All language subtitles for virata-paravam

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

১৯৭৩ তেলেঙ্গানা গ্রামাঞ্চল - অন্ধ্রপ্রদেশ।

ভগবান!

ভগবান!

ভাই!

-কী সমস্যা? -পুলিশ আর নকশালবাদীদের গোলাগুলির মাঝে...

-আমরা ফেসে গেছি। -কী?!

হায় ভগবান! আমরা ফেসে গেছি।

-সুজাতা। -সুজাতা!

এখন হাসপাতালে কীভাবে যাই?

একটু সবুর করো, মা!

-ভাই, আপনি ঠিক হয়ে যাবেন। ভয় পাবেন না। -ভাই!

মেডিকেল কিটটা দে তো জলদি!

এই তো।

এখানে থাক। আমি ট্র্যাক্টরের লোকগুলোকে দেখে আসছি।

-আপা, এতে বিপদ আছে! -কিছু হবে না আমার। ওনাকে দেখ।

আপা, যেও না। আমার কথা শোনো।

তুমি পারবে।

ঠিক হয়ে যাবে তুমি।

ভয় পাবেন না। আমি একজন ডাক্তার। আমাকে একটু জায়গা দিন। আমি সামলে নিচ্ছি।

ঠিক হয়ে যাবে তুমি।

শক্ত থাকো।

চিন্তা করবেন না। কিছু হবে না আপনার।

শক্ত থাকুন।

একটু জোরে পুশ করুন।

আমার স্ত্রী আর বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য জানি না কীভাবে ধন্যবাদ দিব আপনাকে।

রীতিনীতি সম্পন্ন করুন আর আমাদের সন্তানের নাম দিন।

ভেনেলা।

লাল সালাম!

একটা যুদ্ধ অনেক প্রাণ কেড়ে নেয়…

কিন্তু আমার প্রাণ একটা যুদ্ধই দিয়েছে।

আমি ভেনেলা। গল্পটা আমার।

এই, জলদি করো। মালিক যেকোনো সময় চলে আসবে।

ভেনেলা!

পুতুল রেখে গিয়ে পড়, যা!

তুই কি পড়াশোনা বাদ দিয়ে ভেড়া চড়িয়ে জীবন কাটাবি?

আর কত বলব তোকে? দে পুতুলটা!

এখন যা পড়।

ভেনেলা! হায় ভগবান! আমার মেয়ে!

মাল্লান্না! ইয়াদান্না!

আমার মেয়ে কুয়োতে পড়ে গেছে।

পুতুলের জন্য কোন মেয়ে কুয়োতে লাফ দেয়?

কেউ বাঁচাও ওকে! ভেনেলা!

ভেনেলা!

মেয়ে আমার!

-কী হয়েছে, সুজাতা? -ভেনেলা!

-কী হয়েছে? -হায় ভগবান!

ভেনেলা, চোখ খোল। দেখ তোর মা এখানে। চোখ খোল ভেনেলা।

ওর পুতুলের জন্য কুয়োতে লাফ দিয়েছে।

-চোখ খুলে দেখ। -আমার মেয়ে!

-দোহাই লাগে চোখ খোল! -মা!

-তোর কিছু হতে দিব না আমি। -ওঠ।

-কিছু হবে না তোর। -ভেনেলা, চোখ খুলে দেখ আমায়।

সুজাতা, ওকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করো।

-আহা! ওঠ মা। -মেয়েটা আমার।

-ভগবান! এই মেয়ে এত জেদী কেন? -ওঠ মা!

আমার মেয়ে।

এই নে ভেনেলা। এই যে তোর পুতুল।

আমার মায়ের নিয়মকানুন আমাকে জেদী বানিয়েছে।

আর আমার বাবার কবিতা আমায় জীবনমুখী শিক্ষা দিয়েছে।

Turn your wishes into your wings

And you can soar to the sky

Turn your wishes into your wings

And you can soar to the sky

If your determination becomes your breath

You can swim against any tide

If your determination becomes your breath

You can swim against any tide

A wish made from The bottom of your heart

Will always pave a way to its fulfillment

Turn your wishes into your wings

And you can soar to the sky

সবার জীবনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিন রয়েছে।

এক, যেদিন তুমি জন্ম নিয়েছিলে সেদিন। আর দুই, সেইদিন, যেদিন তুমি বুঝবে তোমার জন্ম কেন হয়েছে।

Turn your wishes into your wings And you can soar to the sky

কাল রাতে আমার ভাই একটা কবিতার বই এনেছে।

পড়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু একটা শব্দও বুঝিনি।

কলেজে লেকচারের সময়ই তুই ঘুমিয়ে পড়িস,

আর তুই কি না নিজে নিজে কবিতা পড়বি?

সত্যি বলতে, ঐ লেকচারগুলোও বইটার কবিতার চেয়ে ভালো।

কেন? তেলুগুতে লেখা নেই?

-তেলুগুতেই লেখা। -তাহলে সমস্যা কী?

তাহলে বুঝতে কঠিন হবে কেন?

আচ্ছা, তোর জন্য তো সহজ কারণ তোর বাবা...

তোর পুরো শৈশব তোকে কবিতা শুনিয়েই কাটিয়েছে।

যাক গে, কী হয়েছে সেটা বল।

বইটার শব্দগুলো বেশ কৌতূহলোদ্দীপক ছিল।

-আচ্ছা। -এত বড় শব্দ কখনো পড়িনি।

-আচ্ছা। -যখন আমি পড়ছিলাম...

আমার বাবা ভেতরে এসে তো উন্মত্ত হয়ে গেলেন।

সম্ভবত আমাদের প্রতিবেশির ছেলে এই ধরণের বই পড়ে নকশালবাদীদের সাথে যোগ দিয়েছে।

-আচ্ছা। -আচ্ছা।

ব্যস, উনি তৎক্ষণাৎ বইটা ছুড়ে ফেললেন আর...

আমার ভাইকে মারলেন।

আমার মা বাধা দিতে চাইলে উনি তাকেও মারধর করে।

বেচারি। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন।

আহারে!

এই একটা বই এত সমস্যা সৃষ্টি করেছে? সত্যি?

হ্যাঁ!

ভেনেলা, কী ভাবছিস তুই?

ভাবছি যে, বইটাতে কী থাকতে পারে।

ভগবানই জানে। কিন্তু কাল সন্ধ্যায় তো এটা বাসায় ঝড় তুলে দিয়েছিল।

-এই আয় চল। -কোথায়?

ঐ বইটা এখনই পড়তে চাই।

ভাইয়া ওঠো।

অরণ্য

দুর্বলের ওপর শোষণ কবে শেষ হবে?

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙবে কবে?

মাঠে কাজ করা শ্রমিকের রক্ত চুষে অর্থলাভ করছে।

এই লুটপাট কবে শেষ হবে?

মেঘ গর্জন

নারীর পায়ে বেড়ী বাধানো অমানবিক।

এই বর্বরতার শেষ কবে হবে?

সারাজীবনের পালের ভেড়ার মতো থেকো না।

এই অন্তহীন যুদ্ধে কবে অংশ নিবে?

কে তুচ্ছ ছোট, আর কে-ই বা অর্থপূর্ণ মহৎ?

কে রাজা হওয়ার যোগ্য?

কমিউনিজমের শাসন কবে এই ভূমিতে প্রতিষ্ঠা পাবে?"

নকশাল কমান্ডার রাভান্নার ছদ্মনাম অরণ্য,

জানিস না?

মোটেও জানতাম না।

অবিশ্বাস্য! সত্যি বলছিস?

হ্যাঁ, সত্যি বলছি।

কিন্তু তার কবিতা আমাকে পুরোদস্তুর অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যায়।

দেখলে, জানতাম ও বুঝবে। তাই ওকে বইটা পড়তে দিয়েছি আমি।

রাভান্নার লেখা এরকমই শক্তিশালী।

আমাদের তো মাথা ঘুরে গিয়েছিল যখন আমরা এটা প্রথমবার দেখেছিলাম।

আমাকে আরও কিছু বই দিতে পারবেন?

অবশ্যই। কিন্তু এসব তোকে গোপন রাখতে হবে।

এসব বই নিষিদ্ধ।

পুলিশ এসবের ব্যাপারে জানতে পারলে আমরা সবাই জেলে যাব।

কাউকে বলিস না।

বলব না। কথা দিলাম।

রাতে সবাই ঘুমোলে তখন পড়ব আমি।

ঠিক আছে, সন্ধ্যায় ওগুলো তোর কাছে পাঠিয়ে দিব।

কখনো বদলাবে না!

লুটেরা আর ডাকাতদের এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

আমাদের লড়াই এই তেজী শত্রুর বিরুদ্ধে।

Let's go! March ahead!

Let each stride resonate like thunder

and highlight the strength of your heart!

Let's go! March ahead!

Remember those martyred at Srikakulam!

Let's reclaim and return the lands stolen from the people to the people!

Let's go! March ahead!

Like a lock on the landlord's door, like a dog before his fortress!

How long? How much longer? When would our lives change?

Fight to protect the honor of women!

Fight to uphold the self-esteem of the Dalit!

Battle for a morsel of food to appease the hunger!

The struggle of farmers!

How long? How much longer?

Shall we bring in a new world

that brings equality among castes and religions?

-Let's do it! -Let's do it!

To usher in the dawn in the whole universe, shall we sacrifice our lives?

-Let's do it! -Let's do it!

Let's go! March ahead!

Can't you see the distressed moon?

Can't you hear the spark of the agony?

Look at the overflowing blood of martyrs…

that inspired the revolutionary songs!

The red jasmine glow across the sky.

The clouds of spring became the roar of the jungle.

The final battle!

The victory of the revolutionary!

Behold the red flag!

Sing the invincible anthem!

There… you see the red light!

He is the proud son of the revolution.

He is the proud son of the revolution.

He is the proud son of the revolution."

আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি।

আপনার কাব্য আমার হৃদয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু জানি না আপনার প্রতি এই অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করব।

আমি এখনই আপনার সাথে দেখা করতে চাই।

-বাবা! -হ্যাঁ, মা।

মামা আর ওনার পরিবার এসেছে। মা কোথায়?

-রান্নাঘরে মনে হয়। -মা!

অবশেষে আমাদের মনে করলে, ভাইটি আমার?! তিন বছর হয়ে গেছে।

বোনালু উৎসবের জন্য এসেছো বলে খুশি হবো?

বকাবকি বাদ দাও। তারা এসেছে, খুশি হও।

ভেনেলাকে আমার পুত্রবধু বানিয়ে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এসেছি।

-যদি শুধু তোমরাই আমাদের ভালোবাসো-- -মা, থামো তো।

ওনারা এসেছে বলে খুশি হতে পারছো না কেন?

আমি বকাবকি করছি না।

যা গিয়ে তোর মামাতো ভাইকে হাতমুখ ধুতে সাহায্য কর।

ব্রণগুলো তো দেখো। ঝগড়া আছে না কি ওদের সাথে?

-তেমন কিছু না। -আচ্ছা।

বান্ধবীদের মতো বাইরে বেশি ঘুরবে না। ত্বকের বারোটা বেজে যাবে।

এই ক্রিমটা নাও কিন্তু কাউকে বোলো না। আমার সাথে ঠাট্টা শুরু করে দিবে।

ঠিক আছে।

-আশা করি পড়ালেখাতে মন দিচ্ছো তুমি। -জি দিচ্ছি।

ভালোভাবে পড়ো, তোমার...

সরকারি চাকরি আমি নিশ্চিত করব।

তারপর আমাদের জীবন সেট হয়ে যাবে।

দয়া করে এই বইয়ের লেখককে খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।

সত্যিই তার সাথে দেখা করতে চাই আমি।

আমার এই ইচ্ছা পূরণ করলে আমি বিশেষ অর্ঘ্যের ব্যবস্থা করব।

সবাই পিছাও।

-এই সর। শালা নীচ। -ভাগ!

-এই, তোকে আলাদা করে বলতে হবে? -সর!

তোরা গ্রামবাসীরা ভেবেছিস জমিদারের ফসল চুরি করে...

...উৎসব পালন করতে পারবি?!

কোনাপুরামের লুটে কে কে ছিল তোদের?

বল!

আমাদের জিজ্ঞেস করছেন কেন? কোনাপুরাম গ্রামের লোকেদের জিজ্ঞেস করুন।

-এই তুই চুপ কর। -বলতে দেন আব্বা।

আমরা এই উৎসব আমাদের কষ্টে অর্জিত--

স্যার, দয়া করে...

স্যার, দয়া করে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না এখন।

কাল এটার সমাধান করি।

এই যে, এই ছাগলটা নিন।

তোর সাহস কী করে হয় আমাকে ঘুষ দেয়ার?!

এ আবার কেমন কথা?

আপনাদের কাছে প্রমাণ আছে যে, আমরাই দোষী?

লুটের দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে বলেন আমরা নকশালদের খাওয়াচ্ছি, আশ্রয় দিচ্ছি।

ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো কি অপরাধ? বলুন স্যার।

এত আস্পর্ধা?

-স্যার, মাফ করে দিন তাকে। -ছেড়ে দিন স্যার।

ধর ওকে!

-স্যার, মাফ করে দিন তাকে। -স্যার।

সবাই কান খুলে আমার কথা শোন।

নকশালদের সাহায্য করার কোনো ইঙ্গিতও যদি পাই,

তাহলে TADA আইনে...

সবকটাকে গ্রেফতার করব।

আর সবকটাকে এনকাউন্টারে মারতে এক পা-ও পেছাবো না।

ভেনেলা, পুলিশরা তোর বাবাকে মারছে।

পুলিশ বলে তারা ভাবে যে, আমাদের চাইলেই মারতে পারে।

-ন্যায়বিচার কোথায়? -বাবা, কী হয়েছে?

-পুলিশ! -পুলিশ মেরেছে ওনাকে।

-মা! -থাম মা!

-মা! -শালা জারজ কোথাকার!

থাম মা।

শান্ত হ মা।

কী বললি?

বল।

বল।

জারজ বলেছি তোকে।

ক্ষমতা আছে এর মানে এই না যে সেটাকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করবি।

-মা-- -মা থামো তো।

আমাকে চিনিস না তুই।

পুলিশ বলে ভেবেছিস ছাড় পেয়ে যাবি?

কী ভাবিস অন্যকে মারা তোর জন্মগত অধিকার?

-স্যার, মারবেন না স্যার। -তোকে

ধর তাকে!

স্যার, মারবেন না ওকে।

মা!

মা!

রাভান্না দল এসে পড়েছে!

ভয় পাবেন না। আপনাদের বাঁচাতে এসেছি আমরা।

যতবারই এদের নির্মমতার ওপর প্রশ্ন তুলবেন ততবারই এরা আপনাদের হুমকি দিবে।

TADA আইন আর এনকাউন্টারের নামে নির্দোষদের ওপর অত্যাচার করবে এরা।

ভোটের নামে আপনাদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে।

সবসময় মনে রাখবেন আমরা সাম্য আর মর্যাদার জন্য কাজ করছি।

আমার নাম ভেনেলা। এই বইটায় স্বাক্ষর করে দিবেন?

Flowers bloomed at the tip of a branch

The flowers shied away like a young damsel

And transformed into a bud

My mind has awoken

As I saw

The one, who filled my dreams

If he appears before my eyes

I am sure I will not sleep For a hundred years

My mind awoke

And saw

The one, who filled my dreams

If he appears before my eyes

I am sure I will not sleep For a hundred years

I am searching

For love

I will wear the man's words

As my bangles

And adorn myself with the dust Of his feet as vermilion on my forehead

I shall braid his looks in my hair

I shall sport his mischief As black beads around my neck

These unceasing thoughts of him

-Will adorn my neck as my mangalsutra -Hey!

Oh, dear

My mind awoke and saw

The one, who filled my dreams

If he appears before my eyes

I am sure I will not sleep For a hundred years

বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ুক।

প্রিয় অর‌ণ্য!

তোমার প্রেমে পড়ে নিজেকে লালরঙা প্রজাপতি মনে হয় আমার।

আমার মন যে মোহের জাদুতে ঢাকা পড়েছে।

প্রেম এতটা শক্তিশালী হয় জানতাম না।

ভালোবাসার শক্তি স্বর্গ, পৃথিবী এমনকি…

-ঈশ্বরকেও ছাড়িয়ে যায়। -জি।

আর কৃষ্ণের প্রতি মীরাবাঈয়ের ভালোবাসা এরই প্রমাণ।

মীরাবাঈ বুঝতে পেরেছিল যে সময় বইতেই থাকবে,

দিন রাতে পরিণত হবে, আর সে-ও বড়ো হবে।

-কিন্তু তার ভালোবাসা অপরিবর্তিতই থেকে যাবে। -হ্যাঁ।

আর তাই, সে ঘর ছেড়ে তার ভালোবাসা...

আর ভক্তির বস্তুকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে।

যতদিন পৃথিবী সুর্যের চারিদিকে ঘুরবে...

আর চাঁদ তারা আকাশে আলো ছড়াবে।

ততদিন মীরাবাঈয়ের ভালোবাসার সাক্ষ্য দিবে তারা।

বাবা...

হ্যাঁ, মা।

কৃষ্ণের জন্য মা-বাবাকে ছেড়ে যাওয়া কি মীরাবাঈয়ের ভুল ছিল না?

এতে ভুলের কী আছে, মা?

খারাপ কিছু করতে সে তার বাড়ি ছাড়েনি।

প্রেমে স্বার্থে সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভালোবাসার চেয়ে মহৎ কিছু আছে পৃথিবীতে?

সত্যিকারের ভালোবাসা ভগবানের নৈকট্য পাওয়ার ন্যায়।

তো বলো রামুলু,

মেয়ের বিয়ের জন্য তুমি...

কত টাকা যৌতুক দিবে?

ভাই, আপনি আমাদের ব্যাপারে সবই জানেন।

ভেনেলা আমাদের একমাত্র মেয়ে।

দু একর আবাদি জমি আছে।

এই বাড়ি আর এর আশেপাশের জায়গা।

এসবের সবই ওর।

বাকি সব ঠিক থাকলে বিয়েটা দারুণ হবে।

আশেপাশের চল্লিশ গ্রামের আত্মীয়দের ডাকব আমরা।

আর সবকিছু যাতে ঠিকঠাক হয় তা নিশ্চিত করব।

পুরোহিত মশাই, বিয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো দিনটা খুঁজুন।

নিশ্চয়ই।

রাশিফল অনুসারে একটা শুভ দিন আছে।

সামনের মাসের শুক্রবারে তারা বিয়ে করতে পারবে।

-কী ওটা? -চিন্তা কোরো না। তুমি গেলেই ওতে তালা মেরে দিব।

-ঠিক আছে। -ওদেরকে আমাদের সাথে নিয়ে যাব।

-কেমন হয়েছে? -দারুণ।

এই মেয়ে এত অসভ্য হয় কী করে?

শ্বশুর শাশুড়িকে নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। ভেনেলা।

দরজা খোল ভেনেলা।

ভেতরে কী করছিস?

মা, তোর শ্বশুর শাশুড়িরা বের হবে।

অন্তত বিদায় দেয়ার জন্য বের হ।

মা, যাওয়ার আগে একবার দেখা কর।

কিছু মনে করবেন না। সারারাত পড়েছিল ও।

-ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো। -ঘুমাক ও।

আমরা তো এমনিতেও শুক্রবার আসব। তখন দেখতে পারব ওকে।

যাওয়ার আগে ওকে একবার দেখতে চাচ্ছিলাম।

আবার তো আসবই। চলো এখন।

-মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। -চলো।

যতক্ষণ না যাচ্ছি তুমি বকবক করতেই থাকবে।

চলো চলো।

নাও চলো।

আচ্ছা আসি।

-বৃষ্টি আসবে, চলো। -দেখা হবে।

-আচ্ছা। -খেয়াল রেখো।

এসব কী? তারা যাওয়া মাত্র বেরিয়ে এলি।

এতক্ষণ কী করছিলি?

কী হয়েছে মা?

এরকম করতে পারলি কীভাবে?

ভাগ্যিস তারা আমাদের আত্মীয়, নয়তো তারা কী ভাবত?

বল মা, কিছু হয়েছে?

এই বিয়েতে আমি খুশি নই।

মানে?

আমি এই বিয়ে করতে চাই না।

তুমি বিয়ে করতে চাও না...

না কি তাকে বিয়ে করতে চাও না?

তাকে বিয়ে করতে চাই না আমি।

তোমরা যখন ছোট ছিলে তখন থেকেই বিয়ে ঠিক করা ছিল।

এখন এসব কীভাবে বলতে পারলে?

এখন নয়তো কখন বলতে বলছেন?

বিয়ের পর?

এই, চাচার সাথে ওভাবে কথা বলার সাহস কোথ্থেকে আসলো?

সুজাতা, শান্ত হও।

আমার মনে হয় না ভুল কিছু বলেছি আমি।

এসব বলতে এত সময় নিলি কেন তুই?

-সুজাতা-- -এই শেষ সময়ে!

-ঘোড়ার ঘাস কাটছিলি-- -হ্যাঁ, সেটাই করছিলাম।

-এত দেমাগ! -সুজাতা, শান্ত হও।

থামো সুজাতা।

-ভগবান! -ওঠো, সুজাতা।

বিশ্বাস হচ্ছে না তুই এত বদলে গেছিস।

ওর সাথে কথা বলার কোনো মানে নেই। ঝাড়ুটা দাও তো।

-এই নাও, ধরো, মারো আমাকে। -আরে কী করছো? থামো।

-দাও আমাকে ওটা! -শান্ত হও। আমি কথা বলছি ওর সাথে।

ভেনেলা, সব ঠিকঠাক হওয়ার পর...

কীভাবে এই বিয়ে বন্ধ করি?

-একটু বুদ্ধি দাও ওর মাথায়। -থামো তো।

এখন বিয়ে বাতিল করলে আমরা উপহাসের বস্তু হয়ে যাব।

সবার প্রশ্নের জবাব কে দিবে? তুই? তোর বাবা? তোর দাদা?

দরকার নেই। আমি নিজে বলব ওদের।

-থাম মা। -করছে কী ও?

-মাথা গেছে না কি ওর? -মা!

থাম মা।

থাম!

ভাই!

ভাই!

ভাই!

ভাই!

কী হয়েছে, ভেনেলা?

আমি বিয়ে করতে চাই না।

আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।

এটা বলার জন্যই ছুটে এসেছি আমি।

এই ভেনেলা!

-এই থামো! -এসব কী?

-কোথায় যাচ্ছো? -ওকে বলে কয়ে রাজি করাতে দাও।

ভেনেলা...

এভাবেই সব শেষ করতে চাও তুমি? ছোটবেলা থেকেই আমরা দুজনকে ভালোবাসি।

-বলো। -আমার সত্যিই তোমাকে ভালো লাগে।

এটাই বুঝিয়েছি আমি।

তোমাকে অনেক ভালো লাগে আমার।

কিন্তু আমি যাকে ভালোবাসি তার জন্য মরতেও পারি আমি।

কে সে?

অরণ্য ওরফে রাভান্না, নকশাল কমান্ডার।

-রাভান্না? -হ্যাঁ।

সত্যি বলছো? রাভান্নাকে ভালোবাসো তুমি?!

-হ্যাঁ। -রাভান্না কেন?

দুনিয়াকে বলবে যে, তোমার স্বামী মস্ত নকশালবাদী এজন্য?

বলো, আসল কারণটা কী?

জীবনের সবকিছুর কারণ থাকে না।

শুধু পরিণতি থাকে, ব্যস।

দোষ তোমার না, তোমার বাবার।

কবিতা আর বই দিয়ে তোমাকে বিগড়ে ফেলেছে।

কী ভেবেছো রাভান্না তোমার ভালোবাসার প্রতিদান দিবে?

তা হবে না।

শোনো, এসো বিয়ে করে বাচ্চা-কাচ্চা পালি।

আরামসে খুশি খুশি জীবন কাটাই। রানির মতো রাখব তোমাকে।

না।

সে আমাকে ভালোবাসুক বা না বাসুক...

আমি তাকে ভালোবাসব।

স্যরি।

বিপ্লবী সালাম কমরেড ভেনেলা-অরণ্যের প্রতি।

ভীরাসাম।

কবিতা ওঠ।

কী হয়েছে বাবা?

রামুলু কাকা এসেছে।

ভেনেলাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

-ভেনেলা আসলেই হারিয়ে গেছে? -হ্যাঁ, মা।

সকাল থেকে দেখছি না ওকে।

ঠিক আছে, চিন্তা করবেন না। গিয়ে বান্ধবীদের বাসায় খোঁজ করছি।

-ততক্ষণে আমি অন্য কোথাও খোঁজ করছি। -ঠিক আছে।

ভেনেলাকে দেখেছেন?

না, মা।

কোথায় যাবে ও?

প্রিয় বাবা, আমাকে ক্ষমা করে দিও।

অরণ্যকে দেখার পর আমি আমার জন্মের কারণ উপলব্ধি করতে পেরেছি।

জাম্মিকুন্টা

বুদ্ধ যেমন জীবনের উদ্দেশ্যের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল…

তেমন আমিও অরণ্যর জন্য ঘর ছাড়ছি।

ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দয়া করে আমাকে খুঁজবে না।

কোনো একদিন ফিরে আসব আমি।

মা এসবের কিছুই বুঝবে না। তাকে এসব পরে বুঝিয়ে দিবে।

ট্রাঙ্ক থেকে ২০০ টাকা নিয়েছি আমি।

জুঁইয়ের গাছে পানি দিতে ভুলো না।

করিমনগর। তেলেঙ্গানা-অন্ধ্রপ্রদেশ।

এমজি রোড যেতে কত নিবেন?

তিন টাকা। ওঠো, বসো মা।

এই নিন!

মাফ করবেন, ভীরাসাম অফিস কোথায়?

-কী? -ভীরাসাম অফিস?

-ভীরাসাম অফিস? -জি।

ওখানে একদল লোক থানার সামনে বিক্ষোভ করছে, ওখানে জিজ্ঞেস করো।

-পুলিশি বর্বরতা বন্ধ করো! -পুলিশি বর্বরতা বন্ধ করো!

ভাই, ভীরাসাম অফিস কোথায়?

ঐ যে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উনি হলেন বিদ্যাধারা রাও।

উনি নিজ বাড়ি থেকে ভীরাসাম চালায় ওনার সাথে দেখা করো।

-মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ! -মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ!

শ্রীমতি শকুন্তলা জেল থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নড়ব না।

এ রাজ্য কীসের রাজ্য?

-চোরের রাজ্য চোরের রাজ্য! -শোষণের রাজ্য শোষণের রাজ্য!

-শ্রীমতি শকুন্তলার মুক্তি চাই! -মুক্তি চাই, মুক্তি চাই!

-শ্রীমতি শকুন্তলার মুক্তি চাই! -মুক্তি চাই, মুক্তি চাই!

-মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ! -মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ!

পুলিশ কবে আপনাকে গ্রেফতার করেছে?

ম্যাডাম, আপনাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে কিছু বলবেন?

আস্তার গুন্ডার মতো,

পুলিশ জোর করে আমাকে গাড়িতে তুলে আটক করে।

যারা মানবাধিকারের জন্য লড়ে তাদের দমানোর জন্য রাজ্য...

নিখোঁজ হওয়া নামে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।

দাজ্ঞু ইলাইয়া, জীবন রেড্ডি, বেঞ্জামিন,

সুরিয়াদেভারা ভারাপ্রসাদ... তারা কোথায় হারিয়ে গেছে?

যদি আপনারা আমার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করতেন,

তাহলে সেই তালিকায় আমারও নাম থাকত।

কিন্তু কর্মীদের কেউই এতে করে দমে যাবে না।

মানবাধিকারের জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে।

ধন্যবাদ।

-মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ! -ম্যাডাম, পুলিশ কি আপনার প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে?

-মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ! -মানবাধিকার আন্দোলন জিন্দাবাদ!

-তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লো কীভাবে? -স্যার...

-থামো! -স্যার!

স্যার, শকুন্তলা ম্যাডামকে গ্রেফতার করেছিলেন কেন?

আর রাজ্যে চলমান নাগরিক অধিকার আন্দোলনে বাধা দিচ্ছেন কেন?

কর্মীদের মতো পুলিশও জনগণের কথা ভাবে।

আইন-শৃঙ্খলা বজায় আছে কি না তা নিশ্চিত করতেই আমরা আছি।

মিথ্যা আরোপ করব না কারও প্রতি।

শ্রীমতি শকুন্তলাকে নিয়ে আসা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

এখন সেটা হয়ে গেছে। তাকে ছেড়ে দিয়েছি। এটুকুই।

বিক্ষোভের কোনো দরকারই নেই আসলে।

এসব পাগলামোর মানে বুঝি না আমি।

-স্যার, আরেকটা প্রশ্ন স্যার। -স্যার।

-এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব কে দিয়েছে? -ভীরাসাম সেক্রেটারি, বিদ্যাধারা রাও।

-তার ফাইল আছে আমাদের কাছে? -জি স্যার।

-কাকে খুঁজছো? -বিদ্যাধারা রাও।

ভেতরে আছেন উনি। যেতে পারো।

নমস্কার স্যার।

নমস্কার। কে তুমি? কোথা থেকে এসেছো?

আমি ভেনেলা। ঘানপুর থেকে এসেছি।

জাফর ঘাটের মন্ডল না?

না স্যার। মুলুগু মন্ডল।

-বেশ বেশ। এসো বোসো। -সমস্যা নেই স্যার।

রাভান্নার ঠিকানা লাগবে আমার।

এখানে এসেছি কারণ আমার ভাবনা আপনার কাছে ওনার ঠিকানা আছে।

রাভান্না? আচ্ছা আসো বসো আগে।

কোন রাভান্নার কথা বলছো তুমি?

দলনেতা, স্যার। উনি...

অরণ্য নামে এই বই লিখেছে।

ওনার ঠিকানাটা দিতে পারবেন স্যার?

ঠিকানা?

ও ঠিকানা চাইছে কেন?

তুমি এমনভাবে ঠিকানা চাইছো যেন এটা কোনো বাস স্টপের ঠিকানা।

স্যার, আমাকে ভুল বুঝবেন না।

আমি শুধু এটা জানতে চাই তাকে কোথায় পাব আমি।

তার ঠিকানা সম্পর্কে হালকা ধারণা দিলেও চলবে স্যার।

তা কীভাবে জানব মা?

আপনি না জানলে কে জানবে স্যার?

একটা কথা বলো।

এখানে কে পাঠিয়েছে তোমাকে?

দয়া করে ভুল বুঝবেন না স্যার। আমি অসাধু কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আসিনি এখানে।

ঠিকানাটা এই বইয়ে দেখেছিলাম আর ভেবেছিলাম আপনি তাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন।

আগে বলা উচিত ছিল তোমার।

নাম কী তোমার?

ভেনেলা, স্যার।

ভেনেলা, গ্রামের কোনো সমস্যা সমাধানে তোমার কোনো সাহায্য লাগবে?

তাহলে, তোমার বাবা-মা তোমাকে এমন কারও সাথে বিয়ে দিতে চাইছে যাকে তুমি পছন্দ করো না?

বলো তোমার সমস্যা কী?

সমাধান করে দিব আমরা।

আমি রাভান্নাকে ভালোবাসি স্যার।

জি স্যার। তাকে আমি পুরো হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি।

শোনো, পুলিশ আর নকশালদের মাঝে এখন অনেক ঝামেলা বিরাজমান।

পুলিশ যদি জানতে পারে যে তুমি রাভান্নার খোঁজ করছো, তাহলে তোমাকে গ্রেফতার করবে তারা।

এসব বালছাল চিন্তাভাবনা ঝেড়ে ফেলো মাথা থেকে।

আজ রাত এখানে ঘুমিয়ে কাল সকালে গ্রামে চলে যেও।

আমার মনে হয় ওনার সাথে দেখা না করলে আমি মরে যাব।

মাথা গেছে তোমার?

শোনো! সত্যিকারের ভালোবাসা বলে কিছু নেই।

সত্যি বলতে, ভালোবাসা একটা মিথ্যে মাত্র।

তাকে ভুলে গিয়ে নিজের জীবন পড়াশোনা আর পরিবারে মনোযোগ দাও।

এই!

এই থামো!

-ক্রান্তি! -জি, মা?

মেয়েটা দেয়ালে কিছু লিখছে।

তোর বাবাকে বল দেখতে কী লিখছে সে।

যে বোঝেই না প্রেম ভালোবাসা কী সে মৃতের মতো।

কোথায় গেল সে?

বিদ্যাধারা সাহেব, আমিও আপনাকে মৃতের মতোই ভাবি।

ক্ষমা করে দিবেন আমায়।

এই কে তুমি? ছাড়ো আমাকে।

কে তুমি?

রবি শংকরের বাসা কোথায়?

কোন রবি শংকর?

রাভান্না!

-ওহ, আমাদের রাভান্না? -জি।

-সীনু। -জি?

রাভান্নার বাড়িতে নিয়ে যা তো।

আমার ছেলে ও।

কিন্তু বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে ও।

এসবের জন্য ও সব ছেড়ে চলে গেছে।

সাত বছর হলো ওর চলে যাওয়ার।

ও আমার একমাত্র ছেলে। দশ বছরের চেষ্টায় ওর জন্ম হয়েছিল।

এখন শুধু ওর ভাবনা আর স্মৃতিই আছে আমার কাছে।

প্রতিদিন আমি বসে বসে ওর ফিরে আসার আশায় থাকি।

আধা কাপ চালেই আমার হয়ে যায়।

কিন্তু আমি রোজ এক কাপ চালের ভাত বানাই।

এই আশায় যে, ও ফিরে আসবে আর আমি ওকে খাইয়ে দিব।

ওকে দেখার জন্য মনটা আমার আনচান করে…

কিন্তু তাতে কোনো ফল হয় না।

এই সীমাহীন অপেক্ষার একটা অন্ত আনা যাক।

এক কাজ করতে পারি আমরা।

একটা চিঠিতে আপনি আপনার ছেলেকে যা যা বলতে চান তা লিখে ফেলি।

সে ওটা পড়বে তা আমি নিশ্চিত করব।

আপনার ছেলেকে ফিরিয়ে আনব আমি। কথা দিলাম।

A mother's heart awaits

The arrival of her son

At the elder age

A mother's heart awaits

আপনার ছেলে তো কবিতা লিখতে পটু, তাই না? আপনাকে নিয়ে কিছু লিখেনি?

গ্রামের সমস্যা নিয়ে লেখে ও।

আমাকে নিয়ে কেন লেখবে?

লিখবে, অপেক্ষা করুন।

The entire village craves To bring back its beloved son

The mother's heart is trembling

The overwhelmed heart craves For one last sight of his

And yearns for him to come back

She cries bitterly

আমি যাই।

খেয়াল রেখো মা।

আমার প্রশ্নের জবাব এখনও দাওনি তুমি।

এখানে এসে বাড়ি পরিষ্কার করে দিলে।

সাহায্য করলে আমাকে, হাসালে আমাকে।

কিন্তু এটা বললে না যে, তুমি কে।

কে তুমি?

আমি আপনার পুত্রবধু।

কিন্তু আপনার ছেলে তা এখনও জানে না।

The tender age of youth desires love

The bulbul sings despite The scorching heat

She craves to unite With her beloved sweetheart

But her hopes fall flat As she continues to wait

-রাভান্না দল? -জি।

জানি না আপা।

She walks the distance with him

Without questioning the destination

She craves to unite With her beloved sweetheart

-রেডিক্যাল ইউনিয়ন জিন্দাবাদ! -রেডিক্যাল ইউনিয়ন জিন্দাবাদ!

দাদা, দলের সাথে যোগাযোগ করতে চাই।

-কোন দল? -রাভান্না দল।

-কেন? -আমার গ্রামে ছোট একটা সমস্যা হয়েছে তো।

রাভান্না আর তার দল আজকাল এখানে কাজ করছে না।

তারা ভূপাল পল্লীতে আছে।

-রেডিক্যাল ইউনিয়ন জিন্দাবাদ! -রেডিক্যাল ইউনিয়ন জিন্দাবাদ!

She craves to unite

With her beloved sweetheart

ভয় পাবেন না। সবাই বাস থেকে নেমে পড়ুন।

রাভান্নার ঠিকানা পেতে পারি?

কেন?

সাবেক এমএলএ নরসিমহা রেড্ডির ৫০ একর জায়গা আমরা দুঃখী কৃষকদের জন্য দখল করেছি।

বজ্জাত শালা! ভাগ!

আমাদের বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, রাভান্না এখানে লুকিয়ে আছে।

তার ঠিকানা যে দিবে তাকে পুরষ্কৃত করা হবে।

সে ভগত সিংয়ের মতো কোনো দেশপ্রেমী নয় যে বাড়িতে আশ্রয় দিবেন তাকে।

একজন দেশদ্রোহী সে।

দাদা...

ও আমার একমাত্র মেয়ে ছিল।

পেশায় আমি একজন মুচি।

যা উপার্জন করতাম তাই দিয়ে ওকে কলেজ পাঠাতাম।

ও স্বপ্ন দেখতো সরকারি একটা চাকরি করে...

পরিবারের খেয়াল রাখবে।

ঐ বজ্জাত রামানা, ওকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রাত কাটায়।

যখন ও বিয়ের কথা বলে...

দড়ি দিয়ে ওর গলা পেচিয়ে ধরে সে।

আর এমনভাবে ঝুলিয়ে দেয় যাতে মনে হয় যে এটা আত্মহত্যা ছিল।

যেখানেই বিচার চেয়েছি সেখান থেকেই খালি হাতে ফিরে এসেছি আমি।

আমি শুধু আপনার কাছে আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

যদি আমি মামলা না তুলে নিই...

তাহলে তারা আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

তারা আমাকে টাকা দিয়ে সমঝোতা করতে চাইছে।

দাদা।

আমার টাকা চাই না।

ন্যায়বিচার চাই আমি।

কোনোপ্রকার আপোষ করতে চাই না আমি।

শক্ত থাকুন।

-বিক্রম! -জি দাদা।

তাদের বলো কল্যানীর বাবা সমঝোতা করতে রাজি আছে।

-ঐ কলেজেই আসতে বলো ওদের। -ঠিক আছে দাদা।

চিন্তা করবেন না। আমি সামলে নিব।

এই মেয়ে ভেতরে আসো। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।

না, আমি ঠিক আছি।

-ভেতরে আসো। -না, আমি এখানেই ঠিক আছি।

-রাধিকা? -হ্যাঁ?

দরজাটা খোলো!

-যথেষ্ট খেয়েছি আপা। -আরও একটু খাও, নাও।

তোমার নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে।

ঘুমে চোখ লেগে আসছে?

কী সেলাই করছেন আপনি?

এগুলো রেডিক্যাল ছাত্র ইউনিয়নের মিটিংয়ের জন্য।

আমি যা দিয়ে পারি সাহায্য করার চেষ্টা করি।

একটা সাহায্য করবেন আপা?

নিশ্চয়ই বলো।

আমার বাবা আর জমিদার নরসিমহা রেড্ডি

এক খন্ড জমির জন্য লড়াই করছে।

আমি কোনো সাহায্য কিংবা ন্যায়বিচার পাইনি।

রাভান্নার কনট্যাক্ট লাগবে আমার।

রাভান্নার কনট্যাক্ট।

কেবল রাভান্নাই এসব জমিদারদের সামলাতে পারবে।

আমার তো কোনো উপায় নেই।

কিন্তু কাল যে লোকটা পতাকা নিতে আসবে তাকে জিজ্ঞেস করব।

-সবগুলো সেলাই করেছো? -জি, ভাই। এই নিন।

ভাই...

যে মেয়েটা আমাদের সাথে আছে ও গ্রামে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।

রাভান্নার কনট্যাক্ট চাইছে সে।

-কী?! -তাকে কি সাহায্য করতে পারি আমরা?

কী বলছো? সে আসলে কে এটাই জানি না আমরা।

যাকে আমরা সেভাবে চিনিই না তাকে রাভান্নার খোঁজ দিতে পারলে কীভাবে?

শোনো।

তার যখন দরকার ছিল তখন তুমি সাহায্য করেছো অনেক ভালো করেছো।

কিন্তু তাকে কনট্যাক্ট দেয়াটা বিপজ্জনক।

বললাম কারণ ও বলেছে, ও আর পরিবার সমস্যায় আছে।

ওকে দেখে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছিল।

যাক গে, কাল সকালে তো রাভান্না ডিগ্রি কলেজে আসছে, তাই না?

তাকে কি অন্তত এটা বলতে পারি যে, সে চাইলে ওনার সাথে ওখানে দেখা করতে পারবে?

আমি কী বলতে চাচ্ছি তা কি বুঝতে পারছো না?

উল্টাপাল্টা কিছু হলেই আমরা বড় সমস্যায় পড়ে যাব।

বোঝার চেষ্টা করো--

মনে হচ্ছে আমার সন্ধান অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে।

তোমাকে দেখব বলে আমি আমার অধীরতা যেন…

থামাতেই পারছিলাম না।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।

থামো।

মেয়েটা কে? ডাকো তাকে।

এই যে, আপনার পাশে বসা মেয়েটাকে ডাকুন তো।

-তারা ডাকছে তোমাকে। -এই যে তুমি।

এদিকে আসো। স্যার ডাকছে তোমাকে।

এই, ব্যাগও নিয়ে আসো তোমার।

-নাম কী তোমার? -ভেনেলা, স্যার।

এখানে কী করছো?

আমার বান্ধবীর জন্য অপেক্ষা করছি।

-আমি ছাত্রী, স্যার। -কোন কলেজ?

এখানেই স্যার। সরকারি ডিগ্রি কলেজ।

আচ্ছা।

ব্যাগে কী?

-কিছু না স্যার। -খোলো।

-বান্ধবীর জন্য উপহার স্যার। -আচ্ছা আমাকে দেখাও।

পুতুলটা দেখো, একেবারে অন্যরকম।

ইয়াকুব।

দেখো, এই কৃষ্ণ পুতুলের গোঁফ আছে। এটা কেমন পুতুল?

এটা নকশী পুতুল। এই এলাকায় এটা বেশ বিখ্যাত।

ওহ সুন্দর।

-রবি? -জি স্যার?

-দেখো এটা। -দারুণ স্যার।

আসলেই বেশ সুন্দর এটা।

আচ্ছা। নাও যাও।

চলো।

-এই মেয়ে! -এই থামো!

-থামো! -এই থামো।

সার্কেল ইনস্পেক্টর তোমার পুতুল দেখে মাত হয়ে গেছে। উনি চাইছে ওটা।

১০০ টাকা নিয়ে...

-পুতুলটা দিয়ে দাও। -না স্যার।

আচ্ছা, ২০০ টাকা নাও।

যতই দিন না কেন আমি দিব না স্যার। আমাকে যেতে দিন স্যার।

এটা আমার বান্ধবীর জন্য, স্যার।

মা, শোনো।

সিআই ভালো মানুষ নয়। উনি চাইলে যা ইচ্ছা করতে পারে।

এই পুতুলের জন্য তোমাকে মেরেও ফেলতে পারে।

কেন মারবে? কী করেছি আমি?

চাইলেই কাউকে কীভাবে মারতে পারে?

দুর্নীতিবাজ পুলিশদের বন্দুক থেকে গুলি বেরোতে কোনো কারণের প্রয়োজন হয় না।

তুমি আমার মেয়ের মতো। আমার কথা শোনো, পুতুলটা দিয়ে দাও।

এই পুতুলটা দাও তো।

বুঝতে পারছো না? পুতুলটা দাও।

দাও!

দাও!

সাহস কী করে হয়?

-ইয়াকুব ধরো ওকে! -জি স্যার।

বল আমাদের, তুই আসলে করিস কী? এসব বই তোর কাছে কেন?

ওর হাত তুলে ধরো।

ভেবেছিস আমার সাথে চালাকি করে পার পাবি? ওর ব্যাগ নাও।

-কোন দলের হয়ে কাজ করিস? -স্যার, আমি তো স্টুডেন্ট।

তাহলে এসব বই এলো কীভাবে তোর কাছে?

এগুলো রেখেছি কারণ আমার কবিতা ভালো লাগে।

-কবিতা? -জি।

আয়, চল তোর কলেজে যাব। জীপে তোলো ওকে।

আয়। চল দেখি তুই সত্যি বলছিস কি না। ওঠ।

-দরজা লাগাও। -জি স্যার।

ছাড়ো গাড়ি।

-থামো! -কী হলো?

মেয়েটাকে পুলিশ গ্রেফতার করলো কেন?

ভগবান!

ভালোবাসার নামে একটা মেয়েকে ধোকা দেয়ার সাহস কী করে হয় তোর?

ভালোবাসার সময় যখন কল্যাণীর জাতে সমস্যা হয়নি,

তাহলে বিয়ের সময় কল্যাণীর জাতে সমস্যা হলো কেন?

ভুল হয়ে গেছে দাদা। এমন করবেন না।

ওদের থামতে বলুন দাদা। থামুন।

আমাকে মারতে বারণ করুন। পায়ে পড়ছি আপনার। আর করব না এমন।

আমাকে লিখে দে সেটা।

আচ্ছা দিচ্ছি।

লেখ, " আজ থেকে এই এলাকায়...

আজ থেকে এই এলাকায়,

…কেউ যদি কোনো নারীকে ধোকা দেয়…

কেউ যদি কোনো নারীকে ধোকা দেয়,

…তারাও আমার মতোই ফল ভোগ করবে।"

দাদা! আপনার পায়ে পড়ি!

চুপচাপ বসে পড়!

-দাদা-- -লেখ!

-"কেউ যদি কোনো নারীকে ধোকা দেয়… -কেউ যদি কোনো নারীকে ধোকা দেয়,

তারাও আমার মতোই ফল ভোগ করবে।"

…তারাও আমার মতোই ফল ভোগ করবে।

-"রাভান্না আর তার দল... -রাভান্না আর তার দল…

এই সতর্কবাণী জারি করে দিয়েছে।

এখন স্বাক্ষর কর।

একটা নিষ্পাপ মেয়েকে মারতে পারলি কীভাবে?

দাদা--

সরকারি ডিগ্রি কলেজ ভূপাল পল্লী।

-ইয়াকুব, তুমি এখানে থাকো। -ঠিক আছে স্যার।

দাদা! না! দাদা, অমন করবেন না!

ভেনেলা নামে ফাইনাল ইয়ার বিএসসি স্টুডেন্ট আছে এই কলেজে?

-তার বাবার নাম গোল্লা রামুলু। -আজ কলেজ বন্ধ স্যার।

ক্যান্টিনে কিছু ছাত্রছাত্রী আছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন।

কল্যাণীর হত্যাকারীদের মৃত্যুদন্ড চাই!

সাম্য, পেছাও।

আসো, চলো।

মাথা নামাও!

এখান থেকে পালাও মা!

দৌঁড়াও, জলদি পালাও।

সাম্য, দেখো গাড়িতে কোনো ফার্স্ট এইড কিট আছে কি না।

ঠিক আছে রাভান্না।

My life is nothing but my love for him

I am the journey He is the destination

My love for him is what keeps me alive

My love for him is what keeps me alive

My love for him is what keeps me alive

ভেন্যু: টাউন হল, হানামকোন্ডা। প্রধান বক্তা: শকুন্তলা।

কেউই জানত না যে, আমরা কলেজে যাব।

আমাদের কেউই তথ্য বাইরে পাচার করেছে।

হ্যাঁ।

আমাদের সিস্টেমে অনেক বিশ্বাসঘাতক আছে।

কাউকে বিশ্বাস করাই যেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এজন্য লোক নিয়োগের সময় আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হবে।

একটা প্রশ্ন করি।

সত্যিটা বলবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়জন এখানে আসলেই ভালোর জন্য এসেছে?

তাদের কতজনই বা ব্যক্তিগত স্বার্থ...

চরিতার্থ করার জন্য এসবে যোগদান করেছে?

ঠিক বলেছেন ম্যাডাম।

আপনার আর্টিকেল স্টেট কমিটির কাছে পাঠিয়েছি আমি।

তারা আলোচনা করছে।

যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভালো।

বৃষ্টি মনে হচ্ছে না থামবে।

-আমাদের যেতে হবে। -ঠিক আছে।

খাবার প্যাক করো।

এখানেই থাকো, আমি দেখে আসছি কে।

কে?

আমার নাম ভেনেলা।

সিদ্দিপেট থেকে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি টিচার।

কিন্তু এত রাতে কেন?

বাস মাঝপথে নষ্ট হয়ে যায় আর অটোরিকশাও ছিল না।

হেটেই পুরোটা পথ আসতে হয়েছে আর তাই এত সময় লেগেছে।

দয়া করে…

আমাকে ভুল বুঝবেন না।

আসো।

আমার চাচাতো বোন অর্চনা অনেক ভালো মেয়ে।

এজন নকশালের প্রেমে পড়েছে সে। তারা দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়,

কিন্তু ছেলেটা ঐ যে গেল আর আসেনি।

একটা চিঠিও পাঠায়নি।

মেয়েটা ভয় পেয়ে আছে। নকশালদের এনকাউন্টারের খবর শুনে

শুধু চিন্তিতই হচ্ছে দিনে দিনে।

আপনার এখানে এই আশায় এসেছি যে, আপনি হয়তো তার খোঁজ দিতে পারবেন।

অর্চনা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আমি চাই সে যেন আর্চনাকে চিঠি লিখে,

যাতে সে যেন আগের রূপে ফিরে আসতে পারে।

আপনি সাহায্য করলে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

ঠিক আছে।

উপরে ঘর আছে, গিয়ে বাপড় বদলে ফেলো।

-আমি তোমার সাথেই আছি। -আচ্ছা টিচার।

অর্চনা যার সাথে প্রেম করেছিল তার নাম কী বলেছিলে?

রাভান্না ওরফে রবি শংকর।

যিনি কি না অরণ্য নামে কবিতা লেখে।

তার প্রেমে পড়েছে কেন?

সে কি নকশালবাদ পছন্দ করে?

না, টিচার।

তাহলে তার প্রেমে পড়লো কেন?

এতে কি আসলেই কারও প্রেমে পড়ার মতো কারণ আছে?

ক্ষুধা, পিপাসা আর অশ্রুর মতো...

ভালোবাসাও একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

তুমিই সেই অর্চনা, তাই না?

বলো।

তুমিই না?

জি।

আমি কাউকে নিয়ে ভাবিনি, আমার বাবা-মাকে নিয়েও না।

আমার হৃদয় তার সাথে থাকতে চেয়েছিল তাই আমি আমার হৃদয়ের কথার অনুসরণ করেছি।

কোনো নকশালের প্রেমে পড়াটা শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে আসলে ততটা নয়।

কেউ জানে না তাদের কখন মৃত অবস্থায় পাওয়া যাবে।

চলার পথে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

জানি, টিচার।

জানো না।

এটা জানার মতো বয়স হয়নি তোমার।

দেখো, বিক্রম,

যখন আমি তরুণ ছিলাম তখন আমিও রেডিক্যাল ইউনিয়নের সদস্য ছিলাম।

কিন্তু সেটা শুধুমাত্র বয়সের দোষেই।

তোমার সুরক্ষার গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি।

রাভান্নার দল কোথায় আছে বলে দাও।

তারা কখনো এক জায়গায় থাকে না স্যার।

তারা কখনো স্থির থাকে না।

কল্যাণীর বাবাকে রাভান্নার কাছে তুমিই নিয়ে গিয়েছিলে তাই না?

রামানাকে মারতে তুমিই রাভান্নাকে সাহায্য করেছিলে, তাই না?

সব জানি আমি। তাই ভালো হয় যদি তুমি সত্যিটা বলে দাও আমাকে।

জানি না স্যার।

রাভান্না কোথায়?

আমি আসলেই জানি না স্যার।

বাধন খোলো।

ওঠো।

এখন পালাও,

আর পেছনে তাকাবে না।

না স্যার। যাব না।

আমাকে এখানেই মারুন।

আমি পালাবো না।

এই স্পর্ধা রাভান্না দিয়েছে, না?

তোকে!

বিপ্লবের কবিতা।

স্যার, আমাকে ছাড়ুন।

স্যার।

-স্যার। -স্যার।

নকশালের মতো করে সাজাও ওকে।

স্যার পায়ে পড়ছি আপনার। আমাকে মারবেন না।

স্যার, আমার পরিবার আছে।

আমাকে মারবেন না স্যার।

রাভান্না কোথায় আছে বল তোকে ছেড়ে দিব।

তারা মহাদেবপুরের পুরাতন বাংলোর দিকে যাচ্ছে।

হয়তো কোনো মিটিং আছে।

আমাকে ছেড়ে দিন স্যার। আমাকে ছাড়া আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।

-ঠিক আছে, সেটা আমি দেখে নিব। -আচ্ছা, টিচার।

ভেনেলা।

এসব থেকে কী আশা করছো তুমি?

তোমার কী চাই বলো।

আমার ভালোবাসাকে ভুল বুঝবেন না। আমার ভালোবাসা প্রকাশ করার মতো না।

আমার সাথে পরিবার গড়ার আশা করছি না আমি।

তবে?

আমি শুধু আমার বাকি জীবন তার পাশে থাকতে চাই।

ব্যস এটুকুই। আর কিছু না।

-থামুন আপা। আমি ডাকছি। -ঠিক আছে।

-আপনার জন্য একটা ছোট্ট উপহার। -বসো।

ভেঙে গেছে কিছু মনে করবেন না।

শ্রীমতি শকুন্তলা তোমার ব্যাপারে বলেছে।

তোমার অধ্যবসায় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।

তোমার মতো লোকেরা যেটাতে মনস্থির করে সেটাই করে দেখায়।

নারীরা এখন শিক্ষা, অধিকার কিংবা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত।

তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে,

আর তাদের জীবনকে ভালো করতে তোমার মতো একজনেরই দরকার।

নিজের বুদ্ধিমত্তা, ভালোবাসা আর শিক্ষা নারী আর সমস্যায় থাকা লোকেদের জন্য ব্যয় করো।

আমার পেছনে অপচয় কোরো না।

আপনাকে দেখে শিক্ষিত বুদ্ধিমান যুবক মনে হয়।

কিন্তু মনে হয় না আপনি একজন নারীর হৃদয়ের কথা বোঝেন।

আপনার কাছে এসেছি মুক্ত পাখি হয়ে ওড়ার জন্য আর আপনি কি না আমার ডানা কেটে দিচ্ছেন?

আমার চোখের দিকে তাকান। কাঁদতে কাঁদতে আপনার পতাকার মতো লাল হয়ে গেছে।

এই চোখের সততা দেখতে পাচ্ছেন না? এই চোখের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছেন না?

এই ভালোবাসার মানে কী?

ভালোবাসা হলো আরেকজনকে ধোকা দেয়ার একটা উপায় মাত্র।

আমার মতে ভালোবাসা একটা রোগ।

এ এক দুরারোগ্য ব্যধি যাতে তুমি ভুগছো।

ভালোবাসা ব্যধি?!

তাহলে কৃষ্ণকে ভালোবাসা মীরাবাঈয়ের কী হবে?

শুধু মীরাবাঈ না শিবাকে ভালোবাসা সিদ্ধেশ্বরীর কী হবে?

আক্কা মহাদেবী, কাবিত্রী মোল্লা সবারই এই রোগ ছিল।

কার্ল মার্ক্স যিনি জেনিকে ভালোবেসেছিলেন তার কী হবে?

জিয়াং-কে ভালোবাসা মাও, ক্রুপস্কায়াকে ভালোবাসা লেনিন?

তাদেরও কি এই রোগ ছিল?

আমি হয়তো আপনার কবিতা কিংবা লেখনিতে নেই,

কিন্তু আমার ভালোবাসা অবশ্যই আপনার জীবনের একটা অংশ হতে যাচ্ছে।

আমার ডায়েরি শুধু আপনাকে নিয়েই।

সেটা পড়লে আপনি আমাকে না করতে পারবেন না।

সেটাই আমাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

আপনার মায়ের সাথেও দেখা করেছি আমি।

আপনাকে একটা চিঠি দিতে বলেছে।

এখানেই থাকুন, আমি নিয়ে আসছি।

এখানেই থাকবেন।

ভাই, আমাকে একটু টিচারের বাড়ি নিয়ে চলুন। দশ মিনিটের মধ্যে আবার আসব।

লুকাও! পুলিশ এসে গেছে।

কেউ হয়তো তাদের তথ্য দিয়েছে।

হায় হায়! এখন কী করব আমরা?

আমি দেখছি, তুমি এখনই এখান থেকে চলে যাও।

ভাই, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আমাকে বলুন কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

তুমি একজন মেয়ে। এসব তোমার জন্য বিপজ্জনক।

আমিও যাবার আগে দুইবার ভেবেছিলাম। গুলি মেরে দিবে তোমায়।

আমি আমার জীবনের পরোয়া করি না। তাদের বাঁচানোটাই এখন জরুরি।

বলুন দয়া করে কী করতে পারি।

আচ্ছা, এখানেই থাকো, কোথাও যাবে না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি।

বেশ।

ভাই, ওগুলো সরিয়ে রাখুন।

খনন শুরু করো জলদি।

আত্মসমর্পণের জন্য তোমাদের হাতে পাঁচ মিনিট আছে।

পালানোর কথা ভাববেও না। তোমাদের সম্পূর্ণরূপে ঘেরাও করা হয়েছে।

আত্মসমর্পণই তোমাদের একমাত্র উপায়।

-তাকে বলে দাও এই বোমা কীভাবে মারতে হয়। -ঠিক আছে।

জলদি নাও! জলদি!

পুরো ফোর্স আসতে হয়তো এখনও আসেনি। তাই তারা আমাদের সময় দিচ্ছে।

আমাদের বেরোতেই হবে।

হ্যাঁ, আমাদের দ্রুত করতে হবে নয়তো তারা আরও শক্তিশালী হয়ে যাবে।

-ভরত, বেসমেন্ট দেখো। -ঠিক আছে।

-রঘু, বারান্দা চেক করো। -ঠিক আছে।

বোন, এটা আইইডি। এতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আছে।

ছয় ফুট দুরত্ব নিশ্চিত করেই এটা মারবে।

এটা প্লাস এটা মাইনাস। ব্যাটারির সাথে সংযোগ দিবে।

বাংলোর ওপরে রেখে ডেটোনেট করবে।

যাও!

টিয়ার গ্যাস! পেছনটা কভার করো জলদি!

কভার!

ওর সাথে যাও!

তাকে ফলো করো!

কমান্ডোস...এইম!

-রাভান্না এখন কী করব আমরা? -কভার নাও।

টিয়ার গ্যাস পার্টি, এডভান্স!

-রমেশ! সাবধানে! জলদি আসো। -আসো!

দ্রুত!

রাভান্না!

থামো!

বয়েজ, আমাকে ফলো করো।

আসো!

পাঁচ

চার

তিন

দুই

ফায়ার!

রঘু হাত দাও!

বয়েজ! জলদি!

জলদি আসো জলদি!

কমরেডস, চলো!

মাথা নামাও!

চলো!

চলো কমরেডস!

সরে যাও!

যাও জলদি!

যাও! দ্রুত!

সাম্য, মেয়েটাকে পাঠাও।

যাও!

All the paths have closed

All the paths have disappeared

পালাও বোন!

পালাও!

The life has become terrible

পালাও বোন!

যাও!

My beloved

My beloved

Gone into the darkness

Dark impassable abyss of the womb

Impassable abyss of the womb

উঠ গাড়িতে!

Whenever your call is not heard

My foot will not fall

Started this journey

Without knowing the destination

কোন গ্রামে থাকিস?

বাবার নাম কী?

স্যার কিছু জিজ্ঞেসা করছে। প্রশ্নের উত্তর দে!

রাভান্নার দল কোথায় এখন?

কোথায় যাচ্ছে তারা?

তুই কি তাদেরকে খাবার দিচ্ছিলি, না কি ইনফরমেশন?

বল বলছি!

কী করিস তুই বলবি আমাদের..

না কি তোকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলব!

বল!

স্যার, সে কিছুই বলছে না।

কিছুক্ষণের ব্রেক নাও, রাতে আবার জিজ্ঞেসাবাদ শুরু কোরো।

তারপরেও যদি সে কিছুই না বলে, তাহলে তাকে শেষ করে দিও।

ওকে, স্যার।

- কিসের তরকারি? ডিমের? - হ্যাঁ, স্যার।

মরার আগে এটা তোর শেষ খাবার, খেয়ে নে ভালো করে।

দ্রুত পুতে দে।

চল চল।

স্যার, এখনই আসবে। ভালো হবে, যদি সব সত্য বলিস।

নতুবা আগামীকালের খবরের কাগজে, তোর মৃত্যুর খবর ছাপানো হবে।

বলবি নাহয় মরবি।

চল চল!

চলো।

বাহিরের পরিস্থিতি একদম ভালো না। কেন এই রিস্কটা নিলে, রাভান্না?

কাল তার জামিন করাতাম আমি।

ততক্ষণে তারা তার এনকাউন্টার করে দিত।

সাম্যের কোনো খোঁজ পেলেন?

তারা তাকে কন্ট্রোল রুমে নিয়ে গেছে।

তার জামিনের ব্যবস্থা আমি করছি।

কাউন্সেলিং করার পর তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েন।

আমি গেলাম।

আমার কী হয়ে গেল, টিচার?

কেন আমি অন্য সবাইকে পিছনে ফেলে তার পিছনে ছুটছি?

আমিও তোমার মতনই ছিলাম।

আমি এসেছিলাম কৃষ্ণ জেলার নেমালি নামক একটা ছোটো গ্রাম থেকে।

আমি আমার সবকিছু ছেড়ে এসেছিলাম যাকে আমি ভালোবাসতাম তাকে পেতে।

সে বিবাহিত ছিল।

দুটো বাচ্চাও ছিল তার।

কিন্তু এরপরেও, নিজেকে থামাতে পারিনি।

ভালোবাসায় দূরত্ব মেটানোর একটা তীব্র শক্তি থাকে।

যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

আমাদের পথে আসা অনেক বাধা উপেক্ষা করে আমরা একসাথে ছিলাম।

কিন্তু পুলিশ তাকে এক এনকাউন্টারে মেরে ফেলে।

এখন, আমি আমার লেখা বইগুলিতে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই বেঁচে আছি।

তার মতাদর্শকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এটাই একমাত্র উপায়।

আমার লিখা প্রত্যেকটা শব্দই আমাদের দুজনকে উৎসর্গ করে লিখি।

আমরা একসাথে থাকতে পেরেছিলাম..

কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল এক।

কিন্তু তোমার পথ আলাদা, ভেনেলা।

ঠিক এই কারণেই তোমরা, কখনোই এক হতে পারবে না।

তাই, সবকিছু ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নাও।

এসব কী, প্রতাপ?

মুখ্যমন্ত্রী আমার পদত্যাগ দাবি করছেন।

আমি কি পদত্যাগ করে বাসায় বসে থাকব?

পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সাম্যকে আটকে রেখে...

ওই মেয়েটাকে মণ্ডল পুলিশ স্টেশনে রাখার কী কারণ ছিল?

স্যার, আমরা তাকে নকশালদের সমর্থনকারী ভেবেছিলাম, নকশালপন্থী নয়।

তাই তাকে মণ্ডল থানায় রাখা হয়।

আমাদের পুলিশরা কী করছিল?

নকশালরা এসে বোম্ব লাগিয়ে দিল, আর তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল?

প্রতাপ, আমাদের এত বড় বাহিনী এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও,

কেন আমরা প্রতিরক্ষা করছি?

স্যার, রাভান্না যা করছে তা সাধারণ কোনো যুদ্ধ নয়, এটা গেরিলার যুদ্ধ।

বনের প্রতিটি গাছ এবং পাথর তার ঢাল হিসাবে কাজ করে।

তার চেয়ে বড়ো কথা, তাদের সাথে আমজনতার সাপোর্ট আছে।

আমাদের পক্ষে কেন জনতার সাপোর্ট নেই? আমরাও তো তাদেরই জন্য কাজ করি, তাইনা?

জি স্যার, আমরাও ওই একই জনতার জন্য কাজ করি।

কিন্তু আমরা জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করছি,

যেখানে নকশালরা তাদের জন্য মরতে প্রস্তুত।

এর সমাধান কী, প্রতাপ?

স্যার, কখনো মহাভারত পড়েছেন?

না।

মহাভারতে "ভীরাতা পারাভাম" নামক একটা অধ্যায় আছে।

যখন পাণ্ডবরা কৌরবদের সাথে পাশা খেলায় হেরে গিয়েছিল,

তখন পাণ্ডবদের নির্বাসনে যেতে হয়েছিল।

তারা মহারাজ বিরাটের রাজ্যে লুকিয়ে ছিল...

আর কৌরবদের আক্রমণ করার সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেছিল।

এই নকশালরাও একই কাজ করছে, স্যার।

আর এখন, আমাদেরও একই কাজ করতে হবে।

তবে…

কী করতে চাও তুমি এখন?

আমাদেরকে রাভান্নার দলে আমাদের একজন লোককে ঢুকাতে হবে।

অথবা রাভান্নার দলের কাউকে আমাদের দলে যুক্ত করতে হবে।

আর সেই একজন ব্যক্তি এমন কিছু করে দেখাবে পুলিশ ফোর্স পারেনি।

আমি একটি গোপন অপারেশনের পরামর্শ দিচ্ছি।

আচ্ছা, তাহলে...

এমন একজনকে দ্রুত খুঁজে বের কর।

স্যার, যদি আমরা এই মেয়েকে খুঁজে পাই..

তবে আমরা ভীরাতা পারাভাম শুরু করে দিতে পারব।

ভেনেলা, কী সিদ্ধান্ত নিলে?

আপনার কাহিনি শোনার পর,

রাভান্নার প্রতি আমার ভালোবাসা আরো তীব্র হয়ে গেছে, টিচার।

আমি বুঝতে পেরেছি যে, বিপ্লব ভালোবাসার মতোই শক্তিশালী।

আর আমি তার বিপ্লবের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্লিজ, আমাকেও এই দলে অন্তর্ভুক্ত করে দিন। আমিও জঙ্গলেই থাকব।

দলে নিয়োগ করা এত সহজ নয়।

অনেক প্রক্রিয়া আছে।

আমার কথা শোনো, এসবকিছু ভুলে যাও।

কীভাবে আপনি আমাকে ভুলে যেতে বলছেন?

ভালোবাসার মানুষটার মৃত্যুর পরেও আপনি এই বিপ্লবের প্রেমে এখানে রয়ে গেছেন।

তাহলে, আপনি কিভাবে আশা করেন যে আমি চলে যাব।

যেখানে সে এই বিপ্লবের অংশ! বলুন?

আমি যে কোন কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, টিচার।

কীভাবে যে তোমাকে বুঝাই? দলে নিয়োগের একটা নিয়ম আছে।

তারা এত সহজে তোমাকে নেবে না।

আর এখন পরিস্থিতিও অতটা ভালো না, ভেনেলা।

পরওয়া করি না, টিচার। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি আমি।

লাল সেলাম!

আমাকে চিনতে পেরেছ, বোন?

আমি আজ জামিনে ছাড়া পেলাম।

তুমি যা এখন বলছিলে সবই শুনলাম।

আমি অভিভূত হলাম।

তুমি আমাদেরকে বাঁচিয়েছ, আমি জানি তুমি কতটা সাহসী।

তোমার মতন মানুষদেরই আমাদের প্রয়োজন।

আমি তোমাকে দলে নিয়োগের সব তথ্য দেবো।

তুমি কালই যেতে পারবে। ঠিক আছে?

জি।

আদালতের শুনানির পর আমিও ওখানে আসব।

আর আজ থেকে, তোমার নাম শুধু ভেনেলা নয়।

কমরেড ভেনেলা।

লাল সেলাম!

লাল সেলাম!

না, স্যার। আমি দেখিনি।

- হ্যাঁ, আমি এটা দেখেছি। - চল।

- আমাকে বক্সটা সরাতে দাও। - খোলো!

এই, পোস্টম্যান!

এই মেয়েটাকে কোথাও দেখেছ?

এই মেয়েটাকে? আমি তাকে ভালো করে চিনি, স্যার।

তার বাবার নাম গোলা রামুলু।

সে ঘনপুর, মুলুগুর একজন লোকসঙ্গীত শিল্পী।

আমি ওই গ্রামে কাজ করেছিলাম।

- আচ্ছা, গাড়িতে উঠো। - কী হয়েছে, স্যার?

- কী হয়েছে, স্যার? - চলো।

- উঠো গাড়িতে! - চল।

বল!

বল বলছি!

- স্যার, দয়া করে মারবেন না, স্যার। - বল বলছি!

- স্যার, প্লিজ স্যার! মারবেন না! - বলবি না কি বল!

- প্লিজ স্যার, না! - এই!

আমি হাতজোড় করছি, স্যার! দয়া করে মারবেন না!

এই…

- তারা কিছু বলেছে? - না, স্যার।

তাদেরকে ভেতরে পাঠাও।

কেন বার বার একই কথা বলে যাচ্ছো...

যে তোমরা কিছুই জানো না?

আমাদেরকে কি বাচ্চা মনে হয়?

আমরা পুলিশ।

যদি তোমার মেয়ের সাথে, নকশালদের সম্পর্ক না থাকত...

তাহলে কেন তারা তাকে বাঁচাতে পুলিশ স্টেশনে হামলা করেছিল?

কেন অকারণে তারা এটা করতে যাবে?

বি.এস প্রতাপ, এস.পি।

নাম কি তোমার?

রমেশ।

রমেশ, একটা কথা বলো তো!

এই নকশালরা তোমাদের জন্য কী করেছে?

এই দেশের জন্য, সমাজের জন্য, আমজনতার জন্য কী করেছে তারা?

তারা কত নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করেছে!

তারা রক্তপাত ছাড়া কিছুই চেনে না।

বলো, তারা কি আসলেই কোনো উপকার করে?

বলো, রমেশ।

বলো, তারা কি কখনো উপকার করেছে?

জি, স্যার।

বলো কীভাবে!

- চুপ কর দয়া করে। - রামুলু ভাই, তাকে বলতে দাও।

ফুপা, আমাকে বলতে দাও!

তারা আমাদের উপকার করেছে, স্যার।

আমাদের গ্রামে যখন মেয়েদের শ্লীলতাহানি করা হতো।

তখন কোন রাজনীতিবিদ আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল, স্যার?

পুলিশ কি এসেছিল তখন, স্যার?

সেই ভাইয়েরা তখন আমাদের বাঁচিয়েছিল, স্যার।

তারা আমাদের আওয়াজ তোলার সাহস দিয়েছিল।

তারা আমার মতন লোকের সাথেও সম্মানের সাথে আচরণ করেছিল।

চুপ কর, গাধা কোথাকার!

- থাম! - কী বলছিস তুই জানিস!

পাগল হয়ে গেছিস না কি তুই?

স্যার, ওকে ক্ষমা করুন। সে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।

বসো।

সে ভুল কিছু বলেনি। যা বলেছে সবই তো সত্য।

বর্তমানে দলের ক্যাডার কারা?

নিচু জাতের লোকজন।

SC, ST, BC. [আদিবাসী, অন্যান্য ছোটো গ্রামের লোকজন।]

তারাই তো সৈন্য।

যারা মারা যায়, তারা তো এসব গোত্রের।

আর লিডার কারা? উঁচু জাতের লোকজন।

তাদের কিছুই হয় না।

তারা ঠিকঠাকই থাকে, কারণ তারা তো মরে না।

আমি তোমাকে দুইদিন সময় দিচ্ছি।

ভেবে দেখ।

আমাকে সবকিছু একপাশে রেখে, নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

যাও, তোমার মেয়েকে খুঁজো।

এখন যেতে পারো তোমরা।

- দিদি! - হ্যাঁ?

এইযে, টিচার এটা দিয়েছে।

"দরজায় আসা অতিথির ন্যায়..."

"সকল অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানিও।"

- অপেক্ষা কর, আমাদের মানুষ আসবে। - আচ্ছা।

মা…

বাবা।

বাবা।

তোমার মতো একজন বাবার যোগ্য আমি নই।

আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম যে, আমি পড়াশোনা করে জীবনে সফল হব।

সবই মিথ্যে।

আমি তোমাকে হতাশ করেছি...

আর পরিবারকে অপমান করেছি।

যে কোনো বাবাই স্বপ্ন দেখে, মেয়েকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার।

সে চায় তার মেয়েকে একটা ভালো মানুষের সাথে বিয়ে দিতে।

আমি তোমাকে সেই সুযোগও দেইনি।

আরো ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল, তোমার।

তুমি আমাকে নিয়ে যেতে এসেছ, তাই না, বাবা?

না, মা।

আমি কেবল তোকে দেখতে এসেছি।

এটুকুই।

তুই যে মাত্র বললি...

যে সাধারণ বাবারা যা আশা করে।

তা তুই আমাকে দিতে অক্ষম।

কিন্তু এই সব প্রত্যাশাই অপ্রাসঙ্গিক।

তুই কি জানতে চাস আমি তোকে নিয়ে আসলে কী অনুভব করি?

তুই আর আমি খুব একটা আলাদা নই।

আমি কী অনুভব করি তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না।

লোকগীতি না গাইলে আমি যেমন বাঁচতে পারব না।

ভালোবাসা ছাড়া তুইও বাঁচতে পারবি না।

যদি কিছুর প্রতি দৃঢ় ইচ্ছা থাকে...

এই সমাজ কেবল উপহাস করবে।

আর বোকার উপাধি দিয়ে দেবে।

যখন আমি বলেছিলাম আমার জীবন লোকগীতির জন্য উৎসর্গ করব, তখন তারা আমাকে উপহাস করেছিল।

এখন, তুই যে বলেছিস ভালোবাসার জন্য তুই নিজেকে উৎসর্গ করে দিতে চাস।

তারা তোকেও এখন পাগল বলবে।

মানুষ সব সময় এমন কিছু নিয়ে উপহাস করে, যা তারা আসলে বুঝেই না।

কিন্তু এটা ভাবিস না যে, আমি তোর অনুভূতি বুঝি না।

তোকে এমনটা করতে দেখে...

চিৎকার করে সবাইকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল যে, তুই আমার মেয়ে।

শুধু এই জন্মেই নয়,

সব জন্মেই আমি তোকে আমার মেয়ে হিসেবে চাই।

মামা, চল।

আমি যাই, মা।

- বাবা… - হ্যাঁ?

অনেকদিন হলো, তোমাকে গাইতে শুনিনি।

সেশাপ্পার কবিতার একটা চরণ আমার জন্য গাইবে?

যদি আর কখনো শোনা ভাগ্যে না থাকে!

Who supplied food to birds in the forest?

Who fed the animals?

Who provided meals to wild beasts?

Who watered the trees?

Who helped the fetus grow in the womb?

Who served fresh milk to snakes?

Who provided nectar to bees?

Who provided grass to the animals?

You're the protector

Of all the lives on this planet

Conscious creator! Inhabitant of Dharmapuri!

Punisher of evil forces!

Narasimha, the one who alleviates agony

Farewell, my child Go into the forest

Meet your dream lover there

Meet him

Overcoming obstacles

At every step

At every step

Farewell, my child

Farewell, my child

আমি ভেনেলা।

কোড বলো।

"সক্রেটিস বিষ পান করেছিলেন, কার্ল মার্কসকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল....

আর, বুদ্ধ তার পরিবার ও রাজ্য ছেড়ে বনের দিকে চলে গিয়েছিল।"

আমাদের বলা হয়েছিল যে সাম্য ভাই তোমাকে নিয়োগ করেছে।

কিন্তু আমাদের লিডার, রাভান্না, তোমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।

এটা নাও, খেয়ে, বিশ্রাম করে, এখান থেকে চলে যেও।

কেন আমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন আপনারা?

আমি এখানে পার্টি জয়েন করতে আর আপনাদের সাথে কাজ করতে এসেছি।

আমি কোথাও যাব না, এখানেই থাকব আমি।

আমি যাব না।

যাব না।

স্বর্ণা, তোমরা যেতে পারো।

- আমি কথা বলে পাঠিয়ে দিচ্ছি। - আচ্ছা।

তুমি কি পাগল? বিপ্লব সম্পর্কে, তোমার কোনো ধারণা আছে কি?

আমাদের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আমাদের জীবনের যেটুকু শ্বাস বাকি আছে।

তার সবটুকুই এই যুদ্ধে উৎসর্গ করার জন্য।

এই যুদ্ধে কয়েকশত শহীদ হয়েছে।

আমি এখনও শেষ এনকাউন্টারে শহীদ হওয়া...

কমরেডদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছি।

চিৎকারগুলো শুনতে কেমন লাগে জানো?

আমি জানি!

হ্যাঁ, আমি জানি।

এটা সাত বছর ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করা মায়ের কান্নার ন্যায় শোনায়।

নিয়তি আমাকে তোমার মায়ের সাথে দেখা করিয়েছিল ঠিক যেভাবে এটা আমাকে তোমার সাথে দেখা করিয়ে দিয়েছে।

আমার হাতের এই চিঠিটি তোমার হাতের অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

আমি জানি না, তোমার হাতের অস্ত্র সমাজকে বদলে দিতে পারবে কি না।

তবে এটা অবশ্যই তোমার মধ্যে পরিবর্তন আনবে।

কারণ, এটা তোমার মায়ের চিঠি।

এই চিঠিগুলো আমার মন পরিবর্তন করতে পারবে না!

যে কোনো সম্পর্কের চেয়ে আমার পার্টি আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

- এবার, যাও! - না, যাব না!

যদি আমি এখন যাই, তুমি আমাকে হাজার বছর খুঁজলেও আর পাবে না।

You are like a stubborn child

Good spirit that you can persevere

Even after witnessing his adversity

Your feet still follow his path

Farewell, my child Go into the forest

তোমাকে দেখে কমরেড অরুণার কথা মনে পড়লো।

সে আমাদের সাথেই কাজ করত।

এক বছর আগে পুলিশ তাকে আটক করে।

গ্যাং-রেপ করা হয়েছিল তাকে।

আর তার দেহ বিকৃত করা হয়েছিল।

একদিন হয়তো আমরা সবাই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হব।

তুমি কি বিপ্লবের জন্য এই সমস্ত কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত?

আমি যেকোনো কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

আমি আমার জীবনের পরোয়া করি না।

রাভান্না! এসব কী?

এভাবে আমরা লোক নিয়োগ দেই না। এটা আমাদের নিয়মের পরিপন্থী।

আমরা তাকে যতই চিনি না কেন,

আমরা তখনই তাদেরকে নেই যখন তারা ১ বছর অন্তত কাজ করে।

আমি বুঝলাম না কেন সাম্য এই মেয়েটাকে এখানে পাঠিয়েছে।

যাইহোক, তুমি এখানের লিডার।

তুমি কমান্ডার আর সে ডেপুটি কমান্ডার।

তোমার অর্ডার ফলো করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমাদের।

রাভান্না কথা বলার সময় তোমার ওভাবে চলে যাওয়াটা একদম উচিত হয়নি।

সে যা করল সেটাও উচিত ছিল না।

একটা জিনিস পরিষ্কার করে দেই।

রাভান্নাও তাকে রিজেক্ট করে দিয়েছিল প্রথমে।

কিন্তু আমিই তাকে নিতে বলেছিলাম।

কারণ পুলিশ তাকে ইতিমধ্যে আমাদের সমর্থনকারী হিসেবে রেজিস্টার করেছে।

যদি সে এখন চলে যায়, সে অবশ্যই বিপদে পড়বে।

যদি তারা তাকে হত্যা করে, তার জীবনের কে ক্ষতিপূরণ দেবে?

তুমি দেবে…

না কি আমি?

সে স্বেচ্ছায় দলের হয়ে কাজ করতে চাইছে।

তার উপর, সে একজন মেয়ে।

তুমি তো রাভান্নাকে চেনো, তাই না?

সে কাদার বলকেও বোম্ব বানিয়ে দিতে পারে।

দেখতে থাক শুধু।

সে আমাদের দু'জন থেকেও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাবে।

There is fire, there is water

Eventually, which one will win And which one will pare down?

Seems the cascading rivulet has jumped

The smoldering volcanic mountain Has cooled down

For her love story She extended her hand today

See, she is leading it herself intimately

My life has become indebted Having found your kinship

There is fire, there is water

Eventually, which one will win And which one will pare down?

Seems the cascading rivulet has jumped

The smoldering volcanic mountain Has cooled down

So far, no revolution Bigger than love has arisen

Wouldn't the truth Be understood if compared?

On the path of life so desired Even if I am blamed

I have cut off my relationships To reach you

The forest danced having possessed you

Distress disappeared Having realized the dream

My heart gladdened to have been blessed With your companionship

Proceeded to promenade On the path reddened

There is fire, there is water

Eventually, which one will win And which one will pare down?

Seems the cascading rivulet has jumped

The smoldering volcanic mountain Has cooled down

তো সাম্য, তুমি কি ভেবেছিলে জামিন নিয়ে ঝামেলামুক্ত হয়ে চলে যেতে পারবে?

শুনেছি তুমি পার্টি ফান্ডের নামে সম্পদ লুণ্ঠন করছো মানুষ থেকে।

স্যার, আমি নীতিতে আবদ্ধ। আমি ওমন মানুষ নই।

সিরিয়াসলি?

- রবিন্দ্র। - জি, স্যার।

লিঙ্গমূর্তি, এদিক আসো।

নমস্কার, স্যার।

- লিঙ্গমূর্তি। - জি, স্যার?

- সাম্য তোমাকে কত টাকা দিয়েছিল? - প্রায় দশ লাখ টাকা, স্যার।

এত টাকা দিয়ে তুমি কী করলে?

আমি সুদে কৃষকদের টাকা ধার দিয়েছিলাম।

তার বোন এসে নিয়মিত সুদ সংগ্রহ করে, স্যার।

- আচ্ছা, এখন তুমি যেতে পারো। - আচ্ছা, স্যার।

এখন কী বলার আছে তোমার?

আমি স্যারেন্ডার করতে প্রস্তুত, স্যার।

তুমি আমাদের কোনো কাজেরই না।

তুমি রাভান্নার দলের একজন সদস্য মাত্র।

বরং আমি যদি তোমাকে মেরে ফেলি, আমি অন্তত কিছু পুরস্কার পাব।

স্যার, দয়া করে আমাকে মারবেন না। আপনি যা চান আমি তাই করব।

তাহলে, ওখানে ফিরে যাও।

আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করে জানাব, তোমাকে কী করতে হবে।

শ্রীরামুলাপাল্লি ৪ কি.মি

ভরত, রমেশকে তোমার সাথে নিয়ে যাও এবং জিদিগাতলা থান্ডায় যাও।

সাম্য সেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আসছে।

তাকে সাথে নিয়ে পূর্ব দিকে আমার সাথে দেখা কর।

আমরা খবর পেয়েছি যে পুলিশও সেখানে আছে।

তাই সাবধানে।

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

- স্বর্ণা আর ভেনেলা.. - জি দাদা!

সাধারণ জামাকাপড় পড়ে নাও।

আমাদের গায়ক মল্লনা পুলিশের অত্যাচারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন।

গ্রামে ঢুকলেই তার বাড়ি দেখতে পাবে।

তাকে এই টাকাগুলো দিও আর সকালে আমাদের সাথে দেখা কোরো।

ভেতরে আসুন, তাড়াতাড়ি।

কী দূর্দশা করেছে দেখুন!

এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ কীভাবে নির্যাতন চালিয়েছে দেখুন।

তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করেছে তারা।

তারা তার গলা নষ্ট করে দেওয়ার জন্য অত্যাচার করেছে।

যাতে সে আর কখনো বিপ্লবের গান গাইতে না পারে।

সে তার কণ্ঠস্বর পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে।

ডাক্তার বললো, তার একটা কিডনিও নষ্ট হয়ে গেছে।

চিন্তা করবেন না, যারা সমাজের জন্য কাজ করে, পার্টি সবসময় তাদের সাহায্যের জন্য আছে।

রাভান্না এই টাকাগুলো পাঠিয়েছে উনার মেডিকেলের খরচাপাতির জন্য।

ড. রাজারামের ক্লিনিকে নিয়ে যান কাল।

চল দ্রুত এখান থেকে।

তবে আমি আসি, দিদি।

- আচ্ছা। - লাল সেলাম!

দিদি, আমি দলের জন্য খাবার রেখেছি।

ওটা নিয়ে যাবেন প্লিজ।

অবশ্যই।

- তাকে কোথায় ট্রান্সফার করেছে? - আদিলাবাদ।

আচ্ছা, তারা কি তাকে প্রোমোশন দিয়েছে?

না, তাকে কেবল মুভমেন্ট অর্ডার দিয়েছে। এটুকুই।

- এটা কি সি.আই বলেছে? - হ্যাঁ।

তারা এই সময় এখানে কী করছে!

কোথায় যাচ্ছে তারা?

"ডিউটি" শব্দটা শুনলেই আমার ভয় লাগে এখন।

তারপর বল!

বাসায় গিয়েছিলে?

এইযে তোমরা, থামো।

কোন গ্রামের তোমরা?

আর এই সময় কোথায় যাচ্ছ?

আমরা শ্রমিক, স্যার। আমরা কাছেই ক্রেনে কাজ করছি।

দিনভর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

তাই, আমাদের এখন সারা রাত ধরে কাজ করতে হবে।

অন্য শ্রমিকরা কুয়োর কাছেই আছে।

- আমরা এখানে তাদের জন্য খাবার আনতে এসেছি। - এই ঝুড়িগুলি চেক কর।

- ঝুড়ি নামাও। - ভালো করে চেক কর।

শুধু খাবার, স্যার।

তোমারটা দেখাও।

বাদ দাও, যেতে দাও।

- আচ্ছা। - তোমরা যাও।

যাও।

কিন্তু আমি তো আশেপাশে কোনো ক্রেন দেখিনি, স্যার।

- সত্যি? - জি।

- তাদেরকে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। - জি, ঠিক বলেছেন।

চল কাউকে জিজ্ঞেসা করি।

- চল তাকে জিজ্ঞেসা করি। - এই! থাম!

- কোনো ক্রেন দেখেছ আশেপাশে? - না, স্যার।

- এমন তো কিছু দেখিনি। - আচ্ছা, যাও।

- এই, থাম! - থাম!

থাম!

চল আমাদের সাথে। দেখা কোথায় কাজ করিস তোরা।

- দেখা আমাদের! - স্যার…

- স্যার, আমরা কিছু জানি না। - আসলে...

আমাদের যেতে দিন, স্যার।

তোমরা কিছু জানো না, আর তবুও নকশালদের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছো?

স্যার, আমরা মিথ্যা বলছি না।

- নিষ্পাপ সেজো না! - স্যার, আমরা মিথ্যা বলছি না!

কত করে দিচ্ছে তারা? কোন দলের তোমরা?

বয়েজ, ফলো মি।

স্যার, আমরা কোনো দলের না। আমি সত্যি কথা বলছি, স্যার।

- বলতে বলছি! - প্লিজ মারবেন না আমাদের, স্যার।

- আমরা কিছুই জানি না, স্যার। - উত্তর দাও!

- স্যার, প্লিজ আমাদের ছেড়ে দিন, প্লিজ। - উত্তর দাও!

স্যার, তার কাছে গ্রেনেড আছে।

স্যার!

স্যার!

তাড়াতাড়ি এসো!

দ্রুত, দ্রুত!

চল, দ্রুত।

মুভ!

দ্রুত!

মুভ! মুভ!

আমি ভিক্ষা চাইছি, স্যার।

ভাই, সে পুলিশের লোক!

- মার তাকে! - জোরে মার!

- হারামজাদা, তোকে খুন করব আমি। - প্লিজ, থাম!

- ছেড়ো না তাকে! - মেরো না তাকে!

রঘু, শ্যুট করো না। শব্দে পুলিশ জেনে যাবে।

- একপাশে নিয়ে মেরে ফেল। - না, প্লিজ, না!

- মেরে ফেল তাকে! - প্লিজ এমনটা কোরো না, দোহাই লাগে।

একজন মানুষ বাঁচার জন্য যখন লড়াই করছে, তাকে মারা উচিত নয়।

কী? এটা ঠিক হবে না!

এটা কি ঠিক ছিল যখন তারা আমাদের মহিলা কমরেডদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ এবং বিকৃত করেছিল?

আমরা যদি তাদের মতো আচরণ করি, তাহলে আমাদের আর তাদের মধ্যে পার্থক্য কি?

রক্তপাতই কি একমাত্র সমাধান, বলো?

রক্তপাত আমাদের চারিদিকে। মানুষের জীবন শুরু হয় রক্তপাত দিয়ে!

একজন মা সন্তান প্রসবের সময় যতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে যায়।

একটি নতুন সিস্টেমও একই ভাবে আবির্ভূত হয়!

হ্যাঁ! চোখের বিনিময়ে চোখ, জীবনের বিনিময়ে জীবন!

- তা ঠিক-- - কিন্তু সে আমাদের শত্রু না যে মারতে হবে!

অস্ত্র ছাড়া, সেও একজন সাধারণ মানুষ।

নিরস্ত্র শত্রুকে খুন করা কি আমাদের পার্টির নিয়ম না?

- বল! - কী?

তুমি আমাকে মাওয়ের নিয়ম শেখাচ্ছো?

তুমি আমাকে পার্টি শেখাচ্ছো? সত্যি?

নিজের লিমিটে থাকো!

তোমাকে মারতে হলেও আমার হাত কাঁপবে না!

- রঘু! - শান্ত হও।

কেন তুমি পুলিশ অফিসারের মতন আচরণ করছো?

তুমি কি মনে কর যে আমরা মাওয়ের নীতির বিরুদ্ধে যাওয়ার মতন কেউ?

তাকে ছেড়ে দাও।

সরি, কমরেডস।

ভেনেলার বিতর্ক যুক্তিসঙ্গত।

আমাকে ফার্স্ট এইড কিটটা দাও।

"নকশালরা বাঁচালো এক পুলিশের জীবন।"

ভাই।

- নারসান্না, এটা প্রশংসার দাবি রাখে। - ঠিক বলেছ।

এই ধরনের মানবতাবাদী কাজ আমাদের দলে আরও বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ করবে।

নকশাল আর পুলিশের মধ্যে যে এটাই তফাত,

তা মানুষের বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

ঠিক বলেছ।

আসুন আমাদের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে রাভান্নার দলকে অভিনন্দন জানাই।

- আচ্ছা। - অবশ্যই, ভাই।

Who are these kids? They are stars in the sky

Who are these kids? They are buds in the jungle

Who are these kids? They are stars in the sky

অভিনন্দন, বোন.. তুমি গতকাল একটি খুব জোরালো যুক্তি দিয়েছ।

দেখ, ওর চেহারা কেমন জ্বলজ্বল করছে!

- তুমি আজ রাতে ট্রিট দিবে, তাইনা? - আমি মহান কিছুই করিনি।

এই নাও, চা পান কর।

সত্যিই বোন, তুমি গতকাল যা করেছ তা আমাকে ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের কথা মনে করিয়েছে।

এই, অনেক হয়েছে, বাদ দাও। এই নাও, চা পান কর।

তোমার মতো একজন কমরেড পার্টি এবং উদ্দেশ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- দেখতে হবে, কে ওকে এখানে নিয়ে এসেছে? - মহান কমরেড সাম্য।

এইযে ভাই, চা নাও।

দেখ কীভাবে ফুলে আছে আমার উপরে এখনো।

নাও না ভাই।

কীভাবে ছোটো বোনের দেওয়া চা কে না করবে?

ভরত আগে যা বলেছিলেন তা সঠিক।

তুমি গতকাল পুলিশকে বাঁচিয়ে বিপ্লবের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমাদের শিখিয়েছ।

তুমি যদি আমাদের না থামাতে তাহলে, আমিও তার মৃত্যুর জন্য দায়ী হতাম।

এসব ভুয়া এনকাউন্টার ও গোপন অভিযানের কারণে..

আমরা সবাই মানসিক বৈকল্যে ভুগছি।

আমরা এক ধরনের নৈতিক দ্বিধার মধ্যে আটকে আছি...

কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি।

আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।

প্রিয় রবি, তোর আম্মা বলছি।

কেমন আছিস বাবা?

আমার তোকে নিয়ে চিন্তা হয়।

আমি কখনও ভাবিনি যে তুই আমাদের ছেড়ে, বিপ্লবে যোগ দিবি।

তুই চলে যাবার পর পুলিশ সর্বনাশ করেছে।

তারা আমাদের বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে।

তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিল।

এমনকি তারা চিন্তাও করেনি যে, আমি একজন নারী।

তারা আমার ছেলের বিষয়ে প্রশ্ন করে আমাকে নির্যাতন করেছে।

গ্রামের কিশোরদের ধরে গুলি করে খুন করে তারা।

তারা গোটা গ্রামকে কবরস্থান বানিয়ে দিয়েছে।

গ্রামে খুশির কোনো চিহ্ন নেই।

আমরা সবসময় ভয়ের মধ্যে বেঁচে আছি।

আমি তোকে দেখতে চাই, অন্তত শেষ একবার।

"ডঃ রাজারাম পিপলস হসপিটাল"

অবশেষে, তুই আমাকে দেখতে আসার মতন সময় পেয়েছিস।

তুমি বলেছিলে তোমার ছেলে তোমাকে নিয়ে কখনো কবিতা লিখেনি, তাই না?

- লিখেছে সে। কোথায় ওটা?

তুমিই মাকে পড়ে শোনাও।

"মা, বিপ্লব তোমায় সালাম জানায় এই আঁখিদ্বয়ে আলো দিতে।"

"যখন ক্ষেতে চাষা বীজ বুনে,"

"শত ফুলের সাজানো মালায়, পাখির কলতানের সাথে।"

"শত ফুলের সাজানো মালায়, পাখির কলতানের সাথে।"

"তুমি আমায় শিখিয়েছো শোভা ছড়াতে,মুর্ছে যাওয়া ফুলে, চাঞ্চল্য ফেরাতে, আহত শিশুর দেহে "

"মা, বিপ্লব তোমায় সালাম জানায় এই আঁখিদ্বয়ে আলো দিতে "

হ্যালো, স্যার। আমরা এখানে, ওভার।

রাভান্না নিশ্চিত ওখানেই আছে।

কারণ আমরা ভেতর থেকে খবর পেয়েছি।

- আমি হ্যান্ডেল করছি, স্যার। - খুঁজতে থাকো, আমরা পথেই আছি।

"তুমি প্রেরণা দিয়েছিলে তাই প্রলয়ঙ্কারী ফাঁসির কাষ্ঠ আমার হেলায় পীড়িত"

"তুমি শিখিয়েছিলে তাই সাঁতরে পাড়ি হোক স্রোত তার উল্টো।"

"ক্ষতদেহের সে দুধ গো মা যায়নি বিফলে "

" ভুকা অদৃষ্ট পান তা করে অমৃত স্বরূপে। "

"চোখ বুজিবার আগে মিনতি এই একখানা, "

"শত শেকল টুটেও যেন দেখিতে পারি তোমার মুখখানা।"

"মা, বিপ্লব তোমায় সালাম জানায় এই আঁখিদ্বয়ে আলো দিতে।"

"মা, বিপ্লব তোমায় সালাম জানায় এই আঁখিদ্বয়ে আলো দিতে।"

আচ্ছা, স্যার, ওভার।

এই!

থাম! এই!

আমি মরার আগে…

তোর মুখে খুশি দেখতে চাই আমি।

তুই তোর এই বন্দুকে শান্তি খুঁজে পাবি না, বাবা।

তুই ভালোবাসায় শান্তি পাবি।

শোন আমার কথা।

মেয়েটাকে বিয়ে করে নে।

তুই শান্তি খুঁজে পাবি।

ভাই, পুলিশ চলে এসেছে এখানে!

সাবধান!

পুলিশ এসে গেছে! সাবধান!

- পুলিশ--- - এই!

ভেনেলা!

I dream about him, I adore him

Won't my adoration adorn My neck like mangalsutra?

Oh, dear

My mind woke up and saw the one I love

If the one I dream of Presented himself before me

I will not sleep for a hundred years

I will not sleep for a hundred years

সত্যি করে বল।

তুমি আমায় ভালোবাসো? জবাব দাও।

শুধু বল, হ্যাঁ কি না।

আমি তোমাকে আর কখনও জিজ্ঞাসা করব না।

চল।

সরি, স্যার।

- কী হয়েছে? - মিস করে ফেলেছি তাদের।

তারা পালিয়েছে, স্যার, ওভার।

ধ্যাত!

ভেনেলা!

ভাই।

দল ও আন্দোলন সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত।

তারা শুধু অর্থের জন্য এই কাজে যোগ দিচ্ছে।

নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে।

আমি যখন তাদের জিজ্ঞাসা করি তখন তারা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।

আমার আর কোনো উপায় ছিল না, তাই আমি অন্যদের মেরে পালাই।

আর অস্ত্রসহ স্যারেন্ডার করে দেই।

আমার মতন পার্টিতে আরো অনেকেই আছে।

এমনকি যাদের আমি নিয়োগ দিয়েছিলাম।

তারাও একই পরিস্থিতির শিকার।

আমরা এই পার্টিকে ধ্বংস করতে চাই।

কারণ, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে, আমাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে।

জয় হিন্দ!

তোমার অবহেলার কারণে দল ১১ জন কমরেডকে হারিয়েছে।

তুমি কীভাবে তোমার শত্রুদের মুখোমুখি হবে যখন তুমি জানোই না,

যে তোমার পাশের ব্যক্তিটিই তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে?

সাম্য দলের সবচেয়ে সিনিয়র ছিল।

কীভাবে আমরা তাকে সন্দেহ করতাম?

করা উচিত ছিল!

তোমাদের নিজের ছায়াকেও সন্দেহ করতে হবে!

একজন নেতার প্রথম গুণ হল সতর্ক হওয়া এবং সাবধানতা অবলম্বন করা।

কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

এমনকি নিজের পরিবার বা বন্ধুদেরও না।

আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি যার নেতৃত্বে থাকবে নারাসান্না।

এই কমিটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।

পার্টির বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করবে, আর দলগুলোকে সতর্ক করবে।

কাউকে সামান্যতম সন্দেহ হলে, কিছুতেই তাকে উপেক্ষা করবে না।

গুরুতর পদক্ষেপ নাও।

আগামীকাল আরও নিয়োগপ্রাপ্তরা তোমার দলে যোগ দিচ্ছে।

পাণ্ডভুলা গুট্টায় তাদের গ্রহণ কর।

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

- লাল সেলাম! - আরে, তুমিও এখানে?

- কেমন আছ? - ভালো আছি, ধন্যবাদ।

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

- দিদি। - লাল সেলাম!

লাল সেলাম!

- চিনতে পেরেছ আমাকে? - হ্যাঁ ভাই, কেন চিনব না?

মিঃ বিদ্যাধরের বাড়িতে দেখা হয়েছিল, তাই না?

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

এই নেমে আয়!

স্যার, আমি হাতজোড় করছি।

আমি এটা করতে পারব না, স্যার।

আমরা যা বলি তা করো যদি তুমি চাও তোমার বাবা বাড়িতে ফিরে আসুক।

যাও।

- স্যার… - যাও!

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

নারাসান্নার কমিটি তাকে পাঠিয়েছে।

- লাল সেলাম! - লাল সেলাম!

ভাই, তারা আমাকে বলেছে এই চিঠিটা তোমাকে দিতে।

- পুলিশের পরিস্থিতি কেমন এখন? - ভয়াবহ।

কমরেড রাভান্নাকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাই।

আমাদের কমিটি খবর পেয়েছে যে আপনার দলে একজন বিশ্বাসঘাতক রয়েছে।

বিশ্বাসঘাতককে চিহ্নিত করে তাকে শাস্তি দিন।

শত্রুদের অবশ্যই আপনার শাস্তি সম্পর্কে ভীত হতে হবে।

আর আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় মঞ্জিরা নদীর তীরে দেখা করুন।

লাল সেলাম!

আমাদের দলে কে বিশ্বাসঘাতক হতে পারে?

আমি নিশ্চিত যে ভেনেলা।

হ্যাঁ, আমার মনে হয় সে।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের তাকে দোষারোপ করা উচিত নয়।

তুমি সত্যিই প্রমাণ চাও?

তার দলে জয়েন করাটাই সন্দেহজনক ছিল।

ওই বিশ্বাসঘাতক সাম্য, তাকে এখানে পাঠিয়েছিল।

আর সে তো মিডিয়ায়ও বললো,

যে তার নিয়োগকৃতরা এখনো দলেই আছে।

আর কত প্রমাণ চাও?

রঘু, তুমি এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছ।

ওহ, তাই না কি? আমি নিচ্ছি?

তোমার তো কিছু না, তুমি তো অনেক সফল লিডার!

তুমি তো অনেক লোক নিয়োগ করেছ, তাই না?

এই পরিস্থিতিটা কীভাবে পর্যালোচনা করবে শুনি?

কেন এভাবে বিদ্রুপ করছ?

পার্টি তোমাকেও তো নেতৃত্ব করার সুযোগ দিয়েছিল, তাই না?

আমার আগে তো লিডার ছিলে তুমি।

লিডার হিসেবে কী করেছিলে তুমি?

তুমি একটা সাধারণ জিপকে পুলিশের ভেবে পুড়িয়ে দিয়েছিলে।

ওই ঘটনায় ছোট শিশুসহ ১০জন নিরীহ মানুষ মারা গিয়েছিল।

ওয়ারাঙ্গলে, একজন মহান নেতাকে হত্যা করেছিলে ইনফর্মার ভেবে।

- এজন্যই তো পার্টি তোমাকে পদচ্যুত করেছে! - ওটা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছিল!

না কি তুমি মনে কর যে আমার ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা আছে?

তুমি কি জানতে না কী হয়েছিল? ওটা একটা এক্সিডেন্ট ছিল!

দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়াই একজন ভাল নেতা করে তোলে।

তা হলে, তুমি কেন সাম্যের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারলে না?

তাতে কী হয়ে গেল?

- আমাদের ১১জন কমরেড শহীদ হল। - এটা কোনো এক্সিডেন্ট ছিল না।

বিশ্বাসঘাতকতা ছিল!

আচ্ছা, ঠিক আছে! ওটা... এক্সিডেন্ট না, বিশ্বাসঘাতকতা ছিল!

তাহলে বল এখন কী হচ্ছে!

দলের কমান্ডার হিসাবে তুমি একজন বিশ্বাসঘাতককে সমর্থন করে যাচ্ছো...

এমনকি আমি তাকে সন্দেহ করার জন্য বৈধ কারণ উপস্থাপন করার পরেও।

তুমি কীভাবে নিশ্চিত হলে যে সে বিশ্বাসঘাতক?

আমি ১০০% নিশ্চিত, সে-ই!

এখন বুঝলাম।

তুমি তাকে মৃত দেখতে চাও।

আমি শুধু চাই বিশ্বাসঘাতকরা মরুক!

তোমার মতন প্রেমিকা বা মায়ের জন্য আমার কোনও আবেগ নেই!

আমার একটাই আবেগ, আর তা হলো বিপ্লব!

বিপ্লব আমার কাছে মানুষের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তুমি কমান্ডার হয়েও আমার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে ব্যর্থ।

আমার তো তোমাকে সন্দেহও হচ্ছে।

দেখো। কী বলছে সে?

আমরা চিনি না ভেনেলাকে?

আমিও রঘুর সাথে সহমত। আমার মনে হয় ও ঠিক বলছে।

কিছু কথা বলি।

ভেনেলা পুলিশটাকে বাঁচালো কেন?

তোমাকে তোমার মায়ের সাথে দেখা করতে নিয়েছিল কেন?

কারণ এটা গোপন মিশনের একটা অংশ ছিল।

সে আমাদের সাথে যোগ দেয়ার পর থেকেই বারবার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা।

একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হয়েই যাচ্ছি আমরা।

আবার, এটা কি সম্ভব নয় যে, সাম্য হয়তো তাকে বলেছিল যে,

রাভান্নাকে গোপন হামলার রাতে নিয়ে সরে যেতে?

সে হয়তো বলেছে।

কারণ সে জানে তুমি থাকলে পরিকল্পনা সফল হবে না।

শুধু তাই নয়...

আমাদের দলের কনট্যাক্ট পাওয়ার জন্যই সে তিন মাস ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছে।

এমনকি সে আমাদের কমরেডদের সাথে দেখাও করেছে। সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন কারণ শুনিয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস না হলে নিজে খোঁজ করতে পারো।

একবার তাদের সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবে আমরা কী বলতে চাচ্ছি।

সেদিন বিদ্যাধারা রাওয়ের বাড়িতে ছিলাম আমি।

ভেনেলা এসে তোমার ঠিকানা চেয়েছিল। কারণ জানতে চাইলে,

সে বলে, তোমাকে ভালোবাসে সে।

তার সাথে কথা বলে পাঠিয়ে দিই।

তখনই পুলিশ আসে,

আর বিদ্যাধারা রাওকে গ্রেফতার করে।

পেদ্দাপাল্লিতে বাস জ্বালানোর সময় তাকে দেখি আমি।

রাভান্নার কনট্যাক্টও চেয়েছিল সে।

এতে আমার সন্দেহ হয়।

তার কাছে কারণ জানতে চাই আমি। সে কোনো জবাব দেয়নি।

পুলিশ আসার খবর পেয়েছিলাম বলে তখনই পালাতে হয় আমাদের।

আমাকে বলেছিলে, জমি নিয়ে তার সমস্যা আছে।

আপনার সাথে দেখা করার জন্য আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিল।

দল ডিগ্রি কলেজে আসছে এটা আমাদের বলতে শুনে ফেলে সে।

পরদিন আমি ভূপাল পল্লী যাচ্ছিলাম।

পুলিশের একটা জীপে তাকে দেখি আমি।

পুলিশ নিশ্চয়ই তার জন্য কলেজে এসেছিল।

তাকে নিয়ে আমারও সন্দেহ হতে শুরু করে।

এখন বুঝতে পারছো?

তার পুরো অপারেশন হলো আমাদের দলকে টার্গেট করা।

সে যখন দলে যোগ দিতে চাইলো, তখন

শ্রীমতি শকুন্তলাও প্রথমে রাজি হয়নি।

ভেনেলাকে আসতে না করেছিল সে। কিন্তু ভেনেলা তার কথা শোনেনি।

পরিবর্তে সাম্য তাকে নিয়ে আসে।

রাভান্নাকে কে ভালোবাসতে বলেছে তোমাকে?

এভাবে কেন বলছেন? কী হয়েছে?

রাভান্নাকে কে ভালোবাসতে বলেছে তোমাকে?

কেউ একজনকে কীভাবে ভালোবাসতে বলবে?

তাহলে তার প্রেমে পড়েছো কেন?

সে কি তোমার স্বপ্নে এসে প্রেম করতে বলেছে? বলো!

তাহলে কে যোগ দিতে বলেছে বলো?

স্বপ্নে মার্কস এসেছিল না কি মাও?

সাম্য তোমার মতো আর কতজনকে দলে নিয়েছে?

এই অপারেশনের পেছনে কে আছে?

এসপি সুরিয়া প্রতাপ?

এসিপি বিজয়?

ডিজিপি জোসেফ? বলো!

এরা কারা? এদের তো চিনিই না আমি।

মনে হয় কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

নাটক বন্ধ করো। তোমার জন্য এগারো জন কমরেড মারা গেছে।

জানো পার্টির জন্য এটা কত বড় ক্ষতি?

সাম্য আর পুলিশের মাঝে কী চুক্তি হয়েছে?

তোমার সাথে পুলিশের চুক্তি কী?

দলে যোগ দিয়েছ কেন?

আমি আসলেই কিছু জানি না।

আমার কাছ থেকে কিছু লুকোতে পারবে না।

ওরা তোমাকে কীসের প্রলোভন দেখিয়েছে? জমি?

টাকা? চাকরি?

কসম করে বলছি, আমি জানি না আপনি কীসের কথা বলছেন?

আমি রাভান্নাকে ভালোবেসেছি।

আর বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে,

এখানে এসেছি যাতে তার সাথে থাকতে পারি আমি।

ব্যস।

আমার ডায়েরিটা দেখুন।

আমি ওতে সব লিখেছি। প্রতিটা চিন্তা, প্রতিটা আবেগ।

রাধিকা আমার ব্যাগটা নিয়ে আসো।

ওটা পড়লেই সব বুঝতে পারবেন।

ভি আই লেনিন।

রক্তিম রাজ্য অরণ্য

এতে কোনো ডায়েরি নেই।

ডায়েরি থাকবে কীভাবে? বলেছেই তো মিথ্যে কথা।

মনে আছে...

মহাদেবপুরেও একই কথা বলে চলে গিয়েছিলে তুমি?

পরে পুলিশের সাথে ফিরে এসেছিলে।

কী বলছেন আপনি?

আমিই তো সেদিন আপনাকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলাম।

এতটাই চালাক তুমি।

সেটাও তোমাদের অপারেশনের একটা অংশ ছিল।

যাতে আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি।

যদি সেটা মিথ্যে হয়,

তাহলে বলো, পুলিশকে অতিক্রম করে আমাদের কাছে আসলে কীভাবে?

পুলিশ এক পাশ থেকে গুলি ছুড়ছিল, অপরদিক থেকে আমরা।

কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই কীভাবে পালিয়ে আসলে?

কারণ তুমি পুলিশের গুপ্তচর আর তারাই তোমাকে পাঠিয়েছে।

নয়তো আমরা যেটা করার সাহস করিনি সেটা তুমি করতে পারলে কীভাবে?

বলো!

বুঝতে পেরেছি এবার!

আমি যা-ই বলি আপনারা শুনবেন না।

সন্দেহের আবরণে যে কারণটা ঢাকা পড়েছে।

তো, এসবের জন্যই আমরা বন্দুক কাঁধে নিয়ে বেড়াচ্ছি?

নির্দোষদের প্রশ্নের মুখোমুখি করতে?

আপনাকে আমার বোন এমনকি মায়ের মতো ভেবেছিলাম।

আর আপনি আমাকে সন্দেহ করছেন?

সন্দেহ নেই কোনো।

সে একটা বিশ্বাসঘাতক।

কিন্তু সে এটা মানতে চাইছে না। আর মানবেও না।

ভারি বুদ্ধিমতী সে।

চালাকি করে কথা বলছে সে।

কথা বানাতে জানে সে। আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন...

সে মানবে না।

সবাই আমাকে সন্দেহ করছে।

ভরত আর রঘু আমাকে সন্দেহ করছে।

আগে পানি খাও।

-কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে হয়তো। -একটু পানি খাও।

আমাকে বিশ্বাস করো তো তুমি, না?

তোমার কথা শুনবে তারা।

ওদের বলো দয়া করে।

তুমি জানতে চেয়েছিলে না...

আমি তোমাকে ভালোবাসি কি না। আমার জবাব চেয়েছিলে, তাই না?

বলছি।

হ্যাঁ, তোমাকে ভালোবাসতাম আমি।

তাই তো পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়েছি তোমাকে।

ভয় পেয়েছিলাম যদি তারা তোমার কিছু করে ফেলে।

সাত বছর আগে ছেড়ে আসা আমার মায়ের সাথে দেখা করেছি আমি।

কারণ শুধু তুমি বলেছিলে বলে।

এসব করেছি কারণ তোমাকে ভালোবাসতাম আমি।

কিন্তু প্রতিদানে তুমি কী করলে? আমাকে ধোকা দিলে।

ভরত!

ভরত!

একটা ভুল হয়ে গেছে।

সকল কমরেডদের অভিবাদন

সাম্যের অভিযোগ মিথ্যে। পার্টিতে কোনো বিশ্বাসঘাতক নেই।

এটা পুলিশের পরিকল্পনারই একটা অংশ।

বলেছিলাম তোমাকে।

ভালোবাসা হলো একে অপরকে ধোকা দেয়ার একটা উপায় মাত্র।

আর তুমি সেটা প্রমাণ করলে।

আমি একজন শত্রুকে ভালোবেসেছিলাম যে কি না আমার বিপ্লবকে তছনছ করে দিতে এসেছে আমার মায়ের মতো।

আমার জীবন শেষ।

আমার জীবনে যার অধিকার ছিল…

সে-ই আমার জীবন নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমার আফসোস একটাই। সে যখন আমার কপালে প্রথম চুমু দিয়েছিল

তখন আমার প্রাণ শরীর ছেড়ে চলে যাচ্ছিল।

বাতাসে আমার নিঃশ্বাসের ভেসে যাওয়া অনুভব করতে পাচ্ছিলাম।

যদি আমার জীবনটা ফিরে পেতাম।

কিন্তু আমার সেই শক্তি নেই। এই জন্মে হয়তো এটাই...

আমার পরিণতি।

কিন্তু যদি পারতাম, তবে ফিরে আসতাম।

একই গ্রামে একই বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নিতাম।

আবারও বাবার কবিতা শোনার জন্য।

আবারও মায়ের সাথে ঝগড়া করতে।

আবারও কৃষ্ণ পুতুল দিয়ে খেলতে।

অরণ্যের কবিতার উদ্যম অনুভব করতে

শ্রীমতি শকুন্তলার কাছে শিখতে।

একই রঘুর সাথে আবারও ঐ বনে ঘুরে বেড়াতে।

অরণ্যকে আবারও ভালোবাসতে।

Has the moonlight

Not descended from the sky?

Or is it bubbling

In the overgrown bushes of Datura?

Oh, moonlight!

Oh, moonlight!

Whose curse has made you squirm like this?

Whose curse has made you squirm like this?

Oh, moonlight!

Oh, moonlight!

You are the child of this Mother Forest

How can it agree to kill you?

You were still a budding sprout

When did you become a ripened fruit Ready to fall off?

ফেব্রুয়ারি ১৯২২ এ,

নকশালরা তেলেঙ্গানায় একটা গোপন মিশন চালায়।

যাতে একজন মহিলা মারা যায়।

তার মৃত্যু আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল।

এই বিষাদময় ঘটনাটিই "ভীরাতা পারভাম" গল্পের অনুপ্রেরণা ,

সেই নারীর স্মরণে, যার জন্য পুরো রাজ্য কেঁদেছিল।

এই চলচ্চিত্রটিতে তাকে উৎসর্গ করা হলো।

: . : . : V I R A T A P A R V A M : . : . :

অনুবাদে: নিয়ামুল হক আবেগ হাবীব সিয়াম

সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ মায়ায ইসলাম নাফিস ভাইকে।

বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি উপভোগের জন্য ধন্যবাদ।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.