All language subtitles for Surga yang Tak Dirindukan 2015 bsub by Atique Arafat

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

অ

অন

অনু

অনুব

অনুবা

অনুবাদ

অনুবাদক

অনুবাদক: Atique Arafat

অনুবাদক: Atique Arafat

মা!

মা!

আসতাগফিরুল্লাহ!

এখনো কি বানতুল নুরুল হুদা মসজিদ অনেক দূরে?

না

আল্লাহ, আমার আম্মাকে বেহেশত নসীব করো!

'বিসমিল্লাহ হির রহমানির রহিম...'

তুমি 'প্যাংগাং ক্রাপইয়াক' দেখতে পাবে। ওটাকে 'কানডাং মিনজাগান' বলে।

ওখান থেকে দক্ষিণ দিকে যাবে। এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়।

ওখানে গিশে আশেপাশে জিজ্ঞেস করলেই হবে।

- ধন্যবাদ, চাচা। - ও, স্বাগতম।

হার, আসো!

সুন্দর! আমাদের বস ইতিমধ্যে জেগে গেছে!

প্রাস, তুমি কি অল্প সময়ের জন্য একটু ড্রাইভিং করতে পারবে?

ও কেবলই ঘুম থেকে জাগলো, এখনো ঝিমাচ্ছে। মেরেও ফেলতে পারে আমাদের!

কথা একটু সাবধানে বলো! 'নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক।'

সমস্যা নাই, দেখি আমার কাছে দাও!

শাবাশ! বুঝতে পারছো, প্রাস...

এখন আমাকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

তুমি ঘুমাতে যাও, বেশি কথা বলে!

তুমি বেশি লাফালাফি করো!

বাবুরা! মাদানিয়ার গল্প শুনতে চাও কে কে?

- আমি! - ভেতরে আসো।

আসো

- আসো, গল্প শুনবে। - ধীরে ধীরে!

আমরান, আমরা এখন ক্রাপিয়াকে। এখান থেকে কোন দিকে যেতে হবে?

মা...

- কি হলো ওখানে? - প্রাস!

- দেখে শুনে যাও! - মা!

অন্যকে সাহায্য করতে গেলে একটু নিজের দিকেও খেয়াল রেখো, ঠিক আছে?

- শোন, এসবের জন্য আমাদের হাতে সময় নেই। - ও মাগো!

- কোথায় যাচ্ছিলে তুমি? - মসজিদে!

মসজিদে? ঠিক আছে, আমাদের রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে চল।

প্রাস, আমাদের...

সাইকেল টা নিয়ে আসো।

প্রাস, এই পর্যবেক্ষণটা আমাদের স্নাতক এর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা তুমি জানো, তাইনা?

মসজিদের উপর নির্ভর করছে এই সেমিস্টারে আমরা ইন্জিনিয়ার হতে পারবো, নাকি না।

এইসব কাজে সময় নষ্ট না করি এখন!

যাও তোমরা, আমি পরে আসছি!

প্রথমে গিয়ে কিছু ছবি তুলে নিও।

আমি আগে এর ব্যবস্থা করে নিই।

- ওর দেখাশোনা করবে! - এটা আবার কি? তুই কে?

প্রাস, কে এইটা? প্রাস!

গ্রীষ্মের এক দিনে, বড়িতে মদানিয়া আর তার বাবা বসে ছিল!

মাদানিয়া তার বাবাকে প্রশ্ন করলো,

"বাবা, আমি কিভাবে জান্নাতে যেতে পারবো?"

দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, আর পবিত্র কোরআন পড়ে।

কি?

দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, আর পবিত্র কোরআন পড়ে।

- আসসালামু আলাইকুম - ওয়ালাইকুম আস সালাম

হাসবি?

হাসবি, কি হয়েছে?

- আমি সাইকেল থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। - মাশাআল্লাহ! তুমি ঠিক আছো।

আমি ঠিক আছি, আরিনি মিস! উনি আমাকে সাহায্য করেছেন।

আসসালামু আলাইকুম

ওয়ালাইকুম আস সালাম

- হাসিব কে সাহায্য করার জন্য শুকরিয়া। - ইয়াহ।

এর পর থেকে তোমাকে আরও সতর্ক হতে হবে।

সতর্ক ছিলাম, মিস।

সতর্ক ছিলে? তাহলে ঠিক আছে। তুমি কি বাড়ি থেকে বেরুনোর আগে নামাজ পড়েছ?

- আমি সতর্ক ছিলাম! - তুমি কি বাড়ি থেকে বেরুনোর আগে নামাজ পড়েছ?

আবার গল্প শুরু করি তাহলে...

মাদানিয়া তার বাবার কাছে একটা ওয়াদা করলো।

"বাবা, আমি ওয়াদা করছি...

আমি সবসময় তোমার জন্য এবং মায়ের জন্য দোয়া করবো,

যেন তোমরা দু'জনেই জান্নাতি হও!"

জান্নাত হলো...

একটা কাজ করতে তুমি অনেক বেশি দেরি করতেছ!

সুবহানাল্লাহ!

- এটা তো সত্যিকারের ইন্দোনেশিয়ান সৌন্দর্য! - আর জান্নাত হলো...

এই রোমাঞ্চ আমার স্নাতকের ১২ টা বাজাবে নিশ্চিত।

প্রাস, তুমি যখন ওর মত একজনকে পেয়েছ, তোমার তাড়াতাড়ি ওকে প্রপোজ করা উচিত।

বিয়ে করে ওকে হালাল করে নাও, প্রাস।

বিয়ে? চলো যাই!

তোমরা এগুতে থাকো!

আমি নিশ্চিত হয়ে আসি যে, হাসবি ঠিক আছে।

দুমুখো সাপ!

প্রপোজ করো ওকে।

আসো!

সুতরাং, বাচ্চারা,

জান্নাত হলো সেইসব মানুষের জন্য যারা সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে

আর তাদের জন্যও, যারা নিষ্ঠাবান।

আপনি কি নামাজ শুরুর পূর্বে ওজু করে নিবেন?

আর...

আপনি ওখানে গিয়ে করতে পারবেন।

ওকে...

আমি প্রাসাত্যিয়া!

আমি চিত্রা আরিনি, আপনি আমাকে আরিনি ডাকতে পারেন।

"জান্নাত হলো সেইসব মানুষের জন্য, যারা সবসময় কৃতজ্ঞ এবং নিষ্ঠাবান।"

কত সুন্দর কথা!

শুকরিয়া।

জনাব,

আপনি ইমাম হতে চান, তাইনা?

কি? এত তাড়াতাড়ি?

আমাদের তো তাড়াতাড়িই নামাজ পড়তে হবে, তাইনা?

আসতাগফিরুল্লহ্! আপনি জামায়াতের ইমাম বুঝিয়েছেন?

হ্যাঁ, অবশ্যই!

রাস্তা পার হবার সময় সতর্ক থাকবে।

হাসবি, দৌড়ায়ো না।

সুতরাং, আমরা এখন তোমার বাড়িতে যাচ্ছি, তাইনা?

এখন না!

- কেন? - আমি আম্মুকে কথা দিয়েছি, আমি ওর সাথে যাব!

- হাসবি, এখনি দৌড়িয়োনা, ওকে? - তোমার রাজকুমার এসে গেছে।

- আসসালামু আলাইকুম! - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

সিতা, তুমি বিরক্ত করো না, এখনে আসো।

আমার বেস্টফ্রেন্ড এর সাথে পরিচয় হোন।

- হাই, সিতা - হ্যালো

- এমালিয়া - প্রাসাত্যিয়া!

লিয়ার বাড়ি আমার বাড়ির কাছেই।

মুনতিলানে, জাকার্তা থেকে ৩০ মিনিট দূরে।

সেজন্য, যখন আমরা ক্যাম্পাসে যাই, একসাথে যাই, তাইনা 'লি'?

ইয়াহ, আর যখন দেরী হয়ে যায়, ওরা আমার বাড়িতে থাকে, শহরে।

আর সাথে শহুরে মেয়ে হবার মজাটাও নেয়, তাইনা?

তুমি অনেক ফাজিল!

বাই দা ওয়ে, আপনার নম্বরটা একটু দিবেন?

ভুল করো না!

অনেক গুলো শূন্য!

আউচ!

- শুকরিয়া - শুকরিয়া

বানতুল নুরুল হুদা মসজিদে যাব কিভাবে?

- বানতুল? - ইয়াহ, কোন রাস্তা দিয়ে যাব?

একটু দাঁড়ান!

জনাব, অনুগ্রহ করে উনাকে বানতুল নুরুল হুদা মসজিদে নিয়ে যাবেন!

অবশ্যই

আমাকে এখন যেতে হবে

- নিজের খেয়াল রাখবেন - ধন্যবাদ।

- আসসালামু আলাইকুম - ওয়ালাইকুম আস সালাম

আমার মনে হয়, আমি একটা প্রিপেইড কার্ডের দোকান দিয়ে ফেলবো।

মনে হচ্ছে, কিছু একনিষ্ঠ ক্রেতা পাওয়া যাবে।

- আমি কি ইনভেস্ট করবো? - আমিও চাই

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

কেমন আছো, আরিনি?

- বাচ্চারা, কে... - আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি?

আমিও ভালো, হাসবি কেমন আছে?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে, সুস্থও আছে!

ও এখন দৌড়াদৌড়িও করতে পারে,

ও তো এখন আমার সহযোগী হয়ে গেছে, সবজায়গায় পুতুল নিয়ে এসে দেয়।

শুকরিয়া, হাসবি! বাচ্চারা, এরপর আমি তোমাদের মাদানিয়ার গল্প শোনাব!

তুমি গল্প বলতে এত বেশি পছন্দ করো কেন?

গল্প বলা আমার শিক্ষাদান পদ্ধতি;

গল্পের মাধ্যমে, আমি বাচ্চাদের অনেক কিছু শেখাতে পারি!

তুমি অনেক স্মার্ট আর কাব্যিক!

তুমি এমনিতেই মিষ্টি কথা বলছো!

প্রাস, তুমি কি করতে পছন্দ করো?

আমি বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতে পছন্দ করি।

হোটেল? এপার্টমেন্ট?

স্কুলস, ডর্মস, মাদরাসা, এবং মসজিদ।

এতিমখানা!

ওটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়

সত্যি? কেন?

আমি একজন এতিম।

ওহ খোদা, দুঃখিত, আমি জানতাম না!

ইট'স ওকে, আরিনি!

আশা করি তুমি অনেক বড় আর্কিটেক্ট হবে!

আমি বিখ্যাত হতে চাইনা,

আমি আমার চারপাশের পৃথিবীটাকে, আমার অতীতের তুলনায় একটা সুন্দর জায়গা বানাতে চাই!

ওকে, তাহলে আশা করি, তোমার সব মনোবাসনা পূর্ণ হবে।

আমিন।

আমার মনে আছে, তুমি যখন বাচ্চা ছিলে!

তুমি ওই এতিম ছেলের প্রতি সিরিয়াস?

তুমি প্রাস এর কথা বলছো?

তুমি কি সিরিয়াস?

তুমি নিশ্চিত, সে তোমার জন্য ঠিক হবে?

কে ভালো কে খারাপ সেটার গেরান্টি কে দিতে পারে?

এটা নির্ভর করে আমাদের বিশ্বাসের উপর!

আর...

তুমি ওকে বিশ্বাস করো?

তোমার আশির্বাদে!

ওকে, তাহলে আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম! তুমি ওর প্রতি সিরিয়াস।

ধন্যবাদ, আরিনি,

আমাকে বিশ্বাস করার জন্য।

তোমাকে সুখে রাখার মত কিছু আমার কাছে নেই,

একমাত্র আমি ছাড়া!

আমার কাছে, সুখ কোন প্রদত্ত জিনিস নয়!

বরং আমরা নিজেরাই সুখী হতে পারি, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের দ্বারা!

ওটাই আমাদের জান্নাত!

ইনশাআল্লাহ,

তোমাকে সাথে নিয়েই আমার জন্নাত সাজাবো।

(আমিন)

আরিনি কে কখনো কষ্ট দিও না।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ! হ্যাপি বার্থডে টু ইউ!

- এটা তোমার জন্য, মা! - সোনামণি

বাচ্চারা, আসো খাবে!

হাই, এই যে বার্থডে গার্ল! শুভ জন্মদিন।

- শুভ জন্মদিন, সোনা! - ধন্যবাদ।

তুমি সাইবিল এর সঙ্গে একা একা কেন? তোমার স্বামী কোথায়?

ব্যাস্ত আছে, ওটা নিয়ে কথা না বলি। আমার বিরক্তি লাগে।

নাদিয়া, আন্দাজ করো তোমার জন্য কি এনেছি!

এটা ওকে দাও, সোনা।

কি বলো তুমি?

- ধন্যবাদ - স্বাগতম!

হানি, ওখানে কিছু স্পেশাল গেস্ট এসেছে।

কে? একটু অপেক্ষা করো!

- চলো খেলতে যাই। - যাও খেলো গিয়ে!

সিতা, তুমি কখন বিয়ে করবে?

বেশি দিন ডেট করোনা, কুৎসা রটতে পারে।

- আসসালামু আলাইকুম, মুসলিমিন! - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

বসুন!

- প্লিজ একটা চেয়ার টেনে বসুন। - ধন্যবাদ।

মা!

গত রাতে, আমি তোমার জন্য দোয়া করেছি,

যাতে করে আমাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য একটা ছোট ভাই হয়।

প্রাস, এটা অনেক বেশি টাকা, যা আমাদের আগামী অর্থবছরকেও কভার করতে পারবে।

কেন...

শিশুসাহিত্যের পুনঃবিবেচনা।

হার, যদি এই শপিংমল হয়, আশেপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মার্কেট গুলো হুমকির মুখে পরবে।

ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি হারিয়ে বসবে।

কে বলে রূপকথা সাহিত্য নয়?

প্রাস, আমরা হলাম আর্কিটেক্ট, কোন চ্যারিটি নয়! আমরা কেন গরীবদের নিয়ে চিন্তা করতে যাব?

যদি এই দেশ হটাৎ করে গরীব হয়ে যায়, সেটা কি আমাদের দোষ?

যদি আমরা কোন সমস্যার সমাধান নাও করতে পারি, নতুন করে সেটাকে খারাপ করাটা অযৌক্তিক।

- অনুমোদন কাজ কতদূর কি হয়েছে? - এখনি হয় নি!

- প্রধান আরও বেশি টাকার দাবী করছে। - আমি পরোয়া করিনা, এটা অনুমোদন হতেই হবে!

চলো ভোট হয়ে যাক, তোমার কি মনে হয়, র্যান?

কোন ভোটাভুটির দরকার নাই, আমি প্রাসের সাথে একমত।

- এক্সপ্লেইন করো! - প্রধান ...

স্যার, মিসেস. আরিনির জন্য আপনার কোন ড্রেসটা পছন্দ?

নীল, গোলাপি, ধূসর!

- সুন্দর! - ঠিক আছে, ধন্যবাদ, স্যার।

ওগুলো একটু দেখো প্লিজ, ওকে?

চলো বাহিরে যাই!

হাসবি, তুমি বাচ্চাদের নিয়ে এসেছ?

তাদেরকে একজন করে করে সামনে আসতে বলো।

তাদেরকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে বলো,

ওদের বলা শেষ হলে, ওটা এখানে লিখে ফেলবে আর তারপর আমার কাছে দিবে, ওকে?

- ঠিক আছে। - ধন্যবাদ।

তোমার কি হয়েছে, লি?

লি?

আমি রিফাই কে ডিভোর্স দিতে বলবো।

হায়, আল্লাহ!

কেন?

এইটা দেখো!

২০৫ নম্বর রুমে! গতরাতের জন্য ধন্যবাদ, হানি।

একজন স্ত্রী হিসেবে, তোমার কি মনে হয়, এই ম্যাসেজ পড়ার সময় আমার কেমন লেগেছে?

যখনই আমি জিজ্ঞেস করি, কোন না কোন বাহানা থাকেই।

বলে, ওর ফোন নাকি ওর বন্ধু ব্যবহার করে।

তোমার কাছে কি এটা সত্য মনে হয়? এই ধরনের ম্যাসেজের ক্ষেত্রে!

ও কি আমাকে বোকা ভাবছে?

তুমি কি ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছ?

কি নিয়ে কথা বলবো? সবকিছু পানির মত পরিষ্কার!

হতে পারে, ওর বন্ধু ফোন ধার নিয়েছিল।

অসম্ভব, সিতা!

এত বোকার মত কথা বলোনা!

শান্ত হও, লি!

নিজের স্বামী কে নিয়ে আজেবাজে চিন্তা করোনা।

তুমি এসব বলছো, কারন তোমার স্বামী তোমাকে ভালবাসে।

সে বিশ্বাসযোগ্য, আমার স্বামীর মত নয়।

নানার বাড়িতে যাচ্ছি।

বাবা,তুমিও কেন আসছোনা আমাদের সাথে? আমি নানার সাথে গল্প বলতে চাই।

আমি দুখিঃত, রাজকুমারী! আমাকে কুলোন প্রোগো যেতে হবে।

ওখানে আমাদের ব্রিজ পরিদর্শন করতে। শনিবারে তোমাদের সাথে যোগ দিব, ওকে?

মন খারাপ করোনা প্লিজ!

ওখানে তোমার সাথে দেখা হবে।

সাবধানে থেকো, ওকে?

তোমার নিজেরই সাবধান থাকা উচিত।

তোমার আবার কি হলো?

আমার বেস্টফ্রেন্ডদের নিয়ে চিন্তা হচ্ছে,

লিয়া'র ওর স্বামীর সাথে একটা সমস্যা হয়েছে, আর সিতা...

আমি জানিনা, আমার ভয় হচ্ছে যে...

উল্টাপাল্টা চিন্তা করো না! তোমার মনে হয় আমি প্লে বয়?

আমি শুধু তোমাকেই চাই।

সোনা, আমি যাচ্ছি, ওকে? আসসালামু আলাইকুম।

ওয়ালাইকুম আস সালাম, আমি তোমাদের ওখানে অবশ্যই যাব। প্রথমে তোমার বাবার সাথে দেখা করবে।

- বিদায়, রাজকুমারী। - বিদায়, বাবা!

তোমার মায়ের খেয়াল রেখো।

- বিদায়, বাবা। - বিদায়, বাবা।

বিদায়, মা! বিদায়, রাজকুমারী।

এখনো অনুমোদন ইস্যু হয়নি কেন?

দেরী হয়ে যাচ্ছে তো।

সমস্যা নাই, আমি রাস্তায় আছি।

তুমি.... হ্যালো? রান? আমরান?

ধূর, চার্জ দেয়ার কথা ভুলে গেছি।

কি সমস্যা তোমার?

সাহায্য করো!

সাহায্য করো!

কোন আইডি নেই, পুলিশ এ ব্যপারে অনুসন্ধান করছে।

আমি আরিনি কে বিরক্ত করতে চাইনি, কিন্তু... ইয়াহ, এর পরেই ওকে ফোন দিব!

ঠিক আছে, ধন্যবাদ, রান।

- মি. প্রাসাত্যিয়া? - ইয়েস, ডাক্তার?

আমাদের সিজার করতে হবে।

- কি? প্রেগন্যান্ট? - আপনি কি উনার স্বামী?

না!

তাহলে, এসব কিছুর জন্য দায়িত্ব কে নিবে?

আপনি শুরু করুন, ডাক্তার! আমি দায়িত্ব নিব।

ঠিক আছে জনাব! নার্স, ওটি প্রস্তুত করো। [ওটি= অপারেশন থিয়েটার ]

ঠিক আছে, ডাক্তার।

"হ্যাঁ, কারন আমি ওই পিঁপড়ে গুলোকে রাস্তা পার হতে দেখেছি।

ওদেরকে পিষে ফেলো না।"

নানা, মা বললো নবী সোলাইমান (আঃ) পশুপাখির সাথে কথা বলতো।

হ্যাঁ বলতেন।

প্রাস আসলো না কেন?

কুলোন প্রোগেতে সে তার প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত আছে।

- ইয়েস? - এটা রোগীর ফোন।

আমি এটা উনার পোশাকের মধ্যে পেয়েছি।

ঠিক আছে, ধন্যবাদ।

আমার নিজের!

মেইরোজ।

ইয়াহ, তুমি, বাবা!

আমি জানি তুমি প্যারালাইজড,

কিন্তু এটাকে আমার আর মায়ের প্রতি তোমার পুরোনো পাপা গুলোকে ভুলে যাওয়ার বাহানা বানিয়ো না।

শুভ জন্মদিন, মেইরোজ

আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি, তুমি আমার ১২ তম জন্মদিনে আমাদের ছেড়ে চলে গেছ।

আমি সারাটা দিন অপেক্ষা করেছিলাম, বাবা! সারাদিন।

আর তুমি আসোনি!

শুভ জন্মদিন, মেইরোজ

চিন্তা করো কতটা দুঃখী ছিলাম আমি, বিশেষ করে যখন আমি মায়ের দিকে তাকাতাম।

যখন থেকে তুমি গিয়েছ,

তার রুমে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা শুরু হয়!

তার রুম ছিল কলুষিত, আর নোংরা!

আর আমি ছিলাম সম্পূর্ণ একাকী।

আমার নিজেকে এইসবের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, বাবা।

মর শালী!

আর সে যখন মারা যায়, তখনো তুমি সেখানে ছিলে না।

তুমি সেখানে ছিলেনা।

চিন্তা করো আমার কেমন লেগেছিল, বাবা! আমি ছিলাম সম্পূর্ণ একাকী।

আমি ছিলাম নিঃসঙ্গ!

আমার আঁকড়ে ধরার মতো কিছুই ছিলো না।

আমাকে বিয়ের কথা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু যখন সে চলে গেল

আমি জানি না কি করবো আমি, বাবা।

আমি জানিনা কোথায় যাব আমি! এখন, আমি প্রেগন্যান্ট আর...

আমাকে সাহায্য করো বাবা, আমার তোমাকে প্রয়োজন, কিন্তু সেজন্য তুমি এখানে নেই!

আমি আর এখানে থাকতে পারবোনা, বাবা!

আমি দুঃখিত!

বিদায়!

- মি. প্রাস? - কি অবস্থা, ডাক্তার?

মা এবং শিশু দু'জনেই সুস্থ আছে।

আলহামদুলিল্লাহ!

ছেলে সন্তান হয়েছে!

ছেলে সন্তান?

ছেলে এবং মা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

দোয়া করতে থাকুন, আশা করি সবকিছু ভালোই হবে।

(আমিন) শুকরিয়া, ডাক্তার!

তোমাকে শক্ত হতে হবে।

এক্সকিউজ মি, জনাব!

আপনি ছেলের কি নাম রাখতে চান?

- আকবর! - আকবর, জনাব? আকবর আর কি?

- আকবর মুহাম্মদ! - আকবর মুহাম্মদ, জনাব?

তোমাকে শক্ত হতে হবে।

তুমি অবশ্যই ভালো একজন মানুষ হবে।

আল্লাহু আকবর!

মা!

মা!

মেইরোজ?

তুমি যেখানে দাড়িয়ে আছো, সেটা মাটি থেকে ১৯.৫ মি উঁচুতে।

তোমার ওজন যদি ৫০-৫৫ কিলোগ্রাম হয়,

তোমার পরার একটা সুযোগ আছে, মরবে সম্ভবনা কম!

কিন্তু পঙ্গু হবে নিশ্চিত!

কে তুমি?

কাছে আসবেনা একদম!

আমি প্রাসাত্যিয়া, আমি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি।

তুমি আমার জীবনে মধ্যাঙ্গুলি করছো কেন?

আমি তোমার জীবন সম্পর্কে জানি, মেই!

আমি জানি, বাবা -মা ব্যতিত জন্মদিন পালনের কষ্ট কতটা!

- আমি জানি প্রত্যক্ষিত হওয়ার কষ্টটা! - ভালো

- সুতরাং, আমাকে একটু মরতে দাও, ওকে? - মেই, প্লিজ! প্লিজ, শোন আমার কথা।

আমার মা আমার চোখের সামনে নিজেকে শেষ করেছ।

তোমার নতুন জন্ম নেয়া ছেলেটা এখন একই পরিস্থিতির সম্মুখীন।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, মেই!

আমি পরোয়া করিনা, ওকে? আমি পরোয়া করিনা।

মাসভর প্রেগ্ন্যাসি আর কষ্টের পর, এখন আমাকে বাচ্চাকেও দেখাশোনা করতে হবে?

- এসব তোমাকে একা একা করতে হবে না! - না!

তুমি যদি ভালো মেয়ে হতে চাও, আল্লাহও তোমাকে ভালো ছেলে জুটিয়ে দিবেন।

পুরুষ? ভুলে যাও।

- পরে, ওই মানুষটা আবার-- - আমি কিছু শুনতে চাইনা!

সব পুরুষই এক গোয়ালের। সবসময় "পরে" কথাটার পিছনে লুকিয়ে পরে।

মেই! না, মেই!

না, মেই! না!

খোদার কসম, আমি তোমার পাশে দাড়াবো। আমি কথা দিচ্ছি।

- আমি কথা দিচ্ছি, খোদার কসম। - মিথ্যুক! ছাড়ো আমাকে!

মা!

মেই!

আমাকে ক্ষমা করে দিও!

ছাড়ো আমাকে!

মেই, আমি তোমাকে বিয়ে করবো।

- মেই - চলো!

মেই, আমি তোমাকে বিয়ে করবো।

- মিথ্যুক! - আল্লাহর কসম!

আমি তোমাকে বিয়ে করবো, এখনই!

আল্লাহর কসম!

উপরে উঠে আসো।

মা...

আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু

ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ( সঃ)

তুমি পাগল, প্রাস। পাগল!

আমি বুঝতে পারছি, হার।

যদি তুমি বুঝতেই পারো, কেন তাহলে--

অনেক হয়েছে, হার! বাদ দাও। প্রাস ভুল কিছু করেনি।

এখানে, সূরাহ -নিসা পড়ে দেখ,

"আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা এতীমদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হতে পারছ না,

তা হলে স্ত্রীলোকদের মধ্যের যাকে তোমাদের ভালো লাগে তাকে বিয়ে করতে পার -- দুই বা তিন বা চার।"

সূরা নিসা ভালো করে পড়ো, পড়েছ কখনো?

কিছু অংশ না পড়ে, পুরো আয়াত টুকুই পড়ো।

কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা সমব্যবহার করতে পারবে না, তা হলে একজনকেই।" [কোরআন অনুবাদ: জনাব জহুরুল হক।]

শুধু একটা! পড়তে থাকো, ১২৯ তম আয়াত।

"আর তোমাদের সাধ্য নেই যে তোমরা স্ত্রীদের মধ্যে সমব্যবহার করবে, যদিও তোমরা আকাঙক্ষা করো।

কিন্তু বীতরাগ হয়ো না পুরোপুরি বিরাগভাজনে,

যার ফলে তাকে ফেলে রাখো যেন ঝুলন্ত অবস্থায়। আর যদি তোমরা সমঝোথা করো এবং,

তবে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হচ্ছেন পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।" [কোরআন অনুবাদ: জনাব জহুরুল হক।]

আমি আমার সিদ্ধান্তের পরিণতি জানি।

আর এটা আমি, আল্লাহ এবং আরিনির ভেতরের বিষয়।

প্রাস, সত্যি করে বলবে। তুমি মেইরোজ কে পছন্দ করো, তাইনা?

হার, আমি তাকে ঠিক ভাবে চিনিও না!

এটা আমি তাকে পছন্দ করি কি না, সে বিষয় নিয়ে নয়।

বিয়েটা শুধু তার জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্য করা।

তুমি যদি তাকে বাঁচাতেই চাচ্ছো, শুধু বাঁচালেই হতো।

যদি খারাপ কিছু ঘটে যায়, ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।

কাউকে নিজের চোখের সামনে সুইসাইড করতে দেখতে কেমন লাগে, সেটা কি জানো?

বাদ দাও এসব! বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এখন এটা প্রসের মাথাব্যাথা, তুমি নাক গলিও না।

তুমি বেশি কথা বলছো, আর নিজের অক্সিজেন অপচয় করছো।

নাও, তোমার জন্য ক্রেকার।

একটা ফ্রাইড নুডলস হবে।

- ইয়েস, স্যার - ডিম দিয়ে।

আমি ওকে আকবর মুহাম্মদ নাম দিয়েছি।

সে তোমার জন্য বাঁচবে, মেই।

সবকিছু জটিল হবার আগেই, ভালো হয় তুমি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দাও।

মেইরোজ কে সবকিছু বুঝিয়ে বলো।

তারপর, ছেড়ে দাও ওকে। মনেকরো এসব কখনো হয়ইনি।

মেইরোজও একজন মেয়ে!

তারও হক আছে, আমি এভাবে তাকে ডিভোর্স দিতে পারি না!

প্লিজ কুলোন প্রোগো প্রজেক্ট টা একটু দেখে শুনে রেখো, ঠিক আছে?

- প্রাস - প্লিজ 'মেই' খেয়াল রেখো একটু।

ও এখনো স্বাভাবিক হয়নি!

- আসসালামু আলাইকুম - ওয়ালাইকুম আস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওরা বারাকাতাহু

আমি নিশ্চিত এটা নিয়ে একটা ভেজাল বাধবে।

তখন আমাদেরই এর মূল্য দিতে হবে।

একটু ভালো চিন্তা করো, উপরে আল্লাহ আছেন।

আমি আরিনি পরিপূর্ণ ভালোবাসা দেয়ার আর দেখাশোনা করার ওয়াদা করছি, জনাব।

- আসসালামু আলাইকুম - ওয়ালাইকুম আস সালাম

তুমি আমাদের ফোন দাও নি কেন?

দুখিঃত, সোনা! গতকাল আমি সময় পাইনি।

এখন কোথায় আছো তুমি?

মুনতিলান আসছি, রাস্তাতে।

আমি অপেক্ষা করবো

বাবা চলে গেলেন!

তার হৃদয়!

বাবা,

রিনি, তোমার বাবা একজন ভালো মানুষ ছিলেন।

আর আমি তার কারণটাও বুঝতে পারছি।

আমাদের কি মানুষকে বিয়ে করে সাহায্য করতে হবে?

অন্য কোন উপায় নেই? সাধারণ পথ?

তোমার বাবা সৎ ছিলেন।

সৎ? তার ২য় স্ত্রীকে আমাদের নিকট হতে ১৫ বছর ধরে লুকিয়ে রেখে?

আর তার মেয়েকে কষ্ট দিয়ে! এটাকে তুমি সৎ থাকা বলো?

কি ধরনের সততা এটা?

- এটাকে কিভাবে সততা বলা যেতে পারে? - রিনি!

তুমি কখনো আমাকে ধোকা দিবেনা, তাইনা?

আমরা সারাজীবন এমনই থাকব, ঠিক আছে?

সোনা, সবসময় আমরা দুজনেই থাকবো, তাইনা?

আর কেউ থাকবেনা আমাদের মাঝে, ঠিক আছে?

আমি দেখি!

তুমি তোমার স্ত্রীকে কখন বলবে?

আমি ওর সাথে তাড়াতাড়িই কথা বলবো।

উনি কি ঈর্ষাপরায়ণ? আমি সবকিছু সইতে প্রস্তুত আছি।

বাজে কথা বলো না, তুমি আরিনি কে চেনো না!

ওহ ভালো কথা...

নামাজ শিক্ষা

তুমি আমাকে এগুলো পড়তে বলছো?

- বাজে লাগছে? - না!

এভাবে তোমাকে আরও বেশি সুন্দর লাগে।

সব মুসলিম মেয়েকেই কি হিজাব পরতে হয়?

ওটা খুলে ফেললে কেন তুমি?

এটা কি আমাকে ঘরের মধ্যেও পরে থাকতে হবে?

- আর আমার এগুলোর দরকার নেই। - কেন?

তুমি বলেছিলে, তুমিই আমার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং তুমি আমাকে শিখাবে, ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

যেগুলো ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে, তাদের নাম আর ঠিকানা গুলো আবার পরীক্ষা করো।

তারা ইতিমধ্যে বইয়ের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। কোনকিছুই বাদ দিবে না!

সুতরাং পরিকল্পনা হলো, আমরা এটা রমজানের আগেই রিলিজ দিব।

আমি চাই আরিনি'র দ্বিতীয় বই

রমযান মাসের আগেই বাচ্চা দের পড়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাক।

যেন তারা এগুলো রোজা থেকে পড়তে পারে।

রিন?

হ্যাঁ, আমিও সহমত!

একমত আমি।

সোনা, তোমাকে এত ক্লান্ত লাগছে কেন?

আমাদের কুলোন প্রোগে এর প্রোজেক্ট এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি।

সবকিছুত পিছিয়ে যাচ্ছে।

- তাহলে এর বাজেট বেড়ে যাবে? - সত্য।

তুমি জানো? আরিনি'র বাবা বহুবিবাহ করেছিলেন।

এইসব ঘটনা আমাকে বিয়ের প্রতি বিতৃষ্ণ করে তুলছে।

তুমি কখনো এমন কাজ করবে না, তাইনা?

অসম্ভব! আমাকে কি ওরকম মনে হয় যার, আমরানের মত বহুবিবাহের ইচ্ছে আছে।

অসম্ভব!

আমি কিভাবে জানবো? পুরুষ... ভরসা আছে কোন?

এটা খাও, এই প্রথম কারো জন্য আমি নিজ হাতে রান্না করলাম।

ঠিক আছে?

তুমি সত্যি এগুলো নিজ হাতে রান্না করেছ?

বিশ্বাস হচ্ছেনা তোমার?

- খালা? - জ্বি, জানাব!

মেই এগুলো নিজের হাতে রান্না করেছে?

জ্বি, জানাব!

অন্নেক মজা হয়েছে।

মনে হচ্ছে যেন, নিজের বাড়িতে খাচ্ছি।

- কি বলতে চাচ্ছো তুমি? - দুঃখিত, আমি ওমনটা বুঝাতে চাইনি।

মানে, মুরগির মাংশ, মসলা গুলো, খাসির মাংস... আমি কখনো...

তুমি বুঝিয়েছ, আরিনি'র মতো রান্না?

সমস্যা নাই, আমি রাগ করিনি।

এর মানে, আমি তেমাকে আরও আপন করতে পারবো।

তুমি আজ রাতে থাকছো এখানে?

আমার সাথে থাকো?

একটু দাড়াও!

- হ্যালো? - আসসালামু আলাইকুম

ওয়ালাইকুম আস সালাম।

কোথায় আছো তুমি? আজকে একটু দ্রুত বাড়ি আসতে পারবে?

আমি তোমার প্রিয় খাবার রান্না করছি।

- হ্যাঁ, সোনা, কিন্তু -- - তুমি ব্যাস্ত আছো, তাইনা?

- হ্যাঁ! - সমস্যা নাই।

যখন তুমি বাড়িতে আসবে, আমি খাবার গরম করে দিব।

ঠিক আছে।

- আসসালামু আলাইকুম! - ওয়ালাইকুম আস সালাম!

কতদিন পর্যন্ত আমরা এভাবে থাকবো?

এখন সঠিক সময় নয়, কিছুদিন হলো আরিনি'র বাবা মারা গেলেন।

একটু ধৈর্য্য রাখো।

আমি ধৈর্য্য রাখতে পারবো।

কিন্তু ঢেকে রাখা, কোন ভালো উদ্দেশ্য হলেও, খারাপ দেখাবে।

আর আমি চাইনা, সেটা তোমার সাথে ঘটুক।

ভেতরে আসো।

আসো!

কি সমস্যা? তুমি বলেছিলে দুসপ্তাহ। কিন্তু এখনো পিচঢালা হয়নি!

সারাদিন বৃষ্টি হয়, আর স্থানীয় লোকজন বিরক্ত করতেই আছে।

প্রাস, তুমি কি মেইরোজ এর সাথে কথা বলেছ?

তুমি ওর বিয়েতে নাক গলাচ্ছো কেন?

আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আর তোমার নিজের বিয়ের চিন্তা করো!

আমার কাছে, বিয়ে মানে হলো দায়িত্বগ্রহণ!

দায়িত্ব গ্রহন করতে না পারলে, তোমার বিয়ে নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়।

থামো! এসবকথা এবার বন্ধ করো।

আমাদের মাস খানেক দেরী হয়ে যাচ্ছে। হুস আছে তোমার?

আমরান!

ঠিকাদার কে বলো, আগামীকালের মধ্যে যদি পিচঢালা শেষ না হয়,

আমার আরেকজন খুঁজে নিব। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছ!

- আসসালামু আলাইকুম, মেই। - তুমি করেছ, এটা।

আমি? ওর কারনে, সবকিছুতেই ঝামেলা হচ্ছে।

এই 'পলিগামি'র কারনে, আমাদের সবকাজ গোল্লায় গেছে।

এমন ভাব করোনা যেন, তুমি শতবর্ষ ধরে বিয়ে করে আছো।

তুমি এখনো দায়িত্ব গ্রহনে ভয় পাও।

তোমরা সব পুরুষই 'পলিগামি'র কথা ভাবো?

- পলিগামী কি? - বলদ, জানিস না তুই?

- ওইটা 'পলিগামি'! - এটা একটা সাইকেল কোম্পানি?

দেরী করার জন্য দুখিঃত। হার্তোনো আমার গাড়ি ব্যবহার করছে।

- অবশেষে আমি একটা ট্যাক্সি নিয়ে এসেছি। - সমস্যা নাই।

ওর টিকা দেয়ার পালা এখনো আসেনি, তাইনা?

এখনো না!

ফার্মেসী

৳ 350,000. টাকা

- আপনারা কি ডেবিটকার্ড নেন? - এখন বন্ধ আছে।

আপনি যদি নগদ দিতে চান, পাশেই একটা এটিএম আছে।

এটিএম বুথটা বাম দিকে।

সমস্যা নাই, আমি টাকা নিয়ে আসছি।

স্বাগতম, আপনাকে কোন সাহায্য করতে পারি?

আপনাদের কাছে কোন বায়োলাইসিন আছে?

- দয়া করে একটু বসুন, আমি এনে দিচ্ছি। - ধন্যবাদ।

অনেক কিউট। হ্যালো!

ম্যাম, আপনার ঔষধ এসে গেছে।

এইযে নিন, কোষাধ্যক্ষের নিকট বিল পরিশোধ করুন! ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ।

50,000.

ধন্যবাদ।

ম্যাম, স্যারের পকেটের মধ্যে এই চিঠিটা ছিলো।

- ধন্যবাদ, খালা - স্বাগতম।

- হ্যালো, শুভ সকাল। - শুভ সকাল

আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুখিঃত।

আমি জানতে চাচ্ছিলাম যে আকবর মোহাম্মদ প্রাসাত্যিয়া এর জন্য কোন ঔষধ নেয়া হয়েছিল কি,

ডাক্তার. আনিকা ইকাওতি এর থেকে?

দুখিঃত, কোথায় থেকে বলছেন আপনি?

আমি ফার্মেসী থেকে বলছি!

গতকাল কিছু ঔষধ ছিলো না! আজকে ওগুলো ডেলিভারি করতে চাই!

আমি কি ঠিকানা এবং ফোন নম্বরটা পেতে পারি?

ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করুন!

গতকাল রাত থেকে ওর জ্বর করছে।

এটা স্বাভাবিক! টিকা দেয়ার পর সাধারণত এমন একটু জ্বর হয়।

চিন্তা করো না।

ও যখন বুকের দুধ খাচ্ছে, ঔষধের কোন দরকার নেই।

কারন মায়ের বুকের দুধ হলো আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে উত্তম ঔষধ।

- ওটা শুকনোই রাখতে হবে। - ঠিক আছে।

হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম! হ্যালো?

- হ্যালো? - কে বলছে?

কেউ নেই, হ্যালো?

কতদিন ধরে তোমরা দুজন বিবাহিত?

- যখন আকবর এর জন্ম হয়! - কি?

সুতরাং এতকাল ধরে, তুমি আর আমার স্বামী লিভ-টুগেদার করে আসছো?

বিষয়টি তেমন নয়!

আকবর প্রাস এর রক্তের নয়। আমার ওর সাথে--

কারন যেটাই হোক, কথা হচ্ছে তুমি আমার স্বামীকে বিয়ে করছো।

এক্ষেত্রে যেটা হয়েছে। ও আমাকে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করেছে।

- আর এখন ও আমাকে ধর্ম শিক্ষা দিচ্ছে-- - তোমাকে বিয়ে করার মাধ্যমে?

অসাধারণ তুমি, অসাধারণ!

আমি জানতাম, তুমি রেগে যাবে।

আমি আশা করছিলাম এবং খারাপ মেয়ে বলে গণ্য হতে প্রস্তুত ছিলাম।

অবশ্যই!

একটা কথা তোমার জেনে রাখা দরকার!

তুমি আমার রূপকথা গল্পের সাজানো সংসার ভাঙতে সফল হয়েছ,

শুধু তোমার নিজেরটা গড়তে গিয়ে!

আমি দুখিঃত--

আমাদের প্রজেক্টে...

আটটি পিলার থাকবে ব্রিজটিকে ধরে রাখার জন্য, আর...

আসসালামু আলাইকুম, মেই! দুখিঃত, আমি এখনো মিটিংয়ে আছি।

আর এই পিচগুলো টিকে থাকবে--

- খালা - জ্বি, স্যার!

- ম্যাডাম কোথায়? - উনি উপর তলায়, স্যার!

রিন?

- কিভাবে পারলে তুমি? - রিন, আমি বুঝিয়ে বলছি...

তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে!

- শোন-- - তুমি কথা দিয়েছিলে আমাকে!

- ছুঁবেনা আমাকে! - আমার কথাটা শুনো, রিন।

- দূরে যাও! - আগে আমার কথাটা শুনো।

তোমাদের কেউই বিশ্বাসযোগ্য না!

তোমাদের কেউই বিশ্বাসযোগ্য না!

- আসতাগফিরুল্লাহ! কি পাপ করেছিলাম আমি। - আরিনি, আমার ব্যাখ্যাটা তো শুনবে!

মেই একদম বিধ্বস্ত ছিলো, আর ও আত্মহত্যার করতে বসেছিল।

ও একজন এতিম, আমার মতো।

ভালো! তাহলে তোমার আমার সাথে নয় বরং ওর সাথে থাকা উচিত।

যাও ওর সাথে থাকো গিয়ে।

- আরিনি, শোন! - অনেক হয়েছে!

তুমি যত ব্যাখ্যা করবে, আমার হৃদয় তত ক্ষতবিক্ষত হবে।

আমাদের একসাথে গড়ে তোলা জান্নাত, তুমি ধ্বংস করেছ।

আর আমি এখন আর জান্নাতের অংশও নই।

- আমি চলে যেতে চাই। - রিন, আমাকে ব্যাখ্যা করার একটা সুযোগ দাও।

- আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। - ঠিক আছে।

আমি যাচ্ছি।

ভুলটা তো আমারই ছিলো।

দেখলে? আমি তোমাকে বলেছিলাম এটা এভাবেই শেষ হবে।

'শুধুমাত্র' যদি প্রাস আমার কথা শুনতো...

হার, যদি তুমি 'শুধু মাত্র' কথাটা ব্যবহার করো; এর মানে দাড়ায় তুমি কৃতজ্ঞ নয়।

যাইহোক, আসল কথা হচ্ছে, ভেজাল লেগে গেছে।

আর এটা ঠিক করা অনেক কঠিন হবে। অনেক সময় লাগবে।

- হ্যালো - সোনা?

হ্যাঁ!

- স্যার, মি. রিচার্ড এর কাছ থেকে একটা চিঠি আসছে। - না। হ্যাঁ!

- এখনো কি আমাদের লাঞ্চের পরিকল্পনা আছে? - হ্যাঁ!

এখন? ঠিক আছে, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি!

- আমি এখনই আসছি! - ওকে, বিদায়!

দয়া করে আরেকবার রিভাইস করুন; আমার পছন্দ হয় নি, ঠিক আছে?

কুলোন প্রোগো প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের ক্লায়েন্টের নিকট হতে ওয়ার্নিং এসেছে।

এটাই আমি বুঝিয়েছিলাম "ভেজাল বেধেছে" এখনও কি তুমি আমাকে কৃতজ্ঞ হতে বলবে?

যখন পারো, আমাকে ফোন করো।

- হ্যালো - প্রাস

কি হয়েছে?

তুমি কি মিস্টার রিচার্ড এর পাঠানো চিঠিটা পড়েছ?

ঠিক আছে, দয়া করে আগামীকাল উত্তর দিয়ে দিও।

তাকে বলো, পরশু আমাদের পরবর্তী মিটিংয়ে আমি তাকে সবকিছু ব্যাখ্যা করবো।

- ঠিক আছে। - আমি আজ এবং আগামীকাল এর ছুটি নিতে চাই।

- ঠিক আছে তাহলে - ওকে, ধন্যবাদ।

- আরিনি কেমন আছে? - আমি আকবর কে দেখতে চাই।

আমি বের হয়ে এসেছি।

এতে তোমার কোন দোষ নাই, মেই।

যদি এটা আমার জন্য না হতো, এটা কখনো হতো না!

এর সবকিছু আমার জন্য হয়েছে,

আমি সকল দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

ওকে, তুমি যদি এখানে আজ রাত থাকতে চাও, আমি গরম পানির ব্যবস্থা করি তোমার জন্য।

আমার মনে হয় না, মেই, আমি এখানে থাকতে পারবো।

ঠিক আছে, বুঝতে পারছি আমি।

ওকে, তাহলে তোমার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আনি।

রিন, এটা তোমার মায়ের নিকট হতে।

আজকের নামাজের পর, উনার নাদিয়ার কথা মনে পরে , সেজন্য আমাদের বাড়ির পাশে দাড়িয়েছিলেন।

মনে হচ্ছে তুমি প্রাস'কে ছাড়াই একা একা চলে এসেছ।

সাধারণত, তুমি সবকিছুই ওর সাথে করো। তুমি কি আত্মনির্ভরশীল হওয়া শিখতে চাও?

রিফাই কেমন আছে? বলো আমাদের।

আমি ডিভোর্স বাতিল করে দিয়েছি।

ও সত্যিই বলছিলো, ওটা রিফাই ছিলো না, ওর বন্ধু ছিলো।

রিন, কি হয়েছে?

- বিদায় - আসো, আসসালামু আলাইকুম।

মা!

- বাবা! - রাজকুমারী!

- অনেক মিস করেছি, রাজকুমারী। - আমিও তোমাকে মিস করেছি অনেক।

তুমি এত কম আসো কেন বাড়িতে?

আমি তোমাকে আমার নতুন গল্প শুনাতে চাই।

দুখিঃত, রাজকুমারী।

নাদিয়া, আসো, বাবা নিজের গাড়ী এনেছেন। তোমাকে আমার সাথে আসতে হবে।

তোমার গল্প শেষ করতে আমাদের বই কিনতে হবে।

আর তুমি টিচারকে ওয়াদা করেছ, ওটা তুমি স্টেজে উঠে শুনাবে।

ঠিক, আমি ভুলে গেছিলাম, মা।

প্লিজ বাবা, আমার পারফরম্যান্স দেখতে এসো।

অবশ্যই, সোনা; আমি আসবো।

তোমরা দু'জন ঝগড়া করেছ, তাইনা?

না, সোনা, ঝগড়া করিনি।

- আসলে অফিসে আমাকে অনেক কাজ করতে হয়। - তুমি কাঁদছো কেন?

নাদিয়া, আমাদের এখন বাড়ি যেতে হবে। আসো, সোনা।

এর আগে, আমি কখনো আপনার উপর এতটা নিরাশ হইমি, মিস্টার প্রাস।

এইবার, আমি আসলেই বুঝতে পারছি না।

এটা একদম মৌলিক ভুল।

আমি চিন্তাও করতে পারিনি এটা আপনার মতো কারো দ্বারা হয়েছে।

আমরা দুঃখিত, স্যার।

- আমার কিছু পারিবারিক সমস্যা ছিলো। - আমরা অসচেতন ছিলাম, স্যার।

আমাদের ভুল স্বীকার করছি। এজন্য,

বাড়তি খরচের টাকা আমরা বহন করবো।

কথাটা খরচ নিয়ে নয়।

নির্দিষ্ট সময়ে প্রোজেক্ট শেষ করার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম।

- চলুন এটাতেই ফোকাস করি। - হ্যাঁ, সহমত।

মিস্টার প্রাস, আমাদের অন্য প্রোজেক্ট গুলো বন্ধ রাখতে হবে।

যতক্ষণ না আপনি এটা শেষ করছেন, ঠিক আছে?

ঠিক আছে, স্যার।

যদি পরের প্রোজেক্টও দেরী হয়, এইসব বাড়িতে খরচের দায়িত্ব কে নিবে?

তোমাকে একটা সমাধান খুঁজতেই হবে!

কতদিন হলো প্রাস বাড়িতে আসে না?

- তুমি কিভাবে জানো? - খারাপ কিছু হলে আমি বুঝতে পারি।

কিন্তু এমন কোন সমস্যা নেই, যেটা সমাধান করা যায় না।

ধর্ম আমাদের সকল সমস্যা ধৈর্য আর বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।

মেয়েদের জন্ম কি এজন্যই হয়, যেন তারা কষ্ট পেতে পারে, মা?

আমি তোমার মতো অত শক্ত নয়।

আমিও চাই না, তুমি আমার মতো হও।

কিন্তু একটা জিনিস সম্পর্কে তোমাকে অবশ্যই ভাবতে হবে।

নাদিয়ার ভবিষ্যৎ।

অনেক সিঙ্গেল বাবা-মা আছে, যারা বাচ্চা মানুষ করছে একাই, এবং সফলও হয়েছে।

আসতাগফিরুল্লাহ!

আমার মাদানিয়ার রূপকথা যেটা প্রাসের সাথে গড়েছিলাম...

...নষ্ট হয়ে গেছে।

সেটা আমি জানি। কিন্তু গল্প এখনো শেষ হয়নি।

- তোমার চিরুনিটা কি একটু নিতে পারি? - হ্যাঁ!

আসো, সোনা!

তোমাকে কি পারফর্ম করতে হবে, ভুলে যেও না।

মা, বাবা এখনো আসেনি কেন?

ভয় পেওনা। তোমার বাবার জন্য অপেক্ষার কোন প্রয়োজন নেই, আমি আর তোমার নানী তো আছিই।

তুমি কি বাবাকে ফোন করতে পারবে, মা? আমি চাই বাবা এখানে আসুক।

প্লিজ, বাবা আমাকে কথা দিয়েছে।

ঠিক আছে, আমি ওঁকে ফোন দিচ্ছি এখন! তুমি এখানে তোমার নানীর সাথে থাকো।

- হ্যালো! - আসসালামু আলাইকুম!

ওয়ালাইকুম আস সালাম!

- কোথায় তুমি? - রাস্তায় আছি!

৩০ মিনিটের মধ্যে ওখানে পৌঁছে যাব, ইনশাআল্লাহ

ঠিক আছে তাহলে, আসসালামু আলাইকুম।

- হ্যালো! - আকবর বমন করেছে অনেক!

মাশাআল্লাহ, কখন থেকে?

আজকে সকাল থেকে!

- খালা কোথায়? - উনি আজকে আসেননি!

- কোন ঔষধ দিয়েছ ওকে তুমি? - কিছুই না... আমি জানিনা কিছু!

আমি ওকে কিছুই দিতে পারবো না! আমার ভয় হচ্ছে, ভুল কিছু খাইয়ে দিতে পারি।

কি করবো এখন আমি?

হানি? হ্যালো?

ইয়াহ!

ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করো! আমি আসছি ওখানে।

- ও এখনো বমন করছে? - হ্যাঁ!

ঠিক আছে, ওর জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।

হানি!

আসসালামু আলাইকুম

লেডিস এন্ড জ্যান্টলম্যান, আপনাদের স্বাগতম জানাচ্ছি...

বাইয়াংলালা কিন্ডারগার্টেন এর বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

- হ্যালো, আরিনি! - কোথায় তুমি?

- দুখিঃত, আমি-- - কার কন্ঠস্বর ওটা?

কোথায় তুমি? ওখানে বাচ্চার কান্নার শব্দ কেন?

আকবর আবার বমন করছে।

আমি এখন মেইরোজ এর এখানে আছি। আকবর অসুস্থ, সেজন্য আমি--

- তাড়াতাড়ি করো! - প্রথম পারফর্মেন্স এর জন্য...

ধৈর্য্য রাখো, সোনা!

ও কথা দিয়েছিল! যদি ও সেটা নাই রাখতে পারে,

তাহলে তার আমাকে এবং নাদিয়াকে কথা দেয়াই ঠিক হয়নি।

বাদ দাও!

- আমি দুখিঃত! - ইস্তেগফার পড়ো।

সোনা, চলো তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।

- হ্যালো! - বমন, ওটা কি পাতলা নাকি গাঢ়? হ্যালো?

বমন পাতলা নাকি গাঢ় ছিল?

- পাতলা! - পাতলা ছিল।

- শরীরের জ্বর কি খুব বেশি? - দাঁড়াও, ওর জ্বর?

- স্বাভাবিক। - ওর কি পাতলা পায়খানা হচ্ছে?

হ্যাঁ, সকাল থেকে ৩বার হয়েছে।

আমার মনে হয়, এমনিতেই একটু শরীর খারাপ।

ওর গায়ে হালকা করে শরিষার তেল মালিশ করে দাও!

ঠিক আছে।

কিন্তু যদি এরপরও পাতলা পায়খানা হয়, আর বমন করে,

- হাসপাতালে নিয়ে যেও! - ঠিক আছে, শুকরিয়া।

তুমি যদি এখানে না আসতে পারো, সমস্যা নাই।

আমি নাদিয়াকে বুঝিয়ে বলবো।

আমার প্রিয়তম

চলুন এবার কেজি-১ ক্লাসের অংশগ্রহণকারিদের ডাকা যাক,

নাদিয়া চিত্রা প্রাসাত্যিয়া!

অনেক দিন আগের কথা, মাদানিয়া নামের একটা রাজ্যে,

একটা রাজা আর তার প্রাণপ্রিয় রাণী বসবাস করতো।

তাদের অনেক সুন্দর একটা মেয়ে ছিল, নাম তার 'সাবরিনা'।

রাজা এবং রাণী তাকে অনেক ভালো বাসতো।

একদিন, রাজার রাজপ্রাসাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় এলো,

কারন, একটা দুষ্টু শত্রু মাদানিয়া রাজ্যকে হুমকি দিচ্ছিল,

সাবরিনা তার বাবার চলে যাবার কথায় অনেক মন খারাপ করলো,

বাবা, তোমাকে কেন যেতে হবে?

তুমি তোমার সৈন্যদের বলো!

আমার প্রিয় সাবরিনা, আমাদের রাজ্যের সৈন্যরা...

দুষ্টু পরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত সাহসী না, ওরা অনেক ভীতু।

মন খারাপ করো না, সাবরিনা। তোমার বাবা আমাদের জন্য যুদ্ধ করবে!

আমরা দোয়া করি যেন উনি সুস্থ -সবল ভাবে বাড়ি ফিরতে পারে।

সময় বয়ে গেল, অবশেষে রাজা বাড়ি ফিরে এলেন, আর সাবরিনার জন্য কিছু নিয়ে আসলেন।

বাবা, আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম।

তুমি কেন আমার জন্য দুষ্টু পরী নিয়ে আসছো?

সাবরিনা, ও কোন দুষ্টু পরী নয়, ও অনেক ভালো পরী!

আমরাই আসল শয়তান, কারন আমরা অন্যদের নিয়ে চিন্তা করি না।

আমরা ভুলে গেছি যে, আমাদের জন্যও কেউ চিন্তা করে।

আমরা অহংকারী, এজন্য সবাই আমাদের ঘৃণা করে।

আমাদের অন্যদের নিয়ে চিন্তা করতে হবে, যেন সবাই মাদানিয়া রাজ্যকে অনেক সম্মান করে।

বাবা!

- তুমি উঠেছ কেন, রাজকুমারী? - তুমি চলে যাচ্ছো?

আমি...

তুমি আর মা যদি ঝগড়া করো, আমি কখনো ছোট্ট রাজকুমার পাবো না।

নাদিয়া!

আমরা ঝগড়া করছি না।

নাদিয়া, আজ রাতে বাবা কোথাও যাচ্ছে না।

সে এখানেই থাকবে তার রাজকুমারীকে সঙ্গ দিতে।

এটা কি সত্য?

হ্যাঁ, সোনা।

আমি কোথাও যাচ্ছি না।

অবশেষে, রাজা কোথাও যাচ্ছে না।

ভেতরে আসো।

ঠিক আছে।

আসসালামু আলাইকুম।

ওয়ালাইকুম আস সালাম।

তোমাকে বিরক্ত করার জন্য দুখিঃত, আরিনি।

তোমরা এখানে কেন? আমাকে ব্যাখ্যা করতে...

কেন তোমরা দু'জন প্রাস এর বিয়ের ছবিতে ছিলে?

রিন, আমরা এখানে আমাদের নিজের ইচ্ছেতে এসেছি।

আর আমি জানি, তুমি এখন আমাদের পছন্দ করো না।

কিন্তু দয়া করে একটা জিনিস মনে রেখো,

প্রাস কখনো তোমাকে আঘাত করতে চায় নি।

চায়নি। ও শুধু মেয়েটাকে সাহায্য করতে চেয়েছে।

যেন তার জীবনটা ধ্বংস না হয়, যেন সে বাঁচার নতুন আশা পায়!

যেন আকবরের জীবনটা ওর মত না হয়!

সে শুধু ভাবে, কিভাবে এই পৃথিবীটাকে...

...তার নিজের পরিস্থিতির থেকে ভিন্ন করা যায়। আর আমার কাছে, এটা রূপকথার গল্পের মতো,

কিন্তু তুমি এবং প্রাস প্রমান করেছ...

...রূপকথাও মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, আর দিতে পারে আশা!

..আর মানুষকেও আত্মবিশ্বাসী করতে পারে!

আমি তোমার বন্ধু; আমি চাইনা তোমাদের রূপকথার শেষটা খারাপ ভাবে হোক!

তো তোমার এখানে আসার আসল উদ্দেশ্য আসলে কি?

তুমি চাও আমি ওই মহিলাকে ওর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মেনে নিই?

যদি আমাদের রূপকথা খরাপ ভাবে শেষ হয়...

ওকে, সেটা ওর ইচ্ছে।

কিন্তু আরিনি, আল্লাহ ধৈর্যেশীল এবং নিষ্ঠাবানদের জন্য পুরষ্কারের কথা বলেছেন।

যেন পরকালে, তুমি পুলসিরাত পার হতে পারো...

...অতিসহজেই এবং দ্রুততার সাথে।

যেন তুমি, আমি এবং হারতেনো এর থেকে দ্রুত জান্নাতে যেতে পারো।

তুমি যে জান্নাতের বর্ণনা দিচ্ছ, অনেক সুন্দর।

কিন্তু আমি দুখিঃত, ওটা সেই জন্নাত নয় যেটার প্রত্যাশা আমি করছি!

প্রাসের এত ভালো বন্ধু হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

স্বাগতম।

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

প্রাস, সবসময় মনে রাখবে,

যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার হৃদয়ে আল্লাহ আছেন,

তুমি কখনো বিপদে পরবে না।

অতএব, পড়তে থাকো, পুত্র!

- আসসালামু আলাইকুম, মেই। - ওয়ালাইকুম আস সালাম, কোথায় আছো তুমি?

অফিসে!

মেই, আমি তোমার বাড়িতে আসতে চাই।

তোমার সাথে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই।

ঠিক আছে, আমি অপেক্ষা করছি।

মা, যখন শুনলে বাবা আরেকজন মেয়েকে বিয়ে করেছে, কেমন লেগেছিল তখন?

ক্ষোভ, রাগ, হতাশা

ঠিক তোমার মতো!

তোমার কর্মফল তুমি বইতে পারবে?

তোমার কারনে,

তুমি নিজেকে নিজে কষ্ট দিয়েছ!

আমি জানিনা কি হতো, যদি আমি অন্য কোন সিদ্ধান্ত নিতাম

যতক্ষণ তুমি সুস্থ -সবল আছো, আর কোন কিছুর অভাব নেই...

...অনেক কিঠিন কাজও সহজ লাগে।

আমি ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

আমি চাইনি তুমি বাবা/মা না থাকার কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠো।

তোমাকেও তোমার নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রিনি। কিন্তু তোমার সিদ্ধান্ত যেটাই হোক,

তুমি প্রাসের সাথে খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করবে, ঠিক আছে?

সময় শেষ হবার আগ পর্যন্ত, আকবর, তুমিই আমার রাজকুমার।

আর তুমি যেখানেই থাকো না কেন, আমি তোমার পাশে থাকবো।

দৌড়ান, ম্যাডাম, দৌড়ান!

হ্যাঁ? হ্যালো? ওয়ালাইকুম আস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতাহু!

কে বলছেন?

আরিনি

আরিনি

আরিনি

আসতাগফিরুল্লাহ!

হায়, আল্লাহ!

সোনা, কিভাবে হলো এসব?

- আরিনি! - আমি, আমি আরিনি!

আমি এখানেই, তোমাকে আরও শক্ত হতে হবে। ধৈর্য রাখো।

তুমিই আমার একমাত্র সম্বল, আকবর।

যাই করিনা কেন আমরা, আসল কথা হলো পবিত্র হতে হবে।

পবিত্র মানুষ, তাদের হৃদয় থাকে পরিষ্কার কারন তারা আলোকিত।

তুমি আমাকে এটা পড়তে বলছো?

এভাবে তোমাকে বেশি সুন্দর লাগে।

যখন সিজদাহ্ করি, আমরা আমাদের সবকিছু আল্লাহর নিকট সপে দিই।

যেন আমরা অহংকারী না হই।

আমাদের শরীরের ৭টি অংশ মাটিতে স্পর্শ করতে হবে,

এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত।

কুনুই ভেতরের দিকে রাখো, সিজদাহ্ করার সময়...

উনিই আমার হিরো, হে, আল্লাহ!

ও আমাকে রক্ষা করেছে।

কিন্তু সে শুধুই আমার একার নয়!

আমি তাকে ভাগ করতে বাধ্য করেছি!

আল্লাহ, যদি আমি তোমাকে ভালো ভাবে জানতাম,

আমি কখনোই অন্য মেয়ের অশ্রুর উপর আমার সুখের প্রাসাদ গড়তাম না।

আমি কারো বোঝা হতে চাই না,

না প্রাস, না আরিনি, আর আমার নিজেরও!

আল্লাহ তুমিই আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছ। আমাকে সুরক্ষিত রাখো, রক্ষা করো আমাকে।

প্রাসকে রক্ষা করো, তাকে নিরাপদ রাখো।

আরিনি!

সদাকল্লাহুল আজিম। আলহামদুলিল্লাহ।

- আরিনি - প্রিয়

আমি দুখিঃত!

- আমি বোকা ছিলাম! - তুমি বোকা নও!

স্বার্থপর, আর তোমাকেও কষ্ট দিয়েছি।

কেউ ভুল ছিলনা! আর ক্ষমা করার মতোও কিছু নাই।

আমি এটা মন থেকে বলছি।

আমি এটা মন থেকে বলছি!

আরিনি!

আমি কি ভেতরে আসতে পারি?

প্লিজ আসো!

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

- ইনারা কি তোমার বাবা-মা? - হ্যাঁ

আমার বাবা আমাদের আমার ১২তম জন্মদিনে রেখে চলে যান, মা আত্মহত্যা করেন।

তখন থেকে, আমি একা একাই থেকেছি! ওকে, আমার পরিচারিকার সাথে।

ধন্যবাদ।

আমি বাড়িটা টিকিয়ে রাখতে অনেক কষ্ট করেছি!

ধন্যবাদ

তোমার বাবা এখন কোথায়?

সে এখন জাকার্তায়!

তার নতুন পরিবারের সাথে।

সে প্যারালাইজড।

তো, কি খবর?

ঠিক, আমি এখানে এসেছি...

কারন প্রাস তোমাকে এবং আকবর কে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছে।

আমি ওখানে যেতে পারিনা, আরিনি।

আমি তোমার এবং প্রাসের জীবনের মধ্যে যেতে পারিনা।

যা হবার হয়ে গেছে, মেই।

এখন আমাদের ভাবতে হবে, কিভাবে জীবনটাকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়।

আকবরের জন্য, নাদিয়ার জন্য।

- সামনে এগুবো? - হ্যাঁ, সামনে এগুবো। চলো পান করা যাক।

তুমি এসব কেন করছো?

জীবন একটি পরীক্ষাগার!

এটা আমার পছন্দ।

আসো মেই; চলো হাসপাতালে যাই, আর আকবরকে নিতে ভুলোনা যেন।

আমি অপেক্ষা করছি।

ঠিক আছে।

এবং অবশেষে রাজকুমারী সাবরিনা দুষ্টু পরীকে জড়িয়ে ধরলো।

আর সেই পরীটা ভালো হয়ে গেল।

তুমি তোমার মায়ের মতোই হয়েছ।

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

মেই, ভেতরে আসো।

- মা, এই হলো মেইরোজ। - মেইরোজ, আমার মা।

- লাস্ত্রী - মেইরোজ।

এই হলো লিয়া, সিতা, আমার বেস্টফ্রেন্ড।

- হাই, সিতা। - লিয়া।

প্রাসের বেস্টফ্রেন্ড।

আমরান।

নাদিয়া সোনা, মেই আন্টিকে হ্যালো বলো।

মেই আন্টি, এই হলো নাদিয়া। উনার হাতে চুমু খাও, সোনা।

কে তুমি?

আমি...

আজ থেকে, ও আমার ছোট বোন।

এই যে আকবর বাবু। তুমি ছোট্ট রাজকুমার এর দোয়া করেছিলে, তাইনা?

এখন তোমার একটা ছোট্ট ভাই আছে।

নাদিয়ার একটা ছোট্ট রাজকুমার আছে; আমি পরে একটা পুতুল বানিয়ে দিব।

দেখি, আমাকে একটু আকবরকে কোলে নিতে দাও। আকবর সোনামণি।

মনে হয় ওর তৃষ্ণা পেয়েছে।

অথবা গরম লেগেছে।

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

- তোমার হিজাব কোথায়? - দয়াকরে বসুন।

পিন কোথায়? তাড়াতাড়ি!

প্রাস, চলো শুরু করা যাক।

ওকে, এখন ভালো লাগছে।

আরিনি, তুমি প্রস্তুত?

আজকের রাতটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুখকর রাত,

আর আনন্দ আজকে রাতে প্রায় পরিপূর্ণ।

প্রথমত, আমি খুশী কারন, আমার ২য় বই রিলিজ হতে চলেছে।

দ্বিতীয়ত আমি খুশি,

কারন আমি আরেকবার নিষ্ঠা এবং ধৈর্যের অর্থ অনুধাবন করতে পেরেছি।

মানুষের তাদের নিজের ইচ্ছে আছে। কিন্তু এমন কোন মনুষ্য ইচ্ছে নেই...

...যা আল্লাহর ইচ্ছা কে হারাতে পারে।

ভাবুন এটা নিয়ে।

একজন মানুষ হিসেবে,

আমরা কি নিষ্ঠা ও আপন ইচ্ছার সহিত আল্লাহর ইচ্ছাকে মেনে নিচ্ছি, সেটা যাই হোক না কেন?

সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দেয়া আছে আমার দ্বিতীয় বইয়ে।

'স্টার প্যালেস'

দয়া করে উপরে যে বক্সটা আছে সেটা আনুন, এগুলো খালি হয়ে গেছে।

- সবগুলো? - সবগুলো, আমরা যেটা--

- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আস সালাম।

মেই! মেইকে আগে সাহায্য করো, সাবধানে, মেই।

তুমি বাচ্চাদের ক্যাবে করো আসছো কেন?

- ইয়াহ! - কেমন আছো তুমি?

- ভালো! - ভেতরে আসো।

গুডেগ! বাবার প্রিয়।

দেখি খাও, ছোট্ট রাজকুমার। যেন তুমি শক্তিশালী হতে পারো!

এখন ছোট্ট রাজকুমারীর খাবার সময়।

যেন তুমিও শক্তিশালী হতে পারো।

মেই আন্টি, আজকে রাতে এখানে থাকো, যেন আমি আকবর বাবুর সাথে খেলতে পারি।

যদি শুধু আকবর বাবু আজরাতে এখানে থাকে তাহলে কেমন হয়?

আমি বাড়িতে যাই, নাহলে আমার বাড়ির দেখাশোনা করবে কে?

না, আমি তোমাকে রাজকুমারী সাবরিনার গল্প বলতে চাই।

আমরা ওটা অনেকবার শুনেছি। তুমি এই গল্প অনেক কবার বলেছ।

এবার একটু আলাদা, রাজকুমারী সাবরিনা অনেক ভালো একজন পরীর সাথে বন্ধুত্ব করে।

তুমি থাকবে, তাইনা মেই আন্টি?

ঠিক আছে, এখন তুমি বসে খাও।

আমাদের খাওয়া শেষ হলে, আমি মেই আন্টির জন্য রুম ঠিক করে দিব।

কিন্তু তোমাকে আগে খাওয়া শেষ করতে হবে। আর নামাজ পড়তে ভুলে যেও না।

- খাওয়া শুরু করো, মেই। - ইয়াহ!

আমি জানিনা এসবকিছুতে আমি খুশি হবো নাকি দুঃখ পাবো!

সুখ এবং দুঃখ সবকিছু আল্লাহর নিকট থাকে, আর মানুষের উপর অর্পিত হয়।

দুটোই উপলব্ধি করতে হবে।

আমি জানিনা, কতটা শক্ত থাকতে পারবো আমি এই রূপকথার গল্পে!

সবশেষে, যদি সবাই আঘাত পায়,

আমিই সবার আগে সরে আসবো।

মেই

মেই

মেই, চলো ফজরের নামাজ একসাথে পড়ি।

মেই?

মেই!

মেই?

মেই?

মেই?

রিনি এবং প্রাস, আমি দুখিঃত, আমি বিদায় না জানিয়েই চলে যাচ্ছি।

দয়া করে আকবরের খেয়াল রেখো,

ওকে ভালবাসা দিও আর ভালোভাবে দেখাশোনা করো।

ওর যেটা দরকার এই মুহূর্তে আমি ওকে সেটা দিতে পারবো না।

কিন্তু আমি নিশ্চিত, তোমার হাতে, ও আল্লাহর পথেই থাকবে।

সোনা!

মেই!

আমাদের মেইকে বুঝিয়ে বলতে হবে, সম্ভবত সে ভুল বুঝেছে।

খালা! আমরা এখন বেরুচ্ছি!

দয়া করে নাদিয়া কে দেখে রেখো।

- এখানে কি মেই আসছে? - সে এইমাত্র ট্রেন স্টেশনের দিকে গেছে।

সে জাকর্তা যাচ্ছে।

- মেই - হানি!

- চলো বাড়িতে যাই। - তোমরা এখানে কেন?

- পাগলামি করো না! - আমি আর আগের সেই মেইরোজ নাই।

তোমাকে চলে যেতে হবে না। কেন?

- আমাকে বেছে নিতে হবে আর এটা আমার পছন্দ! - কিন্তু আরিনি...

আরিনি অলরেডি সবকিছু মেনে নিয়েছি।

আমরা দুজনেই জানি, এমন কোন মেয়ে নেই যে স্বেচ্ছায় সবকিছু ভাগ করতে চায়।

আমরা সবাই ত্যাগ শিকার করেছি।

আমি, তুমি, আরিনি। এমনকি নাদিয়া আর আকবরও।

আমি তোমাকে রক্ষা করার ওয়াদা করেছি।

তুমি একবার বলেছিলে, একজন ভালো মেয়ে একজন ভালো ছেলে কে খুঁজে পাবে।

আমি সেই মেয়ে হতে চাই।

হয়তো একদিন, আমি আরিনির মতো হতে পারবো। কিন্তু এখনকার জন্য, আমি...

মেই

হানি, তুমি আমাকে শক্ত বানিয়েছ।

সুতরাং, যদি আল্লাহ সেই মানুষটাকে নাও পাঠায়...

আমার নামাজ আর সকল ত্যাগ আমার জীবন আর আমার মৃত্যু

শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য, বিশ্ব জাহানের সৃষ্টিকর্তা।

আরিনি, সবকিছুর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

আমাকে ভুল হলে ক্ষমা করে দিও।

দয়া করে আকবরের খেয়াল রেখো। ওকে রক্ষা করো, ভালোবাসা দিও।

আমি জানি তুমি ওর একজন ভালো মা হবে।

- নিজের খেয়াল রেখো, মেই। - সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ।

- নিজের খেয়াল রেখো। - ঠিক আছে।

আজকে, আমি আমার গল্প দুঃখ দিয়ে শেষ করছি

অন্য আরেকটি মেয়ের গল্পকে সুখী সমাপ্তি দিতে।

কারন আমার কাছে, সুখ হলো যখন আমরা অন্যজনকে সুখী করতে পারি।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.