Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
সিনেমা : LOKAH CHAPTER 1 CHANDRA ভাষা : মালয়ালম রানটাইম : ০২:২৯:৩৩
পেয়েছো?
হ্যাঁ।
ইশতাদারের লোকেরা শীঘ্রই সেখানে উপস্থিত হবে।
তোমার অবিলম্বে এখানে আসা উচিৎ।
তারা যেন তোমাকে ধরতে না পারে।
মুথনের কাছে, তুমি মেয়ের মত।
সেই ব্যাপারে সন্দেহ কোরো না।
এসো।
- পেয়েছো তাকে? - হ্যাঁ।
সে তার সাথে আছে। ওটা পেয়েছে। আমি তাকে জীবন্ত চাই।
প্রকাশ ভাই! প্রকাশ ভাই!
সে এখানে। দেখো।
আমাকে এখানে ডাকা হল কেন?
তিনি একটাই কথা বলেছেন, তোমার এখানে থাকা জরুরী।
কোনো সমস্যা হয়েছে?
ধারণা নেই। তিনি বলবেন।
ঠিক আছে।
- ও কে? - এখানকার ছেলে।
স্থানীয় মানুষ।
তাকে বিশ্বাস করা যায় কি?
অবশ্যই। সে আমার ছোটো ভাইয়ের মত।
এসো।
এখনো বেঁচে আছিস!
একদমই বদলাস নি।
তুমি বুড়ো হয়ে গেছো।
এটা কী?
এটা তোর জন্য কিনে এনেছি।
তোর অবশ্যই এটা পড়া উচিৎ।
এরকম অনেক বই এসেছে, আবার চলেও গেছে।
এগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সে কে?
এই জোসেফ ডমিনিক?
এটা ছদ্মনাম।
তার আসল নাম নয়।
যাই হোক, এই ধারার যত বই আমি পড়েছি,
তার মধ্যে এই বইটিকে, বিস্তারিত বর্ণনার জন্য আলাদা করা যেতে পারে।
এতে আমাদের নিজস্ব আইথিহ্যামালার চেয়েও বেশি বিবরণ রয়েছে।
তোর এটা পছন্দ হবে।
পরের বার যখন আসবি, তখন হয়তো আমি থাকবো না।
কিন্তু আমার ছেলে এখানে থাকবে।
সে সবকিছু জানে।
নিজেকে একটু গুটিয়ে রেখো।
কোনো ঝামেলায় জড়িও না।
বাকি সবকিছু কুমার সামলে নেবে।
ঠিক আছে।
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
আর এটা হলো আলফা সেন্টোরি।
- এই, আমাকে রিমোটটা দে। - এটা আমাদের থেকে ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে।
- এই! খাবার অর্ডার করেছিস? - না।
- তাহলে দরজায় কে? - সম্ভবত, নাইজিল।
কি ব্যাপার?
হুহ! আচ্ছা...
ওহ, না!
অনু!
সেই পুরনো জিনিস, তাই না?
- হাই... - হাই।
- এখন কি? - আমার প্রেমিক, স্কারিয়া।
হুহ?
আমরা একসাথে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছি।
- তো, কি করবো? - স্কারিয়ার বিড়ালে এলার্জি আছে।
- তো? - এর মানে, আমি জ্যাঙ্গোকে রাখতে পারবো না।
কে?
তোমাকে তাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
কি? প্রশ্নই নেই। কেটে পড়ো।
- তুমিই তাকে উপহার দিয়েছিলে। - আমি?
আমি তাকে অন্য কারো হাতে তুলে দিতে চাই না।
দূর হও।
দেওয়া উপহার সানি কখনো ফিরিয়ে নেয় না।
তাছাড়া...
ভেনুরও বিড়ালে এলার্জি আছে।
উফ! তুমি আর তোমার জঘন্য ভেনু!
তার জন্যই আমাদের ব্রেক আপ হয়েছিল।
তোমার আর কাউকে দরকার নেই, তাই না?
অনু, সে আমার প্রিয়তম বন্ধু।
হ্যাঁ, জানি।
তোমরা সারাদিন মদ্যপান করো, কাজে ফাঁকি দাও,
পরিবারের ঘাড়ে চেপে বসে থাকো, তাই না?
এখনো তার ডাক্তারি পরীক্ষায় পাস করেছে কি?
করেছো?
এই তো। নয়!
বিপিও-র কাজ ছাড়ার পর...
গত ৭-৮ মাস ধরে তুমি কিছুই করছো না, তাই না?
- উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছি। - যত্তসব!
তুমি কাজ করতেই চাও না। এটুকুই।
আর সেই অপোগন্ড ভবঘুরেটা কোথায়?
- ধুত্তোর। - অনু, থামো।
যথেষ্ট অপমান করেছো।
আমার বিড়ালটা দাও।
আমিই তার খেয়াল রাখবো।
এখানে আয়।
সে কালা, জানো তো?
- হ্যাঁ। - প্লিজ, তাকে যত্ন কোরো।
অসহায় ছোট্টো প্রানী।
- এই নাও। - এখানে আয়।
ওহ, তাহলে আপনি এতক্ষণ এখানেই ছিলেন, স্যার?
হ্যাঁ, এখানেই ছিলাম।
এই ভবঘুরেটার কথাই বলছিলাম।
এসব ছাড় তো। একটা বিড়াল-ই তো, তাই না?
আমরা ওটার খেয়াল রাখবো।
হ্যাঁ।
আরে, দুঃখ করিস না।
আমাদের উল্টোদিকের অ্যাপার্টমেন্টে একটা নতুন মেয়ে সবেমাত্র এসেছে।
- দারুণ দেখতে। - বিস্তারিতভাবে বল।
- কি পরেছিল? - উফ! জঘন্য!
এই!
এই ছেলেটা কে?
কে? হুহ!
মালটা এখনো যায় নি?
এটা রূপার বন্ধু।
যাবে না?
ভাই, তাকে ওখানে শুতে দে। যাওয়া যাক।
মেয়েরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে না।
- কোনো সমস্যা হবে না তো? - কিচ্ছু হবে না।
তাকে দেখে নিষ্পাপ মনে হচ্ছে।
আরো লাগতে পারে।
নিয়ে আসবো।
তো, তুমি নাইট শিফট বেছে নিচ্ছো?
হ্যাঁ, দুপুরে ক্লাস আছে। রাতই ভালো হবে।
আমাদের জন্য ঠিকই আছে।
জেড-এ স্বাগতম।
এটা দেখ।
ভালো করে দেখে নে।
ভাই!
আমাকে মনে পড়ছে?
তো, তুমি সেমিনার ছেড়ে দিয়েছো?
হ্যাঁ।
আমি এটা বেছে নিয়েছি।
আরো চাস নাকি?
দরকার নেই। বাড়িতে গিয়ে খাবো।
এই, সেই মেয়েটা।
- ভদ্রভাবে! - মেয়ে? কোন মেয়ে?
আচ্ছা, আচ্ছা। পাশের বাড়ির সুন্দরী।
চিন্তা করিস না। কিচ্ছু হয় নি।
এই নে।
সে এসে আমার সাথে দেখা করেছিল।
তার কিছু দরকার হলে, আমাকে ফোন করতে বলিস।
ঠিক আছে।
চল, একটা সিগারেট ধরিয়ে, হাঁটতে হাঁটতে আকাশ দেখি।
হ্যাঁ।!
আরে, দেখ! একটা উল্কা!
- কোথায়? - ঠিক ওখানে! দেখেছিস?
- কেটে পড়। - ওটা একটা বিমান।
- বিমান? - হ্যাঁ! কাতার এয়ারওয়েজ।
- সত্যি বিমান নাকি? - উল্কা, হুহ?
তো, এই উল্কাগুলো আসলে কোথা থেকে আসে?
- জানি না।
তোর ওই টিউব দিয়ে এত তারা দেখার পরেও,
আসলে কিছুই জানিস না, তাই তো?
- সব কিছুই জানি। কিন্তু তোর কাছে ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন বোধ করছি না।
প্রস্থুত!
- কিন্তু ওটা কে হতে পারে? - কে?
হ্যালো? মুরুগেশ আন্না? - আমাদের ফ্ল্যাটের লোকটা?
আমরা একটা লোককে পেয়েছি।
- ফালতু একজন! - 'ফালতু'!
ফিতে, ফিতে!
হুহ!
কী করছিস?
আগের দিন,
এমজি রোডে একজন জাদুকর এইভাবে তার জুতোর ফিতে বেঁধেছিল...
নাচা বন্ধ কর! বসে বেঁধে নে।
এতে কাজ হবে না।
- ভাই... - হ্যাঁ।
- যে বিদেশি মেয়েটার সাথে বারে দেখা হয়েছিল? - হ্যাঁ?
সে কোচি ঘুরে এসেছে।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ।
- কিন্তু তার কোচি পছন্দ হয় নি। - কেন?
- আমি এখানে আছি, তাই না? - শশশশশ।
- কি? - সে আমাকে পুকি বলেছে।
যদি তোকে বলে থাকে, তাহলে সে নিশ্চয়ই অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছিল।
- ভাই, ভাই। - চুপ কর, ভাই।
- কি হয়েছে? - পা! তার পা!
আজকের মত ভালো কাজের কোটা শেষ।
- বাঃ, তুই সত্যি সাধুপুরুষ। - জাল সাধু।
- কেন? তোর পছন্দ হল না? - না।
২৮ বছর বয়সী কোচির বাসিন্দা, মানু থারাকান, যিনি গত মাসে নিখোঁজ হয়েছিলেন,
তিনি ২৩ জন নিখোঁজ ব্যক্তির একজন, যাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে...
শহরের পুলিশ অঙ্গ পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছে।
তাদের মধ্যে, পাঁচজন মালয়ালি...
- ১৩জন কন্নড়, তিনজন উত্তরপ্রদেশের। - এই।
এটা ভীষণ হতাশাজনক! আর কিছু ভালো দেখার নেই?
আমি চ্যানেল পাল্টাতে চাই।
রিমোট তো তোর কাছেই আছে, তাই না?
হুঁ? আমার কাছে?
হ্যাঁ।
এটা কি রিমোট নয়?
হ্যাঁ। এখন ওটা তোর, ঠিক আছে?
দয়া করে এখন চ্যানেলটা বদলে দে।
কাকা!
কাকা...? শোনো।
- সে তোকে ডাকছে। - কি হয়েছে?
তোমাদের বিড়াল রাস্তায় পালিয়ে গেছে।
- কী! আমাদের বিড়াল? - হ্যাঁ।
- সে এখানে নেই? - জাঙ্গো।
সে কোথায়?
চলে গেছে।
- তুই দরজা খুলে রেখেছিলিস, তাই না? - ওহ না।
পরিস্থিতি!
সে কোথায়, সোনা?
ওখানে।
জ্যাঙ্গো! এই!
ওহ! সে তো শুনতেও পায় না।
- থামো! থামো!
উফ! তুই কি সবকিছুই চাটিস নাকি?
সানি!
- হুহ? - আবার পালিয়েছিল নাকি?
সুযোগ পেলেই দৌড় মারে।
মনে হয়, তোদের থেকে দূরে থাকতে চায়।
আহ!
ফালতু রসিকতা।!
হুহ?!
কাকা!
জায়গা ফাঁকা করো।
সানি, আঘাত পেয়েছিস?
সানি!
আয়, উঠে পড়।
- হাসপাতালে যেতে চাস? - না।
- ভয় পাস না। - সানি।
বিড়ালটা এখানে। উপরে আয়।
ওখানে এত লোক কেন? কি হয়েছে?
তুমি কোথায়? অনেক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি।
উপস। দুঃখিত।
সেখান থেকে বেরোনো খুব শক্ত।
- এখন কোথায় আছো? - রাস্তা পার করছি।
- ধুর! - হুহ?
- কী হয়েছে?
চটি ছিঁড়ে গেছে।
এই! শাড়ি পরেছো, তাই না?
তুমি যা পরতে বলেছিলে, তাই পরেছি।
রুট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি আছে?
না, কোনো অসুবিধা নেই।
- দুঃখিত, তোমাকে নিয়ে যেতে পারি নি। - রাজু...
ইতিমধ্যেই দু-এক পেগ গলায় ঢেলেছি। আমি তোমার ক্ষতিটা পুষিয়ে দেবো।
তাকে অনুসরণ কর।
- তোমাকে দেখার জন্য তর সইছে না। - দুই মিনিটের মধ্যেই আসছি।
- ঠিক আছে? - আচ্ছা।
অটো!
না, ধন্যবাদ।
ম্যাডাম!
- অটো... - না, না।
কোথায় যাবেন, ম্যাডাম?
রাস্তা হারিয়েছেন নাকি?
- না, অটোর দরকার নেই। - ম্যাডাম।
এই এলাকা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়।
কোথায় যাবেন, বলুন। আমরা আপনাকে নিয়ে যাবো।
নাচিয়াপ্পা।
চল, চল।
স্যার, ওই লোকগুলো আমাকে বিরক্ত করছিল।
- মালয়ালি নাকি? - হ্যাঁ।
কোথায় যাচ্ছেন?
বাড়ি।
এই এলাকায় থাকেন?
না। বন্ধুর বাড়ি যাবো।
- স্যার, ওই লোকেরা পিছু নিয়েছিল... - আপনার বাড়ি কোথায়?
এইচএসআর।
এত দেরি করে বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছেন কেন?
মেয়েদের এই সময়ে নিজের বাড়িতেই থাকা উচিৎ।
কি হয়েছে?
কিছু নয়, ম্যাডাম। রুটিন চেকিং মাত্র।
কি ব্যাপার, গৌড়া? স্যালুট করবে না নাকি?
সে কাঁদছে কেন?
অটোরিকশা চালকের আচরণে ভয় পেয়ে গেছে।
আমাকে দেখেই সে পালিয়ে গেছে।
ম্যাডাম, সব ঠিক আছে?
আসুন।
গাড়িতে উঠুন। আমি নামিয়ে দেবো।
সে কোথা থেকে এলো? গেলোই বা কোথায়?
ধারণাই নেই।
সম্ভবত, তুই কল্পনা করেছিস।
আরে... আমি জানি, কি দেখেছি।
এটা সেই ছিল। আমাকে গাড়ির সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিল।
মায়ের দিব্যি দিয়ে বলছি।
আর কেউ তাকে দেখে নি, তাই না? আমিও দেখতে পাই নি।
একবার ভেবে দেখ... একটা গাড়ি তোর দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল।
তুই নিশ্চিত ছিলিস, বাঁচবি না।
আর সেই মুহূর্তে, তুই তার কথা ভাবছিলিস।
মৃত্যুর আগে তুই তার সাথে বন্ধুত্ব করার সুযোগ পাস নি।
বিপদের মুখোমুখি হয়ে, তোর অবচেতন মন কাজ করেছে।
সেই অবচেতন মনই তোকে বলেছে...
"গাড়ির সামনে থেকে লাফ দে, না হলে মরে যাবি!"
তাই তুই লাফ দিয়েছিলিস।
ব্যস, এইটুকুই।
এটা একদম স্বাভাবিক রিফ্লেক্স।
কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু... তোর অবচেতন মন আরো একটা কথা বলছে।
কী?
তার দিকে তোর এগোনো উচিৎ !
উফ, ছাড় এসব!
আমি যাচ্ছি। আমার পড়াশোনা আছে।
যদি কিছু করতে চাস, তা হলে নাইজিল করার আগেই করিস!
- শুভ রাত্রি, চন্দ্রা। - শুভ রাত্রি।
আমি গতকাল এসেছিলাম, তার আগের দিনও। তুমি একবারও আমার দিকে তাকাওনি। কেন?
বলো, কেন।
কিছু একটা বলো।
তুমি বুঝতে পারো না?
আমার হাত!
- কে ওটা? - প্লিজ!
- আমাকে বলো। - এখন চলে যাও। পরে কথা বলবো।
যা শুনতে এসেছি, তা না বলা পর্যন্ত আমি যাচ্ছি না।
কী?
তোমাকে ভালোবাসি বলেই তোমার কাছে এসেছি, তাই না?
তোমাকে বিয়ে করতে চাই।
তোমাকে ভালোবাসি।
ভালোবাসি!
সন্দেহ আছে নাকি?
করো নাকি?
দেখো!
রোজ!
হ্যাঁ, আমি একটু অধিকারবোধে ভুগি...
কিন্তু আমি পাগল নই! আমি নয়!
ভালোবাসি! পাগলের...
মত ভালোবাসি!
আমি আগ্রহী নই।
আর কেউ আছে নাকি?
সত্যি কথা বলো।
আছে নাকি?
না বলা পর্যন্ত, তোমাকে ছেড়ে যাবো না!
বলে ফেলো... আর কেউ আছে নাকি?
তোমার মুখ...
সবকিছু এমনভাবে নষ্ট করে দেবো, যাতে কেউ আর কখনো তোমাকে দেখতে না চায়!
সুন্দর... বোকার মত কিছু কোরো না।
প্রস্তুত তো?
প্রস্তুত?
না, সুন্দর!
প্লিজ!
না!
কেটে পড়ো!
কিভাবে?
এসব কি?
কে... সে কেন?
আমি কে, জানিস?
যথেষ্ট হয়েছে।
যথেষ্ট!
দুঃখিত।
দুঃখিত... দুঃখিত!
তুমি কিছু দেখো নি, রোজ।
স্যার?
আপনার মা যে মেয়েটার কথা বলেছিলেন... সে বেশ ভালো, তাই না?
আমি কখনোই বলিনি যে, বিয়ে করবো না।
শুধু এই শহরের কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে চাই না,
কারণ এই শহরের সব মেয়েরাই...
- জগদীশ! - স্যার।
হ্যাঁ।
ঠিক আছে, ভাই।
নাচিয়াপ্পা এসেছে।
নচিয়াপ্পা, দু'সপ্তাহ পরে...
ওয়েস্ট হারবারে আমার একটা শিপমেন্ট আসছে।
ওটা যেন সুরক্ষিতভাবে আমার গুদামে পৌঁছে যায়।
তুমি ইউনিফর্ম পরে যেও।
দুজন অফিসার তোমার সাথে যাবে।
কিন্তু তখন আমার নাইট ডিউটি আছে।
তাই, অন্য কাউকে পাঠান।
আমি পারবো না।
আমি অন্য কাউকে নাইট ডিউটিতে রাখবো।
বস যা বলছে, তাই করো।
এভাবে বারবার অজুহাত দিও না।
বুঝতে পেরেছো?
বুঝতে পেরেছো?
- বুঝতে পেরেছি। - ঠিক আছে।
আর নাচিয়াপ্পা, কেউ একজন আমার ছোট ভাইয়ের সাথে ঝামেলা করেছে।
যদি কিছু করতে পারো, কোরো।
না পারলে, আমি নিজেই দেখে নেবো।
ছেড়ে দাও।
আমিই সামলে নেবো। অন্য কারোর দরকার নেই।
এই…
তোমার সাথে কি রাতের টহলদারি রুট এবং সিসিটিভি স্পটে যাই নি?
হ্যাঁ।
তখন তুমি কি করছিলে?
ছেড়ে দাও, নাচিয়াপ্পা।
যা হবার হয়ে গেছে।
পরেরবার থেকে ছেলেগুলো একটু সাবধানে থাকবে... তাই তো?
তোমার হাতে কি হয়েছে?
- কাঁচে কেটে গেছে। - কে করেছে?
একটা মেয়ে।
মেয়ে?
সে একটা মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজের প্রেমে ফেলতে চাইছিল।
আর শেষে উধোম মার খেয়েছে।
এই!
ওই মেয়েটা নয়।
আরেকটা মেয়ে।
আর তুমি কী করেছিলে?
মার খাওয়ার পর আর করবেটা কী?
তোমার লজ্জা করছে না?
আমি লজ্জিত নই।
মেয়েটা সাধারণ ছিল না।
মেরে আমার চৌদ্দ গুষ্টি এক করে দিয়েছে।
যদি সে তোমাকে মারতো, তোমারও একই অবস্থা হতো!
আমার সাথে এসো। গাড়িতে ওঠো।
আরে, মজা করছিলাম... তোমাকে খ্যাপাবার জন্য।
এই!
আমার সাথে এসো।
দেখো!
ডানদিকের মেয়েটা।
এখানে বসতে পারবেন?
আচ্ছা... ঠিক আছে।
খুবই অস্বস্তিকর।
তুমি মালায়ালি, তাই না?
হ্যাঁ।
আমিও।
এখানে সদ্য এসেছো কি?
- হ্যাঁ। - আচ্ছা।
আমাকে চিনতে পেরেছো?
তোমার একেবারে সামনের ফ্ল্যাটে থাকি।
হ্যাঁ, জানি।
সানি।
চন্দ্রা।
ওহ, তোমার হাত একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা!
দুঃ...
আমি আমার উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এই জন্য আমার চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি।
ধুর!
আমাদের এক বন্ধু আগামী সপ্তাহে তার জন্মদিন উদযাপন করছে।
তো, আমাদের বাড়িতে একটা ছোটো পার্টির আয়োজন করছি।
ছোট্টো গ্রুপ। ছেলে মেয়ে দুই-ই থাকবে।
তোমাকে সবসময় একা দেখেছি। সেইজন্যই জিজ্ঞাসা করেছি।
ফাঁকা থাকলে, আমাদের সাথে যোগ দিতে পারো।
২৫শে নভেম্বর।
ঠিক আছে।
ধন্যবাদ। আসার চেষ্টা করবো।
ঠিক আছে।
দাদা, আমাকে এমজি রোডে নামিয়ে দেবেন।
বিদায়।!
কোথায় যেতে চান?
আমি কানাড়া জানি না, দাদা।
রূপা,
আর ঠিক দু'সপ্তাহ পর এই চাঁদটা লাল রঙের হয়ে যাবে।
রক্তচাঁদ... চন্দ্রগ্রহণ।
এখানে এসো। দেখাচ্ছি।
একদম উজ্জ্বল লাল রঙের হবে।
- সানি, ভাই... - কি?
তোর পাড়ার ক্রাশটা কোথায়?
ভাই...
দূর থেকে দেখতে ভালোই লাগছিল...
কিন্তু কাছে থেকে... কিরকম যেন...
নোংরা।
আর গায়ে অদ্ভুত একটা গন্ধ!
তোর কী মনে হয়, সে আসবে?
- সানি! - হ্যাঁ।
দরজায় কেউ একজন এসেছে।
ঠিক আছে।
হ্যালো!
তুমি এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
ভেতরে আসো।
- হাই। - হাই।
হুহ!
একটু সরে দাঁড়া। প্লিজ, সরে যা।
জ্যাঙ্গো, ঝামেলা করিস না।
এত হিংস্রতা কেন?
ও একটু খুঁতখুঁতে। সবাইকে সহজে আপন করে নিতে পারে না।
আউচ! দুঃখিত...
এই! নাইজিলের মতো হোস না!
মেয়েদের দেখলেই তোর চালচলন বদলে যায়।
তোমাকে কিছু এনে দেবো?
আসলে, কাছ থেকে দেখলেও তাকে দেখতে দারুণ, তাই না?
- হুহ? - হ্যাঁ! হ্যাঁ! ভালো!
ঠিকই বলেছিলিস।
- কি? - সে বিশেষ কিছুই নয়!
হুহ?
হাই।
তুমি আসলে ইন্ট্রোভার্ট, তাই না?
এই পার্টিটা কিন্তু আমার।
- শুভ জন্মদিন। - ধন্যবাদ।
আমিও ইন্ট্রোভার্ট... তবে লোক বুঝে।
কিন্তু, পার্টিটা মজার, তাই না?
- দুর্দান্ত, ঠিক তো? - হ্যাঁ।
কিছু দেখতে পাচ্ছো, চন্দ্রা?
একটাও কিছু?
- না। - সেটা সম্ভব নয়!
আমি তো এখান থেকেও দেখতে পাচ্ছি।
তুমি চাঁদটাকেও দেখতে পাচ্ছো না, চন্দ্রা?
আমি আসলে মেডিসিনে একটুও আগ্রহী নই।
আমার বাবা জোর করে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
আমি বরং তারা, গ্যালাক্সি... এসবেই বেশি আগ্রহী...
ওহ, না!
ওহ, না!
সরে যাও, প্লিজ।
উফ!
রক্ত দেখলে মাথা ঘোরে তোমার?
আমারও তাই।
তুমি না ডাক্তার, ভেনু?
আরেহ! আমি তো এখনো পরীক্ষায় পাশও করি নি।
ভেনু, ফার্স্ট এইড কিটটা আনো।
এটা ওখানে আছে।
আমি নিয়ে আসছি। কাউকে না কাউকে তো আনতে হবেই।
চন্দ্রা।
ঠিক আছো তো?
- ভেতরে এসো।
চল, সানি! এখন গেম টাইম।
- কিছু নেবে? - না।
- আমি ঠিক আছি। - তুই কি অর্ডার করছিস?
চিকেন দারুণ হয়েছে, তাই না?
নাইজিলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নে।
ঠিক আছে?
মাফ করবেন।
বলুন, স্যার?
এই!
এখানে কি চলছে?
স্যার... আমরা কানাড়া জানি না।
কেরালা থেকে এসেছো?
হ্যাঁ, স্যার।
দেখো,
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আমরা অভিযোগ পেয়েছি।
- প্রচুর শব্দ। জোরে গান চলছে। - কিছু টাকা রাখ।
- তাকে দিয়ে দে। - কীসের পার্টি চলছে?
স্যার, আজ আমার জন্মদিন।
- ওহ! তোমার? - হ্যাঁ, স্যার।
এটা কী?
মারিজুয়ানা?
স্যার...
কিছু টাকা...
স্যার, দেখে যান!
এখানে গাঁজা আছে। তারা ঘুষ দিতে চাইছে।
তাকেও কি ঘুষ দিতে হবে নাকি?
হ্যাঁ বলো।
আমার দেরী হবে।
খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ো।
ঠিক আছে?
আচ্ছা।
এই, সরে যাও।
দেখুন, স্যার।
তো, বলো...
এটা কি ইদুক্কি নাকি ব্যাঙ্গালোর থেকে এসেছে?
স্যার... প্রথমবার...
শুধুমাত্র মজার জন্য...
ওহ, সত্যিই?
এটা মজা?
ক্যারম বা অন্তাক্ষরীর মতো কিছু খেলতে পারো নি?
সেইভাবে মজা করলে না কেন?
এই জিনিসগুলো স্বাস্থ্য ক্ষয় করবে, ভাই। সাবধানে থেকো।
- এই অফিসারকেও ঘুষ দেবো কি? - চুপ কর, ভাই!
এখানে আর কী আছে, বলে ফেলো।
কোকেন? হেরোইন?
আর কিছু নেই, স্যার! শুধু এটাই।
কিচ্ছু নয়!
- কিছুই নেই, তাই তো? - না।
ভালো। তাহলে, আমরা সবার তল্লাশি নেবো।
ফেঁসে গেছি, ভাই।
জানো তো, আমরা তোমাদের ধরলে, কী হবে?
স্যার... প্লিজ, স্যার। লাস্ট ওয়ার্নিং।
আচ্ছা, জগদীশ...
কোন ধারা লাগানো যায় বলো তো?
ড্রাগস?
না, অনৈতিক কার্যকলাপ?
অনৈতিক?
স্যার... অনৈতিক কিছু নেই, স্যার।
শুধুমাত্র নৈতিক।
সাধারণ একটা জন্মদিনের পার্টি।
ছোটো কেক কাটা...
তাকে বল।
এই শহরে অনেক সেক্স পার্টি হয়।
আর এখানে... গাঁজা আছে।
আর মেয়েরাও!
তাহলে ব্যাপারটা এই, তাই তো?
না, স্যার।
কিসের না?
ওটা কী?
তার তল্লাশি নাও।
সরে যাও।
ভয় পেও না।
হাত তোলো।
স্যার... আমি...
- চলো, হাত তোলো। - স্যার... না, স্যার।
প্লিজ স্যার, আমরা ভদ্রলোক।
প্লিজ, স্যার। আমার কাছে কিছু নেই, স্যার।
- হাত তোলো। - স্যার, হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে।
- না, না। হাত তোলো। - প্লিজ, স্যার।
হাত তোলো।
শুনতে পাচ্ছো না? হাত তোলো।
স্যার!
স্যার, প্লিজ!
ছেড়ে দাও।
এটা লাস্ট ওয়ার্নিং।
তোমার নাম কী??
চন্দ্রা।
সুন্দর নাম।
- মিউজিক... - ঠিক আছে, স্যার।
ঠিক আছে, স্যার।
উফ!
ভগবান!
তাদের টাকা দেওয়াই উচিৎ ছিল।
বেচারা লোকগুলো।
নাইজিল, দুর্দান্ত পার্টি, তাই না?
- রূপা... - তুমি জানো না, এটা কেমন লাগে!
- ঠিক আছে। - সে প্রায় আমার পকেটেই হাত ঢুকিয়ে দিয়েছিল!
হ্যাঁ, আমি জানি।
কিন্তু, কিছুই হয় নি, তাই না?
তুমি বুঝবে না।
শান্ত হও।
ঠিক আছে? শান্ত হও।
সব ঠিক আছে।
দারুণ একটা জন্মদিনের পার্টি, তাই না?
- ঠিক আছে। - এইরকম লাউড পার্টি সত্যিই ভালো লাগে না।
- ঠিক আছে। - আউচ!
- তোমার ভালো লাগছে, চন্দ্রা? - হুহ! দুঃখিত!
দুঃখিত, চন্দ্রা। ইররর... রূপা।
- তুমি আগে শান্ত হও, ঠিক আছে? - তোমার রাশি কী? আমার ধনুরাশি।
ধনু রাশির জাতকরা খুব কুল হয়...
- জীবনে আর... - উম্ম... আমি তাহলে এখন যাই?
হুহ?
তুমি চলে যাচ্ছো? কিন্তু আর একটু থাকলে হতো না?
আমাকে ডাকার জন্য ধন্যবাদ।
অনেকদিন পর...
মজা করলাম।
ঠিক আছে।
- সাবধানে থেকো। - হ্যাঁ।
জড়িয়ে ধরবে না?
ভাই, তুই ওর ব্যাপারে আগ্রহী নয় বলেছিলিস বলেই আমি ওর পেছনে গিয়েছিলাম।
আমি কখন বললাম যে আমি আগ্রহী নয়?
- তুই বলেছিলিস! অস্বীকার করিস না! - হুহ?
- কোথায় যাচ্ছিস? - একটু হেঁটে আসি।
- হুহ? - একটু হেঁটে আসতে যাচ্ছি।
এই!
সে ভেতরে ঢুকে পড়েছে?
হুহ?
দরজাটা বন্ধ কোরো না...
বন্ধ করে দিলো।
- হ্যালো। - সুপ্রভাত, আন্টি।
- নাইজিল বাড়িতে আছে?
না, এখানে নেই।
- আমাকে বলেছিল, তোর বাড়িতেই থাকবে।
ফোন করছি, সাড়া পাচ্ছি না।
- কোথায় ঘুরছে, ভেবে অবাক হচ্ছি।
- তার দেখা পেলে, আমাকে ফোন করতে বলিস।
ঠিক আছে, আন্টি। তাকে বলে দেবো।
ভেনু..
ভেনু...
- কি? - নাইজিল এখনো বাড়ি ফেরে নি।
তার মা ফোন করেছিল।
তাকে ফোন করার চেষ্টা করেছিলাম। ফোন বন্ধ করা আছে।
সে নিশ্চয়ই চন্দ্রার অ্যাপার্টমেন্টে আছে।
ভাগ্যবান পুরুষ।
- হাই, কাকা। - হুহ? হ্যাঁ!
ধুর!
চন্দ্রা... আমি, সানি।
দরজাটা খুলবে, প্লিজ?
- না! - হুহ!
আচ্ছা...
নাইজিল এখানে আছে, তাই না?
- কে?
নাইজিল... নাইজিল!
এখানে কেউ নেই। এখন যাও, সানি।
হুহ?
কেউ নেই?
কিন্তু গতকাল রাতে, সে এখানে এসেছিল তো?
এখন যাও, সানি।
বিরক্ত কোরো না। ঘুমাতে দাও।
দুঃখিত! দুঃখিত!
হুহ!
কিছু একটা গন্ডগোল আছে।
তারা দুজনেই...
কি আমাকে ঠকাচ্ছে?
সে... হুহ?
তৃতীয়জন গেল।
ওহ!
এই লোকটা...?
- তোরা আসতে পারবি কি?
- যদি তোরা আসিস... উফ... - কি বলছে সে?
- ভাই, আমি... চন্দ্রার ফ্ল্যাটে...
- মনে হচ্ছে, ফেঁসে গেছি।
- সে... সে...
- আমরা যেমন ভেবেছিলাম, সে তেমন নয়।
- আসতে পারবি?
- যদি তোরা আসিস...আহ... উফ... - এই...
এসব কি?
সম্ভবত কোথাও অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।
হুঁশ এলে নিজেই টলতে টলতে ফিরে আসবে।
ওহ না।
আমার ক্রেডিট কার্ড তার সাথে আছে।
ধুর!
এই! আমার সাথে আয়।
এই... ওটা সেই লোকটা নয়?
ওটা তো কুমার। সে কবে জেল থেকে বেরোলো?
- দাঁড়া, জেল? - হ্যাঁ।
নারকোটিক্স তাকে এমডিএমএ-র সাথে ধরেছিল।
বেশ কিছুদিন জেলে ছিল।
আমার তো জানাই ছিল না, ও বেরিয়েছে।
ভালোই হল, সানি। ওর কাছেই একমাত্র প্রিমিয়াম মাল পাওয়া যায়।
তুমি কি মন্দিরের মাঠ হয়ে যাচ্ছো?
- হ্যাঁ। - আমার বাড়ি ওই জঙ্গলটা পেরিয়েই।
আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?
- এই... - হ্যাঁ...
আমাদের কি পুলিশে খবর দেওয়া উচিৎ?
- কিসের জন্য? - সানি...
হ্যালো! ভেতরে এসো, বিড়ালটা ভেতরে আছে।
ভয় পেও না।
ঠিক আছে, আমার কিছু কাজ আছে।
- সানি, এক সেকেন্ড কথা বলতে পারি? - আমি?
- কি ব্যাপার? - দুঃখিত।
ঘুম বিঘ্নিত হলে, আমি একটু রেগে যাই।
এমন কিছু বলে ফেলেছি, যা বলতে চাই নি।
দুঃখিত।
ঠিক আছে। আমি নাইজিলের খোঁজে গিয়েছিলাম।
- তার ফোন বন্ধ আছে। - নাইজিল আমার সাথে ছিল না।
হুহ!
সে তোমার সাথে ছিল না? তাহলে...
- কী? - হুহ?
না...
ভেনুর ক্রেডিট কার্ড তার সাথে আছে। তাই...
জরুরী পরিস্থিতি ছিল।
তোমার টাকা দরকার?
না, ঠিক আছে।
কিছু দরকার হলে, আমাকে বলতে পারো।
ঠিক আছে তাহলে।
আমি আসছি। কাজের দেরী হয়ে যাচ্ছে।
ঠিক আছে।
- এই… - কী?
আমার একটা অদ্ভুত ইন্টুইশন হচ্ছে।
কী?
মনে হচ্ছে, নাইজিল এখনও ওর অ্যাপার্টমেন্টেই আছে।
ওহ, তাই। ভাগ্যবান পুরুষ।
ভাই, এটা বলতে চাই নি। তার নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে।
এই চন্দ্রা...
আমার ওর ব্যাপারে কেমন যেন একটা খারাপ অনুভূতি হচ্ছে।
সবসময় বিভিন্ন লোক ওর কাছে যাতায়াত করছে।
আর ওই কুমার...
সে তো একজন কুখ্যাত অপরাধী, তাই না?
সে শুধুমাত্র গাঁজা আর অন্যান্য নেশার জিনিস সরবরাহ করে।
এটা আবার আদৌ কোনো অপরাধ নাকি?
আচ্ছা…
কিন্তু ধর, যদি এরা অর্গান মাফিয়া হয়?
প্রশ্নই আসে না।
প্রশ্নই আসে না...
শোন…
মানুষ সবসময় তেমন হয় না, যেমন হবার ভান করে।
আমরা তার সম্পর্কে খুব কমই জানি। সে কে, কোথা থেকে এসেছে।
- তোকে একটা কথা বলবো? - হ্যাঁ।
আমি চুপচাপ ওকে অনুসরণ করবো।
এই ফাঁকে, তুই কি ওর অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে একটু দেখে আসতে পারবি?
মনে হয়, সে এখনো সেখানেই আছে।
ঠিক আছে।
ওহ, না!
- ভাই! - হুহ?
স্যার, অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভ রাত্রি।
- এই, ভেনু! - কোথায় ছিলিস তুই?
ভাই, কোথা থেকে শুরু করবো, তাই বুঝতে পারছি না।
চন্দ্রার সাথে হাঁটতে বের হয়েছিলাম, জানিসই তো?
তারপর, তাকে দেখে মনে হল, সে আমাকে তার বাড়িতে যেতে বলছে।
সে দরজা খুললো, বাড়ির ভিতরে ঢুকলো...
- তোকে ঢুকতে দিল না, তাই তো? - হু!
- তোকে ঢুকতে দেয়নি, ঠিক বলছি তো? - না রে, ভাই!
সোজা আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলো।
তারপর?
আমি ভাবলাম, বাড়ি ফিরে যাই।
কিন্তু গাড়িতে উঠতে যেতেই, পুলিশ আমাকে টেনে বার করলো।
তারপর?
আমি পকেট থেকে লাইসেন্স বের করতে গিয়েছিলাম...
আর সেখান থেকে এক প্যাকেট গাঁজা পড়ে গেল!
বুম! স্পটেই ধরা পড়ে গেলাম।
কমসে কম, এখন তো বের হয়েছি।
এই...
তুই কোথায় যাচ্ছিস?
আমরা চন্দ্রার সম্পর্কে খুব কমই জানি, ভাই।
হুহ!
সে আসছে।
- পুরোটা ভরে নে। - ডোজ তো আগেই অনেক বেশি হয়ে গেছে।
- মরে যাবে তো। - বলছি তো ভরে নে, হারামজাদা!
আমি আজ তার কিডনি নেবো।
প্রায় এসে গেছে।
ওকে ভিতরে নিয়ে চল।
তাড়াতাড়ি, তাড়াতাড়ি।
তাড়াতাড়ি!
রাজু!
কি দেখছিস তুই?
ওকে ঠেলে ভেতরে ঢোকা।
এই!
এই! কেউ আসছে।
- তাড়াতাড়ি কর। - পারছি না।
ওকে ভেতরে ঠেলে ঢোকা!
- গাড়ি চালু কর। চল। - ওখানেই থামো।
থামো!
আরে!
এই!
পুলিশকে ফোন করো।
পুলিশ!
প্লিজ!
ঘুমাতে পারছিস না?
না!
- একটা গল্প বললে ঘুমাবি কি?
হ্যাঁ!
- আজ রাতে কোন গল্প বলবো?
যক্ষীর গল্পটা বলো!
আহা!
হ্যাঁ! যক্ষীর গল্প!
অনেক, অনেক দিন আগে...
আমাদের সময়ের বহু শতাব্দী আগে...
যেখানে আজ এই ব্যস্ত শহর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে একসময় এক বিশাল জঙ্গল ছিল।
সেটা ছিল পরাক্রমশালী রাজাদের এবং তাদের শক্তিশালী সাম্রাজ্যের যুগ।
রাজা এক অসাধারণ প্রাসাদে থেকে শাসন চালাতেন।
আর সেই প্রাসাদের একদম পাশে একটা প্রাচীন এবং পবিত্র মন্দির ছিল।
রাজা ছিলেন ভয়ঙ্কর দেবী মা কালীর পরম বিশ্বস্ত ভক্ত।
কোনোদিন বাদ না দিয়ে, প্রতিদিন সকালে, তিনি মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন।
এই গল্পটা কি ওই রাজার?
- ধৈর্য ধর, সোনা। একটু পরেই আমরা সেখানে পৌঁছাবো।
সেই গভীর জঙ্গলের ভিতরে...
এক কৌতূহলী ছোটো মেয়ে বাস করতো, যার চোখদুটো তোর মতোই বড় এবং উজ্জ্বল ছিল।
আর এটা হল সেই ছোট্টো মেয়েটার গল্প।
প্রতিদিন সকালে রাজা যখন মন্দিরে যেতেন,
ছোট্ট মেয়েটি আর তার বন্ধুরা দূর থেকে তাকে দেখতো।
তারা মন্দিরে ঢুকতো না কেন?
তাদের অনুমতি ছিল না, সোনা।
শুধু রাজপরিবারের সদস্য আর নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী মানুষই...
মন্দিরে প্রবেশ করতে পারতো।
একদিন, মেয়েটি এবং তার বন্ধুরা, নিঃশব্দে, সকলের নজর এড়িয়ে,
মন্দিরে ঢুকে পড়েছিল।
হঠাৎ পুরোহিতের আগমনে ভয় পেয়ে, সে কিছু না ভেবেই পালিয়ে যায়।
তাড়াহুড়োয়, সে যে জপমালার সন্ধান পেয়েছিল, তা তার হাতেই থেকে যায়।
ওহ, না! পালা!
ওহ, না! তার পর কী হলো?
যেহেতু সেই জপমালা মন্দিরের মেঝে থেকে পাওয়া গিয়েছিল,
বাচ্চারা সেটিকে তাদের দেবীর কাছে নিবেদন করে।
রাজা যখন এই খবর পান, তিনি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন।
তিনি মনে করেন, এই শিশুরা তাঁর পবিত্র মন্দিরে অনধিকার প্রবেশ করেছে,
এবং দেবীর জপমালা চুরি করেছে।
আরও খারাপ বিষয় হল, তারা সেই জপমালা তাদের নিজস্ব দেবীর মূর্তিতে বেঁধে দিয়েছে!
রাজা ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে পড়েন।
তারপর?
ক্রুদ্ধ রাজা মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেন।
আর আদেশ দেন, মন্দিরে যে শিশুরা ঢুকেছিল, তাদের পরিবারসহ হত্যা করা হোক।
যখন তারা জানতে পারলো, তাদের মেরে ফেলা হবে,
তারা পালিয়ে গিয়ে গভীর জঙ্গলের এক গুহায় আশ্রয় নিল।
সেই গুহার ভেতরে এমন কিছু ছিল, যার অস্তিত্ব কেউ কোনোদিন টের পায়নি।
এক...
আদিম এবং রহস্যময় এক শক্তি।
মা!
- আমাকে ছেড়ে দাও।
- ছেড়ে দাও। - লাগছে তো।
- আমাকে ছাড়ো। - কুঞ্জি!
কুঞ্জি!
যখন সেই ছোট্ট মেয়েটি গুহা থেকে বেরিয়ে এলো,
পরিস্কার বোঝা যাচ্ছিল, যে তার ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে।
এমনকি সে নিজেও বুঝতে পারছিল না, তার সাথে কী ঘটেছে।
মা!
হাই।
সুপ্রভাত।
কুঞ্জি... পালা।
কুঞ্জি... এখনই পালা।
পালা!
মা!
কুঞ্জি... এখনই পালা।
কুঞ্জি... পালা।
যা!
পালা!
তাকে ছেড়ে দাও!
- ওর শরীর থেকে হাত সরাও! - মা! মা!
মা! মা!
কুঞ্জিপেন্নুকে ছেড়ে দাও!
তাকে এখনই ছেড়ে দাও।
বাবা!
বাবা!
বাবা!
বাবা!
বাবা!
বাবা!
তোর কোনো ধারণাই নেই, কার সঙ্গে লাগতে এসেছিস!
তবে খুব শিগগিরই বুঝতে পারবি।
আমার ভাই রওনা দিয়েছে।
তখন দেখতে পাবি!
তোকে কিমার মত করে কুচি কুচি করে কাটবো।
কেউ কখনো জানতেই পারবে না, মরে গেছিস না বেঁচে আছিস!
তোর কোনো চিহ্ন -ও থাকবে না।
একটা পুরুষের গায়ে হাত তুলেছিস, তোর সাহস তো কম নয়!
- প্রস্তুত তো?
যক্ষী!
কালিয়াম্মা!
এখনই পালা!
যা!
মা!
মা!
মা!
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
মা... আমার সাথে কী হচ্ছে?
দেবতারা তোকে এমন এক শক্তি দিয়েছে, যা আমাদের বোধগম্যের বাইরে।
এমনকি আমিও জানি না, এটা ঠিক কী।
হয়তো দেবতারা তোকে বেছে নিয়েছে... আমাদের মতন নির্যাতিত, অসহায়,
আর নিপীড়িতদের জন্য লড়বার জন্য।
কিন্তু মনে রাখিস, এই শক্তির ব্যবহার কেবলমাত্র ন্যায়ের জন্য করিস।
তোকে এখান থেকে চলে যেতে হবে, সোনা।
যা, সোনা।
তোকে খুঁজতে অনেকেই আসবে।
যা, সোনা...যা।
এখনই দূরে চলে যা!
পালা!
কে?
কে করেছে এটা?
নীলি!
কল্লিয়নকাট্টুর জঙ্গলের নীলি।
আর এভাবেই, ছোট্ট নীলি বড় হল... একটি যুবতীতে রূপান্তরিত হল।
সে রোদের আলো সহ্য করতে পারতো না।
সে রাতের জন্য অপেক্ষা করতো।
তার জীবনের ভালোবাসার মানুষরা, একে একে তাকে ছেড়ে চলে যায়।
তখন, নীলি নিজের পথ বেছে নেয়।
যখনই সে নতুন অঞ্চলে পা রাখতো...
সে সেই জায়গার সবচেয়ে জঘন্য মানুষগুলোকে খুঁজে বার করতো,
তাদের হত্যা করতো, আর তাদের রক্ত পান করতো।
আর সেইজন্য, জঙ্গলের বাসিন্দাদের কাছে, নীলি একজন দেবী হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু বাকিদের কাছে...
সে ছিল এক রক্তচোষা...যক্ষী।
তুমি এসব কীভাবে জানলে, দাদু?
তোর এই বুড়ো দাদু একজন খ্রীষ্টান পুরোহিতের লেখা...
একটা বই পেয়েছিল।
এর মধ্যে অনেক গল্প ছিল।
তো... নীলি কি সত্যিই একজন সুপারহিরো?
আচ্ছা, যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করিস,
হ্যাঁ!
সে একধরনের সুপারহিরোই।
আরো একটা ব্যাপার আছে।
নীলি অমর।
তার মানে…
সে কখনো মরতে পারে না।
তাহলে, নীলি খুবই ভাগ্যবতী, তাই না?
তা নয়।
তুই ততটা ভাবছিস, ততটাও ভাগ্যবতী নয়।
প্রত্যেক সুপারহিরোর একটা দুর্বলতা থাকে।
আর একদিন, একজন ব্যক্তি, যে নীলির সেই দুর্বলতা জানতো,
তাকে ধরার জন্য বেরিয়ে পড়লো।
সে কে ছিল?
একজন কাথানার!
- এবং তখন, সেই কাথানার... - যথেষ্ট হয়েছে।
ফালতু কথা বলে ওর মাথা খাবেন না।
চলে আয়। শোবার সময় হয়েছে।
শুভ রাত্রি।
তো... নীলি কি সত্যিই মারা গিয়েছিল?
নীলি এখনও কোথাও বেঁচে আছে।
আর আমি ওকে ঠিক খুঁজে বার করবো।
- সে কে?
- এই জোসেফ ডমিনিক?
- ওটা একটা ছদ্মনাম।
- এটা তার আসল নাম নয়।
সানি, তোমাকে দুটো অপশন দিচ্ছি।
এক নম্বর অপশন...
এই লাশগুলো সরাতে আমাকে সাহায্য করো।
দুই নম্বর অপশন?
এক! এক!
- তুই কোথায়?
কি ব্যাপার, ভেনু?
হুহ? সানি... সানি কোথায়?
সানি রাতে এখানে থেকে গেছে।
কোথায় থেকে গেছে? কে কথা বলছে?
আমি, ভেনু।
চন্দ্রা।
ওহ!
আমাকে নিশ্চয়ই ওকে জাগাতে বলবে না। প্রচন্ড পরিশ্রান্ত ছিল, ঘুমিয়ে পড়েছে।
- না! ওকে জাগিও না।
ওকে ওর মতোই থাকতে দাও!
আমি কেবল খোঁজ নিতে ফোন করেছিলাম।
- আমি দুঃখিত।
বাহ! বুদ্ধিমান ছেলে!
এই!
সেই দিন... যখন একটা গাড়ি আমাকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল...
তুমি কি সেখানে ছিলে, চন্দ্রা?
হ্যাঁ।
তুমি আসলে কে?
মনে হয়, তুমি পুরোপুরি মানুষ নও।
আমি তোমার শ্বদন্ত দেখেছি।
তুমি কি...
যক্ষী বা সেইরকম কিছু?
হুহ?
হ্যাঁ!
আমার আগের ভিডিওতেও বলেছিলাম...
আমাদের এই জগতের পাশাপাশি একটা ছায়াজগত রয়েছে।
যদি সত্যিই চোখ খুলে তাকাই এবং মনোযোগ দিই,
আমরা আমাদের চারপাশে তার অস্তিত্বের চিহ্ন দেখতে পাবো।
আর যত বেশি আমরা লক্ষ্য করি,
ততই বুঝতে পারি সবকিছু যেমন দেখায়, আসলে তেমন নয়।
কী?
আমি আসবো না।
ওহ, না!
দুঃখিত! আমি জানতাম না!
তোমার পুরো পরিবারই কি এইরকম?
আসলে, আমি ভাবছিলাম... তুমি জন্ম থেকেই এইরকম নাকি?
এটা একটা ভাইরাস।
কিছু ভাইরাস জীবন কেড়ে নেয়।
এই ভাইরাসটাই আমাকে এমন করে দিয়েছে।
ওহ!
এটা...
এটা কি ছোঁয়াচে?
হতে পারে... যদি আমি তোমাকে কামড়াই।
এখানে আসার আগে,
তুমি কোথায় ছিলে, চন্দ্রা?
সুইডেন।
ওহ!
খুব সুন্দর জায়গা, তাই না?
তাহলে, এখানে এলে কেন?
কুড়ি বছরের বেশি কোথাও আমি টিকতে পারি না।
- কুড়ি বছর? - সবসময়ই কোনো না কোনো ঝামেলা হয়।
এবং আমি অন্য জায়গায় চলে যাই।
এইভাবেই শতাব্দীর পর শতাব্দী চলছে।
হুহ? বহু শতাব্দী?
তো...
তাহলে... তোমার আসল বয়স কত?
তোমার কল্পনার থেকেও বেশি।
তোমাকে দেখে মোটেও তা মনে হয় না।
ধন্যবাদ!
ঠিক আছে।
তো... এখন কি বাড়ি যেতে পারি?
এখনই নয়!
আমাকে অনুসরণ করছিলে কেন?
এমনি, এমনি।
- এমনি? - মানে... তা নয়।
দেখেছিলাম, তারা তোমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
তাই ওদের পেছনে ধাওয়া করেছিলাম।
কেন?
তোমাকে বাঁচানোর জন্য!
আমাকে?
পরে বুঝলাম... তুমি আমার সাহায্যের পরোয়া করো না।
দরজায় কেউ এসেছে।
কী ব্যাপার?
- আমি ওকে দিয়ে দেবো। - না। আমিই দেবো।
তোর ফোন কোথায়?
- বন্ধ হয়ে গেছে। - তোর বাবা ফোন করেছেন।
হ্যালো, আঙ্কেল। তাকে ফোন দিচ্ছি।
এই নে।
থামো! কী হচ্ছে এটা?
হ্যালো...
বাবা...
- গত রাতে, আমি...
চন্দ্রা, তুমি কি ওর ব্যাপারে সত্যি সিরিয়াস?
না কি এটা শুধুই টাইম-পাস?
যাই হোক, ওর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলো।
তার হৃদয় খুবই ভঙ্গুর।
আমি তোমাকে ওর হৃদয় ভাঙতে দেবো না।
- আমার কিছু ইন্টারভিউ লাইনে আছে।
ওইভাবে আমার দিকে তাকিও না।
আমি এটা হতে দেবো না। গল্প শেষ।
- কোম্পানির নাম বললে তুমি চিনবে? কোম্পানির নাম ব্রিটলি। ব্রিটলি লিমিটেড।
- তাই তো বলছি, তুমি চিনবে না, বাবা।
- পরে বুঝিয়ে বলতে পারি?
বাজে অভ্যাস!
- ওহ। - পরে তোমাকে ফোন করবো।
যাওয়া যাক।
তাহলে, যাই?
- হ্যাঁ, চল। - যাবো কি?
যাবো কি আমরা?
- সানিবয়! - খুব পরিশ্রান্ত, তাই না?
কি ব্যাপার?
সানি!
তোমাকে বিশ্বাস করি।
আমি ভয় পাচ্ছি।
তোমার একমাত্র আমাকেই ভয় পাওয়া উচিৎ।
- ঠিক আছে? - তারা এখনো এসব চালিয়ে যাচ্ছে?
আমার হাত ছাড়!
এই!
কী ব্যাপার?
কি ব্যাপার?
ফিরে আসার পর থেকেই তুই খুব অস্থির হয়ে আছিস।
ব্যাপারটা সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে, তাই না, সানিবয়?
তোকে কিছু ব্যাপার জানাতে হবে।
আহ, হ্যাঁ! বল বল, খুলে বল। একটাও ডিটেইলস মিস করিস না!
কিন্তু এটা কাউকে বলতে পারবি না।
- সেই গ্যারান্টি দিতে পারবো না। - হুহ।
কাউকে বললে, আমাদের দুজনের জীবনই বিপদের মুখে পড়বে।
ভারতের গোপন পারমাণবিক তথ্য নাকি! বলে ফেল!
এই...
আমাদের চন্দ্রা...
'আমাদের' চন্দ্রা নয়। 'তোর' চন্দ্রা।
- সে... - সে...?
ও অন্য ধরনের মেয়ে।
কোন 'ধরণের'?
সে একজন...
সে একজন...?
সে একজন...
সে একজন...?
সে একজন যক্ষী!
হ্যাঁ! হ্যাঁ!
তোর রক্ত চুষে একদম শুকনো কিসমিস করে দিয়েছে নাকি, সানিবয়?
এমন ব্যাপার নয়, গাধা!
আসল যক্ষী! রক্তচোষা! ভ্যাম্পায়ার!
তার শ্বদন্ত এবং সবকিছু আছে!
নিজের চোখে, তাকে দুটো ছেলের শরীরে দাঁত বসিয়ে, ছিঁড়ে ফেলে রক্ত খেতে দেখেছি!
দিব্যি করে বলছি, হাত-পা কাঁপা থামছেই না!
তিনটা মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাবার সময় সে আমাকেও টেনে নিয়ে গেল।
লাশগুলোকে একটা অ্যাসিড ফ্যাক্টরির মধ্যে ফেলে সেগুলো গলিয়ে ফেললো!
ওহ ঈশ্বর! দেহগুলো যখন গলছিল, তার গন্ধ...
সহ্য করা যাচ্ছিল না!
হ্যাঁ!
সে বলেছে, যদি আমি কাউকে কিছু বলি, আমাকে আর তাকেও মেরে ফেলবে।
কি? তাহলে তুই আমাকেই বা বললি কেন?
তুই তো জানিস, আমি কথা গোপন রাখতে পারি না!
এহে! একদম ভুলে গিয়েছিলাম!
এখন আমরা কী করবো?
আমি বলছি। - হুহ!
ওহ না!
ভাই, এই জিনিসটা কি উড়তে পারে?
জানি না।
ভাই... পালা।
ওকে আঘাত কোরো না, প্লিজ।
প্লিজ!
পালিও না।
হে ভগবান, কি ভয়ানক!
খেলা শেষ!
হুহ?
এটা কী?
কিছু নয়।
স্যার, আমরা অটোটা চেক করেছি।
তার ভেতরে একটা রক্তমাখা বোতল আর একটা সিরিঞ্জ পেয়েছি।
একবার দেখে নেবেন নাকি, স্যার?
আমরা এখানে কি করছি?
আমাকে একটা জিনিস নিতে হবে।
আচ্ছা...
তার জন্য কি আমার এখানে থাকাটা জরুরি?
সঙ্গ চাইছিলাম শুধু।
আমরা তো অতটাও ঘনিষ্ঠ নয়... তাই না?
শান্ত হও।
আমি তোমাকে কিছু করবো না।
করতে চাইলে, তুমি ইতিমধ্যেই ওদের মতো মরে যেতে।
উফ!
হ্যালো, চন্দ্রা দিদি। ভিতরে এসো
ক্যাফেতে আর ফোন করবে না।
তোমাকে না দেখতে পেলে, এখানেই চলে আসবো।
ঠিক আছে, দিদি।
তোমার ফোনটা...
- একটা লোকেশন চেক করতে হবে। - উমম...
তোমার রক্তের গ্রুপ কী, সানি?
'ও নেগেটিভ'।
'ও নেগেটিভ' সহজে মেলে না।
ওহ...
তবে যেভাবেই হোক, কুমার সবসময় তা জোগাড় করে ফেলে।
হুহ!
তুমি কি শুধু 'ও নেগেটিভ' খাও?
ওটাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ রক্ত।
আর স্বাদেও দারুণ!
সুস্বাদু?
তিনি চা খান না?
কে? তিনি?
কোনো নেশা নেই।
যে ছেলেটাকে তুমি দেখেছিলে...
দেখো তো, সেখানে আছে কিনা।
এই! আয়!
চল, খেলা যাক!
না...
না, খেলার মেজাজ নেই।
- তোর কি হয়েছে? - তোরা খেল।
তাকে পেয়েছিস বলে, তোর এখন আমাদের দরকার নেই, তাই না?
আয়, খেলবি চল।
আয়!
ভালো!
বল পাস কর, ভেনু।
ওদের পাস দে।
স্যার! ওখানে!
ওহ, এই ছেলেটা?
স্যার...
সেই সেক্স পার্টির ছেলে!
চন্দ্রা!
আর পেলেই সাথে সাথে, আমাকে ফোন কোরো।
ঠিক আছে, স্যার।
- জগদীশ... - স্যার।
তার স্টেটমেন্ট নিয়ে ছেড়ে দাও।
ঠিক আছে, স্যার। আমি সেখানে যাচ্ছি।
ঠিক আছে।
কোনো মৃতদেহ ছাড়া কেস এগোবে না, সানি।
ওহ, তাই নাকি?
ঠিক আছে।
তারা কি লাশ খুঁজে পাবে?
লাশ...
না, পাবে না।
অবশ্যই, পাবে না।
তাই, চাপ নিও না।
আচ্ছা।
এই নাও।
এখানে রক্ত ছাড়া পান করার মতো কিছু আছে?
না। চলো, বাইরে যাই।
তোমাকে লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এক মিনিট।
পরে ফোন করবো।
চন্দ্রা কি তোমার আসল নাম?
ইররর...
আমার আসল নাম নীলি।
নীলি...
হুহ?
নীলি...?!
তুমি বলতে চাইছো...
অপেক্ষা করো... তুমি বলতে চাও...
কল্লিয়নকাট্ট...
কল্লিয়নকাট্টু নীলি, সেই বিখ্যাত যক্ষী।
ওটাই আমি।
কিন্তু দাঁড়াও...
কাথানার না কেউ একজন...
তোমার মাথায় পেরেক ঢুকিয়ে মেরে ফেলেছিল না?
হুহ?
ভয়ের কিছু নেই।
গ্রামবাসীরা যাতে বিশ্বাস করেন, তোমার আত্মাকে তাড়িয়ে দিয়েছি, সেইজন্যই এটা করেছিলাম।
তোমাকে মেরে ফেলার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না।
তোমার শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি।
তুমি এমন হয়ে গেছো...
কারণ, মৃত্যুকে প্রতিরোধ করে এমন কিছু তোমার রক্তের সঙ্গে একত্রিত হয়ে গেছে।
আর তুমি একা নও, নীলি।
তোমার মতো আরো অনেকে আছে।
তারা মানুষ নয়...
এমনকি এই জগতেরও নয়।
তাদের মধ্যে,
কেউ কেউ তোমার মতোই ভালো।
তবে বাকি যারা আছেন, তাঁরা বিপজ্জনক।
প্রত্যেকেরই নিজস্ব অনন্য শক্তি...
আর দুর্বলতা আছে।
আমি সাধারণ মানুষ মাত্র।
তাদের সাথে একা লড়তে পারবো না।
তাদের মধ্যে দুজন আছে, যাদের একা তাড়াতে পারবো না।
তাদের ধরতে হলে...
তোমার সাহায্য আমার দরকার।
এরা দুজন কারা?
এদের মধ্যে একজন হল চাথান।
তুমি কি কখনো চাথানদের সম্পর্কে শুনেছো, নীলি?
আমি সব কিছু বুঝিয়ে বলবো।
কিন্তু সবার আগে, আমাদের একজনের সাথে দেখা করতে হবে।
তিনি কে?
মুথন।
আমরা বন্ধু।
হুহ?
বন্ধু?
আমি সবসময় মনে করতাম, এগুলো শুধুমাত্র পৌরাণিক কাহিনী।
তোমার কোনো ধারণা আছে কি…
তথাকথিত কতগুলো পৌরাণিক কাহিনী এবং কিংবদন্তি প্রকৃতই বাস্তব?
তোমাকে দেখতে পেয়েছি।
এই!
তুমি কে?
কালো জাদু বা সেইরকম কিছু জানো কি?
খুব ভালো করেই জানি যে...
তুমিই তাদের হত্যা করেছো।
তুমি কি জানো, তারা আসলে কারা?
তারা কার লোক?
তুমি আর তোমার সেই ছোট্টো সঙ্গী...
তারা তোমাদের দুজনকেই মেরে ফেলবে!
আমি চলে গেলেই তারা এখানে আসবে। অপেক্ষা করো, দেখতে পাবে।
সেই পরিস্থিতি তখনই আসবে, যদি তুমি এখান থেকে যেতে পারো।
হুহ!
নাইজিল!
- কী? - আয়!
ওহ, না! চন্দ্রা!
- এখান থেকে যাও, সানি। - না, না।
তার ক্ষতি কোরো না।
আর কোনো উপায় নেই।
যদি ওকে মেরে ফেলো, আমরা সবাই ফেঁসে যাবো! ও একজন পুলিশ!
চন্দ্রা...
তুমি এখান থেকে অন্য কোথাও...
চলে যাচ্ছো না কেন?
হুহ?
সানি!
শব্দটা কিসের?
চন...
চন...
সানি!
সানি!
এই!
সানি!
সানি!
এই!
- এই! - সানি!
- এই!
সানি!
ধুর!
হে ভগবান!
সানি...
ওকে ধর, ভেনু। তোর হাতটা দে!
দেখ! একটা হুইলচেয়ার!
সাবধানে! ঠিক আছে।
সাবধানে! ঠিক আছে।
এটা কোথায় নিয়ে এলে? এখানে কেউ নেই!
আমাদের এখানে আনলে কেন?
কোনো লাইট নেই নাকি?
- কিচ্ছু হবে না, সানি! - চন্দ্রা!
- তুই কোথায় যাচ্ছিস? - মেন সুইচ খুঁজতে।
সানি...
চোখ বন্ধ করিস না, সানি।
সানি...
তুমি কি এই ক্লিনিকের কথাই বলছিলে?
...পালিয়ে গেছে। গোটা শহর জুড়ে তল্লাশি চলছে...
রক্ত বন্ধ হচ্ছে না।
ওহ না!
এই!
এটা দেখ।
সব খবরে সানি আর চন্দ্রার ছবি দেখাচ্ছে !
পুলিশ আর এনআইএ, ওর আর আমাদের বাড়িতে রেইড করেছে।
সব চ্যানেলে চন্দ্রাকে সন্ত্রাসী বলে প্রচার করা হচ্ছে!
এটা দেখ।
আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
ভেনু, তোমাকে সানির চিকিৎসা করতেই হবে।
কি! আমি!
অন্তত ওর ক্ষতটা চেক করো, ভেনু।
মনে হচ্ছে, ক্ষতটা ত্বক এবং মাংসের মধ্যেই সীমিত আছে।
আরে... অন্তত একবার দেখ।
তুই জানিস, আমি এসব কিছুই বুঝি না!
আমি কেবল থিওরি পড়েছি।
সব প্র্যাকটিকাল পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম!
তুমি কি কিছু করতে পারবে, চন্দ্রা?
গাধা! দেখতে পাচ্ছিস না, রক্ত দেখে মেয়েটার মাথা ঘুরছে ?
তুই না মেডিকেল স্টুডেন্ট? কিছু কর!
অন্তত রক্তপাত বন্ধ করো!
দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটা ত্বকের ক্ষত,
কিন্তু রক্তপাত বন্ধ না হলে... হেমোরেজিক শকে চলে যাবে!
তারপর? বড়জোর পাঁচ মিনিট! সানি মারা যাবে!
- আমি এখনই মরতে চাই না! - চুপ কর!
তোর কিছুই হবে না! আমি সামলে নেবো!
ঠিক কী করতে হবে, আমি বলবো। শুধু আমার কথাগুলো মেনে চলো।
দয়া করে চুপ করবে কি?
ওই অটোচালকটা আশেপাশে আছে কি না, দেখে আয়!
তাকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া যাক।
আমার কথা শোনো, ভেনু।
- এখন বেরোনো নিরাপদ নয়। - তোমার কিছু বলার অধিকার নেই!
এই গন্ডগোলের জন্য তুমিই দায়ী!
তুই দেখে আয়।
যেও না, নাইজিল।
আদেশ দেবার তুমি কে?
এখনই যা।
এই মেয়েটা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে!
ভেনু!
চন্দ্রা...
সরে যাও।
আমাকে জোর খাটাতে বাধ্য কোরো না!
- ভেনু...! - সরে যাও... সরে যাও...!
আমার পথ থেকে সরে দাঁড়াও।
সরে যাও!
যা বলছি, তাই করো!
তাকে ছেড়ে দাও, চন্দ্রা!
এই! সরে যান।
এই, এই! সরে যান।
তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর নাচিয়াপ্পা গওডা...
কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
আমি বলছি।
তুমি কোথায়?
মাইকেলের ক্লিনিকে।
এখন তার কাছে গেছো কেন?
জনিকে ফোন করে তার বাড়িতে যাওয়া উচিৎ ছিল, তাই না?
মাইকেলকে এর মধ্যে টেনো না।
সে যেমন বেপরোয়া, তেমনই বোকা!
কিন্তু এই ছেলেগুলো...
ওদের এই অবস্থায় রেখে আমি যেতে পারবো না।
আমার জন্যই তাদের সমস্ত বিপত্তি সহ্য করতে হচ্ছে। তাই...
না।
মুথন বলছেন, তুমি আর এখানে থাকবে না।
- কিন্তু আমি... - আমার কথা শোনো।
মুথন সতর্ক করেছেন, সামনে আরও বড় বিপদ আসতে চলেছে।
তার সাথে থাকার জন্য, তোমাকে এখানে ডাকা হয়েছিল।
ঠিক তখনই তুমি...
অবিলম্বে জনির বাড়িতে চলে যাও।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর নাচিয়াপ্পা গওডা,
কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
এক ঘন্টাব্যাপী বিশেষ আলোচনায়, আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন,
যেখানে আমরা শহরের অঙ্গ ব্যবসার তদন্ত করবো,
তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রভাব এবং মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
হুহ!
শুভ সন্ধ্যা। ‘ইভনিং বুলেটিন’-এ আপনাদের স্বাগতম।
আজ রাতের বড় খবর!
চলমান তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি ঘটেছে।
একটা হুইস্কি অন দ্য রকস চাই, প্লিজ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন,
সন্দেহভাজনদের অবস্থান এখনও অজানা।
এই কারণে সারা শহর জুড়ে ব্যাপক তল্লাশির সূচনা হয়েছে।
সংঘর্ষের শেষে সন্দেহভাজনরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
অফিসারের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন...
স্যার...
যে দুজন ছেলেমেয়েকে খবরের শিরোনামে দেখা যাচ্ছে…
আজ সকালে আমি তাদের একটা ক্লিনিকে নামিয়ে দিয়েছিলাম, স্যার।
হ্যাঁ, স্যার।
একজন সন্দেহভাজনের সাথে যুক্ত বেশ কিছু নকল পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।
চন্দ্রা অনন্যা, বয়স ২৮।
তার মধ্যে পাকিস্তানি ও আফগানি পরিচয়পত্রও রয়েছে।
এই ঘটনায় সীমান্তপারের গোষ্ঠীগুলির জড়িত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নীলি!
জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সাবধান করেছেন,
এই ব্যক্তিরা সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
তদন্তের এই অগ্রগতির পর,
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউএপিএ আইনের আওতায়...
চন্দ্রা ও ২৩ বছর বয়সী সানি কুরিয়ানের বিরুদ্ধে নজরদারি নোটিস জারি করেছে।
পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি,
অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।
হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চন্দ্রার সাথে সংশ্লিষ্ট...
বেশ কিছু নকল পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
এর মধ্যে কিছু পাসপোর্ট পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন,
এই ব্যক্তিরা সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে...
সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নাচিয়াপ্পা!
চন্দ্রা এবং সানি কুরিয়ান, দুজনের বিরুদ্ধেই নজরদারি নোটিশ জারি হয়েছে।
আপোষ আলোচনার জন্য আমাদের এখানে ডেকে...
সে কোথায় গেছে?
সে শীঘ্রই এখানে আসবে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য দিলে...
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
ওই মেয়েটি কি সে?
হ্যাঁ।
গরুড় বাহিনী প্রয়োগ করবো কি?
তাদের এখানে অথবা এই জায়গায়...
গুলি করতে বলুন।
ঠিক আছে।
নাচিয়াপ্পাকে খুঁজে বার করুন।
আমার তাকে দরকার।
রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে।
আমাদের আরেকবার পরীক্ষা করতে হবে।
আমার সাথে একটু আসুন, আন্টি।
দুজনেই পালিয়ে গেছে।
তোমার জন্য।
ওই সুন্দর... বেঁচে আছে না মরে গেছে?
এই, তোমার কিছু বলার নেই নাকি?
গজেন্দ্রনকে বলবেন...
আমি তাদের দুজনকেই ট্র্যাক করবো এবং ধরবো।
এখন কোনো কিছুই কোরো না।
তোমার জন্য, দুজনেই পালিয়ে গেছে। তুমি সাসপেন্ডেড হয়েছো।
যদি তারা মিডিয়ার সাথে কথা বলে, আমরা সমস্যায় পড়ে যাবো।
মাকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাও।
যাও!
গজেন্দ্রন জানেন, কি করা উচিৎ।
এটা একজন প্রকৃত পুরুষের উপযোগী কাজ।
এখন যাও।
জগদীশ!
ছেলেটা বা মেয়েটার ব্যাপারে কোনো খবর পেলে,
আমাকে আগে জানাবে।
ঠিক আছে, স্যার।
আমি নাচিয়াপ্পার পারিবারিক ডাক্তার।
তার সাথে একান্তে কিছু কথা বলতে চাই।
- হ্যাঁ, স্যার। - ধন্যবাদ।
সে তোমাকে কি করেছিল?
তোমাকে কামড়ে দিয়েছিল, তাই না?
- আপনি কে? - ডাক্তার।
হুহ!
ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ছে।
সে কে?
সে কোনো সাধারণ নারী নয়।
পুরাণে যক্ষী, চাথান, মাডান...
ওডিয়ান এবং অন্যান্য রূপ বদলানো প্রানীর নাম শোনো নি?
ওসব গল্প শুধু রূপকথা নয়।
এই সব প্রাণী আমাদের মধ্যেই বাস করে, চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে।
আপনি এইসব জানলেন কী করে?
এটা এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ।
এই ভাইরাস এখনো চিহ্নিত হয়নি।
তাই, এখনো এর কোনো চিকিৎসা নেই।
তোমার কিছু রক্ত নিচ্ছি।
ভাগ্য যদি সহায় থাকে, আবার দেখা হবে।
এখন যন্ত্রণা কমে যাবে।
তোমাকে মরফিন ইনজেকশন দিয়েছি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই এর প্রভাব শুরু হবে।
আমার অনেক ও-নেগেটিভ রক্ত বেরিয়ে গেছে, তাই না?
তুমি নিজের জন্য একটু রেখে দিতে পারতে।
আমি দুঃখিত, সানি।
আমাকে এই জায়গা ছেড়ে যেতে হবে।
ওহ না! তাহলে আমাদের কী হবে?
তোমরা মিডিয়ার কাছে যাও,
আর যা ঘটেছে, সেটা বলো।
বলো, ওই লোকগুলোকে আমি মেরেছি।
কেবল আমি।
আর পালানোর জন্য তোমাদের ব্যবহার করেছি।
আর পালানোর জন্য তোমাদের ব্যবহার করেছি।
আমাকে কী ইনজেকশন দিয়েছো?
মরফিন।
ভালো জিনিস।
কী?
রোদ ছাড়া তোমার আর কোনো দুর্বলতা আছে?
হ্যাঁ, আছে।
হৃদয়।
হৃদয়ই আমার দুর্বলতা।
আহ...
যদি আমার হৃদস্পন্দন থেমে যায়, আমি মারা যাবো।
তুমি যদি আমাকে কামড়ে দাও, আমি কি তোমার মতো হয়ে যাবো?
যদি আমি তোমাকে কামড়াই,
তাহলে আমার শরীরের ভেতরে থাকা ভাইরাসটা তোমার শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।
মানুষের শরীরের সাথে এই ভাইরাসটার মানিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই দুর্লভ।
ওহ...
যদি শরীরটা সুস্থ, সবল এবং স্বাস্থ্যবান হয়,
তাহলে সেটা আমার শরীরের মতো হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু তোমার শরীর তো সেরকম নয়, তাই না?
মদ আর ধোঁয়ায় ভর্তি।
এক সপ্তাহের মধ্যেই, জলাতঙ্কের মতো একটা রোগের সৃষ্টি হবে,
আর তুমি মারা যাবে।
সর্বোপরি,
খুব কষ্টদায়ক মৃত্যু হবে সেটা।
- হ্যালো… - জগদীশ স্যার?
ছেলেগুলোর নম্বর ট্র্যাক করে আমরা লোকেশন পৌঁছে গেছি।
ভেতরে কেউ আছে।
- আমরা কি ভেতরে গিয়ে দেখবো? - হ্যাঁ, দেখো।
আমি নাচিয়াপ্পা স্যারকে নিয়ে শীঘ্রই আসছি।
তাহলে, এরা টিভি সিরিয়ালের মত সাদা কাপড় পরে না, তাই তো?
তুমি ঠিক আছো?
তাকে হাতকড়া পরাও।
ঠিক আছে।
তাদের ধরেছি, স্যার।
কিন্তু, মেয়েটাকে গুলি করতে বাধ্য হয়েছি।
- হ্যালো? - হ্যালো...
- হ্যালো? - বলুন, স্যার।
হ্যালো?
জঘন্য নেটওয়ার্ক!
কি করবো?
হাই!
এই, পুলিশ!
গাধা কোথাকার!
হ্যালো!
- ওহ, না! - দুঃখিত!
ঠিক আছে। কোথায় যাচ্ছো?
ওহ, না!
বন্দুক নিয়ে ছেলেখেলা কোরো না।
গুলি বেরিয়ে যাবে।
ভয় পাচ্ছো নাকি?
কি খুঁজছেন, স্যার?
এই, তুমি কোথায়?
তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না।
আমি আপনার সামনেই আছি।
চারপাশে আমি নিজেকেই দেখতে পাচ্ছি।
কি বলছেন?
এখানে আরেকজন আছে।
কে?
এই! সে একজন জাদুকর।
কার কথা বলছেন?
- আমার কথা? - কে?
- আমাকে কেউ বাঁচাও।
- সাহায্য করো।
- সাহায্য করো!
- সাহায্য করো!
- সাহায্য করো!
কোথায় তুই?
বেরিয়ে আয়, হারামজাদা।
আমি এখানে, বাবু।
আবার দেখা হবে, পুলিশ বাবু!
দারুণ ছিল, তাই না?
আমি তোমার কাছে আসছি।
বোকা কোথাকার! ওটা টেনে বার করার চেষ্টা কোরো না।
তোমার ফেমোরাল ধমনী কেটে গেছে।
তাই, রক্তপাত হবে। হার্ট অ্যাটাক করে তোমার মৃত্যু হবে।
তুমি মালায়ালাম বোঝো নাকি?
হাসপাতালে যাও!
বালের প্রতিপক্ষ!
- এটা কে? - ওহ, না!
হ্যালো, ভাই।
সে কি পাগল হয়ে গেছে?
- এটা কে? - ধারণা নেই!
নীলি...
হাই!
তোমাকে খুব মিস করেছি।
সেখানে আরো কেউ আছে। কে সে?
- হ্যাঁ... বলো। - ম্যাডাম,
নাচিয়াপ্পা স্যার অদ্ভুত আচরণ করছেন।
তোমরা কোথায়?
আমি লোকেশন পাঠাচ্ছি, ম্যাডাম।
ঠিক আছে। লোকেশন পাঠাও। আমি আসছি।
ঠিক আছে, ম্যাডাম।
সানি, চলো।
কি ব্যাপার?
সে আমার মত হয়ে যাচ্ছে।
স্যার...
সাহায্য করুন, স্যার!
দরজা বন্ধ করো।
জনি!
অতিথি এসেছে!
সে কোথায় গেল?
- আমরা এখানে এসেছি কেন? - ধারণা নেই, ভাই।?
প্রকাশ ফোন করেছিল।
তোমাকে ফোন করতে বলেছে।
চন্দ্রা...
এখানে কী হচ্ছে, বল তো?
এই ঝকমকে সাজপোশাকওয়ালা লোকটা কে?
ভাই!
আমি ভগবান, ভাই।
নাচিয়াপ্পা...
সে সংক্রমিত হয়েছে।
তাকে সামলে নিয়ে, আমি চলে যাবো।
তুমি একা ওকে সামলাতে পারবে না।
সে সবেমাত্র রূপান্তরিত হয়েছে।
তাই, খুবই শক্তিশালী হবে।
তুমি একা টিকতে পারবে না।
কে করলো এটা?
সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে, তোমার নামে একটা লুকআউট নোটিশ জারি হয়েছে।
তুমি ধরা পড়লে,
বড় সমস্যা হবে।
আর নাচিয়াপ্পার ব্যাপারটা...
মুথন পরে সামলাবেন।
কুমার তোমার নতুন পাসপোর্ট আর টিকিট নিয়ে ওখানে আসবে।
তোমাকে অবিলম্বে চলে যেতে হবে।
তুমি যত দেরি করবে, বিপদ তত বাড়বে।
ঠিক আছে।
ছেলেটা কেমন আছে?
ভালো আছে তো?
ঠিকই আছে।
এখনকার মত বেসমেন্টে থাকো।
কুমার না আসা পর্যন্ত বাইরে বের হবে না।
এই, নীলি...
ওহ, রোদ্দুর!
সে আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
- তো এটাই আসল ডেভিল’স কিচেন নাকি? - বন্ধুরা!
আমি নীচে থাকবো।
হুহ! সিঁড়ি?
ওটা কে?
তার পরিবার...
আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
হুহ?
ওহ, রক্ত!
আমি এটা দেখতে পারি না। আমার মাথা ঘুরতে শুরু করবে।
হে ভগবান!
ভাই, এখানে কিছু একটা ঘটেছে।
ওহ, না!
তাড়াতাড়ি চল।
এই!
দুঃখিত!
- উঁকি দিচ্ছিস, হুহ? - দিতে চাই নি!
- নাইজিল...
এই কৌতূহলী জর্জটা কে?
যাও!
এগিয়ে যাও!
- এদিকে আয়! - ভাই, ওখানে একজন বর্বর আছে।
ওরা শুধু দু’জন নয়। আরও অনেকে আছে!
সূর্যালোকে নাচিয়াপ্পার...
কোনো সমস্যা হবে না?
সে সবেমাত্র রূপান্তরিত হয়েছে।
শুরুর কয়েক বছর তাদের কোনো সমস্যা হয় না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের আলো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
ওহ।
আমরা এখন কি করবো?
সে ভালো মানুষ নয়।
সে তোমার মত হয়ে গেলে, সমস্যা হবে কি?
চাথান দাদা!
জরুরি অবস্থার জন্য…
এটা তোমাদের সাথে রাখো।
চার্লি অন্য ঘরে আছে। দেখো নি তাকে?
আমি তার সাথে চলে যাবো।
এই...
যাবো কি?
আমি বাচ্চা সামলানোর একটা কাজ নিয়েছিলাম।
তুমি জোর করলে… আমি থেকে যেতে পারি।
দরকার নেই।
ঠিক আছে।
তো...
অন্ধকার নামার পর বিদায় বলা যায় না।
বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
- ছেলেরা! - হ্যাঁ...
- এটা তোমার কাছে রাখো। - ঠিক আছে।
এটা তোমার কাজে লাগবে।
আর একটা কথা...
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ওর কাছ থেকে দূরে সরে যাও।
- এটা নিরাপদ নয়। - ওহ, তাই নাকি?
- আমারও তাই মনে হয়েছে। - বিশেষ করে তোমার জন্য।
ঠিক আছে, দাদা।
চাথান দাদা কোথায় গেল?
ভাই...
আমরা কি আজ মারা যাবো?
চুপ কর, বদমাইশ।
কি হয়েছে?
এখানে এসে বসো।
তোমার সাথে কথা আছে।
আমার চোখগুলো দেখো।
পাল্টে গেছে না?
এইমাত্র শব্দটা শুনতে পেলে?
আমি এমন কিছু জিনিস শুনতে পাই, যেগুলো তোমার শোনার সাধ্য নেই।
আজ সেই কুত্তীটা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।
আমার দিকে তিনটে গুলি চালিয়েছিল।
কিন্তু আমার শরীরে?
একটা আঁচড় পর্যন্ত নেই।
কী বলছি, তুমি আদৌ বুঝতে পারছো তো?
তোমাকে বোঝাই কিভাবে?
কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত…
কেউ আমাকে মারতে পারবে না!
আমার কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই।
কিন্তু...
প্রত্যেকের আমাকে ভয় পাওয়া উচিৎ।
বাবা কী বলতেন...
মনে আছে?
ভয়...
হল শ্রদ্ধার ভিত্তি।
সেই শ্রদ্ধা...
ভক্তিতে পরিণত হয়।
এখন, আমি ঈশ্বর তুল্য।
এই মুহূর্ত থেকে, আমি অপরাজেয়।
মা!
আমি যদি ভগবান হই,
তুমি ভগবানের মা।
তোমার সবসময় আমার সাথে থাকা উচিৎ।
এই লোকটা... আমি...
- তাকে দেখতে অনেকটা… - সে আমার প্রেমিক ছিল।
অনেক বছর আগের কথা।
১৯০৫ সাল।
আমি তাকে ভীষণ ভালোবাসতাম।
তারপর?
তখন নাচিয়াপ্পার মতো আরেকজন লোক ছিল।
একজন ব্রিটিশ সৈন্য।
পিছন থেকে চুপিচুপি এসে,
সে আমার দিকে গুলি চালায়।
আমার প্রেমিক এগিয়ে এসে নিজের শরীর দিয়ে আমাকে আড়াল করলো।
- তারপর? - সে মারা যায়।
ওহ!
আমি কিছুই করতে পারি নি।
সেই অপরাধবোধ এখনও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
চন্দ্রা...
এক মিনিট।
আমরা যা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি তার থেকেও খারাপ।
তুমি যাদের মেরেছিলে, তাদের মধ্যে একজন… সুন্দর…
গ্যাংস্টার থেকে রাজনৈতিক নেতা হওয়া গজেন্দ্রনের ছোটো ভাই।
খুবই ক্ষমতাবান, এবং ভীষণ প্রভাবশালী মানুষ।
তোমাকে মেরে ফেলতে, সে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এটা তার কাছে ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে,
এবং তাদের পরিকল্পনা হলো...
গরুড় ফোর্স নামক একটা অ্যাণ্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড পাঠানো।
এই ছেলেগুলোও এখন ঝুঁকির মধ্যে আছে।
প্রকাশ আসবে।
আমি ওকে ডেকে পাঠিয়েছি।
সে আসার পর আমাদের করণীয়, ঠিক করা যাবে।
ঠিক আছে।
ছেলেটা আর মেয়েটা এখন 'হোলি গ্রেইলে' আছে।
ওদের সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে...
মন্ত্রীমশাই গরুড় বাহিনী পাঠিয়েছেন।
কিন্তু গরুড় বাহিনী যেন তাদের দুজনকে জীবিত ধরতে না পারে।
নাচিয়াপ্পাকেও মেরে ফেলো!
চলো, এগিয়ে যাও!
চলো! তাড়াতাড়ি! নেমে পড়ো!
চলো! চলো!
যাও! যাও! যাও!
এগিয়ে যাও!
চন্দ্রা দিদি!
পুলিশ এসে গেছে!
পুলিশ চারদিক ঘিরে ফেলেছে!
তারা ব্যারিকেডও বসিয়েছে।
কমান্ডো ফোর্স এসে গেছে।
চন্দ্রা, তুমি এখানে থেকে একা পালালে,
তারা সানিকে ধরবে।
কোথায় যাচ্ছো, চন্দ্রা?
যাই হোক না কেন, বাইরে আসবে না।
চন্দ্রা! তোমাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
এখনই আত্মসমর্পণ করো, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।
হাত উপরে তুলে বেরিয়ে এসো।
বাড়ির চারপাশে গড়ুর বাহিনী ঘিরে ফেলেছে।
পালাবার কোনো উপায় নেই!
আমাদের কথা না মানলে,
আমরা জোর করে ভিতরে ঢুকবো, আর গুলি চালাবো।
শেষবারের মত সতর্ক করছি।
তিন... দুই... এক!
ভিতরে স্মোক বম্ব ফেলো।
কপি!
পজিশন ধরে রাখো।
ঘেরাটোপ এখনো নিরাপদ আছে।
জানালার দিক থেকে কোনো নড়াচড়া নেই।
সন্দেহভাজন সশস্ত্র। দৃষ্টিসীমার মধ্যেই আছে।
১০ মিটার দূরে, একদম সামনে।
আলফা, তোমাকে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হলো।
আবার বলছি, গুলি চালাও।
গুলি চালাও।
- হুহ! - ওহ, না!
- ওখানে যাস না! - কোথায় যাচ্ছে?
এই!
যাও!
- সানি, ওখানে দাঁড়িয়ে থাকিস না। - এখানে আয়।
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
এই!
জানতাম।
আমাদের মত আরো অনেকেই আছে।
ক্লিনিকের সেই লোকটা,
এবং আরো অনেকেই আছে, তাই না?
তো, আরও অনেকেই আছে।
যদি তা-ই হয়,
তাহলে নিশ্চয়ই তোমাদের একজন নেতা-ও আছে, তাই না?
আমি তাকে দেখতে চাই।
তো… হৃদপিন্ডই আসল দুর্বলতা, তাই তো?
তোমার নেতাকে ডাকো, চন্দ্রা।
সবসময় জানতাম, আমি এই দুনিয়া শাসন করার জন্যই জন্মেছি।
এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়।
এটা অবশ্যম্ভাবী ছিল।
এখন আমি আমার নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলবো!
যে আমার পথের বাধা হয়ে দাঁড়াবে,
তাকে আমি শেষ করে দেবো!
সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে গুড রেটিং ও ফেসবুকে ফিডব্যাক দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।
নাইজিল...
ওকে ছেড়ে দাও।
এই ছেলেটাকে...?
আমি শুধু তোমাকে চাই।
তোমাকে বাঁচানোর জন্য,
নিশ্চয়ই তোমার লোকেরা আসবে, তাই না?
হ্যাঁ… তারা আসবে…
তোমাকে মেরে ফেলতে!
আমাকে মারতে?
কেন?
এখন আমি তোমাদের একজন…
সেই কারণেই কি তারা আমাকে মেরে ফেলবে?
মানুষ হও বা না হও,
তোমার মৃত্যুই প্রাপ্য।
সানি!!!
ভেনু!
কী হয়েছে?
- সবাই মারা গেছে নাকি? - জানি না।
যারা ভিতরে ঢুকেছিল, কেউ বেরোয় নি।
কাছাকাছি কোনো মিডিয়া আছে?
না।
তারা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
নিজে ভিতরে ঢোকো! গিয়ে চেক করো!
এরপর কোথায় যাবে, চন্দ্রা?
এখানকার কিছু কাজ শেষ করতে হবে, সানি।
তারপর চলে যাবো।
যদি তোমার সাথে দেখা করতে চাই,
ফোন করতেও তো পারবো না, তাই না?
পারবে না।
আমি তোমাকে মিস করবো, সানি।
তুমি খুব ভালো মানুষ।
এই! এই!
আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চল, প্লিজ।
এই যন্ত্রনা আর সহ্য করতে পারছি না! - ওহ, না।
- মনে হচ্ছে, মরফিনের প্রভাব কেটে গেছে!
তাড়াতাড়ি যাও।
নীলি
কল্যানী প্রিয়দর্শন
নাসলেন
স্যান্ডি
চান্দু সালিমকুমার, অরুণ কুরিয়ান
ভিজয়ারাঘবন, সরথ সভা
টোভিনো থমাস
সাথে...
আপোষ আলোচনার জন্য আমাদের ডেকে…
সে কোথায় গেছে?
সে শীঘ্রই এখানে আসবে।
মনে হচ্ছে, ফাঁদে পড়েছি।
এই! এই, ভাই!
এই! এসব কি?
তোর কি হয়েছে?
তোর এই অবস্থা কে করেছে?
কে করেছে, জানি না, ভাই।
আমার খুব ভয় করছে।
- চিন্তা করিস না, আমি আছি! - আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো, প্লিজ!
ভাই!
- ভাই! - অপেক্ষা কর!
আমাকে এখান থেকে বার কর।
ভাই!
এই!
তুই কে?
আমি কে, জানিস?
ভাই!
আমাকে এখান থেকে বার কর।
সে মানুষ নয়।
ভাই!
তুই... তুই কে?
তোর যম!
আমাকে খুঁজে পেলে কীভাবে?
দুর্দান্ত!
এটাই সমস্যা...
আমি যা-ই করি, মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়!
তোমার কাছে কেন এসেছি, তা বলা যাক।
এটা দেখো।
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা আর গভীর গুহা।
সম্প্রতি,
একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ সেই গুহায় প্রবেশ করেছিল।
এবং, তাদের সঙ্গে...
একজন সন্ন্যাসীও ছিলেন।
সবাই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সক্রিয় হয়।
বিস্তৃত অনুসন্ধান চালানো হয়।
কিন্তু সেই দলে থাকা কোনো প্রত্নতত্ত্ববিদকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে...
তারা সেই সন্ন্যাসীকে খুঁজে পেয়েছিল।
তিনি গুহার ভেতরে একটা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্তই গিয়েছিলেন ।
তিনি বলেছেন, তিনি বাকিদের সতর্ক করেছিলেন...
ওই জায়গার পর আর না এগোতে।
আমরা এক প্রত্নতত্ত্ববিদের ব্যাগ ও ক্যামেরা উদ্ধার করেছি।
সেই ক্যামেরায় কেবল একটাই ছবি তোলা হয়েছিল।
দেখো।
আমি কি নিশ্চিত হতে পারি...
যে ছবিটিতে তুমি নেই?
যদি আমি তোমাকে বলি,
ঠিক আমার মতো দেখতে আমার ৩৮৯ জন সহোদর আছে,
বিশ্বাস করবে কি?
চাথানরা আসছে।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.