Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
মুভি : BABY GIRL ভাষা : মালয়ালম রাণটাইম : 02:04:42
- আরে! এসে গেছো? - হ্যাঁ...
- আমাদের গাছটা দেখেছো? এসো! - আগে আমাকে...
একবার দেখো আগে! আমরা সারারাত এটা সাজাতে খেটেছি।
মনু স্যার দেখেই ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে দিয়েছেন!
- ঠিক আছে... কিন্তু আমাকে উপরে গিয়ে... - আরে! পাঁচ মিনিট দেরী হলে...
আকাশ ভেঙে পড়বে না।
এই! ভেবেছিলাম, আজ ছুটি নিয়েছো।
দিনের বেলায় তার ছুটির কী দরকার?
ঠিকই বলেছো! খুব তাড়াতাড়ি সানালকে রাতের ডিউটিতে...
আশা কোরো না।
এই! ওখানে কি দুজন জোসেফ আছেন? এটা কী ধরনের নার্সারি?
এই! উনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি! কোড পিঙ্ক...
কোড পিঙ্ক! কোড পিঙ্ক!
কোড পিঙ্ক! কোড পিঙ্ক!
- কী হয়েছে? - জানি না। প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে আসছে।
- তোমরা এই দিকটা দেখো। - ঠিক আছে। - তুমি উপরে যাও। - ঠিক আছে।
কোড পিঙ্ক! কোড পিঙ্ক!
গৌরিশাপট্টমের, গুড শেফার্ড হাসপাতাল থেকে...
২০ মিনিট আগে, একটি ৩ দিন বয়সী শিশুকন্যা...
নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ স্টেশন এবং মোবাইল ইউনিট ঘটনা স্থলে আসুন। গাড়ি তল্লাশি করুন।
বাস স্ট্যান্ড এবং রেলওয়ে স্টেশন চত্বরের দিকে বিশেষ নজর দিন।
P19 থেকে কেউ,
তাড়াতাড়ি সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে কন্ট্রোলকে জানান।
P19 বলছি, স্যার। সব দল...
বর্তমানে 'ভিক্টর'-এ 'জনগণের সাথে' অনুষ্ঠানে ব্যস্ত আছে।
থানায় এখন শুধুমাত্র জিডি এবং নিরাপত্তা কর্মী উপলব্ধ আছে।
তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত কন্ট্রোলকে জানাতে...
নিরাপত্তা ডিউটিতে থাকা কাউকে অবিলম্বে পাঠান।
ঠিক আছে, স্যার। বুঝেছি। ওভার।
"জনগণের সঙ্গে সরকার"
এইমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এসেছে।
তিন দিন বয়সী একটি শিশুকন্যা...
...তিরুবনন্তপুরমের গৌরিশাপট্টমের গুড শেফার্ড হাসপাতাল থেকে...
কয়েক মিনিট আগে নিখোঁজ হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে...
হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে অপহরণ করা হয়েছে।
স্যার, দশ মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
মীনাক্ষী চান করছিল।
যখন আমি চোখ খুললাম, শিশুটি খাটে ছিল না।
ভেবেছিলাম, শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য...
নার্সিং রুম থেকে কেউ নিয়ে গেছে।
অনেক্ষণ বাদেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে, আমি যাচাই করতে যাই।
- মীনাক্ষী...? - শিশুটির মা।
- বাবা? - পথে আছে, স্যার।
- এই ওয়ার্ডে কোনো নিরাপত্তা কর্মী নেই? - হ্যাঁ। তার শিফট...
১০টায় শেষ হয়। কিন্তু আজ সে ৮টায় চলে গেছে।
- কেন? - জানি না, স্যার।
কাউকে না জানিয়ে চলে গেছে।
সেই সময় এখানে কোনো নিরাপত্তা ছিল না।
আচ্ছা... না... স্যার।
পরবর্তী ব্যক্তির রাত ১০টায় আসার কথা ছিল।
- আপনি এটা জানতেন না? - না, স্যার। সে আমাকে বলে নি।
- তাকে এখনই ফিরে আসতে বলুন। - আমরা বলেছি, স্যার।
- সে রাস্তায় আছে। - তাহলে শিশুটি ঘর থেকে নিখোঁজ হয়েছে?
- হ্যাঁ, স্যার। - আমাকে দেখান। - দয়া করে আসুন। ওখানে।
- স্যার! স্যার! - হ্যাঁ? - এই সেই নিরাপত্তারক্ষী।
- তোমার নাম কী? - সুকুমার।
- সে বাদে আর কতজন প্রহরী আছে? - প্রতি তলায় একজন করে।
ওপরে আর নিচতলায়। তাই তো?
- তোমার ডিউটি রাত ১০টা পর্যন্ত ছিল। - হ্যাঁ, স্যার।
- তাহলে ৮টার সময় কোথায় ছিলে? - আমি...
আমার মেয়ের বিয়ে আসছে।
সেই ব্যাপারে কিছু... কাজ ছিল...
তো, কতদূর 'কাজ' সারলে?
- কিন্তু...আমি জানিয়েছিলাম, আজ ৮টায় চলে যাবো। - কী?
আরে! আমি তো যেতে বলিনি!
বলেছিলাম, কেউ তোমার জায়গা নিলে যেতে পারো।
স্যার...সে...মিথ্যা বলছে...
সানাল, আমি তোমাকে গতকাল বলিনি?
বলেছিলে... তুমি এটা দেখবে। তাই আমি চলে গিয়েছিলাম।
- আমি ওকে বলেছিলাম, স্যার। - আমাকে বলেছো? কখন?
আজ সকালেও যখন ফোন করেছিলাম, তুমি বলেছিলে, তুমি আসছো।
- তুমি কী...? - এটা সত্যি, তুমি ফোন করেছিলে।
কিন্তু তোমার জায়গা নেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলো নি।
সানাল, মিথ্যে বলো না!
তোমাকে বলেছিলাম। আর তুমি রাজি হয়েছিলে।
- নাহলে আমি যেতাম না! - কী...!
কী করে এমন করতে পারো...
- আপনি কে? - ইনি হলেন...
- আমি এখানকার অ্যাটেনডেন্ট, স্যার। - ঠিক বলেছো। অ্যাটেনডেন্ট।
- আপনি কি সিকিউরিটি গার্ড? - হ্যাঁ।
- আমি, স্যার। - যা ঘটেছে, তার দায়িত্ব আপনার!
- আমাকে ঘরটা দেখান। - হ্যাঁ, স্যার। - আর তুমি। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো।
স্যার!
এক মিনিট! ওটার উপর জুম করুন।
ঠিক আছে। এগিয়ে যান।
আপনি কি নিশ্চিত, বাচ্চাটা ওই ব্যাগে ছিল?
স্যার, আমি নিশ্চিত নই।
এটা আমার সন্দেহমাত্র।
সে কি মেন রোডে গিয়েছিল?
তাকে লিফটে দেখেছিলাম। যখন আমি আবার তাকালাম...
তখন সে আর সেখানে ছিল না।
- স্যার! - হ্যাঁ? - উনিই সেই মহিলা।
উনিই তাকে দেখেছেন। উনি এখানকার অ্যাটেনডেন্ট।
- স্যার, আমি পল। ম্যানেজিং ডিরেক্টর। - ঠিক আছে।
- আমাকে ওয়ার্ডটা দেখতে দিন। - ঠিক আছে।
- এই! - হ্যাঁ, স্যার?
মাত্র দু-তিন জন লোক দিয়ে আমরা কী করবো?
আমাদের কাছে মাত্র একটা গাড়ি আছে। আমাদের এখনই ফোর্স দরকার! অবিলম্বে!
ঘটনা ঘটার পর আধ ঘণ্টা হয়ে গেছে।
বাচ্চাটা এখন যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে।
কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে?
এসএপি ১৯। প্রধান ফটক থেকে জবাব আসছে, স্যার।
স্যার, প্রধান ফটকে প্রচণ্ড ভিড়।
দু'দিক থেকেই লোক ঢুকছে। কাউকে পাঠান ওখানে!
সতর্ক থাকো! আর মঞ্চে কাউকে অনুমতি ছাড়া ঢুকতে দেবে না।
হ্যাঁ। হ্যাঁ, স্যার! - ঈশ্বর!
হ্যালো? - স্যার, এখানে জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
আমরা সন্দেহভাজনের ছবি পেয়েছি।
কিন্তু মাত্র কয়েকজন থাকায় আমরা বেশি কিছু করতে পারছি না।
প্রহরার জন্য সেখানে কী একশোজন দরকার, স্যার?
এটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আর এটা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে।
আমি ফোন করছি। - ঠিক আছে, স্যার।
কন্ট্রোল এসএপি ১৬। এখানে মারাত্মক ভিড়।
'ধর্মঘটীদের' থেকে ১০-১৫ জন লোক পেতে পারি কি?
"জেগে ওঠো, কর্তৃপক্ষ!"
ভিড় ঢুকছে। ব্যারিকেডের কাছাকাছি গিয়ে দেখো।
"এসএপি ৩ উত্তর দিচ্ছে... ব্যারিকেড থেকে বিক্ষোভকারীরা ঢুকছে"
ওনার আসার আগে সবাই যেন ভেতরে থাকে।
আমি কাউকে বাইরে দেখতে চাই না।
- ঠিক আছে? - হ্যাঁ। - স্যার!
স্যার, শিশু অপহরণের মামলায় আমাদের যথেষ্ট লোক নেই।
এখান থেকে অন্তত দশজন লোককে ছেড়ে দিলে খুব ভালো হয়।
আমাদের পুরো শহর জরুরী ভিত্তিতে তল্লাশি করতে হবে।
কিছু জিপসি গোষ্ঠী এক মাস ধরে শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গত সপ্তাহে তারা একটি শিশুকে ছিনতাই করার চেষ্টা করেছিল।
- যদি আমরা এখনই কিছু না করি... - সুজিত!
এদিকে এসো!
- স্যার! - এটা কে?
আমাকে বলে লাভ কি? এইসব গাধাদের ডিউটিতে লাগানোর আগে...
পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাও নি?
অন্তত এই গবেটদের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের ব্যাপারে একটু ধারণা দাও।
এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয়, আমরা কি কিছুই জানি না?
আমাকে কি বোকা মনে হচ্ছে? তুমিই কি ওকে আমার কাছে পাঠিয়েছো?
ওহ! না, স্যার! আমি...
দুঃখিত, স্যার।
- স্যার! - এই! তুমি!
তুমি! বাড়াবাড়ি করছো কেন?
এত কষ্ট কিসের? বাচ্চাটা কি তোমার আত্মীয়?
হুম?
মুখ্যমন্ত্রী তোমার মামা বলে এখানে এসেছো?
তুমি!
একটা গাড়ি। তিনজন লোক। এর বেশি আমরা দিতে পারব না।
ট্রাফিক বা কন্ট্রোল বা অন্য কোথাও থেকে বাকি ব্যবস্থা করো এবং...
- যা পারো করো। - কিন্তু, স্যার...
- আরও কিছু... - যাও!
কন্ট্রোল এসএপি ১৯।
এর আগে কন্ট্রোল জানিয়েছিল যে...
গৌরিশাপট্টমের গুড শেফার্ড হাসপাতাল থেকে...
একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। সেই সূত্রে...
শহরে তল্লাশি ও গাড়ি চেকিং শুরু করতে হবে।
সব কেন্দ্র, নোট করুন। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে...
মনে হচ্ছে, শিশুটিকে একজন বোরখা পরা মহিলা নিয়ে গেছে।
তার সাথে একটি বাদামী রঙের বড় শপিং ব্যাগ আছে।
সন্দেহ করা হচ্ছে, শিশুটি ব্যাগের ভিতরে আছে।
সব কেন্দ্র, অনুগ্রহ করে নোট করুন।
পি৭ উত্তর দিচ্ছে। স্যার, আমাদের এখানে...
খুব কম লোক আছে। এবং কোনো গাড়ি নেই। এছাড়াও...
আমাদের কোনো অতিরিক্ত কন্ট্রোল গাড়ি নেই।
সবাই অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে আছে অথবা পাইলট ডিউটিতে আছে। ওভার।
কন্ট্রোল এসএপি ১৯।
পয়েন্ট ডিউটি, বাস স্ট্যান্ড...
এবং রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে যারা আছেন...
তাদের সতর্ক থাকতে বলুন।
থাম্পানুর এইড পোস্ট। কন্ট্রোল। বাস স্ট্যান্ড এলাকার দোকানগুলিতে...
ভালোভাবে নজর রাখুন।
এইড পোস্ট উত্তর দিচ্ছে, স্যার। আমরা দেখছি।
স্যার, এখানে আমরা মাত্র দুজন আছি। আরও লোক ছাড়া...
সব গাড়ি পরীক্ষা করা অসম্ভব। ওভার।
- ওই গাড়িগুলো পরীক্ষা করুন। - স্যার। - গত দশ দিনে,
শিশুর আত্মীয়দের কাছে আসা সমস্ত আউটগোয়িং এবং ইনকামিং কল সহ,
প্রতিটি ফোন কল সম্পর্কে...
সবকিছু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ঠিক আছে, স্যার।
স্যার, এক ঘন্টা আগে, বোরখা পরা একজন মহিলাকে...
কুনুকুজ্ঝি এলাকার পাশ দিয়ে যেতে দেখা গেছে।
তার কাছে একটি বড় শপিং ব্যাগ থাকলেও আমরা নিশ্চিত নই, শিশুটি তার মধ্যে আছে কিনা।
ওভার।
এখনও পর্যন্ত পুলিশ অথবা আত্মীয়রা...
কোনো ফোন পান নি। পুলিশ নিশ্চিত নয়...
এর পেছনে কোনো ব্যক্তি আছে নাকি কোনো গোষ্ঠী।
তারা এটা খতিয়ে দেখছে কিন্তু সেই সময়ে,
ভিজুয়্যালে দেখা যাচ্ছে, কিছু পরিযায়ী শ্রমিককে...
- হাসপাতালে দেখা গিয়েছিল। - যেখান থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে...
আমি সেই হাসপাতালের সামনে আছি। এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে...
কোনো আপডেট নেই। আজ সকালেই বোরখা পরা একজন মহিলা...
হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে অপহরণ করে।
স্যার... স্যার... স্যার...
- বাচ্চাটা সম্পর্কে কোনো খবর আছে? - আরে!
স্যার, একটা প্রশ্ন।
- ঠিক আছে, ঠিক আছে। সরুন। - এটা দ্বিতীয় তলায়, স্যার।
- পুরো হাসপাতাল খুঁজে দেখেছেন? - হ্যাঁ, স্যার।
- চলুন। - জেফিন। ওনার সাথে যাও।
সরুন।
স্যার, ঘরটা ওইদিকে।
- ডানদিকে, প্রথম দরজা। - ঠিক আছে। বাবা-মা?
মা ভেতরে আছেন।
বুঝতে পারছি, আপনি কী বলছেন। আমি কোনো কিছু চাইছি না...
আপনারা তিনজন, বাইরে যান।
বসুন।
- স্যার, আপনার কাছে কোনো... - না।
আমরা সব জায়গায় খুঁজছি। আপনি... সবেমাত্র চান করে বেরিয়ে...
শুনতে পান, বাচ্চাটা নিখোঁজ হয়েছে?
আচ্ছা...আমি...হ্যাঁ...
আমি আমার ওয়ার্কআউট এবং চান সেরে...
জিম থেকে বেরোচ্ছিলাম, তখনই মা আমাকে ফোন করে।
- জিম? - হ্যাঁ।
কী? মানে আপনি আজ সকালে জিমে গিয়েছিলে?
হ্যাঁ।
আচ্ছা...কার সাথে?
কারোর সাথে নয়।
রোজ আমি এক ঘন্টা ওয়ার্কআউট করি।
গত দুদিন ডেলিভারির জন্য যেতে পারিনি।
- জেফিন। - স্যার? - ওর কি মাথা খারাপ হয়েছে?
ও...এখন পর্যন্ত ঠিকই আছে, স্যার।
স্যার, উনি বাচ্চাটির মায়ের দিদি।
এই হলো মা।
- কী? - হ্যাঁ।
- তো তুমি একজন ছাত্রী, মীনাক্ষী? - ছিলাম।
গর্ভবতী হওয়ার পর আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।
কোথায় পড়তে?
বেঙ্গালুরুতে। ইঞ্জিনিয়ারিং।
সেন্ট মার্কসে।
- কোন বর্ষ? - প্রথম বর্ষ।
এখানে ভর্তি হওয়ার পর
কারা এসেছিল? ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছাড়া।
কেউ না।
বাচ্চাকে দেখতে? কাজিন বা বন্ধুরা?
- তোমার স্বামীর বন্ধুরা? কেউ? - না।
গত তিন দিনে?
না।
সাহায্যের জন্য কেউ নেই? যেমন আয়া
- বা অন্য কেউ? - না।
আমার মা আর দিদি ছিল...
এই! তোমাকে কে এখানে ঢুকতে দিল?
স্যার, ইনি হলেন স্বামী।
স্যার, এরা আমার বাবা-মা।
দয়া করে বাইরে যান। আর দরজা বন্ধ করুন।
- সরে যান। - বসুন।
- ওখানে যান। - ঠিক আছে।
আমাদের কি...কিছু করা উচিৎ নয়, স্যার?
মানে...কাউকে ফোন করা...নাকি...
নিশ্চয়ই। আপনি কি কাউকে চেনেন?
সিবিআই? বা মন্ত্রক-এ?
আশা করছেন, আমিই এটা করবো। তাই না?
বাচ্চারা হয়তো ভুল করেছে। কিন্তু বাচ্চাটা তো আমাদেরই।
- বাচ্চা? কোন বাচ্চা? - জয়ান!
আমার মেয়ে... ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর...
উচ্চশিক্ষার জন্য ইউকে যাওয়ার কথা ছিল!
সবকিছু নষ্ট হয়ে গেল... আর এইভাবে কথা বলার সাহস করছেন?
স্যার, এখন আমাদের ঝগড়া করার সময় নয়।
আপনি অন্তত ওনাকে বোঝান, দিদি।
পুলিশ খুঁজছে, বাবু।
আর কি করতে পারি আমরা?
- নাম? - আকাশ।
- পড়াশোনা করছো? - হ্যাঁ, বেঙ্গালুরুতে সেন্ট মার্কস কলেজে। তৃতীয় বর্ষ।
ওহ...
- তোমার বাড়ি কোথায়? - কোঝিকোড়।
আমরা এখানে ভেলায়াম্বলামে একটা হোটেলে থাকছি। ডেলিভারির জন্য।
ওহ। এটা কখন জানতে পারলে?
এক ঘণ্টা আগে। ওর দিদি আমার বাবাকে ফোন করেছিল।
তাহলে খবর পেয়েই এখানে চলে এলে?
- হ্যাঁ। - ওহ?
ভেলায়াম্বলাম থেকে এখানে আসতে এক ঘণ্টা লাগলো?
হোটেলের নেটওয়ার্ক কভারেজ খুব খারাপ ছিল।
তাই উবার বুক করতে আর এখানে আসতে আমাদের একটু সময় লেগে গেল।
আচ্ছা... নিজে থেকে এই ব্যাপারে কোনো খোঁজখবর নিয়েছো?
স্যার, আমি কার কাছে খোঁজখবর নেবো?
যেহেতু তোমরা বেঙ্গালুরুতে পড়াশোনা করছো, বিয়ের পর...
- সেখানেই থাকতে কি? - ওহ না। সে তার বাবা-মায়ের কাছেই ছিল।
আর আমি হোস্টেলে ছিলাম।
এই মুহূর্তে, তোমাদের দুজনের সম্পূর্ণ সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।
যদি কিছু বলার থাকে, এখনই বলে ফেলো।
স্যার... একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি...
আগামীকাল বা পরশু কলেজে ফিরে যেতে পারি কি?
দশ দিন পর আমার পরীক্ষা শুরু।
আমার অনেক পড়তে হবে।
- ঠিক আছে। - নিশ্চয়ই! তোমাকে যেতে দেবো!
- ঠিক আছে তাহলে। - ঠিক আছে, স্যার।
- স্যার! - স্যার, ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার দশ দিনের মধ্যে,
ওরা বিয়ে রেজিস্ট্রি করিয়েছিল। তখন মেয়েটি...
- তিন মাসের গর্ভবতী ছিল। - এটা কি শিশু নির্যাতন?
না, স্যার। ওর বয়স ১৮-এর বেশি।
- ও ধনী পরিবারের মেয়ে, তাই না? - হ্যাঁ, স্যার।
তবুও ওরা এই ধরনের হাসপাতাল বেছে নিল।
মনে হচ্ছে ওরা ব্যাপারটা গোপন রাখতে চেয়েছিল।
- নিরাপত্তারক্ষীর কী খবর? সুকুমারন? - ও এখানেই আছে।
সে বললো, ওর মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু জরুরি কাজ ছিল।
কিন্তু ওর প্রথম গন্তব্য ছিল মুরিনজাপালমের একটি পানশালা।
- বুঝেছি। - স্যার?
এটা আমার ছেলের সন্তান।
আমি ওকে ফেরত চাই।
ও অবাঞ্ছিত নয়।
তুমি কি... এটা করেছো?
তোমার যাওয়া উচিৎ। পড়তে যাও।
তুমি কী ভাবো? আমার জীবনটা খুব সহজ?
বাবা হয়ে কলেজে যাওয়ার চেষ্টা করে দেখো। তখন বুঝবে।
তাহলে যেও না। আমরা ওকে ফেরত পেলে, তুমি ওর দেখাশোনা কোরো।
আমি কলেজে যাবো। কী বলো?
যাদের কোনো পরিকল্পনা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, তাদের জন্য কলেজ...
কঠিন মনে হতে পারে! এই সব কিছু ছাড়াও।
তোমার সমস্যা কী? ওরা তাকে খুঁজে বার করে ফিরিয়ে আনতে পারে?
- বদমাশ! - নতুন কিছু ভাবতে পারো না?
না, না... এখানকার এত হইচইয়ের মধ্যে...
তাই নাকি?
হ্যাঁ।
সিনি।
ঠিক আছে।
শোনো... আমি তোমাকে পরে ফোন করছি।
তোমরা যেভাবে আচরণ করছো, মনে হচ্ছে, আমি মিথ্যে বলেছি।
কেউ তা বলেনি। কিন্তু তোমার কথার উপর ভরসা করেই...
ওরা সুকুমার চেট্টানকে ওই ঘরে আটকে রেখেছে।
তোমার ভালোর জন্যই, আশা করি, তুমি মিথ্যে বলছো না।
স্যার...
কার সুবিধা করতে আজ বেরিয়েছিলে?
বলেছিলে, বিয়ের কেনাকাটা করতে গিয়েছিলে, কিন্তু আসলে মদ খেতে গিয়েছিলে।
- কী? - স্যার! এটা শুধু অভ্যেস!
আমি বিয়ের কিছু কেনাকাটার জন্যই বাইরে গিয়েছিলাম।
বিয়ে দেওয়ার টাকা পেলে কোথায়?
স্যার, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য আমি কি বাচ্চা বেচে দেব?
সেই ঘরে যারা এসেছিল, তাদের কথা বলো।
পরিবার ছাড়া আর কাউকে দেখিনি।
আর তাদের কাউকে এমনকি বাচ্চাটাকে কোলে নিতেও..?
- দেখতে পাই নি। - মানে কি?
একটা বাচ্চা যখন কাঁদে...
কেউ কি তাকে তুলে নিয়ে আদর করতে চাইবে না?
কিন্তু এই শিশুটি... যেন এক অনাথ শিশু...
স্যার, একটু এদিকে আসবেন?
- পরিবারের কল লিস্ট পেয়েছেন? - পেয়েছি, স্যার।
স্যার, শিশুটিকে খুঁজে বের করার জন্য আমাদের সবরকম চেষ্টার পর, এটা লজ্জার যে
এই লোকগুলোই তাকে বড় করবে। মানে...
এসব কথা বলতে আমরা এখানে আসিনি।
কাল যদি শিশুটিকে পুড়ে যাওয়া অথবা অঙ্গহীন অবস্থায় কোনো ট্রাফিক সিগন্যালে...
খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তার দায় কার হবে?
এটা একটা মানব শিশু। আর এই মুহূর্তে, আমরাই তার সব।
স্যার!
"থিরুভানন্তপুরাম জুড়ে তদন্তগুলো পূর্ণ গতিতে এগোচ্ছে।
পুলিশ দলগুলো আত্মবিশ্বাসী...
অপরাধীদের ধরতে বেশি সময় লাগবে না।
আজ সকালে ৮.৩০ টায়, একজন বোরখা পরা মহিলা...
গৌরিশাপট্টামের গুড শেফার্ড হাসপাতাল থেকে...
৩ দিন বয়সী একটা কন্যাসন্তানকে অপহরণ করেছিল..."
- আমাদের পেট্টাহে নিয়ে যেতে পারবেন? - অবশ্যই।
কী ব্যাপার?
চেচি!
স্যার, একটি অটো চালক তাকে পলায়ামে দেখেছেন। আমাদের গাড়িগুলো চলে গেছে।
তিনি বললেন, একজন বোরখা পরা মহিলাকে ব্যাগসহ দেখেছেন।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ট্র্যাফিক পুলিশকে জানিয়েছিলেন।
খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে লোকজন সতর্ক রয়েছে।
ট্র্যাফিক ডিউটির ৩জন অফিসার ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন।
তার পক্ষে, এই এলাকা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।
- এখানে থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার, তাই না? - হ্যাঁ।
আরে!
দয়া করে সব তথ্য দিয়ে দেবেন না!
অপহরণকারীরা মরিয়া হয়ে গেলে শিশুটির ক্ষতি করতে পারে।
কিন্তু এতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে, স্যার।
এমনকি অটো চালকও ফোন করেছেন কারণ তিনি খবরটি দেখেছিলেন।
কিন্তু অপরাধীও দেখতে পাচ্ছে!
- অন্তত পুলিশের কার্যকলাপ বাদ দিন। - স্যার, আপনি আপনার কাজ করুন।
- আর আমরা আমাদেরটা করবো। - আপনি! - স্যার, না...দয়া করে আসুন।
- স্যার... - রুগীদের সামনে লোক দেখাচ্ছেন?
- সবাইকে বার করে দিন! - যথেষ্ট হয়েছে!
- সবাইকে বার করুন। - যথেষ্ট হয়েছে।
স্যার! তাকে এই দিকে যেতে দেখা গেছে।
- কে দেখেছে তাকে? - আমি দেখেছি, স্যার।
আরও দুজন তাকে দেখেছে।
- ওদিক থেকে এই দিকে আসছিল। - ঠিক আছে।
চলো, ওদিকে যাই। চলো। চলো!
স্যার! স্যার!
স্যার... আমি কি যেতে পারি? আমিই তাকে চলে যেতে দেখেছিলাম।
উচ্চতা এবং চেহারা দেখে তাকে শনাক্ত করতে পারবো।
ও ঠিকই বলেছে। আসলে ও-ই তাকে দেখেছে।
- ওকে যেতে দাও। - ঠিক আছে।
- ওঠো। - ঠিক আছে।
- স্যার, আমি ভিজেটি এলাকায় আছি। - মার্কেট, চার্চ...
- সব ঠিক আছে ওখানে? - সব ঠিক আছে, স্যার।
স্টেডিয়াম সার্ভিস রোড থেকে যে গাড়িগুলো আসছে...
সেগুলোর উপর বিশেষ নজর রাখবে। ওই রাস্তায় কোনো...
কোনো ভিআইপি এখন যাচ্ছেন না, তাই না?
স্টেডিয়াম সেট উত্তর দিচ্ছে, স্যার। আপাতত আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।
ইউনিভার্সিটি হোস্টেল, আর.বি.আই. এবং জুবিলি বাইলেন থেকে আসা...
গাড়িগুলোর দিকে নজর রাখুন।
সংস্কৃত কলেজের দিকটাও দেখুন।
মহিলাটিকে কি অন্য কেউ দেখেছে? এ বিষয়ে কোনো তথ্য আছে?
পালায়াম বিট উত্তর দিচ্ছে, স্যার। আমাদের কাছে খবর আছে,
মহিলাটিকে সাফাল্যম কমপ্লেক্সের কাছে দেখা গেছে।
আমরা ভেতরে যাচ্ছি দেখতে, স্যার। ওভার।
কন্ট্রোল উত্তর দিচ্ছে। মহিলাকে অন্য কোথাও...
দেখা যায় নি। তাই তিনি এখানেই...
আশেপাশেই আছেন।
যেখানে কিছু কলেজের ছাত্রছাত্রী পথনাটক করছে...
সেই জায়গাটিতে বিশেষ নজর দিন।
ট্রাফিক কন্ট্রোল, সিটি কন্ট্রোল। ভেলায়াম্বলাম, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর...
'জনগণের সাথে' অনুষ্ঠান চলছে,
সেই দিকে যানবাহনের চলাচল থাকবে।।
ট্রাফিক রাস্তাটি দেখে আপডেট দিন।
সিটি কন্ট্রোল, ট্রাফিক কন্ট্রোল। রাস্তা পরিষ্কার আছে, স্যার। ওভার।
স্যার! থামুন!
স্যার, আমরা বাস স্টপ এবং আশেপাশে খুঁজে দেখেছি কিন্ত...
- সে সেখানে ছিল না। - ঠিক আছে।
টয়লেট
স্যার!
- ধরুন ওকে! - বাচ্চাটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমাকে ছাড়ুন!
স্যার! আরে! আমাকে ছাড়ুন!
স্যার! আমি কিচ্ছু করিনি!
- থামুন! থামুন! - আরে! আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
আরে! আমাকে ছেড়ে দিন!
কন্ট্রোল থেকে বলছি! শহীদ মিনার চত্বর থেকে শিশুটিকে পাওয়া গেছে।
তাকে এখন হাসপাতালে আনা হচ্ছে। জরুরি বিভাগকে জানান...
এবং দয়া করে রাস্তা খালি করুন।
আসুন! আসুন! সরুন!
ধাক্কা দেবেন না!
সরুন! সরুন!
সানাল!
এটা সেই বাচ্চাটা নয়।
বিরাট ঝামেলায় পড়া গেল! যদি ওই মহিলা অভিযোগ করে,
তোমাদের সবার বারোটা বাজবে!
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাচ্চাটাকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করো।
নইলে, রাকেশ, তোমার জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
নিজে ঝামেলা পাকিয়েছো। নিজেই মেটাবার ব্যবস্থা করো।
ভেবেছিলে, আমরা সবাই বোকা?
নিজের পক্ষে কিছু বলার আছে?
- স্যার... হ্যাঁ, স্যার। - ওহ! "হ্যাঁ, স্যার!"
শালা অপদার্থ!
বাচ্চাটা একদম ঠিক আছে।
আমার কোনো অভিযোগ নেই।
কিন্তু আমরা সবাই চোর নই!
- বাচ্চাটা ঠিক সেখানেই ছিল! - স্যার! - যদি অপহরণকারী পালিয়ে যায়,
- তবে তুমি একাই দায়ী হবে! - স্যার! স্যার! না! এদিকে আসুন।
কী দারুণ ব্রাঞ্চ! অ্যাটেনডেন্ট! গার্ড!
ও নির্দোষ, স্যার।
ওকে বলেছিলাম, আমি ৮টায় আসবো।
আমার স্ত্রী গত রাতে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছে।
এই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং দেরি করে এখানে পৌঁছেছি।
সার, এক সেকেন্ডের জন্য এখানে আসুন। প্লিজ।
তাকে কোথাও যেতে দিও না!
সার, এটা নয়। আমি তদন্ত করেছি।
যা সে বলেছে তা সত্য। তার স্ত্রী সৌদি থেকে ফিরে এসেছে।
তিনি চাকরি ছেড়ে চিরতরে ফিরে এসেছেন।
ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা না থাকলে, তিনি এরকম করতেন কি?
তাই না?
এখন তাকে ছেড়ে দিই। এবং আমরা...
সে কাকে ফোন করছে, তা নজরে রাখবো।
"সানাল ম্যাথু, একজন হাসপাতাল কর্মীর ভুলের কারণে...
পুলিশের মিশনটি ব্যাহত হয়। শহীদ স্কোয়ারে...
শিশুটিকে খোঁজার সময়, তিনি দাবি করেন...
- একজন অভিবাসী দম্পতির শিশু..." - তুমি কি বরখাস্ত হয়েছো?
তাহলে তারা সংবাদে যা বলছে, তা সত্যি?
- বাড়ি ফিরে সব বলবো। - সানাল, শোনো...
আমি আমার বাচ্চাকে ফেলে আর ফিরে যাবো না।
তোমার আশ্বাসে আমি ফিরে এসেছি।
শুধু একজনের মাইনেতে আমাদের চলবে না।
আমাদের লোন শোধ করতে হবে।
ভবিষ্যতের জন্য তোমার কী পরিকল্পনা, আমি জানি না!
তোমাকে বলেছি তো। আমরা একটা উপায় বের করবো।
কী উপায়? টিভিতে তো শুধু...
ভুল বাচ্চা নিয়ে আসার ছবি দেখাচ্ছে। সবাই...
আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করছে। আমি ওদের কী বলবো?
ইশ! ওখানে থেকে গেলেই ভালো করতাম!
এর পরে...
তোমার মনে হয়, অন্য কোনো হাসপাতালে চাকরি পাবে? হাসপাতাল ছাড়ো!
অন্য কোথাও কেউ তোমাকে কাজ দেবে কি?
সানাল... হ্যালো?
নরকে পচে মর, কুত্তার বাচ্চা!
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
এই, বাসিল! দেখো! ওই লোকটা!
- সানাল! - সত্যি কি পুলিশ এখন তোমাকেই সন্দেহ করছে?
তোমার কি মনে হয়, হাসপাতাল তোমাকে একা ফেলে গেছে?
সানাল, কিছু বলো প্লিজ। এটার সাথে কি তোমার কোনো যোগ আছে?
- সানাল, কিছু বলো। যেকোনো কিছু। - এই! এই! সরো!
- সানাল...প্লিজ...কিছু বলো। - সরো। সরো!
আপাতত কোথাও লুকিয়ে থাকো।
এই সব শান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাইরে বেরিও না।
মনু স্যার আমাকে এক্ষুনি বেরিয়ে যেতে বলেছেন।
আমি তাকে বলে দেবো।
"সিসিটিভি রুম"
নমস্কার!
- আরে অভিলাষ! - হ্যাঁ?
গতকালের কিছু ফুটেজ দেখাতে পারবে?
- কী? - আমি...
এক মিনিটের জন্য, শুধু একটা জিনিস চেক করতে হবে।
- আরে... আমি পারবো না.. - প্লিজ, ভাই!
ঈশ্বর... আমি...
- আজকের ঘটনার সময় থেকে? - না। গতকালের।
সন্ধ্যাবেলা প্রায় ৪টা - ৪:৩০ নাগাদ।
- কেন দেখতে চাও ওটা? - খুঁজে বের করো। আমি বলবো।
রিসেপশন আর ম্যাটারনিটি ওয়ার্ড।
আর ল্যাব।
স্যার!
- তার অন্য কোনো ফুটেজ আমাদের কাছে আছে কি? - না, স্যার।
ও শহীদ স্কোয়ারের বিপরীত দিকে চলে গেছে।
ওখানে শুধু কিছু ছোট দোকান আর একটা ভাঙাচোরা টয়লেট আছে।
আর ওই অংশে কোনো ক্যামেরা নেই। এটা একটা ব্লাইন্ড স্পট।
আরে! ওটা তুমি, তাই না?
- ওটা একটু রিওয়াইন্ড করো। - স্যার!
- ওই বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা দেখো। - স্যার।
এটা একজন পুরুষ!
- আধ ঘণ্টা পর এসো, ঠিক আছে? - ঠিক আছে।
মনে আছে, গতকাল এখানে একজনকে রক্ত পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম?
- এইচআইভি। - কী?
- ওর সব তথ্য আমাকে দাও। - ওর রিপোর্ট?
না। ওর নাম আর ঠিকানা।
সানাল! তুমি চাকরিটা হারিয়েছো। দয়া করে...
- আমারটা খেও না! - শোনো!
গতকাল ও এখানে ঘোরাঘুরি করছিল। বিশেষ করে, প্রসূতি বিভাগে।
আমার সন্দেহ হওয়ায় ওকে অনুসরণ করি।
যখন জিজ্ঞাসা করি, ও বলে এইডস পরীক্ষা করাতে চায়।
তাই আমি ওকে এখানে পাঠিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে,
সে আমাকে ভুল পথে চালিত করার জন্যই অজুহাত দিয়েছিল।
ও এলাকাটা দেখতে এসেছিল।
দয়া করে আমাকে ঠিকানাটা এনে দাও।
সানাল, তুমি যাই বলো না কেন,
- আমি এর জন্য বিপদে পড়তে চাই না। - জিশা। আজ আমার দেরি হয়ে গিয়েছিল...
এই কারণেই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। আমার ভুলের কারণেই...
শিশুটি শহিদ স্কোয়ার থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে।
পুরো পৃথিবী আমার দিকে আঙুল তুলছে।
বলছি না, এটা করলে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনা যাবে।
কিন্তু...
আমাকে এখন সব সম্ভাব্য পথ চেষ্টা করতে হবে।
এটাকে তোমার নিজের বাচ্চা বলেই ভাবো।
তুমি কী পরে আছো?
তুমি কি... কোথাও থেকে এই বাচ্চাটা চুরি করে এনেছো?
তুমি...
তুমি কী...
এই জন্যই কি তুমি আমাকে হাসপাতাল থেকে এখানে আসতে বলেছিলে?
এটা কোথায় পেলে? আমাকে বলো!
এখানকার...
কাছের অন্য একটা হাসপাতাল থেকে।
তুমি বলেছিলে, বাচ্চা ছাড়া ফিরবে না।
- তো? - আমি...
এই বাচ্চাটাকে কেউ চায়নি।
- ওর বাবা-মায়ের কী হবে? - ওর কোনো বাবা-মা নেই।
তাই আমি ওকে নিয়ে এসেছি। বাচ্চাটা নাও, প্লিজ।
মনু, তুমি জানো, এটা কতটা বোকামি?
এত বছর পরেও তুমি একটুও বদলাওনি, তাই না?
হাসপাতালে আমার সাথে তোমাকে থাকার জন্য এই কারণেই বলেছিলাম কি?
আর কী করতাম?
গতকাল তুমি হাসপাতালে আমার সামনে কাঁদছিলে।
তার মানে, যেকোনো বাচ্চাতেই কাজ হবে?
এটা আমারই হওয়া উচিত, তাই না?
ঠিক আছে। আমি ভুল করেছি।
- এটাকে নিয়ে এখন আমি কী করবো? - যেখানে থাকার, সেখানেই রেখে এসো।
- কিন্তু... - বললাম তো, এটা চাই না।
তোমার স্বামী যখন ফোন করেছিল,
ওকে বলেছিলাম, আমরা বাচ্চাকে নিয়ে আসছি।
কিন্তু অন্তত আমাকে জিজ্ঞাসা করা উচিৎ ছিল, তাই না?
যাতে ওই বাড়িতে তোমার কিছু মূল্য থাকে, তাই এটা করেছি।
হয়তো ওর খিদে পেয়েছে?
কিছু করো, প্লিজ!
যাও।
"শৌচাগার"
- পুলিশ! - ওরা হয়তো আমাকে খুঁজছে।
ভেতরে কোথাও রেখে দাও। আর চলো।
ওরা এসে খুঁজে নেবে। চলো।
এই যে। ওখানে রাখো। ওরা এসে নিয়ে যাবে।
- শোনো... - তুমি শোনো।
ওরা যেকোনো মুহূর্তে এসে পড়বে। প্লিজ।
ওটা ওখানে কী করে রেখে দিয়ে যাই?
- আরে... - এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
এসো।
এসো এখন। এসো!
স্যার... আমার কথা শুনুন! প্লিজ শুনুন! আমি কিচ্ছু করিনি!
- ওঠো! ওঠো! - আমাকে ছাড়ুন! আমাকে যেতে দিন!
- আরে! আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? - কন্ট্রোল উত্তর দিচ্ছে...
শিশুটিকে শহীদ স্কোয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ওরা এখন শিশুটিকে হাসপাতালে আনছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খবর দিন। রাস্তা পরিষ্কার করুন।
আসুন।
বাচ্চাটা...
এই... বাচ্চাটা!
- হ্যালো। - হ্যাঁ, হ্যালো? - বিবেক বলছো?
- কে? - আমি...
- এটা কি বিবেকের নম্বর? - না। ভুল নম্বর।
- হরি। - হ্যাঁ? - গতকাল একটা ছেলে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এসেছিল।
তার ঠিকানা এবং ফোন নম্বরে, মনে হয় , কোনো ভুল আছে।
আমরা কি তার পেমেন্ট স্লিপ থেকে সঠিক তথ্য পেতে পারি?
যদি এটি গুগল পে বা কার্ড পেমেন্ট হয়
আপনি বিবরণ সহ ব্যাঙ্কে ফোন করতে পারেন এবং তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
আমার জন্য এটি করতে পারো? আমি তাকে ফোনে পাচ্ছি না।
- এটা বিনয়। - কী?
বিনয়। আমার স্বামী।
- হ্যালো। - আরে! শালাবাবু!
ও কোথায়?
ও... বাচ্চার জামাকাপড় বদলাচ্ছে।
এসব কী হচ্ছে, ভাই? শেষবার বলেছিলে, ও ডিসচার্জড হয়ে গেছে।
আর এখন বলছো, বাচ্চার জামাকাপড় বদলাচ্ছে?
ঠিক আছে... যাই হোক! আমি হাসপাতালে আসতাম।
কিন্তু আজ না হলে, বাসটা অন্য কারো কাছে চলে যেত।
আর ভাই! আমার ছোট্ট মেয়ের জন্য একটা নাম ঠিক করেছি।
ওকে এখনো বলিনি। নতুন বাসে সেই নামটা লাগিয়ে দিয়েছি।
বাচ্চার কথা শোনার সাথে সাথেই...
আমরা স্টিকার নেবার জন্য থেমেছিলাম। শেষ দুবার ওর গর্ভপাত হওয়ার পর,
আমরা এটা নিয়েও নিশ্চিত ছিলাম না।
ওর কি জামাকাপড় বদলানো শেষ হয়েছে, ভাই?
শুনতে পাচ্ছো?
- হুম। - হ্যাঁ! এভাবে উত্তর দাও।
নয়তো, বুঝব কী করে, এখনো সেখানে আছো কিনা?
সে কী বললো?
কীভাবে এসব সহ্য করো?
- শোনো। - কী? - পুলিশকে জানাবো কী?
কী জানাবো?
যদি ওরা বাচ্চাটাকে বিক্রি করে দেয় বা ক্ষতি করে?
তুমি...!
এটা আমাদের জন্যই হচ্ছে, তাই না?
ওই বাচ্চাটা কোনোদিন আমাদের জীবনে আসেনি।
ব্যস, এটুকুই।
জানো, এই বাচ্চাটাকে কেউ চায় নি।
তাতে কী? মনু, ওটা একটা বাচ্চা মাত্র।
কেউ না চাইলেও আমরা ওকে ভুলে যেতে পারি না।
হয়তো তুমি পারো। কিন্তু আমি পারি না।
আমরা এখন গিয়ে পুলিশকে জানালে,
তারা কি বাচ্চাটাকে নিয়ে যাওয়া লোকদের খুঁজে বার করতে পারবে?
ওরা শুধু আমাদের ধরবে।
অথবা আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ওরা আমাকে ধরবে।
এর বেশি আর কিছুই হবে না।
আমি আর হাঁটতে পারছি না।
এই...
- এখানে একটা ক্যান্টিন আছে। তুমি খেতে যেতে পারো। - ঠিক আছে, স্যার।
উহ... স্যার?
উহহ... স্যার...
- আমার একজনকে নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। - বুঝলাম।
এসো। হতচ্ছাড়া!
তোমার প্রথম সন্দেহই আমাদের সবাইকে গভীর গাড্ডায় ফেলেছে।
- আর এখন আবার আমাদের ওপর আরেকটা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছো? - স্যার, আমি...
যদি আমাদের মধ্যে কেউ, এমনকি একদিনের জন্যও,
এটার জন্য সাসপেন্ডেড হয়,
তাহলে তুমি আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না!
বুঝেছো? এবার আমার সামনে থেকে দূর হও!
দূর হও!
এই রিংটোনটা সে তোমার জন্য সেট করেছে?
ওটা ধরবে না।
অন্তত সাইলেন্ট মোডে রাখো!
চলো ওখানে গিয়ে তাকে সত্যি কথা বলি।
এমনটা নয়, এটা তোমার দোষ ছিল।
যখন আমি দ্বিতীয়টা হারালাম, তখন ও আমাকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
সতর্কবার্তা? কী সতর্কবার্তা?
তুমি...
দাদা... কুমারপুরম নয়...
আমাদের নেদুমঙ্গাদে নিয়ে চলুন, প্লিজ। আমাদের বাড়িতে যাওয়া যাক।
আমরা বাবাকে যেকোনোভাবে রাজি করিয়ে ফেলবো।
কী? আমাদের বাবা যেকোনো দিন সেই লোকটার চেয়ে ভালো...
যে তার স্ত্রীকে প্রসবের জন্য হাসপাতালে একা পাঠিয়ে দিয়েছিল।
এই মুহূর্তে এসব কিছু আমাকে ভাবাচ্ছে না। ওই বাচ্চাটা...
হ্যাঁ, আমিও বাচ্চাটাকে দেখতে চাই। আসার জন্য...
মাসি আমাদের বারবার ফোন করছেন।
চলো, ওখানে যাই।
দাদা, দয়া করে থামুন।
- এখানে বসো। আমি এক্ষুণি আসছি। - কোথায় যাচ্ছো?
এক্ষুনি আসছি।
- হ্যালো? - তোমার এইডস আছে কিনা, জানতে চাও না ?
এখানে আসছো কি? নাকি আমি তোমার কাছে আসবো?
অটো!
আপনি যে নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করছেন, তা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে।
হ্যালো?
- স্যার! - কোন নম্বরে ফোন করেছিল ওরা? - মীনাক্ষীর বাবার নম্বরে।
- ৩০ লক্ষ? - হ্যাঁ স্যার। ওরা বলেছে ৩০ মিনিটের মধ্যে আবার ফোন করবে।
আমি নম্বরটা সাইবার ক্রাইমে পাঠিয়ে দিয়েছি।
করমনা, রমন নগর।
মন্দিরের কাছে, একটা খালি প্লট আছে।
ওটা বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছে। টাকার ব্যাগটা গেটের উপর দিয়ে প্লটের মধ্যে ফেলে দিও।
ত্রিশ লক্ষ।
বাচ্চার দাদু একা আসবে।
মায়ের বাবা। দুই ঘণ্টার মধ্যে, ওটা ফেলে দিয়ে চলে যাও।
পুলিশকে না জানালে,
রাতের আগেই বাচ্চাটাকে ফেরত পাবে।
কিন্তু শুনুন...
এত টাকা দুই ঘন্টার মধ্যে কিভাবে যোগাড় করবো?
- অন্তত একদিন দিতেই হবে। - ধুর।
টাকা আপনার ব্যাঙ্কে আছে, স্যার।
আপনাকে শুধু একটা ফোন করতে হবে। দুই ঘন্টা।
এক মিনিট বেশি অথবা কম নয়।
- তাকে জিজ্ঞাসা... - শুন...
হ্যাকাররা একটা অ্যাপ ব্যবহার করে। যখন তারা সেটা...
নিজের ফোনে ডাউনলোড করে, কাউকে ফোন করলে...
ডিসপ্লেতে নকল নম্বর দেখায়।
তাই, তাদের লোকেশন খুঁজে বার করা বেশ কঠিন হবে, স্যার।
- আমরা শুধুমাত্র চেষ্টা করতেই পারি। - ঠিক আছে।
যেখানে বলেছে, জায়গাটা দেখতে যাবো কি?
- এই! - কি?
- এখনো এখানে কী করছো? - স্যার, আমি...
- বাড়ি যাচ্ছিলাম। - এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে?
এই গোলমালের জন্য যেতে পারছিলাম না।
- যদি ওই বাচ্চাটার কিছু হয়... - যদি বাচ্চাটার...
কিছু হয়, আপনি আমাকে জেলে ঢোকাবেন। এটাই আপনার চুক্তি।
কিন্তু বাচ্চাটার কিছু হলে, আমি আর কোনোদিনও ঘুমাতে পারবো না।
এটা আমার চুক্তি।
আমি একা হাতে একটা বাচ্চাকে তিন বছর ধরে বড় করেছি।
তাই আমাকে এই ছোটখাটো ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
এই, দিদি!
- এই গাড়িটা কার? - এক বন্ধুর।
তুমি... গাড়ি চালাতে জানো?
আমি আর সেই বয়সে নেই, যখন তুমি চলে গিয়েছিলে।
- শোনো... বাচ্চাটার ব্যাপারে... - বাচ্চাটার কথা বলো না।
- এটা নিয়ে কথা না বলে থাকবো কীভাবে? - আমি বলেছি, না।
এখন, বাবাকে কীভাবে সামলাবে, সেটা ভাবো।
শোনো, আমি ওকে একা ফেলে বাড়ি ফিরতে পারি না।
- আবার শুরু করলো। - আর কী আশা করো?
যখন আমি এসেছিলাম, বাবা আমাকে শেষবারের মতো মা-কে দেখতেও দেয়নি।
তিনি তোমাকে আমার সাথে হাসপাতালে থাকতে দিয়েছেন দেখে অবাক হয়ে গেছি।
তাকে বলেছিলাম... আমার কোচিতে একটা হকি ম্যাচ আছে।
পালানোর আগেই তোমার এসব ভাবা উচিৎ ছিল।
আর তাও ওই লোকটার সাথে! ওর মধ্যে কি একটাও ভালো গুণ আছে?
এক মাস ধরে, লজ্জায় আমরা কেউ বাড়ি থেকে বের হইনি।
মনে হয়, মা অসুস্থ হওয়ার কারণও এটাই ছিল।
ক্যান্সারে?
হ্যাঁ! মানুষ মানসিকভাবে চাপে থাকলে অসুস্থ হয়।
সেদিন... তুমি স্কুলের জন্য বাড়ি ছেড়েছিলে!
আমাদের বাবার মেয়ে এবং আমার বোন হিসেবে...
- ওই বাড়িতে থাকার চেষ্টা করো! - কী?
- মানে কেউ কারণ ছাড়া বাড়ি ছাড়ে না! - ওহ, তাই!
তুমি এখন দারুণ সুখে আছো, তাই না?
এটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।
- আরে! - কী?
- কোথায় যাচ্ছো? - নেদুমঙ্গাদ।
আমার বাড়ি।
- ইনি কে? - আমার বোন।
ঠিক আছে। কোথা থেকে আসছো?
স্যার... কুমারপুরম থেকে।
ওর স্বামীর বাড়ি থেকে।
ওখান থেকে এই রাস্তাটা কেন নিলে?
- কেন... স্যার... কী সমস্যা? - এখানেই অপেক্ষা করো।
ঠিক আছে। যেতে পারো।
বাচ্চাটিকে মুক্তিপণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিম্মি বললো, একটা ফোন এসেছিল।
- হ্যালো? - ঋষি বলছেন?
- হ্যাঁ। - মেডিকেল কলেজ থানা থেকে বলছি।
- ওহ... কী ব্যাপার, স্যার? - এখনই থানায় আসুন।
স্যার, কী ব্যাপার যদি বলতেন...
- আসুন আগে। তারপর বলবো। - ঠিক আছে।
পুলিশ স্টেশন থেকে ফোন।
রামন নগর। সে ইচ্ছাকৃতভাবে...
এমন একটা এলাকা বেছে নিয়েছে যেখানে সিসিটিভি নজরদারি কম।
একবার ভেতরে ঢুকলে,, এই দুটোই পালানোর রাস্তা আছে।
সে এই জায়গাটার কথাই উল্লেখ করেছিল।
এটা একটা আবাসিক এলাকা। বেশিরভাগ বাসিন্দা...
ব্যাঙ্ক কর্মচারী বা সরকারি কর্মকর্তা।
শহরের একটি ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রীর শোরুমের জিনিসপত্র রাখার জন্য,
এই বাড়িটা গত মাসে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
শোরুমের দুজন কর্মচারীও সেখানে থাকে।
তাহলে ওরা সন্দেহভাজন। আর শুধু ওই জায়গাতেই নয়,
আগামী বিশ মিনিটের মধ্যে, ওখানকার প্রতিটি রাস্তায়...
আমাদের লোক পৌঁছে যাবে, যাতে তাকে জানান না দিয়েই...
আমরা তাকে ঘিরে ফেলতে পারি।
হ্যালো, স্যার। আপনার খাবারের অর্ডার।
- কিন্তু আমি তো কিছু অর্ডার করিনি। - ওহ!
কিন্তু ঠিকানাটা ঠিকই আছে, স্যার।
ওই এলাকার কিছু বাড়ি থেকে, অপহরণকারী যে জায়গার কথা বলেছে,
সেটা আমরা ভালোভাবে দেখতে পাবো।
দুটি সরকারি কর্মচারীর বাড়ি...
- এবং দুটি ব্যাংক কর্মচারীর বাড়ি। - আমরা পুলিশ থেকে এসেছি।
এখান থেকে, আমি এলাকাটা ভালোভাবে দেখতে পাবো।
উহ... অবশ্যই, স্যার! উপরতলা থেকে আরও ভালোভাবে দেখতে পাবেন।
আমার সাথে আসুন, স্যার। এইদিকে।
- তোমার মা কি ব্যাংকে কাজ করেন? - হ্যাঁ, স্যার।
- দয়া করে ফোন করে তাকে জানাও। - ঠিক আছে।
স্যার, এদিকে।
স্যার, আপনি শিশু নিখোঁজ মামলায় যে ছেলেটিকে...
জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিলেন, সে এখানে আছে।
- ঠিক আছে। ওকে আসতে বলো। - ঠিক আছে, স্যার।
সানাল কে?
সানাল?
হ্যাঁ?
- জানি না। - যাকে চেনেন না,
বিকেল ৩টে ১২ মিনিটে সে কেন আপনাকে ফোন করে...
১৫ সেকেন্ড কথা বলবে? দেখুন!
কী?
স্যার, সে গুড শেফার্ড হাসপাতালের একজন অ্যাটেনডেন্ট।
হঠাৎ মনে পড়ে গেল?
- ওর সাথে আমার একবারই দেখা হয়েছে। - কী উপলক্ষে?
আমি গতকাল সেখানে রক্ত পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলাম।
ফলাফল তৈরি, এটা জানাতে সে ফোন করেছিল।
- এর জন্য অ্যাটেনডেন্ট কেন ফোন করবে? - ডাক্তার দেখাতে এবং...
ল্যাব খুঁজে পেতে, সে আমাকে সাহায্য করেছিল।
এসবের জন্য তোমার সাহায্য লাগে?
- স্যার। - হ্যাঁ?
আমার... একটা সন্দেহ হয়েছিল... যে আমার এইডস হয়েছে কিনা।
তাই আমি সরাসরি ঢুকতে পারিনি... খুব লজ্জা লাগছিল।
তাই... ও আমাকে সাহায্য করেছিল। ব্যস।
হ্যালো? গুড শেফার্ড হাসপাতাল?
আমি মেডিকেল কলেজ থানা থেকে ফোন করছি। আমি এআইডি...
মানে এসআই। গতকাল, প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ...
ঋষি পিল্লাই নামে কেউ কি রক্ত পরীক্ষা করিয়েছিল? - স্যার...
স্যার, ঋষি পিল্লাই নয়। - মানেটা কী?
আমি আমার নাম দিয়েছিলাম... বিবেক মেনন।
কী? - যদি... ওরা আমার বাবাকে ফোন করে...
বা আমার ঠিকানায় রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় বা অন্যকিছু...
শুধুমাত্র সুরক্ষার জন্য।
বুঝলাম। ঋষি পিল্লাই নয়।
বিবেক মেনন।
অন্য নেশাখোরদের সাথে অনেক সিরিঞ্জ শেয়ার করেছো? এটাই কি...
তোমাকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করেছে? - ওহ না!
স্যার... ব্যাপারটা হলো... আমার কিছু বান্ধবী আছে...
কিছু বান্ধবী!
ও কীসের পরীক্ষা করিয়েছিল?
ওহ... ঠিক আছে... ঠিক আছে...
ঠিক আছে... ওহ!
এই নিন... এটা...
তুমি যেতে পারো।
ধন্যবাদ, স্যার। - ঠিক আছে, ঠিক আছে।
আর শোনো!
- স্যার? - তোমার ফলাফল আনতে যাও নি কেন?
আমি... যাচ্ছিলাম।
- এখনই? - হ্যাঁ।
- যাও তাহলে! - ঠিক আছে। - ঠিক আছে।
পি১৯। কন্ট্রোল। বাচ্চাটা... মুক্তিপণ..
...ফোন... পার্টি... - স্যার, পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে না।
পি১৯। মুক্তিপণের জন্য কিডন্যাপারদের দেওয়া ঠিকানায়...
কি কোনো দল গেছে? - উত্তর দিচ্ছি, স্যার।
হ্যাঁ, একটা দল সেখানে গেছে, স্যার।
- তোমাকে ফোন করেছিল কেন? - কলেজের পুরনো একটা কেস।
কোনোমতে সামলে নিয়েছি।
এটা কী?
"বাচ্চাটির বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজন
হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন" - তুমি বলেছিলে...
বাচ্চাটার কেউ নেই!
আমি বলতে চেয়েছি,
- ওদের কেউ বাচ্চাটাকে চায়নি। - সেটা জানলে কী করে?
গতকাল চারপাশ এবং ওদের দেখতে...
আমি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলাম।
ওরা একদমই ছোট্ট বাচ্চা! আর ওরা একে অপরকে...
যা তা বলছিল।
তোমার সত্যি আর মিথ্যের মধ্যে ফারাক করতে পারছি না!
- আমি ওদের বলতে যাচ্ছি। - আরে! শোনো!
- পাগল হয়ে গেছো নাকি? - আমাকে ছাড়ো! আমাকে ওদের বলতে দাও!
- প্লিজ আমার কথা শোনো। - আমাকে ছাড়ো!
- আমাকে ছাড়ো। - প্লিজ, শোনো! - আমাকে ছাড়ো!
ঠিক আছে তাহলে। যাও!
তুমি তোমার জীবন নষ্ট করেছো। এবার আমারটাও নষ্ট করো!
যে বাচ্চাটাকে নিয়েছে, সে মুক্তিপণ চাইছে।
তুমি চাও, এটাও আমার ঘাড়ে চাপানো হোক?
মুক্তিপণ?
- কে করছে এটা? - আমি কী করে জানবো?
তুমিই তো পুলিশের সাথে কথা বলতে খুব আগ্রহী ছিলে। ওদের জিজ্ঞাসা করো।
যাও! যাও এবার! যাও!
আমাকে ওই হাসপাতালে যেতে হবে।
শুধু পুলিশকে একটা বিষয় বোঝানোর জন্য।
আসুন।
এক ঘণ্টা পর, এখান থেকে যাত্রা শুরু করবেন। এই নিন।
এই ফোনে আমরা আপনাকে ফোন করব। ফোন ধরবেন আর চালু রাখবেন।
ওখানে পৌঁছে, ব্যাগটা ফেলে দিয়ে...
ফিরে আসবেন। বাকিটা আমরা সামলে নেবো।
আশা করি... আমার টাকাটা ফেরত পাবো।
ভাবছি... আমার অ্যাকাউন্টে টাকা আছে,
সে নিশ্চিতভাবে জানলো কি ভাবে?
স্যার... যদি আপনি ৪টে ড্রোন ব্যবহার করেন,
তাহলে আপনি অনেক ভালোভাবে দেখতে পেতেন।
অথবা আপনি দুটো রাস্তা থেকেই এলাকাটা ঘিরে ফেলতে পারেন এবং...
কিছু অস্বাভাবিক নেই, স্যার।
ওহ!
- হ্যালো, সানাল? - হ্যাঁ, জিশা?
এটা কার ঠিকানা?
- মনু, তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, আমরা কোথায় যাচ্ছি? - আমি জানি না!
দেখো? এটা সেই গাড়িটা, যেটায় করে সে আজ সকালে শহীদ স্কোয়ারে এসেছিল।
ওর সাথে কেউ ছিল।
দেখি... KL01DD8290
গাড়িটার তিরুবনন্তপুরমের রেজিস্ট্রেশন আছে।
এটা কার, কীভাবে জানতে পারি?
- সে যেই হোক না কেন, এখানে হাসপাতালেই থাকবে, তাই না? - হ্যাঁ।
কিন্তু আমরা জানি না, সে কে।
ওই তথ্য দিয়ে তুমি কী করতে চাও?
তোমাকে বললাম তো... বাচ্চাটার বাবা...
এই পুরো ঘটনার সাথে জড়িত।
লোকটা কে, জানতে পারলে, হয়তো বুঝবো ব্যাপারটা কোনদিকে গড়াচ্ছে।
- যদি কিছু খুঁজে পাই? - তাহলে পুলিশকে জানানো উচিৎ।
কিন্তু এগুলো শুধুমাত্র আমার সন্দেহ।
যদি আমি এমন কিছু বলি যে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই, তাহলে ওরা আমাকে মারবে!
ওরা যেভাবে কথা বলছে, মনে হচ্ছে, আমিই বাচ্চাটাকে সরিয়ে নিয়েছি!
- সানাল... - হ্যাঁ? - ওই গাড়িটা আর এখানে ফেরেনি।
সে পুলিশ ভ্যানে করে ফিরে এসেছিল।
তাহলে যে গাড়িটা চালাচ্ছিল, তার কী হলো?
মনু, তুমি কোথায় যাচ্ছো?
জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় যাচ্ছো?
এই!
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
দাঁড়াও!
ঠিক আছে, স্যার।
গাড়িটা আদিতেভ নামের একজন চালাচ্ছিল। সে বাচ্চাটার বাবার বন্ধু।
গাড়িটা ওর মায়ের নামে রেজিস্টার করা।
আমি ওর মায়ের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু সে বাড়িতে নেই।
ওর মোবাইলও বন্ধ। তবে সে আমাকে কিছু জায়গার কথা বলেছে,
যেখানে ও থাকতে পারে, আর সেই জায়গাগুলোর মধ্যে একটা...
আমার সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
আমি তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।
আসলে তা নয়, স্যার... এটা আমার বুদ্ধি নয়।
এখানকার সিসিটিভি টেকনিশিয়ান এই তথ্য খুঁজে পেয়েছে।
ঠিক আছে, স্যার।
ঠিক আছে।
"আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন।"
হ্যাঁ, স্যার। আমরা বার্তা পেয়েছি। আমরা এখনই সেখানে যাচ্ছি।
চলুন, যাওয়া যাক।
বাচ্চাটি কোথায়?
হুম...
স্যার, এই সিস্টেম থেকেই কলটি করা হয়েছিল।
মনে হচ্ছে সে হ্যাকিং এবং এই ধরনের কাজে জড়িত।
- স্যার। - হ্যাঁ। - এই বাড়ির মালিক। এটা তার স্ত্রীর নামে আছে।
হাই।
- আপনার স্ত্রী কোথায়? - ব্যাংকে।
- ছেলেটি আপনার কে হয়? - আমার পার্টনারের ছেলে।
আমরা এই বাড়িটা ভাড়া দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম।
ও মাঝে মাঝে এখানে পড়তে আসে।
ওর কাছে চাবি আছে।
- আর ওই লোকটা কে? - উনি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি।
একজনকে ব্যাগ ফেলতে দেখে, তিনি চেক করতে গিয়েছিলেন।
এই এলাকার দুটো ক্যামেরাই ও নষ্ট করে দিয়েছে।
গত তিন ঘণ্টার কোনো ফুটেজ নেই।
এটা একটা সিডেটিভ। মনে রাখবেন।
স্যার, আমি আবার বলছি। আপনি যখন এখানে এসেছিলেন...
তখন বাচ্চাটা ওই ঘরে ছিল।
কলিং বেলের আওয়াজ শুনে, আমি বাচ্চাটাকে সরিয়ে...
বাথরুমে নিয়ে গেলাম, যাতে কেউ ওকে দেখতে না পায়।
যখন আমি আপনার সাথে উপরে গিয়েছিলাম, তখন ওখানেই ছিল।
"নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাচ্চাটির বাবা...
আকাশ বাবু এবং তার বন্ধু আদিদেব, বাচ্চাটিকে অপহরণ করে...
এবং তার স্ত্রীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
কিন্তু পুলিশ এখনও বাচ্চাটিকে খুঁজে পায়নি,
এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।"
- আরে! চলো! এগোও! - সরো! সরো!
সরে যাও! আরে, ক্যামেরাটা সরাও!
অভিলাষ! আরে, ভাই!
যদি তুমি ওদের ঋষির ফুটেজ সম্পর্কে কিছু বলতে...
সানাল, আমি আর পারছি না! পরের মাসেই আমার ভিসা ইন্টারভিউ আছে।
যদি বাচ্চাটাকে কোথাও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়...
...তাহলে আমাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
এখন সবটাই বাচ্চার ভাগ্যের উপর নির্ভর করছে। সে তো আমার বাচ্চা নয়!
তুমিও এভাবে ভাবলে, সেটা তোমার পক্ষেই ভালো হবে।
এই মুহূর্তে তুমি শুধু তোমার চাকরিটাই হারিয়েছো।
স্যার, আজ সকালে আমরা...
...পুলিশের সাথে শহীদ স্কোয়ারে গিয়েছিলাম।
আমি আসলে যেতে চাইনি।
কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম, বাচ্চাটার বাবা সঙ্গে যাচ্ছে না কেন...
...লোকে জিজ্ঞেস করবে বলে।
তখনই আমি একজনকে দেখলাম...
...বাচ্চাটাকে টয়লেটে ফেলে যেতে।
পুলিশ আসার আগেই আমরা ওটাকে নিয়ে আসি।
আমি ওকে বলেছিলাম, আম্মাতোত্তিলে (সরকারি শিশু আশ্রয় কেন্দ্র) রেখে আসতে।
আর সে তাতে সম্মত হয়েছিল।
আমি ওকে বিশ্বাস করে পুলিশের সাথে হাসপাতালে ফিরে আসি।
আমি ভাবতেই পারিনি, ও আমাকে ঠকাবে...
...আর এটা দিয়ে টাকা রোজগারের চেষ্টা করবে। আমি অসহায় ছিলাম।
সেরা...বন্ধু!
এগুলো সে করেছিল... নেশার টাকার জন্য।
- যেন তুমি কখনো ড্রাগস নাওনি! - আমি বলিনি, আমি কখনো নিই নি।
- কিন্তু আমি কখনোই... - মীনাক্ষী কি এই পরিকল্পনার কথা জানতো?
- না, স্যার। - একে 'আম্মাতোত্তিলে' রাখতে চেয়েছিলে কেন?
শুধু আমরা একটা ভুল করেছি বলে কি আমাকে...
সারা ভবিষ্যৎটা মীনাক্ষী আর বাচ্চার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাটাতে হবে?
ব্যাক পেপারগুলো ক্লিয়ার করবো, নাকি একটা বাচ্চার দেখাশোনা করবো?
আমরা গর্ভপাত করার চেষ্টা করেছিলাম।
কিন্তু তার কিছু জটিলতা থাকায় আমরা সেটা করতে পারিনি।
এটাই একমাত্র কারণ... আমরা আমাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছিলাম।
আমরা চাইনি। আমাদের পরিবার আমাদের বাধ্য করেছিল।
তাহলে বাচ্চাটাকে ফেলে দেওয়ার পর তোমার পরিকল্পনা কী ছিল?
এটা ছাড়া, বিবাহবিচ্ছেদ সহজ হতো।
আমরা দুজনেই মুক্ত হতে পারতাম।
যে ব্যক্তি বাচ্চাটাকে টয়লেটে রেখেছিল...
সে পুরুষ ছিল নাকি মহিলা?
পুরুষ।
তাকে আবার দেখলে চিনতে পারবে?
না... আমি দূর থেকে দেখেছিলাম...
আমার কাছ থেকে টাকা হাতানোর জন্য, এটা তোমার আর তোমার ছেলের...
সাজানো নাটক ছিল! বাচ্চাটা নিখোঁজ হওয়ার মুহূর্তেই আমি এটা বুঝে গিয়েছিলাম!
বোকার মতো অভিযোগ করবেন না। আমি এসবের কিছুই জানতাম না।
- আমি এমন লোক নই। - শোনো। আপাতত...
- তোমরা সবাই চলে যাও। প্লিজ। - এটা এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে...
আমাদের একসাথে থাকা উচিত। আমাদের এইভাবে ঝগড়া করা উচিৎ নয়।
এই! তোমার ভাইকে নিয়ে চলে যাও।
নয়তো, আমি নিজেও জানি না কী করবো।
- এসব থামাও, জয়ান। - কী?
সোনা... কোথায় যাচ্ছিস?
আমি চলে যেতে চাই। এখনই।
আমার ছুটি চাই। কার সাথে কথা বলতে হবে?
- ওর খিদে পেয়েছে। - ঠিক আছে।
ওকে ওর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।
তাহলে তুমি সত্যিই ওকে চাও না?
আমরা ওকে কেড়ে নিতে পারি না।
- তাও আবার মায়ের কাছ থেকে। - শোনো।
ওর তোমার কাছেই থাকার কথা। আমি শুধু নিজেকে বাঁচানোর জন্য...
অথবা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একথা বলছি না।
আমি আর এসবে ভয় পাই না।
শোনো... এই বাচ্চাটার অন্য কোথাও থাকার...
এবং অন্য কোথাও যাওয়ার পথে ছিল।
কিন্তু সে আবার তোমার কোলে ফিরে এসেছে।
তুমি কি মনে করো না, এর পেছনে কোনো উচ্চতর শক্তির ইশারা আছে?
ওর বাবা-মা ওকে চায় না।
তুমি ঠিক করতে পারো কী করবে।
- হ্যালো। - তুমি কোথায়, সানাল? যেখানেই থাকো,
বাড়ি চলে এসো। আমি রাগের মাথায় উল্টোপাল্টা বলে ফেলেছি।
আমি আসছি। কিন্তু তার আগে, একটা লোকের ঠিকানা পেয়েছি।
যদি আমার সন্দেহ সত্যি হয়, তাহলে বাচ্চাটা ওর কাছেই আছে।
- আমি এখনই সেখানে যাচ্ছি। - পুলিশ কি এসব দেখতে পারে না?
এর মধ্যে জড়িয়ো না, প্লিজ। বাড়ি চলে এসো।
- প্লিজ! - যদি এখন এটা ছেড়ে দিই,
তাহলে আমরা আমাদের ছেলের সাথে ক্রিসমাস উদযাপন করতে পারব।
কিন্তু সিনি... আমাদের ছেলে এখানে একমাত্র সন্তান নয়।
সকালে বলেছিলে, আমি সব খবরের কাগজে ছিলাম।
অন্তত সন্ধ্যার খবরে, আমি চাই তারা অ্যাটেনডেন্ট সানাল...
সম্পর্কে কিছু ভালো কথা বলুক।
তুমি কোথায়? এতবার ফোন করলাম!
ফোন ধরছো না কেন?
- আমি বাচ্চাটাকে ধরেছিলাম। - ও কি এখন তোমার কোলে আছে?
ফোনটা ওর কানে ধরো।
আয়। এটা কর!
- ও কি হাসছে? - তুমি এখন কোথায়?
আমি প্রায় বাড়ি পৌঁছে গেছি। আমাদের বাসটা এখন দেখতে পাবে!
কোয়েম্বাটুর ভ্রমণ সার্থক হয়েছে।
দারুণ লাগছে! আচ্ছা, এক হাতে বাচ্চা থাকলে,
অন্য হাতে ফোন ধরতে পারো না?
কিন্তু একসাথে সবকিছু সামলানো...
আমার মা বাচ্চাটাকে দেখে কী বললো?
- আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি, বিনয়। - কেন?
তোমার ভাই সকালে বলেছিল, তোমরা আসছো।
- আমার মা অপেক্ষা করছে, তাই না? - মনুকে মাঝপথে...
কোথাও যেতে হয়েছিল।
তোমার ফোন করে আমাকে জানানো উচিৎ ছিল।
নাকি ৫-৬ বছর পর ভাইকে দেখে...
আমার দাম হঠাৎ কমে গেল?
- তাই কি? তোমাকে জিজ্ঞেস করছি! - না।
ঠিক আছে। তাহলে, আমাকে ফোন না করার অজুহাত কী?
তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি। আমাকে ফোন না করার অজুহাত কী?
- তোমাকে বলেছিলাম, বিনয়... - তুমি ঠিক কী বলেছিলে?
তুমি যদি কোথাও নষ্টামি করতে গিয়ে থাকো, আমার জানা উচিৎ, তাই না?
বিশেষ করে যখন আমার মা বাড়িতে অপেক্ষা করছে।
যাই হোক, বাড়ি এসো। আমার বাচ্চাকে দেখতে হবে।
এই...
এত বছর ধরে, আমি তোমার সব কথা শুনেছি।
এবার তুমি আমার কথা শোনো।
তুমি বলেছিলে, বাচ্চা ছাড়া বাড়ি ফিরলে, আমাকে 'দেখিয়ে দেবে'।
তোমার কোনো বাচ্চা আমার কাছে নেই।
তুমি ফোন করে খোঁজ নিতে পারো।
আমি তোমাকে আর চাই না, বুঝেছো?
যদি তুমি আমার পিছু নেওয়ার চেষ্টা করো,
আমি পুলিশকে আমার শরীরের দাগগুলো দেখাবো।
তাই...সাবধান!
স্যার, আমার মনে হয় এদের বেশিরভাগ কথাই ফালতু।
আমি যা দেখছি, তাতে বাচ্চাটার প্রতি কেউই বিশেষ আগ্রহী...
বলে মনে হচ্ছে না। - স্যার, রাত নামলে,
খোঁজ করা কঠিন হবে। মধ্যরাতের প্রার্থনা, ক্যারল গান...
আর শোভাযাত্রা নিয়ে, বড়দিনের ভিড় তুঙ্গে থাকবে।
যানবাহনও বেশি থাকবে। আমাদের অনেক লোক...
ছুটিতে বাড়িতে আছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানও...
এখনও শেষ হয়নি।
- হুম... শুনুন। - হ্যাঁ, স্যার? - এলএন্ডও, ট্র্যাফিক, সাইবার...
- সব ছুটি বাতিল করুন। - হ্যাঁ, স্যার।
- বড়দিন পরের বছরও পালন করা যাবে। - স্যার, আমার মনে হয় আসল অপরাধী...
এমন কেউ, যে আমাদের সন্দেহভাজন তালিকায় নেই।
এমন কেউ যে আত্মীয় বা বন্ধু নয়।
এতে তার লুকিয়ে থাকা সহজ হয়।
আপনার অনুমান যাই হোক না কেন, আমি ফলাফল চাই।
যদি বাচ্চাটির প্রতি আর কেউ আগ্রহী না-ও হয়,
আমাদের হওয়া উচিত! সে একজন ভারতীয় নাগরিক
এবং রাজ্যের দায়িত্ব।
তোমাকে অনেক আগেই এখানে আর ফিরতে বারণ করেছিলাম।
যদি ভেবে থাকো, বাচ্চা হওয়ার সাথে সাথেই...
সবকিছু মাফ হয়ে যাবে এবং ভুলে যাবো, তবে তুমি ভুল ভাবছো!
এই বাচ্চাটি বাঁচবে না মরবে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
আমার এর সাথে বা তোমার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই!
- দাদা, এখানে ঋষির বাড়ি কোনটা? - ওই তো।
- এই বাড়িটা তোমার নয়! - ওখানে কী হচ্ছে?
ওটা... ওর মেয়ে। অনেকদিন আগে পালিয়ে গিয়েছিল।
- তাই বুঝি। - কার সাথে পালিয়েছিল? - ওহ, সেটা...
শহরের ভাদাক্কেল মোটরস নামক বাসটা চেনো?
- হ্যাঁ। - তার মালিকের ছেলের সাথে।
তাকেও দোষ দেওয়া যায় না!
- এই লোকটার সাথে কেউ থাকতে পারে? আমরাই পারি না! - ঠিক!
এই এলাকায় আর কোনোদিন মুখ দেখাবে না!
রীতু...
রীতু...
কী...?
এই শালা!
তোর বোনকে বলে দিস, সে যে গর্তেই লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন,
আমি ঠিক খুঁজে বার করবোই!
যদি সে ভাবে যে আমাকে এসব কথা বলে পার পেয়ে যাবে...
তাহলে সে ভুল ভেবেছে।
সে হয় আমার বাধ্য স্ত্রী হয়ে আমার সাথে থাকবে,
নয়তো...
নয়তো কী হবে, সেটা ওর কাছেই জিজ্ঞাসা করে নিস।
ও জানে... আমি কতটা নিচে নামতে পারি...
আরে!
প্লিজ, কেঁদো না!
আরে... তুমি নিজেকে অসুস্থ করে ফেলবে!
- মনু... - হ্যাঁ?
রাস্তার কোথাও আমাদের নামিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে যাও।
আমি কোনোভাবে সামলে নেবো।
সামলে নেবে মানে?
তোমাকে ফেলে যেতে চাইলে, আমি আগেই পারতাম।
আমি জানি...
বাড়িতে... বাবা-মা শুধু আমার কথাই শুনতেন।
আমিই ছিলাম তাদের আদরের ছেলে।
যাকে তারা অনেক প্রার্থনা আর তুকতাকের পর পেয়েছিলেন।
আমার সেই তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে...
তোমাকে সবসময় দাবিয়ে রেখেছি।
যদি এমনটা না হতো, তুমি হয়তো পালিয়ে যেতে না।
আমি সেই সবকিছুর ক্ষতি পূরণ করতে চাই। পুরোপুরি।
তাই... যখন হাসপাতালের কর্মীরা বললো,
তারা মৃতদেহটি ফেলে দিতে চলেছে,
আমি একা নিজের হাতে তোমার সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছি।
আমি এখনও সেই অনুভূতিটা ভুলতে পারিনি।
তুমি...
আমার বাচ্চাকে দেখেছো?
দেখেছি।
খুব সুন্দর ছোট্ট একটা জিনিস।
একদম ছোটো।
মাথায় ভর্তি চুল।
আমার নিজের কথা মনে করিয়ে দিল।
ও এখন সেই জায়গাটা নিয়েছে।
সোনা...
জানো, শোভাযাত্রা এই পথেই আসছে। তাহলে এই রাস্তায় যান চলাচল করছে কেন?
রাস্তা বন্ধ করে দাও আর গাড়ি থামাও!
- রাকেশ... - হ্যাঁ?
তুমি হাসপাতালের অ্যাটেন্ডেন্ট সানালকে চেনো?
- আমরা ওর কল লোকেশন ট্র্যাক করছিলাম। - হ্যাঁ?
হাসপাতাল থেকে বেরোনোর পর ওর গতিপথ...
বেশ প্যাঁচানো মনে হচ্ছে।
প্রথমে গৌরাশিপট্টম থেকে নেদুমঙ্গদের দিকে।
তারপর পেরুরকাদা টাওয়ারের নিচে ফিরে আসে।
এখন আবার নড়াচড়া করছে।
বর্তমানে ভেলায়াম্বলাম টাওয়ারের নিচে। যেন এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করছে।
- ওর বাড়ি কোথায়? - ভেট্টুক্কাড।
ও সেদিকে একবারও যায়নি।
কন্ট্রোল এসআই পি১৯, সব সেট মনোযোগ দিন।
নিখোঁজ শিশুটির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে,
আমরা সানাল ম্যাথিউ নামের এক ব্যক্তির ছবি শহরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়েছি।
এই মুহূর্তে ওর টাওয়ার লোকেশন ভেলায়াম্বলাম।
অনুগ্রহ করে ওকে অনুসরণ করুন এবং সন্দেহজনক অবস্থায় পেলে...
তবেই ওকে হেফাজতে নিন।
- কী ব্যাপার? - হুহ?
কিছু না।
আমার বন্ধু নার্গিসকে মনে আছে?
- হ্যাঁ...একসাথে পড়ার জন্য বাড়িতে আসতো? - হ্যাঁ।
ওকে একটা ফোন করবো?
- ও এখন কোথায়? - কলকাতায়।
- ওখানে কী করবে? - কাজ।
পড়াশোনা।
"আপনি যে নম্বরে ফোন করেছেন, সেটি এই মুহূর্তে..."
- সানাল? - কুমারাপুরামের শ্রীভালসাম হাসপাতালে...
ফোন করে জিজ্ঞেস করো, রিতু পিল্লাই নামে কোনো মহিলা...
সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিল কিনা। রিতু পিল্লাই...
অথবা রিতু ভাদাক্কাল... নয়তো, শুধুই রিতু।
- এসব কী হচ্ছে? - আমার শুধু ওই তথ্যটা দরকার।
সাবধানে!
- আমি... - বাচ্চাটা!
- হ্যালো? - গতকাল দুপুরে ও বাচ্চার জন্ম দিয়েছে।
বাচ্চাটি বাঁচেনি। জন্মের সময়েই মারা গিয়েছিল।
মনু... আস্তে চালাও!
দেখছো না, আমার কোলে বাচ্চা আছে? এত তাড়াহুড়ো করে গাড়ি চালিও না!
শোনো...
বলছি, সাবধানে চালাও!
কী করছো ভাই? কিছু হয়েছে কি?
কেউ একজন...
আমাদের পিছু নিয়েছে।
১১.৩০-এ দিল্লি যাওয়ার ট্রেন আছে। টিকিট কাটছি।
আমরা ওটাতেই যাব। সেখান থেকে, যেমন করেই হোক, কলকাতায় যাবো।
- কিন্তু ও তোমাকে ফোন করেনি। - আমি যদি এখানে আর একটুও থাকি,
ওকে হারাতে পারি।
হ্যাঁ... আমিও তোমার সাথে যাবো।
- যদি তোমার কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয়। - না। আমি সামলে নেবো।
শুধু তাই নয়... যদি তোমার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়,
বা বাচ্চাটাকে কোলে নেওয়ার জন্য দরকার হয়। আমি তোমার সাথে যাবো।
আমি ঠিক থাকবো।
- ওই দিকটা দেখো। - স্যার।
এই রাস্তায় কয়েকটা ক্যামেরা আছে।
নিশ্চিত করতে হবে, যেন গাড়িটা ক্যামেরায় ধরা না পড়ে। হেঁটে যাওয়া যাক।
একটা মাস্ক পরে নাও।
এই! এই!
এই... ওঠো!
ঠিক আছে... ঠিক আছে...
- ভাই... এক বোতল জল। - এই নিন।
- বাচ্চাটা কোথায়? - আমাকে ছেড়ে দিন, ভাই!
- জিজ্ঞাসা করছি, বাচ্চাটা কোথায়? বলো! - ওরা চলে গেছে।
আমাকে ছেড়ে দিন!
এই! থামো!
- বলে ফেলো! - ছেড়ে দিন!
স্যার... স্যার...!
সানাল কাইরালি থিয়েটারের আশেপাশেই আছে।
তাঁকে এক্ষুনি আটক করুন। যাকে সে অনুসরণ করছিল,
তাকে থাম্পানুর বাস স্ট্যান্ডের দিকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে।
সকল কর্তব্যরত অফিসার, মনোযোগ দিন।
সন্দেহভাজন আমার সামনেই।
সে আগ্রাহারামের দিকে যাচ্ছে। তোমরা কোথায়? - ঠিক পিছনে, স্যার।
যাও! তাড়াতাড়ি!
স্যার... ও দক্ষিণ গেটের দিকে একটা গলিতে ঢুকেছে।
আমি ঠিক পিছনেই আছি। ওকে পালাতে দিও না।
স্যার, ও এক্সটেনশনের দিকে যাচ্ছে।
ঠিক আছে। আমি দেখতে পাচ্ছি।
এই, তুমি! তাড়াতাড়ি নেমে এসো!
এই!
এই! এই!
ও মানবীয়াম রোডে ঢুকেছে। ডিউটি পুলিশ...
- সতর্ক থাকো! - আমরা এখানেই আছি, স্যার।
- ভিড় বাড়ছে। - লাল জ্যাকেট আর ফেস মাস্ক পরা ব্যক্তিকে খোঁজো।
- সব বেরোনোর পথ বন্ধ করে দাও। - ঠিক আছে, ঠিক আছে, স্যার!
এসো! তাড়াতাড়ি এসো!
- নিচে নামো! - স্যার!
- মনু... - হ্যাঁ?
- তুমি কোথায়? - তুমি কোথায়?
আমরা... ট্রেনে উঠে পড়েছি।
আমরা চলে যাচ্ছি, ঠিক আছে?
- নিজের খেয়াল রেখো, দিদি। - রাখবো।
এই! কী?
এই... অ্যাপে কার ইমেল আইডি দেওয়া আছে?
- ওর। - ওহ না! টিকিটের বিস্তারিত বিবরণসহ...
ওর কাছে একটা ইমেল যাবে।
এটা একমাত্র ট্রেন নয়।
- হ্যালো। পুলিশ কন্ট্রোল রুম। - স্যার, আমার নাম সনাল।
- বলুন। - আমি গুড শেফার্ড হাসপাতালের একজন অ্যাটেনডেন্ট। - ঠিক আছে।
থাম্পানুর থেকে যাত্রা শুরু করা মঙ্গলাপুরম এক্সপ্রেসের...
জেনারেল কামরায়, আজ সকালে নিখোঁজ হওয়া বাচ্চাটিকে নিয়ে...
একজন মহিলাকে পাওয়া যাবে।
- ট্রেনটা এখন কোথায়? - পরের স্টপ কোচু ভেলি।
আমি ট্রেনে আছি, স্যার। আমি ওদের দেখতে পাচ্ছি।
দশ মিনিটের মধ্যে ট্রেনটা স্টেশনে পৌঁছে যাবে। তাড়াতাড়ি আসুন।
- আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকব। - ঠিক আছে...
নিশ্চিত করুন যেন সে কোথাও না যায়।
কোথাও যাবে না, স্যার।
সব ইউনিট সতর্ক থাকুন, কন্ট্রোল রুম থেকে বলছি।
নিখোঁজ শিশুর মামলার সন্দেহভাজন সানাল ম্যাথিউর কাছ থেকে একটি বার্তা এসেছে।
ট্রেন নম্বর ১৬৩৪৫, ম্যাঙ্গালোর এক্সপ্রেস।
আমাদের জানানো হয়েছে, নিখোঁজ শিশুটি ওই ট্রেনে আছে।
১১.৪০-এ ট্রেনটি কোচু ভেলি স্টেশনে পৌঁছাবে।
জেনারেল কামরাটি দেখুন। ট্রেনটা মাত্র ৫ মিনিটের জন্য থামবে।
সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে গুড রেটিং ও সাবগ্রুপে ফিডব্যাক দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।
স্যার!
- স্যার, সে ভিতরে আছে। আসুন! - কোথায়?
- কোথায় সে? - স্যার... এখানেই ছিল।
ওদিকে গিয়ে দেখুন।
হয়তো সে এই দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
মোটা ভুরু...
ট্রেনে বাচ্ছা কোলে নিয়ে একজন মহিলা ছিলেন।
জানি না, সে কোথায় নেমে গেছে। তার মুখের দিকে খেয়াল করিনি।
- পরের জন। - চওড়া কপাল।
কোঁকড়ানো চুল...
- অটো ফেস রিকগনিশন চেক করো। - কিন্তু স্যার...
- পুরো মুখ ছাড়া... - চেষ্টা করো! - ঠিক আছে, স্যার।
জানি না, আবার দেখলে, তাকে চিনতে পারবো কিনা।
- মনে হয়, সে মাস্ক পরেছিল। - সে হয়তো স্টেশন ছেড়ে...
পেছনের দিক দিয়ে অন্য কোনো গাড়িতে করে চলে গেছে।
চোখ...খুব বড় নয়, খুব ছোটও নয়...
মাঝারি আকারের...
স্যার, মুখটা ক্রাইম ড্রাইভের কোনো অপরাধীর সাথে মিলছে না।
কিন্তু যেমন বলেছি, মুখটা আংশিকভাবে ঢাকা থাকায়...
নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।
স্যার...এক সেকেন্ড, প্লিজ।
স্যার, কোভালামে একদল ভিখারির সাথে একটি শিশুকে পাওয়া গেছে।
কিছু স্থানীয় লোক তাদের আটকে রেখেছে। আপনি যদি আসতে পারতেন...
উহ...থাম্পানুর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ আপনাদের কাছে আছে কি?
হ্যাঁ, স্যার। সেখানে ৭-৮ জন লোক ছিল যারা শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ করছিল।
কিন্তু সন্দেহজনক কিছু নেই। আমরা সত্যিই মনে করি...
সে স্টেশনের পিছনের দিক থেকে ট্রেনে উঠেছিল।
ওই এলাকার ক্যামেরাগুলোতে কিছু নেই।
- সম্ভবত তারা ক্যামেরা এড়িয়ে যাচ্ছিল। - হুম।
- আমি আসছি। - স্যার!
কীসের ভিত্তিতে আমরা তাকে এখানে আটকে রাখতে পারি, স্যার?
তার কল লিস্ট পেয়েছো?
রাজীব স্যার যাদের ফোন করেছিলেন, তাদের জবানবন্দি নিয়েছেন।
কিন্তু তিনি বলেছিলেন, তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
ধুর!
- তাকে বলো, ডাকলে যেন আসে। - স্যার।
- আর ওর উপর নজর রাখো। - ঠিক আছে।
আপনি এগিয়ে যান, স্যার। যাই হোক, এখনো তো মাত্র ২৪ ঘণ্টাই হয়েছে।
আর আমরা কোথাও যাচ্ছি না।
মধ্যরাতের প্রার্থনায় যাওয়ার আগে, আমি এই বাচ্চাটাকে...
ওর আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।
মীনাক্ষী?
আমি... দুঃখিত...
ও... নিচে আছে।
ওকে এখানে ভিড় আর মিডিয়ার ভয়ে আনি নি।
তুমি চাইলে পুলিশ ডাকতে পারো।
তাদের সামনে, তুমি যদি চাও...
আমি ওকে ফিরিয়ে দিই, তাই করবো।
মায়া ম্যাডাম আমাদের প্রথম সেমিস্টারে গেস্ট লেকচারার ছিলেন।
উনি এখন চেন্নাইতে আছেন।
তিনি এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই একটু দেখা করে গেলেন।
- মনে হয়, উনি খবর পেয়েছেন। - হ্যাঁ।
ম্যাম, আমরা কী করবো, বুঝতে পারছি না।
সে কিছুই বলছে না।
দয়া করে ওকে জিজ্ঞেস করুন, ওর মনে কী চলছে।
আমাকে কাঁদতে বলছো?
এটাই কি সবাই চায়?
আমার বয়স মাত্র ১৯ বছর।
আমার কাছে সবকিছুর উত্তর নেই।
আর আমি এর জন্য প্রস্তুত নই।
আমি তার যোগ্য নই।
আমি আমার সন্তানের যোগ্য নই।
যার কাছেই ও থাকুক না কেন,
আশা করি, ও তাদের সাথে খুশি থাকবে।
- হ্যালো? - হ্যালো... ম্যাডাম... আমি...
গুড শেফার্ড হাসপাতালের সানাল।
আমি জানি, আপনার বাচ্চা কোথায় আছে।
আপনাকে সঠিক অবস্থান জানাতে পারি।
- আপনি যদি পুলিশকে ফোন করেন... - দয়া করে, আমাকে আর ফোন করবেন না।
"আপনি যে নম্বরে ফোন করছেন সেটি বন্ধ আছে..."
আমাদের কারোরই বাড়ি ফেরার জায়গা নেই।
দয়া করে আমাদের যেতে দিন।
তাকে আপনার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য,
আমি অনেক কিছু ত্যাগ করছি।
কখনো ভুলবেন না,
সে এর সবকিছুর যোগ্য।
পুলিশ আসছে। লুকিয়ে পড়ুন।
চাকরি হারিয়েছি, স্যার। তাই বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করছিল না।
তাই এমনি ঘুরছিলাম।
তাহলে ট্রেনে উঠেছিলেন কেন?
আমার খুব ক্লান্ত লাগছিল। আর আমার বাইকের তেল ফুরিয়ে আসছিল।
ভেবেছিলাম, কোচু ভেলিতে নেমে, একটা অটো নিয়ে, বাড়ি চলে যাবো।
আমি মাঝে মাঝে এটা করি।
কিন্তু আমি তো আপনাকে পার্কিং লটের কাছে দেখিনি।
আমি... জল নিতে থেমেছিলাম।
আর কার সাথে ঝগড়া করছিলেন?
ও... একজন পকেটমার ছিল।
মনে হয়, নেশাখোর।
- তাহলে দৌড়ে পালালো কেন? - পকেটমাররা পুলিশ দেখলে,
আর কী করবে, স্যার?
অবশ্যই।
আপনি মীনাক্ষীকে একটা ফোন করেছিলেন।
হ্যাঁ স্যার। যখন আমি বাচ্চাটিকে ট্রেনে দেখেছিলাম,
মনে হয়েছিল তাকে জানানো উচিৎ।
কিন্তু আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
বাচ্চাটাকে চিনলেন কীভাবে?
আমার মনে হয়েছিল।
তাহলে আপনি নিশ্চিত নন?
না। সকাল থেকে এটাই আমার মাথায় ঘুরছে।
- তাই ট্রেনে একজন মহিলাকে বাচ্চা সহ দেখে... - ওহ, বুঝলাম।
ঠিক এটাই আপনি শহীদ স্কোয়ারেও 'অনুভব' করেছিলেন।
আসলে... হ্যাঁ।
স্যার, টেনে একটা চড় মারুন ওকে! সারাদিন ধরে আমাদের...
ঘুরিয়ে মারছে!
স্যার, এক সেকেন্ড, প্লিজ।
আমি... আমি নিশ্চিত হতে পারছি না, স্যার।
আমি ওকে আগে কখনো দেখিনি।
মনে হয় না, আর কখনো দেখবো।
জানো, আমি কী ভাবছি?
এই বাচ্চাটা আমার, সেই ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করতে...
সে আমার জীবনে মাত্র দশ মিনিটের জন্য এসেছিল।
আমার এখন কোনো অপরাধবোধ নেই, নার্গিস।
হয়তো এটাই বড়দিনের জাদু!
যাই হোক, তুমি এক্ষুনি চলে এসো। আমি তোমার পাশে আছি।
ঠিক আছে।
আরে, তুমি বললে না তো... বাচ্চাটা ছেলে নাকি মেয়ে?
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.