের পরিচয় হলো,

এটা আশীর্বাদ ছাড়া কিছু না!

আমার একমাত্র আফসোস হলো, আমি কখনোই নিজের চোখে...

ওর চেহারাটা দেখতে পারব না।

মানুষ ভালো হলেই হলো।

তার চেহারাটা না দেখাই তোর জন্য মঙ্গল।

হারামজাদা বলে কী!

এই ব্যাটা।

আমার এখন একমাত্র ইচ্ছা হলো, একবার হলেও তার মুখটা দেখা।

ফালতু কথা বলিস না।

না, সত্যি বললাম।

তাকে না দেখলেই তোর জন্য ভালো হবে।

কী বলছিস?

তোকে কেউ কিছু বলেনি?

তার চেহারাটার ব্যাপারে?

এই হারামি...

অবশেষে বলল।

যে তোর মায়ের মুখটা ছিল...

ভীষণ কুৎসিত আর দানবের মতো।

তখন সবকিছু বুঝতে পারলাম।

এই হারামিরা,

না, এই বেজন্মারা মজা করত আমাকে নিয়ে।

সবসময় আমাকে নিয়ে তামাশা করে গেছে।

ছোটবেলা থেকেই আমাকে সবাই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে,

এগুলো থেকে মুক্তি পেতে অনেক পরিশ্রম করেছিলাম জীবনে।

কিন্তু তারপরও...

এসব কিছুই থামল না।

কিচ্ছু না!

একটা দানব...

কেন?

তোর কি মনে হয় আমি সুন্দর আর কুৎসিতের পার্থক্য বুঝি না?

মানুষ হয়তো মনে মনে আমাকে নিচু চোখে দেখে,

তারপরও আমার সামনে মাথা নত করে কেন?

কারণ আমার খোদাই-ঘরটা ছিল খুব সুন্দর।

খুবই সুন্দর।

আমি জানতাম।

সুন্দর জিনিসকে সবাই প্রশংসা আর সম্মান করে।

কুৎসিত জিনিসকে করে অবজ্ঞা।

সব জানি আমি।

তারপর থেকে সব বুঝতে লাগলাম, যেগুলো আগে বুঝিনি।

সব কিছু।

সব।

শেষ পর্যন্ত তোর মা-ও আমাকে ধোঁকা দিল।

কতোটা ছোট নজরে দেখেছিল সে আমাকে?

শুধু উপহাস করতে আমার জীবনে এসেছিল।

তারপরও যদি তার সাথে থাকতাম,

মনে হয়েছিল, তাহলে আমি আর কখনই এই অপমান থেকে পরিত্রাণ পাব না।

যতোই পরিশ্রম করি, যতই কাজ করি না কেন।

এই মহিলার সাথে থাকতে পারব না আমি।

এমনকি মিস্টার ব্যেকের সাথে ঝগড়া হওয়ার পরেও,

কেন আমার জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল সে?

থেমে যেতে বলেছিলাম তাকে,

কিন্তু আমার অবাধ্য হয়ে একই কাজ বারবার করল।

মরে যা।

মরে যা তুই...

মাঝে মাঝে, চাইতাম আমার হয়ে কেউ তাকে মেরে ফেলুক।

মেরে ফেলুক...

যতই প্রার্থনা করতাম,

সে কখনোই আমাকে ছেড়ে যেতে চায়নি।

মার খাওয়ার পরেও, সে আমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি।

কখনো ভাবিনি আমার হাতেই তার মৃত্যু হবে।

চিন্তাও করিনি কখনো।

কক্ষনো না।

আবার বসের সাথে দেখা করতে গেছিলে?

গেছিলে?

গেছিলি কি না বল?!

আসলে...

কেন...

কেন...

কেন বারবার ঝামেলা করছিস?!

আমি ভুল কী করেছি?

জানোয়ার!

সোনা।

দয়া করে...

অন্যের ব্যাপারে এতো নাক গলাস না!

ছোট ইঁদুরের মতো,

চুপচাপ নিজেদের জীবনটা কাটিয়ে দেই।

ছোটবেলা থেকেই,

সবাই সবসময় আমাকেই দোষ দিতো।

আমিই নাকি যতো সমস্যা।

তাই ভেবেছিলাম, আমাকে হয়তো কিছু, না জানার ও না দেখার ভান করেই বাঁচতে হবে।

কিছু সময়ের জন্য, আমি সত্যিই এভাবেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিলাম।

কিন্তু তুমি...

তুমি আমার প্রতি সদয় ছিলে।

চুপ কর।

আমাকে সাহস জুগিয়েছ।

তোমার কারণেই।

একমাত্র তুমিই আমাকে...

কুৎসিত হিসাবে দেখোনি।

বাল।

চুপ কর,

চুপ মাগী!

তোর কোনো বিবেক থাকলে,

এটা বলার সাহস করতি না, খানকি।

কেউ কোনদিন জানতে পারত না।

না, তাকে নিয়ে কারো মাথা ব্যথাই ছিল না।

ডং-হুয়ান।

আমি নিজের হাতে,

আমার জীবনে জোর করে আসা অপমানকে শেষ করে দিয়েছিলাম।

কাউকে না জানিয়ে।

ডং-হুয়ান।

তুই বুঝেছিস তো?

সত্যি বলতে, তোর কারণেও করেছিলাম কাজটা।

তোকে কিন্তু বুঝতে হবে, বুঝলি?

এদিকে আয়।

এদিকে আয় বাবা।

তোর জীবনে শুধু সুন্দর জিনিসগুলো রাখতে চেয়েছিলাম।

তোকে বুঝতে হবে।

এদিকে আয়।

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

কিছুই না।

না বুঝলে তুই পরজীবী ছাড়া আর কিছুই নও।

কী?

যেই পরজীবী সারাজীবন শুধু বসে বসে

আমার সারা জীবনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফল ভোগ করেছে।

তোকে বুঝতেই হবে।

আপনি একজন খুনি।

না! কে খুনি! আমি খুনি না!

আমি না!

মামলার সময়সীমা তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে!

ভেবেছিস আমি জানি না?!

আমি কোরিয়ার এক জীবন্ত বিস্ময়!

যে তার আঙুলের ডগা দিয়ে সারা দুনিয়াকে দেখতে পারে।

জীবন্ত বিস্ময় আমি...

কোনো খুনি না।

অন্তিম উক্তি

আপনি আপনার বাবাকে অনেক শ্রদ্ধা করেন,

এই ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত তো?

আমি কিছু অপ্রয়োজনীয় অংশ ডিলিট করে দিয়েছি।

কী?

দয়া করে ডকুমেন্টারিটা সুন্দরভাবে শেষ করবেন।

জানেনই তো, আমার বাবা...

সারাজীবন কষ্ট করে, এখন কোরিয়ার একজন বিখ্যাত মানুষ হতে পেরেছে।

তাই, দয়া করে...

এরকম কিছু করবেন না, যাতে তার সম্মানহানি হয়।

আপনিও তাহলে তার মতোই হয়েছেন।

কী বললেন?

আপনার বাবার মতো।

আজ আপনাকে ঠিক তার মতোই নিকৃষ্ট লাগছে।

কাল ব্যেক জু-সাং এর সাথে আরো কিছু কথা বলেছিলাম।

ছবিগুলো সব আমি তুলেছি।

একেকটা শিল্প এগুলো।

জুং ইয়ং-হি এর কোনো ছবি তুলেননি কেন?

একটা তুলেছিলাম।

যারা নতুন কাজে এসেছিল,

পরিচয়পত্রের জন্য সবার ছবি তুলেছিলাম।

ইউন-সুক, হাসি দেও!

এটা একটু উপরে তুলে ধরো।

হ্যাঁ, বুকের কাছে ধরো।

এই তো, সুন্দর হয়েছে।

আচ্ছা, হাসি দেও, এক...

দুই,

তিন!

জুং ইয়ং-হি

সুন্দর হয়েছে।

হয়ে গেছে, যাও।

তারপর।

হেই, জুং ইয়ং-হি।

পরিচয়পত্রের ছবি তুলব তো, চুল ছেড়ে রেখেছিস কেন?

চুলগুলো সরিয়ে চেহারাটা দেখা একটু।

এই তো, হয়েছে।

হাসি দে।

দারুণ।

১,

২,

৩!

এটাই আপনার মায়ের ছবি।

মন চাইলে দেখতে পারেন।

কোনো মানুষ কুৎসিত হতে পারে না, কুৎসিত হয় মানুষের বিবেক।

অনুবাদ ও সম্পাদনায় তাফহিম রহমান

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.