Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
🌼ভেল্লাই পুকাল (২০১৯)🌼
ললিতা, দেখোতো কে?
কাউকে দেখছি না।
ওখানে কেউ নেই....
কে..? কে আপনি?
না... না.. প্লিজ...
খুনগুলো এভাবেই হয়েছে।
যখন তারা একা ছিল, খুনী তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্যার, শোবার ঘরের স্বর্নলংকারও চুরি হয়েছে।
উদ্দেশ্য স্বর্নলংকার চুরি হলে, কেন ললিতার শরিরেরগুলো নেয়নি?
এটা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ।
মালিকের কুকুরটা কোথায়?
এখানে কোনো কুকুর ছিল না, স্যার।
তাহলে ঐ প্লেটটা কার?
কুকুরটা কাছাকাছিই হয়তো আছে। খুঁজে দেখো!
স্যার!
কুকুরটা ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছে না।
কুকুরটা কেন ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছে না?
হয়তো কোনো কারণে ভয় পাচ্ছে...
এক মিনিট!
ঐ ফোনটা দাও।
স্যার, এই ফোনে কোনো সিমকার্ড নেই।
এটা কুকুর তাড়ানোর এ্যাপ।
এ্যাপটা চালু হলে,
উচ্চ কম্পাংকের শব্দ নির্গত হয়।
এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না,
কিন্তু কুকুররা পারে, তাই ভয় পায়।
কুকুরটাকে ভয় দেখানোর জন্য, খুনী এই এ্যাপটা ব্যবহার করেছে।
কুকুরটাকে সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই খুনী এসেছিল।
কিন্তু বাচ্চা মেয়েটাকে কেন খুন করলো?
মেয়েটাকে গলাটিপে মেরেছে।
হয়তো সে খুনের সাক্ষী ছিল।
তাই, হয়তো তাড়াহুড়োয়...
খুনীর কোনো তাড়া ছিল না
সে স্বাভাবিক ছিল।
কেন মেয়েটিই শুধু শ্বাসরোধের শিকার হলো?
এটা একান্তই ব্যক্তিগত।
ইন্সপেক্টর!
স্যার।
গতরাতের নিরাপত্তাকর্মীদের ডাকো।
জ্বি, স্যার।
এরা সবাই গতরাতে এই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
তোমরা দুজন যেতে পারো।
স্যার জিজ্ঞাসাবাদ? তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ।
যাও! যাও!
কোথায় কাজ করো?
পরবর্তী রোডের ২য় বাড়িতে, স্যার।
তুমি?
এখান থেকে ৩য় বাড়িতে।
গতরাতে সন্দেহজনক কাউকে দেখেছ?
না, দেখিনি।
মাথা চুলকাচ্ছ কেন?
মদ গিলেছ নাকি?
তুমি নিরাপত্তাকর্মী। বাসায় মালিক নেই?
মালিক শহরের বাইরে একটা বিয়েতে গেছে।
আর তোমার?
মালিক সিংগাপুরে থাকে।
বছরে ৩ মাস এখানে থাকে।
সম্পত্তির দেখভাল আর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমার।
ওহ্...সবই দেখছি তোমার দায়িত্বে।
জ্বি, স্যার।
বেশ ভালো...
মালিকের অগোচরে বাড়িভাড়া দিচ্ছ না তো?
না স্যার। ঐরকম কিছু না।
সুযোগসন্ধানীদের মতো নও তুমি।
মাথায় ক্যাপ পরো না?
মাঝেমাঝে, স্যার।
তোমার পোশাক কুঁচকানো কেন?
নাইট ডিউটিতে ছিলাম, স্যার।
ইন্সপেক্টর ভেতরে আসো।
এই খুনগুলোর জন্য দায়ী...
...মি. দাস।
স্যার! স্যার! আমি নই...
বেড়িয়ে যাও!
রুদ্রান, খুনীকে কিভাবে সনাক্ত করলে?
সেলভি একটা বাচ্চা মেয়ে।
স্কুলে যাবার সময়, খুনী ওর উপর নজরদারি করতো।
একদিন সে মেয়েটাকে একা পেয়ে অপহরণ করে এবং....
মেয়েটা তার ডায়েরিতে নিজের মতো করে বুঝিয়েছে।
তারপরও খুনীর বিষয়ে এতটা নিশ্চিত হলে কিভাবে?
শ্বাসরোধের সময় খুনীর সাথে সেলভির ধ্বস্তাধস্তি হয়...
তাই খুনীর ক্যাপের লোগো থেকে একটা লাল সুতো তার আঙুলের ফাকে আটকে যায়।
এছাড়াও কুকুর তাড়ানোর এ্যাপ ইন্সটল করা একটি ফোন পাই।
নিরাপত্তাকর্মীরা কুকুর নিয়ন্ত্রণে এই ধরণের এ্যাপ ব্যবহার করে।
তাই আমি ঐ এলাকার সকল নিরাপত্তাকর্মীদের জেরা করি...
একজন বাদে সবাই ক্যাপ পরিহিত ছিল। হয়তো ঐ লাল সুতোর উৎস ছিল তার ক্যাপ।
নাইট ডিউটিতে থাকায়, অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাক ছিল কুঁচকান।
কিন্তু ঐ লোকটির পোশাক ছিল নতুন।
এসবের ভিত্তিতে, খুনীকে শনাক্ত করি।
তোমার পরবর্তী কেস আমেরিকাতে।
কী বলছেন? আমেরিকা?
হ্যাঁ। তোমার ছেলে অজয় তো সিয়াটেলের মাইক্রোসফটে কর্মরত, তাই না?
জ্বি, স্যার।
রুদ্রাণ, আর কতকাল ওর সাথে কথা না বলে থাকবে?
৩ বছর, তাই না?
ওর কাছে যাও।
অতীত ভুলে ছেলের কাছে যাও এবং সম্পর্কটা স্বাভাবিক করো।
কিন্তু কেন, স্যার?
তুমি বাবা হিসেবে যাচ্ছ, পুলিশ অফিসার হিসেবে নও।
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr.Pritam C Dey//
//Created by Dr.Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
//Created by Dr. Pritam C Dey//
হাই বাবা!
আমেরিকাতে স্বাগতম।
কেমন আছ?
জার্নি কেমন হলো?
তোমার ব্যাগ দাও।
বাকী ব্যাগগুলো কোথায়?
ওইদিকে।
বাবা, ভেতরে যাও। আমি ব্যাগ নিয়ে আসছি।
হ্যালো বাবা।
বাবা...ভেতরে আসো।
বাড়ি পছন্দ হয়েছে?
পুরোটাই এ্যালিসের হাতে সাজানো।
আমার ক্লান্ত লাগছে।
তোমার ঘর উপর তলায়।
বাবা, এটা তোমার ঘর।
ওটা মাউন্ট রেইনিয়ার পর্বত।
এখনো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। ওরা বলে, যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে।
যে বিল্ডিংগুলো দেখছো, ওটা ডাউনটাউন। আগে আমরা ওখানে ছিলাম।
সকালবেলার দৃশ্যটা সত্যিই অসাধারণ।
টিভি আছে...ওয়াইফাইয়ের নাম লাক্সমি ইল্লাম।
মা'র নামে নাম!
কয়েক বছর পর ছবিটা দেখলাম।
বাবা, এটা আমার শোবার ঘরে রাখতে দাও।
এ্যালিস সহ এমন আরেকটা ছবি দরকার।
ঘুম পাচ্ছে?
প্লিজ ঘুমোতে যাও।
যদি ক্ষিধে পায়, সেক্ষেত্রে খাবার ও ফলমূল খেতে পারবে।
সকালে দেখা হবে।
হাই রুদ্রাণ?
তুমি আমেরিকা যেতে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছিলে। কেমন কাটছে?
সকালবেলা ১ কাপ কফি নিয়ে যখন ব্যালকনিতে দাঁড়াবে,
তখন তোমার ইন্ডিয়ার জনাকীর্ণ রাজপথের কথা মনে পরবে।
আবর্জনার ট্রাক প্রতিদিনই আসছে, এমনকি বুধবারেও
জানোই তো, আবর্জনার ট্রাক কতোটা পরিস্কার?
আবর্জনার ট্রাকের বিষয়টা কী খুব গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন নতুন মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে?
হ্যা। লোকজন আমার বন্ধু হবার জন্য লাইন ধরে অপেক্ষা করছে।
কিন্তু আমার ছেলে আর ছেলের বৌয়ের সাথে থাকতেই ভালো লাগে।
ওহ। ভালো। অবশেষে অজয়ের সাথে কথা বললে তাহলে?
শুধু অজয় না, এখানকার ফ্রিজও আমার সাথে কথা বলে!
আহ্!? বাদ দাও...
তোমার ছেলের বৌ কেমন?
তাড়াহুড়োর কী আছে? কেবলমাত্র ফ্রিজের সাথে কথা বলা শুরু করেছি।
বিভ্রান্তিকর....এখন কী করছ?
এখন? নাস্তা করছি।
ওহ্! নাস্তার মেন্যু কী?
গরম শক্ত শক্ত পাউরুটি...
আর টমেটোর সস।
এরসাথে ফিল্টার কফি।
কী হলো?
কিছু না। একটা সরিষার দানা দাঁতে আটকে গেছে।
তুমি দেখছি, নিজ গৃহে পরবাসী!
সবকিছুই নতুন লাগছে কারণ তুমি বিরক্ত। যেচে পরে আবার বিপদে জরিয়ো না।
এটুকুই বলার ছিল। ভালো থেকো। বিদায়!
কেমন আছো, কার্লোস?
আগের মালগুলো ডেলিভারি দিয়েছ?
পরবর্তী চালানের অপেক্ষায় আছি।
সাবধানে, এটা অনেক বড় চালান।
চলো যাওয়া যাক।
দেখেও না দেখার ভান করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সিরিয়ার জনসাধারণ, যাদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু, যারা সশস্ত্র অভ্যুত্থানকারীদের শিকার...
সিরিয়ার জন্য আমার খারাপ লাগে। এসবের শেষ কবে?
মানুষ যখন আবেগের বশবর্তী না হয়ে, যুক্তি দিয়ে ভাববে, তখন সমাধান আসতে পারে।
দুঃখিত। এখন থেকে আমি যা খাবো, তা আমি নিজেই রান্না করবো।
এটা ইন্ডিয়ার লেবু ভাতের মতো।
আমি নিজেই লেবু ভাত রান্না করবো, তারপরও লেবু ভাতের মতো কিছু খাব না।
বলতো কোথায় মশলা আর শাকসবজি পাবো, গিয়ে কিনে আনি।
বাবা, খেয়েই দেখ না।
অজয়, উনাকে জোর কোর না। বাজারে নিয়ে, যা যা দরকার কিনে দাও।
এহ্, একটাও নেই।
সব নিয়ে গেছে।
সবাই কী আমার সাথে মজা নিচ্ছে?
স্যার, আপনি কী তামিলনারু থেকে?
আমি ভারাদিদাশান।
সবাই ডাকে ভারদি।
আমার বাড়ি ত্রিচি। আপনার?
আমি বি.এইচ.ই.এলে ৩২ বছর কর্মরত ছিলাম।
এরপর আমেরিকায় আসি। আপনি?
প্রথমবার আসলেন? আমার ২য় বার।
আমি এখানে কাউকে তামিল বলতে শুনিনি!
যদি সুযোগ দেন, আমি বলি।
আমরা কি যেতে পারি?
আমার ছেলে অজয়ের সাথে এসেছি।
ওই তো, ওখানে।
মনে হচ্ছে, বাবা আর আঙ্কেল পূর্বপরিচিত।
ওইপাশেরটা রামিয়া।
ওরা আপনার পরিচিত?
আমি ওর মা'কেও চিনি।
আঙ্কেল, আবার দুষ্টুমি শুরু করেছেন?
আমার মা ও বাবা।
বাবা, আমরা দু'জনই মাইক্রোসফটে আছি, মানে কারপুল।
কার পুল (Car Pool) কী?
আমরা দুজন একই গাড়িতে অফিসে যাই
আবার একই গাড়িতে ফিরে আসে।
দেখুন তো, এক প্যাকেট চিপস দেইনি বলে ষাঁড়ের মতো গলা ফাটাচ্ছে।
বাবা, চুপ থাকো। উনার স্ত্রীর সাথে কথা বলছে।
তোমার দুষ্টুমি বন্ধ করো।
এজন্যই হয়তো আঙ্কেলের ইউ.এস অপছন্দ।
ইউ.এস আপনার অপছন্দ?
আমার মতো ইউ.এসের জীবনযাত্রার সাথে অভ্যস্ত লোকদের জিজ্ঞেস করুণ।
এখানে আমাদের মতো বুড়োদের সার্বক্ষণিক কাজের সুযোগ রয়েছে।
সেটা আবার কী?
হাটাহাটি করা!
আগামীকাল যোগ দিন।
১৩০ স্ট্রিটে ব্রিটনি নামে একজন লাস্যময়ী তরুণী আছে, যে কিনা.....
ভগবান। কী বলছো এসব?
আমি বলতে চাচ্ছিলাম, সে ভালো কফি বানায়।
আগামীকাল সকাল ১০ টায় রেডি থাকবেন।
আমি ঠিক ১০:৩০-য়ে আসবো।
বাবা প্লিজ। দুঃখিত আঙ্কেল। আমি অজয়কে তুলে নেবার সময়, বাবা আপনার সাথে দেখা করবে।
ভাই
হাই... এমনভাবে তাকায় যেন উনি পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক!
অনুমান সঠিক বাবা, উনি পাকিস্থানী।
মাস তিনেক হলো, আমরা এখানে এসেছি।
উনাকে কারও সাথে কথা বলতে দেখিনি।
যদিও উনার মেয়ে এ্যালিসের স্কুলেই পড়ে।
জ্বি বাবা, ও খুবই লক্ষী মেয়ে। নিয়মিত স্কুলে যায়...
ওকে বুঝলাম। আমি আমার ঘরে যাচ্ছি।
রাগ করেছ?
পাশেই এমন একটা সুন্দরী থাকতে, বিমর্ষ হন কীভাবে?
বয়স কতো হবে...
৩০ এর কাছাকাছি...
আমাদের বয়স জিজ্ঞেস করেছি, মেয়েটার না!
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
♫ ♫
আঙ্কেল, বাথরুম ওইপাশে।
ওহ্ ওকে! দুঃখিত।
ইউ.এসে ভালো লাগছে? কেমন কাটছে?
এখানে সবকিছুই নতুন
কিন্তু এই কর্মবিমুখতা বেশ বিরক্তিকর।
ইন্ডিয়াতে কেস আর তদন্তময় জীবনটা বেশ রোমাঞ্চকর।
অবসরকালীন জীবনটা তো আর টি২০ ম্যাচ নয়,
যেখানে ঘটনার ঘনঘটা থাকবে।
এটা অনেকটা টেস্ট ম্যাচের মতো যেখানে প্রতিদিন ১০ রান করাই যথেষ্ট।
এটাই জীবনের সৌন্দর্য।
ব্যাগে কী, কার্লোস?
এই ছেলেটাকে আমাদের বাড়ির আসেপাশে দেখেছিলাম না?
লেনদেন কী ভুলে গেছ?
বলেছি তো, যথেষ্ট হয়েছে।
স্যার, কী করবেন?
স্কুলের বাচ্চাদের মতো মারামারি করবো!
পুলিশের দৌড় কতদূর, সেটা দেখাতে হবে।
হেই! কে তুমি? কী হচ্ছে এখানে?
এই বুড়ো,
বাড়ি যাও!
ভাগো!
আমি কি বিপদে পরবো?
অবশ্যই না। আমি সামলাচ্ছি। ওকে?
এ্যালিস, তোমার শ্বশুর বিপদে পরেছে, সে এখন বাস্কেটবল মাঠে।
অন্যদের বিষয়ে নাক গলাতে যাও কেন?
ঐ লোকগুলো আমাদের বাড়ির চারপাশে ঘুরঘুর করে।
যদি ওরা আমাদের সাথে ঝামেলা করে? তখন কী করবে?
বাবা, সে ওইগ্রুপের লোক!
বাবা! না, যেও না!
হেই, কে শব্দ করলো? তুমি? আস্তে, এটা আবাসিক এলাকা।
কী হলো? আমি পুলিশ ডাকছি।
সত্যিই হাস্যকর। পুলিশই এসে বরং তোমাদের ব্যবস্থা করুক...
কালো ভূত, তোর সাহস হয় কীভাবে, আমাকে স্পর্শ করার? দূর হ চোঁখের সামনে থেকে....
হেই, আমাদের যেতে হবে।
বিদায় হও।
আমি ৯১১-এ কল করে রিপোর্ট করছি।
কেন?
এই টাইপের আরও ১০০০ লোককে আমি দেখেছি।
এরা ঘেউঘেউ করে, কিন্তু কামড়ায় না।
বাবা, এটা ইন্ডিয়া নয়।
ইন্ডিয়ার কুকুররা অন্তত ঘেউঘেউ করে।
কিন্তু এখানে সেটুকুও করে না।
আমি এসব সামলানোর জন্যই এসেছি, পুত্র।
অজয়, শান্ত হও। মাথা গরম কোরো না।
পুলিশকে জানিয়ে কোনো লাভ হবে না।
এমনটা করলে কেমন হয়?
আগামীকাল ছুটি নাও।
কোথাও গিয়ে ঘুরে আসো। এতে মনটা আবার চাঙা হবে।
বাবা, তুমি কী সিয়াটল ঘুরে দেখতে চাও?
-ওহ্...এজন্য তোর ছুটি নেবার দরকার নেই। - সেটা কোনো সমস্যাই না।
তুমি কী বলো?
আগামীকাল আমি সারাদিন ব্যস্ত। আমার স্কুলের পরামর্শ সভার মিটিং এবং আমাকে থাকতেই হবে।
আমার মতে, শুধু বাপ-ব্যাটাকে পাঠালে কেমন হয়?
তুমি নিশ্চিত?
আমি সাবধানে থাকবো, দুশ্চিন্তা কোরো না।
বাবা, আমরা তাহলে যাচ্ছি?
জেফ, তুই কেমন বয়ফ্রেন্ড? তোর শার্ট প্যান্ট নিয়ে চোঁখের সামনে থেকে বিদায় হ। আর কখনো আমাকে ফোন করবি না, এবং ফিরে আসার চেষ্টা করবি না।
সুদেআসলে ফেরত পাবি।
বাবা, চলো যাই।
বাবা, ইউ.এস.এ পছন্দ হয়েছে?
এখানে সবই আছে,
তারপরও কিসের যেন শূন্যতা।
শূন্যতাটা কী আসলে?
বাবা, আমাদের বাসার সামনে জটলা কিসের?
ক্রাইম সিন থেকে সরাসরি বলছি, অপহৃত নারীর নাম মোনা ব্যারণ, তিনি পাশবিক অপহরণের শিকার হয়েছেন, উত্তর সিয়াটল এলাকা থেকে।
-এ্যালিস! -অজয়!
সব ঠিক আছে? কী হয়েছিল?
কী হয়েছে, ভারদি?
মোনা অপহৃত হয়েছে।
আসলে কী ঘটেছে, কেউ জানে না।
উনারা মোনার বয়ফ্রেন্ড জেফকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
-আমি ওকে বিশ্বাস করি না। -ইয়াহ, আমিও না।
হ্যালো, ক্ষমা করবেন। একমিনিট সময় হবে?
অফিসার, ভিকটিমের কী হয়েছে? অপহরণ?
এখনো নিশ্চিত নই, যাইহোক কে আপনি?
আপনাদের বন্ধুর মতো। ওর মোবাইল ট্র্যাক করেছেন?
এখানেই দাঁড়ান। এটা ক্রাইম সিন। কী করতে হবে, আমাদের জানা আছে।
অফিসার, উনি আমার বন্ধুর বাবা। ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন।
ঠিক আছে।
চলেন, ভেতরে যাই।
মর!
এভাবেই হয়তো মোনা অপহৃত হয়েছে।
এখানে কী করছেন?
আমি? হাটাহাটি।
দুঃখিত ম্যাডাম, উনার অনিদ্রা রোগ আছে। আবারও দুঃখিত।
এই মধ্যরাতে বাইরে কী করছ?
খেয়াল করেছ? এদের উপর নজর রাখতে হবে।
কোনো সিকিউরিটি ক্যামেরা চোঁখে পরেছে?
তাদের কোনো ক্যামেরা নেই।
বাবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে,
সার্বক্ষণিক, তাই,
কখনোই রাতেরবেলা বাইরে যাবে না।
সন্ধ্যে ৭ টার মধ্যে বাড়ি ফিরবে।
এবং বাইরে গেলে অবশ্যই আমাকে ম্যাসেজ দেবে।
ওহ্, আমার উপর কারফিউ জারি করছিস!
তুই ভাবছিস, আমি তোর কথামতো উঠবস করবো,
ছাতার প্যাঁচাল!
উনি এমন আচরণ করছে কেন?
বাইরে যাবার দরকারটা কী?
এনেছ?
অস্থির! তাই না? এখন আমার পাওনাটা!
কাছে আসো।
ভয় পেয় না।
হেই, দাম কতো?
দ্বিগুণ।
রেডি করে রেখো আমার জন্য।
মোনা অপহৃত হয়েছে, তারপরও কেন আমরা ওর স্টুডিওতে যাচ্ছি?
আমার ভয় করছে।
দেড়িও হয়ে গেছে। আমরা কী ফিরে যেতে পারি?
এসব অপ্রয়োজনীয়।
যদি এভাবেই ভাবতেন, তাহলে এতদূর আসতেন না।
টেস্ট ম্যাচে বাউন্ডারি হাঁকালে ক্ষতি কী?
মোনা ফটো স্টুডিও। এটাই সেই বিল্ডিং...
এটাই কী ওই পুলিশ?
চলুন! চলুন। না হলে ধরা পরে যাবেন।
কীভাবে সাহায্য করতে পারি স্যার?
আমরা...ছবি নিতে এসেছি
কী নাম?
অজয়।
এটা কী নামের শেষাংশ?
নামের শেষাংশ "রুদ্রাণ"
এটাই কি?
হ্যাঁ, এটাই।
আর কোনো সাহায্য?
জ্বি।
পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে...উনার জন্য।
আমার? পাসপোর্ট? কেন পাসপোর্ট? কেন?
কেন নয়?
" হাম তুম এক কামড়ে মে বন্ধ হো "
ধন্যবাদ মেরি।
বাবা গতরাতে তদন্তে বেড়িয়েছিলেন।
ভেতরে আসুন।
আঙ্কেল, আপনার নামে একগাদা অভিযোগ শুনলাম।
পুলিশের নামে অভিযোগ? কী অভিযোগ?
মধ্যরাতে নাকি তদন্তে বের হন।
কোথাও অপরাধ সংগঠিত হলে, কিছু লোকের হাত-পা নিশপিশ করবেই।
অজয় আমাকে জেরা করতে বলেছে?
তোমরা কোথায় গিয়েছিলে?
মোনার ফটো স্টুডিওতে।
কেন? গতকালই তুমি পুলিশের কাছে ধরা খেলে, আবার কেন?
আমি শুধু ছবি আনতে গিয়েছিলাম।
আমি তোর কারফিউ মোতাবেক ৭ টার মধ্যেই পৌঁছেছি।
আমাদের স্থানীয় বন্ধু, মোনা ব্যারন নামের ফটোগ্রাফারের অপহরণ হবার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। ডাউনটাউন সিয়াটলে তার একটি স্টুডিও রয়েছে।
বাবা...খাওয়ার টেবিলে আইপ্যাড নিষিদ্ধ।
ওটা খাবেন না। মাংশ আছে।
ওহ্, ওগুলো নিরামিষ শামুকের মতো মনে হচ্ছিল।
হ্যাঁ ঠিক।
বাবা...কেসের চিন্তা বাদ দাওতো।
রুদ্রাণ স্যার, অজয় ঠিক বলেছে। অযথা টেনশন নিচ্ছেন কেন?
পুলিশ দেখবে এগুলো।
মা। উনিও একজন পুলিশ।
কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত।
তাতে কী? আমি এখনো পুলিশ।
ধরো আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক,
এবং ভারদির হঠাৎ হার্ট এ্যাটাক হলো।
সাবধানে! এটা খাও।
মজা করছিলাম!
আমার কী চিকিৎসা না দিয়ে, হাত গুটিয়ে বসে থাকা উচিত?
বাবা, চিকিৎসক হতে হলে দক্ষতার প্রয়োজন।
কিন্তু পুলিশ হতে হলে, শুধু দক্ষতাই যথেষ্ট নয়।
এটা শুধুই চাকরি নয়, বিচার বিবেচনার ক্ষেত্র।
সবাই পুলিশ হতে পারে না।
পুলিশের দরকার নেই...মোনার কী হয়েছিল, আমিই তোমাদের বলবো।
মা...রেডিও চালু কোরো না।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি দিয়ে বলোতো, এই পিঠাগুলো কে বানিয়েছে?
এবং কেন এতবেশি পুড়িয়েছে?
আমার মনেহয়, পাশের বাড়ির লোকটা...
পাশের বাড়ির লোকটা পুড়িয়েছে?
সে মেয়েটার কিছু একটা ক্ষতি করেছে।
আমি প্রায়ই ওদের অগ্নিদৃষ্টি বিনিময় করতে দেখেছি।
সে কী পাকিস্তানি?
মা!!
সকল পাকিস্তানিই কী তোমার কাছে সন্ত্রাসী?
ওদের উচিত তোমার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
তাহলে কতই না ভালো হতো! আমিও একটা প্রশান্তিময় জীবন পেতাম।
আমার উচিত ছিল, তোমাকে ইন্ডিয়ায় ফেলে আসা।
তুমি বলেছিলে, ওই আফ্রিকান নিগ্রোটা ওইদিন ঝামেলা করেছিল, তাই না?
রুদ্রাণ স্যার, ওই একই লোকটা একইদিনে মোনার সাথেও ঝামেলা করেছিল, তাই না?
তোমরা দু'জনই ট্রাম্পের মতো গতানুগতিক চিন্তা করছো।
জেফকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখছ কেন?
এই ধরনের কেসে বয়ফ্রেন্ডই সবসময় প্রধান সন্দেহভাজন!
সে অবশ্যই...
রামিয়া, এখন তো তুমিই গতানুগতিক চিন্তা করছো।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্টতার সুযোগ নেই।
আপনার মতে, জেফ নির্দোষ?
না। আমি বলেছি, ও সন্দেহভাজন হতেও পারে, আবার নাও পারে।
আঙ্কেল, আমেরিকার পুলিশরা ইন্ডিয়ার পুলিশদের মতো নয়।
তারা ওকে আটক করার আগে, পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে।
আপনি শুধু বলছেন, গতদিন জেফ আর মোনার ঝগড়া হয়েছিল।
জেফ অবশ্যই মোনার কোনো ক্ষতি করেছে।
ভারদি, রামিয়া এখনো অপরিণত।
যদি দম্পতিরা ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া করে, একে অপরকে অপহরণ করে হত্যা করা শুরু করে...
তাহলে এই পৃথিবীতে কেউই অবশিষ্ট থাকবে না।
স্যার, রামিয়াকে জলদি বিয়ে দিন।
রামিয়া। প্লিজ, দাঁড়াও।
গতকালের জন্য দুঃখিত।
রামিয়ার গতকালের আচরণের জন্য আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
ক্ষমা তো আমার চাওয়া উচিত।
অজয় গতকালই আমাকে খুলে বললো।
রামিয়ার জন্য আমি সব ছেড়ে এসেছি।
আমি ওর দেখভালের জন্য ইউএস এসেছি।
ও ছিল সুখী এবং প্রতিষ্ঠিত।
সবকিছুই সুন্দরভাবে আগাচ্ছিল কিন্তু...
আদি...আমার জামাতা...
...মারা যাবার পর, ও ভেঙে পরলো।
সবকিছু বদলে গেল, এমনকি ওর আচরণ।
হতাশা, ঔষধ, থেরাপি সব একসাথে চললো...
ওই এক দূর্ঘটনা ওর পৃথিবীটাকে এলোমেলো করে দিলো।
দুঃখিত ভারদি। আপনার কষ্টের দিনগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য।
আপনার দুঃখিত হবার প্রয়োজন নেই।
আসলে আমার বিনোদনের দরকার।
না হলে, আমিও উন্মাদ হয়ে যাব।
আসুন।
হাওয়া বদল করতে, আমার সাথে চলুন।
স্টেল্লা। দু'টো।
স্টেল্লা কে?
বিয়ারের নাম।
গতকাল যে প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল, সেখানে ফিরে যাই...
আপনার মতে, মোনার অপহরণকারী জেফ হতে পারে না, কিভাবে?
মোনার স্টুডিওতে যাবার পর, কিছু সূত্র পেয়েছি।
মোনা সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন স্টুডিওতে যেত।
বাকী দিনগুলোর দায়িত্বে ছিল মেরি।
মেরি বেশ ভালোভাবেই স্টুডিও সামলায়, স্যার।
সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সে বাসায় থাকবে, সেটা অপহরণকারী জানতো।
সে সদর দরজা দিয়ে ঢোকে।
জোরপূর্বক প্রবেশের চিহ্ন নেই।
সেক্ষেত্রে, সে হয়তো মোনার পরিচিত,
অথবা এমন কেউ যাকে ঘরে ঢুকতে দিতে মোনার আপত্তি নেই।
আপনি বলছেন গ্যাস বা কারেন্টের মিস্ত্রি টাইপের কেউ?
হতে পারে।
অপহরণকারীকে কীভাবে বের করবো?
ভারদি!
ওইদিন পুলিশ আসার আগে আমি ওই ছেলেটাকে দেখেছি।
কোন ছেলেটা?
আমাদের বাড়ির আশেপাশে স্কেট বোর্ড নিয়ে ঘুরঘুর করা ছেলেটা।
ওইমুহুর্তে ওর ওখানে থাকার কারণ কী?
মোনার সাথে ওর সম্পর্ক কী?
ওর সাথে কথা বললে, হয়তো কোনো সূত্র পাবো।
গতরাতে কী হয়েছে তোমাদের এলাকায়? একগাদা পুলিশ দেখলাম।
তুমি ওখানে ছিলে? মোনা অপহৃত হয়েছে।
কী?
জানি না কীভাবে হলো, পুলিশের কড়া পাহারার কারণে বের হতে পারিনি।
দেরি করার জন্য দুঃখিত। প্রায় চলে এসেছি। জানো, একটুর জন্য বাবার কাছে ধরা খাইনি।
আসলে কোথায় তুমি?
যেখানে সবসময় থাকি? ভুলে গেছ? আশেপাশে অনেককিছু ঘটছে, আমাদের সাবধান হতে হবে।
কার্লোস?
রাত ৯ টার ব্রেকিং নিউজঃ সিয়াটলে কার্লোস নামে এক কিশোর এবার নিখোঁজ হয়েছে।
এই ছেলেটাই কার্লোস.....
বাবা!
তুমি অবসরপ্রাপ্ত।
আমাকে কী সেটা বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে?
অন্যান্য ইন্ডিয়ান বাবাদের মতো, নেটফ্লিক্স বা টেন্টকোট্টাতে সিনেমা দেখতে পার না?
এসব আমি কখনো দেখেছি?
সেক্ষেত্রে ভারদি আঙ্কেলের সাথে পার্কে গেলেওতো পার।
উনার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি। এখন বিরক্ত হচ্ছি।
তাহলে তোমার মনমতো কিছু করো।
এই মুহুর্তে সেটাই করছি।
কথার মারপ্যাঁচ ভালোই জানো...
কিন্তু একবারও এ্যালিসের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে না।
মেয়েটা কতোবার তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে!
এমনকী আলাপচারিতার সময়ও তুমি ওকে এড়িয়ে গেছ।
সত্যিই দুঃখজনক... ছোটবেলায় সে তার বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে।
আমরা ছাড়া ওর আর কেউ নেই!
প্রেমে পরাটা কী বড় কোনো অপরাধ?
যদি তাই হয়, সেজন্য আমি দায়ী! ওকে কেন শাস্তি দিচ্ছ?
কিছু বলো?
তুমিও স্কুলের বাচ্চাদের মতো আচরণ করছ।
" ভালোবাসা অপরাধ " আমি কখনো বলেছি? বলেছি?
অবান্তর প্রশ্ন!
প্রেমে পরেছিলি, সেটা অপরাধ নয়,
আমাকে বলিসনি সেটাও...
কিন্তু কোন মুহুর্তে বললি? সেটা ভুল ছিল।
ইন্ডিয়ায় তোর বিয়ের সকল বন্দোবস্তো করার আগে, আমি কী তোকে জানাইনি?
তুই সবকিছুর জন্য হ্যাঁ বলেছিলি।
কিন্তু বিয়ের ঠিক দুইদিন আগে,
তুই ফোন করে জানালি, এ্যালিসের সাথে তোর সম্পর্ক আছে, তাই তুই আসবি না।
ঐ মেয়েটার মনের কষ্টটা কী তুই অনুভব করেছিস?
আমার মানসম্মানের কথা একবারও ভেবেছিস?
ওকে...বাদ দিলাম।
তোকে বন্ধুর মতো করে বড় করেছি, যেন মায়ের অভাবে পথভ্রষ্ট না হোস।
অন্তত আমাকে বলতে পারতি।
আমেরিকায় আসার পর, তোরা সবাই স্বার্থপর হয়ে গেছিস।
তুই ভাবছিস পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে সব অতীত ভুলে যাবি।
হেই! হেই!
আমি কথা বলছি, আর তুই কাপুরুষের মতো কেটে পরছিস?
হ্যালো রুদ্রাণ। দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
***। ফোন রাখো!
রুদ্রাণ স্যার, রামিয়া বললো, অজয় নাকি ওকে না জানিয়ে রাগে ক্ষোভে একাই অফিসে চলে গেছে।
যে বলবে " আমি আমার বাবাকে অপছন্দ করি " আপনি তাকে বিশ্বাস করতে পারেন।
কিন্তু যে বলবে " বাবার কাছে আমি বন্ধুর চেয়েও বেশিকিছু " তাকে নয়।
কেন? কী হয়েছে?
এই অজয়....
বাদ দেন। ওটা পরে আলাপ করবো।
নতুন একটা কেস নিয়ে আলোচনা করবো।
কার্লোস নামের স্কেটবোর্ড নিয়ে ঘোরা ছেলেটা নিখোঁজ।
কখন থেকে?
গতকাল। আমরা ওই ক্রাইম সিনেই যাচ্ছি।
ক্রাইম সিন?!!
অপরাধটা কীভাবে সংগঠিত হয়েছে সেটা উৎঘাটন করতে পারলে,
অপরাধীর বিষয়ে অনেককিছু পরিস্কার হবে।
কেন করছে এসব? পুনরায় করবে নাকি?
আরও অনেক কিছুর উত্তর শুধু খুনীই দিতে পারবে।
ক্ষমা করবেন। এখানে কী করছেন?
আমি..আসলে... হাটাহাটি।
এখানে আসা উচিত হয়নি। চলে যান।
বলেছিলাম না, এটা ক্রাইম সিন। এখানে আসা উচিত হয়নি। আমাকে এখানে কেন নিয়ে এলেন?
ধুর! কী করতে আসলাম আর কী হলো।
আমরা যেখানে, মেয়েটা সেখানে!
ক্রাইম সিনে পুলিশ থাকাটাই তো স্বাভাবিক।
না ওকে...আপনিও পুলিশ।
মেয়েটার পিছুপিছু সবজায়গায় গেলেতো, দেখা হবেই।
বাদ দেন। অজয়ের সাথে ঝামেলা মেটাচ্ছেন না কেন?
কীভাবে? ও আলোচনার মাঝখানে উঠে যায়।
ঠিক আছে রুদ্রাণ।
আমরা সন্তানদের বন্ধুর চোঁখে দেখি, কিন্তু তাদের কাছ থেকেও এমনটি আশা করা অনুচিত।
এ্যালিসও ভালো মেয়ে, স্যার।
যদি ওর সাথে কথা বলা শুরু করেণ, তাহলে অর্ধেক ঝামেলা মিটে যাবে।
স্যার, ওর সাথে কথা বলবেন?
তাহলে, আগামীকাল আমাদের খুব সকালে ওখানে যেতে হবে।
কেন?
পুলিশ এড়ানোর জন্য।
কী হলো?
কপাল দোষে মাথা ঠুকলাম।
অজয়, আমি আসলে...
মা! মা! মা! পুলিশ এসেছে।
আশেপাশে কেউ আছে? ওইদিকে! ওইদিকে! ওইদিকে!
জিনিস রেডি?
হুম, হুম।
আমি আগে থেকেই চিনি।
কী হয়েছে? কী হয়েছে?
আমি ভারদির বাসায় যাচ্ছি।
৭ থেকে ৮ টার মধ্যে ফিরে আসবো।
অজয়কে জানিও।
হমমম...মেয়েটা ভালো।
এ্যালিসের সাথে কথা বলেছি।
অজয় জানে?
না। ও এখনো রাগ করে আছে।
সন্ধ্যেবেলা ওকে জানাবো।
ওহ্ নাহ্! ওরা সব পরিস্কার করে ফেলেছে।
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ!
কী?
কিছু না।
পুলিশ আমাদের ছাড়লেও, এই লোকগুলো আমাদের ছাড়বে না।
ঐদিকে।
-টিকিট প্লিজ। -টিকিট নাই
ঐখান থেকে টিকিট নিয়ে আসুন।
ভারদি.. জলদি আসো।
আজকে তার শুধু প্লেনে চড়াটাই বাকী রইল।
ভারদি, সাতার জানো?
রুদ্রাণ স্যার, এসব কী?
আপনি মোনার ঘরে সিঁদ কাটছেন।
আবার এই আফ্রিকানের পিছু লেগেছেন।
আপনার কাজকর্ম আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
ধৈর্য ধরুন, ভারদি।
এই দুটি কেসের মধ্যে যোগসূত্র আছে?
কীভাবে?
ফাঁকাস্থানগুলো ভরাট করতে, সবগুলো উত্তর আমাদের হাতেই।
আমাদের শুধু সঠিক প্রশ্নটি করতে হবে।
হেই! আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। উত্তর দেবার সময় হবে?
তুমি এখন আমার মস্তিষ্কের ভেতরে। তামিল ভাষায় বলো।
ক্ষমা করবেন স্যার। প্রশ্ন করতে পারেন।
মোনা এবং তোমার মধ্যে সম্পর্ক কী?
কিছুই না। আমরা দুজন একই এলাকার বাসিন্দা।
আর কিছু না।
সেটাই... আমার জানামতেও আর কিছু থাকার কথা না।
তাহলে এটা সঠিক প্রশ্ন নয়।
মোনা নিখোঁজ হবার সময় রাতেরবেলা তুমি ওখানে কী করছিলে?
আপনি যেটা করেন, আমিও সেটাই করছিলাম।
হাটাহাটি!
তুমি স্কুলের বাচ্চা।
কে তোমাকে অপহরণ করলো?
আমাকে কার সাথে দেখেছেন?
আমি....
ঐ আফ্রিকান লোকটার সাথে দেখেছি!
আপনি আমাকে অনুসরণ করলেন, ভেবেছিলাম ধরেই ফেলবেন। কিন্তু আপনি ব্যর্থ।
এই লোকটাই তো তোমাকে ব্যাগটা দিয়েছিল, তাই না?
তোমার এবং কার্লোসের মধ্যে সম্পর্ক কী?
তুমি কী ওকে অপহরণ করেছ?
ও আমাকেও হুমকি দিয়েছিল। আপনার মনে নেই?
সুন্দরী, ভয় পেয়েছিলে?
আঙ্কেল, এইসব লোকদের খুন করার জন্য এই দৃশ্যটা অনুপযুক্ত।
রামিয়া, তুমি এখানে কী করছো?
ওয়াও। উনি বেশ রূপবতী।
এখান থেকে চলে যাও।
অনেক দেখেছ। এখন উত্তর দাও।
আমি ওকে অপহরণ করে বিপদে পরবো কেন?
আমার আলতো ছোয়ায় ও অজ্ঞান হয়ে যাবে।
পল(আফ্রিকান) না হলে, কে তোমাকে অপহরণ করলো?
হয়তো কোনো দৈত্য।
কীভাবে করলো?
দেখুন এখানে রক্তের দাগ। এটা দিয়ে আমাকে আঘাত করেছে।
মোনা, আততায়ী তোমাকেও প্রচন্ড আঘাত করেছে।
আততায়ী তোমার পরিচিত।
কার্লোস, সে কী তোমারও পরিচিত?
তাকে চিনে আমার লাভ কী?
আমাকে চেনাটাই তার জন্য যথেষ্ট।
মোনা, তুমি...
এই বুড়ো লোকটার সাথে এখনো প্যাঁচাল পারছো?
ওঠো ভারদি। আমাদের এখানে নেমে যেতে হবে।
ওঠো!
ওহ্ দেখো! সানি লিওন নাকি?
কোথায়? কোথায়?
ওয়াও, এ-তো বৃদ্ধা। আমি কী ৪০ বছর ঘুমিয়েছি?
স্যার। আস্তে হাঁটেন, আমি ভীড়ের মধ্যে হারিয়ে যাবোতো।
ভারদি, এই দুই কেসের মধ্যে একটা জায়গায় মিল আছে।
কীভাবে?
মোনা নিজ বাসা থেকে অপহৃত হয়েছে, অপরদিকে কার্লোস হয়েছে রাস্তা থেকে।
মোনা পেশাদারী কাজ করে। কিন্তু কার্লোস স্কুল বালক।
মোনার বয়স ৩০। কার্লোস বাচ্চা ছেলে।
এই দুজনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবেন কীভাবে?
ভারদি, যখন আমি মোনার বাসায় গেলাম,
এবং কার্লোসের ক্রাইম সিনে গেলাম,
একটা জায়গায় মিল পেলাম।
যখন সে মোনার দেহটা টেনেহিঁচড়ে গ্যারেজে নিয়ে গেছে...
...তার অবশ্যই অনেক শক্তিব্যয় হয়েছে।
বোঝেননি, তাই না? বোতলটা দিন।
ধরুন আমি মোনাকে অপহরণ করলাম এবং এটাই মোনা..
আমি ওকে আক্রমণ করলাম, ও পরে গেল।
আমি কীভাবে ওর দেহটা টেনে নিয়ে যাবো?
আমি ওর হাত অথবা পা ধরে টানবো। এভাবে, তাই না?
তাই, মেঝেতে রক্তের দাগ সরলরেখায় হবে।
কিন্তু আমাদের আততায়ী কিছুটা দুর্বল।
দেহটা টানার সময় মাঝখানে তাকে থামতে হয়েছে।
এজন্যই সরলরেখার মাঝে মাঝে জমাট রক্ত দেখা গেছে,
...যে যে জায়গায় সে থেমেছে।
যখন আমি মোনার ঘর এবং কার্লোসের ক্রাইম সিন, দুই জায়গার রক্তের দাগ দেখলাম, তখনই নিশ্চিত হলাম।
তারমানে, আততায়ী এমন কেউ, যার শারিরীক কাঠামো দুর্বল।
তাই মোনার বয়ফ্রেন্ড জেফকে বাদ দেয়া যায়।
জেফের মতো শক্তিশালী দেহীর ক্ষেত্রে দেহ টানা কঠিন কিছু নয়।
তাই, আমার শেষকথা হলো...
উভয়েই একই ব্যক্তির দ্বারা অপহৃত হয়েছে!
একই ব্যক্তি?
দাঁড়ান একটু।
কিন্তু একটাই সংশয়, কেন সে এসব করছে?
সেটাই বের করতে হবে।
সে দুটি ভিন্ন অর্থনৈতিক অবস্থানের ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে।
তাও আবার প্রকাশ্য দিবালোকে! কেন?
দুটো অপহরণের মাঝে সময়ের ব্যবধানও অল্প কিছুদিন।
দুটোই একই এলাকায়।
এছাড়াও অপহরণকারী তাদের প্রচন্ড শক্তি দিয়ে আঘাত করেছে।
মূল উদ্দেশ্য টাকা হলে, এমনটা করতো না।
কাজটা ঝুকিপূর্ণ এবং কোনোপ্রকার মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি।
যদি সে একটা বাচ্চা ছেলেকে এমন পাশবিকভাবে আঘাত করতে পারে,
তাহলে সে অবশ্যই অভিজ্ঞ শিকারী।
ভারদি, যদি আপনি রুবিক'স কিউবের ৫ পাশ মেলাতে পারেন,
৬ষ্ঠ পাশটা এমনিতেই মিলে যাবে।
কেসের অবস্থাটা এখন এমন...
কীভাবে করেছে, সেটি আমরা জানি।
কেন করেছে, যদি সেটা বের করতে পারি,
সেক্ষেত্রে " কে করেছে " সেটিও বের করতে পারবো!
আমার অভিজ্ঞতা বলে যে, যে এতটা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে অপহরণ করছে,
আমি নিশ্চিত, সে এটা আবারও করবে।
একই এলাকায় ঠিক আগের মতো আরেকটি অপহরণের সংবাদ আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
রামিয়া, কী হয়েছে? কে?
কোথায় ছিলে তুমি বাবা? কতোবার তোমাকে কল করার চেষ্টা করেছি।
আমাদের ফোন বন্ধ হয়ে গেছে।
বাবা.......
অজয়!
এ্যালিস। প্লিজ এটা খেয়ে নাও।
ধন্যবাদ বাবা।
মনেহয় এখন কথাবলা সম্ভব। কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবেন?
ওইদিন ঠিক কয়টায় বের হয়েছিলেন?
আমি...আমি...আসলে আমি জানি না।
সিকিউরিটি হোম, সিকিউরিটি হোম, সিকিউরিটি হোম।
দরজা খোলার সময় ৭:৩৬, ১০:০৪, ১০:২২
- কী করেন আপনি? - আমি? হাঁটাহাটি।
আপনার পরিচিত কেউ ঐ সময়ের মধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করেছে?
আমি...ও ঘুম থেকে ওঠার আগেই আমি বেড়িয়ে যাই। তারপর রামিয়া ওকে পিক করে নিয়ে যায়।
- ওকে প্রতিদিন পিক করেন? -জ্বি।
- আজকেও এসেছিলেন? - জ্বি।
- ওর সাথে দেখা হয়েছিল? - না। আমি ফোনেও চেষ্টা করেছিলাম। পাইনি।
- কাউকে সন্দেহ হয়? - ওই কালো লোকটার কথা বলেছিলে না?
হ্যাঁ... হ্যাঁ। ওই লোকগুলো। ওরা অজয় আর মোনাকেও হুমকি দিয়েছিল।
হ্যাঁ। ওরাই সবকিছুর নাটেরগুরু।
ও মোনা এবং অজয়কেও হুমকি দিয়েছিল।
আরেকদিন বাস্কেটবল মাঠে, রুদ্রাণ ওদের গ্যাংয়ের এক সদস্যকে আক্রমন করেছিল।
ওইদিন রাতেই পল আসে রুদ্রাণের খোঁজে।
ওদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তাই মোনা পুলিশ ডাকতে চায়।
তখন থেকেই মোনা আর পলের ঝামেলা শুরু।
পল মোনাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
সন্দেহজনক লোকটি ওই গ্যাংয়ের সদস্য এবং এসব নিখোঁজের পেছনে এরা ভালোভাবেই যুক্ত।
- ক্ষমা করবেন, স্যার। থামুন। সি.আর.পি.ডি। পরিচয়পত্র দেখান। - না। কীজন্য?
- এটুকু বলুন। এই ছেলেটাকে চেনেন? - আপনার কাছে ওয়ারেন্ট আছে?
- বন্ধুরা সবাই দেখো। কীভাবে পুলিশ আমাদের মতো আমজনতাদের হয়রানি করে। ওয়ারেন্ট ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ, ওয়ারেন্ট ছাড়া অত্যাচার। - এটা ক্রাইম সিন।
এই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এবং ২০০০ এর উপরে ভিউ হয়েছে, যেখানে পল নামের এক আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিককে অবৈধ মাদক চোরাকারবারি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রুদ্রাণ, ওরা কী বলছে?
পুলিশের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
পল আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক হওয়ায়, অভিযোগের তীর ওর দিকেই।
ইন্ডিয়ায় যেটা " বর্ণপ্রথা ", এখানে ওরা বলে " রেসিজম "।
কী বলছেন আপনি?
ওই তো সেই কালপ্রিট!
সবগুলো নিখোঁজ ব্যক্তির সাথে ও কোনো না কোনোভাবে জরিত।
অজয়ের অপহরণের সাথে জরিত,
মোনার অপহরণের সাথেও।
সকল কুকর্মের সাথেই ও জরিত।
আপনার কী মতামত?
না ভারদি। কিছু একটা আমাদের চোঁখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
পল সুঠাম দেহী। কিন্তু আমাদের ধারণা, অপরাধী রোগাপটকা কেউ।
তাই, সে অপরাধী হতে পারে না।
কী বোঝাচ্ছেন আপনি?
সে হয়তো অপহরণের জন্য কাউকে ভাড়া করেছে।
ওরা আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়েছে।
আর আপনার কী প্রমাণ দরকার?
নাকি আমেরিকান পুলিশের মতো আপনিও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আর প্রমাণের আশায় বসে আছেন?
এসব আমেরিকান পুলিশের দরকার।
আমার এতকিছুর প্রয়োজন নেই।
অতিথিদের কিছু উপহার পাওনা রয়েছে।
পুলিশ চলে এসেছে?
স্যার, কোথায় যাচ্ছেন?
অজয় কী ওখানে?
ভালো দেখিয়েছেন ভারদি। কিন্তু এরপর আগ বাড়িয়ে কিছু করলে, তার দায়দায়িত্ব শুধুই আপনার।
দুঃখিত স্যার। আপনি আগেই সতর্ক করেছিলেন।
আমার কারণে...
ও এমন করছে কেন?
এটা কী মোনা?
জলদি বন্ধু, পা চালাও।
হ্যালো, তুমি ঠিক আছ? তুমি কী হারিয়ে গেছ? তোমার বাবা কী আশেপাশেই?
সোনামুনি, কী হয়েছে তোমার? ম্যানেজারকে বলো।
ক্ষমা করবেন, এখানে একটা বাচ্চা মেয়ে রয়েছে। হয়তো সে হারিয়ে গেছে।
মা! মা! মা!
কাছে আসবে না।
শরিরের এই দাগগুলি বলছে, মোনার দেহটা অন্যকোনো জায়গা থেকে ওখানে আনা হয়েছে।
এই দাগগুলি কিছুটা অন্যরকম। এর উৎস ড্যান্ডালায়ন ফুল, যেটি কেবল এই ১২ টি জায়গায় পাওয়া যায়।
এই ড্যান্ডালায়ন আমাদের চাবিকাঠি।
তাই আরও সন্দেহজনক কিছুর জন্য, আপনার প্রতিবেশীদের উপর তদন্ত অব্যাহত রাখবো।
পুলিশ কী বলছে?
ওরা বলছে, পল এর সাথে যুক্ত নয়।
ওরা আরও তদন্ত করবে।
কিন্তু মোনার লাশ তো ওর এলাকাতেই পাওয়া গেছে!
এরচেয়ে আর শক্ত প্রমাণ কী হতে পারে?
অপরাধমূলক ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঐ স্থানে ছিল না।
যেদিন অজয় অপহৃত হয়,
সেদিন আমরা ঘনিষ্ঠভাবে পলকে অনুসরণ করছিলাম।
পুলিশ বলছে, কেউ একজন অন্যকোথাও মোনাকে খুন করে, লাশটা পলের ডেরায় ফেলে গেছে।
অন্যকেউ?
ওরা কীভাবে জানলো?
টায়ারের ছাপ এবং যানবাহনের গতিবিধি পর্যালোচনা করে।
দুঃখিত রুদ্রাণ! আপনাকে ওখানে নেবার পেছনে আমিই দায়ী।
না ভারদি।
যদি এমনটা না করতেন...
কেউ একজন আমাদের ভুল পথে চালিত করছে, সেটি বোধগম্য হতো না।
ভুল পথে চালিত করছে?
যদি পল না হয়, তাহলে আর কে?
সে কি আমাদের হাত ফসকে গেছে?
না, ভারদি।
বরং আমরাই ওকে ধরার সবচেয়ে কাছাকাছি।
গত কয়েকদিন সে চুপচাপ ছিল,
কিন্তু হঠাৎ করেই মোনার লাশ প্রকাশ করলো।
কেন?
যদি সে পল না হয়...
আর কে হতে পারে?
অজয় কীভাবে এসবের মধ্যে যুক্ত হলো?
সে মোনা, কার্লোস এবং অজয় সবাইকে চেনে।
সে জানে, কখন মোনা বাসায় থাকে,
এবং অজয় কখন অফিসে যায়।
সে সবই জানে এবং সবার সাথেই তার সমস্যা।
শুধু তাই নয়,
আমরা পলকে অনুসরণ করছিলাম, খুনী সেটাও জানে!!!
কী?
হ্যাঁ! সে জানে, আমরা কোথায় যাচ্ছি...
কী করছি...
সে খুব কাছ থেকে আমাদের দেখছে!
কিন্তু কীভাবে?
মাত্র দু'টো উপায়ে
এক,
সে সরাসরি আমাদের দেখছে!
অথবা তার যৌথবাহিনীর কোনো,
সহকর্মী আমাদের প্রতিবেশী, এবং সেই সকল তথ্যপাচারকারী।
কাকে সন্দেহ করছেন?
একটু পানি দেয়া যাবে?
স্যার, আমরা অজয়ের বিষয়ে কথা বলতে এসেছি।
ওকে।
অদ্ভুত কোনোকিছু চোঁখে পরেছে? অথবা অস্বাভাবিক কোনোকিছু?
দেখুন পুলিশকে আমি সব বলেছি।
কোথায় গিয়েছিলে? বাইরে যেতে বারণ করেছি না?
নাজিবা, দাঁড়াও। নাজিবা, দাঁড়াও। নাজিবা, দাঁড়াও।
চলে আসলেন কেন?
ওই ঘরে কী দেখলেন?
আমি ফিসফিস শব্দ শুনলাম।
বলুন স্যার। কী দেখলেন ওই ঘরে?
আচ্ছা দাঁড়ান, পুলিশ ডাকি।
চুপ থাকুন ভারদি!
কী হয়েছে?
এসবের সাথে মজিদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাহলে ঐ ঘরের লোকগুলো?
সিরিয়ার জন্য আমার খারাপ লাগে। এসব শেষ হবে কবে?
ওরা সিরিয়ান শরণার্থী।
ওরা আমাদের দেশের শ্রীলঙ্কান তামিলদের মতো...
...একই ভাগ্যদোষে দুষ্ট।
যেমন আমি আমার ছেলেকে খুঁজছি,
তেমনি ওরাও মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে...
এখানে ওখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে।
মজিদ কালপ্রিট নয়!
এটাই কি মজিদ এবং মোনার মধ্যে সমস্যার কারণ?
হ্যাঁ।
মজিদের এইসব অবৈধ লোকগুলোকে..
..আশ্রয় দেবার বিষয়টা, মোনার অপছন্দ ছিল।
স্যার, ওদের বাসায় কার্লোসের ছবিটা দেখেননি?
কার্লোসের নিখোঁজ হবার কারণ তাহলে...
কার্লোস এবং নাজিবা পরস্পরকে ভালোবাসতো।
নাজিবার জন্যই কার্লোস এই এলাকায় ঘুরঘুর করতো।
ওই রাতে, যখন মোনা নিখোঁজ হয়...
সে মজিদের ঘর থেকে পালাচ্ছিল...
কারণ সে নাজিবাকে দেখতে গিয়েছিল।
কী হচ্ছে এসব?
পল কালপ্রিট নয়...
আবার মজিদও নয়, তাহলে কে?
আমি জানি না... আমি জানি না কে!
কার্যবিপত্তি ছাড়া আবর্জনার ট্রাক প্রতি বুধবার আসে।
ভারদি, যখন আমরা মজিদের বাড়ি যাই,
ডাস্টবিনটা আবর্জনাপূর্ণ ছিল না?
জ্বি স্যার।
এ্যালিস, আবর্জনার ট্রাককে অনুসরণ করতে হবে।
কী হয়েছে, আঙ্কেল?
অজয় বুধবার নিখোঁজ হয়,
আবর্জনা সংগ্রহের দিন।
যে ড্রাইভারটা আজকে এসেছিল, ঐদিনও তারই আসার কথা।
সে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু দেখেছে। তাই তাকে খুঁজে বের করতে হবে। চলো যাই।
এখন কোথায় যাচ্ছেন?
বাবা...অপেক্ষা করো।
আঙ্কেল, প্রতিদিনের রিপোর্টটা দেখুন।
আমাকে দাও।
নামের তালিকাটা দেখো।
দেখো...যেদিন অজয় নিখোঁজ হয়েছিল।
ঐদিন আবর্জনা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল " হান্ট "!
হান্ট কে?
ঐদিকে থাকার কথা।
হেই সরি, বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার আংটিটা গত বুধবার হারিয়ে ফেলেছি...
হান্ট, গত বুধবার কাউকে দেখেছো? মানে আমাদের এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহের সময় অস্বাভাবিক কিছু কী চোঁখে পরেছে?
তুমি কী কিছু দেখেছ? ঠিকানা-৯৭২৪, ফার্কস অ্যাভিনিউ।
মানে যেখান থেকে ঐ মহিলা আর ইন্ডিয়ান ছেলেটা নিখোঁজ হয়েছে? আমি পুলিশকে সব জানিয়েছি।
পুলিশ...পুলিশকে বলেছো? ওদের কী বলেছো? আমাকে বলো।
কে আপনি? কেন আপনাকে বলতে হবে?
আমি ওর হতভাগ্য পিতা। প্লিজ আমাকে বলো। সে অবশ্যই কিছু দেখেছে।
- হেই, আমি একটা পুরাতন কালো ট্রাক দেখেছিলাম। - সে একটি কালো ট্রাক দেখেছিল।
গাড়ির টায়ার দেখেছ? নাম্বার প্লেট দেখেছ? গাড়িতে কোনো দাগ-টাগ? বলো, আমাকে বলো।
ভাই আমি সত্যিই দুঃখিত। যদি কিছু মনে পরে, আমাকে জানিও।
এটা আমার নাম্বার। যদি কিছু মনে পরে, আমাকে জানিও। আমাকে সাহায্য করো, প্লিজ।
চলুন স্যার... যাওয়া যাক!
এই শহরে কালো ট্রাকের অভাব নেই।
মাত্র একটা সূত্র দিয়ে কীভাবে সত্য উদঘাটন করবেন?
আমি জানি না।
আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।
আর কী করতে পারি?
আমরা অপরাধীকে সনাক্তকরণের কাছাকাছি।
ইতোমধ্যে সেও সেটা জেনে গেছে।
পুলিশও ওকে ছাই দিয়ে ধরার জন্য বসে আছে।
যদি এখনই আমরা ব্যবস্থা না নেই,
অজয়ের জীবন হুমকির মুখে পরবে।
আঙ্কেল, এ্যালিসের গাড়িটা আনতে হবে। আমি ওকে ওখানে নামিয়ে দিচ্ছি।
ধৈর্য ধরুন রুদ্রাণ। অজয়কে খুঁজে বের করবোই।
বিশ্রাম নিন।
দুঃখিত অজয়। আমি ভুল করেছি।
আমি আর আট-দশটা বাবার মতো আচরণ করেছি।
" আমি যে পুলিশ " সেটা কিছুসময়ের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম।
ডাক্তারদের মতো, যারা নিজের সন্তানকে অপারেশন করতে চায় না।
আমাকে শুরু করতে দে।
তুই নিখোঁজ হবার আগে, সর্বশেষ কে তোকে দেখেছিল?
আমি।
সর্বশেষ কখন দেখেছ?
সকাল ৮ টা যখন আমি স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলাম।
ঠিক। আসল সময় তো হোম সিকিউরিটিতে দেখা গেছে।
এরপর আবার দরজা খোলা হয় ১০:০৪ এ.এম।
দরজাটা অজয়েরই খোলার কথা, তাই না?
তারপর আবার ১০:২২ এ দরজা খোলা হয়।
তারমানে এই দুই সময়ের মাঝে ব্যবধান ১৮ মিনিট।
এই সময়ের মধ্যেই তুই অপহৃত হয়েছিস...
আহ্, হান্ট বলেছে, সে একটা কালো ট্রাক দেখেছিল।
তারমানে ঐ কালো ট্রাকটা তোকে অপহরণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
কেউ কী এসেছিল তোর কাছে,
৮ টা থেকে ১০:০৪ এর মধ্যে?
রামিয়া, সাধারণত কয়টার দিকে অজয়কে পিক করো?
১০:৩০ এ.এম।
ওইদিন?
ওইদিনও ১০:৩০-য়েই এসেছিলাম।
অজয়ের সাথে দেখা হয়েছিল?
না।
কেন?
ও আমার কল ধরেনি।
দরজায় কড়া নাড়লেও, খোলেনি।
আমি ভেবেছিলাম, ও হয়তো গতদিনের মতো একাই চলে গেছে।
গতদিনের মতো?
ওইদিনই আমি তোকে সর্বশেষ দেখেছিলাম।
ওইদিন রামিয়ার সাথে অফিসে যাসনি কেন?
কেন একা গেলি?
তোমার মনে নেই?
আগের রাতেই তো আমরা ঝগড়া করলাম, ঐ রাগেই...
আমরা যতই কথা কাটাকাটি করি না কেন,
পরবর্তীতে তুই সবসময় আমার সাথে মিটমাট করতি।
কিন্তু তেমনটা করিসনি।
তারমানে নিশ্চয়ই আরও কিছু ঘটেছিল,
যে কারণে পরেরদিন সকালে আমার সাথে কথা বলিসনি।
অজয়, তোর মুখে ওগুলো কিসের দাগ?
আমি আরও কোথায় যেন এগুলো দেখেছি।
কোথায়?
এখানে।
এই দাগগুলোর উৎস একজাতীয় ফুল।
হ্যাঁ। ড্যান্ডালিয়নের সংস্পর্শে হয়।
ড্যান্ডালিয়নস।
দুটো দাগই আমার কাছে একইরকম মনে হচ্ছে।
আপনি আমাকে বলেছিলেন, এই ফুলগুলো কোথায় জন্মায়।
এই ডটগুলো যেখানে যেখানে দেখছেন, ফুলগুলো সেখানেই জন্মে।
মোনার লাশে যে দাগ ছিল, তোর মুখেও একইরকম দাগ।
যেদিন দাগগুলো দেখা গেল,
তার পরেরদিন তোকে অপহরণ করলো।
তারমানে, তুই কোথাও গিয়েছিলি এবং কিছু একটা দেখেছিলি।
কাকে দেখেছিলি? মোনার খুনীকে?
যদি দেখেই থাকিস, তাহলে কাউকে বললি না কেন?
পুলিশের কাছে কেন যাসনি?
এমনকি আমাকেও বলিসনি, কেন?
কেন গোপন করলি?
বুঝেছি!
কী হয়েছে স্যার?
কী করছেন আপনি?
আমি জানি, কে অজয়কে অপহরণ করেছে।
কী বলছেন আপনি?
ব্যাখ্যা করার মতো সময় নেই। রামিয়া কোথায়?
ও এ্যালিসকে পৌঁছে দিতে গেছে।
এক্ষুনি ওকে কল করুন।
রিং হচ্ছে কিন্তু ধরছে না।
এ্যালিসেরটায় চেষ্টা করুন।
প্লিজ এক্ষুণি!
কী হয়েছে?
এ্যালিসও ধরছে না।
রুদ্রাণ, সাবধানে!
রুদ্রাণ, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
ওডেসা।
ওডেসায় কেন?
কারণ অজয় ওডেসায় আছে!
কী? কে বললো আপনাকে?
অপহরণের আগেরদিন ...
...অজয় অফিসে যায়নি।
কিন্তু ওডেসায় গিয়েছিল।
ওর গালে ড্যান্ডালিয়ন ফুলের দাগ ছিল।
ওই একই দাগ মোনার লাশেও দেখেছি।
মোনার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সাথে, যে যে জায়গায় এই ফুলটা জন্মে, তারও একটা তালিকা আছে।
তালিকায় এতোগুলো জায়গার মধ্যে থেকে ওডেসাই সেই জায়গা, কীভাবে নিশ্চিত হলেন?
যদি সঠিক প্রশ্ন করেন, তাহলে উত্তরও সঠিক পাবেন।
এতোগুলো জায়গার মধ্যে ওডেসাই একমাত্র জায়গা, যেখানে দিনে গিয়ে, দিনেই ফিরে আসতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে অজয় ওডেসাতেই গিয়েছিল।
১২ বছর পূর্বে...
শৈশবকাল থেকেই এ্যালিসের জীবনটা ছিল একটা জাহান্নাম।
তার মা ছিল একমাত্র অবলম্বন।
মায়ের মৃত্যুর পর, তার উপর হওয়া...
অত্যাচারগুলো এক এক করে ফিরিয়ে দিতে শুরু করলো...
আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত লাভার মতো!
পাশবিক নির্যাতনকারী পশুগুলোকে সরিয়ে দিল।
সে একাই থাকতো।
সে একাকীত্বকে বেছে নিল।
তার অতীত এবং অতীত পরিচয় থেকে সরে আসতে চাইলো।
একটা সময় " কীভাবে বেঁচে থাকবে "...
...সেই চিন্তা বাদ দিয়ে " বেঁচে থাকার অর্থ কী " সেটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলো।
"নিকোল" হয়ে গেল "এ্যালিস"
" যাইহোক, বাচ্চাদের কেউ ক্ষতি করবে না " আমরা এমনটাই ভাবি।
আর এজন্যই তারা অপব্যবহারের সহজ শিকার হয়।
কিন্তু এ্যালিস ছিল ব্যতিক্রম।
সে শুধু মানুষরূপী পশুগুলোকে টার্গেট করতো।
যে অস্ত্রটা দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়েছিল, একই অস্ত্র অন্যদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহার করতে লাগলো।
নিষ্পাপ, নিরপরাধদের রক্ষার জন্য, পুরো জীবনটা উৎসর্গ করতে চাইলো
কিন্তু ভাগ্যবিধাতা তার কপালে আরও কিছু লিখে রেখেছিল।
যে এ্যালিস জীবনে শুধু পশুদেরই দেখেছে,
সে প্রথমবারের মতো, একজন মানুষকে দেখলো।
সে ছিল আমার ছেলে অজয়।
অজয় তাকে ভিন্ন একটি জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
শুরুতে কিছুটা অনাগ্রহ থাকলেও,
আস্তে আস্তে ভালোলাগাটা শুরু হয়।
একদিকে তার পাশবিক অতীত,
এবং অন্যদিকে সুখের হাতছানি দেয়া বর্তমান,
সে দ্বৈত জীবন কাটাতে লাগলো।
সেসময়ই আমার আগমন ঘটে।
হ্যালো বাবা...
মোনা ওর স্টুডিওতে আসা বাচ্চাদের সাথে অসভ্যতা করতো।
এ্যালিস শিক্ষার্থীদের পরামর্শদাতা হিসেবে, মোনার অসভ্যতার শিকার হওয়া এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সব শুনলো।
এ্যালিস মোনাকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলো।
প্রতিবেশী হিসেবে এ্যালিস জানতো, মোনা কখন বাসায় থাকে।
কখন সে সুযোগ পেল,
যেদিন আমাকে আর অজয়কে ভ্রমণে পাঠালো।
এ্যালিসের উপস্থিতিতে আমি অস্বস্তি বোধ করবো, সেজন্যে সে গেল না, আমাদের এমনটাই বিশ্বাস করালো।
পরিবার এবং খুনের পরিকল্পনা দু’টোই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কার্লোস স্কুলের বন্ধুদের কাছে মাদক বিক্রি করতো এবং সুযোগমতো অপব্যবহার করতো।
সে যখন একা ছিল, তখন এ্যালিস ওকে অপহরণ করে।
যখন দিনের পর দিন নিখোঁজদের সংখ্যা বাড়ছিল...
তখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে ১টি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়...
...ওয়াশিংটন প্রদেশের খবরে।
প্রতিবেদনে এ্যালিসের শৈশবকালের ছবি প্রকাশিত হয় এবং...
তারা উল্লেখ করেন, সে বিগত ১৫ বছর যাবৎ ওডেসা থেকে নিখোঁজ...
এবং সেই বাচ্চাটির নাম ছিল " নিকোল "!
অজয় সেটা দেখে বিস্মিত হয়!
এবং সেই মুহুর্তে আমার ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।
সে কাদের সাথে থাকতো...
কোথায় থাকতো, এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
নিশ্চিত হবার জন্য,
অজয় নিকোলের বাসায় যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
ওর কাছে এ্যালিসের আরেক রুপ উন্মোচিত হয়।
সেখান থেকেই চামড়ায় অ্যালার্জি হয়।
এতটা মানসিক আঘাতের দরুন, ও আমার সাথে একটা কথা পর্যন্ত বলেনি।
নিকোল?
আমার সাথে যা হয়েছে, আর কোনো বাচ্চার সাথে এমনটা আমি হতে দেব না।
এ্যালিস তার দিকটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু অজয়...
তাই...সে তাকে আঘাত করে।
পরেরদিন...
....আমি প্রথমবারের মতো এ্যালিসের সাথে কথা বললাম।
আমি ভারদির বাসায় যাচ্ছি।
যেদিন আমার আর এ্যালিসের মধ্যকার বরফ গললো....
... সেদিনই এ্যালিস ও অজয়ের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত হলো।
যখন ভারদি আর আমি কার্লোসের ক্রাইম সিনে গেলাম...
এ্যালিস স্কুলে গিয়ে, অন্যত্র অবস্থানের নাটক সাঁজালো।
সে কালো ট্রাকে করে বাড়ি আসলো।
ঘড়ির কাটায় তখন ১০:০৪ এ.এম।
ওই মুহুর্তেই কালো ট্রাকটা হান্টের চোঁখে পরে।
সে অজয়কে ১০:২২-র দিকে বাড়ি থেকে বের করে।
আমরা বাড়িতে ফেরার আগেই, সে নিজের মতো করে ক্রাইম সিন বানায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পলকে অভিযুক্ত করে।
আমেরিকান পুলিশের প্রমাণ এবং ওয়ারেন্ট লাগে।
আমার ওসবের দরকার নেই।
যখন এ্যালিস বুঝলো, আমরা পলকে অনুসরণের পরিকল্পনা করছি....
সে মোনার লাশটা পলের ডেরায় ফেলে আসলো।
এ্যালিস ভেবেছিল, সবকিছুর পরিসমাপ্তি ওখানেই হবে।
আমি তদন্ত অব্যাহত রাখি, এমনটা সে চায়নি।
এ্যালিস, আবর্জনার ট্রাকটাকে অনুসরণ করতে হবে।
যখন আমরা হান্টের কাছে যাই, কেবল তখনই সে বুঝতে পারে,
পুলিশও তাকে ধরার দ্বারপ্রান্তে।
আঙ্কেল, এ্যালিসের নিজের গাড়িটা আনতে যেতে হবে। আমি ওকে নামিয়ে দিতে যাচ্ছি।
এ্যালিস অজয়কে ওডেসা থেকে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেয়,
যখন হান্ট আমার মোবাইলে ফোন করে...
যেটা আমি রামিয়ার গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম।
সে জানায় যে...
একইরকম কালো ট্রাক সে ওডেসাতেও দেখেছে।
এ্যালিস! হান্ট একই রংয়ের ট্রাক ওডেসাতেও দেখেছে।
আঙ্কেলকে বিষয়টা জানানো দরকার।
আমাকে তথ্যটা জানাতে চায়নি এ্যালিস...
তাই, সে রামিয়াকেও অপহরণ করে।
অজয় কিছু না কিছু দেখেছে,
অথবা এমন কাউকে দেখেছে, যার কথা আমাকে বলতে চায়নি...
এর মানে হলো, সে তার খুব কাছের কেউ। হয়তো রামিয়া অথবা এ্যালিস।
রামিয়ার কালো ট্রাকটা, হান্টের বর্ননার মতো অতোটা পুরাতন নয়।
এবং ওর স্বামী ট্রাক দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ায়...
...সে ট্রাকটাকে ঢেকে রাখে, যেটি দেখতে একইরকম।
তাই আমি রামিয়াকে বাদ দিলাম।
আমি কালো ট্রাকের খোঁজে ওডেসাতে গেলাম।
এ্যালিস ১২ বছর আগে, নিজের বাবাকে খুন করার মাধ্যমে যে শিকার শুরু করেছিল...
আমাকে দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটলো।
আমি ঠিক আছি!
সম্পূর্ণ ঠিক আছি।
রামিয়া।
রামিয়া, আমার ফোন কোথায়?
এটা কুকুর তাড়ানোর এ্যাপ!
যখন এ্যাপটা চালু হয়,
তখন উচ্চ কম্পাংকের শব্দ নির্গত হয়।
বিশ্বাস করো মা। আমাকে সাহায্য করতে দাও।
একটি নতুন কুঁড়ি(শিশু) প্রস্ফুটিত হয়, অনেক স্বপ্ন নিয়ে। অনেক অনেক সম্ভাবনা নিয়ে।
বিষে ভরা যৌন নিপিড়নকারী দানবগুলো তাদের চতুর্দিক থেকে পিষে ফেলতে চায়।
এই পৃথিবী কেন এতটা বিকৃতমনা?
কীভাবে আমরা ঐসব দানবদের নির্মুল করে, নিষ্পাপ শিশুগুলোকে রক্ষা করবো?
আমাদের একটি সুরক্ষিত দূর্গ বানাতে দাও। প্রহরীর দায়িত্ব দাও আমাদের কাঁধে।
এবং নিষ্পাপ, নিরপরাধদের উপর নিপিড়নকারী দানবদের স্বমূলে উৎপাটন করো!
কুঁড়িটাকে প্রস্ফুটিত ফুলের ন্যায় সৌরভ ছড়ানোর সুযোগ দাও
স্বাধীনভাবে...স্বাচ্ছন্দ্যের সহিত... যেমনটা তাদের প্রাপ্য!
🌼#ভেল্লাই পুকাল (ড্যান্ডালিয়ন)🌼
রেটিং করতে গুগল ক্রোম (ইউসি ব্যাতীত) দিয়ে সাবসিন আইডিতে লগিন করুন(আইডি না থাকলে খুলুন)। লগিন থাকা অবস্থায় ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। ঐমুহুর্তে ডাউনলোড বাটনের পাশে Good/Bad অপশন আসবে।ভাল লাগলে Good সিলেক্ট করুন। আপনাদের উৎসাহই আমাদের একমাত্র প্রাপ্তি।
ভাবানুবাদকঃ ডাঃ প্রীতম চন্দ্র দে (মিথুন) এম.বি.বি.এস (রমেক ৩৪), বি.সি.এস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট (স্কিন-SOMC) [ভালো লাগলে গুড রেটিং ও ফিডব্যাক জানাবেন]
উৎসর্গঃ পার্থ, সুব্রত, সুশান্ত, হীরক, জর্জ, ডাইনো এবং প্রীতিলতা ❤
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.