All language subtitles for Sirai 2025 1080p WEB-HDRip Tamil.DDP5.1.x264.ESub

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French Download
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean Download
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian Download
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal) Download
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American) Download
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

কারাগার

গুণ্টুর - ২০০৩

সিনেমা : সিরাই ভাষা : তামিল রানটাইম : ০১:৫৯:০৩

- ওকে তোলো। - অবশ্যই, স্যার।

- হ্যালো, অফিসার। - ভাই।

আজকাল তোমাকে দেখাই যায় না।

আমাকে একটা দীর্ঘদূরত্বের এসকর্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তোমার আরআই তোমাকে নিংড়ে নিচ্ছে, তাই না?

তিনি সবসময় আমার ওপর রেগে থাকেন।

এই গুণ্টুরের গরমে গাড়ির ডিউটিতে অপেক্ষা করতেই অসহ্য লাগছে।

তোমরা সামলাও কি করে?

এটা আমাদের ডিউটি। আমরা অভিযোগ করতে পারি না।

তোমার কাজ কেমন চলছে?

এখানে আমি রাস্তার কুকুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি।

- ঠিক আছে, আমি চললাম। - বিদায়, বন্ধু।

- দেখা হবে! - অবশ্যই, অফিসার।

গাড়ি চালু করো।

বন্ধু!

সরে যাও।

- গরমে প্রাণ যায় যায়। - হ্যাঁ।

এই, ছুঁড়ে মার! ওদের মুখে ছুঁড়ে মার!

মুখ ঢাকো!

ওরা আমাদের দিকে লঙ্কার গুঁড়ো মেশানো জল ছুঁড়ছে।

- জ্বলছে! - আমার চোখ জ্বলছে।

আর সহ্য করতে পারছি না।

সবাই, বেরিয়ে এসো!

আমাকে ছেড়ে দে! সরে যা!

- সরে যা! - এই, থামো! এই!

এই, থামো!

- এই, ধর তো! - ছাড়ো আমাকে!

ছাড়ো আমাকে।

- এই, বাঁচাও। - শয়তান, ছাড় আমাকে।

কুপিয়ে দে ওকে।

কুপিয়ে দে!

হাতকড়া ভাঙ!

এই, পালা!

ওকে পালাতে দিও না।

এই, ছাড় আমাকে। ছাড় বলছি।

এই!

এই, এই, এই! ওর থেকে চাবিটা কেড়ে নে।

চাবিটা কেড়ে নে!

ওর থেকে চাবিটা ছিনিয়ে নে!

- চলে আয়! - আমার হাতকড়াটা ভাঙ!

ভাঙ এটা!

ভেঙে ফেল!

এই, ছাড়বি না ওকে!

ওর মুখে ছুঁড়ে মার!

ছুঁড়ে মার!

তাড়াতাড়ি কর!

এই, সবাই পালা!

ওকে পালাতে দিও না।

চালা! চালাতে থাক।

আয় ভাই। তাড়াতাড়ি কর! উঠে পড়!

অফিসার এসে গেছে। সরে দাঁড়াও।

- আরে! - সার!

অভিযুক্তের পরিবার খবরটা কীভাবে পেল?

- এখানে ভিড় খুব বেশি। - স্যার, এটা আলাদা কেস।

একজন কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

- তাদের সরে দাঁড়াতে বলো। - অবশ্যই, সার।

তোমার টিম কি শান্তিতে কাজ করতে পারে না?

- অফিসাররা ইচ্ছে করে করেনি। - তাদের কথা বাদ দাও!

আরডিও তদন্ত করছে, তোমার ছেলেদের বোলো, সবাই যেন একই কথা বলে।

ঠিক আছে, স্যার।

আমাকে অনুসরণ করছো কেন? গিয়ে তাদের বলো।

অবশ্যই, সার।

এই, তোমরা কি আমাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না?

তোমাদের ফালতু স্যালুট চাই না।

আমার জীবন নরক বানাতে এআর-এ এসেছো?

পাবলিক প্লেসে গুলি চালানোর সাহস কীভাবে হলো?

সার, অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল।

তোমরা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকলে সে তো পালাবেই!

এখন আরডিও তদন্ত করছে, গিয়ে জবাব দাও।

আরেকটা বন্দুক কোথায়?

বাড়িতে আছে, স্যার।

তোমার বৌ ওটা দিয়ে ধোসা বানাবে নাকি?

গাধার দল!

কান খুলে শোনো, আমার অবসরের আর মাত্র আট মাস বাকি আছে।

তদন্তের সময়, সবাই মিলে একই কথা বলবে।

ভিন্ন কথা বলে আমার ঝামেলা বাড়ালে...

তোমাদের চাকরির গ্যারান্টি আমি নেবো না।

মৃত ব্যক্তির নাম বান্দি শেখর, তাই তো?

হ্যাঁ, ম্যাডাম।

শনাক্তকরণের চিহ্নগুলো লিখে রেখেছো?

হ্যাঁ, স্যার।

ওর উরুর কাছে একটা তিল আছে।

আর বুকের ওপর একটা দাগ আছে।

তদন্তের সময়, সবাই নিজের নিজেরটা দেখবে।

এর চেয়ে ভালো কিছু আমি বলতে পারবো না।

তোমার নাম কি? কতদিন ধরে চাকরিতে আছো?

আমার নাম গিরিশম, স্যার।

৭ বছর ধরে চাকরিতে আছি।

অভিযুক্ত তোমাদের মুখে লঙ্কার গুঁড়ো ছুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

তোমরা ধরতে পারো নি বলেই গুলি চালিয়েছো।

ঠিক বলছি তো?

স্যার, সত্যি বলছি, সে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

স্যার, শুনে মনে হচ্ছে আপনি সবাইকে একই গল্প বলার ট্রেনিং দিয়েছেন।

স্যার, আপনি ভুল ভাবছেন।

তুমি গুলি করার সময়...

...অভিযুক্ত কত দূরে ছিল?

প্রায় ১০০ মিটার মতো হবে।

মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে থাকা একজনকে তুমি দৌড়ে ধরতে পারতে না?

এই জন্যই তো তোমাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়!

তাকে ধাওয়া করে ধরার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

কিন্তু সে পালানোর জন্য একটা অটোতে উঠে পড়ে।

অটোর চেয়েও দ্রুত দৌড়ানোর ট্রেনিং আমাদের নেই।

তাই বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছি।

নিজে কী বলছো, বুঝতে পারছো? পাবলিক প্লেস, স্কুল জোন,

সর্বোপরি, পাশেই একটা হাসপাতাল...

এত লোকের ভিড়ের মধ্যে গুলি চালানোর অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে?

দীর্ঘ দূরত্বে অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময়,

যদি তাদের পালানোর চেষ্টার জন্য সশস্ত্র অফিসারদের জীবন বিপন্ন হয়,

তাহলে ধাওয়া করে ধরতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই, ম্যাডাম।

তাই আমি তাকে গুলি করেছি।

কাউকে হত্যা করার জন্য তোমার ব্যবহারে অনুশোচনা বা ভয় দেখতে পাচ্ছি না।

একজন মানুষকে হত্যা করে, তুমি তার স্বপক্ষে যুক্তি দিচ্ছো।

তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো না কেন?

আপনি যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন।

সাত বছর ধরে এআর-এ আছি।

এই সময়ের মধ্যে ১৬ জন অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে।

সব ক’টির জন্যই,

অফিসারদের রিমান্ডে জেলে পাঠানো হয়েছে।

আসামি আমাদের হেফাজত থেকে পালালে আমাদেরই রিমান্ডে পাঠানো হয়।

আর গুলি চালালে আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বসে।

তাহলে আমরা করবোটা কী?

সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা কোরো না।

যদি সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো?

আমি একজন ভালো শ্যুটার, ম্যাডাম।

আমি এআর-এর ফায়ারিং টিমের সদস্য।

আমি নিশ্চিত ছিলাম, শুধু তারই লাগবে, অন্য কারোর নয়।

তাহলে তুমি পরিকল্পনা করেই তাকে গুলি করেছো।

তা মনে করি না, স্যার।

সে পালানোর চেষ্টা করেছিল, তাকে গুলি করি এবং সে মারা যায়।

অভিযুক্ত ভালো মানুষ ছিল না।

তার বিরুদ্ধে নয়টি খুনের অভিযোগ এবং দুটি ধর্ষণের মামলা ছিল।

তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আদালত আছে।

তোমার হাতে বন্দুক আছে বলে, যে কোনো কাউকে গুলি করবে?

পুলিশ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে গুলি চালানো যায়।

এই খাকি পোশাক আমাদের সেই ক্ষমতা দেয়।

নিজেকে খুব বড় অফিসার ভাবছো নাকি?

তোমাদের কি বলেছিলাম?

সবাই যেন একই কথা বলে।

কিন্তু তুমি পুলিশ ম্যানুয়াল উদ্ধৃত করে বললে, আসামি পালাতে চাইলে গুলি চালাবে।

নিজেকে সিনেমার পুলিশ ভাবছো নাকি?

কান খুলে শোনো...

পুলিশের চাকরি হল গলায় বাঁধা ফাঁসির দড়ির মতো।

সাবধান না হলে, চোখের পলকে ঘাড় মটকে দেবে।

- এসআই! - স্যার!

জেলকে বলো, ওকে কড়া পাহারায় রাখতে, যেন পালিয়ে না যায়।

আর ওর চাকরিটা খাওয়ার ব্যবস্থা করো।

ভাবছি, কেন তাকে এআর-এ নিয়োগ করা হয়েছিল।

সবাইকে বরখাস্ত করো।

রোল কল: বরখাস্ত

বন্দুক তো গুলি চালানোর জন্যই, তাই না?

এটেনশন!

তোমাদের কারোর ভবিষ্যৎ নেই।

তোমরা সবাই বরবাদ হয়ে যাবে!

অভিযুক্ত পালিয়েছিল, ভেবেছিলাম, বারোটা বেজে গেছে...

এবার আমাদের জেলে নিয়ে যাবে।

তখন আমাদের বন্ধু নরসিংহের মতো বন্দুক নিয়ে হাজির হল।

এক গুলিতেই আসামি ধরাশায়ী।

দারুণ শট ছিল, সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু ব্যাপারটা এমন ছিল না। পরিস্থিতিই বাধ্য করেছিল।

এমন নয় যে, তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল।

হাঁটুর নিচে গুলি করলে না কেন?

তুমিও এখন তদন্তকারীদের মতো কথা বলছো।

মেরি!

মেরি!

- মেরি? - শুনছি। বলো।

কী শুনতে চাইছো?

এআর-এ গিয়ে তুমি অনেক বদলে গেছো।

সাত বছর হয়ে গেল।

তাই, বাস্তব সত্য বেরিয়ে এসেছে।

ইতিমধ্যেই একজন “পারিবারিক সমস্যা” বলে পালিয়েছে।

সেই ঝামেলা সামলাতে আমার নাভিশ্বাস উঠেছিল।

তার লোকেরা পালানোর জন্য ছুরি নিয়ে আমাদের আক্রমণ করেছিল।

ধরতে পারলে, আমাদের কেউ মারা যেতে পারতো।

সেই কারণেই আমি গুলি চালিয়েছিলাম।

ভাই, ছেলেরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

আসছি। এখান থেকে যাও।

ভাবছি, ওরা কী নিয়ে কথা বলছে...

- কোথায় তুই? - এই তো...

ছেলেরা ডেকেছিল, তাই এলাম।

তোমার ডিউটি শেষ? নিতে আসবো কি?

আমি বাড়ি যেতে পারবো। ফোন রাখো!

ভাই, আরআই তোমাদের তিনজনের ওপর খুব রেগে আছে।

যদি কিছু গণ্ডগোল করো, তাহলে খবর আছে।

মাতাল কোথাকার! মুখে ধোঁয়া ছাড়ছিস কেন?

তুইও তো ফুঁকছিস? ফোট, শালা!

- আমি খেতেই পারি! - তোর এত সাহস?

আমার সাথে লাগতে আসিস না!

- এই, এসব কোরো না। - কী সমস্যা?

স্যার, ও আমার মুখে ধোঁয়া দিচ্ছিল।

আমি আপত্তি করাতে, ও বেঁকিয়ে কথা বলছিল।

কথা বাড়াস না, ভাই। ওরা পুলিশ।

স্যার, দুঃখিত। আমার ভুল হয়ে গেছে।

এই, পান্ডু!

বসো।

- ভাই, এত চটছিস কেন? - বোস।

এটা তোর অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে।

সবসময় ঝামেলা করিস।

ওই পুলিশকে অপমান করছিল।

ওরা বুঝলো কী করে, আমরা পুলিশ?

মনে হয়, আমার বোন নিশ্চয়ই তোর খুব প্রশংসা করেছে।

প্রশংসা না ছাই! বাড়ি গেলেই বুঝতে পারবো।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

গিরিশম!

স্যার ডেকেছেন।

স্যার!

তদন্ত কতদূর এগোলো?

- চলছে, স্যার। - আর আই-এর ওপর নজর রেখো।

স্যার!

সুপ্রভাত, অফিসার!

এই, মুখটা এত শুকনো কেন?

আমার মা অসুস্থ।

ছুটির আবেদন করে বাড়ি যাচ্ছিস না কেন?

ছুটির জন্য আবেদন করেছিলাম।

কিন্তু উনি বলছেন একটা এসকর্ট ডিউটি শেষ করে তারপর যেতে।

বুঝতে পারছি না, কী করবো।

এ আর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির জন্য ছুটি মঞ্জুর করছে না?

তাহলে আর কিসের জন্য মঞ্জুর করবে?

- চল, ওদের জিজ্ঞাসা করি। - ভাই, একটু দাঁড়া।

এই!

- তোমার পাসপোর্ট দাও। - স্যার।

স্যার, ওর মা অসুস্থ।

তবুও আপনি ওকে এসকর্ট ডিউটিতে পাঠাচ্ছেন।

কার মা অসুস্থ?

- ওর মা, স্যার। - স্যার!

সরো।

আমি ওকে আগেই জানিয়েছি।

একটা এসকর্ট মাত্র। শেষ করে চলে যাও।

ততক্ষণ, ঈশ্বর তোমার মায়ের খেয়াল রাখবেন।

যাও!

স্যার, ভেবেছিলাম আপনি ওর ছুটি মঞ্জুর করবেন।

কিন্তু আপনার কথাগুলো যেন বিদ্রুপের মতো শোনাচ্ছে।

ছুটিটা মঞ্জুর করুন, স্যার!

তাই নাকি? আমার বদলে তুমিই না হয় ডিউটি দাও।

যদি ছুটির সুযোগ থাকে, তবে সবার জন্যই মঞ্জুর করো।

তোমার দয়ায় অফিসাররাও খুশি হোক।

অসুস্থ মাকে দেখার জন্য ওর ছুটি মঞ্জুর করলে আমি তো আর মেডেল পাবো না।

এমনিতেই, গুন্টুর এআর-এ লোকবল কম।

তোমার ডিউটি তো শেষ, তাই না?

এখন তোমার বিশ্রামের সময়।

তুমিই না হয় ওর ডিউটিটা সামলাও।

অবশ্যই, স্যার, আমি ওর ডিউটি সামলাবো।

ওর জন্য একটা ছুটির পাসপোর্ট ইস্যু করুন।

- তুমি কোথা থেকে এসেছো? - লাম্বাসিংগি, স্যার।

আমি পাসপোর্ট ইস্যু করবো না।

সরাসরি তোমার মাকে দেখতে যাও এবং ফিরে এসো।

এখন যাও!

স্যার, পাসপোর্ট ছাড়া ও লাম্বাসিংগি যাবে কী করে?

যদি কোনো ঝামেলা হয়, তাহলে ও এখানে ফিরে আসবে কিভাবে?

দয়া করে একটা পাসপোর্ট ইস্যু করুন, স্যার।

এদিকে এসো।

এটা নাও।

তুই বরং ১০-১৫ দিনের মেডিক্যাল লিভের আবেদন করে ধীরে-সুস্থে ফিরে আয়।

নিশ্চয়ই!

নমস্কার, অফিসার! আপনাকে কি এসকর্ট ডিউটি দেওয়া হয়েছে?

- দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্ট! - দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্ট?

আমরা কি আপনার সাথে যোগ দিতে পারি?

আপনার সাথে কাজ করতে মজা লাগে।

- এই নাও, এসআই-কে তোমাদের নাম দাও। - ঠিক আছে, স্যার।

সন্ধ্যায়, আমার সাথে কারাগারে দেখা কোরো।

এই, অন্য কেউ সই করার আগে, আমরাই এটা করি।

- স্যার। - আদেশপত্র।

পতাকা উত্তোলনের সময় হয়েছে। অপেক্ষা করো।

নিশ্চয়ই!

জাতীয় অভিবাদন! সশস্ত্র সালাম!

দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্টরা, গেটের কাছে সমবেত হও।

কুর্নুল কোর্ট।

এখানে সই করো।

- কোন আদালত? - কাডাপা!

একে নিয়ে যাও।

- আপ্পালাকোন্ডা। - স্যার।

- বাবার নাম। - সাম্বাসিভাদু, স্যার।

বিশাখাপত্তনম কোর্ট।

- সপ্তগিরি। - স্যার।

-বাবার নাম। -ভেঙ্কট রাও, স্যার।

অনন্তপুর কোর্ট।

- আব্দুল রউফ। - স্যার!

- বাবার নাম। - ইয়াসিন।

কুর্নুল কোর্ট।

- প্রকাশম! - স্যার।

- বাবার নাম। - মুন্নিস্বামী, স্যার।

একে পরীক্ষা করো।

আমার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?

একে এখান থেকে নিয়ে যাও।

নিজেকে হিরো দেখাতে চাইছিস, তাই না?

মুখ খোল।

- তোর ব্যাগটা দে তো। - পুরোটা খোল।

এত নড়াচড়া করছিস কেন?

কিছু লুকোচ্ছিস নাকি?

না, ভাই।

ভাই? কাউকে 'স্যার' বলতে জানিস না?

জানি, স্যার।

এই, টাকা কোথায় লুকিয়েছিস?

আমার কাছে টাকা নেই।

টাকা নেই?

টাকা না থাকলে রাতে কী খাবি?

নাকি তোর বাবা দাম দেবে?

সবসময় টাকা নিয়ে আসা উচিৎ।

নয়তো জেল থেকে খাবার প্যাক করে আনবি।

অপদার্থ কোথাকার!

আমি খাবার চাই না। আমি না খেয়ে থাকবো।

নিকুচি করেছে। তুই আর তোর ঢ্যামনামি।

আমি খাবার চাই না, স্যার।

তোর চোয়াল ভেঙে দেবো।

আমরা না ফেরা পর্যন্ত, আর একটাও কথা বলবি না।

তবুও যদি কথা বলিস, তোর জিভ ছিঁড়ে নেবো।

- কী হচ্ছে? - স্যার।

স্যার, সে সাথে কোনো টাকা আনে নি।

আমরা ওকে পুরো রাস্তা না খাইয়ে রাখতে পারি না।

ঠিক আছে, নিয়ে আয়।

চল, যাই!

- এখানে থামো। - দাঁড়াও।

এই, নেমে আয়।

- অটো ড্রাইভারকে ভাড়াটা দাও। - অবশ্যই, স্যার।

পান্ডু, অটো ড্রাইভারকে ভাড়াটা দে।

ওঙ্গোলের রাস্তা দিয়ে যাবো না কেন?

স্যার, কুর্নুলের সরাসরি বাস আছে।

আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করলে, ওই রুটের একটা বাস পেয়ে যেতাম।

ঠিক আছে, তাহলে চলো খাওয়া যাক। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় থাকবে।

চলো যাই!

ঠিক আছে অফিসার, আপনি রাতের খাবার খান...

আমরা দোকান থেকে ঘুরে আসছি।

কোথায় যাচ্ছো তোমরা?

কাছেই একটা দোকান আছে।

আমরা এক্ষুনি আসছি।

এটা কী ধরনের অভ্যাস?

তোমরা দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্টের সময় ড্রিঙ্ক করো নাকি?

অফিসার! আমরা আপনার সাথে একটু মজা করতেই এসেছি।

এক পেগ হলে জমে যেত।

এই, তুমি ইউনিফর্ম পরে আছো।

আমার কাছে সাধারণ পোশাক আছে, স্যার।

স্যার, এখানকার পট-বিরিয়ানি খুবই বিখ্যাত।

আপনার খাবার শেষ হবার আগেই, আমরা ফিরে আসবো।

তোমার বন্দুকটা আগে আমাকে দাও।

আমার সাথে আয়।

- চলো যাই। - তাড়াতাড়ি করো!

বসুন।

স্বাগতম, স্যার। আপনি কী খেতে চান?

- একটা চিকেন বিরিয়ানি। - অবশ্যই, স্যার।

- এই! - স্যার।

তুই খাবি?

আমি টাকা দেবো!

স্যার, এক কাপ চা পেতে পারি?

এই নাও!

- আমরা কি যাবো? - অবশ্যই, স্যার।

- ওকে নিয়ে এসো। - এই, ওঠ।

- বিলটা মেটাও। - অবশ্যই, স্যার।

আয়।

- এই, মুরালি! - স্যার!

টলছো তো।

আমি ঠিক আছি, স্যার।

এই, চল।

এই, বেশি নড়াচড়া করিস না। স্যার ভাবছেন, আমি মাতাল।

- দেখো, বাসটা খালি আছে। - ঠিক আছে, ওটাতেই যাওয়া যাক।

ওঠো।

- নমস্কার, স্যার। - নমস্কার!

এই, কী হয়েছে?

বোস।

স্যার... স্যার, আমি ওকে দেখছি।

আমাকে লিডিং চেইনটা দাও।

তোমার হাতটা দেখাও।

- এই! - স্যার।

- চাবিটা দাও। - এই, ওনাকে চাবিটা দে।

এই, ঘুমোচ্ছিস না কেন?

স্যার, পুলিশের সাথে ভ্রমণ করলে আমি সাধারণত ঘুমোই না।

মুখে বাতাস লাগলে ভালো লাগে।

তাই, আমি ভ্রমণটা উপভোগ করছি।

ভ্রমণ উপভোগ করছিস?

তোর জেগে থাকা উচিত নয়। ঘুমিয়ে পড়।

চালাও!

তুই এখনো জেগে আছিস কেন?

স্যার, আমার ঘুম পাচ্ছে না।

কতদিন ধরে জেলে আছিস?

পাঁচ বছর ধরে।

জামিনের জন্য আবেদন করিস নি কেন?

আমার কেউ নেই, স্যার। আমি অনাথ।

আমাকে জামিনে মুক্ত করার মতো কেউ নেই।

তাহলে, সমস্ত এসকর্ট পুলিশ অফিসারদের তুই একই গল্প বলেছিস।

স্যার, আমি সত্যি বলছি।

- স্যার! - কী হয়েছে?

আমার একটা উপকার করবেন?

কী চাও?

কালকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে হাতকড়া পরাবেন না, প্লিজ।

যাতে পালাতে পারিস?

আমি ওরকম কিছু করবো না, স্যার।

শোনো, খুন করলে, তোকে হাতকড়া পরানো হবে...

এবং রাস্তার মধ্যে দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

খুন করার আগে তোর এটা ভাবা উচিৎ ছিল।

চুপ করে ঘুমো।

আমার ঘুম পাচ্ছে। বুঝতে পারছিস?

কুর্নুল - ১৯৯৭

ভাই, একটা জুস দিবি?

তোর ভাইকে তো দেখছি না। ও কি হোস্টেল থেকে ফিরেছে?

এখনো আসেনি।

- কবে ফিরবে? - শনিবার।

এই নে।

ও ফিরলে আমার সাথে দেখা করতে বলিস।

- কি চাই, দিদি? - পাঁচ টাকার নারকেল তেল দাও তো।

- আব্দুল। - হ্যাঁ, মা।

সন্ধেবেলা, যখন বাজারে যাবি...

...তখন বাবার ছবির ফ্রেমের কাঁচটা পাল্টে আনবি।

সেদিনই বদলালাম তো?

ভাঙলো কিভাবে?

উনি ছবি থেকে বেরিয়ে আমার সাথে দেখা করতে চাইছিলেন।

আর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছেন।

এই নাও।

আজকাল খুব বেড়েছো।

লোকের সামনে যা তা বলছো।

দোকানটা দেখো।

- মা! - কি হয়েছে?

এদিকে এসো।

তোমাকে বহুবার বলেছি, এখানে চপগুলো রাখবে না।

কিন্তু তুমি আমার কোনো কথা শোনো না।

আমিও তো তোকে কতবার বলেছি ইঁদুর মারার বিষ এনে দিতে।

কিন্তু তুইও শুনিস না... ওটা রাখ।

ওটা তোর বাবার প্রিয়।

ওনাকে খাওয়াও না কেন?

আমি মরে গেলে, খাবার যোগাড় করবি কি করে?

যা তা বোলো না তো।

মা! মা!

সরো!

মা, মা। উঠে পড়ো।

- দয়া করে ওঠো। - এই, ছাড় তো।

তখন তার কোনো খেয়াল রাখিস নি।

- আর এখন নাটক মারাচ্ছিস? - এখান থেকে দূর হ।

সিনেমা দেখলেই তোর মায়ের প্রতি দরদ উথলে ওঠে, তাই তো?

বুড়ি মানুষটাকে অপমান করছো কেন?

আমি তোকে বলছি। মাতাল কোথাকার।

- জানো না, তোমাকে কতো ভালোবাসি। - যা ভাগ এখান থেকে!

- এই, একে ধরে নিয়ে যা তো। - আদরের ছেলেই বটে।

এখান থেকে দূর হ।

কিছু একটা করে বসিস না। বেরো এখান থেকে!

একটু চা খাও।

নাও।

এই!

ওঠ!

এই নাও, চা খাও।

- সিনেমাটা খুব জঘন্য। - ঠিক বলেছো! এটা বিরক্তিকর!

ওকে একটা রোমান্টিক সিনেমা চালাতে বল।

এই, ওকে বল।

এই, একটা রোমান্টিক সিনেমা চালাও।

পারবো না! একটা সিনেমা চলছে তো।

আমি জানি না। পাল্টাও এটা!

আব্দুল, ছবিটা পরিষ্কার আসছে না।

দেখ তো কী হয়েছে।

দিদিমা, ক্যাসেটটা আটকে গেছে, আমি অন্য সিনেমা লাগিয়ে দিচ্ছি।

হ্যাঁ, ভালো একটা সিনেমা চালাও।

আমার এই সিনেমাটা ভালো লাগছে না। আমি চললাম।

তুই মেয়েদের সাবান ব্যবহার করছিস কেন?

আমাকে এক প্যাকেট ফ্রাইয়ুম দাও।

তুই এখনো এই ফ্রাইয়ুম খাস?

এই, থাম!

ফেরত দে।

তুই এর দাম দিসনি।

আমার মা তোকে দাম দেবে।

তোর মা দাম দিলে তুই এটা পাবি।

এই আব্দুল, এটা ওকে ফেরত দে।

আমি বলছি, ফেরত দে।

- মা! - হ্যাঁ।

এই, ঢেকে রাখলে, তোর বাবা খাবে কী করে?

ইঁদুরে কাঁচটা কেটে দিয়েছে বলে, পাল্টানোর জন্য আবার ঘ্যানঘ্যান করতে এলে...

আমি কিন্তু রেগে যাবো!

- আব্দুল! - ভাই!

ছেলেটা এসে গেছে।

- সব কিছু এনেছিস তো? - হ্যাঁ, এনেছি।

- ভাই... - ভেতরে রাখ।

- তাড়াতাড়ি মাংসটা নিয়ে আয়। - ঠিক আছে, ভাই।

ধৈর্য ধর! মাংস সেদ্ধ হতে সময় লাগে।

এই নে, খেয়ে বল, কেমন হয়েছে।

দেখ, ও চেখে দেখার নাম করে অর্ধেকটা মেরে দিয়েছে।

এই, কী চালাবি?

সব নতুন সিনেমা এনেছি।

এটা ইংরেজি সিনেমা নাকি মালয়ালাম সিনেমা?

ভাই!

- আমার কাছে ঘরানা মোগুডু আছে। - ঘরানা মোগুডু?

বাশা হলে কেমন হয়?

এই ছেলেটা না!

ওর বসকে খবর দিসনি?

দুঃখিত ভাই, তাকে জানাতে ভুলে গেছি।

এই আব্দুল, ওই সিনেমাটা চালা তো।

কোন সিনেমা?

এই ছেলেটা আমার মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে।

এই, বিয়ের সিনেমাটা নিয়ে আয়।

কার বিয়ের সিনেমা?

সে ঠাট্টা করছে নাকি?

বিয়ের পর যেগুলো করা হয়...

ওই ধরনের একটা সিনেমা চালা।

দোস্ত, স্ন্যাকসটা দে তো।

ভাই, আমাদের কাছে ওই ধরনের সিনেমা নেই।

বেয়াদবি করিস না, গিয়ে তোর বসের কাছে জিজ্ঞাসা কর।

তোকে দিয়ে দেবে। যা!

তাড়াতাড়ি নিয়ে আয়।

এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

যদি ওই সিনেমাটা না নিয়ে আসিস...

আমার এই বন্ধু একজন উকিল।

বাচ্চাদের অনুপযুক্ত সিনেমা দেখানোর জন্য, ওকে রিপোর্ট করতে বলবো।

তুই আর তোর বস দুজনেই গ্রেপ্তার হবি।

যা! দৌড়ে গিয়ে সিনেমাটা নিয়ে আয়।

ভাই, এটা আমার কাছে ঠিক লাগছে না।

আমি চললাম। আমার বসের সাথে কথা বলো, প্লিজ।

ঠিক মনে হচ্ছে না?

- তাই তো হওয়া উচিত! - ভাই, শান্ত থাক।

- সরে দাঁড়া। - দাঁড়া, ভাই।

তোর সাথে কথা বলছি, আর তুই চলে যাচ্ছিস।

কী করছিস তুই? ছেড়ে দে!

এখান থেকে এমনি এমনি চলে যেতে পারবি, ভাবছিস নাকি?

- এই, ওকে ধর তো। - আমার দিকে চোখ রাঙাচ্ছিস?

এই, ছাড় তো!

- যতইহোক, ও আমাদের গ্রামের ছেলে। - মানে, ও?

ওর বাবা এখানে রোজগার করতে এসেছিল।

কেরালা থেকে একটা মেয়ে জুটিয়ে এখানেই থেকে গেছে।

ভাই, আমার বাবার নামে একটাও খারাপ কথা বলবে না।

- এই, ছাড় আমাকে। - অপেক্ষা কর।

কী করবি তুই? সাহস থাকে তো দেখা!

- আমাকে ছাড়। - একটা ছোটো ছেলেকে মারছিস কেন?

আমার সাথে মুখে মুখে কথা বলার সাহস হয় কী করে তোর?

তোকে এখান থেকে যেতে বলেছি!

এই, আয় দেখি!

এই, ভেতরে যা। আর তুই এখান থেকে যা।

কালকে টিভি নিয়ে যেতে পারবি। এখন এখান থেকে যা।

- তোকে টুকরো টুকরো করে ফেলবো! - বাইক চালু কর।

এই, ওকে ভেতরে নিয়ে যা।

তুমি ওকে পাল্টা মারলে না কেন?

ভগবান তোমাকে হাত দিয়েছেন, তাই না?

এই অপদার্থগুলো তোমাকে মারবে বলে তোমার মা তোমাকে মানুষ করেন নি।।

উত্তর দাও!

যেটুকু সম্পত্তি বাকি আছে, তাও চোখে পড়েছে, তাই না?

তোমার মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে এটাও ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।

এই, এখন ঝামেলা করছো কেন?

আমি মদ খেয়ে সব উড়িয়ে দিতে বলছি না।

যদি আমাদের হাতে কিছু টাকা থাকে...

...তাহলে আমরা ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারতাম।

সেই জন্যই আমার এটা দরকার।

যত্তসব!

আমার আবার ভালো ডাক্তারের কী দরকার?

আমি যথেষ্ট ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছি।

তোমার অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তাহলেই জানা যাবে, কে নপুংসক।

আমাকে নপুংসক বলছো নাকি?

বাড়াবাড়ি করছো কিন্তু।

শুধুমাত্র তুমিই কাঠগড়ায় নেই...

আমাকে নিয়েও ওদের লাগাতার খুঁতখুঁতানি চলছে।

কাঁদার জন্য একটা কাঁধের দরকার হলে, আমি কার কাছে যাবো?

এইসব তোমাকে ভাবায় না।

তুমি প্রতিদিন মদ খাও।

আর লম্পটদের সাথে অশ্লীল সিনেমা দেখো।

তারপর গরম হয়ে দুবার ঠোকর মারতে আমার কাছে আসো।

তাতে বাচ্চা হবে না।

- সবকিছুর জন্য আমার মা দায়ী। - হতচ্ছাড়ী!

আমার সাথে এভাবে কথা বলার সাহস হয় কী করে?

- আমাকে ছাড়ো। - আমাকে এতটাই ছোটো ভাবো, তাই না?

মাতালটা আবার শুরু করেছে।

লোকেদের কাছে আমার সম্পর্কে এইসব বলো, তাই না?

- এখানেই থাকো। আমি আসছি। - তোমার কি একটুও লজ্জা নেই?

এই!

তোর তো বাচ্চা হয় না, ডাইনি মাগী।

আবার আমাকে নপুংসক বলিস!

বলা উচিৎ!

যথেষ্ট হয়েছে!

তোকে খুন করে পুঁতে ফেলবো।

দিদি! এই!

এই, ওকে ছাড়ো!

এই, আমাকে ছাড়!

এই, এই, এই!

এই! আমাকে ছাড়!

এই, আমাকে ছাড়!

এই, আমাকে ছাড়।

এই, আমাকে ছাড়ো!

- হতচ্ছাড়ি মেয়েরা! - ছাড় বলছি!

দুই বোনকে একই কবরে পুঁতে ফেলবো।

- দিদি! - আমার গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয়?

হতচ্ছাড়ি, আমার গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয়?

ভাই, ওদের ছেড়ে দাও। কী করছো তোমরা?

এখান থেকে দূর হ।

- ওদের ছেড়ে দাও। - তোকে আমি ছাড়বো না।

বলছি, ছেড়ে দাও।

তোমার এত সাহস, তুমি মেয়েদের গায়ে হাত তোলো?

আব্দুল।

হতচ্ছাড়া কোথাকার!

আমার বাড়িতে এসে মারধোর করার সাহস হয় কী করে?

- এই থামো। - কোথায় যাচ্ছিস?

আমি তোদের সবাইকে খুন করবো!

আমার গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয়?

বেরো এখান থেকে!

সে কে যে আমার পারিবারিক ব্যাপারে নাক গলায়?

প্রথমে ওকে বাড়ি থেকে বের করে দাও।

এই! আমাকে ছাড়ো!

আব্দুল! আব্দুল!

- আমাকে ছাড়ো। - দয়া করে ওকে ছেড়ে দাও।

- দিদি। - কী হয়েছে?

পেরুমলের বাড়িতে তোমার ছেলেকে মারধর করা হচ্ছে।

গিয়ে দেখো।

ওরা ওকে মারলো কেন?

জানি না। তাড়াতাড়ি যাও, গিয়ে দেখো।

এই আব্দুল, কী হয়েছে?

শুনেছি, পেরুমলের জামাই তোকে মেরেছে।

- সেরকম কিছু হয় নি। - মিথ্যা বলিস না।

- কিছু হয়নি। - বলছিস, কিন্তু রক্ত পড়ছে তো।

- মা... - কেন মেরেছে?

মা, কিছু হয়নি।

বল আমাকে!

- কিছু না। চলো যাই। - তুই বলবি না, তাই তো?

- নিজেই জিজ্ঞাসা করবো। চল। - মা!

- মা! মা, আমরা যাবো না। - চুপ করে আমার সাথে আয়।

মা, কেন ঝামেলা পাকাচ্ছো?

আমি কিছু করছি না।

আয়!

- মা, কোরো না... - ওরা ভাবে, ওদেরকে কেউ কিছু বলবে না।

মা, দয়া করে ঝামেলা কোরো না।

মা, মা!

- মা, দয়া করে থামো। - আমি দেখছি!

আমার কথা শোনো। ভয়ের কিছু নেই।

এই, পেরুমল!

তোমার জামাই কোন আক্কেলে আমার ছেলেকে মেরেছে?

শোনো, নিশ্চয়ই মাতাল হয়ে ভুল করে মেরেছে।

তুমি তোমার ছেলেকে নিয়ে এখান থেকে যাও।

ঠাট্টা করছো নাকি?

শুধু মাতাল হয়েছে বলে,

মা আর বউয়ের মধ্যে গুলিয়ে ফেলবে নাকি?

কী হচ্ছে এসব?

হতচ্ছাড়ি মহিলা!

- এই, ধর ওকে।

আমার পরিবারের নামে খারাপ কথা বলার সাহস কী করে হয়?

- দেখাচ্ছি মজা... - শান্ত হও!

- শান্ত হও। - আয় দেখি!

- মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি? - শোনো...

- গোলমাল কোরো না। - পরিবারের সম্মান নষ্ট কোরো না।

আমাদের পরিবারকে অসম্মান করছে।

ছোটোলোক কোথাকার।

আমাকে গালাগালি দিলে তোকে টুকরো টুকরো করে ফেলবো।

- হাবা কোথাকার। - দিদি, আমার সাথে কথা বলো।

অযথা গালাগালি করছো কেন?

এতক্ষণ ধরে বলছি, ওকে এখান থেকে নিয়ে যাও।

কীসের অযথা?

রাগের চোটে আমার ছেলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।

মা, চলো এখান থেকে যাই।

মাতাল হলে নিজের বয়সী লোকের সাথে লড়তে বলো।

- নপুংসক কোথাকার! - হতচ্ছাড়ি!

কাকে নপুংসক বলছিস?

দেখতে চাস?

এই নে, দেখ। ভালো করে দেখ!

এগিয়ে আয়, একটু উঁকি মেরে দেখ।

- এই! - ওকে টেনে সরা।

এই, ওর কাছ থেকে সরে যা।

একপাশে সরে যাও।

ওকে এখান থেকে নিয়ে যাও। ওকে এখান থেকে নিয়ে যাও।

এই, আমাকে ছাড়। আমাকে ছাড়!

ওরা আবার শুরু করেছে।

এই, ওদের ছাড়িয়ে দে।

এই, ওকে ছাড়ো।

ওকে টেনে সরিয়ে নিয়ে চল।

ওকে তোল। তোর এত সাহস?

- যা করার করে নে! - ধ্যাৎ, ছাড় তো।

আমি তোকে মেরেই ফেলবো!

- শান্ত হও। - যা করার কর!

হতচ্ছাড়া! একটা ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে থাকিস...

দাঁড়া, দেখবি, তোদের দুজনকে, মা আর ছেলেকে, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবো।

- দিদি, আমাকে ছাড়ো। - দয়া করে আমার কথা শোন।

সাহস থাকে তো করে দেখা!

আমি করবোই!

তুই ওর বাড়ি গিয়েছিলিস কেন?

এই, আমাকে ছাড়ো। আমাকে ছাড়ো।

এত রাতে কী মনে করে?

দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও, আব্দুল।

আমার জন্যেই তোমার এত বিপদ হচ্ছে।

দয়া করে এখন যাও। আমরা পরে কথা বলব।

আমার কথা শোনো, কালা।

- কালা, প্লিজ বোঝো। - আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছো কেন?

কেউ আমাদের একসঙ্গে দেখে ফেললে, সমস্যা হয়ে যাবে।

- আমরা পরে কথা বলবো... - তোমার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে চাই।

ঠিক আছে।

আমার সাথে কথা বলছো না কেন?

দয়া করে কিছু বলো।

আমার ভয় করছে, কালা।

মনে হয়, এতে কাজ হবে না।

কী কাজ হবে না?

আমার হাত ছেড়ে দিলে কেন?

আমি তোমাকে খুন করবো!

সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

তোমার ভয় লাগলে, একটা কাজ করা যাক।

চলো, গ্রাম থেকে পালিয়ে যাই।

আমরা অনেক দূরে চলে যাবো, আর নিজেদের মতো করে বাঁচবো।

কালা, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

পুরো গ্রামটাই তোমাদের ধর্মানুসারী।

আমি এই ব্যাপারে কিছুই করতে পারবো না।

আমাদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে, কী হতে পারে, জানোই তো।

তারা সবচেয়ে খারাপ কী করতে পারে?

তারা আমাদের মেরে ফেলবে। এই তো!

মারুক গে যাক। আমি মরতেও রাজি।

ভেবেছিলাম, তুমি শিক্ষিত।

আমরা মরার জন্য প্রেম করিনি।

আমাদের বাঁচতে হবে, কালা।

আমার মা আমার উপর নির্ভরশীল।

দয়া করে, আমাকে ক্ষমা করে দাও, কালা।

তাহলে, তুমি আমার অনুভূতির কথা কখনোই ভাবোনি, আব্দুল।

এটা বলছি, কারণ আমি এটা ভেবে দেখেছি।

এইরকম একটা ঘটনা আমার চোখ খুলে দিয়েছে।

কোন বাস্তবতার কথা বলছো?

সমস্যা দেখে পালিয়ে যাওয়াই তোমার বাস্তবতা?

শেষ পর্যন্ত তোমাকে এটা বজায় রাখতে হবে।

আমি যদি তোমাকে ছেড়ে যাই...

...তাহলে তুমি কি সুখী হবে?

ওঠো, কালা।

প্রথমে তুমি তোমার বাড়ি ফিরে যাও।

যাও, কালা।

দয়া করে আমাকে ছেড়ে যেও না।

আমাকে একা ফেলে যেও না, আব্দুল।

বাসটা দশ মিনিটের জন্য দাঁড়াবে।

এর মধ্যে আপনারা জলখাবার খেয়ে নিতে পারেন।

আর, আপনারা শৌচাগারও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর বাস আর থামবে না।

এই, পান্ডু।

- এই! - স্যার।

- বেরোও। - ঠিক আছে, স্যার।

এই, নেমে আয়।

পান্ডু!

- চা খাবে নাকি? - না, স্যার।

স্যার, আমার পেট খারাপ করছে। আমি টয়লেট যাবো।

কী খেয়েছিলি যে পেট খারাপ করলো?

- মুরালি, ওকে টয়লেটে নিয়ে যা। - ঠিক আছে, স্যার।

ভাই, এক কাপ চা।

পান্ডু!

টাকা নেই বলে, জেলখানায় ঠেসে খেয়েছিস বুঝি?

তাড়াতাড়ি করিস।

বেশি সময় নিবি না। বুঝেছিস?

মুরালি...

এই, এখান থেকে সর।

এই, ভেতর থেকে খিল দিবি না।

দুটো চা দাও তো, ভাই।

- সেএখনও ভেতরে আছে? - হ্যাঁ।

আব্দুল, যদি সুযোগ পাস...

...পালিয়ে যাস, আর ওই মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে কোথাও সুখে শান্তিতে থাকিস।

যদি না পারিস, তাহলে এখানেই পচে মরবি।

আমার ওই মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে।

আর কতদিন ও লুকিয়ে লুকিয়ে তোকে দেখতে আসবে?

তোকে যথেষ্ট বলেছি। বাকিটা তোর উপর।

- এই! - স্যার!

এখনও?

- ওকে বেরোতে বলো। - ঠিক আছে, স্যার।

এই, ওকে ডাক।

এই, আর কতক্ষণ লাগাবি? বেরো।

হাবা কোথাকার!

ভেতরে ডিম পাড়ছিলিস নাকি?

- তোকে খিল দিতে বারণ করেছিলাম তো? - চল।

দু'টাকা লাগবে।

এই, ওকে ভেতরে নিয়ে যা। আমি আসছি!

স্যার আসার আগে তাড়াতাড়ি কর।

এই, ওঠ।

যা!

এই, তোরা টয়লেট ব্যবহার করতে পারিস না?

কী হয়েছে? ওখানে যা, হতচ্ছাড়া।

- তাই নাকি! - গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয়?

এত সাহস? মার ওকে!

শালা!

ধর ওকে! জমিতে ফেল!

এই, পান্ডু!

সর!

ধর ওকে! ধুর!

এই, আমার হাত ছাড়!

পালাতে দিবি না। মার ওদের!

পুলিশের গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয়?

পান্ডু, ডিউটি না করে এখানে কী করছো?

এই, অভিযুক্ত কোথায়?

স্যার...

সে তো বাসের ভেতরেই আছে।

বাসের ভেতরে?

তোমরা কী করে তাকে একা ছেড়ে দিলে?

যাও, গিয়ে দেখো!

যাও!

ভাই, এখানে যে বাসটা দাঁড়িয়ে ছিল, সেটা কোথায়?

- কুর্নুলের বাস তো ছেড়ে দিয়েছে। - ছেড়ে দিয়েছে! ওহ, না!

- বাসটা কোথায়? - স্যার, বাসটা ছেড়ে দিয়েছে।

বাস ছেড়ে দিয়েছে--

ওর হাতে হাতকড়া পরিয়েছিলে?

মনে হয়, পরিয়েছিলাম।

মনে হয়, বলছো!

তোমার বন্দুক কোথায়?

স্যার, আমার বন্দুক বাসের ভেতরে ফেলে এসেছি।

ওহ, না!

ওটা বাসের ভেতরে ফেলে এসেছি, স্যার।

ভাই, একটু তাড়াতাড়ি চালাও।

এই! ওটা কি সেই বাসটা?

হ্যাঁ, স্যার।

ভাই, বাসটার পিছু নাও।

আরও জোরে চালিয়ে বাসটাকে ওভারটেক করো।

হর্ন বাজিয়ে বাসটা থামাতে বলো।

বাসটা রাস্তার ধারে দাঁড় করাও।

আমি রেস্টরুম থেকে বেরোনোর আগেই সব কিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।

সে একটা ডিউটি রাইফেল নিয়ে পালিয়েছে। জানি না, কী করব।

- সে অনেক আগেই নেমে গেছে। - সে ডিউটির বন্দুক নিয়ে পালিয়েছে?

আর আই এমনিতেই রেগে আছেন, তোমাদের উপর আরও খেপে যাবেন।

এটা জানতে পারলে, তোমাদের তিনজনের চাকরি খেয়ে নেবেন।

প্রথমে তোমরা কাছাকাছি থানায় গিয়ে একটা অভিযোগ দায়ের করো।

ঠিক আছে!

তোমরা এমনিতেই তদন্ত নিয়ে ঝামেলায় আছো। এখন এটার দরকার নেই।

- এত হইচই কিসের? - দাঁড়াও। তোমাকে পরে ফোন করছি।

- তোমাকে পরে ফোন করছি। - স্যার, ভেবে কথা বলুন!

- এই, হাত সরাও! - না সরালে কী করবেন?

এই! ছাড়ো তো!

সব তোমার জন্য হয়েছে!

তোমরা ভুলেই গেছো যে তোমরা এসকর্ট ডিউটিতে আছো।

যেখানেই যাচ্ছি, তোমরা ঝামেলা পাকাচ্ছো।

এখন দেখো, কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি।

সে বন্দুক নিয়ে পালিয়েছে।

যদি তাকে খুঁজে না পাই, তাহলে আমাদের তিনজনকেই জেলে ঢোকানো হবে।

সবসময় ঝামেলা পাকাও কেন?

সবাই, দয়া করে ভেতরে যান। ভিতরে যান!

থামো!

- স্যার! - স্যার!

- কি হয়েছে? - স্যার, আমি বলছি।

স্যার, আমরা গুন্টুর এআর পুলিশ থেকে এসেছি।

আমরা একটি দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্ট ডিউটিতে ছিলাম।

- অভিযুক্ত আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। - মুরলী, সে এখানেই আছে!

- এই, না! - পান্ডু, না!

- ওর জন্যেই আমরা ঝামেলায় পড়েছি। - এই, ওকে ছাড়ো।

এই, তোমরা কী করছো?

স্যার, ও সারারাত আমাদের ওকে খুঁজতে বাধ্য করেছে।

- নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই নাকি? - চুপ করো!

এই!

তুমি কোন হরিদাস পাল যে আমার থানাতে ঝামেলা করছো?

তারা হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তকে মারছে। তোমরা কী করছিলে?

কী হয়েছে? মজা দেখাচ্ছি!

বেরোও এখান থেকে!

তুমিও!

বেরোও!

এই, তোমরা ওকে মারলে কেন?

কথা বলো!

স্যার, আমরা গুন্টুর এআর পুলিশ থেকে এসেছি।

আমরা তাকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলাম।

রাস্তায়, সে সুযোগ পেয়ে পালিয়ে যায়।

হতচ্ছাড়া মাথামোটার দল!

বন্দুক থাকা সত্ত্বেও তোমরা একজন আসামিকে হারিয়ে ফেললে।

আবার বলছো, সে পালিয়েছে!

পালাবার সময় তোমরা কী করছিলে?

স্যার, রাস্তায় আমাদের একটু সমস্যা হয়েছিল।

- এদিকে, সে... - এই, তোমরা মাতাল নাকি?

মাল খেয়েছো?

- তুমিও কি মাতাল? - না, স্যার।

তোমাদের বাঁদরমার্কা বদন দেখেই বোঝা যাচ্ছে!

প্রথমে তোদের তিন জনকেই রিমান্ডে নেওয়া উচিত। বসো!

- তোমাদের আরআই, সিমহাচালাম নাকি? - হ্যাঁ, স্যার।

তাকে জানাবেন না, প্লিজ। আমরা চাকরি হারাবো।

- তোমরা ডিউটির মধ্যে মাতলামি করছো। - তাকে ফোন করবেন না, প্লিজ।

তোমরা পুলিশ বাহিনীতে থাকার যোগ্যই নও।

- স্যার, স্যার, দয়া করে ফোন করবেন না। - স্যার, এটা করবেন না, প্লিজ।

- উঠে দাঁড়াও! দাঁড়াতে বললাম তো! -স্যার, আরআই জানলে আমরা বিপদে পড়বো।

-আগে দাঁড়াও। -স্যার, আমরা আর এটা করবো না।

- দাঁড়াও! - দয়া করে আমাদের ক্ষমা করুন, স্যার।

প্রথমে তোমরা ভুল করবে, তারপর ক্ষমা চাইবে।

স্যার, শুধু আমরা দুজনেই মদ খেয়েছি।

কিন্তু তিনি ড্রিঙ্ক করেন নি।

স্যার!

এই, সরে দাঁড়াও।

কি হয়েছে?

এর জন্য আমিও দায়ী, স্যার।

আমি যদি বাসে থাকতাম...

...তাহলে ওরা আমাকে ধরে ফেলতো।

কিন্তু ওরা আসে নি দেখে, আমি বাস থেকে নেমে যাই।

স্যার, এটা ওনাদের দোষ নয়!

একজন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বাঁচাচ্ছে।

লজ্জার কথা!

অফিসার!

স্যার!

বন্দুকের বাট নম্বরটা দাও।

স্যার, ১১৩।

তোমার বুলেটগুলো দাও।

বুলেটগুলো দাও।

আমার কাছে নেই।

আমি গুলি ভরেছিলাম।

গুলি ভরা আছে বলছো?

কেন?

সাধারণত, দীর্ঘপথ এসকর্টের সময় বন্দুকে গুলি ভরার কথা নয়।

তুমি বন্দুক লোড করলে কেন?

স্যার, সে মুসলিম...

মুসলিম...

অভিযুক্ত একজন মুসলিম, স্যার।

তাতে কি?

আমিও তো মুসলিম।

আমার সাথে কি করবে?

গুলি করবে?

গুলি করো! গুলি করো!

- এই ছেলে। - স্যার?

- তোমার নাম কি? - আব্দুল রউফ, স্যার।

এই, তোমরা যাও।

এটা নাও।

যাও!

- অফিসার, ওদের বাইরে দিয়ে এসো। - ঠিক আছে, স্যার।

আমি দুঃখিত, স্যার।

আর কখনো আমার সামনে মুখ দেখাবে না। এখান থেকে দূর হও।

যাও!

গাড়ি থামাও।

স্যার।

- কোথায় যাচ্ছো? - কুর্নুল, স্যার।

ঠিক আছে, উঠে পড়ো।

- এসো, উঠে পড়ো! - চলো।

এই!

কখনো আব্দুল কালামের আত্মজীবনী পড়েছো?

ইসলাম মানে শান্তি, জ্ঞান এবং মানবতা।

জিহাদ মানে নৈতিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ন্যায়পরায়ণ হওয়ার জন্য আভ্যন্তরীণ সংগ্রাম।

তেলুগু এবং ভারতীয় মানুষ হিসাবে আমরাও বেঁচে আছি।

কিন্তু তোমরা সব কিছুতে ধর্ম মেশাচ্ছো কেন?

কোথায় যাচ্ছো?

কুর্নুলের পেঁয়াজ বাজারে যাচ্ছি।

- ওদের কুর্নুল বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিও। - অবশ্যই, স্যার।

স্যার, ট্রাকে উঠুন, প্লিজ।

- বাবু! - স্যার?

আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতকড়া না পরানোর অনুরোধ করেছিলিস কেন?

স্যার, আমার যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা, সে কাল আদালতে আমার সাথে দেখা করবে।

সেই জন্য অনুরোধ করেছিলাম।

যে মেয়েটার সাথে তোর বিয়ে হওয়ার কথা...

সে তোর কোনো আত্মীয়ের মেয়ে নাকি?

না, স্যার।

সে আমার প্রেমিকা, স্যার।

তোর ওয়ারেন্টে, ধারা ৩০২ উল্লেখ করা আছে।

কাকে খুন করেছিস?

এই, ভয় পেও না, চলে এসো।

উঠতে থাকো।

এসো!

আসুন, স্বাগতম। আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?

দাদা, আমরা একটা ছবি তুলতে চাই।

দ্বিধা করছেন কেন? দয়া করে ভেতরে যান।

- আমি একটু পরেই আসছি। - চলো যাই।

আরেকটু কাছে আসুন।

লজ্জা পাবেন না।

- ওর কাঁধে হাত রাখুন। - ঠিক আছে।

এই, রাখো!

- দরকার নেই। - বলছি, রাখো।

দয়া করে ছবিটা তুলুন।

দাদা, আমি ওর কাঁধে হাত রাখতে পারি কি?

দেখতে ভালোই লাগবে।

এই, এটা তোমার জন্যই মেশাচ্ছি। এত তাড়া কিসের?

কালা, এদিকে আয়।

এতক্ষণ কোথায় ছিলিস?

কলেজে ছিলাম। আমাদের স্পেশাল ক্লাস ছিল।

স্পেশাল ক্লাস, তাই বল?

বাকিয়াম দিদি বলছিল, তোকে আর আব্দুলকে বাসস্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে।

মা, তুমি যা শোনো, তাই বিশ্বাস করো কেন?

ও আমার সহপাঠী। এইটুকুই।

এমনিতেই ওর মা গ্রামের সামনে আমাদের পরিবারের সম্মানহানি করেছে।

তুইও কি এখন আমাদের অপমান করতে চাইছিস?

আমাদের পুরো পরিবারের সম্মানহানি করার জন্য তোমার ভাই একাই যথেষ্ট...

এখানে ওর মা সমস্যা নয়।

- তিনি সত্যি কথাই বলেছে! - আমি তোর মুখ ভেঙে দেবো, হতচ্ছাড়ি!

আমাদের পারিবারিক ব্যাপারে নাক গলানোর সে কে?

আমাকে একটা কথা বল। সেদিন রাতে সে আমাদের বাড়িতে কিভাবে এলো?

তাহলে, সেই ছেলেটা সেদিন রাতে এই বাড়িতেই ছিল।

থাম!

তোর সাথে কথা বলছি, আর তুই চলে যাচ্ছিস।

তোর বাবা বা মামা যদি এই ব্যাপারে জানতে পারে...

...তাহলে তারা তাকে আর তার মাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবে।

তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছো?

আমি তোমার হুমকিতে ভয় পাই না।

তুমি জানতে চাও, আমার আর আব্দুলের মধ্যে কি চলছে?

এইটুকুই তো?

- আমি ওকে বিয়ে করতে যাচ্ছি। - এই!

এত সাহস তোর?

পরিবারের সম্মান নষ্ট করার কথা যদি ভেবে থাকিস, তারা টুকরো টুকরো...

- ...করে কেটে ফেলবে। মনে রাখিস! - মা!

- মা! - আমার দিকে ওভাবে তাকাবি না!

আমরা তোকে পড়তে পাঠিয়েছি, আর তুই এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিস।

মা, তুমি এত ঝামেলা করছো কেন?

তোর বোন আব্দুলকে বিয়ে করতে চায়।

সে বিপথে চলে গেছে।

কথায় বলে, " যা একবার হাতছাড়া হয়েছে, তা আর ফিরে পাবার সম্ভাবনা নেই।"

ও আমাদের পরিবারের অসম্মান করতে যাচ্ছে।

- ও পালিয়ে যাবে! - চুপ করো!

- ও পালিয়ে যাবে! - পাড়ার লোককে জাগিও না!

আমার স্বামী এক্ষুনি বাড়ি ফিরবে, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না।

- আমি ওর সাথে কথা বলবো। - জানি না, ও কী করতে চলেছে।

কালা! এই কালা, দরজা খোল!

দরজা খোল, বলছি!

এই কালা!

- এই, আব্দুল। - হ্যাঁ, মা।

ওই মেয়েটা আমাদের বাড়িতে এসেছিল কেন?

উত্তর দে!

বাইক থামা!

আহত হয়েছিলাম বলে সে আমার খবর নিতে এসেছিল।

কিন্তু তোর সাথে ওর যা কথা হয়েছে, তাতে তো অন্য কিছু মনে হচ্ছে।

এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করিস না, বাবু।

একমাত্র আমিই জানি, তোর বাবা কত কষ্ট করে এখানে থিতু হয়েছিলেন।

উনি সাইকেলে করে বিভিন্ন শহরে শাড়ি বিক্রি করতে যেতেন।

আর এই বাড়িটা কেনার জন্য তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিলেন।

ওনার একটাই স্বপ্ন ছিল, এই বাড়িটাকে পাকা বাড়ি বানাবেন।

কিন্তু তিনি সেটা করে যেতে পারেন নি।

তোর কাজকর্ম দেখে...

মনে হয়, তুই তোর বাবার স্বপ্ন সফল করতে পারবি না।

- হারামজাদা! - ওহ, না!

তোর এত সাহস?

আমার মেয়েকে বিয়ে করার সাহস হয় কী করে তোর?

আমার ছেলেকে মারবেন না। বরং আপনার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করুন।

কোন সাহসে আমার মেয়ের নামে খারাপ কথা বলিস?

তোদের দু'জনকেই খুন করবো!

এই, কোথায় পালাচ্ছিস?

ওকে ছেড়ে দিন। আমার ছেলেকে মারবেন না।

আমি তোকে খুন করবো!

আমার মাকে ছাড়ুন।

আমার মাকে ছাড়ুন!

- ওকে ছাড়ো! - আমার ছেলেকে ছাড়ো!

দূর হও!

ওকে ছাড়ো!

হতচ্ছাড়ী, আমার মেয়ের পিছনে লেগেছিস।

সেদিন রাতেই তোকে শেষ করে দেওয়া উচিৎ ছিল।

আমার মাকে মারার সাহস হয় কী করে?

তোর সাহস হয় কী করে, হতচ্ছাড়ী?

মা!

মা, মা, মা!

হতচ্ছাড়া! তোদের দুজনকে ছেড়ে দিয়েছিলাম, মা আর ছেলে...

আর এখন তোরা আমার মেয়ের পেছনে লেগেছিস।

মা, মা, মা!

মা, ওঠো।

মা, চলো হাসপাতালে যাই। দয়া করে ওঠো।

মা, দয়া করে ওঠো।

মা, দয়া করে ওঠো।

মা, তুমি ঠিক আছো।

আমরা হাসপাতালে প্রায় পৌঁছে গেছি।

ভাই! আমার মাকে ধরুন, প্লিজ।

- আমার মাকে সাহুকরুন। - এই, কী হয়েছে?

মা...

- তুমি ঠিক হয়ে যাবে, মা। - এই, স্ট্রেচারটা নিয়ে আয়!

ভাই, একটু সাবধানে।

সাবধানে।

মা!

মা!

মা, দয়া করে চোখ খোলো।

মা!

- আপনার কে হন? - আমার মা।

ওনার কী হয়েছে?

একটা গরু ওনার বুকে ধাক্কা মেরেছে।

ভাই, তোমার মায়ের জন্য কিছু কাপড় নিয়ে এসো।

ওহ, না, জামাইবাবু।

আপনি আমাদের সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে গেলেন।

আপনার মৃত্যুতে আমরা অনাথ হয়ে গেলাম, জামাইবাবু।

তার নাম কী? দয়া করে শান্ত হও।

যে আমার জামাইবাবুকে মেরেছে, আমি তাকে কুপিয়ে মারবো।

- এই! এই! - তাকে এখানে সই করতে বলুন।

এই কাগজটায় সই করুন।

এটা হল কীভাবে? কে করেছে?

জানি না, ভাই।

কীভাবে ওরা আমাদের গ্রামে ঢুকে আমাদেরই একজনকে মেরে ফেললো?

এখানে কী হচ্ছে, ভাই?

গ্রামের বাইরে কেউ পেরুমলকে মেরে ফেলেছে।

খুনীর পরিবারের একটা লোককেও ছাড়বো না।

আব্দুল, কেউ আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।

স্যার, আমি মেরে ফেলতে চাইনি।

ও আমার মাকে মেরেছিল, তাই আমি পাল্টা মেরেছিলাম।

যখন জানতে পারলাম সে মারা গেছে,

আমি গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করি।

এই, বাইরে আয়।

বন্ধু, শান্ত হও।

- ওকে ভেতরে আটকে রেখেছেন কেন? - আমরা ওকে গ্রেপ্তার করিনি।

- ও নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে। - ওকে আমার হাতে দাও। আমি দেখছি!

- শান্ত হও। আলোচনা করা যাক। - এই, এখানে চেঁচামেচি করছো কেন?

- এটা কি ঠিক হল, স্যার? - ও নিজেই দোষ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে।

তোমাদের সমস্যা কী? আমরা এফআইআরও করেছি।

শীঘ্রই ওকে রিমান্ডে নেবো।

এখানে ঝামেলা করা বন্ধ করো।

এখান থেকে যাও।

তুমি ওর বাবাকে মেরেছিলে...

তবুও সে তোমাকে দেখতে আসে।

স্যার, ওরা কালাভাতিকে মামলার সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

আমাকে সনাক্ত করতে সে থানায় এসেছিল।

ওর পা ধরে কেঁদে বলেছিলাম, ওনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারি নি।

সে একটাও কথা বলেনি, কাঁদতে কাঁদতে চলে গিয়েছিল।

তোমার মায়ের শরীর এখন কেমন আছে?

ভাই, একটু সরে দাঁড়াও।

আব্দুল!

- দয়া করে সরে দাঁড়ান। - কালা! কালা!

আব্দুল!

কী হয়েছে? তোমাকে এত দুঃখী দেখাচ্ছে কেন?

মা...

অফিসার, টি-শার্ট পরা লোকটাকে বাইরে বার করুন।

ও হাতে কিছু লুকোচ্ছে। ওকে চেক করুন!

মা মারা গেছেন, আব্দুল।

মা!

আমার মায়ের পরে, কালাভাতিই আমার একমাত্র পরিবার।

রাজা মুন্ধ্রি জেলে থাকাকালীন, আমার সাথে দেখা করতে এসে সে কান্নাকাটি করেছিল।

কিন্তু আমাকে গুন্টুর জেলে স্থানান্তর করা হলে, সে ভেঙে পড়েছিল।

তোমাকে গুন্টুর জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল কেন?

কুর্নুলের ট্রেনের হামলার কথা মনে আছে?

ওই হামলার পর, জেলে হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।

তাই, ওরা আমাকে গুন্টুরে স্থানান্তরিত করে।

যখন আমি শুনানির জন্য আদালতে আসি, তখনই সে আমার সাথে দেখা করতে আসে।

কেমন আছো?

পরের শুনানি ১৮ই মার্চ। দয়া করে এসো।

সাবধানে যেও।

কালাভতী!

- ভেতরে যাও। - আব্দুল!

আব্দুল!

২১শে জুন। দয়া করে থেকো।

আমি যদি একটা শুনানিও মিস করি...

তাহলে সে জানতেও পারবে না, আমার পরের শুনানি কবে।

তাই, যাই ঘটুক না কেন, আমরা দুজনেই আদালতে আসার চেষ্টা করি।

গত পাঁচ বছর ধরে, ও আমার সাথে আদালতে দেখা করতে আসছে।

পাঁচ বছর?

স্যার, শুধু কালকের জন্য, আমাকে হাতকড়া পরাবেন না, প্লিজ।

যখনই ও আমাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখে, তখনই কাঁদতে শুরু করে।

এই পাঁচ বছরে, ওকে কখনো হাসতে দেখি নি।

স্যার, আমার এই উপকারটা করুন, প্লিজ।

স্যার?

এটা কিভাবে সম্ভব?

একটা মেয়ে কিভাবে নিজের বাবার খুনীর সাথে দেখা করতে পারে?

তাছাড়া, ওকে ভালো ছেলে বলেও মনে হয় না।

হাসছো কেন?

একটা মেয়েকে পছন্দ করার জন্য ছেলেদের কিছু কারণ লাগে।

মেয়েদের কোনো কারণ লাগে না...

তাদের শুধুমাত্র ছেলেটাকে পছন্দ হতে হয়!

একবার যদি তাদের পছন্দ হয়ে যায়...

তাহলে তারা তার জন্য সবকিছু করতে পারে।

তবে, তুমি ভালোই কথা বলতে পারো।

সিনু।

যদি ছেলেটা সত্যি কথা বলে থাকে...

...তাহলে মেয়েটা এলে আমাকে ফোন কোরো।

আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই।

অবশ্যই, আমি তোমাকে ফোন করবো।

ডিউটি শেষ হয়ে থাকলে সাবধানে বাড়ি যাও।

ঠিক আছে।

- সুপ্রভাত, স্যার। - হ্যালো!

ভাই, চারজনের জন্য।

হ্যালো, অফিসার!

এই নিন। আবার দেখা হবে!

নমস্কার, স্যার!

- পান্ডু। - স্যার?

- তোমরা তৈরি হয়ে নাও। আমি উপরে যাচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার।

স্নান করে নে।

স্যার।

স্নানের জন্য আপনার সাবানটা নিতে পারি?

সাবান? শ্যাম্পুও লাগবে নাকি?

ঠান্ডা জলে স্নান কর।

বাবু, আমার সাবানটা নাও।

এসো, ব্যবহার করো।

স্যার, আমি আগে গিয়ে বেইলিফের সাথে কথা বলছি।

ঠিক আছে, আমরা শীঘ্রই আসছি।

- বিদায়, স্যার। - আদালতে দেখা হবে।

- এই! - স্যার!

- নতুন শার্ট নাকি? - হ্যাঁ, স্যার।

জেলের ভেতরে আমার কিছু বন্ধু আছে। ওরা এটা এনে দিয়েছে।

স্যার, আপনার চিরুনিটা দেবেন?

- শার্টটা কেমন হয়েছে, স্যার? - মনে হচ্ছে, বিয়ে করতে যাচ্ছিস।

এই, জানিস না, একজন আসামীর সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়?

হাতকড়া পরা ওকে।

ধৈর্য ধর! আমি আসছি।

সবসময় মুখ গোমড়া!

- মুরালি, আমরা যাবো কি? - অবশ্যই, স্যার!

- মুরালি, চাবিটা দাও তো। - স্যার।

- এই নিন। - এটা ধরো।

গত রাতে পালাতে পারতিস।

কিন্তু সেটা করিস নি।

পালাতে না চাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে।

তবে নিয়ম হল, নতুন পথে নিয়ে গেলে অভিযুক্তকে হাতকড়া পরাতেই হবে।

গত রাতে একটা গল্প বলেছিলিস, আর আমি সেটা বিশ্বাস করতে চাই।

আমার বিশ্বাস রাখিস।

আপনার বিশ্বাস রাখবো, স্যার।

দেখা যাক!

এই, কী খুঁজছিস?

স্যার, সে সাধারণত সকাল ৮টার মধ্যে আদালতে আসে।

আমাকে হাতকড়া পরা দেখলে সে কান্নাকাটি করে।

আজ আমি হাতকড়া ছাড়া এসেছি, কিন্তু আজ তার দেরি হচ্ছে।

তাই আমি তাকে খুঁজছি।

ঠিক আছে, দেখা যাক, সে আদালতের ভেতরে আছে কিনা।

স্যার, স্যার, দয়া করে একটু অপেক্ষা করা যাক।

অফিসার, আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেন?

ও বলছে কেউ আসছে। অপেক্ষা করা যাক।

স্যার, ও আপনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য গল্প বানাচ্ছে।

আমরা ওকে হাতকড়া ছাড়া এতদূর এনে অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছি।

যদি কোনো অফিসার ওকে আদালতের ভেতরে হাতকড়া ছাড়া দেখে ফেলে...

...তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব, অফিসার।

এই!

আমরা নমনীয় হচ্ছি, কারণ গত রাতে তুই আমাদের সাহায্য করেছিলিস।

তার মানে এই নয়, আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিবি।

চল, যাই!

স্যার, সে আদালতের ভেতরে ঢুকতে ভয় পায়।

আদালতে ওকে দেখতে পাওয়াটাই আমার একমাত্র আনন্দ।

- আপনার কাছে ভিক্ষা চাইছি, স্যার। - এই, ওঠ।

- এই, ওঠ। - দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, স্যার।

স্যার, সে হয়তো ওই বাসে আছে।

স্যার, আর একটা বাসের জন্য অপেক্ষা করা যাক।

অফিসার, এতে কাজ হবে না। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

শোন, যদি সত্যি কথা বলে থাকিস...

...তাহলে মেয়েটা তোকে দেখতে আদালতের ভেতরে অবশ্যই আসবে।

চলে আয়। আর কোনো অনুগ্রহ চাস না।

ভেতরে চল।

আয়!

- পান্ডু। - স্যার?

- আমি গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে আসছি। - আচ্ছা, স্যার।

- তোমরা এখানেই অপেক্ষা করো। - ঠিক আছে, স্যার।

পরবর্তী শুনানি ১৬ই আগস্ট।

- পরবর্তী শুনানি ১৬ই আগস্ট, ২০০৩। - ম্যাডাম।

অভিযুক্তকে নিয়ে যাও।

কুর্নুল পুলিশ, নন্দিয়াল মামলা।

স্যার, এক মিনিট।

অনেক দূরের রাস্তা। অ্যাপয়েন্টমেন্টটা একটু তাড়াতাড়ি করে দিন, প্লিজ।

এই নিন!

একটা তদন্ত চলছে। আমি শীঘ্রই আপনাকে ফোন করবো।

হ্যালো, কালাভতী, কেমন আছো?

ভয় পেও না।

আমি সেই পুলিশ অফিসার, যে আব্দুলকে সাথে করে এনেছে।

এত দূর থেকে এসেও, আমরা তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেছি।

এত দেরি হল কেন?

আমি বাস মিস করেছিলাম, স্যার।

ও আমাকে গত রাতে ঘুমাতে দেয়নি।

এই পান্ডু, একটি মেয়ে তার সাথে দেখা করতে এসেছে।

এখন বুঝলাম, কেন তুই সাবান দিয়ে স্নান করার ব্যাপারে এত খুঁতখুঁতে ছিলিস।

আমার সন্দেহ হচ্ছিল, যখন নতুন শার্ট পরেছিলিস।

এতদূর থেকে এসেছো, তবুও এখানে দাঁড়িয়ে আছো।

সে তোমার সাথে কথা বলার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে।

তার সাথে দেখা করো।

যাও!

কেমন আছো?

- মুরালী। - স্যার।

- এদেরকে নিয়ে গিয়ে বসতে দাও। - ঠিক আছে, স্যার।

- পান্ডু। - স্যার।

বেইলিফের সাথে কথা বলে দেখো, আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে?

- ঠিক আছে, আমি দেখছি। - ঠিক আছে, যাও।

- বলো। - মেরি।

ঠিক যেমনটা সে দাবি করছিল, একটি মেয়ে তার সাথে দেখা করতে এসেছে।

আমি আর সহ্য করতে পারছি না, আব্দুল।

জামাইবাবু আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য যেখানে সেখান থেকে লোক ধরে আনছে।

আর কতদিন তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পারবো, জানি না।

কবে তুমি মুক্তি পাবে?

আমি বেরিয়ে আসবো, কালা।

শীঘ্রই মুক্তি পাবো।

কেঁদো না, কালা।

ছেলেটা যখন এটা বলেছিল, তখন আমি বিশ্বাস করিনি।

ফোনটা মেয়েটাকে দাও। তার সাথে কথা বলতে চাই।

সিনু।

- সিনু? - স্যার, আরও দুই ঘণ্টা লাগবে।

- এখনও কানেক্টেড আছো? - অবশ্যই, স্যার।

হ্যালো?

পরে কল করছি।

- মুরলী। - স্যার।

মনে হয়, আমাদের পালা আসতে এখনও অনেক দেরি আছে।

- চা খাবে? - নিশ্চয়ই!

ভাই, তিনটে চা দাও।

- আমরা একটু সিগারেট খেতে যাচ্ছি। - ঠিক আছে।

- তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। - ঠিক আছে, স্যার।

একটা কথা বল। তুই কোন ভরসায়, ওকে অপেক্ষা করাচ্ছিস?

- স্যার? - মানে...

তুই কোন ভরসায়, ওকে এত বছর ধরে অপেক্ষা করাচ্ছিস?

আমার মামলার রায় শীঘ্রই বেরোবে।

এটা কী করে সম্ভব?

আজ যদি তোর মামলা তদন্তের জন্য দেওয়াও হয়,

তাহলেও রায় বেরোতে অন্তত দুই বছর লাগবে।

ততদিন ওকে কি এই বিশ্বাস দিয়ে ভোলাবি, যে তুই মুক্তি পাবি?

জেলখানায় নিশ্চয়ই তোকে বিনামূল্যে একজন আইনজীবী দেওয়া হয়েছে।

হ্যাঁ।

ট্রেনের ঘটনার পরে...

আমাকে বলা হয়েছিল, কিছু আইনজীবী মুসলিম বন্দীদের...

জামিনের আবেদন পেশ করতে রাজি হন নি।

- তাছাড়া, আমারটা খুনের মামলা... - শোনো, মেয়ে...

ও ফালতু কথা বলছে।

আর তুমি সেটা বিশ্বাস করছো।

ওর জন্য উকিল রাখো নি কেন?

- এই, এই, এই! - ডাইনি মর!

- কী করছো? - মারছো কেন ওকে?

যে তোমার বাবাকে মেরেছে, ও তার জামিনের জন্য উকিলের কাছে গিয়েছিল।

হতচ্ছাড়ি বেহায়া!

- এই, এখান থেকে যাও। - ধাক্কা দিচ্ছো কেন?

ওর মতলব খারাপ। ওকে জিজ্ঞাসা করো!

আমাদের আর কত জ্বালাবে?

তোমার অন্য হাতটাও ভেঙে দেবো।

যদি আবার উকিলের সঙ্গে দেখা করে, ওকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলবো।

এখান থেকে দূর হও!

তুমি বরং ওকে সুস্থ করে তুলতে প্রস্তুত থাকো।

দূর হও!

তোকে আগে মারা উচিৎ।

স্যার, আমি গিয়ে বেইলিফের সাথে কথা বলে আসছি।

- তুমি এগোও। আমি আসছি। - ঠিক আছে, স্যার।

গত রাতেই পালিয়ে যেতে পারতিস।

পালাস নি কেন?

আমি ভেবেছিলাম।

ওর সাথে নতুন জীবন শুরু করার জন্য, জেল থেকে পালানোর কথা ভেবেছিলাম।

কিন্তু আমার নাম আব্দুল, আর আমি একজন আসামী, কতদূর আর যেতে পারতাম?

যদি ধরা পড়তাম, ও অনাথ হয়ে যেতো।

একথা ভেবেই আত্মসমর্পণ করেছিলাম।

- ভাই! - হ্যালো!

- বন্ধু! - বন্ধু!

- কেমন আছো? - ভালো আছি!

- এখানে অপেক্ষা করছি। - ঠিক আছে, পরে দেখা হবে।

শোন, সম্ভবত এরপর আমাদের মামলার ডাক পড়বে।

যখন তুই শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়াবি...

বিচারকের দিকে তাকিয়ে বলবি...

"স্যার, আমি স্বীকার করছি, খুন করেছি।"

"সে আমার মাকে মেরেছিল, তাই আমি প্রতিশোধ নিয়েছি।"

"মারামারির সময়, সে দুর্ঘটনাক্রমে মারা যায়।"

"আমি অনাথ। আমার জামিন দেওয়ার কেউ নেই।"

শেষে বলবি, "আমি সাজা ভোগ করতে রাজি এবং...

একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসেবে নতুন জীবন শুরু করতে চাই।"

স্যার, বিচারকের সাথে এভাবে কথা বলা কি ভুল হবে না?

কোনো ভুল হবে না।

তুই পাঁচ বছর ধরে বিচারাধীন বন্দী।

যতক্ষণ না তুই মুখ খুলবি, কেউ তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না।

তোর কণ্ঠই হবে তোর শক্তি।

ভয় পাস না। সাহস করে কথা বল।

বিচারক এক ঘণ্টার জন্য লাঞ্চ বিরতিতে গেছেন।

এটা আগে জানাতে পারলেন না?

তোর হাতে সময় আছে। বিচারকের সাথে কীভাবে কথা বলবি, প্র্যাকটিস কর।

মাননীয় বিচারক, আমার নাম আব্দুল।

আমি পাঁচ বছর ধরে জেলে আছি।

আমি খুনের কথা স্বীকার করছি।

দয়া করে বলুন, আমাকে আর কতদিন সাজা ভোগ করতে হবে।

আমি ততদিন সাজা ভোগ করে মুক্তি পাবো।

এই, যদি তুই কোনো আবেগ ছাড়া কথা বলিস...

...তাহলে মরার আগ পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে।

এটা মজার, তাই না?

এই, আবেগের সাথে কথা বল।

ভালো করে প্র্যাকটিস করো।

আব্দুল, বিচারকের সাথে কথা বলার সাহস জোগাড় করো।

আমার বোনের বিয়েতে তোমাকে আসতেই হবে।

- আমি সেখানে থাকবো। - কোনো অজুহাত শুনতে চাই না।

- শুভকামনা থাকলো। - পরে দেখা হবে।

- প্র্যাকটিস করছে নাকি? - ভালো করছে।

ভালোই করছে। ও পারবে।

স্যার, আমি খুব উদ্বিগ্ন।

এখানে নামাজ পড়তে পারি কি?

এই, আদালতের ভিতরে প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।

স্যার, জানেন না, কর্মকর্তারা আপত্তি করবে? তাকে বলেন নি কেন?

স্যার, আপনি যেতে পারেন।

যত্তসব আধুনিক পদ্ধতি।

বিচারক তার কক্ষে দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্টদের সাথে দেখা করবেন।

দয়া করে সেখানে একত্রিত হোন।

স্যার, বিচারক আদালতে এলে, অন্তত আমি কথা বলতে পারবো।

কিন্তু বন্দীদের কক্ষের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নেই।

স্যার, এখন আমরা কী করবো?

স্যার?

- এই, এটা ধর। - স্যার?

এখন কী করবো?

দেখা যাক।

- রাজা মুন্ধরি, কারাগার? - হ্যাঁ, স্যার।

আমার সাথে আসুন।

- এখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি। - এখানেই থাকো।

এই মেয়ে, এদিকে এসো।

এই, ওর হাত ছাড়ো।

স্যার, এটা করবেন না।

ওকে ছেড়ে দাও।

স্যার, যদি ওকে কক্ষে ঢুকতে দিই, আমরা ঝামেলায় পড়বো।

কোনো সমস্যা হবে না, আমি সামলে নেবো।

দয়া করে বিষয়টি ভেবে দেখুন, অফিসার।

এই ব্যাপারে আমাকে বাধা দিও না।

শোনো, যদি কোনো সমস্যা হয়...

তাহলে তোমরা সব দোষ আমার উপর চাপিয়ে নিরাপদে সরে যেতে পারো।

এখন, ওর হাত ছাড়ো।

- স্যার... - ওর হাত ছাড়ো, বলছি!

এসো।

- চলো, যাওয়া যাক। - আসুন, স্যার।

- নাম? - কোন্ডালরাজু।

- বাবার নাম? - ভেঙ্কট রাজু।

- পরবর্তী শুনানি ১৬ই ডিসেম্বর। - ঠিক আছে, স্যার।

- স্যার, এরপর যেতে পারেন। - নিশ্চয়ই!

স্যার, আপনি বকশিশ দিতে ভুলে গেছেন।

আমি তোমাকে দিয়ে দেবো।

শোনো, তুমি যে দেবতার কাছে প্রার্থনা করো, তিনি ভাগ্য বদলাতে পারবেন কি না জানি না।

ভিতরে একজন বিচারক বসে আছেন।

তিনি আজ তার ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছেন।

তোমরা দু'জন ভিতরে যাও এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে তার সাথে কথা বলো।

- এগিয়ে যাও। - চলো যাই।

দোহাই আপনার, আমাদের বাঁচান!

এই, কী হয়েছে? আমার পায়ে পড়ছো কেন?

ওঠো।

আমাদের বাঁচান।

পুলিশ! পুলিশ!

দোহাই আপনার!

এই, এরা কারা? আমার পায়ে পড়ছে কেন?

এদের বিয়ে হবে।

আর আপনার আশীর্বাদ নিতে চায়।

ওদের দাঁড়াতে বলো।

এই, ওঠো। উঠে পড়ো।

স্যার!

- দয়া করুন, স্যার। - দোহাই আপনার।

এই ছেলেটি পাঁচ বছর ধরে বিচারাধীন বন্দী।

ওরা দুজনেই অনাথ।

আর, ওর জামিন দেবার কেউ নেই।

তাই, ওরা ভেবেছিল, আপনার সাথে দেখা করে কথা বলতে পারলে...

যদি কোনো আইনী সমাধান বের করা যায়।

তাই আমি ওদের ভেতরে আসতে দিয়েছি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।

আপনারা বাইরে অপেক্ষা করুন।

দোহাই আপনার!

উনি বেরিয়ে এসেছেন।

কী হয়েছে? আশা করি, কোনো সমস্যা হয়নি।

উনি আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন।

আব্দুল রউফের সিডি আর ফাইলগুলো নিয়ে এসো।

স্যার, আপনি এটা কী করলেন?

ওরা ওনার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।

স্যার, কটা বাজে?

- তিনটা পনেরো বাজে। - তিনটা পনেরো!

বিচারক কি দীর্ঘ দূরত্বের এসকর্ট মামলাগুলো দেখছেন না?

- এত দেরি হচ্ছে কেন? - স্যার, উনি ভেতরে দু'জনকে পাঠিয়েছেন।

বিচারক অনেক্ষণ ধরেই ওই মামলাটার তদন্ত করছেন।

কাদের ভেতরে ঢুকতে দিয়েছো?

স্যার, ছেলেটা বিচারকের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।

এটা তোমার কাজের অংশ নাকি?

নিজের কাজ না করে...

অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে মাথা ঘামাচ্ছো।

- গুণ্টুর থেকে এসকর্ট কে এসেছেন? - আমি, স্যার।

বিচারক আপনাকে ডাকছেন।

মাননীয় বিচারক।

- বুনরথ! - মহামান্য!

- তোমার কাছে কত টাকা আছে? - কী?

এই নিন।

- এটা ধরো। - স্যার।

- ওদের দুপুরে বিরিয়ানি কিনে দিও। - অবশ্যই, স্যার।

আপনি ভেতরে যেতে পারেন।

স্যার! স্যার!

স্যার!

স্যার!

- এই, কী হয়েছে? - স্যার!

এই, দুজনেই ওঠো। এসব এখানে করতে নেই।

ওঠো। পায়ে পড়া উচিত নয়।

আরে, শোনো।

আমি বলছি, ওঠো।

ওঠো!

কী হয়েছে? ভিতরে কী হয়েছে?

বলো।

স্যার, আমি আব্দুল আর ও কালাভতী।

কয়েক বছর ধরে আমাদের মধ্যে প্রেম চলছে।

ওর বাবা যখন জানতে পারলেন, তখন তিনি এসে আমাকে মারধর করেন।

আমার মা থামাতে এলে, তিনি আমার মার বুকে লাথি মারেন।

আমি রাগের বশে তাকে ধাক্কা দিই।

মা!

মা, ওঠো।

তিনি মারা গেছেন!

আমি পাঁচ বছর ধরে বিচারাধীন বন্দী।

আমার মা তার বাবার লাথিতে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান।

আমি অনাথ। এখন ও-ই আমার একমাত্র পরিবার।

ও এই আশায় পাঁচ বছর অপেক্ষা করছে, যে আমি মুক্তি পাবো।

আপনার যা সঠিক মনে হয়, সেই শাস্তি ভোগ করতে রাজি আছি।

আমার সাজা শেষ করে ওর সাথে নতুন জীবন শুরু করতে চাই।

দয়া করে আমার মামলার তদন্ত করুন।

দয়া করে আমার মামলার তদন্ত করুন, স্যার।

নিয়মানুযায়ী, এই মামলা থেকে তোমার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

আমরাও দোষী।

গত পাঁচ বছরে, এই আদালত মামলাটি এমনকি বিচারের জন্যেও পেশ করতে পারেনি।

তাই, এই আদালতের একজন বিচারক হিসেবে, আমি তোমাদের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি।

আমি নিশ্চিত করবো, পরবর্তী শুনানিতে একটা যথাযথ রায় ঘোষণা করা হবে।

আইনগতভাবে, এটি তোমার মুক্তিও হতে পারে।

বিচারক নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী শুনানিতে আমাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

তোমাকে মুক্তি দেবে?

সবকিছু আপনার জন্য হয়েছে, স্যার।

দয়া করে কেঁদো না।

স্যার! স্যার!

কী হয়েছে?

সাধারণত, আদালতে আসার আগে আমি...

কাছাকাছি একটি মন্দিরে যাই।

সেখানে একজন জাগ্রত দেবতা আছেন।

আব্দুল যদি মুক্তি পায়...

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আমি তাকে মন্দিরে নিয়ে আসবো।

ওকে সেখানে নিয়ে যেতে পারি?

প্লিজ, ওকে নিয়ে যাই, স্যার।

- চাইলে তোমাদের ব্যাগগুলো আমার কাছে রাখতে পারো। - অবশ্যই!

- এটা সাবধানে রাখবেন, প্লিজ। - আপনি আসছেন না, স্যার?

তোমরা এগোও।

- ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না? - করি!

ঈশ্বর আমাকে কোনো সমস্যায় ফেলেন নি।

অকারণে তাঁকে বিরক্ত করবো কেন?

তুমি প্রার্থনা করে এসো।

ঠিক আছে, স্যার।

এখনই ফিরে আসছি, স্যার।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

মুদ্রা কামড়ে ঈশ্বরকে নিবেদন করলে, আমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর হবে।

আমি আপনার জন্য প্রার্থনা করেছি।

- খাও। - আমার লাগবে না। তুমি খাও।

লেগ পিস পছন্দ নয়?

- আমাকে দে। আমি খাবো। - এই নিন।

- আমাকে দে। - না, তুমি খাও।

- ওনাকে খেতে দাও। - না, তুমি খাও।

প্রেমের জোয়ার বইছে মাইরি!

- হ্যাঁ, মেরি। - ফোনটা ওই বাচ্চাদের দাও তো।

দিদি, কেমন আছেন?

আমার স্বামী তোমাদের দুজনের কথা বলেছিল।

আসন্ন শুনানিতে আমি মুক্তি পাবো।

এই, বোস।

- এই! - স্যার?

বাড়াবাড়ি করছিস, ভাই!

ওকে চলে যেতে বলো। হে ভগবান!

স্যার, এখন আমাকে হাতকড়া পরাতে পারেন।

ঠিক আছে।

দিদি!

কালা!

- আব্দুল... - কী হয়েছে?

আব্দুল মুক্তি পেতে চলেছে, দিদি।

অনেক দিন হয়ে গেল, তোকে হাসতে দেখি নি।

- স্যার! - নমস্কার, স্যার।

তোকে খুব খুশি দেখাচ্ছে!

পরবর্তী শুনানির পরে আমি মুক্তি পাচ্ছি।

আমি তোর জন্য খুশি।

স্যারই আমাকে সাহায্য করেছেন।

স্যার, দয়া করে আমাকে পরবর্তী শুনানিতেও নিয়ে যাবেন।

আপনি আমার সাথে থাকলে আমি জোর পাবো।

আসবেন তো, স্যার?

চল, যাওয়া যাক।

বিদায়, স্যার।

আমরা কি যাবো, স্যার?

ভাই, আমি মুক্তি পাচ্ছি।

দারুণ খবর, আব্দুল।

একই তারিখে ওকে আমার এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার কথা।

বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছি!

দেখো, এটা নিয়ে চিন্তা কোরো না।

প্রথমে, তদন্তে যোগ দাও।

কমিটি এমনিতেই তোমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।

তুমি তদন্ত এড়িয়ে গেলে, রবি আর চন্দ্রন ঝামেলায় পড়বে।

তুমি বুঝতে পারছো না।

সে বিশ্বাস করে আমাকে অনুরোধ করেছে। আর আমি রাজি হয়েছি।

পান্ডু আর মুরলী দিল্লিতে এসকর্ট ডিউটিতে আছে।

আমি বেশ বিভ্রান্ত।

যাইহোক, এআর থেকে কেউ একজন ওর এসকর্ট হবে।

এই বিষয়ে দেবার সাথে আলোচনা করবো কি?

- এই, আব্দুল! - ভাই!

আমাদের সাথে বোস।

কী খবর, ভাই?

আব্দুল, কাল এই সময়ে তুই মুক্তি পাবি।

বাবু, মেয়েটার ঠিক ভাবে খেয়াল রাখিস।।

বাজে লোকদের সাথে মিশিস না।

মেয়েটি তোকে নিজের জীবন সঁপে দিয়েছে।

কী হয়েছে, সিনু?

তদন্ত নিয়ে চিন্তিত নাকি?

হ্যাঁ, মেরি।

যদি আমি তদন্তে না যাই, তাহলে আমার লোকেরা সমস্যায় পড়বে।

জানি না, কী করবো।

ওই দুজন তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

যেকোন উপায়ে সেখানে থাকার চেষ্টা করো।

হ্যালো, স্যার।

- ওকে চেক করো। - ঠিক আছে, স্যার।

চল, যাই।

স্যার, শ্রীনিবাস স্যার আসেন নি?

আসবে। চল, যাওয়া যাক।

স্যার, তিনি আমাকে নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এই! সে নিতে এলে তবেই যাবি নাকি?

- তা বলতে চাই নি, স্যার। - আয়!

আমাদের কতবার একই কথা বলতে হবে?

ওরা এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করছে।

দেরি হয়ে যাচ্ছে।

আমাদের কিছু হয়ে গেলে ওরা কী করতো?

বোস।

- ভাস্কর! - হ্যাঁ, অফিসার।

আমাদের কখন ডাকবে? দুপুর থেকে অপেক্ষা করছি।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, প্লিজ। ওনারা মিটিঙের জন্য বাইরে গেছেন।

ফিরলেই আপনাদের ডাকবেন।

স্যার, পরের শুনানিতেও আমাকে নিয়ে যাবেন, প্লিজ।

আপনি সাথে থাকলে আমি সাহস পাবো।

ভিতরে কী রেখেছিস?

কিছু নয়!

আমার এত টাকার দরকার নেই। এটা ফেরত নে।

আমার সাথে তর্ক করিস না।

খালি হাতে যাস না।

এটা কোনো দান নয়।

তোর বিয়ের জন্য জমানো টাকা।

তুই এটা দরকারী কাজে লাগাস।

কাঁদিস না। কাঁদছিস কেন?

শুধুমাত্র পারিবারিক সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখার জন্য...

মাতালটার সাথে বিয়ে দিয়ে ওরা আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে।

চাই না, তোর পরিণতি আমার মতোই হোক।

তুই খুব ভালো।

এত মারধোর সহ্য করেও, এখনও শক্ত আছিস, হাল ছাড়িস নি।

এই মনোবল ধরে রাখ, আর আব্দুলকে নিয়ে জীবন কাটা।

কিন্তু আমার খারাপ লাগছে, তুই একদম একা হয়ে যাবি।

দিদি!

তোর সব সার্টিফিকেট নিয়েছিস?

আব্দুল যতক্ষণ না একটা ভালো চাকরি খুঁজে পাচ্ছে...

ততদিন তুই একটা চাকরি খুঁজে নিস।

কারও উপর নির্ভরশীল হোস না।

সকালে, প্রতিদিনকার মত, বাসস্ট্যান্ডে যাবি।

আমি কোনোভাবে লুকিয়ে ব্যাগটা তোর কাছে পৌঁছে দেবো।

- যাওয়ার আগে মাকে বলবো? - এই!

মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?

আমি সামলে নেব। তুই কিছু করিস না...

শয়তানী!

কী মতলব আঁটছিস?

- কিছু না তো... - দেখাচ্ছি মজা!

- দিদি! - কিছু না, তাই তো?

তোকে আগেই টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা উচিৎ ছিল।

এই, ওকে ছাড়ো!

হতচ্ছাড়ি! পালাবার বুদ্ধি দিচ্ছিস।

কোথায় পালাচ্ছিস?

বেহায়ার মতো পালাচ্ছিস!

আমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করার সাহস কী করে হয়?

তোকে এখান থেকে জ্যান্ত বেরোতে দেবো না।

- দেখাচ্ছি মজা... - এই, ওকে ছাড়ো।

- ওকে ছাড়ো। - আমাকে ছাড়ো।

- তাতে তোমার কি যায় আসে? - ওদের জন্য ঘটকালি করছিস?

প্রথমে, তোকে মারবো।

- মেরেই ফেলবো। - মাতাল কোথাকার!

সে কার সাথে পালাবে, তাতে তোমার কি যায় আসে?

ওকে ছাড়ো!

সে তোর বোনকে বিধবা করেছে, তবুও তাকে সমর্থন করছিস।

- দিদি! - মরে যা!

ওকে মারলে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

- এই! - আমাকে সাহায্য করো।

কেউ আমাকে সাহায্য করো। ও আমার বোনকে মারছে।

ও আমার বোনকে মারছে!

কি হয়েছে? বল, কি হয়েছে?

ওহ, না, আমার মেয়ের কি হয়েছে?

বেরিয়ে আয়।

এই নে।

দুরাই, এর হাতকড়া খুলে দাও।

এই নাও।

- পাসপোর্ট জমা দিতে যাচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার।

কি খুঁজছিস?

কালাভতীকে খুঁজছি।

থানায় অভিযোগ দায়ের করবো নাকি?

সে তো আর বাচ্চা নয়, যে পথ হারাবে।

- সে এখানেই থাকবে। - স্যার, একটু সরুন।

১২ই ফেব্রুয়ারি।

পরবর্তী শুনানি, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৪।

- অভিযুক্তকে নিয়ে যান। - ম্যাডাম, পাসপোর্ট।

এসসি নং ১৫/২০০১

রাজা মুন্ধরি পুলিশ।

কি হয়েছে?

শ্রীনিবাস যে বিচারকের কথা বলেছিল, তিনি আজ নেই।

বিচারক পরিবর্তন করা হয়েছে।

অফিসার, বিচারকের সাথে কথা বলে আমাদের ঝামেলায় ফেলবেন না।

আমরা তাকে এনেছি। সুতরাং, আমরা শুনানির পরবর্তী তারিখ পাবো।

পরে, আমরা বাকিটা আলোচনা করবো।

এসসি ৫৯/১৯৯৭ গুন্টুর এসকর্ট পুলিশ

অফিসার শ্রীনিবাসের সাথে কথা বলো, প্লিজ।

ঠিক আছে, আপনি ওকে ভিতরে নিয়ে যান।

ভাই, কখন আসবে?

- তোমার নাম কি? - আব্দুল রউফ, মহামান্য।

- বাবার নাম? - ইয়াসিন!

পরবর্তী শুনানি, ১৯শে জানুয়ারি ২০০৪।

অভিযুক্তকে নিয়ে যাও।

স্যার! স্যার!

আগের শুনানির সময়, বিচারক আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন...

যে এই শুনানিতে আমাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

শোনো, আদালতের ভেতরে চিৎকার করার অনুমতি নেই।

চুপ করো।

স্যার, দয়া করে আমার মামলার কাগজপত্র দেখুন।

তোমার মামলা লড়ার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করতে পারো।

পুলিশ, একে নিয়ে যাও।

- একবার আমার মামলার কাগজপত্র দেখুন। - বিচারকের আদেশ মানো।

স্যার, আমাকে যেতে দিন, প্লিজ। আমাকে বিচারকের সাথে কথা বলতে দিন।

স্যার, এখন কথা না বললে, আমি আর সুযোগ পাবো না।

- একে নিয়ে যাও। - স্যার, আমি অনাথ!

আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই।

- দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। - একে বাইরে নিয়ে যাও।

- দেবা, কী হয়েছে? - অন্য বিচারক আছেন।

ছেলেটি আতঙ্কে চিৎকার করছে।

সরে যান।

আদালতের ভেতরে নাটক কোরো না।

প্রথমে, চলুন বাইরে যাই।

স্যার, দয়া করে বিচারককে বুঝিয়ে বলুন।

আগের বিচারক আমার মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এই, বাজে কথা বলবে না।

তোমাকে একজন আইনজীবী নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলাম।

স্যার, দয়া করে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

স্যার, একটু অপেক্ষা করুন, প্লিজ।

স্যার!

সে সত্যি বলছে।

আগের শুনানির বিচারক রাজেন্দ্র প্রসাদ...

তার মামলার কাগজপত্র দেখেছিলেন...

এবং পরের শুনানিতে তাকে মুক্তি দেবার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

দয়া করে একবার তার মামলার কাগজপত্র দেখুন।

সে গত পাঁচ বছর ধরে জেলে আছে।

আইন অনুযায়ী, আবেগের বশে করা অপরাধের জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়।

আপনি যদি এখন রায় দেন, তবে সে মুক্তি পাবে।

দয়া করে বিবেচনা করুন, মহামান্য।

ওহ, তাহলে এখন তুমি আমাকে আইন শেখাচ্ছো।

আমার সেই উদ্দেশ্য ছিল না।

তোমাকে কে বলেছে, খুনের জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়?

বলো! কে বলেছে?

স্যার, সে ভুল করে বলে ফেলেছে।

তাকে সমর্থন করছো কেন?

বেরিয়ে যাও!

প্রথমে বলো, তুমি কে।

আমি এসকর্ট পুলিশ।

তোমার উর্দি কোথায়?

আমাকে তার পাসপোর্ট দাও।

তোমার নাম কি?

মহামান্য বিচারপতি, আমি শ্রীনিবাস।

এখানে তোমার নাম নেই।

আগের শুনানির সময় আমি ওর এসকর্ট ছিলাম।

তাহলে এখন এখানে কেন?

অভিযুক্তের থেকে ঘুষ নিয়ে, আমার মুখে মুখে কথা বলার সাহস হয় কী করে?

আমি নিই নি!

আদালতের সাথে প্রতারণার জন্য আমি তোমাদের সবাইকে রিমান্ডে নেবো।

আমি দেখবো, এই অভিযুক্ত যেন জামিন না পায়।

তোমরা চারজন এই পাসপোর্টটা নিয়ে তোমাদের এআর-এর সাথে দেখা করো।

অপেক্ষা করো। দেখো, এরপর তোমাদের কী হয়।

বেরোও এখান থেকে!

- এই, এসো। - স্যার।

- চলো, বাইরে গিয়ে কথা বলি। - স্যার!

- চলো, বাইরে যাই। - স্যার...

বিচারকের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়, জানো না?

- চলো, বাইরে যাই। - স্যার।

- দয়া করে বুঝুন... - উনি ভুল বুঝেছেন।

- চলো। - আমাকে একবার চেষ্টা করতে দিন।

এসসি নম্বর ১৩/৯৮ কাদাপা দক্ষিণ থানা।

- স্যার! স্যার! - এই, চুপ কর!

- এই, ধায়াকর। - চুপ করতে বললাম তো!

স্যার, ওদের বুঝিয়ে বলুন।

আগের বিচারক আমাকে ছেড়ে দেবার কথা বলেছিলেন।

- ধায়া, ধৈর্য ধরো। - কেউ আমাকে বিশ্বাস করছে না।

ওকে নিয়ে টানাটানি কোরো না।

কী হয়েছে তোর?

- স্যার, বিচারক আমাকে ভরসা দিয়েছিলেন। - কালাবতী কোথায়?

কী হয়েছে, জানি না।

ও এখনও আসে নি।

এই, ওখানে দাঁড়া।

- ধায়া, ওকে সামলাও। - আমি সত্যি বলছি।

- মিথ্যে বলছি না। - শান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছেই না।

একটু শান্ত থাক।

গন্ডগোল করিস না।

অপেক্ষা করে দেখা যাক, মেয়েটা আসে কিনা।

এর মধ্যে ফালতু জড়াচ্ছো কেন?

সুন্দর, একটা অটো দেখো। চলো, এখান থেকে যাই।

- চল, যাই। - দয়া করে আমার কথাটা শুনুন।

ও বিচারকের সাথে কথা বলতে গেল কেন?

এখন আমাদের সবার ওপর তদন্ত হবে।

আমার এটা প্রাপ্য নয়। এই, চুপ কর!

আমি বিষয়টা দেখছি।

কিভাবে সামলাবে? কিভাবে?

- এই, চল। - স্যার।

- যেতে বললাম তো। - দেবা!

স্যার, যাবার আগে অন্তত একবার ওর সাথে দেখা করতে দিন।

- চলতে থাক। - দয়া করে ওনাকে বুঝিয়ে বলুন।

ওনাকে একটু বোঝান, প্লিজ। মেয়েটার সাথে দেখা করে তারপর যাবো।

তোর জন্যেই আমরা বিপদে পড়েছি।

- তোকে সারা জীবন জেলেই কাটাতে হবে। - স্যার!

অন্তত ওকে পরের তারিখটা জানাতে দিন।

- স্যার, দয়া করে আমাকে ছাড়ুন। - ধায়া, এবার থামো।

- আসবি নাকি আসবি না? - দয়া করে আমার কথাটা শুনুন।

- এই! এই! - এই, ভাই!

কী করছো?

- দৌড়ে গিয়ে ধরো। - এই অটো, তাড়াতাড়ি এসো।

ও পালাতে পারে। আরও জোরে চালাও!

এই, দাঁড়া!

ধরতে পারলে খুন করবো।

শালা, একবার ধরতে পারি...

ধরতে পারলে, ছিঁড়ে ফেলবো।

এই!

দাঁড়া, বলছি!

এই!

এই, ঘোরো। ওইদিকে গেছে।

ধর শালাকে!

- কত বড় সাহস যে পালাচ্ছিস? - স্যার, আমাকে ছেড়ে দিন।

এই!

স্যার, আমাকে যেতে দিন। ওর সাথে দেখা করা দরকার।

মার শালাকে।

- কোন সাহসে পালিয়ে গেলি? - ওর সাথে দেখা করা দরকার, স্যার।

- চল! - আমাকে ছাড়ুন।

- স্যার! - ভিতরে চল।

- ও পালাচ্ছে। - অন্যদিক দিয়ে বেরোচ্ছে।

এই, কোথায় পালাচ্ছিস?

- স্যার, ওর সাথে দেখা করা দরকার। - কত বড় সাহস যে পালাচ্ছিস?

চেপে ধরো ওকে!

- স্যার, আমাকে যেতে দিন। - দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।

- সাহস হয় কী করে? - স্যার, আমি যাবো না।

আমি যাবো না!

- ঢোকাও এটাকে। - স্যার, দেখা না করে যাবো না।

স্যার, আমাকে ছেড়ে দিন।

- এই! - স্যার, আমাকে যেতে দিন।

- ভিতরে যা, শয়তান। - কী করছো?

স্যার, ওর কিছু একটা হয়েছে।

আমাকে গিয়ে দেখতে দিন।

- স্যার, আমাকে যেতে দিন। - এই, ওকে ছাড়ো!

- স্যার! - ওকে ছাড়ো।

স্যার, আপনি ওকে সমর্থন করছেন কেন?

আপনার জন্যেই ও পালিয়ে গিয়েছিল।

- এই! - স্যার, আমাকে ওর সাথে দেখা করতেই হবে।

- স্যার! - আব্দুল!

- ওকে ছাড়ো। আমি সামলাচ্ছি। - আব্দুল।

- বাস থামান। - ও আমাদের অভিযুক্ত।

- আমরা ওকে এখানে এনেছি। - আব্দুল।

দয়া করে বাস থামান।

- দেবা, এখনো ওর সাথে কথা বলছো কেন? - বাস থামান।

- আমি ওকে সামলাবো। - আব্দুল!

স্যার, আপনি ওকে সমর্থন করতে পারেন। ফল-ও ভোগ করতে পারেন।

- আমি এটা করতে পারবো না। - তোমার কি হয়েছে?

আমি তোমার কথা শুনতে বাধ্য নই।

কালাভতী! কালাভতী!

স্যার, কালাভতী!

ওহ, না, কালাভতী!

সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে গুড রেটিং ও সাবগ্রুপে ফিডব্যাক দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

স্যার!

কয়েক বছর পর...

স্যার, মেয়েটি মারা যাওয়ার পর, ছেলেটার কি হয়েছিল?

কি হয়েছিল, মনে হয়?

যদি সত্যি ভালোবেসে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই সে আত্মহত্যা করেছে।

- অনেক সিনেমা দেখো বোধহয়। - হ্যাঁ, স্যার।

আব্দুল।

কালা।

এই, মেয়েটির কিছু হয় নি। ও বেঁচে আছে!

আমি আর আমার স্ত্রী আব্দুলের হয়ে মামলা লড়ে ওকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম।

এখন আব্দুল কালাভতীর সাথে সুখী জীবন কাটাচ্ছে।

প্রত্যেক পুলিশ অফিসারের কিছু মৌলিক ক্ষমতা থাকে।

এটা জানা জরুরি, এটা কার উপকার করবে।

আমার যে ক্ষমতা ছিল...

ছেলেটিকে বিচারকের সাথে কথা বলানোর জন্য, আমি সেটা ব্যবহার করেছিলাম।

সামান্যই সাহায্য ছিল।

কিন্তু এটা তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করেছে।

এই সিস্টেমের ক্ষমতার কাঠামো...

বহু যুগ ধরে অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে থেকেছে।

আমরাও এই সিস্টেমের অংশ।

তোমরা যখন প্রশিক্ষণ শেষ করে পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেবে...

তখন যদি দেখো, অসহায় মানুষ তোমাদের কাছে সাহায্যের জন্য এসেছে,

তাদের সাথে ভাই-বোনের মতো, বন্ধুর মতো কথা বোলো।

যদি তোমার ক্ষমতা তাদের চোখের জল মুছতে পারে...

তাহলে চেষ্টা কোরো।

তাদের সাহায্য করার চেয়ে বড় শান্তি আর কিছুতে নেই।

হৃদয়ে এই শান্তি নিয়ে, তোমাদের একটা প্রশ্ন করছি।

তোমরা কি এই কাজ করবে?

আমরা নিশ্চয়ই করবো, স্যার!

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.