Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
-- ভাবানুবাদ ও সম্পাদনায় -- "সাইয়্যেদুল আরেফিন ইমন"
নরসাপুর জঙ্গল, হায়দ্রাবাদ
ভাই, বাইরের খাবার এখানে অ্যালাউড না। ওটা সরান।
এই ...
এ কোনো নেল্লোরের ফিশ কারি বা মটকা বিরিয়ানি না।
এটা হলো চিতাভস্ম!
নিজের চোখেই দেখ।
আসবেন আর...
...ঘাড় মটকে দেবেন।
বড় নোট।
ওই বেওয়ারিশ লাশটার দেওয়া শেষ নোট এটা।
আমার টাকা...
দেখি এবার কেমন নড়তে পারিস!
এই...
আমি কিচ্ছু জানি না, স্যার।
স্যার, বাতাসে টাকাটা উড়ে গেল তাই কুড়াতে এলাম।
তোর টাকা?
চুপচাপ আমার জিনিসপত্র আর চিতার ছাই নিচে নামিয়ে রাখ।
রেখে দিয়েছি, স্যার।
দোস্ত,
মেয়েদের পটাতে হয় ফুল দিয়ে,
ধাক্কা মেরে না!
কিরে! ওই মেয়েটার জন্য এত্ত আদিখ্যেতা?
ওভাবে চিপ হস না ওর সাথে। বেয়াদবি হচ্ছে।
মেয়েরা হলো আসমানের পরী।
উনি আবার ভুলে গেছেন।
হায় হায়!
আমি তো তোকেই খুঁজছিলাম রে।
কোথায় যাচ্ছ তুমি?
কোথায়...?
আসলে...
-বলো? -আসলে...
তোমার তো গোল্ডফিশ মেমোরি!
এই আলঝেইমার রোগ নিয়ে রাস্তায় র্যাম্প ওয়াক করছো কেন?
হারিয়ে গেলে খুঁজব কোথায়?
তোকে কিছু একটা বলার ছিল...
কি যেন...
তোমাকে টেনশনে দেখে মনে হচ্ছে...
চুলা নেভাতে ভুলে গেছো,
আর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছো?
বাড়ি পুড়লে আমি কি এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতাম?
কমেডি... টাইমিং...
নাকি চোর এসে সব মালপত্তর ঝেড়ে দিয়েছে?
এই ইমিটেশনের গয়না ছাড়া আমার কাছে আছেটা কী?
তাও ঠিক।
আমাদের এই পোড়া কপাল চোরের কি কাজে লাগবে!
আরে থামাও তোমরা!
দাদিমা!
দাদুর কোনো খোঁজ পেয়েছো?
হ্যাঁ রে! ওনার ব্যাপারেই তো কথা বলতে চাইছিলাম...
আসলে... উনি...
দাদু ফিরে এসেছেন?
ফোন করেছিলেন?
নাকি...
মৃত্যু সংবাদ...
উনি মারা গেছেন?
উনি কি আর নেই?!
দাদিমা!
আমার টাকা!
-দাদিমা! -দাদিমা!
দাদিমার কী হলো?
এই, আধা কেজি ধনে পাতা, এক পোয়া কফি পাউডার,
আধ প্যাকেট সিগারেট, আর এক জোড়া প্যারাগন স্যান্ডেল নিয়ে আয়।
এখন এসব দিয়ে কি করবেন?
অ্যাম্বুলেন্সে কল দে! গাধা কোথাকার!
দাদিমা!
দাদি... দাদিমা!
এই নেও। ওষুধ খেতে খেতে ভাবো।
টিভি দেখতে দেখতে ভাবো।
গরম গরম ভাত আর... এটা কী?
ডিম আর কাচকি মাছের চচ্চড়ি। খেতে খেতে ভাবো।
আমি চললাম।
তোমাকে আর এই গ্রাম ছেড়ে আমি চলে যাচ্ছি।
কোথায় যাবি তুই?
তুই কি আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছিস?
কোথায় আর যাব?!
যাবার জায়গা কি আছে?
কে আছে আমার?
তুমি ছাড়া।
তোমার তো তাও...
অপেক্ষা করার মতো একজন মানুষ আছে।
আমার কে আছে?
না মা আছে, না বাবা।
ডাক্তাররা কি বলেছিল মনে আছে?
বেশি চিন্তা করলে,
ব্রেন স্ট্রোকে পটল তুলবা।
তাও তুমি কথা শুনো না।
দিনশেষে কি পেলে তুমি?
বাপের বয়সী ওই লোকটার কাছে পনেরো লাখ টাকার লোন। আর তোমার...
এডভান্স স্টেজের আলঝেইমার।
শোন...
তোমার এমন অসুখ যে সব ভুলে যাও,
কিন্তু ওনাকে ভুলতে পারো না।
কে জানে ওই বুড়ো তোমার মগজে কি এমন ছাপ ফেলে গেছে!
আমার কথা শোনো।
প্রতিটা কষ্টের পেছনে একটা গল্প থাকে।
এখন যদি সেটা নিয়ে বসে বসে কাঁদো,
তবে আর বেঁচে থাকার মানে কী?
তোমার জন্য আমার ভালোবাসা...
এর কি কোনো দাম নেই?
না রে।
তোর কসম।
ওনার কথা আর ভাবব না।
আর কোনো অসুখ বাঁধাবো না।
থাক, বাদ দেও।
শুধু এই প্রমিজটা রেখো।
প্রমিজ? কিসের প্রমিজের কথা বলছিস রে?
কোন প্রমিজ?
বল না!
-কি হয়েছে? -তুমি সব লিমিট ক্রস করে গেছো।
তুমি তো মেমোরি লস এর বাপকেও হার মানিয়ে দিবা।
আমার চোখের জলটাকে পুরো পানিভাত করে দিলা!
হায় কপাল!
তুই কাঁদছিলি? কখন রে?
না না... কাঁদিনি! এত ভেবো না। একদম ভেবো না!
কাচকি মাছের তরকারিটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল, তাই কান্না পাচ্ছিল। আর কিছু না।
আমি কত বড় ভুলোমন রে!
তোকে খেতেও দিইনি!
কি করি একে নিয়ে আমি?
দাদিমা খাবার বাড়ছেন। খেতে আয়!
আয়!
তোমার হাতে জাদু আছে!
কি দারুণ রাঁধো!
তুমি কি বাবুর্চি ছিলে নাকি?
আমি বাবুর্চি হতে যাবো কেন?
-আমি হলাম... -বুঝেছি! আর বলো না!
সারাদিন শুধু চাপাবাজি!
কোন রাজবংশের জমিদার ছিলে তুমি!
-কথাটা মনে করিয়ে দিলি। তোর দাদু-- -না!
আজকের মতো এই টপিক ক্লোজ।
-কালকে কন্টিনিউ করো। -আরে বলতে দে...
-আগে খাইয়ে দেও। নাহলে ভুলে যাবো। -এই!
মা জননী!
ওনার কাছে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দে মা।
এই যে, দাদিমা!
পালকি তো চলে গেল! নেই আর!
ভেঙ্কটেশ্বরলু, এদিকে এসো!
দাদিমা!
আমি করিম উল্লাহ।
নাম ভুলে গেলেও,
আমার এই লেবাস দেখে তো বুঝবে আমি মুসলমান।
বাদ দে, উনি চিনবে না...
তুই তো পাত্রী দেখতে গেলি, তাই না? কি হলো?
কি আর হবে? আমার এই চেহারা দেখে কি কেউ না করতে পারে?
এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। আর আমরা ফটোশুটও করলাম।
দেখবেন নাকি ছবিগুলো? এই নেন।
ভাবিকে তো অস্থির লাগছে।
দোস্ত, মেয়ে কি সত্যি রাজি হয়েছে নাকি পটিয়েছিস?
উল্টো আমাকে রাজি করাতে ওদের ঘাম ছুটে গেছে।
সর তো!
ঠিক আছে। যার ব্যথা সেই বোঝে।
ইনি তো দেখতে একদম দাদুর মতো!
দাদিমা...
ইনি দাদুর মতো দেখতে না?
এ তো উনিই!
এ তো উনিই!
সারা দেশ খুঁজে ওনাকে পাওয়া গেল না।
আর উনি কিনা তোর ছবিতে!
তুই সত্যি ওনাকে দেখেছিস?
দেখলে বউ ফেলে আমি দাদুকে বাড়িতে নিয়ে আসতাম না?
ছবিটা কবে আর কোথায় তোলা? আশেপাশে কে ছিল?
বল আমাকে!
চারমিনারের কাছে, ভাই।
চারমিনার! চারমিনার!
-চারমিনারের কাছে কে থাকে? -কী হয়েছে?
চারমিনারের কাছে...
মঙ্গলম আংকেল থাকে ওখানে!
-হ্যালো? -শুনুন।
আমি দাদুকে খুঁজে পেয়েছি!
করিম উল্লাহ চারমিনারে একটা ছবি তুলেছিল।
আমরা ওই ছবিতে দাদুকে দেখেছি।
পুরো এলাকা খুঁজতে এক্ষুনি চারজন কনস্টেবল পাঠাও।
কী ব্যাপার? আমাকে ঢেকে রাখছিস কেন?
ওই মেয়েগুলো তোর দিকে তাকিয়ে আছে।
তো? তাই বলে আমাকে চুরিদার আর ঘাঘরা পরিয়ে ঢেকে রাখবি?
সরা এসব। যা!
আংকেল, বলুন।
শোন!
এটা ১৯৬০ সালের নিখোঁজ ডায়েরির কেস।
ওনাকে খুঁজতে হলে,
তোমাকে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হবে।
পাঁচ লাখ?!
কী?
টাকা?
হায় হায়!
কাল টাকা নিয়ে আমি বাস থেকে নামব। আপনি রেডি থাইক্কেন।
-আচ্ছা! -বাবা আমাকে মেরেই ফেলবে। পারব না আমি!
জান আমার... আমার জানের ব্যাংক।
আমার এটিএম বুথ! আমার ছোটবেলার ভালোবাসা!
দাদুর ব্যাপার! এটা দাদিমার শেষ ইচ্ছে।
ছোটবেলা থেকে এটা আমাদের দায়িত্ব।
এইসব ডায়লগ দিয়ে দিয়ে আমাকে লুট করছোস।
আর না।
টাকা তো তুই দেস না। দেয় তোর বাবা।
তোর ওই মাড়োয়ারি বাপ।
আমি যা বলছি ঠিক তাই কর,
দেখবি হাসিমুখে টাকা বের করে দেবে।
-হাসিমুখে? -হ্যাঁ!
আমার ট্যালেন্ট দেখবি শুধু। হাসিমুখেই দেবে!
তোর দাদু কিন্তু বেশ একগুঁয়ে।
গঙ্গারাজুকে আর গয়নার বাক্সটাকে
খুঁজে পাওয়ার পরেই
গ্রামে ফিরবেন বলে যদি জেদ ধরেন, হাল ছাড়বি না।
বলবি গয়নার বাক্স তুই দেখে রাখবি,
তাঁকে শুধু বাসে তুলে দিস।
আগে দাদুকে তো খুঁজে পাই।
সকাল থেকে কানের পোকা মেরে দিলা।
ধরো এটা।
এই নেন ব্যাগ।
এখন কি করব, বস?
আরে মহেশ, একটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি।
বাস ছাড়ার সাথে সাথে, একটা বিয়ারে টান দিবি।
তারপর মাস্তানের দোকানে গিয়ে দম-বিরিয়ানি মারবি।
-ঠিক আছে, বস। -এরপর একটা অটো নিয়ে,
আয়েশ করে 'অবতার ৩' দেখবি, বোঝ বা না বোঝ!
সবই বুঝলাম, কিন্তু দাদিমার কী হবে?
মাঝদুপুরে যে প্রশ্নটা করার দরকার ছিল,
সেটা করলি এখন মাঝরাতে।
ওই!
দাদিমাকে একা ফেলে যদি উল্টাপাল্টা কিছু করিস...
চামড়া তুলে বিয়ারের বোতলে লেভেল লাগিয়ে দেব।
এই নেন আপনার ২,০০০ টাকা। বুঝেছি।
ম্যাডাম, উনি চলে যাচ্ছেন। একটু এগিয়ে দিন।
এই, লাভ ইউ!
সি ইউ!
অটো!
অটো! গুড মর্নিং! অটো!
হায় কপাল! এ এখানে কেন?
-তুই না বললি সফটওয়্যারে চাকরি করিস? -হ্যাঁ।
গ্রামে ইজ্জত বাঁচাতে আর শহরে কাস্টমার পেতে একটু তো চাপাবাজি করতেই হয়।
এখন একটু অদল-বদল করে নে।
তুই তো কারেন্টের তার চুরি করে পেট চালাতি।
তুই আবার এত কষ্ট করছিস!
এখন থেকে তোর সাথেই থাকব আর তোর উচ্ছিষ্ট খেয়ে বাঁচব।
-দে ব্যাগটা দে। -ঠিক আছে।
ওসব ডায়লগ দিয়ে আবার ব্যাগ নিচ্ছিস কেন?
এর মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা আছে।
লুঙ্গি, হাফপ্যান্ট আর টুথপেস্টের স্যাম্পল।
আর চার জোড়া ছেঁড়া জামাকাপড়।
মধ্যবিত্তের ব্যাগের খবর কি আর আমি জানি না?
তোর অটো চালানোতে কোনো দোষ নেই।
চল পুলিশ স্টেশনে যাই।
হ্যালো, এভাবে না।
জানি। নিজের কাজ করো।
এই প্রথম এলেন নাকি?
না। আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।
তিন বছর ধরে আসছি এখানে।
এই চার্চ তো গত বছর চালু হলো।
চুপ থাকো!
ওদের গান শোনো।
ওটা গান না, প্রার্থনা।
যাই হোক, আমি আমার প্রার্থনাটা করি।
তুমি যাও।
মিথ্যে কথা! চার্চে দাঁড়িয়ে মিথ্যে বললে--
দাঁড়া মা।
বাচ্চাদের কথা অনেক সময় সত্যি হয়।
আমার জীবনটা এমনিতেই ত্যানা হয়ে আছে।
আমি এখানে এসেছি...
ওই পরীর মতো মেয়েটার জন্য।
হেল্প করবে নাকি?
স্টেলা সিস্টার!
এই ছেলেটা তোমাকে লাভ করে!
এভাবে চিল্লাও কেন?
বেসি! মনে হচ্ছে ওই শ্রীনু আবার এসেছে।
চিন্তা কোরো না, স্টেলা। আমি দেখছি।
ইয়েস! আমরা যীশুর প্রেমকে বরণ করছি।
আর সেটাই সবার মাঝে বিলিয়ে দেব
এই প্রেমের গান দিয়ে!
বাহ! ঈশ্বরের প্রেম!
চলো গাই!
কি দারুণ বলল মেয়েটা।
আমিই শুধু বুঝলাম না।
চলো, লিলি, যেতে হবে।
ডাক্তার তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
যাও... যাও... ডাক্তার ওয়েট করছে।
-বাই। -বাই।
দাঁড়ান!
-ওর আবার ডাক্তারের দরকার কী? -রোজ চেক-আপ করাতে হয়।
ওর হার্টে সিরিয়াস সমস্যা আছে।
ছোটবেলা থেকেই ওর অবস্থা ক্রিটিক্যাল।
এই প্রার্থনাগুলো সব ফান্ড তোলার জন্য।
আজ যদি পর্যাপ্ত ফান্ড কালেক্ট হয়,
তবে পরের প্রেয়ারে ওকে সুস্থ দেখব।
বাচ্চাটার অপারেশনের জন্য এই তিন লাখ...
হয়ে যাবে, স্যার।
আপনার নাম আর ঠিকানাটা দিন।
ডোনার লিস্টে নামটা তুলে রাখব।
মানুষ আপনার এই সাহায্যের কথা জানবে।
-একটা ছবি নিন। -ঠিক আছে, স্যার।
এই ছবিটা হোর্ডিং-এ ছাপান আর সারা হায়দ্রাবাদে ছড়িয়ে দিন।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল করে দেন।
সিএম-পিএম সবাইকে ফোন লাগান, খাবারের ব্যবস্থা করুন, স্পেশাল কিছু হওয়া চাই।
স্যার, স্যার...
আর কী? টাকাটা মেয়েটাকে বাঁচাতে কাজে লাগান।
ওতেই হবে। আজকাল সবাই শুধু পাবলিসিটির পেছনে দৌড়ায়!
একশো টাকা দিয়ে হাজার টাকার প্রচার করা মানুষ অনেক দেখেছি।
ইনি এমন এক বিরল মানুষ যিনি রসিদ ছাড়াই লাখ টাকা দান করে গেলেন।
সত্যিই উনি আলাদা।
ওনার ছবিটা দেখাবেন প্লিজ?
তুমি ওভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
তুমি বুঝবে না।
উনি কোনদিকে গেলেন দেখেছ?
বল এবার। কেসটা কী?
স্যার, এই কেস আমার জন্মের আগে শুরু হয়েছে।
আমার দাদিমা সারাদিন জমিদার আর রাজপ্রাসাদের গপ্পো মারে।
আমি শিওর না।
বস।
ব্যাগে টাকাটা আছে তো?
নির্দ্বিধায় সব বলে দে
আর ফাইলটা ওনার হাতে দে।
এই লোকটা গঙ্গারাজু। আমার দাদুর কাছে কাজ করত।
ইনি পবিত্র গয়নার সিন্দুক
আর দেবীর সব অলঙ্কার চুরি করেছে।
যাওয়ার আগে দাদু চিঠিতে লিখে গিয়েছিলেন,
চোরকে ধরে ওই গয়না উদ্ধার না করা পর্যন্ত
উনি আর বাড়ি ফিরবেন না।
সেই যে গেলেন, আর ফিরে আসেননি।
ওনার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে,
চিন্তায় দাদিমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এত বছর পর,
আমি জানতে পারলাম আমার দাদু আপনার স্টেশনের আশেপাশেই আছেন।
তাই আমি কমপ্লপ্লেইন ফাইল করতে এলাম।
ঠিক আছে।
আমি সব স্টেশনে এই ছবি পাঠিয়ে দিচ্ছি
আর সার্চ শুরু করছি।
কে হতে পারে ছেলেটা?
-তুই এখনো ওর কথা ভাবছিস? -সে আমার সাথে হাঁটবে,
-আগুনের ওপর দিয়ে। -সে আমার সাথে আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটবে!
সে আমাদের সাহায্য করেছে। তোকে প্রেম নিবেদন করেনি।
এই, স্যান্ডি!
কী হলো?
আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো কানেকশন আছে।
হয়তো গত জন্মের?
ওই দেখ চার্চের ঘণ্টা বাজছে!
ওটা এখানকার না রে...
ওটা ইতালির ঘণ্টা।
একমাত্র ওখানেই এখন ঘণ্টা বাজে, তাই না?
ওরা আমাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে।
বেসি,
তুই নান হতে চলেছিস। তুই একজন সেবিকা।
আমি জানি।
আমি এতিম।
আমার কেউ নেই বলেই এই পথ বেছে নিয়েছিলাম।
কিন্তু ঈশ্বর আমাকে বারবার বলছে যে আমার সোলমেট এখানেই আছে।
বেশ। দেখা যাক।
কাল যদি সে চার্চে ফিরে আসে, তবে মেনে নেব তুই ঠিক।
-আর যদি না আসে? -তবে এই টপিক এখানেই শেষ।
দেখলি? চেন্নাই থেকে সিগন্যাল এসেছে
সব শেষ করার জন্য।
না রে, এটা বাইকের আওয়াজ।
হোন্ডা বাইকে চেপে হিরোর মতো এন্ট্রি নিচ্ছে, শুধু আমার জন্য!
বেসি!
পাপ স্বীকার করার বুথ তো খালি।
কোথায় যাচ্ছিস?
যাই, কয়েকটা পাপের কথা শুনে আসি।
স্টেলা নামের মেয়েটা কোথায়?
স্যার, মেয়েটা...?
আপনার যা কিছু জানার বা স্বীকার করার আছে, সব ওখানে গিয়ে বলুন।
ওহ, এটা ইনকোয়ারি কাউন্টার?
বলুন... আপনি কী পাপ করেছেন?
গলাটা তো আমার পরীর মতো ডার্লিংয়ের।
দেখা যাক।
আপনি এখানে পাপ স্বীকার করে প্রায়শ্চিত্ত করতে এসেছেন।
পর্দা তুলে নতুন করে পাপ করতে আসেননি।
কিসের পাপ আর ক্রাইম ম্যাডাম? আমি তো শুধু ভালোবেসেছি।
প্রেমে পড়ার পর আপনি কী করেছেন?
খারাপ কথা শুনিয়েছেন?
-নাকি মদ খেয়ে মারধর করেছেন-- -আরে থামেন, থামেন!
একটু শান্ত হবেন প্লিজ?
মেয়েটার সাথে ভালো করে কথাই হলো না,
আর আপনি বলছেন আমি ওকে কষ্ট দিচ্ছি।
আপনি এখানে কী স্বীকার করতে চেয়েছিলেন?
স্বীকার করতে না...
দেখতে চেয়েছিলাম...
আউচ! লাগছে তো।
লাগবে না! আপনাকে স্কেল দিয়ে বাড়ি দিচ্ছি,
দীপিকার সাথে সেটিং করাচ্ছি না!
বাহ! ঈশ্বরের ঘরে দাঁড়িয়ে খোঁচা মারা হচ্ছে?
উনিই আমার পারফেক্ট ম্যাচ।
আপনি এখানে আপনার ভালোবাসার মানুষের কথা বলতে এসেছেন,
অন্য মেয়েদের দিকে নজর দিতে না।
মানে, আমি চেক করছিলাম ভেতরের ভদ্রমহিলা আমার প্রেমিকা কি না।
ওসব আগে বাদ দিন।
গতকাল আমি আমার ডার্লিংকে দেখেছিলাম।
আজ যদি আবার দেখা পাই,
তবে বলে দেব, "আই লাভ ইউ, ডার্লিং।
আপনিও যদি রাজি থাকেন,
তবে পবিত্র গয়নার বাক্স খুঁজে পেলেই আমরা বিয়ে করব।"
এই কথাটা তো আগে বলবেন।
আমি আপনার কষ্টটা বুঝেছি।
এটা প্রেম, কোনো পাপ না।
আমি প্রার্থনা করছি। চোখ বন্ধ করুন।
বাজনা থামা!
তুই দাদুকে খুঁজতে এসেছিস,
কিন্তু থানায় টাকাটা জমা না দিয়ে,
চার্চে গিয়ে ওই মেয়েটাকে টাকা দান করে এলি কেন?
আমার জীবনের কি কোনো দাম নেই রে?
আপনার তো কেউ নেই! মরলেই কী আর বাঁচলেই কী!
এই ডেকোরেশন আর আয়োজন দেখেন।
মানুষ দেখলে আমাদের গায়ে থুতু দেবে!
ভেতরে ভগবান কৃষ্ণ বসে আছেন।
আর বাইরে এসব ক্রিসমাস পার্টি কেন?
এসব আমাদের জন্য না, স্টেলা ডার্লিংয়ের জন্য।
আজ সকালে চার্চে দেখেছি ওকে, দেখতে পুরো আগুনের গোলা।
এই ডেকোরেশন দেখে যদি পটে যায়, তবে প্রেমে পড়েও যেতে পারে।
ইনস্টাগ্রামের এসব ফালতু আইডিয়া কে দেয় রে তোকে?
ওহ, তুই দিয়েছিস!
লাইন মারতে পারলে ভালো, না পারলে নাই!
-হ্যালো? -এটা কি রাজু?
হ্যাঁ। ব্যাংক লোন, হোম লোন নাকি ক্রেডিট কার্ড?
আমাদের কাছে সব আছে। কিস্তি কি নিবেন নাকি?
কে রে তুই? এত বকবক করছিস!
আমি দিব্যি 'এঞ্জেল' মুডে ছিলাম, আর তুই সব মাটি করে দিলি!
আমি বেসি!
যে তোর দাদুর নামে চিটিং কেস ফাইল করেছে।
আমার দাদু?
তুই দেখেছিস ওনাকে?
কখন, কোথায়, কীভাবে দেখলি?
বাহ, সাধু সাজা হচ্ছে! কিছুই জানিস না।
আমি চিটিং কেস দিলাম,
আর ওনাকে বাঁচাতে তুই নিখোঁজ ডায়েরি করলি।
ম্যাডাম, আমি তেলুগু ছেলে।
তামিলে কথা বললে কিছুই বুঝব না।
আমার দাদুর নামে কিসের চিটিং কেস?
মার্চের ১২ তারিখ,
মেয়েটার হার্ট অপারেশনের জন্য আমি সেন্ট জর্জ হসপিটালে গিয়েছিলাম।
সেখানে তোর দাদুর সাথে আমার দেখা হয়।
এক্সকিউজ মি, স্যার!
স্যার, লাইনটা অনেক লম্বা।
কিছু মনে না করলে, আমি কি এখানে দাঁড়িয়ে বিলটা দেব?
বাচ্চাটার অপারেশন আজই করতে হবে, দেরি করা যাবে না।
টাকাটা দিন।
আমি দিয়ে দিচ্ছি।
আমাকে সাহায্য করতে দিন।
আমি আমার টাকা মিলিয়ে জমা করে দেব।
দিন আমার কাছে।
আমাকে দিন।
উনি আমাকে ধোঁকা দিয়ে, টাকাটা নিয়ে গায়েব হয়ে গেছেন।
যদি বিশ্বাস না হয়,
ওয়েস্ট মারেডপল্লী থানায় যা। ওরাই তোকে সব বলবে।
দাদিমা...
রাজা সাব ফোনে আছেন।
-কী? -রাজা সাব ফোনে আছেন।
রাজু, খোঁজ পেলি ওনার?
খোঁজ তো পাবই।
আমার কিছু তথ্য দরকার।
দাদু কি কোনো চুরির সাথে জড়িত ছিল?
অসম্ভব, এসব কী বলছিস তুই?
উনি কনকরাজু...
গরিবের মা-বাপ।
চোখে কারো জল দেখলে,
উনি ভিটেমাটির সোনাদানা বেচে
সেটা দান করে দিতেন।
তাইলে দাদু চোর হতে পারে না।
শুভ সময় বললেন, তাহলে এই বেসি ফোন করছে কেন?
কেটে দেন।
কেটে দিলেই কি আমি চুপ থাকব?
আমি ট্রাই করতেই থাকব।
দাঁড়া!
-ভালো খবরও তো হতে পারে। দেখি। -এই!
এই মেয়ে...
আমি চিটিং কেস ফাইল করছি।
চিটিং কেসের কথা বলছে রে...
হ্যাঁ! আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি।
তিন লাখ টাকা দিলে ভালো।
নাহলে, আমি এই মুহূর্তেই কেস ফাইল করে দেব।
জানতাম উল্টাপাল্টা বকবক করবে, তাই ফোন ধরছিলাম না।
তা অবশ্য ঠিক।
সিআই ফোন করছে।
মনে হয় বাক্স খুলে দেখেছে টাকা নেই।
ধরা খেয়ে গেছি! এখন কী বলব?
আগে শুনি উনি কী বলেন।
আমার ফোন ধরলি কেন?
আপনি আমারটা ধরছিলেন কেন?
কিসের এত ফিসফিসানি?
আপনার সাথে কথা বলতে আমার কিসের ভয়, স্যার?
ভয় নেই বলেই,
পাঁচ লাখ দেব বলে মাত্র দুই লাখ দিলি?
স্যার, প্লিজ ভুল বুঝবেন না--
নাটক বন্ধ কর, যাত্রা পার্টির দল।
পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিন লাখ টাকা নিয়ে দুজনই এখানে হাজির হবি।
নাহলে,
পুলিশ কিন্তু অন্য অফিসারকে কিডন্যাপ করে, আচ্ছা মতো পিটিয়ে,
পেছনে মরিচের গুঁড়া ডলে দেবে।
এ তো আমাকে মেরে ফেলবে রে ভাই!
এই জায়গা নিয়ে কী যেন বলছিলেন?
খাইছে! বোস।
এক্সকিউজ মি!
এক কোটি।
লক্ষ্মী... রয়...
আমি আপনাকে কখন আসতে বললাম?
তিন দিন হয়ে গেল, কোনো ফোন নেই, কিচ্ছু নেই।
হুট করে এক কোটি টাকা নিয়ে হাজির হওয়ার মানে কী?
মশকরা হচ্ছে?
আমাকে দেখে কী মনে হয়?
এই, মেয়েটাকে এভাবে বকছিস কেন?
কে এই মেয়ে, বল তো?
আমি কি জানি? কে আপনি ম্যাডাম?
কিসের ব্যাগ এটা? এক কোটি কেন? আমাকেই বা কেন?
ভুল করে কি আমাকে দিয়ে ফেললেন?
আমি গ্রামের রাজু।
-আমি ভৈরবী! -ওহ, নাইস!
আপনার দাদু যখন বেল্লারিতে কাজ করতেন,
তখন এক বিপদ থেকে আমার দাদুকে বাঁচিয়েছিলেন।
আমি সেই ঋণ শোধ করতে চাই।
আমি আপনাদের গ্রামে গিয়েছিলাম, জানলাম আপনি এখানে, তাই চলে এলাম।
আংকেল, দাদিমার কথাই সত্যি।
-বেসি আমাদের কনফিউজ করে দিয়েছিল। -হায় হায়।
এখন আবার ওর কথা মনে করলি কেন?
ম্যাডাম, ছোট্ট একটা রিকোয়েস্ট।
আমাকে যদি তিন লাখ টাকা দেন,
-আমি এক ঘন্টার মধ্যে দিয়ে দেব। -সরি!
দাদুর ইচ্ছে ছিল টাকাটা যেন সরাসরি আপনার দাদুর হাতেই দিই।
ম্যাডাম, আপনি মানে... দেবেন না...
আমি আপনাকে এক টাকাও দেব না।
বাবা, এর সমস্যাটা কী?
দেখে তো বেশ একগুঁয়ে মনে হচ্ছে।
একে তো মাড়োয়ারির মতো পটাতেও পারব না।
চল চুরি করি!
এই!
রাজু!
পরের ধনের ওপর লোভ করলে, ওদের দুর্ভাগ্য আমাদের ঘাড়ে চাপবে।
আমার এখন জ্ঞান শোনার টাইম নাই।
আমার এক্ষুনি তিন লাখ টাকা লাগবে।
ব্যাগটা দিবি? নাহলে কিন্তু কাড়াকাড়ি বেধে যাবে।
তিন লাখ চাস? আমি বলি কি পুরো টাকাটাই রেখে দে।
দে ওরে।
এরা তো দেখি ব্যাপারটা বুঝতেই পারছে না।
রাজু...
তুমি তোমার দাদুকে খুব ভালোবাসো, তাই না?
আমার দাদিমা, আমরা দুজন দুজনার।
আমি যাচ্ছি...
ওনার ইচ্ছা পূরণ করতে।
কেউ যদি বাধা দেয়...
এসো, চলো যাই।
রাজু!
থ্যাঙ্ক ইউ!
অনেক ধন্যবাদ!
আপনি যদি চান আমি ধন্যবাদ গ্রহণ করি...
তবে এভাবে বললে হবে না।
যখন একটা "ধন্যবাদ" হৃদয় থেকে উঠে,
গলা দিয়ে বেরিয়ে, ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছায়...
ইয়েস!
আমাকে নান হিসেবেই এগিয়ে যেতে হবে।
আমার ভালোবাসা যদি এদের মধ্যে থাকে,
সে আমাদের এভাবে দেখলে ঘৃণা করবে।
আপনি তো সেটাই চাইছেন, তাই না?
না না, আমি সেটা বোঝাতে চাইনি।
তাহলে কী? মানুষ তো হ্যান্ডশেক করে ধন্যবাদ জানায়।
আপনি যদি আমার ঘাড়ে এসে পড়েন, আমার এঞ্জেল আমাকে নিয়ে কী ভাববে?
সরি!
-ওসব থাক। তিন লাখ টাকাটা দিন। -দোস্ত...
তোর এঞ্জেল এদের মধ্যে থাকবে কেন?
এরা নান না?
আমার ওসব জাতপাতের বাছবিচার নেই।
এক্সকিউজ মি, ম্যাডাম মেরি।
নানরা কি প্রেম বা বিয়ে করতে পারে?
না, বাবা। আমাদের জীবন সেবার জন্যই উৎসর্গ করা।
এটাই তো পয়েন্ট।
এই ড্রেসটা পরা হয় সবার চেয়ে আলাদা থাকার জন্য।
ও কি এতটাই সেনসিটিভ?
আপনি ওকে চেনেন না, ম্যাডাম।
কে জানে ও কীভাবে সামলাবে।
নানরা যে বিয়ে করে না
এই সাধারণ জ্ঞানটা না থাকা সত্ত্বেও,
কে আমাকে প্রেমে ফেলল?
আমি তো ডিপ্রেশনেও দিব্যি সুখে ছিলাম...
-হায় খোদা! -কে এনে দিল মদ?
তুই ছিলি?
নিজের মদ কেনারই টাকা নেই, অন্যকে খাওয়াব কী করে?
সে করেছে।
-এই! -এই!
এই, পুলিশের ডিউটিই ঠিকমতো করতে পারি না।
তোর গ্লাসে মদ ঢালতে যাব কোন দুঃখে?
যুক্তি আছে।
সরেন।
এসব কী, স্যার?
চুপচাপ আগুন লাগিয়ে দিয়ে,
এখন মুচকি মুচকি হাসা হচ্ছে?
মূর্তির সাথে কথা বলছে?
মাল পুরো আউট হয়ে গেছে!
কী হলো, স্যার?
আমি এদিকে কথা বলছি, আর আপনি অন্যদিকে তাকাচ্ছেন?
এই! অনেক তামাশা হয়েছে। গিয়ে ঘুমা। যা ভাগ।
কী সব আবোলতাবোল বকছেন?
হ্যাঁ রে ভাই। বলবই তো। কী করবি তুই?
আমরা আর কী করব? আপনি তো বড়মাপের মানুষ।
স্যার!
আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি যাই।
দাঁড়া, তুইই তো অটো নিয়ে চার্চ রোডে গিয়েছিলি, তাই না?
রাজু?
এঞ্জেল ডার্লিং...
এসব মিথ্যে না তো?
সকাল হলে এই সাদা শাড়ি গায়েব হয়ে যাবে না তো?
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাকে ছেড়ে যাবে না। প্রমিজ করো!
-আমি... -ভেবেছো মদ খেয়ে মাতলামি করছি?
পুরুষ মানুষ মদ খেলেই পেটের সব সত্যি কথা উগরে দেয়। বাকি সব ভুয়া।
আমি এখন "ফ্যাক্ট মোডে" আছি!
প্লিজ আমাকে ভালোবাসো...
প্রমিজ করো, তোমার জন্য জীবন দিয়ে দেব।
গুড মর্নিং, রাজু!
এঞ্জেল ডার্লিং। নেশা কাটানোর কফি।
গুড মর্নিং!
এই....
তুমি এখানে কী করছ?
আরে, আমার এঞ্জেল কোথায়?
কাল রাতে যে এঞ্জেল এসেছিল, ইনিই সেই এঞ্জেল।
মদের নেশায় বুদ হয়ে,
তোমার এঞ্জেলের সব ভালোবাসা তুমি এই মহিলার ওপর ঢেলে দিয়েছ...
একেবারে বুকিং দিয়ে ফেলেছ, বেবি ডার্লিং।
কী দিয়ে জানো?
লাভ বাইট দিয়ে!
আমাকে ভালোবাসো, তোমার জন্য আমি জান দিয়ে দেব।
ওহ মাই সুইট এঞ্জেল!
আমি তোমার সাথে অন্যায় করেছি গো।
ম্যাডাম, নেশার ঘোরে কামড়-টামড় দিয়ে ফেলেছি।
প্লিজ আমাকে মাফ করে দিন।
কাছে আসছেন কেন?
এখানে বসলেন কেন?
কোথায় আসছেন আপনি?
প্লিজ! আর কাছে আসবেন না।
আপনার মতলবটা কী?
কসম খেয়ে বলেছিলে, সারা জীবন আমার সাথে থাকবে।
নিজের সিলমোহরও বসিয়ে দিয়েছো।
আপনি কিন্তু বড্ড অসভ্য কথা বলছেন।
আর তুমি যেটা করলে সেটা খুব সভ্য?
বললাম না, ইনটেনশনালি করিনি!
যে কারণেই করে থাকো না কেন,
তুমিই আমার সোলমেট।
আমি ডিসিশন নিয়ে ফেলেছি।
তুমিও মনস্থির করে ফেলো।
আমি করব না!
ভৈরবী, তুই বুঝতে পারছিস তুই কী করছিস?
দাদু, আমি ওকেই ভালোবাসি।
ছেলেটা ভালো।
ওর কোনো ক্ষতি হওয়া উচিত না।
অনিতা।
দাদিমা!
দাদিমার কী হয়েছে?
এই! আগে বল তারপর কাঁদ।
উনি বলছিলেন দাদু নাকি স্বপ্নে এসে
কিছু একটা বলেছেন।
সকাল থেকে উনি শুধু ওটাই ভাবছিলেন
আর ফোন ফেলেই হায়দ্রাবাদ চলে গেছেন।
ধুর ছাই!
তুই না বলেছিলি ওনার খেয়াল রাখবি?
কখন বেরিয়েছেন উনি?
শুনলাম উনি নামপালি স্টেশনে নেমেছেন।
ট্রাভেল অফিস থেকে খবরটা পেলাম।
কোথায় তুমি দাদিমা? গ্রাম ছেড়ে কেন এলে তুমি?
ওকে আমার খালার বাড়িতে রেখে আসা উচিত ছিল।
বড় ভুল করে ফেলেছি!
এই, গাড়ি থামা।
কী হলো?
এটা তো দাদিমার ব্যাগ। ব্যাগটা যদি এখানে থাকে...
এই, খেলা চালিয়ে যা।
রাজু!
-একটা মেয়ে এসে... -থাক, ঠিক আছে।
-তোমার লাগেনি তো? চলো। -না।
ক্যারাটে।
কোন সাইড?
তোমার কোন সাইডটা বেশি কমফোর্টেবল?
হায় খোদা!
আপনি যখন আমার কমফোর্ট নিয়ে ভাবছেন,
বোঝাই যাচ্ছে আপনার কনফিডেন্স এখন আকাশে উড়ছে।
বাপরে কী ঘুষি!
-ওখানেই থাম। -বস?
জিজ্ঞেস কর আমি কেন লড়ছি না।
কেন, বস?
মেয়েরা যখন রান্না করে বা মারামারি করে,
মাঝখানে গেলে মার খেতে হয়।
ওভাবে তাকাচ্ছিস কেন?
ব্যাপারটা তো সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে।
আর টেনশন বাড়ছে।
তুমি আমাকে সাহায্য না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছ?
আমি আসার সাথে সাথেই তো বলতে পারতে।
ওরা দাদিমাকে আঘাত করার সাথে সাথেই
আমাকে রিংয়ে নামানো উচিত ছিল।
কে মা তুমি?
আমি আপনার নাতিকে... বিয়ে করতে চলেছি।
আশীর্বাদ করুন।
-এই মেয়ে আবার কমিটমেন্ট নিচ্ছে কেন? -সুখী হও মা।
যাক বাবা। আমার এঞ্জেল ডার্লিং এখানে নেই।
রাজু?
-আমাকে ফেলে তুই কোথায় গিয়েছিলি? -হাঁ?
তোর স্মৃতিশক্তি কি এতই দুর্বল যে আমাকেই ভুলে গেলি?
-তুমি... -হায় কপাল!
ওই ছেঁড়া ব্যাগ নিয়ে গ্রাম থেকে পালালে তুমি।
আর এখন দোষ দিচ্ছ আমাকে?
সত্যি?
তো...
আমরা দুজন মিলে... একসাথে... তোর দাদুকে খুঁজব?
কেন? যাতে কথায় কথায় আমি মারামারি করতে পারি?
না রে।
আমি তো ইদানীং মানুষকেও ভুলে যাচ্ছি।
যদি তোকেও ভুলে যাই?
দুই দিনের মধ্যে যদি দাদুকে খুঁজে না পাই,
তবে আমি আর তোমার নাতি নই!
রাজু! ইনি মিস্টার যোধা,
দাদুর ছবিতে তুই যাকে দেখেছিলি।
ভেতরে আয়।
বাবা, আমার কথাটা শোন।
এক মিনিট।
বাবা, ওই পবিত্র গয়নার সিন্দুকের সাথে আমার কোনো লেনদেন নেই।
ওই চুরির পেছনে ছিল তোর দাদু।
আমার দাদুর ব্যাপারে বাজে কথা বললে আমি আপনাকে কেটে ফেলব।
রাজু, প্লিজ উনাকে ছেড়ে দাও।
তুমি ওনার ব্যাপারে জানো না।
তুমি আমার দাদুকে আমার চেয়ে বেশি চেনো?
আমি কনকরাজুকে ধরতে তোমার কাছে এসেছিলাম
-যাতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারি। -কেন করবে তুমি এমন?
-আমার দাদু কি তাকে খুঁজছেন না? -বাছা!
একটু থামো।
দাঁড়াও।
আমাকে বলতে দাও।
তোমাদের এই দুরবস্থার কারণ হলো ওই লোকটা।
কোটি কোটি টাকা!
রাজকোষ!
বিশাল জমিদারি!
ওনার হুকুমের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রজা!
ওনার সব কেড়ে নিয়ে
স্বামী ফেরার অনন্ত অপেক্ষায় যাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে,
তোমরা যাকে সাধারণ দাদিমা গঙ্গাম্মা ভাবছ,
উনি কোনো সাধারণ নারী নন...
উনি গঙ্গা দেবী!
দেবনাগর রাজবংশের উত্তরাধিকারী।
জমিদার মা প্রসাদ বিতরণ করছেন। তাড়াতাড়ি আয়!
জানি না কার কুনজর পড়েছিল ওনার ওপর,
তবে উনি কনকরাজুর নজরে পড়েছিলেন,
যে মনে করত জীবনের চেয়ে টাকার দাম বেশি।
ম্যাডামের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাস কী করে?!
গঙ্গারাজু!
ক্ষুধার্ত ছিল ও। ছেড়ে দাও ওকে।
ও ভেবেছিল গরিব বলে আমরা ওকে মেরেছি।
ঠিক সেই মুহূর্তে,
ও ঠিক করল ওনাকেই বিয়ে করবে আর প্রাসাদের সব সম্পদ লুট করবে।
আমি তো শুধু ছুঁয়েছিলাম,
আর ওরা আমার রক্ত ঝরিয়ে দিল।
কিন্তু ও যদি আমাকে ছোঁয়?
আমি যদি ওনার রাজ্যের মালিক হই
আর রাজকোষের সব ধন চুরি করি?
প্রতিশোধের নেশায় ও নিজের জীবন বাজি রাখল।
ও গেল সেই বৈরাগীর খোঁজে,
যার এক দৃষ্টিতে সাধারণ মানুষও
বড় জাদুকর হয়ে উঠতে পারে।
সেই তান্ত্রিকের এলাকায় পা দিতেই,
শুরু হলো জীবজন্তুর বলি।
গুরুজি... আমি ওকেই চাই।
কেল্লা, গ্রাম, ধন-দৌলত আর সোনা
সব আমার হবে, শুধু একটা নারীর ইশারায়।
ওর মন চলবে আমার কথায়।
বৈরাগীকে দিয়ে কথা বলাতে হলে...
কী করতে হবে আমাকে?
তোকে রক্তের বলি দিতে হবে।
এটা পেতে হলে তোকে তোর শরীরের অঙ্গ দিতে হবে।
তুই পারবি না। চলে যা!
রক্তপিপাসু পিশাচেরা তোকে ছিঁড়ে খাবে।
এই দারিদ্র্যের মধ্যে...
বেঁচে থাকার চেয়ে,
নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে...
...মরে যাওয়াই ভালো।
হাজার ফুট গভীর কুয়োর মধ্যে,
মাটির নব্বই ফুট গভীরে...
ঘুটঘুটে অন্ধকারে
যেখানে মৃতেরা নিঃশ্বাস নেয়...
অদম্য জেদের জোরে,
সে তার লক্ষ্য পূরণ করল,
বর চাইল, আর কেল্লায় ফিরে এল।
গঙ্গা দেবী!
পূজা শেষ করে আমি তোমার জন্য প্রসাদ এনেছি।
এসে নিয়ে যাও।
গঙ্গা দেবী!
এসো বলছি।
ওর হাত থেকে ওই জাদুকরী প্রসাদ খেতে না খেতেই,
ওনার মন চলে গেল ওর দখলে।
এক মুহূর্তে ওনার জীবন বদলে গেল।
এক বছরের মধ্যে ও পুরো রাজকোষ খালি করে ফেলল,
দেবীর গয়না আর পঞ্চরত্ন হারের দায়িত্ব আমার হাতে দিচ্ছে
এমন নাটক সাজিয়ে,
আমাকে চোর বানিয়ে ও পালিয়ে গেল।
প্রাসাদের এই পতনের জন্য ওনার সিদ্ধান্তকে দায়ী করে,
ওনার নিজের লোকেরাই ওনাকে পাগল অপবাদ দিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিল।
পরে জেনেছিলাম উনি সাধারণ মানুষের মতো কোথাও দিন কাটাচ্ছেন।
আর নিজের ছেলেকেও হারিয়েছেন।
শুনলাম নাতিকে সাথে নিয়ে
উনি নাকি স্বামীর খোঁজ করছেন।
তাড়াতাড়ি ম্যাডাম! বাস ছেড়ে দিচ্ছে!
মা, রাজু ফোন করেছে।
রাজু?
দাদিমা!
তোর গলাটা অমন শোনাচ্ছে কেন?
জমিদার বংশে জন্ম নিয়ে,
এত কষ্ট তুমি সহ্য করলে কী করে?
কী হয়েছে?
কিছু না, মনটা একটু খারাপ।
মন খারাপ করিস না।
তুই তো মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে জন্মেছিস।
মা সবসময় আমাদের রক্ষা করবেন।
চলো, ভৈরবী।
ওই পাজি লোকটাকে আমি খুঁজে বের করবই, টেনেহিঁচড়ে দাদিমার পায়ে ফেলব
আর দাদিমাকে দেওয়া প্রতিটা কষ্টের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব।
বাবা, আমার কাছে একটা খবর আছে।
আমার লোকদের কাছে শুনেছিলাম,
ও নাকি নরসাপুরের জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল।
আমি নিজেও সেখানে গিয়েছিলাম।
পুরো জঙ্গল তন্নতন্ন করে খুঁজলাম, কিন্তু পেলাম না।
নরসাপুর জঙ্গল?
ওভাবে এক চোখ দিয়ে কী দেখছেন?
এই নে। এটা দিয়ে দেখ।
মনে হচ্ছে ওইদিকে একটা বাড়ি আছে।
রাজু!
শেষমেশ ওকে খুঁজে পেলে!
জঙ্গলের মাঝখানে আম্বানির বাড়ি?
বাইরে, ভেতরে, সাইজ আর ডিজাইনের কোনো আগামাথা নেই!
-এ কেমন আজব ব্যাপার? -প্রতারক কি আর সাধারণ হবে?
এই কনকরাজু!
বেরিয়ে আয়!
তুই আসবি, নাকি টেনে বের করব?
স্যার, আমাকে বাঁচান!
বেরিয়ে আয়!
টাকার জন্য একটা মেয়ের জীবন নিয়ে খেলেছিস।
বেরিয়ে আয়, কাপুরুষ কোথাকার!
-দরজা খোল! -কে আপনারা?
কথা কানে যায় না?
বেরিয়ে আয়!
প্লিজ আমাকে বাঁচান, স্যার!
টাকা! সোনা!
দেখে তো মনে হচ্ছে সেই পবিত্র গয়নার সিন্দুক।
থামুন!
থামুন!
না, ওটাতে হাত দেবেন না!
-পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন। -কে তুমি?
আমি ওয়ার্ড বয়।
আমি ভেতরেই ছিলাম। আপনি যখন ডাকছিলেন, আমি তখন চিৎকার করছিলাম।
আমি তো কিছুই শুনিনি।
এখান থেকে কিছুই শোনা যায় না।
এখনো আপনারা এই ধনসম্পদের লোভে এসেছেন বলেই,
-উনি আমাকে আটকানোর অনুমতি দিলেন। -অনুমতি দিলেন?
কোথায় আমার দাদু?
ডাকো ওনাকে।
ওহ! উনি আপনার দাদু?
ওনাকে কী করে ডাকব, স্যার?
-উনি তো আর বেঁচে নেই। -বেঁচে নেই মানে?!
বেঁচে নেই মানে?
না, স্যার।
হার্ট স্ট্রোকে এক সরকারি হাসপাতালে উনি মারা গেছেন।
ওরা আমাকে বলেছিল বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ওনাকে পুড়িয়ে ফেলতে।
আমি ওনার সব জিনিসপত্র নিয়ে নিলাম, যেন শ্বশুরবাড়ির যৌতুক!
আমি ওনার চিতাভস্ম লুকিয়ে রেখেছিলাম
যাতে কেউ খোঁজ নিতে এলে টাকা খসাতে পারি।
উনি ওই চিতাভস্ম দিয়েই আমাকে এখানে টেনে আনলেন।
আমাকে এখানে আটকে রেখে আমার জীবনটা জাহান্নাম বানিয়ে দিলেন।
মরে গিয়েও তোর জীবন জাহান্নাম বানাচ্ছে?
আমি বুঝতে পারছি না তুই সত্যি বলছিস না মিথ্যা।
একদম সত্যি কথা, স্যার।
এসব আমার দাদিমার সম্পত্তি।
আমিই এর উত্তরাধিকারী!
আমি সব নিয়ে যাব।
আংকেল, সব তোলো।
না, না, স্যার। করবেন না।
আমাদের মেরে ফেলবে রে ভাই।
প্লিজ, আমার কথা শুনুন! হায় খোদা!
স্যার! স্যার!
স্যার, ওনাকে বলুন হাত না দিতে।
আমি, পেকামেডালা কনকরাজু,
এতদ্বারা ঘোষণা করছি যে, এই মালিকানার দলিল আমার নিজের হাতে লেখা।
এই বাড়ি আমার শরীর, আর এই সম্পদ আমার প্রাণ।
এখানের সব কিছুতে আমার আত্মা মিশে আছে।
আমার মৃত্যুর পরেও, একমাত্র আমিই এর ভোগ দখল করব।
উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ যদি এসব দখল করতে আসে,
তবে আমার কৃতকর্মের সকল দায়ভার তাদের গ্রহণ করতে হবে।
বুঝলেন, স্যার?
উনি বলছেন উনি নাকি প্রতিটা পয়সা আঁকড়ে ধরে আছেন।
এসব ছুঁলে উনি কিন্তু আপনাদের ছাড়বেন না।
হতচ্ছাড়া বুড়ো!
মরার পরেও যদি তোর এত দেমাগ থাকে,
তবে ভাব আমি বেঁচে থাকতে কী করতে পারি।
এত কষ্ট করে আমি এখানে তোর প্যাঁচাল শুনতে আসিনি।
এসেছি আমার দাদিমার সম্পত্তি ফিরিয়ে নিতে।
দম থাকলে আটকে দেখা, পাজি বুড়ো!
রাজা সাব...
তুমি ভেবেছ তুমি আমাকে খুঁজে পেয়েছ?
তুমি তো নিজে এসে আমার জালে পা দিয়েছ।
আমার মৃত্যুর তিন দিন পর,
ওর ছায়াও আমার স্পর্শ পেয়েছে।
গঙ্গাম্মা!
তোর স্বামীর মৃত্যুর সময় এসে গেছে।
নাতিকে পাঠিয়ে দে।
তোর স্বামীকে বাঁচা।
উনি বলছিলেন দাদু নাকি স্বপ্নে এসে
কিছু একটা বলেছেন।
আর উনি হায়দ্রাবাদ চলে গেলেন।
আমিই তোমাকে ওনার কাছ থেকে সরিয়ে এনেছি।
মানুষ হিসেবে যা পারিনি, আত্মা হিসেবে আমি
তা সফল করতে চাই।
তাই আমি ঠিক করেছি,
তৃতীয় অমাবস্যাই হলো শুভ লগ্ন।
আমার দুনিয়ায় স্বাগতম, রাজা সাব!
হ্যাঁ, চাচা। বলো।
বিজি, কচু!
রাস্তা চওড়ার জন্য ওরা ঘাস কাটছিল, বসে বসে তাই দেখছিলাম!
টেন্ডার আমাদেরই হবে, তাতে হাজার টাকা ঘুষ লাগলেও দেব।
সাইকেল স্ট্যান্ডটা আমার চাই।
লড়াই করা মোরগের পোলাও এনেছি।
-দোস্ত, দরজা কই? -দরজা থাকার তো কথা না।
-বিকেলে তো ছিল। -ছিল।
একমাত্র আপনার দাদুর পারমিশন পেলেই দরজা দেখা যাবে।
-মানে! -হ্যাঁ!
এই বাড়িটা হলো মায়াবী মহলের মতো।
ইচ্ছেমতো ঢুকতে পারবেন...
কিন্তু বের হতে গেলে দাদুর পারমিশন লাগবে।
আমার বলা উচিত না,
আপনার দাদু কিন্তু পুরাই সাইকো ভূত।
এই, চুপ কর।
আমরা কি এখানেই থাকব?
সকালে আসার সময় একটা দরজা দেখেছিলাম।
চল আস্তে করে ওদিক দিয়ে কেটে পড়ি।
আয়।
দেখলি? কেমন সুড়সুড় করে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
কী সব বলছিল ব্যাটা?
পুলিশের সামনে ওয়ার্ড বয়ের কিসের জারিজুরি!
হায় হায়!
-আংকেল! -গেল রে!
লাইন ছাড়া ট্রেন চলে কীভাবে?
আমাকে টেনে সরাতে এক সেকেন্ড দেরি করলে...
দাদু তো আপনাকে টেনে ভেতরে নিয়ে যেত।
বাপরে!
শান্ত হোন। শুনেন ভাই
সামান্য কিছু জিনিস নিয়েছি বলে টেনে এনে কী টর্চারটাই না করল।
আর আপনি তো দাবি করছেন "উত্তরাধিকারী"
এখন থেকে আপনার ভবিষ্যৎ ওই লাইনেই চলবে...
এখন বেরোব কীভাবে?
শক্ত হোন, আংকেল।
ছাদে একটা ভাঙা হেলিকপ্টার দেখেছি।
আমাদের মধ্যে কেউ চালাতে জানলে,
-উড়ে পালিয়ে যেতে পারতাম! -আমি তো পারি না।
মানে চপার?
একটা ভিডিও দেখে নেব কীভাবে ওড়াতে হয়....
-তারপর ফুড়ুত! -দারুণ, আংকেল!
আমি একটা লুঙ্গি নিয়ে আসছি। ভেতরে আছে নাকি?
জাদুকরী আলমারিতে খোঁজ করে দেখেন।
তুমি আসো.. নাস্তা করবে?
-লুঙ্গি দিয়ে কী করবেন? -প্যান্ট পরেই তো আসতে পারতেন।
এখন ড্রেস চেঞ্জ করবেন কেন?
আরে বোকা!
উনি বোঝাতে চাইলেন, চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া
আমাদের আর কিচ্ছু করার নেই।
খাইছে! কোন খপ্পরে পড়লাম।
গঙ্গা...
আমি তোর কনকরাজু।
আমি মৃত্যুর সাথে লড়ছি!
জঙ্গলে অনাথের মতো পড়ে আছি।
পরের অমাবস্যায় তোকে আসতেই হবে।
আর আমাকে...
পুনর্জন্ম নিতে হবে।
চলে আয়!
আয়!
দাদিমা, ওটা স্বপ্ন।
সারাদিন ওনার কথা ভাবো, তাই স্বপ্ন দেখেছ।
নাতি রে!
দাদুকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আন।
হ্যাঁ, আমি চেষ্টা করছি।
আন্টি, ওনার খেয়াল রাখবেন।
অবশ্যই, রাজু।
আমাদের এখানে আটকে রেখে,
উনি দাদিমাকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন?
ওনার উদ্দেশ্য কী হতে পারে?
দাদিমার কাছে আর কী-ই বা আছে?
প্রাণটা ছাড়া।
আস্তে কথা বলুন।
ওনার দেয়ালেরও কান আছে!
শুনলেও উনি আসবেন কী করে?
উনি তো পাটাঞ্চেরু গেছেন, তাই না?
দাদিমা তো তাই বললেন?
ঠিক বলেছেন, আংকেল।
উনি উড়ে আসুক বা বাসে আসুক,
পাটাঞ্চেরু থেকে আসতে কম করে হলেও এক ঘণ্টা লাগবে।
ভাই আমার, এত প্যাঁচাল পেড়ো না তো।
এটা সিরিয়াস ব্যাপার।
চলো গয়নার বাক্সটা খুঁজে বের করি
আর দাদু আসার আগেই পালাই।
এর আবার কী হলো?
বুঝতে পারছি না এ মজা করছে না সিরিয়াস কথা বলছে।
ঠিক এই বাড়িটার মতো।
হায় খোদা!
আমরা এখানে এলাম কী করে, রাজু?
ঢুকলাম রাজকোষে আর বের হলাম শ্মশানে!
টাকা কোথায়?
তুই তো আমাদের আগে থেকেই এখানে।
বল কী করব।
আমি অনেক দিন ধরে আছি ঠিকই,
কিন্তু এখানে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
উনি সাইকোলজিক্যাল গেম খেলা শুরু করেছেন।
বৈকুণ্ঠধাম।
এটা সেই শ্মশান যেখানে আপনার দাদুকে পোড়ানো হয়েছিল।
আমাদের যখন এখানে এনেছে, নিশ্চয়ই কিছু বলতে চায়।
রাজু!
দাদু।
আসেন আপনাদের আলাপ করিয়ে দিই।
আলাপ করাবি?!
হাঁ করে না তাকিয়ে পালাও!
আআআআআআ!
আমাদের দিকেই আসছে!
ভয় পাচ্ছিস?
সর! সরে যা!
হে মা দুর্গা! আমাদের বাঁচাও মা!
বলেছিলে উনি দশ নম্বর বাসে পাটাঞ্চেরু গেছেন,
আর আসবেন না। এখন কী হলো?
আমি কি ভূতের শিডিউল জানি নাকি?
হায় হায়!
দাদু মনে হয় তার চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে। গিয়ে দ্যাখ তোরা!
আমার বুক চিরে আলো বেরোচ্ছে রে!
হায় খোদা!
এই!
ভৈরবী কোথায়?
দেখো...
আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে।
আমার শ্বাস-প্রশ্বাসও আটকে আসছে।
স্কিন এত চকচক করছে কেন?
সানস্ক্রিন মেখেছো নাকি?
মনে হচ্ছে ভাত খাওয়া কমিয়ে দিয়েছো।
-ওজনও কমেছে মনে হয়! -তেমন না।
টেনশনে বেশি মিষ্টি খেয়ে ফেলেছি।
উল্টো ৩০ গ্রাম বেড়ে গেছে।
কই?
আমি তো বুঝতে পারছি না।
এই ভূতুড়ে বাড়িতে রোমান্সের কী দরকার?
ভয় কাটাতে ও মুড শিফট করছে।
-তারপর? -এরপর ট্যাটু আঁকবে!
ট্যাটু?!
-আমরা বেরোচ্ছি। -হ্যাঁ! আমরা যাচ্ছি।
আমিও আসছি।
দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে
ট্রেন এসে আমাদের মেরে দিল।
এখন বলছ দড়ি বেয়ে দেয়াল টপকাতে।
যদি প্লেনের ধাক্কা খাই?
প্লেন এসে মারলে সমস্যা নাই!
এখানে থেকে দাদুর জন্য রুটি বানাও।
ঠিক বলেছিস। ভীতুর ডিম! সর, গাধা!
ইশ! আমার আগে যাওয়া উচিত ছিল।
তুই তো কনফিডেন্সের সাথে বলিসনি।
থ্যাংকস, বাবা।
-গিয়ে দেখ বেঁচে আছে কি না। -শ্রীনু!
হায় খোদা!
শ্রীনু!
এই, শ্রীনু!
তোর এই হাল কী করে হলো?
কী হলো রে ভাই?
ওটা তো শুধু দড়ি ছিল। কারেন্ট লাগল কী করে?
ওটা হাই-ভোল্টেজ তার ছিল।
ইলেকট্রিক ট্রেনের ওপরের তারগুলো।
ওগুলো দেখা যাচ্ছিল না।
কী হচ্ছে এই বাড়িতে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমরা এখানে শক খাচ্ছি,
আর কেউ একজন সরাসরি প্লাগ পয়েন্টে হাত দিচ্ছে।
কে হতে পারে?
মনে হচ্ছে ব্যাটা এখানে সংসার পেতেছে।
আমি তো ওকে ছেড়েই দিয়েছি। আমার কী দরকার?
তোমার দাদু কোথায়?
তুমি আমার দাদুকে চেনো কী করে?
সে আমাদের তিন লাখ টাকা মেরে দিয়েছে!
দাদু, কোটি কোটি টাকা থাকতে চুরি করতে গেলে কেন?
তোমরা ভেবেছ জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে আমাকে ধোঁকা দেবে?
এক্সকিউজ মি... এই পরীর গায়ে হাত দেবেন না।
মহাকাশে থাকলেও লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে
ভাঙা গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছে যাব।
-আর আপনি হলেন... -আমি আর.আই.পি (RIP)।
মেয়েদের আশার আলো।
চার্চে কেউ যদি মেয়েদের সাথে পাঙ্গা নেয়,
সোজা সাইজ করে বাক্সে ভরে ফেলি।
-এ তো RIP! -তো, সেদিন যে ফোন করে
টাকা চেয়েছিল...
সেটা আমি। বেসি।
বেসি? তুমি বেসি?
তুমি এমন সাধারণ পোশাকে কেন? তুমি নান না?
তোমাদের ড্রেস কোড নেই?
কে বলেছে আমি নান?
আমি একজন সেবিকা।
আমাদের ইউনিফর্ম প্রায় একই।
তার মানে... তুমি প্রেম, বিয়ে সব করতে পারো...
ঈশ্বরের কৃপায় বাচ্চাকাচ্চাও নিতে পারে।
কী? আমি তো জানতামই না!
তোকে পুড়িয়ে আমি...
আমাকে আর পোড়ানো যাবে না!
কোথায় গেল ওরা?
হায় খোদা! এত বড় রাজপ্রাসাদ থাকতেও তোমার টাকা চুরি করল?
হ্যাঁ! ছবির ওই লোকটাই।
এই! RIP এসেছে তোকে সাইজ করতে।
-প্রাসাদ বানানো
-আর ছবিতে লুকিয়ে থাকা চলবে না। -থাম, RIP।
-দম থাকলে সামনে আয়! -থাম না ভাই, প্লিজ!
সাহস থাকলে সামনে আয়! চ্যালেঞ্জ করছি তোকে!
ভাই, ডাকিস না! এসে মেরে ফেলবে তোকে।
শোনো, বেসি। আমার দাদু মারা গেছে।
মানে, ঠিক মরেনি...
ভূত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কাল থেকে আমাদের ওপর কী টর্চার চলছে!
রাতে যেহেতু জ্বালিয়েছে, ভেবেছিলাম
দিনে শান্ত থাকবে, তাই চেষ্টা করলাম...
দেখো! এই লোকটাকে ফ্রাই করে দিল।
বেসি আপু... ওর কথায় মন গলিও না।
ওর এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে।
যাই হোক, আমরা শুধু টাকা নিতে এসেছি।
লকার রুমটা কোনদিকে, আংকেল ব্রাদার?
আমি গিয়ে টাকা নিয়ে আসছি।
একটু আগেই তোকে বললাম না?
কাকে ভয় দেখাচ্ছিস, ভাই?
আপু ঈশ্বরের সন্তান। আর আমি চার্চের কবরস্থানের পাহারাদার।
টাকাগুলো ওই ঘরে আছে।
ভাই, ওই ঘরটা। চলো যাই।
তুমি কেন যাবে?
ওকে পাঠাও।
কনফিডেন্স তো উপচে পড়ছে।
একবার মার খেলে বুঝবে কত ধানে কত চাল।
মার খাব? ওই বুড়ো ভূতকে
পিষে চাটনি বানিয়ে ফেলব।
-চলো, বেসি। -এই প্লিজ!
থামবে তুমি?! মরতে চাইলে যেতে দেও!
আমরা সবাই মিলে কিচ্ছু করতে পারলাম না।
দেখি এই কফিন-ওয়ালা কী করতে পারে...
হায় হায়! দরজা তো লক হয়ে গেল।
আমি গিয়ে আটকাতেও পারব না।
তুমি এত দুঃখ পাচ্ছো কেন?
কে ওই মেয়েটা?
তোমার কী মনে হয়?
তুমি যার প্রেমে পড়েছিলে, সেই নান?
-আমি বলেছি নাকি? -আমি এমনটাই ভেবেছিলাম।
এভাবে ভাবা কি ঠিক না?
-ওকে বল এটা ওর ভুল, দোস্ত। -এটা ওরই ভুল।
-টাকার কথা শুনে ভেবেছিলাম, -ওয়াও!
কোনো কাঠের আলমারিতে পুরনো নোট পড়ে থাকবে।
বাপরে বাপ!
এ তো দেখছি...
অনন্ত পদ্মনাভ স্বামীর গুপ্তধন।
প্রিয় বেসি আপু!
এই দুটো বস্তা ধরো।
প্রিয় বেসি আপু!
মুক্তার হার! ভালো লাগছে?
কাসুলাপেরু নেকলেস! ভালো লাগছে?
লং নেকলেস! আমি পরে নিচ্ছি!
সোনার কোমরবন্ধনী!
পোঙ্গুনুরের রাজা! কেমন লাগছে আমাকে?
বেসি...
এই, RIP.
ওরা সাড়াশব্দ দিচ্ছে না কেন?
ভাই...
RIP ভাই!
ভাই!
ভাই...
ভাই!
ভাই! RIP ভাই!
ভাই! ভাই! ওঠো।
ভাই! ভাই! ওঠো!
ভাই, ওঠো!
ভাই!
ভাই!
তোমাকে বারণ করেছিলাম ভয় না পেতে আর আমাকে ভয় না দেখাতে?
-কী হয়েছে? -মেরে ফেলেছে ওকে।
-RIP ভাইকে মেরে ফেলেছে! -তার মানে RIP এখন রেস্ট ইন পিস?
বেসি আপু...
কিরে, তুই এখনো মরিসনি?
আমিও সেটাই ভেবেছিলাম।
আমি তো টপকায় গেছিলাম।
কফিনে প্রায় শুয়েই পড়েছিলাম।
ডাবল ডিমের ওমলেটের মতো ফাটানো হয়েছে আমাকে, আপু!
কে ছিল ওটা, ভাই? কোত্থেকে এল, আপু?
আমাদের ভাই-বোন ডাকবি না!
-সমস্যা কী? -আমার এসব পছন্দ না।
কী সব উল্টাপাল্টা বকবক করছো?
তুমি বুঝলি না
ঘরে গিয়ে রেস্ট নেও।
গরম পানি আছে। গিয়ে গোসল করো।
জাদুকরী আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে পরো।
-মানে-- -সোমবার নন-ভেজ চলবে তো?
-হ্যাঁ, অমলেট। কিন্তু... -তোমার জন্য ডাবল ডিম। যাও!
আমার কুসুম ছাড়া চাই।
তোর সাদা অংশটাও জুটবে না! যা!
মনে হচ্ছে ডিমটাই আমার কপালে নেই।
-চলো যাই। -এখন মজা বুঝবে!
তুমি বুঝতে পারছ তুমি কী করছ?
আমি ওর মুড ঠিক করার চেষ্টা করছি।
তোমার সাথে যেমন রোমান্স করেছিলাম, তেমন করলে কি চলবে?
-মেরে ফেলব! -তাই তো।
এইটুকুই?
অন্য কোনো মতলব নেই তো?
তোমার কি মনে হয় অন্য কিছু আছে?
একটু একটু মনে হয়।
এটা কি ভুল না?
এভাবে ভাবাটা ভুল, তাই না?
ঠিক আছে। মাঝে মাঝে এমন হয়।
রাতে তারা দেখব চলো।
প্রভু, আমাদের রক্ষা করো!
প্রভু, আমাদের বাঁচাও।
দয়া করো প্রভু, আমার হাত ধরে পথ দেখাও।
প্রভু, রক্ষা করো!
হ্যা?
বাঁচাও, যীশু!
ম্যাডাম বেসি!
-এই, চুপ। -তুমি?
তুমি কেন এসেছ?
আলিঙ্গন পেয়েও কি মন ভরেনি?
আস্তে কথা বলো! শুনলে চলে আসবে।
তোমার সাথে কথা বলে বুকের বোঝাটা একটু হালকা করতে চাই।
বোঝা তো সে বইছে!
তার সাথেই শেয়ার করো।
ধুর! এটা তোমাকে নিয়ে। তোমাকে আমার সমস্যাটা বুঝতে হবে।
দাদিমার কসম।
টাইমিং দেখেছ? মনে করলাম আর ফোন দিল।
হ্যালো?
তোর দাদু স্বপ্নে এসেছিল আর...
বলল উনি মৃত্যুর সাথে লড়ছেন?
-তোকেও একই কথা বলেছে? -না, তুমি বলেছ!
অন্তত একশবার এই এক স্বপ্নের কথা তুমি আমাকে শুনিয়েছ!
আর তোর দাদু?
কোথায় আর যাবে? উনি তো এখানেই আমার সাথে আছেন।
-কী হয়েছে? -আমার কপালটাই খারাপ!
যার কথাই মনে করছি সেই চলে আসছে।
কী বলছ তুমি?
গরম লাগছে না?
বাতাস নেই একদম।
পুরো ঘেমে গেছি।
কম্বলের নিচে আসবে আমার সাথে?
কী?
আজ বাঘে ছুঁলে ছুক, আমি আমার মনের কথা বলবই।
কেউ একজন আসছে।
তুমিও তাকাবে না, আমিও তাকাব না।
আমি বলতে চাই...
দাদু, জাস্ট দুই মিনিট।
খুব জরুরি একটা কথা।
প্লিজ, তোমার পায়ে পড়ি।
আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিচ্ছি।
তুমি চোখ বন্ধ করে শোনো।
-আমি তোমাকে ভালোবাসি।
চার্চে যাওয়ার পথে তোমাকে গান গাইতে দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
তার মানে সেদিন কনফেশন বক্সের উল্টো দিকে...
আমি। ওটা আমি ছিলাম।
তো, তুমি প্রার্থনা করেছিলে আমি যেন তোমার প্রেমে পড়ি?
হ্যাঁ। এভাবে তোমার হাত ধরে।
আমাকে এত ভালোবাসলে, ভৈরবীর কী হবে?
-সেটা... হায় ভগবান!
দাদু এখানে! হায় রে।
রাজু!
আমি, প্রভাস শ্রীনু।
ভাবলাম দাদু। বললি কেন যে তুই?
আমার কনটেন্ট আসার অপেক্ষায় ছিলাম।
মা...
-বলুন? -আমি ওকে ভৈরবীর কাছে পাঠিয়েছিলাম।
যখন ওকে বললাম তুমি নান আর বিয়ে করবে না,
বেচারা এক বোতল মদ গিলে ফেলল।
ভয় পাচ্ছিলাম, মনের দুঃখ মেটাতে না পারলে
যদি ওকে হারিয়ে ফেলি,
তাই আমি ভৈরবীকে অনুরোধ করি রাতে আসার জন্য।
এর মধ্যে ও মাতাল হয়ে গেল আর দুজন--
বন্ধুত্ব!
আমরা জাস্ট বন্ধু হয়েছি।
আর ট্যাটু?
-হায় কপাল!
-কী? -জোমাটোতে দুইটা লেগ পিস অর্ডার করেছি।
-খাবে নাকি? -ঠিক আছে।
-আমি আসছি। -উঁহুঁ... আমি নিয়ে আসছি।
ঠিক আছে। ভৈরবীকে কি আমাদের কথা বলবে?
বলব। সময় হলে।
ওকে বলব বাড়ির মালিক এসেছে, ঘর খালি করতে হবে।
কোনোভাবে ম্যানেজ করে দেব।
তো, তুমি কি... আমাকে পছন্দ করো?
করব না কেন?
আমি তো তোমার অনেক আগে থেকে প্রেমে পড়েছি।
কখন?
ওই দেখো চার্চের ঘণ্টা বাজছে! বারণ করছে তোমাকে না বলতে।
কোথায়? আমরা তো শুনতে পাচ্ছি না।
চেন্নাই বিচের পাশে যে নতুন চার্চ হয়েছে, সেখানে।
-কী বলছে? -গানের মধ্যেই সব বলবে।
ওহ!
দ্বিতীয় ভার্স বাকি আছে তো? ঠিক আছে।
যাই হোক...
-আমার একটা প্রশ্ন আছে। -কী প্রশ্ন?
মন খুলে বলো, এটা কি সত্যি নাকি না।
কত ধুলোবালি জমেছে! আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
থাক, লাগবে না।
তুমি তো রাজুকে আগে থেকেই চিনতে, তাই না?
বেসি! ভৈরবী!
ওই ঘরটা বরফের দেশে পরিণত হয়েছে, বেরিয়ে এসো।
চলো দেখি!
আমাদের ইন্টারেস্ট নাই। তুমিই দেখো তোমার ওই আজব দুনিয়া!
মনে হচ্ছে ওর পেটের সব কথা বের করে ফেলবে।
মেয়েরা এক জায়গায় বসলে পেটের কথা থাকে না।
তুমিই সেই নান যার প্রেমে রাজু পড়েছিল, তাই না?
বেসি আপু...
-কী হয়েছে? -ওইদিকে। রাজু...
দাদুর চেয়ারে বসার সাথে সাথেই,
ওর ওপর ভর হয়েছে।
এখন কী করব?
বেসি! তুমি এমন বাচ্চার মতো করছো কেন?
এসব নাটক করছে যাতে আমাদের কথায় ব্যাঘাত ঘটে।
ধরে ফেলেছে!
-দাদিমা ফোন করেছে। -ধুর! এখনই কেন?
দেখো ওর অস্কার লেভেলের অভিনয় এখনই বন্ধ হয়ে যাবে।
দাদিমা ফোন করেছে।
দাদিমা আবার কে?
ওনাকেই জিজ্ঞেস করো।
এই! তুমি এখন ফোন করেছ কেন?
আসলে... তোর দাদু আমার স্বপ্নে এসেছিল...
ওটা স্বপ্ন ছিল না, ওটাই সত্যি।
তার মানে...
উনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন--
এটাই সত্যি।
রাজু, তুমি এসব কী বলছো?
সত্যি বলছি, গঙ্গা!
রাজু, তুমি বুঝতে পারছো তুমি কী বলছো?
পরের অমাবস্যা পর্যন্তই তোমাদের এই খেলা চলবে।
তারপর সবকটাকে জ্যান্ত কবর দেব!
দাদিমা, আমার কথা শোনো।
আমি তো মজা করছিলাম...
উনি সুস্থ আছেন। সত্যি বলছি।
তুই সত্যি ওনাকে নিয়ে আসবি?
হ্যাঁ, আনব!
তুমি ভেবো না।
ওনার জন্য আমাকে কিছু একটা করতেই হবে।
কাউকে সাথে নিয়ে এসে এক্ষুনি এখান থেকে পালাতে হবে।
ভূত ধরে বা আত্মাকে বোতলে বন্দি করে এমন কাউকে চেনো?
আমি একজনকে চিনি।
ডক্টর পদ্মভূষণ।
এই দরজা... খুলবে না।
স্যার, আমার দাদু কি এতটাই ডেঞ্জারাস?
ঝাড়ফুঁক করা সাধারণ ওঝা উনি নন।
উনি একাধারে একজন ওঝা, সাইকোলজিস্ট আবার হিপনোজিস্ট।
উনি মাইন্ড গেম খেলছেন।
এখানকার সবকিছু, এই সম্মোহনী চক্র...
ইলুমিনাটি নকশা...
জিনিসপত্র, ছবি, এই বাড়ির স্থাপত্য...
সবকিছু এমনভাবে তৈরি যাতে তোমাকে হিপনোটাইজ করে
ঘোরের মধ্যে ফেলে দেওয়া যায়।
হিপনোটাইজ?
দাও আমার কাছে।
উনি তোমার চিন্তাশক্তি দখল করে নিয়েছেন
আর সেটাকে তালাবন্ধ করে দিয়েছেন।
আমরা কি পালাতে পারব না, স্যার?
নিশ্চয়ই।
পারবে।
তোমাকে সেলফ-হিপনোটাইজ করতে হবে।
কল্পনায় একটা আলাদা জগত তৈরি করো,
চিন্তাগুলোকে সেখানে রাখো আর এখানে ওনার মুখোমুখি হও।
কাজটা সহজ নয়। চলো চেষ্টা করি।
যেখানে যেতে চাও, মনের মধ্যে সেটার ছবি গেঁথে নাও।
স্যার...
আমার অনেক দিনের স্বপ্ন...
সমুদ্রের পাড়ে বসে ঝিনুক থেকে মুক্তো কুড়োচ্ছি, স্যার।
কাকে দেবে ওগুলো?
স্যার আমাকে কল্পনা করতে বলছেন যে আমি কুড়োচ্ছি।
মুক্তোর নাম নিলেই এরা পিছনে লাগে!
টেনশনে আমি মরে গেলাম, স্যার। প্লিজ আমাকে ঘোরের মধ্যে পাঠান!
এবার চোখ বন্ধ করো।
বুক ভরে শ্বাস নাও।
তোমার সব চিন্তা থেমে গেছে।
তোমার মগজ এখন শুধু আমার নির্দেশ মানছে।
আমার গলা ছাড়া তুমি আর কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছ না।
বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ...
তোমার কানে আসছে।
চোখ খুলে দেখো।
তোমার প্রিয় নীল সমুদ্র তোমার চোখের সামনে।
বালির ওপর দিয়ে তুমি হাঁটছ।
এ কী? আমার হাতে লেবু কেন?
রাজু!
এই শব্দের দিকে মনোযোগ দাও।
বাতাসের গর্জন, রাজু!
রক্ত!
-রক্ত! -ওটা জল, রাজু!
-প্রাসাদ। -না, ওটা সমুদ্র!
-রক্ত! -না! জল!
তুমি শুধু আমার গলা শুনতে পাচ্ছ, রাজু!
আমি মন্ত্র শুনতে পাচ্ছি... ভেতর থেকে।
না, না, রাজু! প্লিজ যেও না!
নীল সমুদ্র... আর মুক্তো, রাজু!
রাজু, ফিরে এসো!
যেও না! রাজু, না... কথা বলো!
যেও না রাজু... রাজু!
রাজু...
রাজুকে নিজের বশে নিয়ে নিয়েছে।
কিরে, চলে এলি যে?
সর্বনাশ হয়ে গেছে! সব কটাকে মেরে ফেলল...
-কাকে... কাকে মারল? -কী হয়েছে?
দাদু একজনের বুকের ওপর বসে গলা কেটে ফেলল। হায় খোদা!
তাই বলে তুই ভয়ে পালিয়ে এলি?
আরেকটু দাঁড়িয়ে দেখা উচিত ছিল কে মরল আর কেন মরল।
আসেন, বসেন। একে পাঠান, স্যার।
গলা কাটা খেয়ে কুয়োয় পড়ুক।
আপদ বিদায় হোক!
কী হলো? তুমি তো ঘরের কথা বলছিলে।
ঘরই তো, স্যার। ওটার ভেতরে একটা কুয়া আছে।
-দেখাও আমাকে। -সাধ করে বিপদে পড়বেন কেন, স্যার?
আমি জানতে চাই তোমাকে হিপনোটাইজ করা হয়েছিল নাকি হ্যালুসিনেশন ছিল?
স্যার, এটাই সেই জায়গা। এই সেই ফালতু কুয়া।
এখানেই দাদুকে দেখলাম চারজনের গলা কাটতে।
জোর করে আমাকে এখানে আনলেন।
এটা এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ, স্যার।
দড়িটা টানো।
-চলো সাইডে দাঁড়াই। -ধরো।
হেইয়ো! তোলো!
হেইয়ো! তোলো!
হেইয়ো! তোলো!
এর মধ্যে কী আছে, স্যার?
মানুষের শরীরে একটা দৈব শক্তি আছে...
লুকানো শক্তির কেন্দ্রবিন্দু, যাকে বলে সহস্র চক্র।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অশুভ শক্তিকে জয় করতে...
বলা হয়...
মানুষ তার চিন্তাশক্তি আর এই চক্র দিয়ে তাদের ধ্বংস করতে পারে।
কিন্তু জাগিয়ে তুলতে হলে
এই শক্তিশালী চক্রগুলোকে,
হয় জন্মজন্মান্তর ধরে যোগ সাধনা করতে হবে,
অথবা জয় করতে হবে
নিজের ভেতরের অনুভূতির মাধ্যমে।
ভেতরের অনুভূতি?
ইমোশন।
প্রেম, ঘৃণা, বেদনা আর আনন্দে পুরোপুরি ডুবে যেতে হবে।
মস্তিষ্কের চিন্তাকে হৃদয়ের সাথে এক করতে হবে।
শরীরের প্রতিটা কণা যদি
এই আবেগের মধ্যে মিশে যেতে পারে...
স্যার...
ডক্টর পদ্মভূষণের এমন অবস্থা হবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।
যাক বাবা, উনি বেঁচে আছেন।
জানি না, রাজু।
তুমি সাথে আছ বলে খুশি হব,
নাকি তোমার দাদুর পাল্লায় পড়েছি বলে দুঃখ পাব?
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
আগে খুশি হও যে আমরা একসাথে আছি।
-ভৈরবী... -হাত সরাও!
ওই হাত দিয়ে আমাকে ছোঁবে না।
অবহেলা।
ভালোবাসি বলে আমাকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড নিচ্ছ।
কাঁদলে কিন্তু কাজল লেপ্টে যাবে।
একদম কথা বলবে না।
আমার চোখের ব্যাপারে কথা বলার অধিকার তোমার নেই।
ভুল করলে তুমি,
আর সবার সামনে
খারাপ বানালে আমাকে।
ভৈরবী, আসলে আমরা--
তুমি এই ছেলেকে চেনো না, বেসি।
নেশার বাহানায় ও ঘাড়ে কামড় দেয়।
লাভ বাইট দেয় আর মনের ভেতর দাগ কেটে যায়।
কী?!
তুমি ওকে লাভ বাইট দিয়েছ?
আমি? আমি এমন করব?
আরে! আমার পাশে শুয়ে সব করে এখন সাধু সাজা হচ্ছে?
হ্যাঁ অথবা না বলো।
বলো!
হ্যাঁ।
হ্যাঁ, দিয়েছি!
এখান থেকে পালানোর একটা চরম বুদ্ধি পেয়েছি!
-কীভাবে? -কীভাবে?
তোরা কোত্থেকে উদয় হলি?
ভাই! তোমরা যখন গাড়ির বনেটের ওপর
-জড়িয়ে ধরেছিলে তখন থেকেই আছি। -আমরা আছি!
যাই হোক।
ডক্টর পদ্মভূষণ যেমনটা বলেছিলেন,
মনের লোকেশন চেঞ্জ করে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাব।
মনে করো আমরা টাইটানিক জাহাজে আছি, চলো ওভাবেই বেরিয়ে যাই।
কিসব বলছো তুমি?
স্যার যেমন বলেছিলেন, চলো সেলফ-হিপনোটাইজ হই
-আর ঘোরের মধ্যে চলে যাই। -টাইটানিক তো ডুবে গিয়েছিল।
-অন্য জাহাজ ধরি চলেন।
জাহাজ চলছে আর তোর ফালতু প্যাঁচাল বন্ধ হচ্ছে না?
একটা জ্যাক, দুইটা রোজ... চলেছি সাগর ভ্রমণে
এই ঘোরের মধ্যেই থাক। আমি তোমাদের গেট পার করিয়ে দিচ্ছি।
কাছে এসে গেছি!
গেটের একদম কাছে!
এই তো চলে এসেছি।
গেট এসে গেছে।
লোহা এত নরম কেন?
অনিতা! তুই এখানে কী করোস?
আয়, আমাদের সাথে আয়। আমরা টাইটানিকে যাচ্ছি।
এই!
আমাকে কি ওদের মতো গাধা পেয়েছিস?
আরে! এখানে কী হচ্ছে তুই জানিস না।
আমি সব জেনেই এখানে এসেছি।
তোর সাথে প্রাইভেটে কথা আছে।
প্রাইভেট?
প্রাইভেট...
বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা মারা ছাড়া আবার কিসের প্রাইভেট?
না।
আমার প্রেমের ব্যাপারে।
এখানে যে কেল্লা বানিয়েছিস সেটা নিয়ে।
এই ভাঙা প্রাসাদ সামলাতেই জান বের হয়ে যাচ্ছে।
আবার নতুন কেল্লা এল কোত্থেকে?
নতুন না। শুরু থেকেই ছিল।
তুই আমাকে জাস্ট ফ্রেন্ড ভেবেছিস।
কিন্তু আমি তোকে ভালোবেসেছি।
এটা ধর।
এই!
এই! এই! এই! এই! এই!
-এই! -হ্যাঁ।
আমার গাল টিপে দিয়েছিস, জড়িয়ে ধরেছিস।
বউয়ের মতো আমার যত্ন নিয়েছিস।
এরপরও আমি এটাকে প্রেম বলব না?
ব্যবহার দেখে কি মনে হয় না আমাদের মধ্যে প্রেম আছে?
আছে নাকি?
-ও তো প্রেমই করেছে। -করবে না কেন!
ও ঠিক করবে ও কাকে চায়।
বারণ করেছিলাম ডুবন্ত টাইটানিকে না উঠতে। শুনেছেন কথা?
এখন দেখো ঠেলা!
ছেলেরা, ঘোরের মধ্যে সাঁতার কাটো আর পালাও।
বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে... সবকিছুর প্রমিজ করে,
আমাদের তিনজনকে নিয়ে খেললে কেন?
-কাকে চাও তুমি? -সত্যি কথাটা বলো!
এখন যা খুশি তাই বলে নাও।
আমার সরলতার সুযোগ নিচ্ছ।
আমার লোকদের সামনে বলো তো দেখি।
তোমার লোক? কারা তারা?
আমি কি জানি? কারা তোরা?
চোর হলে নিজের কাজ কর।
দাদু যদি পারমিশন দেয়,
আমাকেও বস্তায় ভরে নিয়ে যা।
তোদের সাথে গেলে অন্তত শান্তি পাব।
ভাই!
ওরা আমাদের ভাইদের মেরে ফেলেছে!
গলা কেটে মুণ্ডুগুলো কুয়োয় ফেলে দিয়েছে।
ওরা কি তোদের লোক ছিল? দাদু ওদের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
সবকটাকে মেরে পূজা সেরে ফেলেছে।
কিরে ভাই? প্রতিশোধ নিবি?
সে আর বেঁচে নেই। অনেক আগেই মরে ভূত হয়ে গেছে।
আমার ভাইদের খুনিদের আত্মীয়দের কেন ছেড়ে দেব?
তোরা সবকটাকে শেষ করে দে!
এই!
-কুপিয়ে দে! -এই!
এই দরজা... খুলবে না।
এই!
কী সমস্যা তোর?
আমিই তোর ভাইদের মেরেছি।
আমি কি পিঁপড়ে যে গর্তে হাত দিলেই কামড় দেব?
আমি পিশাচ!
বিন্দুমাত্র না ভেবে আমি ওদের নির্মমভাবে কুপিয়েছি।
তো কী করবি এখন?
এই, জান নিয়ে পালা।
কোথায় ও?
দাদু তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে?
তোমরা ঠিক আছো তো?
কেন এত বড় রিস্ক নিলে?
তোমার কিছু হলে আমি সইতে পারতাম না।
কী? তুমি মানে, আমরা?
মানে, আমি?
ক্লিয়ার করে বলো। আমাকে বললে?
সাউন্ড...
মিউজিক! রিমিক্স!
আমরা বিশ্বাস করি না!
প্রাসাদে মিউজিক বাজে বিশ্বাস করো না?
দরজা খুলে দেখাচ্ছি। চলো!
-ভৈরবী! -দাদু...
রাজু তোমার সাথে কথা বলবে।
দাও। বলো, বাবা।
আমার দাদু মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
দাদিমাকে এক্ষুনি নরসাপুরের জঙ্গলে নিয়ে এসো।
আচ্ছা, ঠিক আছে।
স্বামী...
এ কিসের অশুভ লক্ষণ?
আমি কী পাপ করেছি?
বিপজ্জনক কিছু ঘটতে চলেছে।
কারণ ছাড়া মা এমন করেন না।
বিপদের মোকাবিলা করার মতো...
আর কোনো শক্তি বা ধৈর্য আমার নেই।
মা গো!
আমাকে আমার স্বামীকে দেখতে দাও।
আমার প্রাণ থাকতে ওনাকে ফিরিয়ে দাও মা।
দাদিমার ছবি দিয়ে কী করছে?
হ্যালো?
কাল রাতে তুমি যেমনটা বলেছিলে আমরা তোমার দাদিমার বাড়িতে এসেছি...
দাঁড়ান...কী?
-আমি কখন বললাম? -তুমিই তো বললে,
"আমার দাদু মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
উনি তোমাদের সবাইকে দেখতে চেয়েছেন।
প্লিজ দাদিমাকে নিয়ে এসো।"
আমার দাদু তো অনেক আগেই মারা গেছে।
এসব ওনার চাল!
আমার দাদিমাকে আপনি কী বলেছেন?
তুমি এখানে কেন এসেছ?
কেন এসেছ তুমি?
আমার স্বামীকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছ।
আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছ।
-কেন এসেছ এখানে? -ম্যাডাম!
বললেও আপনি বিশ্বাস করবেন না।
আমার সাথে আসুন।
কনকরাজু মৃত্যুশয্যায়।
-উনি আপনাকে দেখতে চেয়েছেন। -এই!
আমি বিশ্বাস করি না।
সব মিথ্যা কথা। এটা সত্যি হতে পারে না। মিথ্যা।
রাজা আমাকে বলেছে, ম্যাডাম।
-আসুন আমার সাথে। -হায় ভগবান!
আমি বুঝতে পারছি না কী করব।
স্বামী, আমি আসছি।
তোমার কিছু হবে না।
তোমার পরানো এই মঙ্গলসূত্রটার দিকে তাকাও।
তুমি বলেছিলে এটা যতক্ষণ আছে ততক্ষণ আমাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।
আমার দিকে তাকাও।
আমি তোমার গঙ্গাম্মা... তুমি সবসময় আমাকে গঙ্গা ডাকতে।
তোমাকে বাঁচাতে আমি সব করব। আমি তোমাকে বাঁচাব! আমি আসছি!
আমি আসছি তোমার কাছে! আমি আসছি...
ম্যাডাম... গঙ্গা দেবী!
হাঁটতে হাঁটতে ব্রেন স্ট্রোকে উনি পড়ে গেলেন।
আমরা ওনাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে এলাম।
এখন কেমন আছেন উনি?
কথা বলছেন না কেন!
ওরা বলল দুই ঘণ্টা পর জানা যাবে।
দাদিমা কেমন আছে?
কেমন আছেন উনি?
গঙ্গারাজু! পিসি!
-কেউ কোনো কথা বলছেন না কেন? -ওরা তোমাকে দেখতে পাচ্ছে না।
ওরা তোর কথা শুনতেও পাচ্ছে না।
তুই কোথাও যাসনি... সবটাই ছিল মায়া।
এই জায়গা থেকে পালাতে হলে,
তোকে আমার চেয়েও দ্রুত চিন্তা করতে হবে।
যা কোনোদিন সম্ভব না।
কারণ...
আজকের এই অমাবস্যায় তোর দাদিমাকে মারার জন্যই
আমি তোকে ওর থেকে আলাদা করেছি!
আমার মৃত্যুর দশ দিন আগে...
গুরুজি...!
আমি এই জরাজীর্ণ শরীর ত্যাগ করতে চাই।
আমি পুনর্জন্ম নিতে চাই
আর আমার ধনসম্পদ ভোগ করতে চাই।
যদি সেটা করতে হয়...
তোর মৃত্যুর পর,
তৃতীয় পূর্ণিমার লগ্নে,
তোর স্ত্রীকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে।
তুই যে কর্মফল জমিয়েছিস তার প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।
বৈরাগীর কথা শুনে...
আমার মৃত্যুর তিন দিন পর থেকেই...
আমি প্রতিটা মুহূর্তে ওকে আমার মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়েছি।
ওকে মৃত্যুর দুয়ারে টেনে এনে, মৃত্যুশয্যায় শুইয়ে দিয়েছি।
খুব শিগগিরই... গঙ্গাম্মার প্রাণ
পিশাচদের খাদ্যে পরিণত হবে!
তারপর আমার পুনর্জন্ম হবে।
ছয় বছর বয়সেই আমি আমার সম্পদ চিনে নেব।
জন্মজন্মান্তরে আমিই ধনী থাকব!
এই বাড়ি আমার শরীর, আর এই সম্পদ আমার প্রাণ।
মাত্র এইটুকুর জন্য তুই আমার দাদিমাকে অসুস্থ করেছিস।
নিয়ে যা এসব... এমনকি এই আধ-খাওয়া সিগারটাও তোর।
পুড়ে ছাই হয়ে যা।
এই...
টাকা পুড়িয়ে তুই আমাকে মারতে চাইছিস?
ওই ভাবনাটা
আমিই তোর মাথায় ঢুকিয়েছিলাম...
যাতে তুই নিজের হাতে তোর দাদিমাকে মারিস।
বুঝতে পারলি না?
হাসপাতালে যাওয়াটা ছিল সত্যি।
কিন্তু এটা হলো মায়া!
তুই ভাবছিস তুই আমাকে পোড়াচ্ছিস...
কিন্তু আসলে তুই তোর দাদিমাকে পোড়াচ্ছিস।
নিজের চোখেই দেখ... তাকা!
ডাক্তার! ডাক্তার! দরজা খুলুন!
দরজা খুলুন!
দরজাটা খুলুন।
না, না, না! আমি দাদিমাকে মারছি না।
আমি এখানে নেই।
দরজা খুলুন!
আমি হাসপাতালে আসিনি।
সিকিউরিটি তাড়াতাড়ি এসো।
-আমি আপনার সাথে কথা বলছি। -আমি নার্সকে দেখতে পাচ্ছি।
সিকিউরিটি...
ডাক্তার, তাড়াতাড়ি আসুন।
এখানে ছুরি কেন?
আমি আপনাকে বলছি, দরজাটা খুলুন।
হ্যালো...
হ্যাঁ। আমার মনে পড়েছে!
আমি এখনো এখানেই আছি।
যেহেতু আমি টাকাগুলো পোড়াচ্ছি...
ও আমাকে আটকাতে ফাঁদ পেতেছে।
আমি হাসপাতালে যাইনি।
আমি যাইনি!
গঙ্গারাজু ফোন করে দাদিমার খবর দিয়েছে...
ওনার স্ট্রোক হয়েছে।
হাসপাতালে না গিয়ে আমি এখানে থাকি কী করে?
আমি গাড়িতে উঠেছিলাম,
এতদিন আমাদের আটকে রাখার পর...
আজ ও যেতে দিয়েছে। তার মানে...
তার মানে...
তার মানে... এর মানে কী?
আমি কি দাদিমাকে মেরে ফেলেছি?
দাদিমা...
আমি কি ওনাকে পুড়িয়ে দিয়েছি?
আমি মেরে ফেললাম?
যে আমাকে খাইয়ে বাঁচাত...
আমি নিজের হাতে তাকে আগুন দিলাম...
উঠো।
কথা বলো আমার সাথে।
ও তোমাকে মেরে ফেলবে।
আজ অমাবস্যা। ও তোমাকে মেরে ফেলবে। প্লীজ উঠো।
ও মেরে ফেলবি? তুই ভেবেছিস আমি চুপ করে থাকব?
আমি তোমাকে বাঁচাব।
আমি তোমাকে রক্ষা করব। বলো ওই পাজিকে সামনে আসতে!
আয়!
টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলব আমি।
দাদিমা, আমি এখানেই আছি।
তুমি রেস্ট নাও। আমি...
আমি তোমাকে বাঁচাব।
আমাকে কিছু একটা করতে হবে। দাদিমাকে বাঁচাতেই হবে।
আমাকে কিছু করতে হবে। আমাকে...
আমি কী করব?
তোমাকে সেলফ-হিপনোটাইজ করতে হবে।
অবচেতনে একটা নতুন জগত তৈরি করে সেখানে থাকতে হবে,
-আর এখানে ওর সাথে লড়তে হবে। -সেটা অসম্ভব!
যেখানে যেতে চাও, মনের মধ্যে সেটার ছবি গেঁথে নাও।
তুই এখানে কেন?!
রাজু! মন দাও।
-না, না, রাজু। প্লিজ যেও না। -তোমার মস্তিষ্ক...
-রাজু, বেরিয়ে এসো। -এখন শুধু
আমার নির্দেশ মানবে। -এই, কনকরাজু!
এটাই বাস্তব!
-রাজু! না! -উনি মারা গেছেন?
তুই আমাকে ভুলে গেলি?
আমার মাথাটা মনে হয় ফেটে যাবে।
তোমাকে কী করে বাঁচাব?
আমার কাছে তো শুধু তোমার প্রতি ভালোবাসাই আছে।
দাদিমা।
দাদিমা!
আমার খিদে পেয়েছে। প্লিজ ওঠো।
আমাকে কিছু খেতে দাও।
তুমি তো দারুণ রান্না করো, তাই না?
আমি কেন রান্না করতে যাব? আমি...
তুমি...
তোমরা যাকে সাধারণ দাদিমা গঙ্গাম্মা ভাবছ,
উনি কোনো সাধারণ নারী নন...
উনি গঙ্গা দেবী!
দেবনাগর রাজবংশের উত্তরাধিকারী।
দেবনাগর রাজবংশের জমিদার কন্যা।
দেবনাগর রাজবংশের জমিদার কন্যা।
প্রজাগণ, হাতি-ঘোড়া, দুর্গ আর রাজত্ব!
দেবনাগর রাজবংশের জমিদার কন্যা
গঙ্গা দেবী...!
ও কি এমন কিছু ভাবছে যা আমার কল্পনারও বাইরে?
দাদিমা!
এই! ওটা তোর দাদিমা না... ওটা মায়া ছিল।
ঘোর থেকে বেরিয়ে আয়।
বেরিয়ে আয়।
তোর সাথে কথা বলছি। বেরিয়ে আয়।
-দাদিমা! -কী হয়েছে বাবু?
এই বহুরূপী আমাদের মারার চেষ্টা করছে।
তোমাকে আমার পাশে থাকতে হবে।
তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে।
ওর ভবলীলা নষ্ট করতে হবে।
চল ওকেই মেরে ফেলি!
আজ তোকে দেখাচ্ছি, বুড়ো হাবড়া!
তোর চামড়া তুলে,
বিয়ারের বোতলে লেভেল লাগিয়ে, তারপর খাব!
দাদিমা...
কুকুর ছানাটা এমন করছে কেন?
এই!
এই! ওটা কুমির! ওটা মৃত্যুর ফাঁদ!
মেরুদণ্ড ভেঙে দে... আর জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দে।
তোর নিজের ছায়াই তোর শত্রু হয়েছে।
তোর গল্প এখানেই শেষ।
তুই ওদের মার
বা ওরা তোকে মারুক,
দিনশেষে মরবি তুইই।
মেরে ফেল ওকে!
আয় তোরা! তোদের নাড়িভুঁড়ি দিয়ে গিটার বাজাব।
সম্পদ হারালেও, তোদের প্রাণ আমি নেবই।
এই বালির ঝড়ে আমি তোদের ডুবিয়ে মারব!
রাজা সাব!
ওটা বালি নয়। ওটা মা গঙ্গা!
তোকে অভিষেক করাতে এসেছেন।
ওঠ বাবু।
ওঠ!
গুরুজি!
সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
আমার আত্মা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আমি ওর মন ঘোরাতে পারছি না।
গুরুজি... এসব কী হচ্ছে?
আবেগ...
অনুভূতি!
প্রেম, ক্রোধ, বেদনা, আনন্দ...
ও নিজের শরীরের প্রতিটি কণা...
আবেগের সাথে মিশিয়ে নিয়েছে।
ও যদি এই একাগ্রতা নিয়ে আরও গভীরে যায়,
তখন ওর সহস্রার চক্র জেগে উঠবে।
ও যদি সহস্রার চক্রের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে,
তখন এই ব্রহ্মাণ্ড তোকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করবে।
আপনার আত্মাকে আমার সাথে মেশান। আর ওকে শেষ করুন!
এই!
তুই আমার অস্তিত্ব মুছে ফেলছিস।
কিন্তু তোর দাদিমা, যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে
সে যদি শোনে আমি আর নেই...
কাল সকালে উঠে তুই সবার আগে দেখবি
তোর দাদিমার লাশ চিতায় জ্বলছে।
এটাই সত্যি।
এটাই ধ্রুব সত্য।
কথাটা সত্যি রে বাবু...
ওনার কিছু হলে আমি কি আর বাঁচব?
আমার হৃৎস্পন্দন থেমে যাবে।
দাদিমা...
আমি তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না।
আমার আয়ু নিয়ে তুমি শত বছর বাঁচো।
রাজা সাব...
তুই মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে জন্মেছিস।
শুভ নক্ষত্রে যার নাড়ি কাটা হয়েছে তুই সেই সন্তান।
তোর আজ্ঞা চক্রে দেবী মাকে স্মরণ কর।
পঞ্চভূতকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নে।
বধ কর ওই দানবকে!
ও যদি সহস্রার চক্রের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে,
তবে এই ব্রহ্মাণ্ড ওকে সাহায্য করবে তোকে ধ্বংস করতে।
রাজা সাব কোথায়?
দেখছি না তো।
তোদের ভয়ে পালিয়েছে বেচারা।
ভেবেছে আমরা ওকে ছেড়ে দেব?
-আমাদের মধ্যে যে আগে খুঁজে পাবে, -বিয়েটা তার সাথেই হবে!
যেন আমাকে খুঁজে পাবে!
যদি খুঁজে পায়?
খাইছে!
ভালো লেগে থাকলে রেটিং এবং রিভিউ দিবেন আশা করি
ডাঃ সাইয়্যেদুল আরেফিন ইমন
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.